যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর হাম রোগের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২ হাজার ৫৬৬টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এ সংখ্যা গত বছরের পুরো সময়ের ২ হাজার ২৮৯টি নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৪৭টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চল থেকে ২ হাজার ৫৫০টি হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। আরও ১৬টি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সফররত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩৮টি হাম রোগের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ বছরের মোট আক্রান্তের ৯৪ শতাংশ অর্থাৎ ২ হাজার ৪০৭টি ঘটনা কোনো না কোনো প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে ২০২৬ সালে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাব থেকে ১ হাজার ৩২টি এবং ২০২৫ সালে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাব থেকে ১ হাজার ৩৭৫টি সংক্রমণ এসেছে। মাত্র কয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগকে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদানের হার কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় টিকা না নেওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ার কারণে সংক্রমণ আবারও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা নেওয়ার হার সামান্য কমে ৯২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে টিকা নেওয়া থেকে অব্যাহতির হার বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক মানুষ টিকা না নিলে একজন আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে দ্রুত অনেক মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের সংক্রমণের বড় অংশ স্থানীয়ভাবে ছড়িয়েছে। মাত্র ১৬টি ঘটনা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে শুধু বিদেশ থেকে আসা আক্রান্ত ব্যক্তিদের কারণে সংক্রমণ হচ্ছে—এমন ব্যাখ্যা দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে বোঝা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুল ও শিশুদের ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই টিকাদানের মাধ্যমে সুরক্ষা বাড়ানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের ২ হাজার ৫৬৬টি নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ২৮৯টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা এবং ৪৮টি প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গিয়েছিল। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো আক্রান্তদের শনাক্তকরণ, সংক্রমণের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে ২০২৬ সালের সংখ্যা এখনও চূড়ান্ত নয়; নতুন তথ্য যুক্ত হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চশিক্ষা সংস্কার উদ্যোগকে ঘিরে কানেকটিকাটের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন শিক্ষা সচিব লিন্ডা ম্যাকমাহন গত ৩ আগস্ট দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি একাধিক নীতিগত পরিবর্তনের আহ্বান জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাট এবং কানেকটিকাটের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। ফেডারেল সরকারের আহ্বানে মেধাভিত্তিক ভর্তি, মতাদর্শগত বৈচিত্র্য, শিক্ষার ব্যয় কমানো এবং ক্যাম্পাসে বাধাদানকারী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কানেকটিকাটের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে নিজেদের সম্প্রদায়ের সদস্যদের কাছ থেকে মতামত নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও ফেডারেল তদন্তের মুখোমুখি রয়েছে। ফলে নতুন ফেডারেল আহ্বানটি ইয়েলের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো নিয়ে কানেকটিকাটের কিছু আইনপ্রণেতা ও শিক্ষক সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে ফেডারেল অর্থায়নের সঙ্গে এসব নীতির বাস্তবায়নকে যুক্ত করা হতে পারে। যদিও ৩ আগস্টের চিঠিতে সরাসরি অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়নি। এর আগে ইয়েলের শিক্ষক সমাজের একটি জরিপেও ফেডারেল নীতির প্রভাবে একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত ওই জরিপে প্রায় ৬৮ শতাংশ ইয়েল শিক্ষক জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর তাদের একাডেমিক স্বাধীনতা কমেছে বলে তারা মনে করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উচ্চশিক্ষা নীতির আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি ব্যবস্থা, শিক্ষার ব্যয়, ক্যাম্পাসের মতপ্রকাশের পরিবেশ এবং একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কানেকটিকাটের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে ২০২৬ সালে চাকরি ছাঁটাইয়ের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ক্রাঞ্চবেস নিউজের সর্বশেষ হিসাবে, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে অন্তত ১,১১৬ প্রযুক্তিকর্মী চাকরি হারিয়েছেন অথবা ছাঁটাইয়ের তালিকায় রয়েছেন। একই সপ্তাহে গুগল, সেলসফোর্স, টিকটক, এটসি ও র্যাপিড৭সহ বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ছাঁটাইয়ের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের বিনিয়োগ এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এআই অবকাঠামো ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। এর ফলে কিছু প্রতিষ্ঠানে ব্যয় কমানো, কর্মী কাঠামো পুনর্গঠন এবং নির্দিষ্ট কাজ স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতে চলমান সব ছাঁটাইকে শুধু এআইয়ের ফল হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, ব্যয় কমানো, বাজার পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়িক কৌশলের পরিবর্তনও বড় ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এআই কিছু পুরোনো কাজের চাহিদা কমালেও নতুন ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর চাকরির সুযোগ তৈরি করছে। এদিকে ওরাকল এআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ানোর মধ্যেই চলতি মাসে আরও কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালে এর আগে প্রায় ২১ হাজার কর্মী কমিয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব এখন মূলত চাকরির ধরন ও দক্ষতার চাহিদা পরিবর্তনের মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে। ভবিষ্যতে এআই দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি কিছু প্রচলিত প্রযুক্তি পদে নিয়োগ কমতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের উৎপাদন খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আগস্টে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের এম্পায়ার স্টেট উৎপাদন জরিপের সাধারণ ব্যবসায়িক পরিস্থিতি সূচক পাঁচ পয়েন্ট বেড়ে ২০ দশমিক ৬-এ পৌঁছেছে, যা চার বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। নতুন ক্রয়াদেশের সূচক ১৭ দশমিক ৩ এবং পণ্য সরবরাহের সূচক ১১ দশমিক ৭ হয়েছে। একই সঙ্গে অসম্পূর্ণ ক্রয়াদেশের সূচক বেড়ে ১৫ দশমিক ৫-এ উঠেছে, যা ২০২২ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। এসব তথ্য উৎপাদন খাতে চাহিদা ও কার্যক্রম বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। শ্রমবাজারেও ইতিবাচক সংকেত পাওয়া গেছে। কর্মীর সংখ্যার সূচক ৯ দশমিক ৩ এবং কর্মসপ্তাহের সূচক ৬ দশমিক ৯ হয়েছে, যা কর্মসংস্থান ও কাজের সময় কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে পুরো পরিস্থিতি চাপমুক্ত নয়। উৎপাদনকারীদের জন্য কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায়ও কিছুটা চাপ দেখা দিয়েছে। আগস্টে উৎপাদনকারীদের দেওয়া মূল্যসংক্রান্ত সূচক ৫৮ দশমিক ৬-এ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিউইয়র্কের উৎপাদন খাতের এই শক্তিশালী অবস্থান ব্যবসা ও শিল্প খাতে আশার নতুন বার্তা দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ গুনতে হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাবে নাগরিকত্বের আবেদনপত্র Form N-400-এর কাগজে জমা দেওয়ার ফি ৭৬০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার করার কথা বলা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করলে বর্তমান ৭১০ ডলারের পরিবর্তে দিতে হবে ১ হাজার ২৮০ ডলার। তবে এটি এখনো কার্যকর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) ২৩ জুন প্রস্তাবটি প্রকাশ করেছে। আগামী ২৪ আগস্ট পর্যন্ত এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কাগজে Form N-400 জমা দেওয়ার ফি ৭৬০ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার হলে আবেদনকারীর খরচ বাড়বে ৫৭০ ডলার বা প্রায় ৭৫ শতাংশ। অনলাইনে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ৭১০ থেকে ১ হাজার ২৮০ ডলারে বেড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এখানে বিষয়টি পাসপোর্টের আবেদন ফি নিয়ে নয়। Form N-400 হলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদনপত্র। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর একজন ব্যক্তি মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে পারেন। ফলে নতুন প্রস্তাবটি সরাসরি পাসপোর্টের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নয়। শুধু মূল নাগরিকত্বের আবেদন নয়, আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর শুনানির অনুরোধ করার Form N-336-এর ফিও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কাগজে এই ফি ৮৩০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৭৫ ডলার এবং অনলাইনে ৭৮০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪২৫ ডলার হতে পারে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে কম আয়ের আবেদনকারীদের ওপর। বর্তমানে নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা যোগ্য আবেদনকারীরা ৩৮০ ডলারের কম ফিতে Form N-400 জমা দিতে পারেন। নতুন প্রস্তাবে এই কম ফি ব্যবস্থাটি বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে N-400 ও N-336-এর জন্য বর্তমানে থাকা ফি মওকুফের ব্যবস্থাও তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে সামরিক বাহিনীর নির্দিষ্ট বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব আবেদনের ফি থেকে অব্যাহতি বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের যুক্তি, নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়ার প্রকৃত ব্যয় মেটানোর জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকেই পুরো খরচ নেওয়া হলে ইউএসসিআইএসের আর্থিক কাঠামো আরও টেকসই হবে। সংস্থাটি ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ওপর নির্ভর করেই মূলত তার কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের কাছ থেকে প্রক্রিয়াকরণের প্রকৃত ব্যয়ের কাছাকাছি অর্থ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। সরকারের নথিতে আরও বলা হয়েছে, কম ফি ও ফি মওকুফের আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করতে ইউএসসিআইএসের অতিরিক্ত প্রশাসনিক সময় ও সম্পদ ব্যয় হয়। এসব ব্যবস্থা বাদ দিলে আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ সহজ হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী ও নাগরিকত্ব নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো প্রস্তাবটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, কয়েকশ ডলার অতিরিক্ত খরচ এবং কম আয়ের মানুষের জন্য ছাড়ের সুযোগ কমে গেলে অনেক যোগ্য গ্রিন কার্ডধারীর জন্য নাগরিকত্বের আবেদন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ভার্জিনিয়ায় নাগরিকত্বের আবেদন প্রস্তুতিতে সহায়তা করা রেবেকা থমাস স্থানীয় এনবিসি অ্যাফিলিয়েট WVIR-কে বলেন, তার শিক্ষার্থীদের অনেকের পক্ষেই প্রস্তাবিত বাড়তি ফি বহন করা সম্ভব নাও হতে পারে। বর্তমানে Form N-400-এর সাধারণ ফি কাগজে ৭৬০ ডলার এবং অনলাইনে ৭১০ ডলার। কম আয়ের যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য ৩৮০ ডলারের বিকল্প এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ফি মওকুফের ব্যবস্থাও রয়েছে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে নাগরিকত্বের আবেদন করতে যাওয়া অনেক অভিবাসীর জন্য আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য আবেদন করার সময় ও সম্ভাব্য খরচ নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হতে পারে। তবে এখনই বাড়তি টাকা দেওয়ার নিয়ম চালু হচ্ছে না। প্রস্তাবটি বর্তমানে জনমত পর্যায়ে রয়েছে এবং ২৪ আগস্টের পর সরকার প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের দেশটিতে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলে আবারও মন্তব্য করেছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কঠোর অভিবাসন প্রয়োগের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার বক্তব্য, যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, তাদের দেশটিতে থাকার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। অভিবাসন বিষয়ে ফাইনের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর। তার সরকারি কংগ্রেসনাল ওয়েবসাইটে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, ব্যাপক বহিষ্কার এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের জন্য সরকারি সুবিধা বন্ধের পক্ষে তার অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। (Randy Fine) চলতি বছরের এপ্রিলেও ফাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামর্থ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আলোচনার সময় সব অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারের পক্ষে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, এতে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গাড়ির বীমাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ কমতে পারে। (Fox News) তবে এসব দাবির সবগুলো অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সর্বসম্মত নয়। চলতি মাসে ফ্লোরিডার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে কথা বলার সময় ফাইন অবৈধ অভিবাসনকে ব্যয়বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও, অন্যান্য বিশ্লেষণে আবাসনের ঘাটতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বীমা ব্যয়, মজুরি ও সুদের হারকেও ফ্লোরিডার ব্যয়সংকটের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। (WKMG) ফাইনের অবস্থান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ এবং ব্যাপক বহিষ্কারের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। (Randy Fine) বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসননীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বহিষ্কার এবং তাদের জন্য সরকারি সুবিধার প্রশ্ন। র্যান্ডি ফাইনের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্কে তার কঠোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেছে।
রেস্টুরেন্টে এলেই অভিযোগ, খাবার হতে হবে প্রচণ্ড গরম, কথায় কথায় রাগ আর কখনো কর্মীদের উদ্দেশে কটু কথা। এমন একজন ক্রেতাকে দেখলে অন্য কর্মীরা যখন এড়িয়ে চলতেন, তখনও হাসিমুখে তার টেবিলে খাবার পৌঁছে দিতেন মেলিনা সালাজার। টানা প্রায় সাত বছর একইভাবে সেবা দেওয়ার পর সেই বৃদ্ধের মৃত্যুর পর মেলিনার জন্য অপেক্ষা করছিল অবিশ্বাস্য এক চমক। উইলে তাকে ৫০ হাজার ডলার এবং নিজের ২০০০ মডেলের একটি বিউইক গাড়ি দিয়ে গিয়েছিলেন ওই বৃদ্ধ। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিলের লুবিস ক্যাফেটেরিয়ার। ২০০৭ সালে ঘটনাটি প্রথম আলোচনায় আসে। সে সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। মেলিনার সেই নিয়মিত ক্রেতার নাম ছিল ওয়াল্টার ‘বাক’ সোর্ডস। ৮৯ বছর বয়সী সোর্ডস ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একজন প্রবীণ সেনাসদস্য। রেস্টুরেন্টে নিয়মিত আসতেন তিনি। তবে কর্মীদের কাছে সহজ মানুষ হিসেবে তার পরিচিতি ছিল না। মেলিনা সে সময় জানিয়েছিলেন, সোর্ডস চাইতেন তার খাবার অত্যন্ত গরম অবস্থায় পরিবেশন করা হোক। খাবার এতটাই গরম হতে হতো যে তাতে তার মুখ পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তিনি পরোয়া করতেন না। নিজের পছন্দমতো কিছু না হলে রেগে যেতেন, অভিযোগ করতেন এবং কখনো কর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণও করতেন। এসব কারণে অন্য অনেক কর্মী তার টেবিলের দায়িত্ব নিতে চাইতেন না। কিন্তু মেলিনা তাকে এড়িয়ে যাননি। প্রায় সাত বছর ধরে সোর্ডস যখনই আসতেন, তিনি ধৈর্য ধরে তার পছন্দ অনুযায়ী খাবার পরিবেশনের চেষ্টা করতেন। বৃদ্ধের রাগ বা অভিযোগের জবাবেও নিজের আচরণ বদলাননি। এরপর ২০০৭ সালের গ্রীষ্মে হঠাৎ করেই রেস্টুরেন্টে আসা বন্ধ করে দেন সোর্ডস। পরে স্থানীয় পত্রিকার মৃত্যুসংবাদ থেকে মেলিনা জানতে পারেন, জুলাই মাসে মারা গেছেন তার দীর্ঘদিনের সেই নিয়মিত ক্রেতা। সেখানেই গল্পটি শেষ হতে পারত। কিন্তু বড় চমকটি আসে কয়েক মাস পর, বড়দিনের ঠিক আগে। মেলিনা জানতে পারেন, মৃত্যুর আগে তৈরি করা উইলে সোর্ডস তার জন্য ৫০ হাজার ডলার রেখে গেছেন। শুধু নগদ অর্থ নয়, নিজের ২০০০ মডেলের বিউইক গাড়িটিও মেলিনাকে দিয়ে যান তিনি। খবরটি পাওয়ার পর মেলিনা এতটাই বিস্মিত হয়েছিলেন যে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। সে সময় টেক্সাসের কেজিবিটি টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ঘটনাটি এখনও তার বিশ্বাস হচ্ছে না। সোর্ডসের স্বভাব নিয়েও রাখঢাক করেননি তিনি। তাকে কিছুটা রূঢ় প্রকৃতির মানুষ হিসেবেই বর্ণনা করেছিলেন। তবে সোর্ডস জীবিত অবস্থায় মেলিনাকে কখনো এত বড় পুরস্কার দেবেন, এমন কোনো ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে সেই সময়ের নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। একইভাবে সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তিনি মেলিনার জন্য একটি বিশেষ ধন্যবাদপত্র রেখে গিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে প্রকাশিত মূলধারার প্রতিবেদনগুলোতে এমন কোনো চিঠির তথ্য পাওয়া যায় না। নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া যায়, প্রায় সাত বছর ধরে মেলিনার ধৈর্য ও সেবা পাওয়া এই নিয়মিত ক্রেতা মৃত্যুর পর তার উইলে ৫০ হাজার ডলার এবং একটি গাড়ি মেলিনার নামে রেখে যান। ঘটনার পর অন্য রেস্টুরেন্ট কর্মীদের জন্য মেলিনার পরামর্শও ছিল খুব সাধারণ। মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে এবং ভালোভাবে আচরণ করতে বলেছিলেন তিনি। প্রায় দুই দশক আগের ঘটনাটি এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ শেষ পর্যন্ত ৫০ হাজার ডলার বা গাড়ির চেয়েও গল্পটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে আছে সেই সাত বছরের আচরণ। মেলিনা জানতেন না তার ধৈর্যের কোনো পুরস্কার আসবে। অন্যরা যে মানুষটিকে এড়িয়ে চলতেন, তাকেই তিনি প্রতিদিন অন্য ক্রেতাদের মতো সেবা দিয়ে গেছেন। আর জীবদ্দশায় মুখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করলেও মৃত্যুর পর নিজের উইলের মাধ্যমে সেই সেবার মূল্য দিয়ে গেছেন ওয়াল্টার ‘বাক’ সোর্ডস।
নিউইয়র্ক শহরে মূল আবাসস্থল নয়—এমন বিলাসবহুল বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়টি নিয়ে আজ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি করছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের দুটি কমিটি। মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট দুপুর ১টায় সিটি হলের কাউন্সিল চেম্বারে অর্থ কমিটি এবং সরকারি কার্যক্রম, রাজ্য ও ফেডারেল আইনবিষয়ক কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানির মূল বিষয় ‘পিড-আ-তের’ কর বাস্তবায়ন। ‘পিড-আ-তের’ বলতে সাধারণত এমন দ্বিতীয় আবাসিক বাড়িকে বোঝানো হয়, যা মালিকের প্রধান বাসস্থান নয় এবং অনেক সময় বছরে সীমিত সময় ব্যবহার করা হয়। নিউইয়র্কে আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়ার উচ্চমূল্যের মধ্যে এসব বাড়ির ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সিটি কাউন্সিলের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের আবাসন ও শূন্যতা জরিপ অনুযায়ী নিউইয়র্কে ৫৮ হাজার ৮১০টি আবাসিক ইউনিট ভাড়া বা বিক্রির জন্য পাওয়া যাচ্ছিল না, কারণ সেগুলো মৌসুমি, বিনোদনমূলক বা মাঝেমধ্যে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। এই সংখ্যা ভাড়া বা বিক্রির জন্য অনুপলব্ধ মোট ইউনিটের প্রায় ২৬ শতাংশ। এ ধরনের উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পক্ষে থাকা কাউন্সিল সদস্যদের যুক্তি হলো, এতে অব্যবহৃত বা কম ব্যবহৃত আবাসিক ইউনিটগুলো বাজারে আসতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত কর থেকে পাওয়া অর্থ সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচিতেও ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। সিটি কাউন্সিলের একটি প্রস্তাবে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভাকে নির্দিষ্ট উচ্চমূল্যের অপ্রধান আবাসনের ওপর অতিরিক্ত সম্পত্তি কর আরোপের অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটিতে ৫ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি গড় বাজারমূল্যের নির্দিষ্ট অপ্রধান আবাসনের কথা উল্লেখ রয়েছে। কাউন্সিলের নথি অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলারের ২০২৩ সালের হিসাবের ভিত্তিতে উচ্চমূল্যের অপ্রধান আবাসনের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হলে বছরে গড়ে প্রায় ২৫৮ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব পাওয়া যেতে পারে। আজকের শুনানিতে এই কর বাস্তবায়নের সম্ভাব্য প্রভাব, রাজস্ব আয় এবং আবাসন বাজারে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে করটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আইনগত বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে। নিউইয়র্কে আবাসন ব্যয় সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে থাকায় সিটি কাউন্সিলের এই উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দা, বাড়ির মালিক ও আবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চশিক্ষা সংস্কার উদ্যোগকে ঘিরে কানেকটিকাটের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন শিক্ষা সচিব লিন্ডা ম্যাকমাহন গত ৩ আগস্ট দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি একাধিক নীতিগত পরিবর্তনের আহ্বান জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাট এবং কানেকটিকাটের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। ফেডারেল সরকারের আহ্বানে মেধাভিত্তিক ভর্তি, মতাদর্শগত বৈচিত্র্য, শিক্ষার ব্যয় কমানো এবং ক্যাম্পাসে বাধাদানকারী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কানেকটিকাটের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে নিজেদের সম্প্রদায়ের সদস্যদের কাছ থেকে মতামত নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও ফেডারেল তদন্তের মুখোমুখি রয়েছে। ফলে নতুন ফেডারেল আহ্বানটি ইয়েলের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো নিয়ে কানেকটিকাটের কিছু আইনপ্রণেতা ও শিক্ষক সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে ফেডারেল অর্থায়নের সঙ্গে এসব নীতির বাস্তবায়নকে যুক্ত করা হতে পারে। যদিও ৩ আগস্টের চিঠিতে সরাসরি অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়নি। এর আগে ইয়েলের শিক্ষক সমাজের একটি জরিপেও ফেডারেল নীতির প্রভাবে একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত ওই জরিপে প্রায় ৬৮ শতাংশ ইয়েল শিক্ষক জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর তাদের একাডেমিক স্বাধীনতা কমেছে বলে তারা মনে করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উচ্চশিক্ষা নীতির আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি ব্যবস্থা, শিক্ষার ব্যয়, ক্যাম্পাসের মতপ্রকাশের পরিবেশ এবং একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কানেকটিকাটের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর হাম রোগের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২ হাজার ৫৬৬টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এ সংখ্যা গত বছরের পুরো সময়ের ২ হাজার ২৮৯টি নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৪৭টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চল থেকে ২ হাজার ৫৫০টি হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। আরও ১৬টি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সফররত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩৮টি হাম রোগের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ বছরের মোট আক্রান্তের ৯৪ শতাংশ অর্থাৎ ২ হাজার ৪০৭টি ঘটনা কোনো না কোনো প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে ২০২৬ সালে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাব থেকে ১ হাজার ৩২টি এবং ২০২৫ সালে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাব থেকে ১ হাজার ৩৭৫টি সংক্রমণ এসেছে। মাত্র কয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগকে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদানের হার কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় টিকা না নেওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ার কারণে সংক্রমণ আবারও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা নেওয়ার হার সামান্য কমে ৯২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে টিকা নেওয়া থেকে অব্যাহতির হার বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক মানুষ টিকা না নিলে একজন আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে দ্রুত অনেক মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের সংক্রমণের বড় অংশ স্থানীয়ভাবে ছড়িয়েছে। মাত্র ১৬টি ঘটনা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে শুধু বিদেশ থেকে আসা আক্রান্ত ব্যক্তিদের কারণে সংক্রমণ হচ্ছে—এমন ব্যাখ্যা দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে বোঝা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুল ও শিশুদের ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই টিকাদানের মাধ্যমে সুরক্ষা বাড়ানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের ২ হাজার ৫৬৬টি নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ২৮৯টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা এবং ৪৮টি প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গিয়েছিল। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো আক্রান্তদের শনাক্তকরণ, সংক্রমণের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে ২০২৬ সালের সংখ্যা এখনও চূড়ান্ত নয়; নতুন তথ্য যুক্ত হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
রাজনীতি
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল
খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন এনসিপি নেতা পাটওয়ারীসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিক
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার পর সংস্থাটির পাইলটদের নিয়ে শুরু হওয়া মাদক পরীক্ষায় আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই পাইলটের নমুনা এখন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়ার অর্থ চূড়ান্তভাবে মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হওয়া নয়। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এয়ার ইন্ডিয়া সম্প্রতি নিজেদের পাইলটদের জন্য এককালীন বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রায় পাঁচ হাজার পাইলটকে এই পরীক্ষার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কর্মসূচির অধীনে ইতোমধ্যে তিন শতাধিক পাইলটের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই ব্যাপক পরীক্ষার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই২৩৭৯-এর গুরুতর ঘটনা। এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে। ঘটনার পর ফ্লাইটটির পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক ফল আসার পর নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় তার শরীরে গাঁজার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে একাধিক ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত হওয়া এবং ফ্লাইট পরিচালনার সময় তিনি মাদকের প্রভাবে ছিলেন, এই দুটি বিষয় এক নয়। তদন্তকারীরা এখন মাদক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি পাইলটদের আচরণ, ফ্লাইট ডেটা, উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা এবং ঘটনার সময় ককপিটে কী ঘটেছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন। ঘটনাটিতে কারিগরি ত্রুটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে। এয়ারবাসের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির তিনটি স্বতন্ত্র হাইড্রোলিক ব্যবস্থাতেই সাময়িকভাবে চাপ কমে যায়। এর ফলে প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য এলিভেটর ও আইলারনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেয়নি। হাইড্রোলিক চাপ ফিরে আসার পর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আবার কার্যকর হয়। এই তথ্যের কারণে ঘটনাটিকে শুধু পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে না। উড়োজাহাজের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কেন একই সময়ে সমস্যায় পড়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে তদন্ত করছে। এয়ারবাস এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থার বিশেষজ্ঞরাও কারিগরি তদন্তে সহায়তা করছেন। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাইলটদের মাদক পরীক্ষা নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া ও বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধি অনুসরণ করে করা হচ্ছে। নতুন পরীক্ষায় যাদের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ আসছে, নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনার পর এখন তদন্তের দুটি দিক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে পাইলটের নিশ্চিত মাদক পরীক্ষার ফল ও ক্রুদের ফিটনেস, অন্যদিকে একই সময়ে উড়োজাহাজের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় দেখা দেওয়া বিরল কারিগরি ত্রুটি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলেই ৩০০ ফুট আকস্মিক পতনের পেছনে ঠিক কোন কোন কারণ ভূমিকা রেখেছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সন্তানের জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা, একের পর এক ব্যর্থ গর্ভধারণ এবং আইভিএফের পর মৃত যমজ সন্তান প্রসবের বেদনা। সবকিছুর পর যখন সারা কনেল ও তার স্বামী বিল কনেলের বাবা-মা হওয়ার স্বপ্ন প্রায় নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন এগিয়ে আসেন সারার মা ক্রিস্টিন কেসি। ৬১ বছর বয়সে নিজের মেয়ের সন্তানের সারোগেট হয়ে গর্ভে ধারণ করেন নাতিকে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় জন্ম দেন সুস্থ শিশু ফিনিয়ান লি কনেলকে। ঘটনাটি সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবিসি নিউজসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রিস্টিন তখন তিন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মা এবং প্রায় ১০ বছর আগেই তার মেনোপজ হয়ে গিয়েছিল। বয়স ও শারীরিক বাস্তবতার কারণে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু আধুনিক প্রজনন চিকিৎসার সহায়তায় শেষ পর্যন্ত মেয়ের সন্তানকে পৃথিবীতে আনার সুযোগ পান তিনি। সারা ও বিল দীর্ঘদিন ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ফার্টিলিটি চিকিৎসা ও একাধিক গর্ভধারণের পরও তাদের সন্তান বেঁচে থাকেনি। একপর্যায়ে আইভিএফের মাধ্যমে যমজ সন্তান গর্ভে এলেও তারা মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়। ধারাবাহিক এই অভিজ্ঞতার পর দম্পতির বাবা-মা হওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছিল। এই অবস্থায় মেয়ের জন্য সারোগেট হওয়ার প্রস্তাব দেন ক্রিস্টিন। তবে শুধু ইচ্ছা থাকলেই এত বেশি বয়সে গর্ভধারণ সম্ভব ছিল না। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার স্বাস্থ্যের বিস্তারিত পরীক্ষা করেন। বয়সের কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় মেডিকেল মূল্যায়নের পর তাকে গর্ভধারণের উপযোগী করতে হরমোন চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় ক্রিস্টিন শিশুটির জৈবিক মা ছিলেন না। সারা কনেলের ডিম্বাণু এবং তার স্বামী বিল কনেলের শুক্রাণু ব্যবহার করে আইভিএফের মাধ্যমে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। সেই ভ্রূণ ক্রিস্টিনের জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় সফলভাবে গর্ভধারণ করেন তিনি। প্রায় ৩৯ সপ্তাহ নাতিকে গর্ভে বহন করেন ক্রিস্টিন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন মেমোরিয়াল হাসপাতালের প্রেন্টিস উইমেন্স হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় ফিনিয়ান লি কনেল। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল প্রায় সাত পাউন্ড। চিকিৎসকেরা সে সময় জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচারটি জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ক্রিস্টিনের কিডনি-সংক্রান্ত সাময়িক একটি জটিলতা দেখা দেয়, যা দ্রুত চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্রিস্টিনের জন্য এটি ছিল প্রায় তিন দশক পর আবার সন্তান প্রসবের অভিজ্ঞতা। তবে এবার যে শিশুটিকে তিনি গর্ভে বহন করেছিলেন, সেই শিশুই ছিল তার নিজের প্রথম নাতি। ঘটনার পর ক্রিস্টিন জানিয়েছিলেন, নিজের তিন মেয়েকে জন্ম দেওয়ার দিনগুলো তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর মধ্যে ছিল। সেই মাতৃত্বের আনন্দ মেয়েকেও পাওয়ার সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সারা কনেল তাদের এই দীর্ঘ ও ব্যতিক্রমী যাত্রার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বইও লেখেন। সেখানে সন্তান হারানোর কষ্ট থেকে শুরু করে নিজের মায়ের সারোগেট হওয়ার সিদ্ধান্ত এবং শেষ পর্যন্ত ফিনিয়ানের জন্ম পর্যন্ত পুরো অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। ফিনিয়ানের জন্মের গল্পের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিকটি ছিল পারিবারিক সম্পর্কের এই সমীকরণ। জৈবিকভাবে সারা ও বিল তার বাবা-মা। কিন্তু যে নারী তাকে নয় মাস গর্ভে ধারণ করে পৃথিবীতে এনেছিলেন, তিনি একই সঙ্গে তার নানি ক্রিস্টিন কেসি। ৬১ বছর বয়সে নেওয়া ক্রিস্টিনের সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত এমন একটি পরিবারের বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল, যেখানে একজন মা নিজের মেয়েকে মাতৃত্বের সুযোগ করে দিতে নিজেই হয়ে উঠেছিলেন তার সন্তানের সারোগেট।
এক মাসের বেশি সময় আইসিই হেফাজতে থাকার পর ব্রাজিলে ডিপোর্টেশনের জন্য বিমানে তোলা হয়েছিল মার্কিন সেনার স্ত্রী মাইসা লোপেস এলিয়াসারকে। কিন্তু মাঝআকাশে একটি রহস্যময় ফোনকলের পর বদলে যায় পরিস্থিতি। আইসিই কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ব্রাজিলে যেতে চান নাকি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে চান। মাইসা যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাকে লুইজিয়ানায় ফিরিয়ে এনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী মাইসা ব্রাজিলের নাগরিক। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট অ্যালেক্সিস জারামিলোর স্ত্রী। ২০১৯ সালে ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন মাইসা এবং পরে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ডিপোর্টেশন আদেশ দেন। এরপর ৮ জুলাই একটি ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্টে গেলে তাকে আটক করা হয়। এক মাসের বেশি সময় তিনি ফেডারেল ইমিগ্রেশন হেফাজতে ছিলেন। গত বুধবার তাকে অন্য আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি ডিপোর্টেশন ফ্লাইটে ব্রাজিলের উদ্দেশে পাঠানো হয়। কিন্তু বিমান চলার সময়ই আইসিই কর্মকর্তাদের কাছে তাকে নিয়ে একটি ফোন আসে। মাইসার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর একজন আইসিই কর্মকর্তা তার কাছে এসে জানতে চান, তিনি ব্রাজিলের উদ্দেশে যাত্রা চালিয়ে যেতে চান নাকি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে চান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। বিমানটি ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর অন্য আটক ব্যক্তিদের নামিয়ে দেওয়া হলেও মাইসাকে বিমানে রাখা হয়। পরে একই বিমানে তাকে আবার লুইজিয়ানায় ফিরিয়ে আনা হয়। কে সেই ফোন করেছিলেন কিংবা কেন শেষ মুহূর্তে তার ডিপোর্টেশন থামানো হলো, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তার স্বামী অ্যালেক্সিস জারামিলো বলেন, কে ফোন করেছিলেন তারা জানেন না। তবে কেউ একজন ফোন করার পরই তার স্ত্রীকে ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাইসা জানিয়েছেন, বিমানে থাকা আইসিই কর্মকর্তারা তাকে বলেছিলেন, তিনি এখন ‘বিখ্যাত’, কারণ তার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অ্যালেক্সিস জারামিলো একজন মার্কিন নাগরিক এবং এক দশকের বেশি সময় ধরে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত। তিনি বর্তমানে লুইজিয়ানার ফোর্ট পোলকে সেনাদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন। স্ত্রী আটক হওয়ার পর মাইসার পাঁচ বছর বয়সী ছেলের দেখাশোনা করতে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে ছুটি নিতে হয়েছিল। মাইসার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের অভিবাসী স্ত্রী, স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের আটক এবং ডিপোর্টেশন নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এর আগে জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পরিবারের জন্য আগের কিছু সুরক্ষা প্রত্যাহার করার পর মার্কিন সেনাদের কয়েক ডজন স্বামী, স্ত্রী কিংবা বাবা-মা আইসিই হেফাজতের মুখোমুখি হয়েছেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর কংগ্রেসের একদল ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের ডিপোর্টেশন নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর এবং সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা মার্ক কেলিও মাইসার ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন। তার মুখপাত্র জানিয়েছেন, কেলি মাইসাকে আটক রাখা আইসিই ফিল্ড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কেলি সামরিক পরিবারের সদস্যদের আটক করার নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার বাস্তব সমাধান প্রয়োজন এবং সেনা পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা সেই সমস্যার সমাধান নয়। মাইসার পরিবারকে সহায়তা করেছে ‘রিপ্যাট্রিয়েট আওয়ার প্যাট্রিয়টস’ নামে একটি অলাভজনক সংগঠন। সংগঠনটির প্রধান ডানিটজা জেমস বলেছেন, রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে সামরিক পরিবারকে সহায়তা করলে কী সম্ভব, এই পরিবারের পুনর্মিলন তারই উদাহরণ। মাইসা ও অ্যালেক্সিস ২০২৪ সালে বিয়ে করেন। এখন মাইসা তার ইমিগ্রেশন মামলা পুনরায় খোলার চেষ্টা করছেন এবং গ্রিন কার্ডের আবেদন এগিয়ে নিতে চান। তার আরেকটি ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ১৭ আগস্ট নির্ধারিত রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের জানানো হয়েছে মামলাটি নিয়ে আর সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তারপরও আবার আটক হওয়ার আশঙ্কায় তারা উদ্বিগ্ন। এক মাসের বেশি সময় আটক থাকার অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন মাইসা। তিনি জানিয়েছেন, এখনো ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না এবং আবার ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হতে পারে, এমন ভয় কাজ করছে তার মধ্যে। মাইসার ডিপোর্টেশন শেষ মুহূর্তে থামানোর সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ব্রাজিলগামী বিমানের মাঝআকাশে আসা সেই ফোনকলটি কে করেছিলেন এবং কী কারণে সিদ্ধান্ত বদলে গেল, সেটিই এখন ঘটনাটির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।
ইতালির সিসিলি দ্বীপের মেসিনা শহরের একটি জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের খ্যাতিমান শিল্পী আন্তোনেলো দা মেসিনার চারটি অত্যন্ত মূল্যবান চিত্রকর্ম চুরি হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত প্রায় ১০টার দিকে মেসিনার আঞ্চলিক জাদুঘরে এ ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৪৭৩ সালের বিখ্যাত ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’-এর তিনটি প্যানেল এবং দুই পাশে আঁকা একটি ছোট প্যানেল। ইতালির সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আলেসান্দ্রো গিউলি ঘটনাটিকে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য গুরুতর ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। চোরেরা কীভাবে জাদুঘরের নিরাপত্তাব্যবস্থা পেরিয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম নিয়ে পালাতে সক্ষম হলো, সেটিও তদন্তের অন্যতম বিষয়। আন্তোনেলো দা মেসিনা পঞ্চদশ শতকের ইতালীয় রেনেসাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী। তার টিকে থাকা চিত্রকর্মের সংখ্যা খুবই সীমিত। এ কারণে তার প্রতিটি শিল্পকর্মের ঐতিহাসিক ও আর্থিক মূল্য অত্যন্ত বেশি। জাদুঘর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চোরেরা প্রথমে ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’-এর টিকে থাকা পাঁচটি প্যানেলই সরিয়ে নিয়েছিল। তবে পালানোর সময় দুটি প্যানেল ফেলে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত ওই শিল্পকর্মের তিনটি প্যানেল নিয়ে যেতে সক্ষম হয় তারা। এর পাশাপাশি চুরি হয়েছে ছোট একটি দুই-পিঠে আঁকা কাঠের প্যানেল। এর এক পাশে শিশু যিশুকে কোলে নিয়ে ভার্জিন মেরি ও একজন ফ্রান্সিসকান সন্ন্যাসীর চিত্র এবং অন্য পাশে ‘ক্রাইস্ট ইন পিয়েতা’ আঁকা রয়েছে। প্যানেলটি একটি সুরক্ষিত প্রদর্শনী বাক্সে রাখা ছিল। জাদুঘরের পরিচালক মারিসা মারকুরিও জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শনিবার রাত প্রায় ৯টা ৫০ মিনিটে চুরির ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় জাদুঘরে নিরাপত্তাকর্মী এবং সচল অ্যালার্ম ব্যবস্থা ছিল। তা সত্ত্বেও চোরেরা কীভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে ভেতরে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর মূল্য নিয়েও বিভিন্ন হিসাব সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের হিসাবে চারটি শিল্পকর্মের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। তবে এসব শিল্পকর্মের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে শুধু বাজারমূল্য দিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন। ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’ আন্তোনেলো দা মেসিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি। ১৪৭৩ সালে তৈরি এই শিল্পকর্মটি মেসিনার একটি মঠের জন্য নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯০৮ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ওই মঠ ধ্বংস হলেও শিল্পকর্মটি রক্ষা পায়। শত শত বছর ধরে এটি মেসিনাতেই সংরক্ষিত ছিল। চুরির পেছনে কোনো সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। শিল্পকর্মগুলো বিশ্বজুড়ে এত পরিচিত যে বৈধ আন্তর্জাতিক বাজারে সেগুলো বিক্রি করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে নির্দিষ্ট কোনো সংগ্রাহকের ফরমায়েশে চুরি হয়েছে কি না, এমন সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আন্তোনেলো দা মেসিনার আরেকটি বিরল চিত্রকর্ম ‘এক্সে হোমো’ প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারে কিনেছিল ইতালি সরকার। শিল্পীর কাজের প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে ব্যাপক আগ্রহ তৈরির মধ্যেই তার জন্মশহরের জাদুঘর থেকে এই চারটি শিল্পকর্ম চুরি হলো। মেসিনার মেয়র ফেদেরিকো বাসিলে এ ঘটনাকে শহরের জন্য গভীর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চুরির পর তদন্তের স্বার্থে জাদুঘর বন্ধ রাখা হয়। এখন ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে অমূল্য শিল্পকর্মগুলো দ্রুত উদ্ধার এবং চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগের সংক্রমণ বাড়ছে, চলতি বছর আক্রান্ত ২ হাজার ৫৬৬
তীব্র চুল পড়ার সমস্যায় নতুন আশার আলো, পরিচিত একটি ওষুধেই মিলছে চুল ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা
তুরস্কে ‘ডিসকাউন্টে’ বাট লিফট সার্জারি, অপারেশনের পরই ব্রিটিশ মায়ের মৃত্যু
বছরে মাত্র ৪ বার মাসিক! নারীর প্রজননক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে নতুন গবেষণা
দীর্ঘ আয়ু ও সুস্থ জীবন পেতে খাদ্যাভ্যাসে একটি পরিবর্তনই যথেষ্ট হতে পারে, বলছে গবেষণা
শিশুদের সামাজিকমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগে আদালতে মেটা
সম্পূর্ণ রিসার্চ নিজে লিখেও, নিখুঁত হওয়ায় এআই ব্যবহারের অভিযোগ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে
খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা
বাস্তবের ‘জুরাসিক পার্ক’ গড়তে চান ইলন মাস্ক, ফিরিয়ে আনতে চান ডাইনোসর!
এআই দিয়ে তৈরি করা হলো নতুন ভাইরাস, বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী সাফল্যের সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে বাড়ছে চাকরি ছাঁটাই
নিউইয়র্কের উৎপাদন খাতে বড় সুখবর, চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি
নিউইয়র্কে বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির কর নিয়ে আজ সিটি কাউন্সিলে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি
জীবন বাজি রেখে ১০ বছরের শিশুকে বাঁচাল ১৬ বছরের কিশোর, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রশংসা
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রিতে নির্মাতাদের ছাড়, ৩৫ শতাংশ কমিয়েছে দাম গড়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা
প্রথম রাতে সংঘবদ্ধ লুটের ঘটনায় পুলিশ ছবি প্রকাশ করতেই দ্বিতীয় রাতেও সংঘবদ্ধ লুটপাট
হামাসের সঙ্গে বৈঠকের পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে বসছেন ট্রাম্পের জামাতা, ফিলিস্তিনে শান্তি ফেরাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ
অ্যাপার্টমেন্ট নাকি হাউস রেন্ট? ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কোনটি বেশি লাভজনক
ট্রাম্পের অবৈধ শুল্কের ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেল অ্যামাজন, গ্রাহকদেরও ফেরত দেবে অর্থ
কসকোতে কেনাকাটা করেছেন? ১৪ মিলিয়ন ডলারের নিষ্পত্তি থেকে টাকা পেতে পারেন
ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক-গাড়িসহ ৫ খাতে দাম বাড়তে পারে রকেটের মতো
কেন্টাকির পার্কে গুলিতে কিশোর নিহত, আহত ৪; গ্রেপ্তার ১৮ বছরের তরুণ
গার্লফ্রেন্ডের ৩ বছরের কন্যাশিশুকে নির্যাতন হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন, সাজা শুরুর এক মাসেই কারাগারে মৃত্যু
ক্যান্সারের অভিযোগে ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণে রাজি জনসন অ্যান্ড জনসন
মেয়ের বিছানার নিচে লুকিয়ে থাকা যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা
গাজীপুরে র্যাবের অভিযানে পিকআপ ভর্তি বিদেশি মদ উদ্ধার: চালকসহ গ্রেফতার ২
মেয়েদের পড়াতে প্রতিদিন ১২ কিলোমিটার পথ, স্কুলের বাইরে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা আফগান বাবার
ছয়জনকে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচিয়ে শেষবার আর ফিরতে পারলেন না ১৮ বছরের জিয়াদ মোহাম্মদ
গাজার ভয়াবহতা ভুলতে না পেরে আত্মহ ত্যা করলেন ২৪ বছর বয়সী ইসরায়েলি সেনা
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে জোয়ারের কবলে পড়া ১৪০ অভিবাসীকে উদ্ধার করল ফ্রান্স