সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
নিউইয়র্কে ফেরি ভাড়া বাড়ছে
নিউইয়র্কে ফেরি ভাড়া বাড়ছে ১৯ অক্টোবর, এক যাত্রায় খরচ হবে ৫ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরে ফেরিতে যাতায়াতকারীদের জন্য নতুন ভাড়ার নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। আগামী ১৯ অক্টোবর থেকে নিউইয়র্ক সিটি ফেরির একক যাত্রার ভাড়া ৪ ডলার ৯০ সেন্ট থেকে বেড়ে ৫ ডলার হবে। একই সঙ্গে ১০ যাত্রার টিকিটের প্যাকেজের দাম ২৯ ডলার থেকে বেড়ে ৩০ ডলার হবে। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে নগরীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন করপোরেশন।    নিউইয়র্কের ফেরি ব্যবস্থা ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের নদীপথে যাতায়াতের সুযোগ দেয়। অনেক বাসিন্দা কর্মস্থলে যাওয়া, পর্যটন এবং দৈনন্দিন চলাচলের জন্য এ সেবা ব্যবহার করেন। ফলে ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব নিয়মিত যাত্রীদের বাজেটে পড়তে পারে।   নতুন নিয়মে একবারের যাত্রায় ১০ সেন্টের পরিবর্তে ৫০ সেন্ট বৃদ্ধি হচ্ছে। তবে ১০ যাত্রার প্যাকেজ কিনলে প্রতিবারের গড় খরচ ৩ ডলার থাকবে। অর্থাৎ নিয়মিত ফেরি ব্যবহারকারীদের জন্য একাধিক যাত্রার টিকিট তুলনামূলক সাশ্রয়ী হতে পারে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ভাড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে ফেরি ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় সামাল দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ছাড়ের সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করা হবে।    বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী যাত্রী এবং নগরীর নির্দিষ্ট স্বল্প আয়ের যাতায়াত-সহায়তা কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্যও ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব যাত্রীর একক ভাড়া ১ ডলার ৪৫ সেন্ট থেকে বেড়ে ১ ডলার ৫০ সেন্ট হবে। তবে দুই দিনের ছাড়যুক্ত পাসের দাম ১৫ ডলারই থাকবে এবং এটি স্থায়ী বিকল্প হিসেবে চালু থাকবে।   নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য ভাড়ার পরিবর্তনটি জানা জরুরি, বিশেষ করে যাঁরা প্রতিদিন ফেরিতে যাতায়াত করেন কিংবা সন্তানদের স্কুলে নেওয়ার জন্য এই পরিবহন ব্যবহার করেন। যাত্রার আগে নতুন ভাড়া ও ছাড়ের শর্ত দেখে নিলে অপ্রত্যাশিত খরচ এড়ানো সম্ভব।

৭ মিনিট Ago
কুইন্সে পার্কিং টিকিট এড়ানোর উপায়, জ্যাকসন হাইটস থেকে জ্যামাইকার ড্রাইভারদের জরুরি গাইড
কুইন্সে পার্কিং টিকিট এড়ানোর উপায়, জ্যাকসন হাইটস থেকে জ্যামাইকার ড্রাইভারদের জরুরি গাইড

নিউইয়র্কের কুইন্সে গাড়ি পার্ক করতে গিয়ে সামান্য ভুলেই গুনতে হতে পারে ৬৫ থেকে ১১৫ ডলার বা তারও বেশি জরিমানা। বিশেষ করে জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, এলমহার্স্ট, উডসাইড ও ফ্লাশিংয়ের মতো ব্যস্ত এলাকায় পার্কিং সাইন, মিটার এবং অল্টারনেট সাইড পার্কিংয়ের নিয়ম না বুঝে গাড়ি রাখলে টিকিট পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জানা থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এবং গাড়ি টো করার ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।   নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন (এনওয়াইসি ডিওটি), ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশন এবং ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের প্রকাশিত নিয়ম অনুযায়ী, গাড়ি পার্ক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্লকের সাইনবোর্ড ভালোভাবে পড়াই সবচেয়ে জরুরি। একই রাস্তায় এক পাশে পার্কিংয়ের অনুমতি থাকলেও অন্য পাশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে। আবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই জায়গার পার্কিং নিয়মও বদলে যেতে পারে।   কুইন্সে পার্কিং টিকিটের অন্যতম পরিচিত কারণ অল্টারনেট সাইড পার্কিং বা এএসপি। মূলত স্ট্রিট ক্লিনিংয়ের সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে রাস্তার এক পাশে গাড়ি রাখা নিষিদ্ধ থাকে। অনেক আবাসিক এলাকায় সপ্তাহে একাধিক দিন এই নিয়ম কার্যকর হলেও সব রাস্তার সময়সূচি এক নয়। তাই নিজের এলাকার নিয়ম মনে রাখার পাশাপাশি সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা দিন ও সময় অনুসরণ করতে হবে।   এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্ট্রিট ক্লিনিংয়ের গাড়ি রাস্তা পরিষ্কার করে চলে গেলেও সাইনে উল্লেখ করা নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত পার্কিং বৈধ হয়ে যায় না। অর্থাৎ রাস্তা পরিষ্কার হয়ে গেছে ভেবে আগে গাড়ি পার্ক করলে টিকিট পাওয়া যেতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, অল্টারনেট সাইড পার্কিং লঙ্ঘনের জরিমানা ৬৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   বিশেষ ছুটির দিন, ধর্মীয় উৎসব, তুষারপাত কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে কখনো কখনো অল্টারনেট সাইড পার্কিং সাময়িক স্থগিত করা হয়। তবে এএসপি সাসপেন্ড হওয়ার অর্থ সব ধরনের পার্কিং ফ্রি হয়ে যাওয়া নয়। ওই দিনেও সাধারণত মিটার পেমেন্ট, ফায়ার হাইড্র্যান্ট, বাস স্টপ, নো পার্কিং এবং নো স্ট্যান্ডিংয়ের নিয়ম কার্যকর থাকে। অবশ্য নির্দিষ্ট বড় সরকারি ছুটির দিনে মিটার পেমেন্টের নিয়মেও ছাড় থাকতে পারে। তাই ছুটির দিনেও গাড়ি রাখার আগে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।   কুইন্সে আরেকটি ব্যয়বহুল ভুল হলো ফায়ার হাইড্র্যান্টের খুব কাছে গাড়ি রাখা। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে ফায়ার হাইড্র্যান্টের উভয় পাশে ১৫ ফুট জায়গা ফাঁকা রাখতে হয়। এই নিয়ম ভাঙলে ১১৫ ডলার জরিমানা হতে পারে। তবে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একটি সীমিত ব্যতিক্রম রয়েছে। চালক নিজে ড্রাইভিং সিটে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক গাড়ি সরাতে প্রস্তুত থাকলে যাত্রীবাহী গাড়ি হাইড্র্যান্টের পাশে সাময়িক দাঁড়াতে পারে। গাড়ি রেখে চলে যাওয়ার অনুমতি এই ব্যতিক্রমে নেই।   মিটার পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে ড্রাইভারদের জন্য সুবিধাজনক একটি ব্যবস্থা হলো পার্কএনওয়াইসি অ্যাপ। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোতেই এই অ্যাপের মাধ্যমে রাস্তার মিটার পার্কিংয়ের পেমেন্ট করা যায়। এতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পার্কিং সেশন চালু করা, কত সময় বাকি আছে দেখা এবং সময় শেষ হওয়ার আগে নোটিফিকেশন পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। ফলে প্রতিবার মিটারের কাছে গিয়ে পেমেন্ট করতে হয় না।   তবে অ্যাপ ব্যবহার করলেই ইচ্ছামতো সময় বাড়ানো যাবে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট পার্কিং জোনে সাইনবোর্ডে যতক্ষণ গাড়ি রাখার অনুমতি রয়েছে, সর্বোচ্চ ততক্ষণই পেমেন্ট করা যাবে। শুরুতে কম সময়ের পেমেন্ট করলে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত সময় বাড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু সর্বোচ্চ সময় শেষ হলে অ্যাপ দিয়ে একই জায়গায় পার্কিং চালিয়ে যাওয়া বৈধ নয়। এমনকি পেমেন্ট করা থাকলেও অন্য কোনো পার্কিং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে টিকিট হতে পারে।   বিশেষ করে জ্যাকসন হাইটসের রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ, ৭৪ স্ট্রিট, জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউ এবং কুইন্সের অন্যান্য বাণিজ্যিক এলাকায় গাড়ি রাখার সময় মিটার ও পার্কিং সাইন ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। আগে কোনো জায়গায় ফ্রি পার্কিং পাওয়া গেলেও এখনো সেখানে একই নিয়ম রয়েছে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। রাস্তার মিটার ব্যবস্থা, পার্কিংয়ের সময়সীমা কিংবা নির্দিষ্ট গাড়ির জন্য সংরক্ষিত জায়গার নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে।   অনেক ড্রাইভার নো পার্কিং, নো স্ট্যান্ডিং ও নো স্টপিং সাইনের পার্থক্য বুঝতে পারেন না। অথচ তিনটির নিয়ম আলাদা। নো পার্কিং এলাকায় সাধারণত যাত্রী ওঠানো বা নামানো এবং মালামাল লোড বা আনলোড করার জন্য সাময়িক দাঁড়ানো যায়। নো স্ট্যান্ডিং এলাকায় শুধু যাত্রী ওঠানো বা নামানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় দাঁড়ানোর অনুমতি রয়েছে। সেখানে মালামাল তোলা বা নামানোর জন্য দাঁড়ানো যায় না। আর নো স্টপিং এলাকায় সাধারণভাবে যাত্রী ওঠানো, নামানো কিংবা মালামাল লোড করার জন্যও গাড়ি থামানো নিষিদ্ধ।   এ ক্ষেত্রে গাড়ির ভেতরে ড্রাইভার বসে আছেন কি না, সেটি সব সময় জরিমানা এড়ানোর ভিত্তি নয়। কোনো জায়গায় নো স্ট্যান্ডিং কার্যকর থাকলে সেখানে যাত্রীর অপেক্ষায় গাড়িতে বসে থাকলেও টিকিট হতে পারে। একইভাবে রাস্তার পাশে হ্যাজার্ড লাইট জ্বালিয়ে রাখলেই অবৈধ পার্কিং বৈধ হয়ে যায় না। নিউইয়র্ক সিটিতে সাধারণ নো স্ট্যান্ডিং বিধি লঙ্ঘনের জরিমানা ১১৫ ডলার।   বাস স্টপ, বাস লেন ও বাইক লেনের নিয়মও কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। নির্ধারিত বাস লেনে কিংবা বাইক লেনের ভেতরে গাড়ি পার্ক করলে ১১৫ ডলার জরিমানা হতে পারে। ড্রাইভওয়ের সামনে গাড়ি রেখে অন্যের প্রবেশপথ আটকে দিলেও জরিমানা হতে পারে ৯৫ ডলার। রাস্তার মাঝখানে অন্য গাড়ির পাশে ডাবল পার্কিং করাও সাধারণভাবে নিষিদ্ধ। কয়েক মিনিটের জন্য দোকানে প্রবেশ করা কিংবা কাউকে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করা নিরাপদ নয়।   তবে ড্রাইভারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো পাঁচ মিনিটের গ্রেস পিরিয়ড। নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং মিটার, পার্কএনওয়াইসি সেশন এবং অল্টারনেট সাইড পার্কিংয়ের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর পাঁচ মিনিটের ছাড় রয়েছে। অর্থাৎ এসব নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সময় শেষ হওয়ার পর প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যে শুধু ওই সময়সীমা অতিক্রমের কারণে টিকিট দেওয়া যায় না। তবে এই ছাড় ফায়ার হাইড্র্যান্ট, নো স্ট্যান্ডিং কিংবা অন্যান্য নিষিদ্ধ স্থানে পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   কুইন্সের ব্যস্ত এলাকায় গাড়ি নিয়ে যাওয়ার আগে পার্কিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনা করা যেতে পারে। স্পটহিরো ও পার্কহুইজের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে আশপাশের পার্কিং গ্যারেজের অবস্থান, সম্ভাব্য খরচ এবং আগাম বুকিংয়ের সুবিধা দেখা যায়। তবে গ্যারেজের রেট, অতিরিক্ত চার্জ এবং গাড়ি প্রবেশ ও বের করার সময়সূচি আগে যাচাই করা উচিত। অনেক সময় কাছাকাছি অবৈধ জায়গায় গাড়ি রাখার চেয়ে নির্ধারিত গ্যারেজে পার্ক করা কম ঝুঁকিপূর্ণ।   পার্কিং টিকিট পেয়েও ড্রাইভারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। কোনো টিকিট ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হলে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের মাধ্যমে সেটি চ্যালেঞ্জ করা যায়। টিকিট ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে হিয়ারিংয়ের আবেদন করলে বিলম্বজনিত অতিরিক্ত জরিমানা এড়ানো সম্ভব। অনলাইনে, অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপে, ডাকযোগে অথবা সরাসরি নির্ধারিত অফিসে গিয়ে আপত্তি জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আবেদন করলেই টিকিট বাতিল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   এ কারণে ভুল টিকিটের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে চাইলে ঘটনাস্থলের পার্কিং সাইন, রাস্তার অবস্থান, মিটার পেমেন্টের রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা ভালো। বিশেষ করে সাইন অস্পষ্ট, ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা নির্দিষ্ট পার্কিং নিয়ম নিয়ে বিরোধ থাকলে এসব তথ্য কাজে আসতে পারে। একই সঙ্গে টিকিটের তারিখ, সময়, ভায়োলেশন কোড ও গাড়ির লাইসেন্স প্লেট নম্বর মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।   নিউইয়র্ক সিটির নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পার্কিং টিকিটের জরিমানা পরিশোধ বা আপত্তি না জানালে অতিরিক্ত পেনাল্টি যোগ হতে পারে। বকেয়া জরিমানা দীর্ঘদিন জমে থাকলে গাড়িতে বুট লাগানো কিংবা টো করার মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। তাই টিকিট পাওয়ার পর সেটি উপেক্ষা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো।   জ্যাকসন হাইটস থেকে জ্যামাইকা পর্যন্ত কুইন্সের যেকোনো এলাকায় গাড়ি পার্ক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাস হলো রাস্তার সাইন ভালোভাবে পড়া, নির্ধারিত মিটার পেমেন্ট করা এবং পার্কিংয়ের সময়সীমা মেনে চলা। অল্টারনেট সাইড পার্কিং সাসপেনশনের সর্বশেষ তথ্য এনওয়াইসি ৩১১ অথবা সিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে যাচাই করা যায়। পার্কিং নিয়ম এলাকা ও সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আগের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে প্রতিবার পার্কিংয়ের আগে বর্তমান নিয়ম নিশ্চিত করাই জরুরি।

১৫ মিনিট Ago
ক্যাশ অ্যাপ
ক্যাশ অ্যাপের ১৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ, যোগ্য গ্রাহকদের টাকা পাঠানো শুরু হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় মোবাইল অর্থ লেনদেনের সেবা ক্যাশ অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও অননুমোদিত লেনদেনসংক্রান্ত মামলায় ১৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতার আওতায় অনুমোদিত দাবিদারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা রয়েছে।   নিউইয়র্কের ৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হওয়ার কথা। মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়েছিল, ক্যাশ অ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান ব্লক ইনকরপোরেটেড গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।   অভিযোগের মধ্যে সাবেক এক কর্মীর মাধ্যমে গ্রাহকের তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহারের ঘটনা এবং ২০২৩ সালে পুনর্ব্যবহৃত ফোন নম্বরের মাধ্যমে কিছু অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের বিষয়ও ছিল। তবে ক্যাশ অ্যাপ ও ব্লক কোনো অন্যায় করার কথা স্বীকার করেনি।  এই সমঝোতার আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অননুমোদিত অর্থ উত্তোলন, প্রতারণামূলক লেনদেন কিংবা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু বর্তমান ও সাবেক গ্রাহক দাবি জমা দেওয়ার যোগ্য ছিলেন। অনুমোদিত দাবিদাররা নথিপত্র ও সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত নির্দিষ্ট ক্ষতির অর্থ ফেরত পেতে পারেন। তবে প্রত্যেকে এই পরিমাণ অর্থ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই।   দাবি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১৮ নভেম্বর ২০২৪। তাই যাঁরা ওই সময়ের মধ্যে বৈধ দাবি জমা দেননি, তাঁরা এখন নতুন করে এই সমঝোতার অর্থ পাওয়ার আবেদন করতে পারবেন না। যাঁরা আগে আবেদন করেছেন, তাঁদের দাবি অনুমোদিত হয়েছে কি না এবং অর্থ পাঠানোর অবস্থা কী, তা যাচাই করা উচিত।

২২ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রে হামাসে অর্থায়ন ও মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের গ্রেফতার ৫
যুক্তরাষ্ট্রে হামাসে অর্থায়ন ও মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের গ্রেফতার ৫

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে হামাসের জন্য অর্থ সংগ্রহে সহায়তা এবং সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডে দুই লাখ ২৪ হাজার ডলারের বেশি জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে হামাসের অর্থায়নে জড়িত একটি নেটওয়ার্কে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর লুইজিয়ানার সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ এলাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিলের কার্যালয়।   লুইজিয়ানা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ৩৫ বছর বয়সী আবদেল আদহামি, তাঁর স্ত্রী ২৯ বছর বয়সী ইমান এইচ ডি স্রুর, ৩৩ বছর বয়সী ওমর আদহামি, তাঁর স্ত্রী ২৮ বছর বয়সী আমানি আবু জেনাহ এবং দুই ভাইয়ের ছোট ভাই ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আই আদহামি। তাঁরা লুইজিয়ানার কভিংটন এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের পর পাঁচজনকেই সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ জেলে নেওয়া হয়।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এফবিআইয়ের নেতৃত্বে ফেডারেল ও স্টেট পর্যায়ের যৌথ তদন্তে দুই ভাই আবদেল ও ওমরের বিরুদ্ধে হামাসের জন্য অর্থ সংগ্রহের একটি নেটওয়ার্কে অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের দাবি, নেটওয়ার্কটি হামাসের সহায়তায় ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ ও স্থানান্তর করেছে। এর মধ্যে ওই দুই ভাই এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   হামাসকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ফলে সংগঠনটির জন্য জেনেশুনে অর্থ বা অন্যান্য বস্তুগত সহায়তা প্রদান যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে গুরুতর অপরাধ। দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এই অর্থায়নসংক্রান্ত অভিযোগ ফেডারেল পর্যায়ে আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   অর্থায়নের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারের মেডিকেইড সুবিধা গ্রহণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। লুইজিয়ানা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং লুইজিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ যৌথভাবে তাঁদের আয় ও সরকারি স্বাস্থ্যসুবিধা গ্রহণের তথ্য পর্যালোচনা করে।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের প্রকৃত আয় কম দেখিয়ে মেডিকেইডের সুবিধা নিয়েছেন। এভাবে সরকারি কর্মসূচি থেকে মোট দুই লাখ ২৪ হাজার ৬৪০ ডলারের সুবিধা অনিয়মের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বলে হিসাব করেছে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত আয় সঠিকভাবে জানানো হলে তাঁরা এসব সুবিধার সবটুকু পাওয়ার যোগ্য হতেন না।   মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি হেলথ ইন্স্যুরেন্স কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারসহ যোগ্য ব্যক্তিরা চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পান। এই কর্মসূচিতে আবেদন ও যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবারের আয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে জানানো বাধ্যতামূলক। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে সুবিধা নেওয়া হলে তা সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির আওতায় পড়তে পারে।   অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্ত আবদেল আদহামি ও তাঁর স্ত্রী ইমান স্রুরের বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির পাঁচটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মেডিকেইড কর্মসূচির আনুমানিক এক লাখ ১৩ হাজার ৩৪৪ ডলারের ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে।   অন্যদিকে ওমর আদহামি ও তাঁর স্ত্রী আমানি আবু জেনাহর বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির তিনটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের হিসাবে তাঁদের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মসূচির ক্ষতির পরিমাণ ৮১ হাজার ৯৯ ডলার।   পরিবারের আরেক সদস্য মোহাম্মদ আই আদহামির বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির তিনটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের ফলে মেডিকেইড কর্মসূচির ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার ১৯৭ ডলার।   অন্যদিকে ফেডারেল বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামাসে অর্থায়নের অভিযোগে আবদেল আদহামির বিরুদ্ধে প্রায় ৯৪ হাজার ডলার এবং ওমর আদহামির বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার ডলার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব অর্থ পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে অর্থ পাঠানোর বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ সংগ্রহের নেটওয়ার্কটির কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে সালিম আলজাক নামের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা সংগ্রহের নামে অর্থ তুলতেন। তবে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ হামাসের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।   ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ওই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ফ্রান্সেও তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে।   এদিকে লুইজিয়ানার অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিল সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির অভিযোগকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লুইজিয়ানার করদাতাদের অর্থ থেকে পরিচালিত কর্মসূচিতে জালিয়াতির ঘটনা ঘটলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, তাঁর কার্যালয় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগে স্টেটের করদাতাদের জন্য আট কোটি ডলারের বেশি অর্থ উদ্ধার করেছে।   তবে এ মামলায় দুটি পৃথক অভিযোগের বিষয় স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। হামাসের জন্য অর্থায়নের অভিযোগ মূলত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে তদন্ত ও বিচারের বিষয়। অন্যদিকে মেডিকেইডে আয়সংক্রান্ত ভুল তথ্য দিয়ে সরকারি সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে স্টেট পর্যায়ের মামলা। মেডিকেইডের অর্থ সরাসরি হামাসের কাছে পাঠানো হয়েছে, এমন কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা আর্থিক যোগসূত্র কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।   পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় লুইজিয়ানা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এফবিআই, সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ শেরিফ অফিস, হ্যামন্ড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, ম্যান্ডেভিল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করেছেন। মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় স্টেটের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন সেন্ট ট্যামানি প্যারিশের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কলিন সিমস।   ফেডারেল পর্যায়ে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা দেওয়া, এ ধরনের সহায়তার ষড়যন্ত্র, ওয়্যার ফ্রড এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকলেই অভিযুক্তদের সেই সাজা হবে, এমন নয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট আইনের প্রয়োগ এবং বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর শাস্তি নির্ভর করবে।   লুইজিয়ানার এই ঘটনায় সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নেটওয়ার্কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থ পাঠানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে অভিযুক্ত পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   সূত্র: বাফলো প্রতিদিন

২৯ মিনিট Ago
আমেরিকা
এইচ-১বি ও এল-১ ভিসায় নতুন নিয়ম, নির্দিষ্ট মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে বায়োমেট্রিক ফি

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ও এল-১ ভিসার আবেদনে বায়োমেট্রিক ফি আদায়ের নিয়ম সম্প্রসারণ করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তাদের কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনেও এই ফি দিতে হবে। আগে একই নিয়োগকর্তার অধীনে কর্মরত ব্যক্তির ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছু আবেদন এই ফি থেকে অব্যাহতি পেত। এখন থেকে নিয়োগকর্তা নির্ধারিত শর্তের আওতায় পড়লে, কর্মীর চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান অপরিবর্তিত থাকলেও মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে ফি প্রযোজ্য হবে।   ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট চূড়ান্ত নিয়মটি প্রকাশ করা হয়। এটি কার্যকর হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে। ফলে ওই দিন বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। তবে সব এইচ-১বি ও এল-১ আবেদনকারীর ওপর নতুন করে এই ফি আরোপ করা হয়নি। নিয়মটি মূলত নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তাদের ক্ষেত্রে ফি আদায়ের পরিধি বাড়িয়েছে।   এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক ফি ৪ হাজার ডলার এবং এল-১ আবেদনের ক্ষেত্রে ৪ হাজার ৫০০ ডলার। এই অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার। যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ এবং তাঁদের কাজের অনুমতির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে ফি প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করতে হবে। নতুন নিয়মের ফলে শর্ত পূরণকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে।   কোন প্রতিষ্ঠানকে ফি দিতে হবে   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৫০ জন কর্মী রয়েছে—এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ‘আওতাভুক্ত নিয়োগকর্তা’ হিসেবে বিবেচিত হবে। শর্তটি হলো, প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মোট কর্মীর ৫০ শতাংশের বেশি এইচ-১বি, এল-১এ অথবা এল-১বি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আওতায় থাকতে হবে।   এইচ-১বি ভিসা সাধারণত বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, এল-১ ভিসার মাধ্যমে কোনো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান তার বিদেশি কার্যালয়ের নির্দিষ্ট কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যালয়ে স্থানান্তর করতে পারে। এল-১এ ভিসা মূলত ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী পর্যায়ের কর্মীদের জন্য। এল-১বি ভিসা বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।   উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের ১০০ জন কর্মী থাকলে এবং তাঁদের ৫১ জন বা তার বেশি এইচ-১বি, এল-১এ কিংবা এল-১বি ভিসার আওতায় থাকলে প্রতিষ্ঠানটি ফি দেওয়ার শর্তের মধ্যে পড়তে পারে। তবে শুধু কর্মীর সংখ্যা বেশি হলেই হবে না; ভিসার ধরন ও কর্মীদের অনুপাতও নির্ধারিত সীমা পূরণ করতে হবে।   যেসব প্রতিষ্ঠান এই শর্ত পূরণ করবে না, তাদের ক্ষেত্রে শুধু এই নিয়মের কারণে অতিরিক্ত ফি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে না। তাই নতুন আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীসংখ্যা এবং কর্মীদের ভিসার ধরন পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।   কোন আবেদনে ফি দিতে হবে না   চূড়ান্ত নিয়মে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। কোনো নিয়োগকর্তা যদি কর্মীর বিদ্যমান এইচ-১বি বা এল-১ স্ট্যাটাসের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন না করে শুধু সংশোধিত পিটিশন জমা দেন, তাহলে সেই আবেদনের জন্য এই বায়োমেট্রিক ফি দিতে হবে না।   সাধারণত কর্মীর চাকরির শর্ত, দায়িত্ব বা অনুমোদিত আবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো পরিবর্তন জানাতে সংশোধিত পিটিশন জমা দেওয়া হয়। তবে সংশোধিত আবেদনের সঙ্গে যদি কর্মীর অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধও থাকে, তাহলে শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তার ক্ষেত্রে ফি প্রযোজ্য হতে পারে।   নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর ওপর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর হবে না। তবে ৯ সেপ্টেম্বর বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন বিধান অনুসরণ করতে হবে।   কেন এই ফি নেওয়া হচ্ছে   ৯-১১ রেসপন্স অ্যান্ড বায়োমেট্রিক এন্ট্রি-এক্সিট ফি যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ ও প্রস্থানব্যবস্থায় বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অর্থায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। সীমান্তে ভ্রমণকারীর পরিচয় যাচাই, ভ্রমণসংক্রান্ত নথির জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং প্রবেশ-প্রস্থানের তথ্য ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।   ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এই ফি চালুর ব্যবস্থা করে। পরবর্তী সময়ে ফি-সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তন ও সম্প্রসারণ করা হয়। আগে একই নিয়োগকর্তার অধীনে কর্মীর মেয়াদ বাড়ানোর কিছু আবেদন এই ফি থেকে অব্যাহতি পেত। নতুন চূড়ান্ত নিয়মে সেই ব্যতিক্রমের পরিধি কমিয়ে আওতাভুক্ত নিয়োগকর্তাদের প্রাসঙ্গিক মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনেও ফি নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।   নতুন নিয়মের ফলে বিশেষ করে প্রযুক্তি, পরামর্শক ও আউটসোর্সিং খাতের এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় বাড়তে পারে, যাদের কর্মীদের বড় অংশ এইচ-১বি বা এল-১ ভিসায় কাজ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রতিটি আবেদন জমা দেওয়ার আগে ফি প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনীয় ফি জমা না দিলে আবেদন গ্রহণ বা প্রক্রিয়াকরণে সমস্যা হতে পারে।   নিয়োগকর্তারা ফি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অভিবাসন ফি তালিকা থেকে যাচাই করতে পারবেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য কি না, তা নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যা, কর্মীদের ভিসার ধরন এবং আবেদনের উদ্দেশ্য—সবকিছু বিবেচনা করা জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৭:১৮
যুক্তরাষ্ট্রে হামাসে অর্থায়ন ও মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের গ্রেফতার ৫

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে হামাসের জন্য অর্থ সংগ্রহে সহায়তা এবং সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডে দুই লাখ ২৪ হাজার ডলারের বেশি জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে হামাসের অর্থায়নে জড়িত একটি নেটওয়ার্কে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর লুইজিয়ানার সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ এলাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিলের কার্যালয়।   লুইজিয়ানা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ৩৫ বছর বয়সী আবদেল আদহামি, তাঁর স্ত্রী ২৯ বছর বয়সী ইমান এইচ ডি স্রুর, ৩৩ বছর বয়সী ওমর আদহামি, তাঁর স্ত্রী ২৮ বছর বয়সী আমানি আবু জেনাহ এবং দুই ভাইয়ের ছোট ভাই ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আই আদহামি। তাঁরা লুইজিয়ানার কভিংটন এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের পর পাঁচজনকেই সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ জেলে নেওয়া হয়।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এফবিআইয়ের নেতৃত্বে ফেডারেল ও স্টেট পর্যায়ের যৌথ তদন্তে দুই ভাই আবদেল ও ওমরের বিরুদ্ধে হামাসের জন্য অর্থ সংগ্রহের একটি নেটওয়ার্কে অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের দাবি, নেটওয়ার্কটি হামাসের সহায়তায় ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ ও স্থানান্তর করেছে। এর মধ্যে ওই দুই ভাই এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   হামাসকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ফলে সংগঠনটির জন্য জেনেশুনে অর্থ বা অন্যান্য বস্তুগত সহায়তা প্রদান যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে গুরুতর অপরাধ। দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এই অর্থায়নসংক্রান্ত অভিযোগ ফেডারেল পর্যায়ে আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   অর্থায়নের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারের মেডিকেইড সুবিধা গ্রহণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। লুইজিয়ানা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং লুইজিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ যৌথভাবে তাঁদের আয় ও সরকারি স্বাস্থ্যসুবিধা গ্রহণের তথ্য পর্যালোচনা করে।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের প্রকৃত আয় কম দেখিয়ে মেডিকেইডের সুবিধা নিয়েছেন। এভাবে সরকারি কর্মসূচি থেকে মোট দুই লাখ ২৪ হাজার ৬৪০ ডলারের সুবিধা অনিয়মের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বলে হিসাব করেছে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত আয় সঠিকভাবে জানানো হলে তাঁরা এসব সুবিধার সবটুকু পাওয়ার যোগ্য হতেন না।   মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি হেলথ ইন্স্যুরেন্স কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারসহ যোগ্য ব্যক্তিরা চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পান। এই কর্মসূচিতে আবেদন ও যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবারের আয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে জানানো বাধ্যতামূলক। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে সুবিধা নেওয়া হলে তা সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির আওতায় পড়তে পারে।   অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্ত আবদেল আদহামি ও তাঁর স্ত্রী ইমান স্রুরের বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির পাঁচটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মেডিকেইড কর্মসূচির আনুমানিক এক লাখ ১৩ হাজার ৩৪৪ ডলারের ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে।   অন্যদিকে ওমর আদহামি ও তাঁর স্ত্রী আমানি আবু জেনাহর বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির তিনটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের হিসাবে তাঁদের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মসূচির ক্ষতির পরিমাণ ৮১ হাজার ৯৯ ডলার।   পরিবারের আরেক সদস্য মোহাম্মদ আই আদহামির বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির তিনটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের ফলে মেডিকেইড কর্মসূচির ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার ১৯৭ ডলার।   অন্যদিকে ফেডারেল বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামাসে অর্থায়নের অভিযোগে আবদেল আদহামির বিরুদ্ধে প্রায় ৯৪ হাজার ডলার এবং ওমর আদহামির বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার ডলার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব অর্থ পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে অর্থ পাঠানোর বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ সংগ্রহের নেটওয়ার্কটির কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে সালিম আলজাক নামের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা সংগ্রহের নামে অর্থ তুলতেন। তবে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ হামাসের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।   ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ওই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ফ্রান্সেও তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে।   এদিকে লুইজিয়ানার অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিল সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির অভিযোগকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লুইজিয়ানার করদাতাদের অর্থ থেকে পরিচালিত কর্মসূচিতে জালিয়াতির ঘটনা ঘটলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, তাঁর কার্যালয় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগে স্টেটের করদাতাদের জন্য আট কোটি ডলারের বেশি অর্থ উদ্ধার করেছে।   তবে এ মামলায় দুটি পৃথক অভিযোগের বিষয় স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। হামাসের জন্য অর্থায়নের অভিযোগ মূলত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে তদন্ত ও বিচারের বিষয়। অন্যদিকে মেডিকেইডে আয়সংক্রান্ত ভুল তথ্য দিয়ে সরকারি সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে স্টেট পর্যায়ের মামলা। মেডিকেইডের অর্থ সরাসরি হামাসের কাছে পাঠানো হয়েছে, এমন কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা আর্থিক যোগসূত্র কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।   পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় লুইজিয়ানা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এফবিআই, সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ শেরিফ অফিস, হ্যামন্ড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, ম্যান্ডেভিল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করেছেন। মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় স্টেটের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন সেন্ট ট্যামানি প্যারিশের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কলিন সিমস।   ফেডারেল পর্যায়ে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা দেওয়া, এ ধরনের সহায়তার ষড়যন্ত্র, ওয়্যার ফ্রড এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকলেই অভিযুক্তদের সেই সাজা হবে, এমন নয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট আইনের প্রয়োগ এবং বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর শাস্তি নির্ভর করবে।   লুইজিয়ানার এই ঘটনায় সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নেটওয়ার্কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থ পাঠানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে অভিযুক্ত পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   সূত্র: বাফলো প্রতিদিন

কুইন্সে পার্কিং টিকিট এড়ানোর উপায়, জ্যাকসন হাইটস থেকে জ্যামাইকার ড্রাইভারদের জরুরি গাইড

নিউইয়র্কের কুইন্সে গাড়ি পার্ক করতে গিয়ে সামান্য ভুলেই গুনতে হতে পারে ৬৫ থেকে ১১৫ ডলার বা তারও বেশি জরিমানা। বিশেষ করে জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, এলমহার্স্ট, উডসাইড ও ফ্লাশিংয়ের মতো ব্যস্ত এলাকায় পার্কিং সাইন, মিটার এবং অল্টারনেট সাইড পার্কিংয়ের নিয়ম না বুঝে গাড়ি রাখলে টিকিট পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জানা থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এবং গাড়ি টো করার ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।   নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন (এনওয়াইসি ডিওটি), ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশন এবং ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের প্রকাশিত নিয়ম অনুযায়ী, গাড়ি পার্ক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্লকের সাইনবোর্ড ভালোভাবে পড়াই সবচেয়ে জরুরি। একই রাস্তায় এক পাশে পার্কিংয়ের অনুমতি থাকলেও অন্য পাশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে। আবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই জায়গার পার্কিং নিয়মও বদলে যেতে পারে।   কুইন্সে পার্কিং টিকিটের অন্যতম পরিচিত কারণ অল্টারনেট সাইড পার্কিং বা এএসপি। মূলত স্ট্রিট ক্লিনিংয়ের সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে রাস্তার এক পাশে গাড়ি রাখা নিষিদ্ধ থাকে। অনেক আবাসিক এলাকায় সপ্তাহে একাধিক দিন এই নিয়ম কার্যকর হলেও সব রাস্তার সময়সূচি এক নয়। তাই নিজের এলাকার নিয়ম মনে রাখার পাশাপাশি সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা দিন ও সময় অনুসরণ করতে হবে।   এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্ট্রিট ক্লিনিংয়ের গাড়ি রাস্তা পরিষ্কার করে চলে গেলেও সাইনে উল্লেখ করা নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত পার্কিং বৈধ হয়ে যায় না। অর্থাৎ রাস্তা পরিষ্কার হয়ে গেছে ভেবে আগে গাড়ি পার্ক করলে টিকিট পাওয়া যেতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, অল্টারনেট সাইড পার্কিং লঙ্ঘনের জরিমানা ৬৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   বিশেষ ছুটির দিন, ধর্মীয় উৎসব, তুষারপাত কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে কখনো কখনো অল্টারনেট সাইড পার্কিং সাময়িক স্থগিত করা হয়। তবে এএসপি সাসপেন্ড হওয়ার অর্থ সব ধরনের পার্কিং ফ্রি হয়ে যাওয়া নয়। ওই দিনেও সাধারণত মিটার পেমেন্ট, ফায়ার হাইড্র্যান্ট, বাস স্টপ, নো পার্কিং এবং নো স্ট্যান্ডিংয়ের নিয়ম কার্যকর থাকে। অবশ্য নির্দিষ্ট বড় সরকারি ছুটির দিনে মিটার পেমেন্টের নিয়মেও ছাড় থাকতে পারে। তাই ছুটির দিনেও গাড়ি রাখার আগে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।   কুইন্সে আরেকটি ব্যয়বহুল ভুল হলো ফায়ার হাইড্র্যান্টের খুব কাছে গাড়ি রাখা। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে ফায়ার হাইড্র্যান্টের উভয় পাশে ১৫ ফুট জায়গা ফাঁকা রাখতে হয়। এই নিয়ম ভাঙলে ১১৫ ডলার জরিমানা হতে পারে। তবে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একটি সীমিত ব্যতিক্রম রয়েছে। চালক নিজে ড্রাইভিং সিটে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক গাড়ি সরাতে প্রস্তুত থাকলে যাত্রীবাহী গাড়ি হাইড্র্যান্টের পাশে সাময়িক দাঁড়াতে পারে। গাড়ি রেখে চলে যাওয়ার অনুমতি এই ব্যতিক্রমে নেই।   মিটার পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে ড্রাইভারদের জন্য সুবিধাজনক একটি ব্যবস্থা হলো পার্কএনওয়াইসি অ্যাপ। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোতেই এই অ্যাপের মাধ্যমে রাস্তার মিটার পার্কিংয়ের পেমেন্ট করা যায়। এতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পার্কিং সেশন চালু করা, কত সময় বাকি আছে দেখা এবং সময় শেষ হওয়ার আগে নোটিফিকেশন পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। ফলে প্রতিবার মিটারের কাছে গিয়ে পেমেন্ট করতে হয় না।   তবে অ্যাপ ব্যবহার করলেই ইচ্ছামতো সময় বাড়ানো যাবে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট পার্কিং জোনে সাইনবোর্ডে যতক্ষণ গাড়ি রাখার অনুমতি রয়েছে, সর্বোচ্চ ততক্ষণই পেমেন্ট করা যাবে। শুরুতে কম সময়ের পেমেন্ট করলে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত সময় বাড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু সর্বোচ্চ সময় শেষ হলে অ্যাপ দিয়ে একই জায়গায় পার্কিং চালিয়ে যাওয়া বৈধ নয়। এমনকি পেমেন্ট করা থাকলেও অন্য কোনো পার্কিং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে টিকিট হতে পারে।   বিশেষ করে জ্যাকসন হাইটসের রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ, ৭৪ স্ট্রিট, জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউ এবং কুইন্সের অন্যান্য বাণিজ্যিক এলাকায় গাড়ি রাখার সময় মিটার ও পার্কিং সাইন ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। আগে কোনো জায়গায় ফ্রি পার্কিং পাওয়া গেলেও এখনো সেখানে একই নিয়ম রয়েছে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। রাস্তার মিটার ব্যবস্থা, পার্কিংয়ের সময়সীমা কিংবা নির্দিষ্ট গাড়ির জন্য সংরক্ষিত জায়গার নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে।   অনেক ড্রাইভার নো পার্কিং, নো স্ট্যান্ডিং ও নো স্টপিং সাইনের পার্থক্য বুঝতে পারেন না। অথচ তিনটির নিয়ম আলাদা। নো পার্কিং এলাকায় সাধারণত যাত্রী ওঠানো বা নামানো এবং মালামাল লোড বা আনলোড করার জন্য সাময়িক দাঁড়ানো যায়। নো স্ট্যান্ডিং এলাকায় শুধু যাত্রী ওঠানো বা নামানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় দাঁড়ানোর অনুমতি রয়েছে। সেখানে মালামাল তোলা বা নামানোর জন্য দাঁড়ানো যায় না। আর নো স্টপিং এলাকায় সাধারণভাবে যাত্রী ওঠানো, নামানো কিংবা মালামাল লোড করার জন্যও গাড়ি থামানো নিষিদ্ধ।   এ ক্ষেত্রে গাড়ির ভেতরে ড্রাইভার বসে আছেন কি না, সেটি সব সময় জরিমানা এড়ানোর ভিত্তি নয়। কোনো জায়গায় নো স্ট্যান্ডিং কার্যকর থাকলে সেখানে যাত্রীর অপেক্ষায় গাড়িতে বসে থাকলেও টিকিট হতে পারে। একইভাবে রাস্তার পাশে হ্যাজার্ড লাইট জ্বালিয়ে রাখলেই অবৈধ পার্কিং বৈধ হয়ে যায় না। নিউইয়র্ক সিটিতে সাধারণ নো স্ট্যান্ডিং বিধি লঙ্ঘনের জরিমানা ১১৫ ডলার।   বাস স্টপ, বাস লেন ও বাইক লেনের নিয়মও কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। নির্ধারিত বাস লেনে কিংবা বাইক লেনের ভেতরে গাড়ি পার্ক করলে ১১৫ ডলার জরিমানা হতে পারে। ড্রাইভওয়ের সামনে গাড়ি রেখে অন্যের প্রবেশপথ আটকে দিলেও জরিমানা হতে পারে ৯৫ ডলার। রাস্তার মাঝখানে অন্য গাড়ির পাশে ডাবল পার্কিং করাও সাধারণভাবে নিষিদ্ধ। কয়েক মিনিটের জন্য দোকানে প্রবেশ করা কিংবা কাউকে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করা নিরাপদ নয়।   তবে ড্রাইভারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো পাঁচ মিনিটের গ্রেস পিরিয়ড। নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং মিটার, পার্কএনওয়াইসি সেশন এবং অল্টারনেট সাইড পার্কিংয়ের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর পাঁচ মিনিটের ছাড় রয়েছে। অর্থাৎ এসব নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সময় শেষ হওয়ার পর প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যে শুধু ওই সময়সীমা অতিক্রমের কারণে টিকিট দেওয়া যায় না। তবে এই ছাড় ফায়ার হাইড্র্যান্ট, নো স্ট্যান্ডিং কিংবা অন্যান্য নিষিদ্ধ স্থানে পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   কুইন্সের ব্যস্ত এলাকায় গাড়ি নিয়ে যাওয়ার আগে পার্কিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনা করা যেতে পারে। স্পটহিরো ও পার্কহুইজের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে আশপাশের পার্কিং গ্যারেজের অবস্থান, সম্ভাব্য খরচ এবং আগাম বুকিংয়ের সুবিধা দেখা যায়। তবে গ্যারেজের রেট, অতিরিক্ত চার্জ এবং গাড়ি প্রবেশ ও বের করার সময়সূচি আগে যাচাই করা উচিত। অনেক সময় কাছাকাছি অবৈধ জায়গায় গাড়ি রাখার চেয়ে নির্ধারিত গ্যারেজে পার্ক করা কম ঝুঁকিপূর্ণ।   পার্কিং টিকিট পেয়েও ড্রাইভারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। কোনো টিকিট ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হলে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের মাধ্যমে সেটি চ্যালেঞ্জ করা যায়। টিকিট ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে হিয়ারিংয়ের আবেদন করলে বিলম্বজনিত অতিরিক্ত জরিমানা এড়ানো সম্ভব। অনলাইনে, অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপে, ডাকযোগে অথবা সরাসরি নির্ধারিত অফিসে গিয়ে আপত্তি জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আবেদন করলেই টিকিট বাতিল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   এ কারণে ভুল টিকিটের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে চাইলে ঘটনাস্থলের পার্কিং সাইন, রাস্তার অবস্থান, মিটার পেমেন্টের রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা ভালো। বিশেষ করে সাইন অস্পষ্ট, ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা নির্দিষ্ট পার্কিং নিয়ম নিয়ে বিরোধ থাকলে এসব তথ্য কাজে আসতে পারে। একই সঙ্গে টিকিটের তারিখ, সময়, ভায়োলেশন কোড ও গাড়ির লাইসেন্স প্লেট নম্বর মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।   নিউইয়র্ক সিটির নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পার্কিং টিকিটের জরিমানা পরিশোধ বা আপত্তি না জানালে অতিরিক্ত পেনাল্টি যোগ হতে পারে। বকেয়া জরিমানা দীর্ঘদিন জমে থাকলে গাড়িতে বুট লাগানো কিংবা টো করার মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। তাই টিকিট পাওয়ার পর সেটি উপেক্ষা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো।   জ্যাকসন হাইটস থেকে জ্যামাইকা পর্যন্ত কুইন্সের যেকোনো এলাকায় গাড়ি পার্ক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাস হলো রাস্তার সাইন ভালোভাবে পড়া, নির্ধারিত মিটার পেমেন্ট করা এবং পার্কিংয়ের সময়সীমা মেনে চলা। অল্টারনেট সাইড পার্কিং সাসপেনশনের সর্বশেষ তথ্য এনওয়াইসি ৩১১ অথবা সিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে যাচাই করা যায়। পার্কিং নিয়ম এলাকা ও সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আগের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে প্রতিবার পার্কিংয়ের আগে বর্তমান নিয়ম নিশ্চিত করাই জরুরি।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক
দিল্লিতে ২৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন, ট্রেন বাতিল, মেট্রো চলাচল সীমিত করল মোদি সরকার

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে প্রবেশ ও জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন ট্রেন বাতিল, মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধের উদ্যোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে জনপরিবহন পুরোপুরি বন্ধ না করার নির্দেশনা দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কয়েকটি ছাত্রসংগঠন শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তাঁদের প্রধান দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের দায় নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। আয়োজকদের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ভোটাধিকার সুরক্ষার দাবিতেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।   বিক্ষোভ ঘিরে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) থেকেই দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দিল্লি পুলিশ মেট্রো কর্তৃপক্ষকে ৫৭টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছে রাজীব চক, নিউ দিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, কাশ্মীরি গেট, মান্ডি হাউস, প্যাটেল চক, জনপথসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলো। তবে সব স্টেশনে বিধিনিষেধ কার্যকরের বিষয়ে মেট্রো কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে পরিস্থিতি।   রেল যোগাযোগেও বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শনিবার সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নিউ দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনগামী বিভিন্ন ট্রেন বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে দিল্লিতে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার ট্রেনে রাজধানীতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।   তবে সরকারের পরিবহন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত জানিয়ে দেয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন থাকলেও মেট্রো ও ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে, কিন্তু এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া উচিত নয়। ফলে ঘোষিত পরিবহন বিধিনিষেধের বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   দিল্লির বিভিন্ন প্রবেশপথেও বসানো হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ চেকপোস্ট। উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে রাজধানীতে প্রবেশকারী যানবাহনে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ফরিদাবাদ, বদরপুর, নয়ডা সংযোগ সড়ক এবং দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের উদ্দেশ্য, বড় ধরনের জমায়েতের কারণে যানজট ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো।   এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে নজরদারি চালানোর খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভে অংশ নিতে অন্য রাজ্য থেকে আসা ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দিল্লির ১৫টি পুলিশ জেলায় অস্থায়ী আটককেন্দ্র প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আগের বিক্ষোভের মতো সংঘাত এড়াতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   এদিকে দিল্লি পুলিশ শনিবারের কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নূপুর প্রসাদ জানিয়েছেন, বিক্ষোভের আবেদন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করার কথা থাকলেও আয়োজকেরা ৭ অক্টোবর আবেদন করেন। পাশাপাশি জননিরাপত্তা, যান চলাচল এবং অতীতের কর্মসূচিতে নির্দেশনা না মানার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   তবে অনুমতি না পাওয়ার পরও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর অভিযোগ, কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগঠনের কর্মী ও সমর্থকদের আটক করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিবাদের অধিকার সীমিত করতেই প্রশাসন এসব ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা সম্পর্কে সংগঠনের সব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম, যা এসআইআর নামে পরিচিত। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এতে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী ও বিরোধী সমর্থকদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছে তারা।   অন্যদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকার সংশোধন একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভুলভাবে কারও নাম বাদ পড়লে নির্ধারিত নিয়মে সংশোধন ও পুনরায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে কাউকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।   বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। বিরোধী জোটের নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হস্তক্ষেপ কামনা করার উদ্যোগও নিয়েছেন।   নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এলাকা, যন্তরমন্তর সংলগ্ন সড়ক এবং অতীতে সংঘর্ষের ঘটনাস্থলগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জরুরি সেবা ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার।   শনিবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে রাজধানীতে বড় ধরনের জমায়েত নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর এখন নজর থাকবে, নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রেখে সরকার কীভাবে ট্রেন ও মেট্রো চলাচল সচল রাখে এবং বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়।

নিউইয়র্কে ফেরি ভাড়া বাড়ছে
নিউইয়র্কে ফেরি ভাড়া বাড়ছে ১৯ অক্টোবর, এক যাত্রায় খরচ হবে ৫ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরে ফেরিতে যাতায়াতকারীদের জন্য নতুন ভাড়ার নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। আগামী ১৯ অক্টোবর থেকে নিউইয়র্ক সিটি ফেরির একক যাত্রার ভাড়া ৪ ডলার ৯০ সেন্ট থেকে বেড়ে ৫ ডলার হবে। একই সঙ্গে ১০ যাত্রার টিকিটের প্যাকেজের দাম ২৯ ডলার থেকে বেড়ে ৩০ ডলার হবে। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে নগরীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন করপোরেশন।    নিউইয়র্কের ফেরি ব্যবস্থা ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের নদীপথে যাতায়াতের সুযোগ দেয়। অনেক বাসিন্দা কর্মস্থলে যাওয়া, পর্যটন এবং দৈনন্দিন চলাচলের জন্য এ সেবা ব্যবহার করেন। ফলে ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব নিয়মিত যাত্রীদের বাজেটে পড়তে পারে।   নতুন নিয়মে একবারের যাত্রায় ১০ সেন্টের পরিবর্তে ৫০ সেন্ট বৃদ্ধি হচ্ছে। তবে ১০ যাত্রার প্যাকেজ কিনলে প্রতিবারের গড় খরচ ৩ ডলার থাকবে। অর্থাৎ নিয়মিত ফেরি ব্যবহারকারীদের জন্য একাধিক যাত্রার টিকিট তুলনামূলক সাশ্রয়ী হতে পারে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ভাড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে ফেরি ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় সামাল দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ছাড়ের সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করা হবে।    বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী যাত্রী এবং নগরীর নির্দিষ্ট স্বল্প আয়ের যাতায়াত-সহায়তা কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্যও ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব যাত্রীর একক ভাড়া ১ ডলার ৪৫ সেন্ট থেকে বেড়ে ১ ডলার ৫০ সেন্ট হবে। তবে দুই দিনের ছাড়যুক্ত পাসের দাম ১৫ ডলারই থাকবে এবং এটি স্থায়ী বিকল্প হিসেবে চালু থাকবে।   নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য ভাড়ার পরিবর্তনটি জানা জরুরি, বিশেষ করে যাঁরা প্রতিদিন ফেরিতে যাতায়াত করেন কিংবা সন্তানদের স্কুলে নেওয়ার জন্য এই পরিবহন ব্যবহার করেন। যাত্রার আগে নতুন ভাড়া ও ছাড়ের শর্ত দেখে নিলে অপ্রত্যাশিত খরচ এড়ানো সম্ভব।

মা ও শিশুকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ
নিউইয়র্কে ১৫ তলা থেকে মা ও শিশুকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সাবেক প্রেমিক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরের ব্রঙ্কস এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের ১৫ তলার বারান্দা থেকে এক তরুণী মা ও তাঁর আট মাসের শিশুকন্যাকে নিচে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে ৩১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ভোরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী নাথালি রামিরেজের মৃত্যু হয়েছে। শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটি সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিল।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ব্রঙ্কসের অ্যালারটন এলাকার একটি আবাসিক ভবনে। মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে জরুরি ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে মা ও শিশুকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁদের দুজনকেই জ্যাকোবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তরুণী মাকে বাঁচাতে পারেননি।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, নাথালি তাঁর শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে বারান্দা থেকে নিচে পড়ে যান। পুলিশ ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে আসে যে, তাঁদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।   এ ঘটনায় অ্যাঞ্জেল কারাসকো নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিস ও নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি আঞ্চলিক পলাতক আসামি গ্রেপ্তার বাহিনীর সদস্যরা বুধবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত অভিযোগ এবং হামলাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে দোষী বলা যাবে না।    ঘটনাটি নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় মানুষ নাথালি ও তাঁর শিশুকন্যার জন্য শোক প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণী মায়ের স্মরণে মানুষ ফুল নিয়ে আসেন এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।    ঘটনাটি আবারও পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সহিংসতা প্রতিরোধের গুরুত্ব সামনে এনেছে। সম্পর্কের মধ্যে হুমকি, শারীরিক আক্রমণ বা জোরপূর্বক প্রবেশের মতো ঘটনা ঘটলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তি বা তাঁর পরিচিত কেউ ঝুঁকিতে থাকলে নিরাপদ স্থানে যাওয়া এবং পুলিশের সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। পারিবারিক বিরোধকে শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা মনে করে এড়িয়ে না গিয়ে সহিংসতার আশঙ্কা থাকলে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাৎক্ষণিক বিপদে ৯১১ নম্বরে ফোন করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে গার্হস্থ্য সহিংসতার সহায়তার জন্য জাতীয় হটলাইন ৮০০-৭৯৯-৭২৩৩ নম্বরেও যোগাযোগ করা যায়।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিলাই
শান্তিতে নোবেল পেলেন ইসরায়েলকে গণ হ ত্যায় দোষী সাব্যস্ত করা বিচারক
প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৮:৯

২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক বিচারক নাভি পিলাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং যু দ্ধাপরাধ ও গণ হ ত্যার বিচার নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।   ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিলাই জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ইসরায়েলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি।   নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ সাহসিকতা এবং সততার পরিচয় দিয়েছেন নাভি পিলাই। বিশেষ করে যু দ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণ হ ত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তাঁর ভূমিকা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে।   নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে যু দ্ধ ও সংঘাত বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালত এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সহিং সতা ছাড়াই বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্ব তুলে ধরতেই পিলাইয়ের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।   সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ইসরায়েলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন পিলাই। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর অবস্থান ইসরায়েল এবং দেশটির সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল।   ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের শতাধিক সদস্য পিলাইয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তাঁর নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যক্রমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের মধ্যেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সুরক্ষার পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রাখেন তিনি।   পরবর্তী সময়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ইসরায়েলসংক্রান্ত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন পিলাই। তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০২৫ সালে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণ হ ত্যা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে ইসরায়েল ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিশনের এই অনুসন্ধান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।   দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্ম নেওয়া নাভি পিলাইয়ের পেশাগত জীবন শুরু হয় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার সময় তিনি নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন।   ১৯৬৭ সালে ডারবানে নিজের আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন পিলাই। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৮ সালে ডক্টর অব জুরিডিক্যাল সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।   এরপর রুয়ান্ডার গণ হ ত্যার বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেখানে যৌন সহিং সতা ও ধ র্ষ ণকে গণ হ ত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন পিলাই।   মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণ হ ত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলায়ও তিনি অ্যাডহক বিচারক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ধারাবাহিক ভূমিকার বিষয়টি এবারের নোবেল পুরস্কারের সিদ্ধান্তে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।   নোবেল কমিটির মতে, আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যু দ্ধাপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং নি র্যা তনের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।   আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে নাভি পিলাইয়ের হাতে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর কয়েক দশকের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবারের পুরস্কারকে দেখছে নোবেল কমিটি।

নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নাভি পিল্লাই
আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই
প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৫:৩৭

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট বিচারক ও জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর নরওয়ের নোবেল কমিটি বিজয়ী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা আবারও পূরণ হলো না।   নোবেল কমিটি জানিয়েছে, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্য অধিকারকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াই থেকে শুরু করে সমসাময়িক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিচারিক কার্যক্রমে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন—পিল্লাইয়ের কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতা রয়েছে।   পুরস্কার ঘোষণার ব্যাখ্যায় কমিটি বলেছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইনের ব্যবস্থা প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে এবং এর প্রতিষ্ঠানগুলোও আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আইন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরতেই পিল্লাইকে বেছে নেওয়া হয়েছে।   কমিটির বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামোর পরিবর্তে ক্ষমতার রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শক্তি যখন ন্যায়ের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তখন স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের অহিংস সমাধানের ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেছে কমিটি।   দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পিল্লাইয়ের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।   নোবেল কমিটির মতে, পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনে একটি বিষয় বারবার ফিরে এসেছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং আইনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এই পুরস্কারের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আইন ও মানবাধিকার রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শক্তিশালী করার বার্তা দিতে চায় কমিটি।   নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ভাটনে ফ্রিডনেস বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও এর প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনের ভিত্তি। এই পুরস্কারের মাধ্যমে পিল্লাই এবং তাঁর মতো আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার প্রচেষ্টা ঘিরে আলোচনা   ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার আগে ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় ছিল। তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজের কূটনৈতিক ভূমিকা ও সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাকে পুরস্কারের যোগ্য বলে তুলে ধরেছেন। নোবেল কমিটির ওপরও তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের পরিবর্তে পিল্লাইকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যেই পাকিস্তান আবারও ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার কথা জানায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে।   শরিফের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর ট্রাম্পের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ দুই দেশকে সংঘাতের কিনারা থেকে ফিরিয়ে আনতে এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিল। তাঁর দাবি, সেই যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে এটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য; নোবেল কমিটির পুরস্কার ঘোষণার কারণ হিসেবে এই দাবিকে উল্লেখ করা হয়নি।   এর আগে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রকর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশটিতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি প্রতীকীভাবে নিজের পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পরিবর্তন করা যায় না।   আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে ন্যায়বিচারের বার্তা   এবারের পুরস্কার এমন এক সময়ে দেওয়া হলো, যখন বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত, যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং ইউরোপে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে।   এদিকে সুদানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অর্থায়ন কমে যাওয়ার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটিভিত্তিক সহায়তা নেটওয়ার্কগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব উদ্যোগও এবারের পুরস্কারের সম্ভাব্য দাবিদারদের আলোচনায় ছিল।   নোবেল শান্তি পুরস্কার চলতি সপ্তাহে ঘোষিত পঞ্চম পুরস্কার। এর আগে সাহিত্য, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পিল্লাইয়ের এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

সমাজের সব প্রতিকূলতা জয় করে মুই থমাস আজ একজন সফল ইয়োগা প্রশিক্ষক ও রাগবি রেফারি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
জন্মের দিনই ফেলে যায় পরিবার, দত্তক নেওয়া বাবা-মায়ের ভালোবাসায় সেই মুই আজ সফল রাগবি রেফারি
প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ০:১৪

হংকংয়ে ১৯৯২ সালে এক বিরল জেনেটিক রোগ নিয়ে জন্ম নেন মুই থমাস। জন্মের পরপরই তার নিজের বাবা ও মা তাকে হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যান। চিকিৎসকরাও তখন আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তারা ধারণা করেছিলেন যে এই শিশু হয়তো শৈশব পার হতে পারবে না। কিন্তু ভাগ্যের লিখন ছিল অন্যরকম। অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং এক দম্পতির নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় সেই মুই আজ ৩৩ বছর বয়সে এসে একজন সফল ইয়োগা প্রশিক্ষক এবং রাগবি রেফারি হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন।   মুই থমাস জন্মগতভাবে হারলেকুইন ইচথিওসিস নামের এক অত্যন্ত বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগের কারণে রোগীর পুরো শরীর পুরু ও শক্ত চামড়ার আবরণে ঢাকা থাকে যা ফেটে গিয়ে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি করে। এর ফলে রোগীর শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং শরীরে সহজেই বড় ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। নব্বইয়ের দশকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই রোগটিকে প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। চিকিৎসকদের ধারণা ছিল এই রোগে আক্রান্ত প্রায় কেউই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে না।   তবে শিশুটির জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন তার বয়স আঠারো মাস। ফস্টার কেয়ার প্রোগ্রামের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে আসা রগ এবং টিনা থমাস নামের এক দম্পতির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সময় এই দম্পতির দত্তক নেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না বরং তারা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু টিনা যখনই হাসপাতালে মুইকে দেখতে যেতেন তখন শিশুটির সঙ্গে তার এক অদ্ভুত মায়াবী সম্পর্ক তৈরি হয়। টিনা যখন হাসপাতাল থেকে চলে আসতে চাইতেন তখন মুই তার জন্য অঝোরে কাঁদতেন।   শিশুটির এই কান্না টিনাকে মানসিকভাবে প্রবল নাড়া দেয়। এরপর দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময় আইনি ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে তারা মুইকে নিজেদের কাছে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকরা তাদের বারবার সতর্ক করেছিলেন যে শিশুটি যেকোনো সময় মারা যেতে পারে। কিন্তু রগ ও টিনা তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। হাসপাতালে মুইয়ের প্রতিটি চিকিৎসাকালীন সময়ে টিনা রাতের পর রাত তার বিছানার পাশে মেঝেতে ঘুমিয়েছেন। তাদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই মুইকে নতুন এক জীবন উপহার দেয়।   দীর্ঘ লড়াই শেষে ৩৩ বছর বয়সী মুই থমাস আজ সমাজের সব প্রতিকূলতাকে জয় করেছেন। তিনি বর্তমানে একজন ইয়োগা প্রশিক্ষক এবং বিশ্বের প্রথম রাগবি রেফারি যিনি এই বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েও মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক গঠনের কারণে তাকে অনেক মানসিক নির্যাতন বা বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল। তবে সেই কষ্টকেই তিনি নিজের শক্তি বানিয়ে দ্য গার্ল বিহাইন্ড দ্য ফেস নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি সমাজের সব ধরনের কুসংস্কার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ৪৫টি ড্রোন ও বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের তথ্য প্রকাশ করেছে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ যুদ্ধবিমান ধ্বংস, ক্ষতি ৪০ হাজার কোটি টাকা
প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২৩:৬

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ, হেলিকপ্টার ও চালকবিহীন ড্রোন রয়েছে। এসব উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে সম্ভাব্য ব্যয় ১৯০ কোটি থেকে ৩৩০ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩ হাজার ৪০০ কোটি থেকে ৪০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উড়োজাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ উঠে এসেছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে দেশটির কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সিআরএসের ৫ অক্টোবর হালনাগাদ করা প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো উড়োজাহাজের তথ্য সংকলন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর, সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্য, সরকারি নথি ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। তবে তালিকায় থাকা সব উড়োজাহাজ স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়েছে, এমন নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কিছু উড়োজাহাজ মেরামতের পর আবারও সামরিক কাজে ফিরিয়ে আনা হয়ে থাকতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজের তালিকায় রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমান এবং সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে চালকবিহীন আকাশযান। তালিকাভুক্ত ৮১টি উড়োজাহাজের মধ্যে ৪৫টিই এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত এসব ড্রোনের একাধিকটি হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সরঞ্জামগত ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ছাড়া তালিকায় বিভিন্ন ধরনের হেলিকপ্টার ও অন্যান্য সামরিক আকাশযানও রয়েছে। সিআরএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সব ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা একই কারণে ঘটেনি। কিছু উড়োজাহাজ শত্রুপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছু ভূপাতিত হয়েছে, আবার কিছু যুদ্ধাঞ্চলে দুর্ঘটনা বা নিজেদের পক্ষের গোলাবর্ষণের ঘটনায় হারানো হয়েছে। কয়েকটি উড়োজাহাজ মাটিতে থাকা অবস্থায় হামলার শিকার হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ৮১ সংখ্যাটি কেবল ইরানের হামলায় ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজের হিসাব নয়, বরং যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো আকাশযানের সম্মিলিত সংখ্যা। সামরিক তথ্যের কিছু অংশ গোপন থাকা এবং সংঘাত অব্যাহত থাকার কারণে এই সংখ্যা ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নৌ কর্মকর্তা ও সরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কিলোওয়েন গ্রুপের চেয়ারম্যান হারলান উলম্যান আল-জাজিরাকে বলেন, আধুনিক যুদ্ধে সামরিক শক্তির পার্থক্য থাকলেও ছোট দেশ বা তুলনামূলক সীমিত সামরিক সক্ষমতার পক্ষও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করতে পারে। তাঁর মতে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে কিছুটা সাফল্য পেয়েছে। বিশেষ করে কম খরচে তৈরি করা যায় এমন চালকবিহীন আকাশযান বড় সামরিক স্থাপনার জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব আকাশযানের সহজলভ্যতা ও ব্যবহার যুদ্ধের প্রচলিত কৌশলকে বদলে দিচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি। ইরান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট চেয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা বাজেট। যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ও সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়টি সামনে রেখে এই বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তবে যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয়, সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন কতটা হবে, তা নিয়ে কংগ্রেসের সদস্যদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অস্ত্র ও সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি জ্বালানি এবং অন্যান্য সামরিক কার্যক্রমের ব্যয়ও বাড়তে পারে। গত মাসে ৪৫ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও একজন স্বতন্ত্র সিনেটর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চিঠি দিয়ে যুদ্ধের ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে কংগ্রেসের বিবেচনার আগে ব্যয়ের স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রয়োজন। সিনেটরদের চিঠিতে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন করদাতাদের অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্য, গৃহঋণ ও বিমান টিকিটের মতো খাতে আরও ৬ হাজার কোটি ডলার বাড়তি ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে এসব ব্যয়ের হিসাব সিনেটরদের দেওয়া দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, স্বাধীনভাবে যাচাই করা চূড়ান্ত হিসাব হিসেবে নয়। সিবিওর সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। এই হিসাবে যুদ্ধে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও হারানো সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় এবং অন্যান্য সামরিক কার্যক্রমের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, সংঘাত আরও এক মাস চললে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বাড়তে পারে প্রায় ২০০ কোটি ডলার। আর যুদ্ধের তীব্রতা জুলাই মাসের পর্যায়ে পৌঁছালে এক মাসে ব্যয় ৩০০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এসব হিসাব যুদ্ধের নির্দিষ্ট সময়সীমা ও সামরিক তৎপরতার মাত্রার ওপর নির্ভরশীল। ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজের সংখ্যা প্রত্যাশিত ছিল কি না এবং এসব ক্ষতি মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটে কী প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে আল-জাজিরা পেন্টাগনের কাছে জানতে চেয়েছিল। জবাবে পেন্টাগন জানায়, তাদের নতুন করে কিছু বলার নেই। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুদ্ধের ব্যয় ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে উলম্যানের মতে, অনেক মার্কিন নাগরিক সামরিক অভিযানে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতিকে প্রত্যাশিত ঘটনা হিসেবে দেখতে পারেন। তাই শুধু এই প্রতিবেদনই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে, এমনটা তিনি মনে করেন না। সূত্র: আল-জাজিরা

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়