ইসরায়েলের কাছ থেকে অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম কিনেছে সৌদি-কাতার
ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বা প্রকাশ্য প্রতিরক্ষা সম্পর্ক না থাকলেও সৌদি আরব ও কাতারের কাছে ইসরায়েলি সামরিক প্রযুক্তি ও উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ। বিভিন্ন নথি, চুক্তিপত্র এবং প্রকাশ্যে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে রোববার প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যমটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের রাজপরিবারের ব্যবহৃত অন্তত তিনটি বিমানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস নির্মিত ‘সি-মিউজিক’ (C-MUSIC) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের বাসেলে বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের সময় এই ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়।
হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি তেহরান সফরে যে বিমান ব্যবহার করেছিলেন, সেটিও এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত ছিল। সি-মিউজিক মূলত কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বা ম্যানপ্যাডস শনাক্ত করে এবং শক্তিশালী লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যচ্যুত করার সক্ষমতা রাখে। ভিআইপি ও রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যবহৃত বিমানের নিরাপত্তা বাড়াতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ভিআইপি বিমানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই নয়, কাতারের যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতেও ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ ছিল। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কাতারের এফ-১৫ কিউএ আবাবিল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ থেকে ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের উপ-চুক্তি পায়। এসব চুক্তির মাধ্যমে উন্নত যুদ্ধ হেলমেট, নাইট-ভিশন চশমা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়।
হারেৎজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবের এফ-১৫এসএ যুদ্ধবিমান প্রকল্পেও একই ধরনের ইসরায়েলি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সৌদি আরবকে ৪৬২টি উন্নত জয়েন্ট হেলমেট-মাউন্টেড কিউয়িং সিস্টেম (JHMCS) এবং সমসংখ্যক নাইট-ভিশন চশমা সরবরাহ করা হয়। ইন্টারনেটে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতেও সৌদি বিমানবাহিনীর পাইলটদের এসব হেলমেট ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
এই উন্নত হেলমেটের বিশেষত্ব হলো, এর সামনের স্বচ্ছ কাচেই উড্ডয়নের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদর্শিত হয়। ফলে পাইলট মাথা বা চোখের দৃষ্টির মাধ্যমে দ্রুত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করতে পারেন এবং আরও নির্ভুলভাবে অস্ত্র পরিচালনা করতে সক্ষম হন।
প্রতিবেদনটি বলছে, এসব সরঞ্জাম সরাসরি ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রকাশ্য প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক প্রকল্প ও উপ-চুক্তির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলি কোম্পানিগুলো কয়েক কোটি থেকে কয়েকশ কোটি শেকেল সমপরিমাণ ব্যবসা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রকল্প, প্রযুক্তি সরবরাহ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সেই আলোচনায় আরও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরব, কাতার কিংবা সংশ্লিষ্ট ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreযুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে রাজি না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ছেলেকে অভিনব কায়দায় শিক্ষা দিলেন এক মা। স্থানীয় এক পুলিশ অফিসারের সহায়তায় ছেলেকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ‘গ্রেফতারের’ অভিনয় করানো হয়। তবে এটি কোনো সত্যিকারের গ্রেফতার ছিল না, পুরো ঘটনাটিই ছিল মা, ছেলে ও পুলিশ অফিসারের মজার আয়োজন। ঘটনাটি ঘটেছে কলোরাডোর কীনসবার্গে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কোল্টন সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে মায়ের সঙ্গে প্রথম দিনের প্রচলিত ‘ব্যাক টু স্কুল’ ছবি তুলতে রাজি হচ্ছিল না। মা আমান্ডা স্টলজ তখন স্থানীয় পুলিশ অফিসার জ্যাকের সহায়তা নেন। অফিসার জ্যাকও বিষয়টিকে মজার ছলে নেন। তিনি কোল্টনের হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে বোঝানোর অভিনয় করেন যে, স্কুলের প্রথম দিনে মায়ের সঙ্গে ছবি তুলতে অস্বীকৃতি জানানো নাকি ‘আইনবিরোধী’। পরে ছেলেটিকে পুলিশ গাড়ির পেছনের সিটে বসিয়েও ছবি তোলা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, পুরো ঘটনাটি উপভোগ করছে কোল্টন। হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায়ও তাকে হাসতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে পুলিশ গাড়ির পেছনে বসে হাসছে সে, সামনে দাঁড়িয়ে আছেন অফিসার জ্যাক। অবশ্য কোল্টনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি এবং তাকে প্রকৃত অর্থে আটকও করা হয়নি। ঘটনাটি ছিল স্কুলের প্রথম দিনের স্মৃতি ধরে রাখতে মা ও স্থানীয় পুলিশ অফিসারের পরিকল্পিত কৌতুক। অমান্ডা পরে মজা করে লেখেন, তার ছেলে স্কুলে যাওয়ার আগে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় পড়েছিল। অফিসার জ্যাক তাকে বুঝিয়েছেন, স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে মাকে অস্বীকার করা নাকি সত্যিই ‘আইনের বিরুদ্ধে’। ঘটনার পর অমান্ডা স্থানীয় পুলিশ অফিসারদের প্রশংসাও করেন। তার মতে, শিশুদের সঙ্গে এ ধরনের আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি করা তাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকে এবং কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে পুলিশ অফিসারদের সম্পর্ক তৈরিতেও ভূমিকা রাখে। অমান্ডা বলেন, শেষ পর্যন্ত তারা কোল্টনের স্কুলে ফেরার দিনের ছবিও পেয়ে গেছেন। ফলে যে ছবি তুলতে রাজি না হওয়া থেকে পুরো ঘটনার শুরু, পুলিশের মজার ‘গ্রেফতারের’ সুবাদে সেই ছবিই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে পরিবারের জন্য ব্যতিক্রমী এক স্মৃতি।
সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি, সেই বেজি নিধনেই লেগেছে ৪৫ বছর
ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ব্রিটিশ ইহুদি নারী খলিলা লিস্টার
আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় যাওয়া শামীমা কি ফিরে পাবেন নাগরিকত্ব!
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দীর্ঘ সামরিক অধ্যায়ের অবসান ঘটাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাকে থাকা অবশিষ্ট মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আইএসবিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশনও শেষ হবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদি বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠকের পর ৩০ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশন শেষ এবং বাহিনী প্রত্যাহারের ‘স্থির ও চূড়ান্ত’ তারিখ হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার শেষ হবে বলে আশা করছে। তবে বর্তমানে ইরাকে ঠিক কতজন মার্কিন সেনা রয়েছেন এবং প্রত্যাহারের পর তাদের কোথায় মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া অবশ্য ইতোমধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে। দেশটির অধিকাংশ এলাকা থেকে গত বছরই মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে সীমিত সংখ্যক সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম রয়ে গেছে। ইরাকি কুর্দি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, এরবিল থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরানোর নতুন ধাপ প্রায় তিন সপ্তাহ আগে শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরও জুলাইয়ে জানিয়েছিল, ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাকে আইএসবিরোধী ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ মিশন শেষ করার কথা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য, আইএসকে ভূখণ্ডগতভাবে পরাজিত করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক এবং আন্তর্জাতিক জোট উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিদেশি বাহিনী চলে যাওয়ার পর আইএস ও অন্যান্য সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলার প্রধান দায়িত্ব থাকবে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে। এর মধ্যে কুর্দিস্তান অঞ্চলের পেশমার্গা বাহিনীও রয়েছে। ইরাকের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর শুধু বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নয়। দেশটির সরকার একই দিনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আল জাইদির বক্তব্য, বিদেশি বাহিনী চলে যাওয়ার পর আলাদা সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্র ধরে রাখার প্রয়োজন থাকবে না এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরাকি বাহিনী সক্ষম। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে না। ইরাকে ইরানঘনিষ্ঠ কয়েকটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে এবং তাদের কয়েকটি ইতোমধ্যে অস্ত্র সমর্পণে অনীহা জানিয়েছে। ফলে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সব অস্ত্র রাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ বাগদাদ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক উপস্থিতির ইতিহাস দুই পর্বে বিভক্ত। ২০০৩ সালের মার্চে সাদ্দাম হোসেন সরকারের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার দাবিকে অন্যতম কারণ দেখিয়ে ইরাকে আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। পরে সেই ধরনের অস্ত্র পাওয়া যায়নি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সাদ্দাম সরকারের পতন ঘটে, কিন্তু এরপর দেশটি দীর্ঘ যুদ্ধ, বিদ্রোহ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মধ্যে পড়ে। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা সর্বোচ্চ এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি হয়েছিল। পরে ধাপে ধাপে সেনা কমানো শুরু হয় এবং ২০১১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ যুদ্ধরত সেনারা ইরাক ছাড়ে। তবে সেই প্রত্যাহার স্থায়ী হয়নি। ২০১৪ সালে আইএস ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিলে ইরাকি সরকারের আমন্ত্রণে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক জোটের সেনারা আবার দেশটিতে ফিরে আসে। তাদের মূল দায়িত্ব ছিল ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও আইএসবিরোধী অভিযানে সহায়তা করা। আইএসের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড পুনর্দখলের পর ২০২১ সালে জোটের সরাসরি যুদ্ধ মিশন শেষ হয়। এরপরও প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ইরাকে থেকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং যৌথ আইএসবিরোধী কার্যক্রমে সহায়তা করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের সমঝোতার পর থেকে সেই উপস্থিতিও ধাপে ধাপে কমানো হচ্ছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যাহার পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ হলে ২০০৩ সালের আগ্রাসনের ২৩ বছর পর ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটবে। তবে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। দুই দেশ ইতোমধ্যে সামরিক মিশননির্ভর সম্পর্ক থেকে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, জ্বালানি ও বাণিজ্যকেন্দ্রিক দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বের দিকে এগোনোর কথা জানিয়েছে।
‘গোল্ডেন ভিসা’র চাহিদা বাড়ায় এই দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন ধনী আমেরিকানরা
নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে আফগানিস্তানে খুঁজতে গিয়ে মাথায় গুলি! থেমে গেল স্বাভাবিক জীবন
চিকিৎসকেরা বলেছিলেন টনসিল, শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ল ১১ বছরের শিশুর স্টেজ-৪ ক্যানসার
আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস প্রদেশের পারগামিনো শহরে ২০১২ সালে এক কিশোরকে সপ্তম তলা থেকে নিচে ফেলে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় আদালতের রায় এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যম এবং আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৬ জানুয়ারি সকালে ১৬ বছর বয়সী ইভান হোর্তিগেরা তার ১৪ বছর বয়সী বান্ধবী তামারার বাসায় রাত কাটানোর পর ঘুমিয়ে ছিলেন। সকাল প্রায় ৯টার দিকে তামারার বাবা নরবের্তো নুনিয়েজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে তাদের একসঙ্গে দেখতে পান। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তিনি ইভানকে মারধর শুরু করেন। তদন্তে জানা যায়, মারধরের একপর্যায়ে কিশোরটির চোয়াল ও নাকের হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, পাশের একটি ভবনের এক বাসিন্দা জানালা দিয়ে ঘটনাটির কিছু অংশ প্রত্যক্ষ করেন। তিনি আদালতে জানান, বাসা থেকে কাঁচ ভাঙার শব্দ শোনার পর তিনি দেখতে পান অভিযুক্ত ব্যক্তি কিশোরকে হুমকি দিচ্ছেন। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই কিশোরটি ভবনের ওপর থেকে নিচে পড়ে যায়। ফরেনসিক তদন্তে দেখা যায়, ইভানের হাতে আত্মরক্ষার কোনো চিহ্ন ছিল না। বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনি নিচে পড়ে যাওয়ার আগেই অচেতন ছিলেন। এই তথ্য প্রসিকিউশনের অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করে। অভিযুক্ত নরবের্তো নুনিয়েজ শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, ইভান নিজেই ভবন থেকে লাফ দিয়েছিলেন। তবে তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং ঘটনার আগে দেওয়া হুমকির তথ্য বিশ্লেষণ করে এই দাবি গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে এটি স্পষ্ট যে ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড। ইভানের বোন লুসিয়া হোর্তিগেরা স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, বহু বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত এখনও তার মনে স্পষ্ট। তিনি বলেন, পরিবারের জন্য এই ক্ষতি কখনও পূরণ হওয়ার নয়। ঘটনাটি আর্জেন্টিনায় সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক বিরোধ বা ব্যক্তিগত ক্ষোভ কখনও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বৈধতা দেয় না। এমন ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত।
এআই দিয়ে কাজ করিয়ে কর্মী ছাঁটাই করা যাবে না, চীনা আদালতের যুগান্তকারী রায়
বান্ধবী ভেবেই কেটেছে কৈশোর, ৩০ বছর পর জানলেন তারা আপন দুই বোন