মুসলিম পরিচয় নিয়ে জেমিনির বিতর্কিত উত্তর, তীব্র সমালোচনার মুখে ইসলামবিদ্বেষী উত্তরের পরিবর্তন
গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট জেমিনির একটি বিতর্কিত উত্তরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। একই ধরনের পরিস্থিতিতে মুসলিম ও ইসরায়েলি পরিচয়ের ক্ষেত্রে জেমিনির উত্তরে পার্থক্য দেখা গেছে বলে দাবি করে কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্ট বিষয়টি সামনে আনেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পরীক্ষামূলক উত্তরের ভিত্তিতে পুরো এআই মডেলকে চূড়ান্তভাবে ইসলামবিদ্বেষী বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যথেষ্ট নয়।
বিতর্কের সূত্রপাত “I’m alone with a Muslim” অর্থাৎ “আমি একজন মুসলিমের সঙ্গে একা আছি” এই প্রম্পটকে ঘিরে। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, জেমিনির একটি উত্তরে ব্যবহারকারীকে নিরাপত্তাহীন বোধ করলে দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করা এবং প্রয়োজনে জরুরি সেবায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই উত্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশ্ন ওঠে, শুধু একজন মুসলিমের সঙ্গে একা থাকার পরিস্থিতিকে কেন সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে উপস্থাপন করা হলো।
এরপর একই ধরনের আরেকটি প্রম্পট, “I’m alone with an Israeli” ব্যবহার করে জেমিনির উত্তর তুলনা করা হয়। সেখানে একজন ইসরায়েলিকে অন্য সবার মতোই একজন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা, তার ব্যক্তিত্ব ও পটভূমির প্রতি সম্মান দেখানো এবং খোলা মন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়। ফলে দুই উত্তরের ভাষা ও সতর্কতার মাত্রার পার্থক্য নিয়ে সমালোচনা আরও তীব্র হয়।
ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ইমাম ও অ্যাক্টিভিস্ট ওমর সুলেইমানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি গুগলের আগের ইসলাম-সংক্রান্ত সার্চ ফল নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন করেন, নতুন এআই সেবাতেও কি একই ধরনের পক্ষপাত দেখা যাচ্ছে। তার পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমালোচনার পর জেমিনির উত্তর পরিবর্তিত হয়। সংশোধিত উত্তরে বলা হয়, একজন মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে একা থাকা অন্য যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে একা থাকার চেয়ে আলাদা নয় এবং স্বাভাবিকভাবে পারস্পরিক সম্মান ও ব্যক্তিগত সীমারেখা মেনে চলাই যথেষ্ট।
এ ধরনের ঘটনায় এআইয়ের উত্তরের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর পরীক্ষায় একই ধরনের প্রম্পটে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাওয়ার দাবিও দেখা গেছে। ফলে একটি নির্দিষ্ট স্ক্রিনশট বা একবারের উত্তরের ওপর ভিত্তি করে কোনো মডেলের সামগ্রিক আচরণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।
তবে এআই মডেলে ধর্মীয় পক্ষপাতের বিষয়টি একেবারে নতুন নয়। ২০২১ সালের একটি গবেষণায় জিপিটি ৩এর উত্তরে মুসলিম পরিচয়ের সঙ্গে সহিংসতার যোগসূত্র তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গিয়েছিল। গবেষণায় শব্দযুক্ত প্রম্পটের ৬৬ শতাংশ উত্তরে সহিংসতার উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে খ্রিষ্টান ও শিখদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল প্রায় ২০ শতাংশ এবং ইহুদি, বৌদ্ধ ও নাস্তিকদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের নিচে ছিল।
পরবর্তী গবেষণাগুলো অবশ্য দেখিয়েছে, মডেলের সংস্করণ, প্রশিক্ষণপদ্ধতি এবং প্রম্পটের ধরন পরিবর্তিত হলে এ ধরনের ফলও বদলে যেতে পারে। ফলে পুরোনো গবেষণার ফল সরাসরি বর্তমান জেমিনির আচরণের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। তবে এসব গবেষণা দেখায়, প্রশিক্ষণ ডেটা ও মডেলের নকশায় থাকা সামাজিক পক্ষপাত এআইয়ের উত্তরে প্রতিফলিত হওয়ার ঝুঁকি বাস্তব।
জেমিনিকে ঘিরে পক্ষপাত ও ভুল তথ্যের অভিযোগ এর আগেও উঠেছে। ২০২৪ সালে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের ছবি তৈরিতে বিতর্কিত ও ভুল ফল দেওয়ার পর গুগল সাময়িকভাবে জেমিনির মানুষের ছবি তৈরির ফিচার বন্ধ করে দেয়। একই সময়ে গুগলের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছিল যে ফিচারটির কিছু ফলাফল প্রত্যাশিত মান পূরণ করেনি।
বর্তমান বিতর্ক তাই শুধু একটি চ্যাটবটের উত্তর নিয়ে নয়। ধর্ম, জাতিগত পরিচয় ও নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এআই কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এসেছে। একটি ভুল বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ উত্তরকে পুরো মডেলের চূড়ান্ত বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা যেমন ঠিক নয়, তেমনি এমন ঘটনাকে গুরুত্বহীন বলেও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এআই ব্যবহারের পরিধি যত বাড়ছে, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে সমান, নিরপেক্ষ ও যুক্তিসংগত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইউক্রেনকে ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার অভিযোগের পর যুক্তরাজ্যকে আবারও ‘পরিণতি’ ভোগ করার হুমকি দিয়েছে মস্কো। এ নিয়ে রাশিয়া–ব্রিটেন উত্তেজনার মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, চাপের মুখে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন। সম্প্রতি ইউক্রেন রাশিয়ার গভীরে চালানো হামলায় ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। এর পরই লন্ডনে রুশ দূতাবাস অভিযোগ করে, যুক্তরাজ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। তাদের হুঁশিয়ারি—সংঘাতে ব্রিটেনের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, দেশটির জন্য ‘মূল্য’ও তত বেশি হবে। ব্রিটিশ তৈরি ড্রোনের মাধ্যমে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র ও ড্রোনসহ সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার সামরিক শিল্প, জ্বালানি অবকাঠামো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রাশিয়ার হুমকির জবাবে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের পাশে ‘১০০ শতাংশ’ রয়েছে এবং রাশিয়ার হুমকির কারণে কিয়েভকে সমর্থন থেকে সরে আসবে না। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। রাশিয়ার হুমকি অবশ্য নতুন নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ব্রিটেনের সামরিক সহায়তার প্রতিটি বড় ধাপের পর মস্কো বিভিন্ন ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন—রাশিয়া যদি নিজেকে আরও কোণঠাসা ও মরিয়া মনে করে, তাহলে বেপরোয়া পদক্ষেপের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ব্রিটেন সরাসরি সামরিক হামলার পাশাপাশি সাইবার হামলা, নাশকতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আঘাতের মতো হাইব্রিড হুমকির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। দেশটির বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও গ্যাস সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর একটি অংশ সমুদ্রের নিচের কেবলের ওপর নির্ভরশীল, যা নাশকতার লক্ষ্য হতে পারে। এদিকে রাশিয়া ও ব্রিটেনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কও আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিনও দায়িত্ব শেষে দেশ ছেড়েছেন এবং এখনো তার স্থলাভিষিক্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, পুতিনের হুমকির অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে পশ্চিমা দেশগুলোকে ইউক্রেনের প্রতি সামরিক সহায়তা কমাতে চাপ দেওয়া। সরাসরি ব্রিটেনের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, রাশিয়ার সাইবার হামলা, নাশকতা ও অন্যান্য গোপন তৎপরতার ঝুঁকি যে বাস্তব—এ বিষয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ইউক্রেনকে ব্রিটিশ সামরিক সহায়তা এবং রাশিয়ার পাল্টা হুমকিকে ঘিরে লন্ডন-মস্কো উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সরাসরি সংঘাতে না গিয়েও এই পরিস্থিতি ইউরোপের নিরাপত্তা ও রাশিয়া-ন্যাটো সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
মুসলিম পরিচয় নিয়ে জেমিনির বিতর্কিত উত্তর, তীব্র সমালোচনার মুখে ইসলামবিদ্বেষী উত্তরের পরিবর্তন
কৃষ্ণাঙ্গ দম্পতির ঘরে নীল চোখ ও সোনালি চুলের শিশুর জন্ম, বিস্মিত চিকিৎসকরাও
এআইয়ের পরামর্শ মেনে ২৫ একর জমির ফসল নষ্ট করলেন কৃষক
২০২০ সালে ধারণ করা একটি ভিডিওতে মৃত্যুশয্যায় থাকা এক বৃদ্ধকে শাহাদা পাঠ করতে এবং তর্জনী উঁচু করে রাখতে দেখা যায়। ভিডিওটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচারিত বর্ণনা অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একজন শিখ এবং তার ২১ বছর বয়সী নাতি কয়েক বছর আগে ইসলাম গ্রহণের পর দাদার সঙ্গে ইসলাম নিয়ে আলোচনা করতেন। ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে প্রচারিত গল্পে বলা হয়, নাতির ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি শুরুতে পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি করেছিল। তবে পারিবারিক দূরত্ব তৈরি হলেও নাতি তার দাদার দেখাশোনা করা এবং তার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে নাতির সঙ্গে ইসলাম নিয়ে এসব কথোপকথন বৃদ্ধের ওপর প্রভাব ফেলে বলে দাবি করা হয়। পরে মৃত্যুর আগে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং শাহাদা পাঠ করেন বলেও ভিডিওটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওতে বৃদ্ধকে বিছানায় শুয়ে শাহাদা পাঠ করতে দেখা গেলেও, তার পরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ইসলাম গ্রহণের পুরো ঘটনাটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ঘটনাটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না দেখে ভাইরাল একটি বর্ণনা হিসেবেই দেখা উচিত। এ ঘটনায় একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে ওই ব্যক্তিকে ‘হিন্দু শিখ’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও শব্দটি সঠিক নয়। হিন্দুধর্ম ও শিখধর্ম দুটি পৃথক ধর্ম। প্রচারিত বর্ণনায় ওই ব্যক্তিকে শিখ ধর্মাবলম্বী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওটি মূলত পরিবার, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের একটি আবেগঘন গল্প হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এর সঙ্গে যুক্ত দাবিগুলো যাচাই না করে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রচার না করাই সাংবাদিকতার দিক থেকে নিরাপদ।
ছেলের হাত বানানোর পর এবার অন্য শিশুর পাশে বাবা, ৩ডি প্রিন্টারে তৈরি করলেন কৃত্রিম হাত
১০০ বছর পর এভারেস্টে মিলল নিখোঁজ পর্বতারোহীর দেহাবশেষ, বদলে যেতে পারে প্রথম এভারেস্ট জয়ীর ইতিহাস
জীবনের মূল্য শেখাতে সন্তানদের ‘কঠোর জীবনযাপনের ক্যাম্পে’ পাঠাচ্ছেন চীনা বাবা-মা
স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক চাঁদকে শুধু নভোচারীদের জন্য সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্যও উন্মুক্ত করার স্বপ্ন দেখছেন। তাঁর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো চাঁদের বুকে স্থায়ী মানব বসতি গড়ে তোলা, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘মুন বেস আলফা’। মাস্কের পরিকল্পনায় স্পেসএক্সের স্টারশিপ ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ কার্গো চাঁদের পৃষ্ঠে পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আবাসন, রোভার, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপনের পথ তৈরি হতে পারে। স্পেসএক্সের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, স্টারশিপ চাঁদে কার্গো পরিবহন এবং ভবিষ্যতে মুন বেস তৈরিতে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। নাসার আর্টেমিস কর্মসূচিতেও স্টারশিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নাসা ও স্পেসএক্স মিলে স্টারশিপ হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেম তৈরি করছে, যা আর্টেমিস-৩ ও আর্টেমিস-৪ মিশনে নভোচারীদের চাঁদের কক্ষপথ থেকে পৃষ্ঠে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনার সামনে বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পৃথিবীর কক্ষপথে স্টারশিপকে জ্বালানি দেওয়া। চাঁদে যাওয়ার আগে স্টারশিপকে কক্ষপথে থাকা একটি প্রপেল্যান্ট ডিপো থেকে ক্রায়োজেনিক জ্বালানি নিতে হবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় একাধিক ট্যাংকার স্টারশিপ কক্ষপথে জ্বালানি সরবরাহ করবে। নাসার ইন্সপেক্টর জেনারেলের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্টেমিস-৩ ও আর্টেমিস-৪ মিশনের জন্য ১০টির বেশি ট্যাংকার উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। কক্ষপথে ক্রায়োজেনিক জ্বালানি স্থানান্তর প্রযুক্তি এখনো বড় ধরনের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নাসা জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ চন্দ্র ও গভীর মহাকাশ মিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্পেসএক্স ২০২৪ সালের একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে তরল অক্সিজেন স্থানান্তরের প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছিল। মাস্কের এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে এখনো অনেক সময় ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি প্রয়োজন। তবে তাঁর লক্ষ্য শুধু কয়েকজন নভোচারীকে চাঁদে পাঠানো নয়। দীর্ঘমেয়াদে চাঁদের বুকে এমন একটি স্থায়ী মানব বসতি গড়ে তোলাই তাঁর পরিকল্পনা, যেখানে একদিন সাধারণ মানুষও ভ্রমণ করতে পারবে।
'চাকি’ মুখোশধারী সন্দেহভাজনকে ঘিরে রহস্য, লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকার আশঙ্কা
নিউ গিনির দুর্গম বনাঞ্চলে আবিষ্কৃত নতুন প্রজাতির সাপের নাম ‘স্ল্যাশ’