কাতারের দোহায় অবস্থিত একটি অব্যবহৃত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে (ক্যাম্প আস-সাইলিয়াহ) আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে ১৫ বছর বয়সী আফগান কিশোরী জাহরা মুহিব। চারদিকে ধূসর উঁচু দেয়ালে ঘেরা ছোট একটি রুমে একটি কার্পেট, রঙিন কমফোর্টার এবং কয়েকটি ছবি দিয়ে সে নিজের মতো করে একটি ঘর বানানোর চেষ্টা করেছে। এই বন্দিদশাতেই জীবনের দুটি জন্মদিন পার করেছে সে। যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে আরও প্রায় ১ হাজার ১০০ জন আফগান শরণার্থীর সাথে এই ঘাঁটিতে আশ্রয় পেয়েছিল জাহরা, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। তবে, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শরণার্থী পুনর্বাসন কার্যক্রম স্থগিত করে যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন, তার ফলেই মাঝপথে থমকে গেছে এই অসহায় মানুষদের ভবিষ্যৎ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাহরা জানায়, ট্রাম্পের ওই আদেশের পর থেকে তার ভবিষ্যতের সমস্ত স্বপ্ন আমূল বদলে গেছে এবং পুরো ক্যাম্প জুড়েই এর নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। এখানকার জীবনকে জেলের চেয়েও ভয়াবহ উল্লেখ করে সে আক্ষেপ নিয়ে বলে, "ক্যাম্পের বাইরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তারা আমাদের শরীরে জিপিএস ট্র্যাকার পরিয়ে দেয়, যাতে আমরা পালাতে না পারি। আমার মনে হয়, এখানকার চেয়ে হয়তো জেলখানাও অনেক ভালো।" এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে কবে মুক্তি মিলবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে জাহরা ও তার মতো আরও অসংখ্য শরণার্থী পরিবার। সংবাদমাধ্যমের কাছে ক্যাম্পের এই দুরবস্থা নিয়ে কথা বলার পর ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে এই কিশোরী। জাহরা জানায়, কর্মকর্তারা তাকে ও তার বাবা-মাকে শাসিয়ে বলেছে যে, সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলে তারা নিজেদের আবার আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও জাহরার এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, এই কথিত ঘটনার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই এবং বাসিন্দাদের সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে খতিয়ে দেখা হয়। তবে, যেকোনো সময় জোরপূর্বক আবারও তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর আতঙ্ক এই মার্কিন ঘাঁটিতে থাকা অসংখ্য আফগান শরণার্থীর মনে তীব্র রূপ ধারণ করেছে।
মেক্সিকান অপরাধী চক্র (কার্টেল)-এর অর্থদাতা এবং অবৈধ অভিবাসন কেন্দ্রিক আর্থিক জালিয়াতি চক্রকে চিহ্নিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ব্যাংকগুলোকে এক নজিরবিহীন ও ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের পক্ষ থেকে শুক্রবার (১২ জুন) জানানো হয়েছে, এখন থেকে ব্যাংকগুলো সন্দেহভাজন গ্রাহকদের সিসিটিভি ফুটেজ এবং আইপি অ্যাড্রেসের মতো স্পর্শকাতর সাইবার ডেটা নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করতে পারবে। হিউস্টনে ব্যাংকারদের এক সভায় মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, বিদায়ী বাইডেন প্রশাসনের সময় "অবারিত অবৈধ অভিবাসনের" সুযোগ নিয়ে অপরাধী চক্রগুলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় কালো টাকা পাচার করেছে। এর ফলে কেবল ২০২৫ সালেই বেতন কর ফাঁকির (পে-রোল ট্যাক্স ফ্রড) মাধ্যমে ব্যাংকগুলোতে আড়াই বিলিয়ন (২৫০ কোটি) ডলারের সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এই বিশাল জালিয়াতি সরাসরি সীমান্ত সংকটের সাথে জড়িত বলে তিনি উল্লেখ করেন। মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপটি মূলত দেশটির বিতর্কিত 'প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট'-এর ধারা ৩১৪(বি)-এর ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (ফিনসেন) জানিয়েছে, ব্যাংকগুলো যেন সন্দেহভাজন লেনদেনের ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে তথ্য শেয়ার করে দ্রুত কেন্দ্রীয় সংস্থাকে (এফবিআই বা ফেডারেল কর্তৃপক্ষ) অবহিত করতে পারে, সেজন্যই এই পদক্ষেপ। ট্রেজারি বিভাগ কিছু সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির লক্ষণ বা 'রেড ফ্ল্যাগ' চিহ্নিত করেছে; যেমন— কোনো অ্যাকাউন্টে হঠাৎ নতুন বেতনভোগী যুক্ত করে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা, ভৌগোলিকভাবে দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে অ্যাকাউন্ট লগ-ইন করা, কিংবা একাধিক অ্যাকাউন্টে একই পরিচয়পত্র ব্যবহার করা। এর আগে গ্রাহকদের নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার জন্য হোয়াইট হাউজ একটি নির্বাহী আদেশ জারির পরিকল্পনা করেছিল, তবে নথিপত্রের পাহাড় ও বিপুল খরচের যুক্তিতে ব্যাংকিং খাতের তীব্র লবিংয়ের মুখে তা থেকে পিছিয়ে এসে এই নতুন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট করে বলেছেন, এই নির্দেশনার অর্থ ব্যাংক কর্মকর্তাদের 'ইমিগ্রেশন অফিসার' বানিয়ে দেওয়া নয় কিংবা ঢালাওভাবে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করাও এর উদ্দেশ্য নয়। বরং ব্যাংকগুলো যেন তাদের গ্রাহকদের চিনে ঝুঁকি চিহ্নিত করতে পারে এবং সন্দেহজনক লেনদেন রোধ করতে পারে, সেই টুলস তাদের হাতে দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশিত এই ক্র্যাকডাউনটি মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন 'হোয়াইট হাউজ টাস্ক ফোর্স টু এলিমিনেট ফ্রড'-এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফিনসেনের এই নির্দেশনা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও, এটি অমান্য করলে ব্যাংকগুলোকে কঠোর আইনি তদন্ত ও জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে; যেমনটি গত মার্চ মাসে নিউ ইয়র্ক-ভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক ক্যানাকর্ড জেনুইটিকে সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণে ব্যর্থতার জন্য রেকর্ড ৮০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনই সীমান্তে জরুরি অবস্থা জারি এবং ওয়ার্ক পারমিট বন্ধের পর ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী অভিযানের এটিই সর্বশেষ বড় ধাক্কা।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়ে অনড় অবস্থান জানিয়েছে ইরান। মার্কিন মিত্র ইসরায়েল দাবি করেছে, ট্রাম্প তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে চুক্তির আওতায় ইরানের সমস্ত সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান জব্দ বা সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা 'ইরনা' (IRNA) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়টি তাদের আলোচনার টেবিলেই নেই। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা অবসানে গত এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে স্থায়ী সমঝোতার ক্ষেত্রে এই দুটি প্রধান শর্ত এখন বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম 'মেহর নিউজ'-এর মাধ্যমে ফাঁস হওয়া খসড়া চুক্তির তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধাবসান, ইরানের অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ খালাস, তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং ইরানি বন্দরের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান। তবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের অবরুদ্ধ তহবিলের অর্ধেক মুক্তি এবং তেল নিষেধাজ্ঞা স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে না। একই সাথে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখার বিষয়েও জোর দিয়েছে তেহরান, যার অধীনে আন্তর্জাতিক নৌযানগুলোকে এই পথ দিয়ে পারাপারের জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি নিতে হবে। ইরানের এই অনমনীয় মনোভাব সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী এবং তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইতিমধ্যেই এই খসড়া অনুমোদন করেছেন। খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার খবর আসার পর ট্রাম্প ইরানে পূর্বনির্ধারিত একটি বড় বিমান হামলা বাতিল করেন এবং শীঘ্রই চুক্তির সময় ও স্থান ঘোষণা করা হবে বলে জানান। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে ফোনালাপের পর পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, যেকোনো চুক্তিতে অবশ্যই তেহরানের পারমাণবিক উপাদান অপসারণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংসের কঠোর শর্ত থাকতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তার প্রধানমন্ত্রিত্ব থাকাকালীন ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁয় এক মর্মান্তিক ও অমানবিক হামলার শিকার হয়েছেন ২০ বছর বয়সী ম্যানেজার জ্যাকব স্মিথ। গত ৩০ মে ডিউটি শেষ হওয়ার পর জলানি ব্লুয়েট নামের ২৩ বছর বয়সী তারই এক সহকর্মী আকস্মিকভাবে তার গায়ে ফুটন্ত গরম তেল ছুঁড়ে মারে। এই ভয়াবহ হামলায় জ্যাকবের মুখমণ্ডল, ঘাড়, হাত এবং কাঁধসহ শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে এবং তিনি থার্ড-ডিগ্রি বার্নে ভুগছেন। বর্তমানে তাকে ইউসি ডেভিস মেডিকেল সেন্টারে রেখে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই তরুণ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নিজের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে গলা ও হাতে ব্যান্ডেজ মোড়ানো অবস্থায় জ্যাকব জানান, এটি তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক একটি অধ্যায়। তবে এই দুঃসময়ে যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আর্থিকভাবে সাহায্য করেছেন, তাদের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় জ্যাকব নিজেকে পৃথিবীর অন্যতম ভাগ্যবান ব্যক্তি বলে মনে করেন, কারণ এত বড় দুর্ঘটনার পরও মানুষের ভালোবাসায় তিনি বেঁচে আছেন। এদিকে তার মা অ্যাম্বার স্মিথ ছেলের চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে 'গোফান্ডমি' (GoFundMe)-তে একটি তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছেন, যা ইতোমধ্যে প্রায় ২ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছেছে। অ্যাম্বার জানান, জ্যাকব অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল একজন তরুণ এবং সম্প্রতি তার বিয়ের কথাবার্তাও চূড়ান্ত হয়েছিল। নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এই আকস্মিক ট্র্যাজেডি তার জীবনকে থমকে দিয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পরপরই অভিযুক্ত জলানি ব্লুয়েট ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং কিছুদিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। বর্তমানে তাকে সাটার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মারাত্মক শারীরিক আঘাত ও প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে হামলার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। জ্যাকবের মা আক্ষেপ করে বলেন, এত কষ্টের মাঝেও তার ছেলের একটিই প্রশ্ন—কেন তার সাথে এমনটা করা হলো? জ্যাকবকে ইতোমধ্যে স্কিন গ্রাফটিং বা ত্বক প্রতিস্থাপনসহ একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে তাকে এখনো দীর্ঘ ও কষ্টকর এক পথ পাড়ি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
কাতারের দোহায় অবস্থিত একটি অব্যবহৃত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে (ক্যাম্প আস-সাইলিয়াহ) আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে ১৫ বছর বয়সী আফগান কিশোরী জাহরা মুহিব। চারদিকে ধূসর উঁচু দেয়ালে ঘেরা ছোট একটি রুমে একটি কার্পেট, রঙিন কমফোর্টার এবং কয়েকটি ছবি দিয়ে সে নিজের মতো করে একটি ঘর বানানোর চেষ্টা করেছে। এই বন্দিদশাতেই জীবনের দুটি জন্মদিন পার করেছে সে। যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে আরও প্রায় ১ হাজার ১০০ জন আফগান শরণার্থীর সাথে এই ঘাঁটিতে আশ্রয় পেয়েছিল জাহরা, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। তবে, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শরণার্থী পুনর্বাসন কার্যক্রম স্থগিত করে যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন, তার ফলেই মাঝপথে থমকে গেছে এই অসহায় মানুষদের ভবিষ্যৎ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাহরা জানায়, ট্রাম্পের ওই আদেশের পর থেকে তার ভবিষ্যতের সমস্ত স্বপ্ন আমূল বদলে গেছে এবং পুরো ক্যাম্প জুড়েই এর নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। এখানকার জীবনকে জেলের চেয়েও ভয়াবহ উল্লেখ করে সে আক্ষেপ নিয়ে বলে, "ক্যাম্পের বাইরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তারা আমাদের শরীরে জিপিএস ট্র্যাকার পরিয়ে দেয়, যাতে আমরা পালাতে না পারি। আমার মনে হয়, এখানকার চেয়ে হয়তো জেলখানাও অনেক ভালো।" এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে কবে মুক্তি মিলবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে জাহরা ও তার মতো আরও অসংখ্য শরণার্থী পরিবার। সংবাদমাধ্যমের কাছে ক্যাম্পের এই দুরবস্থা নিয়ে কথা বলার পর ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে এই কিশোরী। জাহরা জানায়, কর্মকর্তারা তাকে ও তার বাবা-মাকে শাসিয়ে বলেছে যে, সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলে তারা নিজেদের আবার আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও জাহরার এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, এই কথিত ঘটনার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই এবং বাসিন্দাদের সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে খতিয়ে দেখা হয়। তবে, যেকোনো সময় জোরপূর্বক আবারও তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর আতঙ্ক এই মার্কিন ঘাঁটিতে থাকা অসংখ্য আফগান শরণার্থীর মনে তীব্র রূপ ধারণ করেছে।
মেক্সিকান অপরাধী চক্র (কার্টেল)-এর অর্থদাতা এবং অবৈধ অভিবাসন কেন্দ্রিক আর্থিক জালিয়াতি চক্রকে চিহ্নিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ব্যাংকগুলোকে এক নজিরবিহীন ও ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের পক্ষ থেকে শুক্রবার (১২ জুন) জানানো হয়েছে, এখন থেকে ব্যাংকগুলো সন্দেহভাজন গ্রাহকদের সিসিটিভি ফুটেজ এবং আইপি অ্যাড্রেসের মতো স্পর্শকাতর সাইবার ডেটা নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করতে পারবে। হিউস্টনে ব্যাংকারদের এক সভায় মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, বিদায়ী বাইডেন প্রশাসনের সময় "অবারিত অবৈধ অভিবাসনের" সুযোগ নিয়ে অপরাধী চক্রগুলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় কালো টাকা পাচার করেছে। এর ফলে কেবল ২০২৫ সালেই বেতন কর ফাঁকির (পে-রোল ট্যাক্স ফ্রড) মাধ্যমে ব্যাংকগুলোতে আড়াই বিলিয়ন (২৫০ কোটি) ডলারের সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এই বিশাল জালিয়াতি সরাসরি সীমান্ত সংকটের সাথে জড়িত বলে তিনি উল্লেখ করেন। মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপটি মূলত দেশটির বিতর্কিত 'প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট'-এর ধারা ৩১৪(বি)-এর ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (ফিনসেন) জানিয়েছে, ব্যাংকগুলো যেন সন্দেহভাজন লেনদেনের ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে তথ্য শেয়ার করে দ্রুত কেন্দ্রীয় সংস্থাকে (এফবিআই বা ফেডারেল কর্তৃপক্ষ) অবহিত করতে পারে, সেজন্যই এই পদক্ষেপ। ট্রেজারি বিভাগ কিছু সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির লক্ষণ বা 'রেড ফ্ল্যাগ' চিহ্নিত করেছে; যেমন— কোনো অ্যাকাউন্টে হঠাৎ নতুন বেতনভোগী যুক্ত করে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা, ভৌগোলিকভাবে দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে অ্যাকাউন্ট লগ-ইন করা, কিংবা একাধিক অ্যাকাউন্টে একই পরিচয়পত্র ব্যবহার করা। এর আগে গ্রাহকদের নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার জন্য হোয়াইট হাউজ একটি নির্বাহী আদেশ জারির পরিকল্পনা করেছিল, তবে নথিপত্রের পাহাড় ও বিপুল খরচের যুক্তিতে ব্যাংকিং খাতের তীব্র লবিংয়ের মুখে তা থেকে পিছিয়ে এসে এই নতুন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট করে বলেছেন, এই নির্দেশনার অর্থ ব্যাংক কর্মকর্তাদের 'ইমিগ্রেশন অফিসার' বানিয়ে দেওয়া নয় কিংবা ঢালাওভাবে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করাও এর উদ্দেশ্য নয়। বরং ব্যাংকগুলো যেন তাদের গ্রাহকদের চিনে ঝুঁকি চিহ্নিত করতে পারে এবং সন্দেহজনক লেনদেন রোধ করতে পারে, সেই টুলস তাদের হাতে দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশিত এই ক্র্যাকডাউনটি মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন 'হোয়াইট হাউজ টাস্ক ফোর্স টু এলিমিনেট ফ্রড'-এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফিনসেনের এই নির্দেশনা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও, এটি অমান্য করলে ব্যাংকগুলোকে কঠোর আইনি তদন্ত ও জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে; যেমনটি গত মার্চ মাসে নিউ ইয়র্ক-ভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক ক্যানাকর্ড জেনুইটিকে সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণে ব্যর্থতার জন্য রেকর্ড ৮০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনই সীমান্তে জরুরি অবস্থা জারি এবং ওয়ার্ক পারমিট বন্ধের পর ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী অভিযানের এটিই সর্বশেষ বড় ধাক্কা।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়ে অনড় অবস্থান জানিয়েছে ইরান। মার্কিন মিত্র ইসরায়েল দাবি করেছে, ট্রাম্প তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে চুক্তির আওতায় ইরানের সমস্ত সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান জব্দ বা সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা 'ইরনা' (IRNA) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়টি তাদের আলোচনার টেবিলেই নেই। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা অবসানে গত এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে স্থায়ী সমঝোতার ক্ষেত্রে এই দুটি প্রধান শর্ত এখন বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম 'মেহর নিউজ'-এর মাধ্যমে ফাঁস হওয়া খসড়া চুক্তির তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধাবসান, ইরানের অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ খালাস, তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং ইরানি বন্দরের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান। তবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের অবরুদ্ধ তহবিলের অর্ধেক মুক্তি এবং তেল নিষেধাজ্ঞা স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে না। একই সাথে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখার বিষয়েও জোর দিয়েছে তেহরান, যার অধীনে আন্তর্জাতিক নৌযানগুলোকে এই পথ দিয়ে পারাপারের জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি নিতে হবে। ইরানের এই অনমনীয় মনোভাব সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী এবং তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইতিমধ্যেই এই খসড়া অনুমোদন করেছেন। খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার খবর আসার পর ট্রাম্প ইরানে পূর্বনির্ধারিত একটি বড় বিমান হামলা বাতিল করেন এবং শীঘ্রই চুক্তির সময় ও স্থান ঘোষণা করা হবে বলে জানান। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে ফোনালাপের পর পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, যেকোনো চুক্তিতে অবশ্যই তেহরানের পারমাণবিক উপাদান অপসারণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংসের কঠোর শর্ত থাকতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তার প্রধানমন্ত্রিত্ব থাকাকালীন ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁয় এক মর্মান্তিক ও অমানবিক হামলার শিকার হয়েছেন ২০ বছর বয়সী ম্যানেজার জ্যাকব স্মিথ। গত ৩০ মে ডিউটি শেষ হওয়ার পর জলানি ব্লুয়েট নামের ২৩ বছর বয়সী তারই এক সহকর্মী আকস্মিকভাবে তার গায়ে ফুটন্ত গরম তেল ছুঁড়ে মারে। এই ভয়াবহ হামলায় জ্যাকবের মুখমণ্ডল, ঘাড়, হাত এবং কাঁধসহ শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে এবং তিনি থার্ড-ডিগ্রি বার্নে ভুগছেন। বর্তমানে তাকে ইউসি ডেভিস মেডিকেল সেন্টারে রেখে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই তরুণ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নিজের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে গলা ও হাতে ব্যান্ডেজ মোড়ানো অবস্থায় জ্যাকব জানান, এটি তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক একটি অধ্যায়। তবে এই দুঃসময়ে যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আর্থিকভাবে সাহায্য করেছেন, তাদের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় জ্যাকব নিজেকে পৃথিবীর অন্যতম ভাগ্যবান ব্যক্তি বলে মনে করেন, কারণ এত বড় দুর্ঘটনার পরও মানুষের ভালোবাসায় তিনি বেঁচে আছেন। এদিকে তার মা অ্যাম্বার স্মিথ ছেলের চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে 'গোফান্ডমি' (GoFundMe)-তে একটি তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছেন, যা ইতোমধ্যে প্রায় ২ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছেছে। অ্যাম্বার জানান, জ্যাকব অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল একজন তরুণ এবং সম্প্রতি তার বিয়ের কথাবার্তাও চূড়ান্ত হয়েছিল। নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এই আকস্মিক ট্র্যাজেডি তার জীবনকে থমকে দিয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পরপরই অভিযুক্ত জলানি ব্লুয়েট ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং কিছুদিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। বর্তমানে তাকে সাটার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মারাত্মক শারীরিক আঘাত ও প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে হামলার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। জ্যাকবের মা আক্ষেপ করে বলেন, এত কষ্টের মাঝেও তার ছেলের একটিই প্রশ্ন—কেন তার সাথে এমনটা করা হলো? জ্যাকবকে ইতোমধ্যে স্কিন গ্রাফটিং বা ত্বক প্রতিস্থাপনসহ একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে তাকে এখনো দীর্ঘ ও কষ্টকর এক পথ পাড়ি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি। তবে একই সাথে তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট 'হরমুজ প্রণালি'র ওপর ইরানি সামরিক বাহিনীর পূর্ণ ও একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ‘ইরনা’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটন ও তার পশ্চিমা মিত্রদের আশ্বস্ত করে তিনি এই বার্তা দেন। অ্যাডমিরাল সাইয়ারি স্পষ্ট করেন যে, সামরিক কৌশলগত দিক থেকে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের পথ অনুসরণ করবে না। তবে আঞ্চলিক জলসীমায় নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে ইরানের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে আছে। এর স্পষ্ট অর্থ হলো, তেহরানের সুনির্দিষ্ট অনুমতি বা ছাড়পত্র ছাড়া এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনো ধরনের বাণিজ্যিক নৌযান বা যুদ্ধজাহাজ প্রবেশ করতে পারবে না। যেকোনো ধরনের বহিরাগত পরিস্থিতি এবং শত্রুর যেকোনো উস্কানি বা আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক জবাব দিতে ইরানি সেনারা সদা প্রস্তুত উল্লেখ করে সাইয়ারি বলেন, "আমাদের হাত এখন বন্দুকের ট্রিগারে রয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা আমাদের জীবন উৎসর্গ করতে বিন্দুমাত্র ভয় পাই না।" বিশ্বের সিংহভাগ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হওয়া এই রুটে ইরানের এমন শক্ত অবস্থান এবং সর্বোচ্চ সতর্ক বার্তা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের অত্যাধুনিক ড্রোন হ্যাক করার চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে 'হান্দালা' নামের ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি হ্যাকার গ্রুপ। শুধু তাই নয়, আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলকে লক্ষ্য করে বড়সড় হামলারও সরাসরি হুমকি দিয়েছে তারা। শুক্রবার অনলাইন পর্যবেক্ষণ সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস এই তথ্য সামনে আনে। সাইট ইন্টেলিজেন্স প্রকাশিত হান্দালার এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সন্ত্রাসবাদ দমনে এফবিআইয়ের ব্যবহৃত ফার্স্ট-পার্সন ভিউ (এফপিভি) ড্রোনগুলোতে গত কয়েক মাস ধরেই তারা অবাধে অনুপ্রবেশ করে আসছে। ফেসিয়াল রিকগনিশন ও গাড়ির লাইসেন্স প্লেট শনাক্তকরণের মতো উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন এই ড্রোনগুলোর ধারণ করা প্রতিটি সংবেদনশীল ছবি ও সন্দেহভাজনদের গোপন তথ্য এখন হ্যাকারদের হাতে। বিশ্বকাপের নিরাপত্তায় চরম শঙ্কার কথা জানিয়ে বিবৃতিতে হ্যাকার গ্রুপটি আয়োজকদের সতর্ক করে বলেছে, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দলকে তারা মোটেও পছন্দ করে না। এফপিভি ড্রোন সর্বত্র বিরাজমান এবং যেকোনো সময় যেকোনো দলের বাসের ভেতরে এসব ড্রোন হামলা চালাতে পারে বলে তারা প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছে। সম্ভাব্য এই ঝুঁকি এড়াতে এবং অননুমোদিত আকাশযানের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোর চারপাশে নিজস্ব ড্রোন মোতায়েন করছে এফবিআই। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচ বা সংশ্লিষ্ট ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে, তার চারপাশে যেকোনো ধরনের ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে হান্দালার এই হ্যাকিংয়ের দাবির সত্যতা নিয়ে তীব্র সন্দেহ পোষণ করেছে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। হ্যাকাররা হ্যাক হওয়া ড্রোনের প্রমাণ হিসেবে যেসব ছবি ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে, তা মূলত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের একটি ভিডিও বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। মূলত মার্কিন পুলিশ বিভাগের টর্নেডোর ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার কাজে ব্যবহৃত একটি সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের প্রচারণার অংশ ছিল ওই ভিডিও ফুটেজ। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই মার্কিন বিচার বিভাগ এ ধরনের সাইবার হামলার ব্যাপারে সতর্ক করেছিল। গত মার্চে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তার ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য ফাঁসের দাবিও করেছিল এই হান্দালা গ্রুপ। দুর্ধর্ষ এই হ্যাকার গ্রুপের সদস্যদের শনাক্তে সহায়তাকারীর জন্য ইতিমধ্যেই ১ কোটি ডলার (১০ মিলিয়ন) পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
শাহারিয়া নয়ন
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
মৃদুল রহমান
স্পেন সফরের শেষ দিনে অভিবাসন ও শরণার্থী ইস্যুতে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন পোপ লিও। তিনি বলেছেন, “আমরা সবাই এক অর্থে অভিবাসী,” এবং মানব পরিবার হিসেবে শরণার্থীদের আরও মানবিকভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। শুক্রবার স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দ্বীপ টেনেরিফে পৌঁছে একটি সাবেক সামরিক ব্যারাকে স্থাপিত অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রে যান পোপ লিও। সেখানে তিনি শত শত অভিবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। পোপ বলেন, আজকের বিদেশি ব্যক্তি আগামী দিনে আমাদেরই প্রতিবেশী ও সহযাত্রী হতে পারেন। তাই অভিবাসীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি আরও মানবিক হওয়া জরুরি। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ ইউরোপে অভিবাসনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। আটলান্টিক রুট দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রতি বছর হাজারো মানুষ প্রাণ হারান। পোপ তার বক্তব্যে বলেন, অভিবাসীরা শুধু সীমান্ত পার হন না, বরং অনেক সময় নতুন দেশে এসে “নীরব বিপর্যয়ের” মুখে পড়েন। কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সামাজিক সহায়তা না পেয়ে তারা আবারও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যান। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতি নিয়েও পরোক্ষ সমালোচনা করেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে এই নীতিকে কঠোর ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধতামূলক বলে সমালোচনা করেছে। পোপ লিও বলেন, মানব বিবেক এবং খ্রিস্টীয় মূল্যবোধ কখনোই সমুদ্রে প্রাণহানির ঘটনায় নির্লিপ্ত থাকতে পারে না। তার মতে, প্রতিটি প্রাণহানি মানবতার ব্যর্থতা। এ সময় তিনি মানবপাচারকারী ও দালালদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, যারা মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নেয়, তাদের “ঈশ্বরের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।” অভিবাসীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন নাইজেরিয়ার বুসো দিয়ুফ। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার খোঁজে যাত্রা সহজ ছিল না এবং অনেকেই ভয়, ক্ষুধা ও মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি সমাজের কাছে ন্যূনতম সম্মান ও মানবিক আচরণের দাবি জানান, যাতে অভিবাসীদের শুধু সংখ্যা হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পোপ লিওর এই সফর ও বক্তব্য ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। একসময় যাকে তুলনামূলকভাবে সাময়িক বা অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সমঝোতার ফল হিসেবে দেখা হয়েছিল, তিনি এখন দেশটির একাধিক সংকটের মধ্যেও রাষ্ট্র পরিচালনায় টিকে আছেন। তবে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া তার জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। সম্প্রতি তেহরানে পানি সংকট ও জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান কর্মকর্তাদের এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার না করে কোট খুলে বসার আহ্বান জানান। একই বৈঠকে তিনি নিজে স্বল্পহাতা পোলো শার্ট পরে উপস্থিত ছিলেন। জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিষয়টি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার জন্ম দেয়। রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহল প্রেসিডেন্টের পোশাক ও আচরণ নিয়ে সমালোচনা করে। অন্যদিকে নাগরিক অধিকারকর্মীদের একাংশ দাবি করেন, সাধারণ জনগণের ওপর কঠোর পোশাকবিধি ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ থাকলেও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে বিদেশভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই দাবি অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন বলে জানায়। ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মধ্যপন্থী অবস্থান থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন পেজেশকিয়ান। সেই নির্বাচনে তিনি কট্টরপন্থী প্রার্থী সাঈদ জালিলির বিপক্ষে লড়াই করেন। ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রীয় ক্ষমতা সর্বোচ্চ নেতার হাতে থাকে। ফলে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা মূলত প্রশাসনিক ও নির্বাহী পর্যায়ের মধ্যে সীমিত। এই কাঠামোর মধ্যেই প্রেসিডেন্টকে অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক চাপ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সামরিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন। এতে প্রেসিডেন্টের নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্র আরও সীমিত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় পেজেশকিয়ান প্রশাসনিক সংস্কার, ইন্টারনেট বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করার ইঙ্গিত এবং নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। যুদ্ধকালীন ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাতজনিত পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন এবং অভ্যন্তরীণভাবে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। ইরানের সামনে আগামী দিনে অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, পানি সংকট, বায়ুদূষণ এবং প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বের কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের একটি অংশ তাকে তুলনামূলকভাবে বাস্তববাদী এবং মধ্যপন্থী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে অনেকের মতে, বর্তমান সংকট কেবল ব্যক্তিগত নেতৃত্বের বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জটিল বাস্তবতার প্রতিফলন।
মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হঠাৎ করে বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবহারকারীরা প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা ফেসবুকে লগ-ইন করতে পারছেন না। কেউ কেউ অ্যাপ ও ওয়েবসাইট লোড হতে বিলম্ব, নিউজফিড আপডেট না হওয়া এবং বিভিন্ন ফিচার স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে না পারার অভিযোগ করেছেন। অনলাইন সেবা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউন ডিটেক্টরসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও ফেসবুকের বিভ্রাট সংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে। ব্যবহারকারীদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমস্যাটি একাধিক অঞ্চলে একযোগে দেখা দিয়েছে। এদিকে, বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি মেটা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। প্রযুক্তিগত এই সমস্যার কারণে অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে যারা যোগাযোগ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল, তারা সাময়িক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। তবে ঠিক কী কারণে এই বিভ্রাট দেখা দিয়েছে এবং কখন নাগাদ সেবাটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের একজন ইলন মাস্ক নতুন এক ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হিসেবে তার নাম ইতিহাসে যুক্ত হতে পারে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (১২ জুন) ওয়াল স্ট্রিটে মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে অভিষেক ঘটলে এই রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, স্পেসএক্সের বহুল আলোচিত শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা আসার আগেই মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৯৬ বিলিয়ন ডলার। এ সম্পদ নিয়েই তিনি বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির অবস্থানে রয়েছেন। স্পেসএক্সে মাস্কের মালিকানা প্রায় ৪২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য নিয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। কোম্পানিটি প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার দরে প্রায় ৫৫৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ আইপিও সফল হলে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ দ্রুত ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে শুক্রবারের লেনদেন শেষ হওয়ার আগেই মাস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ পরিমাণ সম্পদ সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামের এক হিসাব অনুযায়ী, মাস্ক যদি প্রতিদিন ১০ লাখ ডলার করেও ব্যয় করেন, তবুও তার সম্পদ শেষ করতে প্রায় দুই হাজার ৭৪০ বছর সময় লাগবে। অন্য ধনকুবেরদের সঙ্গে তুলনায় এই ব্যবধান আরও স্পষ্ট। গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ বর্তমানে প্রায় ৩০৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি। সম্ভাব্য ট্রিলিয়নিয়ার হলে মাস্কের সম্পদ তার তুলনায় তিন গুণেরও বেশি হবে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোটিপতি জন জ্যাকব অ্যাস্টর ১৮৪৮ সালে মৃত্যুকালে প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক ছিলেন, যা সে সময়ের অর্থনীতিতে বিশাল অঙ্ক হিসেবে বিবেচিত হতো। তুলনায় বর্তমান সময়ে মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ শতাংশের সমান হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি, মহাকাশ খাত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের কারণে মাস্কের সম্পদের এই দ্রুত উত্থান ঘটেছে। স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে প্রবেশ সেই ধারা আরও জোরদার করতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।