ভেনেজুয়েলায় চার দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে বাবা-ছেলে জীবিত উদ্ধার
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ার চার দিন পর এক বাবা ও তার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। দুর্যোগের কয়েক দিন পর এই উদ্ধার অভিযান বিপর্যস্ত মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করলেও দেশজুড়ে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। একই সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনাও দিন দিন কমে আসছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মার এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা নিরলসভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর পাশাপাশি স্বজনদের খোঁজে স্থানীয় বাসিন্দারাও খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন।
রোববার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, বুধবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৭৭৪টি ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ১৫০ জন। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্দরনগরী লা গুয়াইরা। প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থিত এই শহরের বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলার মধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় ফার্মেসি, সুপারমার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, ভূমিকম্পের পর সরকারি সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় ধীরগতিতে পৌঁছাচ্ছে। অনেক এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও আশ্রয়ের সংকট রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, সামরিক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রধান বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর পুনরায় সচল করতে আরও ২৩০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য ভেনেজুয়ায় পৌঁছাচ্ছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ২৫০ সদস্যের একটি দুর্যোগ মোকাবিলা দল পাঠিয়েছে। এছাড়া মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছে।
তবে উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, সময় যত এগোচ্ছে জীবিত মানুষ উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এল সালভাদরের এক উদ্ধারকর্মী বলেন, "এ পর্যায়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মরদেহ উদ্ধার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও আমরা আশা ছাড়ছি না। ঈশ্বরের কৃপায় এখনো কিছু মানুষকে জীবিত পাওয়া যেতে পারে।"
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে মানুষের ক্ষোভও বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের তানাগুয়ারেনা এলাকায় এক বাসিন্দাকে সেনাদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, "দেশের এখন আপনাদের প্রয়োজন। অস্ত্র নামিয়ে রাখুন, কোদাল আর শাবল হাতে নিন।"
স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার মুখে প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য বিভিন্ন দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ২৪টি দেশ ভেনেজুয়েলায় ৫২১ টন ত্রাণসামগ্রী, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষ শনাক্তে প্রশিক্ষিত ৮৬টি অনুসন্ধানী কুকুর এবং ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, এই দুর্যোগে সর্বোচ্চ ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা এবং ত্রাণসামগ্রীর প্রয়োজন হবে।
এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলায় এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প। এমন সময় এই বিপর্যয় আঘাত হেনেছে, যখন দেশটি দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি এই সংকটে হাসপাতাল, জনসেবা ও অবকাঠামো ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং লাখো মানুষ দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে প্রায় ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশের সমান।
এদিকে নির্বাসিত বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি শিগগিরই ভেনেজুয়েলায় ফিরবেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এখন আমাদের একসঙ্গে থাকার সময়। শোক ভাগাভাগি করার পাশাপাশি এই কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।"
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreঅসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের কথা বলে পরিচালিত ৩৪ মিলিয়ন ডলারের প্রতারণা মামলায় ২১ বছরের বেশি কারাদণ্ড পাওয়া পলাতক মাইকেল লিজাসো মারাসিগানকে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় দেখা গেছে। এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টারস তালিকায় থাকা মারাসিগানকে ধরিয়ে দেওয়ার তথ্যের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। প্যাসিফিক ডেইলি নিউজের কর্মীদের তোলা একটি ছবির বরাত দিয়ে হাওয়াই নিউজ নাউ জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ ম্যানিলায় একটি ক্যাফে থেকে বের হওয়ার সময় মারাসিগানের ছবি তোলা হয়। ছবিটি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসার পর তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এফবিআইয়ের হনুলুলু ফিল্ড অফিস জানিয়েছে, মারাসিগান এখনও পলাতক এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। ৫৪ বছর বয়সী মারাসিগান যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের দ্বৈত নাগরিক। গুয়ামের হাফা আদাই বিঙ্গো নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত বিশাল প্রতারণা ও মানি লন্ডারিং স্কিমের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মামলাটি তদন্ত করে এফবিআই ও আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মারাসিগান ও তার সহযোগীরা গুয়াম শ্রাইন ক্লাবের হাফা আদাই বিঙ্গো পরিচালনা করেন। খেলোয়াড় ও সাধারণ মানুষকে বলা হতো, বিঙ্গো থেকে পাওয়া অর্থ অসুস্থ শিশু এবং তাদের একজন অভিভাবককে চিকিৎসার জন্য হাওয়াইয়ের শ্রাইনার্স হাসপাতালে পাঠানোর কাজে ব্যয় হবে। কিন্তু ফেডারেল আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। ওই সময় বিঙ্গো কার্যক্রম থেকে প্রায় ৩৪ মিলিয়ন ডলার আয় হলেও এর মধ্যে ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যক্তিগত লাভের জন্য সরিয়ে নেওয়া ও পাচার করা হয়। বিচার বিভাগের হিসাবে, অ্যালোহা শ্রাইনার্সের পাওয়ার কথা ছিল এমন ১০ লাখ নয়, পুরো ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ৮০৪ ডলার সরিয়ে নিয়েছিলেন মারাসিগান ও তার সহযোগীরা। ব্যাংক রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিঙ্গো থেকে সংগৃহীত অর্থের মাত্র প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার অ্যালোহা শ্রাইনার্স এবং শিশুদের বিমানযাত্রার খরচে ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২১ সালে বিঙ্গোর অর্থ থেকে সংগঠনটির ঘোষিত দাতব্য উদ্দেশ্যে কোনো অর্থই ব্যয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। ২০২৫ সালের ১৩ মে ফেডারেল জুরি মারাসিগান ও তার সহযোগীদের অবৈধ জুয়া ব্যবসা পরিচালনার ষড়যন্ত্র, মানি লন্ডারিং ষড়যন্ত্র এবং ওয়্যার ফ্রডের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। মারাসিগানকে পৃথক কয়েকটি মানি লন্ডারিং অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য ফিলিপাইনে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন মারাসিগান। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ফিরে না এসে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এরপর ২০২৫ সালের জুনে প্রিট্রায়াল রিলিজের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফেডারেল অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। পলাতক থাকা অবস্থাতেই ২০২৬ সালের ১৮ মে তাকে সাজা দেন গুয়ামের ফেডারেল আদালত। মারাসিগানকে ২৬২ মাস বা প্রায় ২১ বছর ১০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অ্যালোহা শ্রাইনার্সকে ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ৮০৪ ডলার ক্ষতিপূরণ, ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৩ ডলার ফরফেইচার এবং ৬ হাজার ৫০০ ডলার বাধ্যতামূলক আদালত ফি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তাকে এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টারস তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য বর্তমানে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এফবিআই তাকে পালিয়ে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং জানিয়েছে, গুয়াম ও ফিলিপাইন উভয় জায়গাতেই তার যোগাযোগ রয়েছে। ম্যানিলায় মারাসিগানের সাম্প্রতিক ছবিকে তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত এফবিআই স্পেশাল এজেন্ট টম সাইমন হাওয়াই নিউজ নাউকে বলেছেন, ছবিটি সত্যি এবং সাম্প্রতিক হলে তদন্তকারীদের জন্য তার অবস্থান সংকুচিত করার বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মারাসিগানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ তাদের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে তখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য ছিল না। অন্যদিকে এফবিআইয়ের হনুলুলু অফিস স্পষ্ট করেছে, মারাসিগান এখনও তাদের ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে সংস্থাটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যে অর্থ অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই অর্থের কোটি কোটি ডলার ব্যক্তিগত স্বার্থে সরিয়ে নেওয়ার এই মামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা বিশেষভাবে গুরুতর বলে বর্ণনা করেছেন। এখন ম্যানিলায় মারাসিগানের সম্ভাব্য উপস্থিতির নতুন তথ্য সামনে আসায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই দণ্ডিত প্রতারককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে।
স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ ডেকে ‘গ্রেফতার’ করালেন মা
সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি, সেই বেজি নিধনেই লেগেছে ৪৫ বছর
ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ব্রিটিশ ইহুদি নারী খলিলা লিস্টার
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের আদালতে শামীমা বেগমের আইনি লড়াইয়ের পথ শেষ হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট তার আপিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করায় দেশটির আদালতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত আর চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ নেই। তবে শামীমার মামলা এখন ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে রয়েছে, যেখানে তিনি দাবি করেছেন, শিশু পাচারের সম্ভাব্য শিকার হিসেবে তার পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই ব্রিটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। লন্ডনে জন্ম নেওয়া শামীমা ২০১৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে দুই স্কুলবন্ধুর সঙ্গে যুক্তরাজ্য ছেড়ে সিরিয়ায় যান। সেখানে তিনি ইসলামিক স্টেট বা আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশ করেন এবং পরে একজন আইএস সদস্যকে বিয়ে করেন। ২০১৯ সালে সিরিয়ার একটি শিবিরে তার সন্ধান পাওয়ার পর তৎকালীন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করেন। এরপর নাগরিকত্ব ফিরে পেতে দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু করেন শামীমা। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্পেশাল ইমিগ্রেশন আপিলস কমিশন তার আবেদন খারিজ করে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের কোর্ট অব আপিলও তার পক্ষে রায় দেয়নি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট কোর্ট অব আপিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি চেয়ে করা শামীমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, তার আবেদনে এমন কোনো গ্রহণযোগ্য আইনি প্রশ্ন নেই, যার ভিত্তিতে আরও আপিলের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এর ফলে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ আদালতে নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে যায়। তবে মামলার এখানেই সমাপ্তি হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর শামীমা ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আবেদন করেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে স্ট্রাসবুর্গভিত্তিক আদালত মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্য সরকারকে জানায় এবং সরকারের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব চায়। মামলাটির অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় হচ্ছে, ১৫ বছর বয়সে শামীমার সিরিয়ায় যাওয়ার পেছনে মানবপাচার বা শিশু পাচারের উপাদান ছিল কি না এবং ব্রিটিশ সরকার নাগরিকত্ব বাতিলের আগে সেই সম্ভাবনা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছিল কি না। শামীমার আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাকে আইএসের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাকে সম্ভাব্য মানবপাচারের শিকার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত ছিল। তাদের যুক্তি, নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় রাষ্ট্রের তার প্রতি থাকা সুরক্ষামূলক দায়িত্বের বিষয়টিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন ছিল। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত বিশেষভাবে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে বিষয়টি পরীক্ষা করছে। এই অনুচ্ছেদ দাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মানবপাচার থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান হচ্ছে, শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের আদালতগুলোও এর আগে সরকারের সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করেনি। শামীমার নাগরিকত্ব নিয়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সময় আইনি যুক্তি ছিল, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বাবা মায়ের সন্তান হিসেবে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য ছিলেন এবং সে কারণে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব হারিয়ে রাষ্ট্রহীন হবেন না। তবে বাংলাদেশ সরকার প্রকাশ্যে জানিয়েছে, শামীমা বাংলাদেশের নাগরিক নন এবং তাকে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। ফলে বাস্তবে শামীমার অবস্থান অত্যন্ত জটিল। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নেই, বাংলাদেশ তাকে নাগরিক হিসেবে স্বীকার করছে না এবং অন্য কোনো দেশে তার পুনর্বাসনের নিশ্চিত ব্যবস্থাও নেই। বর্তমানে তিনি উত্তর পূর্ব সিরিয়ার আল রোজ শিবিরে অবস্থান করছেন। ২০১৯ সালে আইএসের ভূখণ্ডগত পতনের পর থেকে সেখানে আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন নারী ও শিশুদের একটি বড় অংশকে রাখা হয়েছে। শামীমার তিন সন্তানই অল্প বয়সে মারা গেছে। ২০১৯ সালে শিবিরে অবস্থানকালে তার নবজাতক ছেলের মৃত্যুর খবর আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে চলমান মামলাটি এখন তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবশিষ্ট আইনি পথ। তবে আদালত শেষ পর্যন্ত তার পক্ষে রায় দিলেও সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেবে বা তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরার অনুমতি দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আদালতের সিদ্ধান্তের ধরন এবং যুক্তরাজ্য সরকার সেটি কীভাবে বাস্তবায়ন করে, তার ওপর পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে। ফলে এক দশকেরও বেশি সময় আগে ১৫ বছর বয়সে লন্ডন ছেড়ে সিরিয়ায় যাওয়া শামীমা বেগমের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই স্ট্রাসবুর্গের ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের মামলার ওপর নির্ভর করছে।
২৩ বছর পর ইরাক থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
‘গোল্ডেন ভিসা’র চাহিদা বাড়ায় এই দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন ধনী আমেরিকানরা
নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে আফগানিস্তানে খুঁজতে গিয়ে মাথায় গুলি! থেমে গেল স্বাভাবিক জীবন
যুক্তরাজ্যের ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীর অসুস্থতাকে প্রথমে সাধারণ টনসিলের সংক্রমণ বলে মনে করেছিলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে, সে বিরল ও অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এক ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত। পরে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, তার শরীরে চতুর্থ ধাপের বারকিট লিম্ফোমা (Burkitt lymphoma) রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্মেই বারোজ-পিট, যাকে পরিবারের সদস্যরা ‘মেলি’ নামে ডাকেন, গত মে মাসে ইংল্যান্ডের ডেভনে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটানোর সময় অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও ক্ষুধামন্দায় ভুগতে শুরু করে। ধীরে ধীরে তার খেলাধুলা কমে যায় এবং বেশিরভাগ সময় শুয়ে থাকতে চাইত। মেলির মা নিকি বারোজ-পিট জানান, প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকেরা এটিকে টনসিলের সংক্রমণ বলে মনে করেন এবং অ্যান্টিবায়োটিক দেন। তারা পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে মেলি সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বাড়ে। পরবর্তীতে মেলিকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা রক্ত পরীক্ষা করেন। প্রথমদিকে তার শরীরে সেপসিস, যক্ষ্মা বা বিদেশ সফরের সময় কোনো সংক্রমণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। প্রায় ১৫ দিন হাসপাতালে থাকার পর তাকে বার্মিংহাম চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই গত ৩ জুলাই চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, মেলি স্টেজ-৪ বারকিট লিম্ফোমায় আক্রান্ত। এটি শিশুদের মধ্যে দেখা যাওয়া বিরল ও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এক ধরনের নন-হজকিন লিম্ফোমা, যা শ্বেত রক্তকণিকার বি-সেল থেকে শুরু হয় এবং খুব দ্রুত শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসকেরা জানান, মেলির ক্ষেত্রে ক্যানসারটি ইতোমধ্যে প্লীহা, যকৃত ও অস্থিমজ্জায় ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে তার ছয় মাসব্যাপী কেমোথেরাপি চলছে। মা নিকি বলেন, শুরু থেকেই তিনি বুঝতে পারছিলেন, বিষয়টি সাধারণ কোনো অসুস্থতা নয়। কারণ মেলি সবসময়ই খেলাধুলাপ্রিয়, প্রাণবন্ত ও সক্রিয় ছিল। কিন্তু সে হাঁটতে, খেতে এমনকি কথা বলতেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল। তিনি বলেন, "বারবার বলা হচ্ছিল, ওর কিছু হয়নি। কিন্তু একজন মা হিসেবে আমি বুঝতে পারছিলাম, ওর শরীরে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়াটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের ছিল।" প্রথমদিকে মেলির ঘাড়ে ব্যথা ছিল। পরে পায়ের শিন ও কুঁচকিতেও ব্যথা শুরু হয়। পরিবারের ধারণা ছিল, হয়তো জিমন্যাস্টিকস অনুশীলনের সময় পাওয়া কোনো আঘাতের কারণে এমন হচ্ছে। কিন্তু পরে জানা যায়, এগুলো ক্যানসারের লক্ষণ ছিল। বর্তমানে মেলির চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পরিবার তহবিল সংগ্রহ করছে। তার খালা এমা হোয়াইট জানান, চিকিৎসার ফাঁকে মেলিকে কিছু আনন্দের সময় উপহার দিতে চান তারা। ক্যানসারের কারণে পরিবারের বেশ কয়েকটি ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। মেলির ইচ্ছার তালিকায় রয়েছে ডিজনি ওয়ার্ল্ড ফ্লোরিডা ও ল্যাপল্যান্ড ভ্রমণ। পরিবারটি বার্মিংহাম চিলড্রেনস হাসপাতাল এবং চিকিৎসাকালীন সহায়তা দেওয়া রোনাল্ড ম্যাকডোনাল্ড হাউসের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তারা ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্যও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বারকিট লিম্ফোমা দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, অকারণে ব্যথা বা স্বাভাবিক আচরণে বড় পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
১৪ বছরের মেয়ের কক্ষে প্রেমিক: ক্ষুব্ধ বাবা ৭ তলা থেকে ফেলে হত্যা করলেন কিশোরকে
এআই দিয়ে কাজ করিয়ে কর্মী ছাঁটাই করা যাবে না, চীনা আদালতের যুগান্তকারী রায়