ইবোলা আতঙ্কে ৩ আফ্রিকার দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা সৌদির
ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আফ্রিকার তিন দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে ওই দেশগুলো থেকে আগত যাত্রীদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রদান ও সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
সৌদি আরবের সরকারি সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এবং দেশটির পাবলিক হেলথ অথরিটি (ওয়াকায়া) জানিয়েছে, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি), উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান থেকে আগত ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। ইবোলার সম্ভাব্য বিস্তার রোধে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু সরাসরি ওই তিন দেশ থেকেই নয়, অন্য কোনো দেশ হয়ে সৌদিতে প্রবেশ করতে চাইলেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এছাড়া সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে ডিআরসি, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদানের যেকোনো একটিতে অবস্থান করেছেন, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
ওয়াকায়া বলেছে, সংক্রামক রোগের আন্তঃসীমান্ত বিস্তার ঠেকাতে দেশটির স্বাস্থ্যঝুঁকি পর্যবেক্ষণ ও মহামারি মোকাবিলা ব্যবস্থা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক কাজ করছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিষয়ক সুপারিশ হালনাগাদ করা হবে।
শুধু নিষেধাজ্ঞাই নয়, ইবোলা-প্রভাবিত অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়েছে সতর্কতা। রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের জন্য প্রবেশপথে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে দেশটির জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইবোলার সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব নিয়ে বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ ও অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু করেছে। বিশেষ করে ডিআরসি, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreভারতের রাজস্থান রাজ্যের যোধপুরে বহুজাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি ২০২৬’-এ যোগ দিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও দুই শতাধিক বিমানবাহিনীর সদস্য। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্জিও গোর এ তথ্য জানান। এই মহড়ায় প্রথমবার অংশ নিচ্ছে মার্কিন এফ-৩৫। গোর জানান, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ভারতের বিমানবাহিনী ও মহড়ায় অংশ নেওয়া অন্য দেশগুলোর বিমানের সঙ্গে উড়বে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর আয়োজনে যোধপুর বিমানঘাঁটিতে শনিবার শুরু হওয়া মহড়াটি চলবে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি অংশ নিচ্ছে। আরও কয়েকটি দেশ পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছে। এফ-৩৫ এর আগে ভারতে বিমান প্রদর্শনীতে অংশ নিলেও ‘তরঙ্গ শক্তি’ মহড়ায় এবারই প্রথম যোগ দিল। যৌথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বিমানবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এই মহড়ার উদ্দেশ্য।
বন্যার পানিতে ফ্রিজে ভেসে বাঁচলেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে, পরে জন্ম হলো কন্যার
মাঝ আকাশে ত্রুটি! কানাডার কুইবেকে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সব আরোহী নিহত
৬ বছরের মেয়ের অবিশ্বাস্য কাণ্ড, রুবিকস কিউব মেলালেন ৪ সেকেন্ডের একটু বেশি সময়ে
ফসল কাটার মৌসুমে শ্রমিকসংকটের আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া জরুরি কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় কিছু বিদেশি কর্মীর ভিসা আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষি খাতের সংগঠনগুলো জরুরি প্রয়োজনের তথ্য তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট আবেদন অগ্রাধিকার পেতে পারে। এটি সবার জন্য নতুন ‘কৃষি ভিসা’ চালুর ঘোষণা নয়। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়ার্কিং হলিডে ভিসার যেসব আবেদনকারীর কৃষিকাজে নির্দিষ্ট দক্ষতা রয়েছে, কোনো নিয়োগকর্তার সঙ্গে কাজের চুক্তি হয়েছে এবং তিন মাসের মধ্যে তাঁদের প্রয়োজন, তাঁদের আবেদন চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে কৃষক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করবে বিভাগটি। অগ্রাধিকার পাওয়ার অর্থ ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়। গমসহ শীতকালীন ফসল কাটার সময় ঘনিয়ে আসায় কৃষক সংগঠনগুলো ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। তাদের আশঙ্কা, প্রয়োজনের সময় অভিজ্ঞ কর্মীরা পৌঁছাতে না পারলে ফসল সংগ্রহ ব্যাহত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে জরুরি আবেদনগুলো দ্রুত দেখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য ভিসার ধরনটি আলাদা করে বোঝা জরুরি। কৃষিকাজের জন্য আবেদনে অগ্রাধিকার দেওয়ার এই ব্যবস্থা কোনো উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নয়; শুধু কৃষিকাজে আগ্রহী হলেই এর আওতায় আবেদন করা যায় না। আবেদনকারীর নির্দিষ্ট ভিসার যোগ্যতা ও নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তির মতো শর্ত প্রযোজ্য। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের কৃষিকাজসংক্রান্ত নির্দেশনাতেও কাজের সুযোগগুলো ভিসার ধরন অনুযায়ী আলাদা করে দেখানো হয়েছে।
এয়ারপোর্টে ব্যাগেজ ফর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি! প্রবাসীদের জন্য নতুন বাধ্যতামূলক নিয়ম
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে উত্তাল পাকিস্তান, ইসলামাবাদে লকডাউনের মুখে লংমার্চ পেছাল পিটিআই
ফসল কাটার মৌসুম সামনে রেখে জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসায় শ্রমিক নেবে অস্ট্রেলিয়া
জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা স্থায়ী আবাসিক মর্যাদা পাওয়ার নিয়ম আরও কঠোর করছে দেশটির সরকার। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের গৃহস্থালি আয়, ভবিষ্যৎ পেনশন সুবিধা ও জাপানি ভাষাজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এতে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বিদেশিদের একটি অংশ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় আট বছর আগে কাজের জন্য জাপানে যাওয়া আবদুল নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকও তাদের মধ্যে রয়েছেন। উত্তর টোকিওতে বাংলাদেশি স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করা এই প্রযুক্তি প্রকৌশলী স্থায়ী বসবাসের পাশাপাশি জাপানের নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে নতুন নিয়মের কারণে দুই আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হলে জাপান ছাড়ার বিকল্পও তাকে ভাবতে হচ্ছে। নিজের প্রকৃত নাম প্রকাশ না করার শর্তে আবদুল আল জাজিরাকে বলেন, ভবিষ্যতে জাপান সরকার নিয়ম আরও কঠোর করবে কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। দুই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে কী করবেন, সে প্রস্তুতিও নিতে হচ্ছে তাকে। এরই মধ্যে তিনি জাপানের বাইরে কাজের সুযোগ খুঁজতে শুরু করেছেন। নতুন ব্যবস্থার আওতায় স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের বার্ষিক গৃহস্থালি আয় জাপানি পরিবারের গড় আয়ের চেয়ে বেশি হতে হবে। এ শর্তটি এপ্রিল থেকে জমা দেওয়া কিছু আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। পাশাপাশি আবেদনকারীর জাপানি ভাষায় দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ পেনশন সুবিধার বিষয়ও বিবেচনা করা হবে। পেনশনের ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ডে আবেদনকারীর ভবিষ্যৎ পেনশন সুবিধা এমন পর্যায়ে থাকতে হবে, যা নির্দিষ্ট আয়স্তরে কর্মচারীদের পেনশন ব্যবস্থায় ৩০ বছর অবদান রাখলে পাওয়া যেতে পারে। তবে আগের খসড়া নির্দেশনায় পেনশন সুবিধা নির্ধারিত মানের নিচে থাকলে সঞ্চয় বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছিল। জাপানের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নতুন নীতির মূল যুক্তি হলো, স্থায়ী বাসিন্দাদের নিজেদের জীবনযাপন স্বাধীনভাবে পরিচালনা করার সক্ষমতা থাকতে হবে এবং তারা যেন ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে না দাঁড়ান। জাপানের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক নথিতে বিদেশিদের বসবাস ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোরতা আনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বিগ্নদের মধ্যে রয়েছেন ১৪ বছর ধরে জাপানে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিক সারাহ নেলকিনও। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জাপানে আসা নেলকিন দেশটির বিনোদন শিল্পে কাজ করছেন। নতুন নিয়ম ঘোষণার কিছু আগে তিনি স্থায়ী বসবাসের আবেদন করেছিলেন। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে জাপানের নাগরিকত্ব নেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। তবে জাপান সাধারণভাবে দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতি না দেওয়ায় সে ক্ষেত্রে তাকে মার্কিন নাগরিকত্ব ছাড়তে হতে পারে। নেলকিনের ভাষ্য, প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের পুরো সময়টাই তিনি জাপানে কাটিয়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পরিবারের কাছে যাতায়াতসহ বিভিন্ন কারণে মার্কিন নাগরিকত্ব ধরে রাখতে চান তিনি। তারপরও বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি তাকে বিবেচনা করতে হচ্ছে। জাপানের মেইকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রিসা হাগিওয়ারা মনে করেন, নতুন পরিবর্তনগুলো দেশটির অভিবাসন নীতিকে আরও বাছাইভিত্তিক ও শর্তনির্ভর করে তুলছে। তার মতে, জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং শ্রমিক সংকটের কারণে জাপানের বিদেশি কর্মী প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে বসবাসের সুযোগ কঠিন হয়ে গেলে বিদেশি কর্মীদের কাছে জাপান কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৩৯৫ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি এবং প্রথমবারের মতো ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, জাপানের নিজস্ব জনসংখ্যা কমছে। দেশটির দীর্ঘদিনের কম জন্মহারের মধ্যে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ফলে বিদেশিদের নিয়ে নীতিতে একদিকে শ্রমবাজারের প্রয়োজন, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও সামাজিক সংহতি নিয়ে উদ্বেগ, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খোঁজার চাপ তৈরি হয়েছে। বিদেশিদের নিয়ে জাপানি সমাজের মনোভাবেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ২০২৬ সালের একটি প্যানেল জরিপে ৫৬ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা জাপানে আরও বিদেশি বাসিন্দা গ্রহণের বিরোধী। ২০২৪ সালের একই জরিপে এই হার ছিল ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মানুষের উত্তর নিয়ে পরিচালিত ওই গবেষণায় তরুণদের মধ্যে বিরোধিতার বৃদ্ধিও তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। এ পরিবর্তন জাপানের রাজনীতিতেও প্রতিফলিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং জাপান ইনোভেশন পার্টি বর্তমানে ক্ষমতাসীন জোটে রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নিম্নকক্ষ নির্বাচনে এলডিপি ৩১৫টি আসন এবং জাপান ইনোভেশন পার্টি ৩৬টি আসন পায়। একই নির্বাচনে অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত সানসেইতো দল ১৫টি আসন পেয়ে নিম্নকক্ষে তাদের উপস্থিতি বাড়ায়। তবে জাপানের অর্থনীতির জন্য বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট। জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও শ্রমিক সংকটের মধ্যে দেশটি বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশিদের শুধু কতজন প্রয়োজন তা নয়, তারা দীর্ঘমেয়াদে জাপানে বসবাস করলে কেমন সমাজ তৈরি হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রশ্ন হয়ে উঠছে। নতুন নিয়মের প্রভাব তাই শুধু স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না। জাপানে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার, পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা বিদেশিদের কাছেও এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক যারা দীর্ঘদিন ধরে জাপানে বসবাস করছেন, তাদের জন্যও নতুন শর্তগুলো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। সূত্র: আল জাজিরা
শখের বশে মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে ঘুরতেই মিলল ভাইকিং যুগের কয়েক হাজার রৌপ্যমুদ্রা
ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী