নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ১০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর এসেছে। শহরের রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড এক ও দুই বছরের লিজের ক্ষেত্রে ভাড়া না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া অন্যতম প্রতিশ্রুতি পূরণ হওয়ায় এটি মেয়র জোহরান মামদানির জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের বাইরে থেকে গেছেন ব্রঙ্কসের ট্রেসি টাওয়ার্স আবাসনের শত শত বাসিন্দা। তাদের জন্য বরং আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে প্রায় ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে, যা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ব্রঙ্কসের ৮৭১ ইউনিটের ট্রেসি টাওয়ার্স 'মিচেল-লামা' কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত একটি সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প। এই কর্মসূচি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের নিয়মের আওতায় পড়ে না। ফলে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের ভাড়া স্থগিতের সিদ্ধান্ত এখানকার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না।
আবাসনটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান আরওয়াই ম্যানেজমেন্ট চলতি মাসে ভাড়া বাড়ানোর আবেদন করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম বছরে ১৫ শতাংশ, পরবর্তী দুই বছরে প্রতি বছর ৫ শতাংশ এবং চতুর্থ বছরে আরও ৩ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হবে। সব মিলিয়ে চার বছরে ভাড়া বৃদ্ধি দাঁড়াবে ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশে।
এর ফলে বর্তমানে এক শয়নকক্ষের একটি ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৩৪৪ ডলার থেকে বেড়ে ধাপে ধাপে প্রায় ১ হাজার ৭৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মিচেল-লামা কর্মসূচির আবাসনগুলোর ভাড়া নির্ধারণ করে নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এইচপিডি) বিভাগ। রাজ্যের আইন অনুযায়ী, ভবনের পরিচালন ব্যয় মেটাতে প্রয়োজনীয় ভাড়া বৃদ্ধির আবেদন অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে সংস্থাটির। ফলে এই ক্ষেত্রে মেয়রের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত।
এ পরিস্থিতি মেয়র মামদানির জন্য রাজনৈতিক অস্বস্তিরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব কমানো বা বিকল্প আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিন, ব্রঙ্কস বরো প্রেসিডেন্ট ভেনেসা গিবসনসহ ছয়জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি মেয়রের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।
জুলি মেনিন বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় যখন লাগামছাড়া, তখন মিচেল-লামার বাসিন্দাদের ওপর ৩০ শতাংশের বেশি ভাড়া বৃদ্ধির চাপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কীভাবে পরিস্থিতি এত দূর গড়াল, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
আগামী জুলাই মাসে এ বিষয়ে শুনানির আয়োজন করবে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল।
অন্যদিকে, মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, ট্রেসি টাওয়ার্সের মতো আবাসনগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ করা হবে। তবে বিদ্যমান রাজ্য আইনের কারণে পরিচালন ব্যয় মেটাতে প্রয়োজনীয় ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি সমর্থন করা ছাড়া বিকল্প নেই।
এইচপিডি কমিশনার ডিনা লেভি বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠকে জানান, ভাড়া বাড়ানোর উদ্দেশ্য ভবনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়। মূল সমস্যা হলো ভবনটির দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট। আবাসনটি তিন বছর ধরে বন্ধকী ঋণের কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে রয়েছে এবং নিয়মিত পরিচালন ব্যয়ও মেটাতে পারছে না।
তিনি জানান, ভবনের বিকল লিফট, ছাদ চুইয়ে পানি পড়াসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে আলাদাভাবে ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তবে এসব ব্যাখ্যায় আশ্বস্ত নন অনেক বাসিন্দা। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রবীণদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি। ৭৯ বছর বয়সী সাবেক ভাড়াটিয়া সমিতির সভাপতি টনি টেইলর বলেন, অবসরে যাওয়ার সময় এই আবাসনটি সত্যিই সাশ্রয়ী ছিল। এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছি যে ওষুধ কিনব, নাকি খাবার কিনব, সেটাই ভাবতে হচ্ছে।
স্থানীয় কাউন্সিল সদস্য এরিক ডিনোভিটজও বিষয়টির অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড যখন ২ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়েও তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে, তখন একই শহরে অন্য একটি আবাসনে ৩০ শতাংশের বেশি ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি মেনে নেওয়া হচ্ছে।
তবে ট্রেসি টাওয়ার্সের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা ফেডারেল সেকশন ৮ আবাসন ভর্তুকি বা প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ভাড়া সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় থাকায় তাদের নিজস্ব পকেট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে না। কিন্তু বাকি শত শত পরিবারের জন্য এই প্রস্তাব বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
ভাড়াটিয়া সমিতির সভাপতি জিন হিলের অভিযোগ, সাশ্রয়ী আবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েই মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বাসিন্দার মনে হচ্ছে, সেই প্রতিশ্রুতি তাদের জন্য ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়ির ক্রমবর্ধমান দাম এবং করের চাপের কারণে অনেক পরিবার ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য ছেড়ে তুলনামূলক কম খরচের এলাকায় বসবাসের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক ও ইলিনয়ের মতো রাজ্য থেকে জর্জিয়া, টেনেসি, টেক্সাস, ফ্লোরিডা এবং নর্থ ক্যারোলাইনায় স্থানান্তরের প্রবণতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন এমন অনেকের মতে, কম কর, সাশ্রয়ী আবাসন এবং তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এই প্রবণতার অন্যতম প্রধান কারণ। এই পরিবর্তনের একটি উদাহরণ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক টেলিভিশন প্রযোজক ৫২ বছর বয়সী জাস্টিন ডেভিস ও তার স্ত্রী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি মেক ইট এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এমন একটি জায়গায় বসবাসের কথা ভাবছিলেন, যেখানে একটি আয়ের ওপর নির্ভর করেও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করা সম্ভব হবে এবং আর্থিক চাপ তুলনামূলক কম থাকবে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৩ সালে তারা ক্যালিফোর্নিয়ার ক্লোভিস শহর ছেড়ে টেনেসির নক্সভিলে চলে যান। দম্পতি ক্যালিফোর্নিয়ায় তাদের বাড়িটি ৫ লাখ ৯৭ হাজার ডলারে বিক্রি করেন। বিক্রয়লব্ধ অর্থের বড় একটি অংশ নতুন বাড়ির ডাউন পেমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করায় তাদের মাসিক মর্টগেজ কিস্তি নেমে আসে মাত্র ৯৮২ ডলারে। নক্সভিলে তারা প্রায় ১ হাজার ৭৯২ বর্গফুট আয়তনের একটি বাড়ি কিনেছেন, যার সঙ্গে রয়েছে প্রায় অর্ধ একর জমি। ক্যালিফোর্নিয়ায় একই বাজেটে এমন বাড়ি কেনা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করেন তারা। তাদের আর্থিক সাশ্রয়ের আরেকটি বড় কারণ সম্পত্তি কর। ক্যালিফোর্নিয়ায় বছরে যেখানে প্রায় ১২ হাজার ডলার সম্পত্তি কর দিতে হতো, সেখানে টেনেসিতে সেই পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৪৩ ডলারে। এছাড়া টেনেসিতে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে ব্যক্তিগত আয়কর না থাকায় তাদের বার্ষিক ব্যয় আরও কমেছে। জাস্টিন ডেভিসের ভাষ্য, শুধু অর্থ সাশ্রয়ই নয়, নতুন পরিবেশে তারা আরও শান্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারছেন। একটি আয়ের ওপর নির্ভর করেও সংসার চালানো সম্ভব হওয়ায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বেড়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা করাও সহজ হয়েছে। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, করোনা মহামারির পর দূর থেকে কাজ করার সুযোগ বাড়ায় অনেক কর্মজীবী মানুষ আর কর্মস্থলের কাছাকাছি ব্যয়বহুল শহরে বসবাসকে অপরিহার্য মনে করছেন না। ফলে তুলনামূলক কম খরচের রাজ্যে স্থানান্তরের প্রবণতা আরও জোরদার হয়েছে। এর পাশাপাশি আবাসনের মূল্য, সম্পত্তি কর, বীমা, জ্বালানি ব্যয় এবং দৈনন্দিন খরচের পার্থক্যও মানুষের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর মধ্যেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চান বা অবসরের পর কম খরচে জীবনযাপন করতে চান, তারা এখন বাড়ির দাম, মর্টগেজ, সম্পত্তি কর এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে নতুন অঙ্গরাজ্যে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। আটলান্টা, জর্জিয়ার তরুণ রিয়েলটর ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আতাহার হোসেন বলেন, কেবল বাড়ির দাম বা কর কম হওয়াই কোনো অঙ্গরাজ্যে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ভিত্তি হওয়া উচিত নয়। নতুন রাজ্যে যাওয়ার আগে চাকরির সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার মান, জলবায়ু, বীমার ব্যয়, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করা জরুরি। তার মতে, এসব দিক থেকে জর্জিয়া বর্তমানে বসবাস ও বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সম্ভাবনাময় অঙ্গরাজ্য। তাই নতুন করে বসবাসের পরিকল্পনা করা পরিবারগুলোকে জর্জিয়াকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয় এবং জীবনযাত্রার খরচের বৈষম্য অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতেও ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য থেকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী রাজ্যে মানুষের স্থানান্তরের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশের আগেই ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় আইনি সমর্থন পেল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ৬-৩ ভোটের রায়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি এখনো মেক্সিকোর ভূখণ্ডে অবস্থান করছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ না করা পর্যন্ত মার্কিন আইনের অধীনে আশ্রয়ের আবেদন করার অধিকার দাবি করতে পারবেন না। এই রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত ‘মিটারিং’ নীতি পুনরায় কার্যকর করার পথ আরও সহজ হলো। মামলাটির সূত্রপাত ২০১৭ সালে। অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন আল ওত্রো লাদো অভিযোগ করেছিল, সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের আটকে রেখে আবেদন গ্রহণ না করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে। পরে একটি নিম্ন আদালত সেই নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করলেও, সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে 'যুক্তরাষ্ট্রে আগমন' বলতে প্রকৃতপক্ষে দেশটির ভূখণ্ডে প্রবেশ করাকেই বোঝায়। ফলে সীমান্তের মেক্সিকো অংশে অবস্থানকারী কোনো ব্যক্তি আইনি অর্থে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন বলে গণ্য হবেন না এবং সে অবস্থায় তিনি আশ্রয় আবেদনের অধিকার দাবি করতে পারবেন না। এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। বিভাগের প্রধান আইন উপদেষ্টা জেমস পার্সিভাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ সীমান্ত আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত রাখতে প্রশাসনের হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি উপায় তুলে দিয়েছে। তবে রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসন আইনজীবীরা। আল ওত্রো লাদো-এর ওয়াটার ড্রপ কর্মসূচির সমন্বয়কারী জেমস করদেরো বলেন, বৈধ উপায়ে আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগ সীমিত হয়ে গেলে অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে পাহাড়, মরুভূমি কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ অনিয়মিত পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করবেন। এতে প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়বে। তিনি জানান, তাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা নিয়মিত সীমান্তবর্তী মরুভূমিতে পানি, খাদ্য ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেন, যা অনেক ক্ষেত্রে জীবন রক্ষায় সহায়ক হয়। অভিবাসন আইনজীবী সামান নাসেরির মতে, যদিও এখনো নতুন কোনো নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি, তবে ট্রাম্প প্রশাসন খুব দ্রুত এই আইনি সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, এর ফলে আশ্রয় আবেদনকারীর সংখ্যা কমলেও সীমান্তে আটক এবং অনিয়মিত প্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনা বাড়তে পারে। রায়ের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া তিন বিচারপতির একজন সোনিয়া সোটোমেয়র তাঁর ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে আরও বেশি মানুষ বিপজ্জনক পথে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করবেন এবং অনেকেই প্রাণ হারাতে পারেন। তাঁর মতে, এই রায় আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বিদ্যমান আইনি সুরক্ষাকে দুর্বল করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, সীমান্তে আশ্রয় আবেদন সীমিত করার 'মিটারিং' পদ্ধতি প্রথম চালু হয় ২০১৬ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় অভিবাসীর চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে। পরে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এটি আনুষ্ঠানিক নীতিতে রূপ পায়। ২০২১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় এসে নীতিটি বাতিল করেন। সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে প্রয়োজনে ট্রাম্প প্রশাসন আবারও সেই ব্যবস্থা চালুর আইনি ভিত্তি পেল।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা অভিবাসীদেরও গ্রেপ্তার করার পর জামিনের কোনো সুযোগ না দিয়ে আটকে রাখার অনুমতি চেয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার প্রকাশ্যে আসা এক আইনি নথিতে দেখা যায়, প্রশাসন একটি ফেডারেল আপিল আদালতের গত মে মাসের সিদ্ধান্ত বাতিল করার আবেদন জানিয়েছে। মে মাসের ওই রায়ে কয়েক দশকের পুরোনো অভিবাসন আইনের যে নতুন ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে বর্তমান প্রশাসনের 'গণ-আটক নীতি' পরিচালিত হচ্ছে, তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বেঞ্চ অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে দুটি বড় আইনি জয় এনে দেয়। এর মধ্যে লাখ লাখ হাইতিয়ান ও সিরীয় অভিবাসীর নির্বাসন ঠেকানোর সুরক্ষা প্রত্যাহার করার অনুমতিও ছিল। ওই রায়ের ঠিক আগেই চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে সুপ্রিম কোর্টে এই আপিলটি দায়ের করেছিল প্রশাসন। সিনসিনাটি-ভিত্তিক ষষ্ঠ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস-এর ২-১ প্যানেলের দেওয়া রায় পর্যালোচনার জন্যই এই আবেদন জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, শত শত নিম্ন আদালতের বিচারকদের পাশাপাশি যে তিনটি আপিল আদালত প্রশাসনের এই বিনা জামিনে আটক রাখার নীতির বিরোধিতা করেছে, ষষ্ঠ সার্কিট কোর্ট তার মধ্যে অন্যতম। তবে আরও দুটি আপিল আদালত প্রশাসনের এই নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। মার্কিন সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সয়ার এই বিষয়টি উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি জানান, 'অভিবাসন আইনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটির' কারণে আটকে থাকা ব্যক্তিরা হাজার হাজার মামলা দায়ের করছেন, যার দ্রুত মীমাংসা প্রয়োজন। এক পিটিশনে সয়ার যুক্তি দিয়ে বলেন, অবৈধভাবে প্রবেশের পর যেসব বিদেশি নাগরিক দেশে বসবাস করছেন, তাদের অপসারণ প্রক্রিয়ার সময় আটকে রাখলে তারা শুনানির সময় পালাতে পারবেন না এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের অপসারণ নিশ্চিত করা সহজ হবে। দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত অভিবাসন আইনের ব্যাখ্যার বাইরে গিয়ে গত বছর মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) একটি নতুন অবস্থান গ্রহণ করে। তারা জানায়, কেবল সীমান্তে পৌঁছানো ব্যক্তিরাই নন, বরং আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনাগরিকরাও 'প্রবেশের আবেদনকারী' (applicants for admission) হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং বাধ্যতামূলক আটকের আওতাধীন থাকবেন। কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে 'প্রবেশের আবেদনকারী' ব্যক্তিরা অভিবাসন আদালতে তাদের মামলার কার্যক্রম চলাকালীন বাধ্যতামূলকভাবে আটক থাকবেন এবং তারা জামিন শুনানির জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। বিচার বিভাগের অধীনস্থ 'বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলস' গত সেপ্টেম্বরে একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই ব্যাখ্যাটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে, যার ফলে দেশজুড়ে অভিবাসন বিচারকরা বাধ্যতামূলক আটকের নির্দেশ দেওয়া শুরু করেন। ষষ্ঠ সার্কিট কোর্টের রায়টি মূলত মিশিগানের কিছু মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছিল। মেক্সিকো, এল সালভাদর, ভেনেজুয়েলা, নিকারাগুয়া এবং গুয়াতেমালার ওই নাগরিকরা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)-এর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। ষষ্ঠ সার্কিট কোর্ট তাদের রায়ে জানায়, প্রশাসন ১৯৯৬ সালের 'ইলিগ্যাল ইমিগ্রেশন রিফর্ম অ্যান্ড ইমিগ্র্যান্ট রেসপনসিবিলিটি অ্যাক্ট'-এর একটি ধারার অপব্যাখ্যা করেছে। আদালত আরও উল্লেখ করে যে, জামিন শুনানি থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে ওই অভিবাসীদের মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর অধীনে থাকা আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার বা 'ডিউ প্রসেস' চরমভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।