১৮ বছর ধরে খুঁজেও হারানো গুহার সন্ধান পাননি, ফিরে পেয়ে দেখলেন ভেতরেই মেঘ, নদী আর জঙ্গল!
ভিয়েতনামের ঘন জঙ্গলে বৃষ্টির মধ্যে আশ্রয় নিতে গিয়ে যে গুহাটির সন্ধান পেয়েছিলেন হো খান, সেটিই পরে পরিচিত হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গুহা হিসেবে। কিন্তু প্রথম দেখার পর ঘন জঙ্গলের ভেতর গুহাটির অবস্থান হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। এরপর প্রায় ১৮ বছর ধরে খুঁজতে খুঁজতে শেষ পর্যন্ত ২০০৯ সালে আবার সেই গুহার সন্ধান পান তিনি। নাম দেওয়া হয় হ্যাং সন দুং।
ঘটনাটির শুরু ১৯৯০ সালে। ভিয়েতনামের কোয়াং বিন প্রদেশের ফং না-ক্য বাং এলাকার জঙ্গলে ঘুরতে গিয়ে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পড়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা হো খান। আশ্রয়ের খোঁজে তিনি একটি গুহায় ঢোকেন। সেখানে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে আসতে এবং ভেতর থেকে নদীর পানির শব্দ শুনতে পান। তবে অন্ধকার ও অজানা পরিবেশের কারণে আর গভীরে যাওয়ার সাহস করেননি।
পরে গুহাটির অবস্থান আবার খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও ঘন, চিহ্নহীন জঙ্গলের কারণে তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু জায়গাটির কথা তিনি ভুলে যাননি। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজ চালানোর পর ২০০৯ সালে অবশেষে গুহাটির প্রবেশপথ আবার খুঁজে পান হো খান। এরপর ব্রিটিশ কেভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের অভিযাত্রীদের একটি দল তার সঙ্গে সেখানে যায় এবং গুহাটির বিশালত্ব দেখে বিস্মিত হয়।
সন দুংয়ের বিশালতা সাধারণ কোনো গুহার সঙ্গে তুলনা করার মতো নয়। ভিয়েতনামের সরকারি পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, গুহাটি প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ, কোনো কোনো অংশ প্রায় ২০০ মিটার উঁচু এবং ১৫০ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত। এর বিশাল কক্ষগুলোর আকার এতটাই বড় যে একটি ৪০ তলা ভবনের সমান উচ্চতার কাঠামোও সেখানে কল্পনা করা যায়।
গুহার ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে ভূগর্ভস্থ নদী। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়গুলোর একটি হলো এর ছাদের বিশাল দুটি অংশ ধসে গিয়ে তৈরি হয়েছে ‘ডোলাইন’ বা প্রাকৃতিক উন্মুক্ত অংশ। সেখান দিয়ে সূর্যের আলো ও বৃষ্টির পানি গুহার গভীরে পৌঁছায়। ফলে মাটির নিচেই তৈরি হয়েছে ঘন সবুজ বনাঞ্চল, যেখানে গাছপালা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে।
শুধু বন নয়, গুহার ভেতরের পরিবেশও আলাদা। বিশাল ভূগর্ভস্থ কক্ষগুলোর নিজস্ব ক্ষুদ্র জলবায়ু তৈরি হয়। উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে মিশে সেখানে কুয়াশা ও মেঘের মতো পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এ কারণেই সন দুংকে শুধু একটি গুহা নয়, বরং মাটির নিচে গড়ে ওঠা এক স্বতন্ত্র প্রাকৃতিক জগত হিসেবে দেখা হয়।
গুহাটিতে রয়েছে বিশাল স্ট্যালাগমাইট, অনন্য পাথরের গঠন এবং ‘কেভ পার্ল’ নামে পরিচিত ক্যালসাইটের গোলাকার গঠন। কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে পানি ও ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার প্রভাবে তৈরি এসব গঠন গুহাটিকে আরও অনন্য করে তুলেছে।
সন দুং অবস্থিত ফং না-ক্য বাং ন্যাশনাল পার্কে, যা ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। এই এলাকায় ৩০০টিরও বেশি গুহা ও ভূগর্ভস্থ নদীর সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে সন দুংয়ের পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সেখানে প্রবেশ ও অভিযান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
একসময় কাঠ সংগ্রহ ও শিকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন হো খান। পরে তার খুঁজে পাওয়া এই গুহা বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং ফং না-ক্য বাং অঞ্চলের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়। তবে সন দুংয়ের গল্পের সবচেয়ে বিস্ময়কর অংশ হয়তো এর বিশালত্ব নয়, বরং একটি বৃষ্টিভেজা রাতের কৌতূহল কীভাবে প্রায় দুই দশক পর পৃথিবীর অন্যতম অসাধারণ প্রাকৃতিক বিস্ময়ের দরজা খুলে দিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreযুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শিক্ষার্থীদের প্রধান গন্তব্য। কিন্তু ভিসা নীতির পরিবর্তন, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, পড়াশোনার খরচ এবং শ্রমবাজারের চাহিদার কারণে এখন অনেকেই বিকল্প দেশ বিবেচনা করছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে দেশ বদলাচ্ছেন। বরং শিক্ষা, চাকরি, দক্ষ কর্মীর চাহিদা, ব্যবসা ও তুলনামূলক সহজ অভিবাসন ব্যবস্থা মিলিয়ে নতুন গন্তব্যের তালিকা তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার নতুন শ্রমবাজার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারের পাশাপাশি রোমানিয়া, পর্তুগাল, সেশেলসসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠাচ্ছে। জাপানেও টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম রয়েছে। জাপান এখন বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে আলোচিত বিকল্পগুলোর একটি। বিশেষ করে কারিগরি দক্ষতা, নির্মাণ, উৎপাদন ও বিভিন্ন নির্দিষ্ট পেশায় কর্মীর চাহিদা থাকায় বাংলাদেশ থেকে জাপানের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি রপ্তানির সরকারি প্ল্যাটফর্মেও জাপানের বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়াও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। শিল্প ও উৎপাদন খাতে বিদেশি কর্মীর চাহিদা দেশটিকে এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় শ্রমবাজারে পরিণত করেছে। বাংলাদেশি কর্মীদের পাশাপাশি এশিয়ার অন্যান্য দেশের তরুণরাও দক্ষিণ কোরিয়াকে কাজের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ইউরোপে জার্মানি এখন দক্ষ কর্মীদের অন্যতম বড় বিকল্প। প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্পখাতে কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের ওপর দেশটির নির্ভরতা রয়েছে। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানভিত্তিক বিভিন্ন গাইডেও জার্মানিকে দক্ষ কর্মীদের জন্য শীর্ষ গন্তব্যগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পর্তুগালও বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সরকারও পর্তুগালকে বৈধ শ্রমবাজার হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ইউরোপে যেতে আগ্রহীদের কাছে দেশটি ক্রমেই পরিচিত বিকল্পে পরিণত হচ্ছে। ইতালি অবশ্য নতুন গন্তব্যের চেয়ে বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। বৈধ শ্রমবাজারের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিদের উপস্থিতি রয়েছে। তাই ইউরোপে অভিবাসনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করতে গেলে ইতালিকে বাদ দেওয়া যায় না। আয়ারল্যান্ডও বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ পেশাজীবীদের কাছে আকর্ষণীয় হচ্ছে। ইংরেজিভাষী দেশ হওয়া এবং প্রযুক্তি, ওষুধ ও আর্থিক খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় দেশটি যুক্তরাজ্যের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই প্রবণতায় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে বিভিন্ন শিক্ষা-অভিবাসন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই পরিবর্তনের বড় অংশ। বিশেষ করে দুবাই ও আবুধাবি ব্যবসা, প্রযুক্তি, পেশাদারি সেবা ও উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তবে এটি ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো স্থায়ী অভিবাসনের পথ নয়; কাজ ও ব্যবসার সুযোগের পাশাপাশি ভিসার ধরন ও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের নিয়ম আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়া নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটি তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৬ সালে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। মালয়েশিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়েছে। সিঙ্গাপুরও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা ও উচ্চ দক্ষতার চাকরিতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কর্মীরা দেশটির দিকে তাকাচ্ছেন। তবে ছোট শ্রমবাজার এবং তুলনামূলক উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এখানে বড় বিষয়। নিউজিল্যান্ডও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাইরে ইংরেজিভাষী একটি বিকল্প। দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য দেশটির বিভিন্ন ভিসা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দূরত্ব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকের জন্য বড় বাধা। এশিয়ার বাইরে আফ্রিকার কিছু দেশও নতুন সুযোগের কারণে নজরে আসছে। নাইজেরীয়দের ক্ষেত্রে ঘানা, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও কেনিয়া গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে নাইরোবি আফ্রিকার প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হওয়ায় প্রযুক্তি ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের আকর্ষণ করছে। মরিশাসও বিনিয়োগকারী ও পেশাজীবীদের জন্য একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। পর্যটন, আর্থিক সেবা ও ব্যবসার পরিবেশ দেশটিকে আফ্রিকা অঞ্চলে আলাদা অবস্থান দিয়েছে। উত্তর আফ্রিকার মরক্কো এবং ইউরোপ-এশিয়ার সংযোগস্থল তুরস্কও ব্যবসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কারণে নতুন করে বিবেচনায় আসছে। তবে এসব দেশে সুযোগ থাকলেও ভাষা, ভিসা, স্থানীয় শ্রমবাজার এবং স্থায়ী বসবাসের নিয়ম দেশভেদে ভিন্ন। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের অভিবাসনের চিত্রে একটি পরিবর্তন স্পষ্ট। মানুষ শুধু একটি নির্দিষ্ট দেশের দিকে তাকিয়ে নেই। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার পাশাপাশি জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, রোমানিয়া, গ্রিস, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও রুয়ান্ডার মতো দেশও বিভিন্ন শ্রেণির অভিবাসী ও শিক্ষার্থীর কাছে বিকল্প হয়ে উঠছে। তবে প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসনের কারণ ও সুযোগ এক নয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো দেশকে শুধু “সহজে যাওয়ার দেশ” হিসেবে দেখলে ভুল হবে। ভিসা পাওয়া, কাজের অনুমতি, বেতন, কর, বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সবকিছু যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিশেষ করে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশের সুবিধা থাকলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার দেয় না। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিশ্বজুড়ে অভিবাসনের মানচিত্র এখন একমুখী নয়। নতুন প্রজন্মের অভিবাসীরা কোথায় বেশি সুযোগ, কম ঝুঁকি এবং ভালো ভবিষ্যৎ পাওয়া যেতে পারে, সেই হিসাবেই বিকল্প গন্তব্য খুঁজছে।
১৮ বছর ধরে খুঁজেও হারানো গুহার সন্ধান পাননি, ফিরে পেয়ে দেখলেন ভেতরেই মেঘ, নদী আর জঙ্গল!
স্টেট হাউসের পর এবার সিনেট জয় করে ইতিহাস গড়তে চান মেরিয়াম খান
যুক্তরাজ্যই কি এবার ইলন মাস্কের টার্গেট? কিনতে কত খরচ হবে, জানতে চেয়ে প্রশ্ন করলেন তিনি
কানাডায় প্রায় তিন দশক ধরে বসবাস করেও এখন বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েছেন ৫৮ বছর বয়সী রোমান স্লেপসিক। যে দেশ থেকে নির্যাতনের ভয়ে পালিয়ে এসে কানাডায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় পেয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে সেই চেক প্রজাতন্ত্রে একাধিকবার যাতায়াত এবং দেশটির পাসপোর্ট ব্যবহার করায় তাঁর শরণার্থী সুরক্ষা বাতিল হয়েছে। এর সঙ্গে হারিয়েছেন কানাডার স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদাও। বিষয়টি কানাডায় শরণার্থী হিসেবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে। ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বরে চেক প্রজাতন্ত্রে রোমা জনগোষ্ঠীর ওপর বাড়তে থাকা সহিংসতা থেকে বাঁচতে কানাডায় আসেন স্লেপসিক। ১৯৯৮ সালের আগস্টে তাঁকে কনভেনশন শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরের বছর, ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে তিনি কানাডার স্থায়ী বাসিন্দা হন। এরপর প্রায় ২৪ বছর একই নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন তিনি। কানাডাতেই দুই মেয়েকে বড় করেছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিয়েছেন এবং নাতি-নাতনির মুখ দেখেছেন। দীর্ঘ সময় কানাডায় বসবাসের পর টরন্টিকেই নিজের ঘর হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন স্লেপসিক। কিন্তু আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনে আটবার চেক প্রজাতন্ত্রে যান। প্রতিবারই ব্যবহার করেন চেক পাসপোর্ট। শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর ওই পাসপোর্ট দুবার নবায়নও করেছিলেন তিনি। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে চেক প্রজাতন্ত্র থেকে কানাডায় ফেরার সময় তাঁর ভ্রমণের ইতিহাস সীমান্ত কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপর কানাডা সরকার তাঁর শরণার্থী সুরক্ষা বাতিলের জন্য ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডে আবেদন করে। ২০২৩ সালে বোর্ড সিদ্ধান্ত দেয়, নিজ দেশে বারবার যাওয়া এবং চেক পাসপোর্ট ব্যবহার করার মাধ্যমে স্লেপসিক স্বেচ্ছায় আবার চেক প্রজাতন্ত্রের সুরক্ষা গ্রহণ করেছেন। কানাডার অভিবাসন আইনে এই বিষয়টি ‘রিঅ্যাভেইলমেন্ট’ নামে পরিচিত। এই সিদ্ধান্তের পর তাঁর শরণার্থী সুরক্ষা বাতিল হয় এবং এর আইনি ফল হিসেবে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদাও হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়। কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইনের ১০৮ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো শরণার্থী স্বেচ্ছায় নিজের দেশের সুরক্ষা আবার গ্রহণ করলে, আগের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে নিলে, নতুন কোনো দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে সেই দেশের সুরক্ষা গ্রহণ করলে অথবা যে দেশ থেকে পালিয়ে এসেছিলেন সেখানে আবার স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলে তাঁর শরণার্থী সুরক্ষা বাতিল হতে পারে। তবে শুধু নিজ দেশে যাওয়া মানেই যে প্রত্যেকের শরণার্থী সুরক্ষা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভ্রমণের কারণ, পরিস্থিতি, যাতায়াতের ধরন এবং নিজ দেশের সুরক্ষা নেওয়ার অভিপ্রায়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের আইনি নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, নিজ দেশে ফিরে যাওয়া বা নিজ দেশের পাসপোর্ট নবায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে, তবে ব্যক্তির ব্যাখ্যা ও সামগ্রিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হয়। স্লেপসিকের ক্ষেত্রে আদালতের নথিতে তাঁর একাধিকবার চেক প্রজাতন্ত্রে যাওয়া এবং চেক পাসপোর্ট ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি পারিবারিক প্রয়োজন, অসুস্থ স্বজনের দেখাশোনা এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মতো কারণ দেখালেও এসব কারণ তাঁর মামলার আইনি পরিণতি ঠেকাতে পারেনি। ২০১২ সালে কানাডার আইনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। এরপর নির্দিষ্ট কারণে কোনো স্থায়ী বাসিন্দার শরণার্থী সুরক্ষা চূড়ান্তভাবে বাতিল হলে তিনি অভিবাসন আইনের আওতায় অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়তে পারেন। আইনের ৪০.১ ধারায় বলা হয়েছে, ১০৮ ধারার নির্দিষ্ট কারণের ভিত্তিতে কোনো স্থায়ী বাসিন্দার শরণার্থী সুরক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তাঁকে কানাডায় অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। স্লেপসিক এই আইনি ব্যবস্থাকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ফেডারেল কোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। তবে মামলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন উচ্চ আদালতে আপিলের জন্য অনুমোদন করা হয়েছে। কানাডিয়ান সিভিল লিবার্টিজ অ্যাসোসিয়েশনও মামলাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, শরণার্থী সুরক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা হারানোর বিষয়টি সরাসরি যুক্ত হয়ে যায়। এদিকে শরণার্থী সুরক্ষা বাতিলের ঘটনা কানাডায় একেবারে বিচ্ছিন্ন নয়। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সরকার শরণার্থী সুরক্ষা বাতিলের জন্য ১৭০টি নতুন আবেদন করে। ওই বছর ১৯১টি মামলার নিষ্পত্তি হয়। এর মধ্যে ১২৯টি আবেদনে সরকারের আবেদন মঞ্জুর এবং ৩৫টি আবেদন খারিজ হয়। ২০২৫ সালের শেষে আরও ৩১৪টি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত নতুন করে ২৭টি আবেদন জমা পড়ে এবং মার্চ শেষে অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১৫। বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কানাডায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অনেক মানুষ শরণার্থী হিসেবে সুরক্ষা চেয়ে পরে সুরক্ষিত ব্যক্তি এবং স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ দীর্ঘদিন পর অসুস্থ বাবা-মাকে দেখতে, স্বজনের মৃত্যুতে অংশ নিতে, পারিবারিক সমস্যা সমাধান করতে কিংবা সম্পত্তিসংক্রান্ত কাজে বাংলাদেশে যাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করতে পারেন। কিন্তু শরণার্থী হিসেবে যে দেশের বিরুদ্ধে সুরক্ষা চাওয়া হয়েছিল, সেখানে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর সম্ভাব্য আইনি প্রভাব বুঝে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে নিজ দেশের পাসপোর্ট নেওয়া বা নবায়ন করা, সেই পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশে যাওয়া এবং সেখানে সরকারি সুরক্ষা নেওয়ার মতো বিষয় পরবর্তীতে কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, নিজ দেশের পাসপোর্ট নেওয়া বা নবায়ন করা থেকে কখনো কখনো নিজ দেশের সুরক্ষা আবার গ্রহণের বিষয়টি অনুমান করা হতে পারে। তবে শুধু পাসপোর্ট নবায়নের ঘটনাই সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রমাণ নয়; কেন পাসপোর্ট নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি কী ছিল, সেটিও বিবেচনায় আসে। তাই কানাডায় শরণার্থী হিসেবে সুরক্ষা পাওয়ার পর স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া ব্যক্তিদের জন্য নিজ দেশে ভ্রমণ একটি সাধারণ বিদেশ সফরের মতো বিষয় নাও হতে পারে। বিশেষ করে যে দেশের বিরুদ্ধে শরণার্থী সুরক্ষা চাওয়া হয়েছিল, সেখানে যাওয়ার আগে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি সফর, পাসপোর্ট নবায়ন কিংবা নিজ দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ভবিষ্যতে শরণার্থী সুরক্ষা ও কানাডায় স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
৫০ বছরের পুরোনো প্রতিশ্রুতি রাখতে বন্ধুর শেষ বিদায়ে লাঠি ছেড়ে কফিনের পাশে ৮৩ বছরের সাবেক মেরিন
ভূমিকম্পের সময় জীবন বাজি রেখে ১০ শিশুকে বাঁচালেন, সেই চিকিৎসক পেলেন জার্মানিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ
একই মায়ের যমজ সন্তান, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল দুই শিশুর বাবা দুইজন
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার নিলে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল আপতি আলাউদিনভ। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তার দাবি, সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে যুক্তরাষ্ট্র ও পুরো ন্যাটো জোটকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে চাইছে ইসরায়েল। আলাউদিনভ রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সামরিক-রাজনৈতিক অধিদপ্তরের উপপ্রধান। একই সঙ্গে তিনি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন আখমাত বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার। তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলাউদিনভ বলেন, তার ধারণা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখানেই থামবে না, বরং আরও তীব্র হবে। তার অভিযোগ, সংঘাতকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি পুরো ন্যাটো জোটকে এতে জড়ানোই ইসরায়েলের লক্ষ্য। তার মতে, সেই চেষ্টা ইতোমধ্যে অনেকটাই সফল হচ্ছে। এরপরই ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে কঠোর মন্তব্যটি করেন রুশ এই জেনারেল। আলাউদিনভের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ইসরায়েল নিজেদের সামরিক সক্ষমতাকে অতিমূল্যায়ন করতে পারে এবং তার পরিণতিতে রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্ব হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই সেখানে পড়তে হয় - এমন মন্তব্যও করেন তিনি। আলাউদিনভ অবশ্য ইরানকে ঘিরে আগেও প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। চলতি বছরের মার্চে তিনি বলেছিলেন, ইরানকে সম্ভাব্য সব উপায়ে সহায়তা করা উচিত রাশিয়ার। এমনকি রুশ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিলে নিজেও ইরানে গিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো ইউক্রেনকে যেভাবে সহায়তা করছে, তার পাল্টা হিসেবে ইরানকে সমর্থনের যুক্তিও তুলে ধরেছিলেন এই রুশ কমান্ডার। রাশিয়া এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমাতে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। রুশ পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আলোচনায় মস্কো সংঘাত কমানো এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিল।
ইসরায়েলি দখলদার থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির ছাদে মার্কিন পতাকা
ইসলাম গ্রহণ করেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসের!