সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির সময় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দোকান মালিককে গুলি করে হত্যা, পাশে ছিল মেয়ে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৩:১৮
যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির সময় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দোকান মালিককে গুলি করে হত্যা
যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির সময় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দোকান মালিককে গুলি করে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দোকানে ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৬২ বছর বয়সী ব্যবসায়ী সুরেশ প্যাটেল। ভয়াবহ এই ঘটনার সময় তার ১৯ বছর বয়সী মেয়ে বাবার পাশেই ছিলেন এবং চোখের সামনে বাবাকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখেন।

 

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে টেনেসির জ্যাকসনের রিজক্রেস্ট সেলার্স ওয়াইন অ্যান্ড স্পিরিটস নামের দোকানে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে জ্যাকসন পুলিশ বিভাগ। গুজরাটের মেহসানা জেলার বাসিন্দা সুরেশ প্যাটেল মাত্র কয়েক দিন আগে দোকানটির মালিকানা নিয়েছিলেন।

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মুখোশ পরা এক ব্যক্তি দোকানে ঢুকে কর্মীদের কাছে অস্ত্রের মুখে টাকা দাবি করে। টাকা পাওয়ার পরই সে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এতে সুরেশ প্যাটেল গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

 

ঘটনার সময় দোকানে থাকা তার ১৯ বছর বয়সী মেয়েও পুরো ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার পর তিনি প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

 

দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার পরনে ছিল ধূসর রঙের হুডি, জিনস ও কালো কাজের বুট। মুখে ছিল পেইন্টবল ধরনের একটি মাস্ক। ডাকাতির পর একটি সাদা রঙের গাড়িতে করে পালিয়ে যায় সে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এখনও পলাতক এবং তাকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাকে ধরতে ব্যাপক অভিযান বা ম্যানহান্ট শুরু করেছে পুলিশ। তথ্য দিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

সুরেশ প্যাটেলের পরিবার জানিয়েছে, প্রায় ৩০ বছর আগে উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। দীর্ঘ সময় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার পর সম্প্রতি রিজক্রেস্ট সেলার্সের মালিকানা নেন।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউবিবিজে জানিয়েছে, প্যাটেল সোমবার দোকানটির নতুন মালিক হন। অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের মাত্র তিন দিন আগে তিনি ব্যবসাটির দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

 

ডাকাতির সময় দোকানে থাকা ৭০ বছর বয়সী এক কর্মীও আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় পড়ে গিয়ে তার কবজি ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়, বিশেষ করে গুজরাটি বংশোদ্ভূত দোকান ও ব্যবসা মালিকদের ওপর সহিংস হামলার ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত বছর টেনেসিতেই ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত হন ৩০ বছর বয়সী পেরেশ ‘প্রিন্স’ প্যাটেল।

 

এরপর ভার্জিনিয়ার নরফোকেও একটি দোকানের ভেতর গুলিতে নিহত হন গুজরাটি বংশোদ্ভূত মেঘনা প্যাটেল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চারোতার এলাকার বাসিন্দা কিরণ প্যাটেলও দোকানে ঢোকা এক সশস্ত্র ডাকাতকে প্রতিহত করতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন।

 

সুরেশ প্যাটেল হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে জ্যাকসন পুলিশ বিভাগ অথবা ক্রাইম স্টপার্সকে জানাতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি
বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পাল্টাপাল্টি ট্যারিফ আরোপের পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন ও অটোয়া।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করে আলোচনাকারী দলকে দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরপরই কানাডার পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ ট্যারিফ কার্যকর হয়।   এর জবাবে কানাডাও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর রিটালিয়েটরি ট্যারিফ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। স্টিল, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সরঞ্জাম, কৃষি যন্ত্রপাতি, পাল্প ও পেপার এবং ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন খাতে এসব শুল্ক বসানো হবে।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির অভিযোগ, আলোচনা শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র শেষ মুহূর্তে ‘পাওয়ার প্লে’ করেছে। কানাডার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক, অটো শিল্প এবং দেশটির সংস্কৃতি ও ফরাসি ভাষার সুরক্ষা নিয়ে নতুন কিছু দাবি তোলায় আলোচনা ভেঙে পড়ে বলে জানান তিনি।   কার্নির ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র বেশি চেয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে কম প্রস্তাব দিয়েছে।   তবে কানাডার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কানাডাকে স্টিল, গাড়ি ও কাঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ট্যারিফ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু কানাডা আগের সমঝোতার শর্ত থেকে সরে গেছে বলে অভিযোগ তার।   এদিকে কানাডার পাল্টা পদক্ষেপের জবাব দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে ওয়াশিংটন। গ্রিয়ার জানিয়েছেন, কানাডার সঙ্গে নতুন কোনো বাণিজ্য আলোচনা এখনো নির্ধারিত হয়নি।   অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কানাডার বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করেছেন। ট্রুথ সোশ্যাল -এ তিনি অভিযোগ করেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য না হয়েও অঙ্গরাজ্য হওয়ার সুবিধা নিতে চায়। একই সঙ্গে মার্কিন কৃষকদের ওপর কানাডার দীর্ঘদিনের ট্যারিফ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।   দুই দেশের পাল্টাপাল্টি শুল্ক ও হুঁশিয়ারিতে উত্তর আমেরিকার দুই ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য অংশীদারের সম্পর্ক নতুন করে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৪:৫৭
গণিতের কৌশল ব্যবহার করে  লটারি জিতলেন চারবার

গণিতে পিএইচডি, গণিতের কৌশল ব্যবহার করে লটারি জিতলেন চারবার, পেলেন ২ কোটি ১০ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির সময় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দোকান মালিককে গুলি করে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির সময় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দোকান মালিককে গুলি করে হত্যা, পাশে ছিল মেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে শক্ত অবস্থান যে ৫ স্টেটে

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে শক্ত অবস্থান যে ৫ স্টেটে

ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আগুন, দগ্ধ ৪ যাত্রী
ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আগুন, দগ্ধ ৪ যাত্রী

আটলান্টা থেকে ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট অবতরণের সময় যাত্রীর ল্যাপটপে আগুন ধরে কেবিন ধোঁয়ায় ভরে যায়। শুক্রবারের এ ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী পুড়ে যেতে পারেন বলে পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান। পরে বিমানটি নিরাপদে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করে।    ঘটনাটি ঘটে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ২৩৯৮-এ। বিমানটিতে ১৩৩ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। অবতরণের সময় পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে বিমানের পেছনের দিকে কেবিন ফায়ারের কথা জানান এবং যাত্রীদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন পুড়ে থাকতে পারেন বলে উল্লেখ করেন।    ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং জ্বলন্ত ডিভাইসটি একটি থার্মাল কনটেইনমেন্ট ব্যাগে নিরাপদে রাখেন। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, আগুনটি ল্যাপটপের ব্যাটারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।    ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবতরণের পর একজন যাত্রীকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সও জানিয়েছে, ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং জরুরি কর্মীরা বিমানটিকে গেটে পৌঁছানোর পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।    বিমানটি শুক্রবার সন্ধ্যায় আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ডালাসের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অবতরণের সময় কেবিনে ধোঁয়া দেখা দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেন ফ্লাইট ক্রুরা।    লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন বা ধোঁয়া তৈরি করতে পারে। ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, অতিরিক্ত গরম, পানির সংস্পর্শ, অতিরিক্ত চার্জ বা উৎপাদনগত ত্রুটির মতো বিভিন্ন কারণে এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে FAA সতর্ক করেছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১:১২
১৮ মাসে পড়তে শেখা, ১১ বছরেই কলেজ গ্র্যাজুয়েট আর ১৩ বছরেই পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি

১৮ মাসে পড়তে শেখা, ১১ বছরেই কলেজ গ্র্যাজুয়েট আর ১৩ বছরেই পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি

বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে কানাডা

বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে কানাডা

চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যেই বিপুল আয়ের প্রয়োজন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্বচ্ছন্দে থাকতে বছরে কত আয় প্রয়োজন? কোন অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে কম

ক্যালিফোর্নিয়ার জাকুম্বা পর্বতমালার দুর্গম এলাকায় দুই দিন পর ২৫ বছরের এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার মরুভূমিতে পথ হারিয়ে ২ দিন নিখোঁজ, উদ্ধার যুবক

মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার দুর্গম মরুভূমি এলাকায় হারিয়ে যাওয়া ২৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে দুই দিন পর উদ্ধার করেছে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার প্যাট্রোলের এল সেন্ট্রো সেক্টর জানিয়েছে, দুর্গম পাথুরে এলাকায় আটকে পড়ার পর ওই ব্যক্তি বিপদসংকেত পাঠালে তাকে উদ্ধারে জরুরি অভিযান শুরু করা হয়।   বর্ডার প্যাট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে সান দিয়েগো কাউন্টির কাছাকাছি জাকুম্বা পর্বতমালার পাথুরে এলাকায়। মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ওই ব্যক্তি মরুভূমির দুর্গম অংশে পথ হারিয়ে ফেলেন। এরপর প্রায় দুই দিন সেখানে আটকে ছিলেন। উদ্ধারের ছবি প্রকাশ করেছে বর্ডার প্যাট্রোল। ছবিতে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বড় একটি পাথরের আংশিক ছায়ায় বসে বা শুয়ে ছিলেন ওই ব্যক্তি। উদ্ধারকারীরা তার কাছে পৌঁছানোর পর শরীর ঠান্ডা রাখতে বরফ ব্যবহার করেন।   বর্ডার প্যাট্রোল জানায়, বিপদসংকেত পাওয়ার পর কর্মকর্তারা দ্রুত তার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। জিপিএস প্রযুক্তির সাহায্যে তার অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। এরপর একাধিক সরকারি সংস্থার সহযোগিতায় আকাশপথে তল্লাশি চালানো হয়। তবে জাকুম্বা পর্বতমালার দুর্গম ও পাথুরে ভূখণ্ডের কারণে আকাশপথে সরাসরি সেখানে পৌঁছানোও সহজ ছিল না। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, কঠিন ভূপ্রকৃতি উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা তৈরি করলেও তাকে খুঁজে বের করতে সব ধরনের উপলব্ধ সম্পদ কাজে লাগানো হয়।   অবশেষে কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তির সন্ধান পান। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসাকর্মীরা তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে কি না, তা দেখেন। প্রচণ্ড গরম ও দীর্ঘ সময় মরুভূমিতে অবস্থানের কারণে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বর্ডার প্যাট্রোল এক বিবৃতিতে জানায়, এ ধরনের প্রতিটি উদ্ধার অভিযানে দ্রুত সিদ্ধান্ত, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় এবং নিরলস প্রচেষ্টা প্রয়োজন হয়। এই ঘটনাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।   মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তাকে উদ্ধারের পর কোথায় নেওয়া হয়েছে বা তার বিরুদ্ধে পরবর্তী কী ধরনের অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। জাকুম্বা এলাকার সীমান্ত অঞ্চলটি অত্যন্ত দুর্গম ও পাথুরে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছাকাছি এই অঞ্চলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ঘটনাও আগে দেখা গেছে। ২০২৪ সালে জাকুম্বা হট স্প্রিংসের আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় মেক্সিকো, চীনসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সীমান্ত পেরিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে আশ্রয় চাওয়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল।   তবে সীমান্ত পেরিয়ে দুর্গম মরুভূমিতে প্রবেশ করলে পথ হারানো, অতিরিক্ত গরম ও পানিশূন্যতার মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পাথুরে পাহাড়ি এলাকায় যানবাহন বা উদ্ধারকারী দলের সরাসরি পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় সামান্য বিপদও দ্রুত গুরুতর পরিস্থিতিতে পরিণত হতে পারে। এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের ঝুঁকি আবারও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্ধার কার্যক্রমের গুরুত্বও স্পষ্ট হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ২২:৪৬
আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে টাম্পার রওলেট পার্কে ২৫০টি গাছ লাগানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তিতে টাম্পায় ২৫০ টি গাছ লাগাল ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়

২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে জন্মের চেয়ে মৃত্যুর হার বেশি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস। ছবি: সংগৃহীত

২০৩০ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি হবে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ভরসা হবে অভিবাসন

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভের পথ বন্ধ করতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে মার্কিন সরকার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা, প্রায় ৯০০ ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

0 Comments