লেবাননের দক্ষিণে যুদ্ধে নিহত যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম ইসরায়েলি সেনা, মৃত্যুর পর পদোন্নতি
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ সংঘর্ষে একজন মার্কিন-জন্ম ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। রোববার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিহত সেনার নাম সার্জেন্ট মোশে ইৎজহাক হাকোহেন কাটজ (২২)। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের নিউ হেভেনে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ইসরায়েলে গিয়ে দেশটির সামরিক বাহিনী ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সে যোগ দেন।
আইডিএফ জানায়, দক্ষিণ লেবাননে দায়িত্ব পালনকালে চলমান সামরিক অভিযানের সময় তিনি নিহত হন। সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো না হলেও সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা বেড়েছে বলে জানিয়েছে সামরিক সূত্র।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আরও জানায়, তার সাহসিকতা ও দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ মৃত্যুর পর তাকে কর্পোরাল থেকে সার্জেন্ট পদে উন্নীত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর মাঝে প্রায়ই সংঘর্ষ ঘটে থাকে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলেছে।
এই ঘটনার পর ইসরায়েলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামরিক বাহিনী নিহত সেনার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreউত্তর প্রদেশের ঝাঁসিতে একটি হোটেলের কক্ষের দরজায় হঠাৎ পড়ে গিয়ে এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মুসকান নামের ওই নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাঁর বাবা স্বামী নিলেশের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাটি ঘটে ঝাঁসির ঋষভ হোটেলে। ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর সকালে হোটেল থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতির সময় এ ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হোটেলের এক কর্মী ও স্বামীর সঙ্গে কক্ষের দিকে যাচ্ছিলেন মুসকান। তাঁর স্বামী ও ওই কর্মী কক্ষে প্রবেশ করার পর দরজার কাছে পৌঁছেই হঠাৎ মেঝেতে পড়ে যান তিনি। পরে স্বামী তাঁকে তুলে কক্ষের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর হোটেলকর্মীদের সহায়তায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। মুসকানের বাবা রামজি লাল আহিরওয়ার অভিযোগ, মেয়ের মৃত্যুর পেছনে স্বামীর ভূমিকা থাকতে পারে। তাঁর দাবি, মুসকানের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখে তাঁর সন্দেহ হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের পর মুসকান জানতে পারেন, তাঁর স্বামী নিলেশের আগে থেকেই বিয়ে হয়েছিল এবং আগের স্ত্রী মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে থাকেন। বিষয়টি জানার পর দম্পতির মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৯ জুন নিলেশের সঙ্গে মুসকানের বিয়ে হয়। নিলেশ মধ্যপ্রদেশের বিদিশার বাসিন্দা এবং একটি ব্যাংকে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। মুসকান রেলওয়ের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে ১০ অক্টোবর বাবার বাড়ি ঝাঁসিতে ফিরে এসেছিলেন বলে তাঁর বাবা জানিয়েছেন। ২৩ অক্টোবর নিলেশ সেখানে আসেন এবং পরদিন খালার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে মুসকানকে সঙ্গে নিয়ে বের হন বলে অভিযোগ পরিবারের। পরে তাঁরা হোটেলে উঠেছিলেন বলে জানতে পারে পরিবার। ঝাঁসি পুলিশের নগর পুলিশ সুপার প্রীতি সিং জানিয়েছেন, জেলা হাসপাতালে এক নারীকে মৃত অবস্থায় আনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল-সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে এবং মুসকানের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। নিলেশ পুলিশকে জানান, সকালে হোটেল থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতির সময় মুসকান হঠাৎ পড়ে অসুস্থ হয়ে যান। পরে হোটেলকর্মীদের সহায়তায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেছে এবং পরিবারের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মুসকানের মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা উঠে এসেছে। তবে মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল এবং পরিবারের তোলা অভিযোগের সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে পুলিশ অন্যান্য তথ্যপ্রমাণও পরীক্ষা করছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস।
রোগীর জীবন বাঁচাতে টানা ৩২ ঘণ্টা অপরারেশন, ক্লান্তিতে মেঝেতে শুয়ে পড়লেন চিকিৎসকেরা
২২ বছর মুখ থেকে মেকআপ না তোলায় জটিল ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন চিনা নারী
ফিলিস্তিনের গাজায় বিদ্যুৎ নেই, যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মাঝেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন মেডিকেল শিক্ষার্থী কারিম
ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আটকে থাকা জাহাজগুলো থেকে আসা ৪০ ইরানি নাবিককে চিকিৎসাসেবা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে শ্রীলঙ্কা। জরুরি চিকিৎসার অনুরোধ পাওয়ার পর গত শনিবার তাঁদের দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় গলে বন্দরে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রোববার ভোরে তাঁরা ইরানের উদ্দেশে রওনা হন। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র থুশারা রদ্রিগো রোববার এ তথ্য জানান বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। রদ্রিগো জানান, নাবিকদের উপকূলে নিয়ে আসার জন্য ইরানি দূতাবাস ও স্থানীয় জাহাজ চলাচল-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা নৌযানের ব্যবস্থা করেন। তাঁদের অভিবাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে নাবিকেরা ঠিক কোন কোন জাহাজ থেকে এসেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁর কাছে ছিল না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাবিকেরা শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে প্রায় ২৪ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে ছিলেন এবং তাঁদের চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির কারণে সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। গত কয়েক মাস ধরে শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি সমুদ্রে বেশ কয়েকটি ইরানি জাহাজ আটকে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি নৌপরিবহনের ওপর অবরোধের কারণে এসব জাহাজের দেশে ফেরার পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছিল, দেশটির উপকূল থেকে প্রায় ২৪ নটিক্যাল মাইল দূরে ১৯টি জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজের নাবিকদের খাবার, পানি ও জ্বালানির ঘাটতির কথাও সামনে এসেছে। তবে সর্বশেষ উদ্ধার অভিযানে থাকা ৪০ নাবিক ওই ১৯টি জাহাজের সবকটি থেকে এসেছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এর আগে শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছিল, আটকে থাকা জাহাজগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশটির জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও বিবেচনায় ছিল। তবে এবার চিকিৎসাজনিত জরুরি অনুরোধের পর নাবিকদের উপকূলে এনে চিকিৎসা দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত না জানালেও ঘটনাটি ইরানি নাবিকদের দুরবস্থা নিয়ে নতুন করে মনোযোগ তৈরি করেছে। এই ঘটনা ঘটল ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজ আইআরআইএস দেনা ডুবে যাওয়ার প্রায় সাত মাস পর। গত ৪ মার্চ ভারতের আমন্ত্রণে একটি নৌমহড়ায় অংশ নিয়ে দেশে ফেরার পথে শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি সমুদ্রে জাহাজটি মার্কিন টর্পেডো হামলায় ডুবে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওই ঘটনায় বহু নাবিক প্রাণ হারান। জাহাজটি থেকে উদ্ধার হওয়া নাবিকদের শ্রীলঙ্কায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে কারিগরি সমস্যায় পড়া আরেকটি ইরানি জাহাজের নাবিকদেরও সহায়তা দেওয়া হয় এবং পরে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে শ্রীলঙ্কা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, দুই দেশের সঙ্গেই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তায় শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কও দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে আটকে পড়া নাবিকদের চিকিৎসা ও দেশে ফেরানোর উদ্যোগ মানবিক সহায়তার পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার কূটনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়টিও সামনে এনেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও রয়টার্স।
চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন লুলা দা সিলভা
যৌন নিপীড়ন থেকে বাঁচাতে রাতভর ঝোপে লুকিয়ে থাকলেন চীনা পর্যটক, অভিযুক্তের কারাদণ্ড
সৌন্দর্য ও ভালো বিয়ের আশায় মেয়েদের পা বেঁধে ছোট রাখার প্রথা ছিল প্রাচীন চীনে
আইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় দাম বাড়ছে। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ দশমিক ৭২ ডলারে দাঁড়ায়। এক দিনে দাম বাড়ে ৩ দশমিক ৫৫ ডলার। গত ২৯ এপ্রিলের পর এটিই ব্রেন্টের সর্বোচ্চ সমাপনী দর। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও বেড়েছে। এই তেলের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছায়। এ নিয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল। সপ্তাহের হিসাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ২ শতাংশ। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য বাজারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। গত ২১ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না। একই সঙ্গে তিনি শিগগিরই ‘বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন। এদিকে মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় যৌথ হামলার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের পর যেকোনো ধরনের অসম যুদ্ধ মোকাবিলায় ইরানের সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ইরানকে ঘিরে এই উত্তেজনার পাশাপাশি সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরও তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব হামলার জন্য হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সৌদি আরবে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন মার্কিন কর্মীদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শায়বাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত এবং দুজন আহত হন। একই সময়ে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় আরও দুজন নিহত হন। ওই ঘটনায় আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। এসব ঘটনার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো দাহরানে অবস্থিত তাদের সদর দপ্তরের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এপস্টিনকে পবিত্র কাবার গিলাফ উপহার দেওয়ার অভিযোগ
ইউরোপে গ্রীষ্মের তীব্র গরমে ৫০ হাজারের বেশি মৃত্যু, গবেষকদের চোখ কপালে