বিশ্ব

কলম্বিয়ার মডেল-ইনফ্লুয়েন্সার হত্যাকাণ্ডে ব্রিটিশ নাগরিক গ্রেপ্তার, বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখার অজুহাতে নিজেকে নির্দোষ দাবি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ২০:২৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কলম্বিয়ার জনপ্রিয় মডেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ নাতালিয়া ভিয়ালবা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্রিটিশ নাগরিক ম্যাথিউ অ্যাশলি ফস্টার-স্মিথকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলম্বিয়ার তদন্ত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ভিয়ালবাকে হত্যার পর তার মরদেহ একটি স্যুটকেসে লুকিয়ে রেখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। পরে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণের চেষ্টা হিসেবে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখার অজুহাতও দেন।

 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৩৬ বছর বয়সী নাতালিয়া ভিয়ালবা গত ১৮ জুন কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার অভিজাত চিকো এলাকায় একটি ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থান করছিলেন। ওই দিনই তার মায়ের সঙ্গে শেষবার যোগাযোগ হয়। এরপর কয়েক দিন তার কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

 

২১ জুন অ্যাপার্টমেন্টের বুকিংয়ের মেয়াদ শেষ হলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে বাথরুমে চলমান ঝরনার নিচে রাখা একটি স্যুটকেসের ভেতর থেকে ভিয়ালবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যার পর আলামত গোপন করার উদ্দেশ্যেই মরদেহ সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

 

তদন্তে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সামনে এসেছে। এতে সন্দেহভাজন ম্যাথিউ অ্যাশলি ফস্টার-স্মিথকে ভবনের ভেতরে চলাফেরা করতে এবং কিছু বিছানার চাদর লন্ড্রি কক্ষে নিয়ে যেতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।

 

ঘটনার পর ফস্টার-স্মিথ কলম্বিয়া ছেড়ে স্থলপথে ইকুয়েডরে পালিয়ে যান। পরে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করলে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে শনিবার কুইটো বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তিনি যুক্তরাজ্যে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

 

গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর সঙ্গে কথা বলে ফস্টার-স্মিথ দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি একটি আইরিশ বারে বড় পর্দায় ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখছিলেন। তার ভাষ্য, ম্যাচ শেষে তিনি একটি শপিং সেন্টারে ঘুরে বেড়ান, আইসক্রিম কেনেন এবং পরে আবার খেলা দেখতে ফিরে যান। এছাড়া তিনি দাবি করেন, স্থানীয় একটি অপরাধী চক্রের কাছ থেকে ঋণসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছিলেন।

 

তবে কলম্বিয়ার প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ভিয়ালবাকে হত্যার পর আলামত নষ্টের চেষ্টা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান ফস্টার-স্মিথ। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বোগোতার মেয়র কার্লোস ফার্নান্দো গালান এক বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, "এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে।"

 

তদন্তে আরও জানা গেছে, ফস্টার-স্মিথ এর আগেও যুক্তরাজ্যে একাধিকবার নারীদের অনুসরণ ও হয়রানির অভিযোগে দণ্ডিত হয়েছিলেন। চলতি বছরই তিনি দুই বছরের বেশি কারাভোগ শেষে মুক্তি পান। এর আগে ২০২০ সালেও এক সাবেক সঙ্গীকে অনুসরণ ও ব্যক্তিগত ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

 

কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
‘গোল্ডেন ভিসা’র চাহিদা বাড়ায় এই দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন ধনী আমেরিকানরা
‘গোল্ডেন ভিসা’র চাহিদা বাড়ায় এই দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন ধনী আমেরিকানরা

নিউজিল্যান্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া ‘গোল্ডেন ভিসা’ কর্মসূচিতে ধনী আমেরিকানদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। দেশটির সরকার বিনিয়োগের শর্ত সহজ করার পর আবেদন বেড়েছে কয়েক গুণ। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত অ্যাকটিভ ইনভেস্টর প্লাস ভিসার জন্য ৮৩৭টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৭৭টি আবেদন এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে।   নিউজিল্যান্ডের ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই ২৭৭টি আবেদনে আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের সদস্য মিলিয়ে মোট ৮৩৮ জন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে চীন থেকে ১৫৬টি এবং হংকং থেকে ১১০টি। এরপর রয়েছে জার্মানি ৫৬টি এবং তাইওয়ান ৪৫টি।   ফক্স লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার ধনী বাসিন্দাদের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের এই ভিসা নিয়ে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচিটির নাম ‘অ্যাকটিভ ইনভেস্টর প্লাস ভিসা’। বিনিয়োগের বিনিময়ে নিউজিল্যান্ডে বসবাস ও কাজের সুযোগ থাকায় এটি সাধারণভাবে ‘গোল্ডেন ভিসা’ নামে পরিচিত।   নিউজিল্যান্ড সরকার ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল কর্মসূচিটির নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। বর্তমানে দুটি বিনিয়োগ ক্যাটাগরি রয়েছে, গ্রোথ এবং ব্যালান্সড। গ্রোথ ক্যাটাগরিতে কমপক্ষে ৫০ লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার তিন বছরের জন্য বিনিয়োগ করতে হয়। ব্যালান্সড ক্যাটাগরিতে প্রয়োজন কমপক্ষে এক কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার এবং বিনিয়োগ ধরে রাখতে হয় পাঁচ বছর।   গ্রোথ ক্যাটাগরির অর্থ নিউজিল্যান্ডের ব্যবসা, ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ও অনুমোদিত ম্যানেজড ফান্ডের মতো তুলনামূলক উচ্চ প্রবৃদ্ধির বিনিয়োগে দেওয়া যায়। ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে এই ক্যাটাগরির মোট বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ অনুমোদিত জনকল্যাণমূলক খাতে অনুদান দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যালান্সড ক্যাটাগরিতে বন্ড, তালিকাভুক্ত শেয়ার ও নির্দিষ্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্টসহ তুলনামূলক বিস্তৃত বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।   নিয়ম সহজ করার আগে এই ভিসায় আগ্রহ ছিল অনেক কম। নিউজিল্যান্ড ইমিগ্রেশনের হিসাবে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত পুরোনো নিয়মে মাত্র ১১৫টি আবেদন জমা পড়েছিল। কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত আবেদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৭টিতে। এর মধ্যে ৩৯৫টি আবেদন ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে এবং আরও ২৮৫টি নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।   নতুন ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হলো ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া। একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে শারীরিকভাবে অবস্থানের সময়সীমাও কমানো হয়েছে। গ্রোথ ক্যাটাগরির বিনিয়োগকারীদের তিন বছরে অন্তত ২১ দিন নিউজিল্যান্ডে থাকতে হয়। ব্যালান্সড ক্যাটাগরিতে সাধারণভাবে পাঁচ বছরে অন্তত ১০৫ দিন অবস্থান করতে হয়, যদিও নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত গ্রোথ ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে এই সময় কমানোর সুযোগ রয়েছে।   এই ভিসা পাওয়া ব্যক্তিরা নিউজিল্যান্ডে অনির্দিষ্টকাল বসবাস করতে পারেন এবং সেখানে কাজ ও পড়াশোনার সুযোগও পান। তবে এটি শুধু অর্থ জমা দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। বিনিয়োগের অর্থ বৈধ উৎস থেকে এসেছে কি না, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অনুমোদিত খাতে অর্থ রাখা হয়েছে কি না এবং অন্যান্য ইমিগ্রেশন শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, সেগুলো যাচাই করা হয়।   সরকারি হিসাবে, নতুন নিয়ম চালুর পর ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত অ্যাকটিভ ইনভেস্টর প্লাস কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১৪৮ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার ইতোমধ্যে বিনিয়োগ হয়েছে। এর প্রায় দুই তৃতীয়াংশ গ্রোথ ক্যাটাগরিতে এসেছে।   নিউজিল্যান্ড সরকার বলছে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু ধনী বিদেশিদের বসবাসের সুযোগ দেওয়া নয়। বিদেশি পুঁজি দেশটির ব্যবসা, উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজে লাগানোই এর মূল উদ্দেশ্য। আবেদনকারীদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এখন স্পষ্টভাবে শীর্ষে থাকায় দেশটির বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচিতে আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ০:২৫
নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে আফগানিস্তানে খুঁজতে গিয়ে মাথায় গুলি

নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে আফগানিস্তানে খুঁজতে গিয়ে মাথায় গুলি! থেমে গেল স্বাভাবিক জীবন

কয়েক সপ্তাহ ধরে ভুল রোগ নির্ণয়ের পর ১১ বছরের মেলির শরীরে ধরা পড়ে স্টেজ-৪ বারকিট লিম্ফোমা। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকেরা বলেছিলেন টনসিল, শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ল ১১ বছরের শিশুর স্টেজ-৪ ক্যানসার

২০১২ সালের আলোচিত হত্যাকাণ্ডটি আবারও আলোচনায় এসেছে আদালতের রায়কে ঘিরে। ছবি: সংগৃহীত

১৪ বছরের মেয়ের কক্ষে প্রেমিক: ক্ষুব্ধ বাবা ৭ তলা থেকে ফেলে হত্যা করলেন কিশোরকে

এআই দিয়ে কাজ করিয়ে কর্মী ছাঁটাই করা যাবে না, চীনা আদালতের যুগান্তকারী রায়
এআই দিয়ে কাজ করিয়ে কর্মী ছাঁটাই করা যাবে না, চীনা আদালতের যুগান্তকারী রায়

কর্মীর কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে করানো সম্ভব হচ্ছে—শুধু এই কারণ দেখিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন চীনের একটি আদালত। হাংজু ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্টের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাড়তে থাকা এআই ব্যবহারের মধ্যে কর্মীদের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করেছে।   মামলাটি একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ঝৌকে ঘিরে। তিনি এআই-সংশ্লিষ্ট কনটেন্টের মান যাচাইয়ের দায়িত্বে ছিলেন। বড় ভাষা মডেল ব্যবহারের মাধ্যমে তার কাজের বড় অংশ স্বয়ংক্রিয় করার পর প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে তাকে অপেক্ষাকৃত নিচু পদে বদলি এবং মাসিক বেতন ২৫ হাজার ইউয়ান থেকে কমিয়ে ১৫ হাজার ইউয়ান করার প্রস্তাব দেয়। অর্থাৎ তার বেতন প্রায় ৪০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা ছিল।   ঝৌ নতুন পদ ও কম বেতন মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিষ্ঠানটি তার চাকরির চুক্তি বাতিল করে। কোম্পানির যুক্তি ছিল, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও এআই ব্যবহারের কারণে জনবলের প্রয়োজন কমেছে এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।   কিন্তু আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করেননি। চীনের শ্রম আইনে কর্মসংস্থান চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল করতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ‘বস্তুনিষ্ঠ পরিস্থিতির বড় ধরনের পরিবর্তন’ ঘটতে হয়। আদালতের মতে, প্রতিযোগিতামূলক থাকতে কোনো প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করলে সেটিকে এমন অনিবার্য পরিবর্তন হিসেবে দেখানো যাবে না।   আদালত আরও বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের পুরো ঝুঁকি একজন কর্মীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এআই ব্যবহারের কারণে কোনো কাজের ধরন বদলে গেলে প্রতিষ্ঠানকে পুনঃপ্রশিক্ষণ, যুক্তিসংগতভাবে অন্য দায়িত্বে স্থানান্তর বা আইনসম্মত বিকল্প সমাধানের সুযোগ বিবেচনা করতে হবে।   শুধু সফটওয়্যার দিয়ে একজন কর্মীর কাজ করা সম্ভব হচ্ছে—এই যুক্তি একাই তাকে ছাঁটাইয়ের বৈধ ভিত্তি হতে পারে না।   মামলায় ঝৌয়ের পক্ষে রায় দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ ৬০ হাজার ইউয়ানের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   তবে এই রায়ের অর্থ চীনা কোম্পানিগুলো আর এআই ব্যবহার করতে পারবে না বা কোনো কর্মীকেই ছাঁটাই করতে পারবে না—এমন নয়। আদালত মূলত স্পষ্ট করেছেন, এআই গ্রহণকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বিদ্যমান শ্রম আইন পাশ কাটানো যাবে না। বৈধ ব্যবসায়িক পুনর্গঠন বা শ্রম আইনের অন্য শর্ত পূরণ হলে কর্মী ছাঁটাইয়ের সুযোগ থেকেই যাবে।   চীনে এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গুয়াংজুতে একজন গ্রাফিক ডিজাইনারকে এআই দিয়ে প্রতিস্থাপনের পর চাকরিচ্যুত করার আরেক মামলায় আদালত একই ধরনের অবস্থান নিয়েছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল, এআই ব্যবহার কোম্পানির নিজস্ব ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত; সেটি নিজে থেকেই কর্মচুক্তি বাতিলের বৈধ কারণ হয়ে যায় না।   চীনের এসব রায় এমন সময়ে আসছে, যখন জেনারেটিভ এআইয়ের কারণে সফটওয়্যার, গ্রাহকসেবা, ডিজাইন, প্রশাসন ও তথ্য বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন খাতে মানুষের কাজ দ্রুত স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে।   ফলে প্রশ্ন উঠছে, প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা প্রতিষ্ঠান পাবে, কিন্তু তার কারণে চাকরি হারানোর পুরো ঝুঁকি কি শুধু কর্মীকেই বহন করতে হবে?   হাংজুর আদালত সেই প্রশ্নে একটি স্পষ্ট সীমারেখা টেনেছেন। প্রতিষ্ঠান এআই গ্রহণ করতে পারবে, কাজের ধরনও বদলাতে পারবে; কিন্তু শুধু ‘এআই এখন এই কাজ করতে পারে’—এই যুক্তিতে একজন কর্মীর মৌলিক শ্রম অধিকার বাতিল করা যাবে না।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৯:৯
আপন দুই বোন মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল টিজসেন।

বান্ধবী ভেবেই কেটেছে কৈশোর, ৩০ বছর পর জানলেন তারা আপন দুই বোন

ইরানে সামরিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন

ইরানে সামরিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন, প্রতিরক্ষার বদলে ‘আক্রমণাত্মক’ কৌশলে জোর

১২ আগস্ট আকাশে মহাজাগতিক উৎসব, একসঙ্গে সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টি

১২ আগস্ট আকাশে মহাজাগতিক উৎসব, একসঙ্গে সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টি

যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সক্ষমতা দেখাল উত্তর কোরিয়া
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সক্ষমতা দেখাল উত্তর কোরিয়া

এটি ১২ আগস্ট ২০২৬-এর সর্বশেষ ঘটনা। উত্তর কোরিয়া বুধবার পূর্ব উপকূলের ওয়ানসান এলাকা থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সাগরে পড়েছে।   দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে উৎক্ষেপণ করা হয়। জাপানও এটিকে সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করেছে। জাপানের অর্থনৈতিক জলসীমায় এটি পড়েনি বলে জানানো হয়েছে।   এই উৎক্ষেপণের সময়টিই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কথা। ১১ দিনের এই মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দেখে আসছে। ফলে বড় ধরনের মহড়ার আগে পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।    এটি এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এর আগে ৬ আগস্টও দেশটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।   দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উৎক্ষেপণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সিউল জরুরি জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠক করেছে এবং পিয়ংইয়ংকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণটি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করেনি। তবে ওয়াশিংটন দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক মহড়ার আগে এই ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ং তার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।   ফলে মহড়াকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৪:৩
Mohsen Rezaee Secretary of the Supreme National Security Council of Iran

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে, কে এই কট্টরপন্থী রেজাই?

বিমান ছাড়াই ইউরোপ ভ্রমণের চমৎকার সুযোগ

বিমান ছাড়াই ইউরোপ ভ্রমণের চমৎকার সুযোগ! লন্ডন থেকে স্পেন মাত্র ২৬৫ পাউন্ডে

টানা অনুসন্ধানের পর মা ও ১৮ দিনের শিশুকে নিরাপদে বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত

ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের নিচে ৩২ ঘণ্টা, জীবিত উদ্ধার মা ও ১৮ দিনের শিশু

0 Comments