কানাডা সীমান্তসংলগ্ন উত্তর মিনেসোটায় একাধিক দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শান্তিকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর টিম ওয়ালজ। আগুন নিয়ন্ত্রণ, মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় জরুরি কর্মীদের সহায়তার জন্য মিনেসোটা ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে দাবানলে ৮০০ একরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। আগুনগুলো এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে নতুন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। গভর্নর ওয়ালজ বলেন, উত্তর মিনেসোটার দাবানল মোকাবিলায় তিনি শান্তিকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং ন্যাশনাল গার্ডকে সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন। বাসিন্দা ও তাঁদের সম্পদ রক্ষায় দিনরাত কাজ করা দমকলকর্মী ও অন্যান্য জরুরি সেবাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল, সরঞ্জাম ও পরিবহন সুবিধা দিতে পারবেন। দুর্গম বনাঞ্চল থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া, জরুরি সরবরাহ পৌঁছানো এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করাও তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর মিনেসোটার সুপিরিয়র ন্যাশনাল ফরেস্টে অন্তত ১৬টি সক্রিয় দাবানল শনাক্ত হয়েছে। এই বনাঞ্চলের ভেতরে অবস্থিত জনপ্রিয় বাউন্ডারি ওয়াটার্স ক্যানো এরিয়া ওয়াইল্ডারনেসের কয়েকটি অংশে জনসাধারণের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বিয়ার ট্র্যাপ, থাম্ব ও উলফপ্যাক নামের অগ্নিকাণ্ডপ্রবণ এলাকাগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। এসব এলাকা সুপিরিয়র ন্যাশনাল ফরেস্টের লাক্রোয়া রেঞ্জার ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্ভুক্ত। আগুন সম্পূর্ণ নিভে না যাওয়া পর্যন্ত অথবা কর্তৃপক্ষ নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সপ্তাহান্তে বনরক্ষী ও উদ্ধারকর্মীরা বিভিন্ন পর্যটন এলাকা থেকে দর্শনার্থীদের বের করে আনেন। গ্রীষ্মকালে প্রায় দেড় লাখ মানুষ সুপিরিয়র ন্যাশনাল ফরেস্টে ঘুরতে যান। ফলে ব্যস্ত পর্যটন মৌসুমের মধ্যে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, জরুরি সেবাকর্মীদের কাজে বাধা সৃষ্টি না করা এবং অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম নিরাপদে পরিচালনার জন্য আক্রান্ত এলাকাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বন্ধ ঘোষণা করা বনপথ, ক্যাম্পিং এলাকা এবং জলপথে প্রবেশ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় পুরো সুপিরিয়র ন্যাশনাল ফরেস্টে ক্যাম্পফায়ারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কাঠ বা কয়লা ব্যবহার করে আগুন জ্বালানো, রান্না করা কিংবা গ্রিল চালানোর অনুমতি নেই। তবে নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত মেনে গ্যাস বা প্রোপেনচালিত চুলা ব্যবহার করা যাবে। মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস উত্তরাঞ্চলে চরম অগ্নিঝুঁকির কারণে ‘রেড ফ্ল্যাগ ওয়ার্নিং’ জারি করেছে। এ ধরনের সতর্কতার অর্থ হলো—তাপমাত্রা, বাতাস, কম আর্দ্রতা ও শুকনো গাছপালার কারণে ছোট একটি আগুনও দ্রুত বড় দাবানলে পরিণত হতে পারে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, সপ্তাহান্তের উচ্চ তাপমাত্রা আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। তীব্র গরমে মাটি, শুকনো ঘাস এবং গাছপালার আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। এর সঙ্গে বাতাস যুক্ত হলে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বাড়ির আশপাশ থেকে শুকনো পাতা, ডাল ও দাহ্য বস্তু সরিয়ে রাখতে বলেছে। গাড়ি শুকনো ঘাসের ওপর পার্ক না করা, সিগারেটের অবশিষ্টাংশ বাইরে না ফেলা এবং কোনো ধরনের খোলা আগুন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগুনের কাছাকাছি এলাকার মানুষকে জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এতে পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানি, খাবার, মোবাইল চার্জার, নগদ অর্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রাখার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রশাসন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলে দেরি না করে এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে। দাবানলের ধোঁয়া উত্তর মিনেসোটাসহ আশপাশের এলাকার বায়ুর মানেও প্রভাব ফেলতে পারে। শিশু, প্রবীণ, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং হাঁপানি, ফুসফুস বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশে বাইরে কম সময় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং সম্ভব হলে বায়ু পরিশোধক ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। মিনেসোটা ও আশপাশের অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় আবহাওয়া, বায়ুমানের সতর্কতা এবং সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ নিয়মিত অনুসরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বনাঞ্চল, লেক সুপিরিয়র ও বাউন্ডারি ওয়াটার্স এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে যাত্রার আগে বন বিভাগের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা যাচাই করতে বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। বাতাসের গতি বা দিক বদলালে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই বন্ধ এলাকা দেখতে যাওয়া, ছবি তুলতে অগ্নিকাণ্ডের কাছাকাছি যাওয়া অথবা ড্রোন ওড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ড্রোনের কারণে অগ্নিনির্বাপণ কাজে নিয়োজিত উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। গভর্নর ওয়ালজের জরুরি ঘোষণার ফলে রাজ্য সরকার অতিরিক্ত জনবল, যন্ত্রপাতি ও আর্থিক সহায়তা দ্রুত ব্যবহার করতে পারবে। আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনরুদ্ধার কার্যক্রমেও এই জরুরি ব্যবস্থা কাজে লাগানো হবে।
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে বর্ষা মৌসুম এলেই সমুদ্রের আরেকটি অদৃশ্য বিপদ সামনে আসে। স্থানীয়ভাবে 'গুপ্তখাল' নামে পরিচিত এই অংশগুলো আসলে সমুদ্রের শক্তিশালী রিপ কারেন্ট, যা মুহূর্তের মধ্যে তীরের কাছ থেকে মানুষকে গভীর পানির দিকে টেনে নিতে পারে। বাইরে থেকে পানি স্বাভাবিক মনে হলেও নিচের স্রোত অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় প্রতি বছর দুর্ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ে কলাতলী, সুগন্ধা, সি-গাল ও লাবণী পয়েন্ট মিলিয়ে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় অন্তত ১৭টি গুপ্তখাল শনাক্ত হয়েছে। সি-সেফ লাইফগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, এসব স্থানের গভীরতা কোথাও কোথাও ৬ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত এবং জোয়ার-ভাটার সঙ্গে এর অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে। এ কারণে একদিন নিরাপদ থাকা স্থান পরদিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিপজ্জনক এলাকাগুলোতে লাল পতাকা টানিয়ে সতর্ক করা হলেও অনেক পর্যটক সেই নির্দেশনা অনুসরণ না করে পানিতে নামছেন। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, অধিকাংশ দুর্ঘটনাই ঘটে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোসলে নামার কারণে। একই সঙ্গে পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে গেলে সীমিতসংখ্যক লাইফগার্ডের পক্ষে পুরো সৈকত কার্যকরভাবে নজরদারি করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্ধার-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এক হাজারের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, সময়মতো উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় বহু প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়েছে, তবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এখনও উল্লেখযোগ্য। কক্সবাজারে প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে লাখো পর্যটক ভ্রমণে আসেন। পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার নিয়মিত মানচিত্র হালনাগাদ, পর্যাপ্ত লাইফগার্ড নিয়োগ, উদ্ধার সরঞ্জামের আধুনিকায়ন, বহুভাষিক সতর্কবার্তা এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার আরও জোরদার করা প্রয়োজন। রিপ কারেন্ট বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রসৈকতেই একটি পরিচিত প্রাকৃতিক ঝুঁকি। তবে দ্রুত সতর্কতা, কার্যকর নজরদারি এবং পর্যটকদের সচেতনতার মাধ্যমে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। কক্সবাজারেও একই ধরনের সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা গেলে পর্যটকদের নিরাপত্তা বাড়বে এবং দেশের পর্যটন শিল্পের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও আরও সুদৃঢ় হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাগ্দত্তার মেয়ের প্রেমিকের সঙ্গে সংঘর্ষের একপর্যায়ে এক ব্যক্তি তাকে বুকে গুলি করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হিউস্টন পুলিশ জানায়, শনিবার রাত প্রায় ১১টা ১০ মিনিটে শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ওডিন কোর্ট এলাকার একটি বাসা থেকে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, দুই ব্যক্তির মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির সময় এক ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে অপরজনের বুকে গুলি করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে হিউস্টন ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা আহত ব্যক্তিকে সিপিআর দিয়ে হাসপাতালে পাঠান। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩০ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত বলে ধারণা করা আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করেছে। সন্দেহভাজন, যার বয়স ৫০-এর কোঠায়, তাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরে শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, আটক ব্যক্তি যে নারীর সঙ্গে বাগ্দান সম্পন্ন করেছেন, নিহত ব্যক্তি ছিলেন ওই নারীর মেয়ের প্রেমিক। ঘটনার সময় উপস্থিত এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন। বাসার ভেতরে থাকা আরেক নারী গুলির শব্দ শুনলেও ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেননি বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। কী কারণে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহত ও সন্দেহভাজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি এবং এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক অভিযোগও গঠন করা হয়নি। হিউস্টন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী ‘হিট ডোম’-এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। দেশটির মূল ভূখণ্ডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হতে পারে। বুধবার পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে ৯০টির বেশি স্থানীয় তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙা অথবা ছোঁয়ার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদেরা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তাপপ্রবাহের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক শুধু দিনের উচ্চ তাপমাত্রা নয়, বরং অস্বাভাবিক উষ্ণ রাত। সম্ভাব্য রেকর্ডগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড হতে পারে। রাতেও পর্যাপ্ত ঠান্ডা না হলে মানুষের শরীর দিনের তাপের ধকল কাটিয়ে উঠতে পারে না। এতে হিট এক্সহশন, হিট স্ট্রোক ও হৃদ্রোগজনিত জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। উচ্চচাপের একটি শক্তিশালী বলয় প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন প্লেইনস অঞ্চলের ওপর অবস্থান করছে। পরে এটি দিক পরিবর্তন করে আরও বড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, আগামী ১০ দিন বা তারও বেশি সময় ধরে এই ব্যবস্থার প্রভাব থাকতে পারে এবং কোনো কোনো এলাকায় মাসের শেষ পর্যন্ত অস্বাভাবিক গরম অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। হিট ডোম হলো বায়ুমণ্ডলের উচ্চচাপের এমন একটি ব্যবস্থা, যা ঢাকনার মতো গরম বাতাসকে একটি অঞ্চলের ওপর আটকে রাখে। এতে ঠান্ডা বাতাস, মেঘ ও বৃষ্টির প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হয়। একই বাতাস বারবার নিচের দিকে নেমে আরও উষ্ণ হতে থাকায় তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ে এবং কয়েক দিন বা সপ্তাহ ধরে একই ধরনের আবহাওয়া স্থায়ী হতে পারে। নেভাদা, ইউটাহ, কলোরাডো, ওয়াইয়োমিং, আইডাহো, মন্টানা, নর্থ ডাকোটা ও সাউথ ডাকোটার বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবার সতর্কতায় উত্তর-পূর্ব মন্টানার কোনো কোনো স্থানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত এবং উত্তর ইউটাহর কিছু উপত্যকায় ১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্যে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কম হলেও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। টেক্সাস ও ফ্লোরিডার কিছু এলাকায় রাতের তাপমাত্রা ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না-ও নামতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ সুবিধা নেই—এমন বাড়িতে বসবাসকারী প্রবীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। প্রবীণ, শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং গৃহহীন মানুষের পাশাপাশি বাইরে কাজ করা কর্মীরা এই তাপপ্রবাহে বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছেন। ডেলিভারি চালক, নির্মাণশ্রমিক, ল্যান্ডস্কেপিং কর্মী, স্ট্রিট ভেন্ডর, কৃষিশ্রমিক এবং গুদাম বা রান্নাঘরের মতো অতিরিক্ত গরম পরিবেশে কাজ করা ব্যক্তিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা জানিয়েছে, চরম তাপের সতর্কতা কার্যকর থাকা অবস্থায় দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরের কাজ ও ব্যায়াম এড়িয়ে চলা উচিত। বাইরে কাজ করতেই হলে নিয়মিত পানি পান, ছায়া বা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্থানে বিরতি এবং হালকা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অতিরিক্ত পরিশ্রম না করার নির্দেশনা রয়েছে। তাপজনিত অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা ও পেশিতে টান থাকতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে নিয়ে পানি দিতে হবে। তবে শরীর অত্যন্ত গরম হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হওয়া বা খিঁচুনি হিট স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এ অবস্থায় জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন। তীব্র গরমের পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলের শুষ্ক এলাকাগুলোতে দাবানলের ঝুঁকিও বাড়ছে। উচ্চ তাপমাত্রা মাটি ও গাছপালার আর্দ্রতা দ্রুত কমিয়ে দেয়। এর সঙ্গে বজ্রপাত ও শুষ্ক বাতাস যুক্ত হলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির একটি শুষ্ক মরু এলাকায় সম্প্রতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কারণে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি অধ্যুষিত নিউইয়র্কসহ পূর্ব উপকূলের কিছু এলাকা শুরুতে হিট ডোমের কেন্দ্রের বাইরে থাকলেও আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, উচ্চচাপের বলয়টি অবস্থান পরিবর্তন করলে এর প্রভাব উপকূল থেকে উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। ফলে স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও জরুরি সতর্কতা নিয়মিত অনুসরণ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো একা বসবাসকারী প্রবীণ স্বজন, অসুস্থ প্রতিবেশী এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ সুবিধা না থাকা ব্যক্তিদের খোঁজ নেওয়া। কোনো বাড়িতে পর্যাপ্ত ঠান্ডা পরিবেশ না থাকলে স্থানীয় লাইব্রেরি, কমিউনিটি সেন্টার বা নগর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত কুলিং সেন্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। বন্ধ গাড়ির ভেতরে শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি বা পোষা প্রাণীকে অল্প সময়ের জন্যও রেখে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাইরের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম মনে হলেও বন্ধ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, এই তাপপ্রবাহের আকার, তীব্রতা ও স্থায়িত্ব একে বিশেষভাবে বিপজ্জনক করে তুলেছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও স্বস্তি না মিললে শরীরের ওপর তাপের প্রভাব জমতে থাকে। তাই তাপমাত্রা কিছুটা কম মনে হলেও সরকারি সতর্কতা উপেক্ষা না করে পানি পান, বিশ্রাম এবং ঠান্ডা পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পরীক্ষায় নকলের সন্দেহে মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগভুক্ত ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কোর্সে গড় নম্বর ৯৬ শতাংশ থেকে নেমে ৪৮.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ১৮ জন শিক্ষার্থী কোর্স থেকে নাম প্রত্যাহার করেন এবং প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। ঘটনাটি উচ্চশিক্ষায় এআই ব্যবহারের নৈতিকতা এবং একাডেমিক সততা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনসাইড হায়ার এড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রবার্তো সেরানো চলতি বসন্ত সেমিস্টারে ‘ওয়েলফেয়ার ইকোনমিক্স অ্যান্ড সোশ্যাল চয়েস থিওরি’ কোর্সে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো টেক-হোম মিডটার্ম পরীক্ষা নেন। পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তিনি লক্ষ্য করেন, শিক্ষার্থীদের অনেক উত্তরপত্রে একই ধরনের ভাষা, গাণিতিক বিশ্লেষণ এবং প্রমাণ উপস্থাপনের ধরণ দেখা যাচ্ছে। তার সন্দেহ হয়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে উত্তর তৈরি করেছে। যদিও এ অভিযোগে কোনো শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী ঘোষণা করা হয়নি। এরপর অধ্যাপক সেরানো সিদ্ধান্ত নেন, চূড়ান্ত পরীক্ষা (ফাইনাল) হবে সম্পূর্ণ ইন-পার্সন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের জানান, মিডটার্ম ও ফাইনালের ফলাফলের মধ্যে বড় ধরনের অমিল দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। এই ঘোষণার পর ১৮ জন শিক্ষার্থী কোর্স থেকে নাম প্রত্যাহার করেন। যারা ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেন, তাদের গড় নম্বর নেমে আসে ৪৮.৬ শতাংশে, যা ওই কোর্সের ইতিহাসে সর্বনিম্ন বলে দাবি করেন অধ্যাপক সেরানো। একই সঙ্গে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করতে ব্যর্থ হন। ঘটনার পর অধ্যাপক সেরানো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, সম্ভাব্য প্রতিটি একাডেমিক অসদাচরণের অভিযোগ আলাদাভাবে জমা দিতে বলা হয়েছে, যা এত বড় সংখ্যক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের জন্য অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। অন্যদিকে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, একাডেমিক অসদাচরণের প্রতিটি অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী পৃথকভাবে তদন্ত করা হয় এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনারেটিভ এআই দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ইন-পার্সন পরীক্ষা, মৌখিক মূল্যায়ন, প্রকল্পভিত্তিক পরীক্ষা এবং এআই ব্যবহারের সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনাও দেখিয়ে দিয়েছে, এআই-নির্ভর যুগে একাডেমিক সততা রক্ষায় প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় ভার্জিনিয়ার এক যুবকের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় অভিযুক্তের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনসিদ্ধ সীমার তিন গুণেরও বেশি ছিল। মিশিগানের ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্ত চার্লস ডিন পেস (২৭) ভার্জিনিয়ার গ্লেন অ্যালেন এলাকার বাসিন্দা। গত ৩ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করে ওকল্যান্ড কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়। পরে ৭ জুলাই আদালতে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে চারটি দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটানোর চারটি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয়। আদালত তাকে জামিন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বর্তমানে কারাগারেই রয়েছেন। প্রসিকিউটর কারেন ম্যাকডোনাল্ড এক বিবৃতিতে বলেন, গত ১ জুলাই মিশিগানের স্প্রিংফিল্ড টাউনশিপে ইন্টারস্টেট-৭৫ মহাসড়কের ইস্ট হলি রোডের কাছে দক্ষিণমুখী লেনে একটি ফোর্ড এফ-২৫০ পিকআপ ট্রাক চালাচ্ছিলেন পেস। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও তদন্তে দেখা গেছে, তিনি ঘণ্টায় ৯০ মাইলেরও বেশি গতিতে এক লেন থেকে আরেক লেনে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। মিশিগান স্টেট পুলিশের তদন্তে আরও জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনি সীমার তিন গুণেরও বেশি ছিল। এ দুর্ঘটনায় নিহত হন একই পরিবারের চার সদস্য। তারা হলেন জাকেরিয়া শ্যারন ডডসন (২৩), টিরি পাওয়েল (২৪) এবং তাদের দুই শিশু সন্তান নালানি পাওয়েল (৩) ও কার্টার পাওয়েল (২)। প্রসিকিউটর ম্যাকডোনাল্ড বলেন, "জাকেরিয়া, টিরি, নালানি ও কার্টারের মৃত্যু কোনো সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা ছিল না। অভিযুক্তের অভিযোগ অনুযায়ী মদ্যপ অবস্থায় দ্রুত ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্তই তাদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।" ঘটনার পর নিহত পরিবারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যয় বহনে সহায়তার জন্য গোফান্ডমি প্ল্যাটফর্মে একটি তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের বিবরণে বলা হয়েছে, "আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। আমরা টিরি, জাকেরিয়া, নালানি এবং কার্টারের অকল্পনীয় মৃত্যুতে শোকাহত।" সেখানে টিরিকে একজন স্নেহশীল বাবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো। অন্যদিকে জাকেরিয়াকে একজন যত্নশীল ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ মা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি সন্তানদের ভালোবাসা ও মমতায় বড় করে তুলছিলেন। প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ওই তহবিলে প্রায় ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার সংগ্রহ হয়েছে। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ডলার। মিশিগানের আইন অনুযায়ী, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে কারও মৃত্যু ঘটালে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হতে পারে। সূত্র: পিপল ম্যাগাজিন, ফক্স ৫, ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মহার আবারও ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ২০২৫ সালের সর্বশেষ অস্থায়ী তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে প্রায় ৩৬ লাখ ৬ হাজার ৪০০টি শিশুর জন্ম হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১ শতাংশ কম। একই সঙ্গে ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী প্রতি এক হাজার নারীর বিপরীতে জন্মের হার নেমে এসেছে ৫৩ দশমিক ১-এ, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এই তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (CDC) ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিসটিকস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান নেওয়ার প্রবণতা কমছে এবং মানুষ আগের তুলনায় অনেক দেরিতে পরিবার গঠন করছেন। সর্বশেষ চূড়ান্ত হিসাবে দেশটির মোট প্রজনন হার (Total Fertility Rate) দাঁড়িয়েছে প্রতি নারীর জন্য প্রায় ১ দশমিক ৬ শিশু। অথচ দীর্ঘমেয়াদে অভিবাসন ছাড়া একটি দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে সাধারণভাবে প্রয়োজন প্রতি নারীর গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১টি সন্তান। ফলে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সেই ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’-এর অনেক নিচে অবস্থান করছে। সাম্প্রতিক আদমশুমারির তথ্যও দেখাচ্ছে, নারীরা আগের তুলনায় অনেক পরে মা হচ্ছেন। ২০২৪ সালে ৩০ থেকে ৩৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ৪০ শতাংশের কখনো সন্তান হয়নি, যেখানে ২০১৪ সালে এই হার ছিল প্রায় ২৯ শতাংশ। একই সময়ে ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে সন্তান না থাকার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে গবেষকদের মতে, এর অর্থ এই নয় যে এসব নারী কখনোই মা হবেন না। বরং অনেকেই ব্যক্তিগত ও আর্থিক কারণে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। ২০২৫ সালে ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে জন্মহার কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু কম বয়সী নারীদের জন্মহার দ্রুত কমে যাওয়ায় সামগ্রিক প্রবণতা বদলায়নি। জনসংখ্যাবিদদের মতে, অধিকাংশ আমেরিকান এখনো সন্তান চান। কিন্তু উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া, আর্থিক স্থিতিশীলতা, সাশ্রয়ী মূল্যের বাসস্থান, নির্ভরযোগ্য শিশু পরিচর্যা এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো অনেককে পরিবার গঠনের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে বাধ্য করছে। পাশাপাশি বিয়ের গড় বয়স বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে কম জন্মহার দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ ভবিষ্যতে কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে গেলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিশেষ করে সোশ্যাল সিকিউরিটির মতো ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে। কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা কমে গেলে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য অর্থায়নও আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তবে জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জন্মহার বাড়ানোই সমাধান নয়। বরং যারা সন্তান নিতে চান, তারা যেন নিরাপদ সম্পর্ক, আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক সহায়তা পান—এমন পরিবেশ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কানাডা সীমান্তসংলগ্ন উত্তর মিনেসোটায় একাধিক দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শান্তিকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর টিম ওয়ালজ। আগুন নিয়ন্ত্রণ, মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় জরুরি কর্মীদের সহায়তার জন্য মিনেসোটা ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে দাবানলে ৮০০ একরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। আগুনগুলো এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে নতুন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। গভর্নর ওয়ালজ বলেন, উত্তর মিনেসোটার দাবানল মোকাবিলায় তিনি শান্তিকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং ন্যাশনাল গার্ডকে সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন। বাসিন্দা ও তাঁদের সম্পদ রক্ষায় দিনরাত কাজ করা দমকলকর্মী ও অন্যান্য জরুরি সেবাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল, সরঞ্জাম ও পরিবহন সুবিধা দিতে পারবেন। দুর্গম বনাঞ্চল থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া, জরুরি সরবরাহ পৌঁছানো এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করাও তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর মিনেসোটার সুপিরিয়র ন্যাশনাল ফরেস্টে অন্তত ১৬টি সক্রিয় দাবানল শনাক্ত হয়েছে। এই বনাঞ্চলের ভেতরে অবস্থিত জনপ্রিয় বাউন্ডারি ওয়াটার্স ক্যানো এরিয়া ওয়াইল্ডারনেসের কয়েকটি অংশে জনসাধারণের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বিয়ার ট্র্যাপ, থাম্ব ও উলফপ্যাক নামের অগ্নিকাণ্ডপ্রবণ এলাকাগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। এসব এলাকা সুপিরিয়র ন্যাশনাল ফরেস্টের লাক্রোয়া রেঞ্জার ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্ভুক্ত। আগুন সম্পূর্ণ নিভে না যাওয়া পর্যন্ত অথবা কর্তৃপক্ষ নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সপ্তাহান্তে বনরক্ষী ও উদ্ধারকর্মীরা বিভিন্ন পর্যটন এলাকা থেকে দর্শনার্থীদের বের করে আনেন। গ্রীষ্মকালে প্রায় দেড় লাখ মানুষ সুপিরিয়র ন্যাশনাল ফরেস্টে ঘুরতে যান। ফলে ব্যস্ত পর্যটন মৌসুমের মধ্যে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, জরুরি সেবাকর্মীদের কাজে বাধা সৃষ্টি না করা এবং অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম নিরাপদে পরিচালনার জন্য আক্রান্ত এলাকাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বন্ধ ঘোষণা করা বনপথ, ক্যাম্পিং এলাকা এবং জলপথে প্রবেশ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় পুরো সুপিরিয়র ন্যাশনাল ফরেস্টে ক্যাম্পফায়ারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কাঠ বা কয়লা ব্যবহার করে আগুন জ্বালানো, রান্না করা কিংবা গ্রিল চালানোর অনুমতি নেই। তবে নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত মেনে গ্যাস বা প্রোপেনচালিত চুলা ব্যবহার করা যাবে। মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস উত্তরাঞ্চলে চরম অগ্নিঝুঁকির কারণে ‘রেড ফ্ল্যাগ ওয়ার্নিং’ জারি করেছে। এ ধরনের সতর্কতার অর্থ হলো—তাপমাত্রা, বাতাস, কম আর্দ্রতা ও শুকনো গাছপালার কারণে ছোট একটি আগুনও দ্রুত বড় দাবানলে পরিণত হতে পারে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, সপ্তাহান্তের উচ্চ তাপমাত্রা আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। তীব্র গরমে মাটি, শুকনো ঘাস এবং গাছপালার আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। এর সঙ্গে বাতাস যুক্ত হলে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বাড়ির আশপাশ থেকে শুকনো পাতা, ডাল ও দাহ্য বস্তু সরিয়ে রাখতে বলেছে। গাড়ি শুকনো ঘাসের ওপর পার্ক না করা, সিগারেটের অবশিষ্টাংশ বাইরে না ফেলা এবং কোনো ধরনের খোলা আগুন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগুনের কাছাকাছি এলাকার মানুষকে জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এতে পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানি, খাবার, মোবাইল চার্জার, নগদ অর্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রাখার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রশাসন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলে দেরি না করে এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে। দাবানলের ধোঁয়া উত্তর মিনেসোটাসহ আশপাশের এলাকার বায়ুর মানেও প্রভাব ফেলতে পারে। শিশু, প্রবীণ, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং হাঁপানি, ফুসফুস বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশে বাইরে কম সময় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং সম্ভব হলে বায়ু পরিশোধক ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। মিনেসোটা ও আশপাশের অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় আবহাওয়া, বায়ুমানের সতর্কতা এবং সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ নিয়মিত অনুসরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বনাঞ্চল, লেক সুপিরিয়র ও বাউন্ডারি ওয়াটার্স এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে যাত্রার আগে বন বিভাগের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা যাচাই করতে বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। বাতাসের গতি বা দিক বদলালে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই বন্ধ এলাকা দেখতে যাওয়া, ছবি তুলতে অগ্নিকাণ্ডের কাছাকাছি যাওয়া অথবা ড্রোন ওড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ড্রোনের কারণে অগ্নিনির্বাপণ কাজে নিয়োজিত উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। গভর্নর ওয়ালজের জরুরি ঘোষণার ফলে রাজ্য সরকার অতিরিক্ত জনবল, যন্ত্রপাতি ও আর্থিক সহায়তা দ্রুত ব্যবহার করতে পারবে। আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনরুদ্ধার কার্যক্রমেও এই জরুরি ব্যবস্থা কাজে লাগানো হবে।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি ধ্বংস, জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা এবং ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র জানায়, পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের পশ্চিমে অবস্থিত জুবুবা গ্রামে রোববারও ইসরায়েলি বুলডোজার কৃষিজমি সমতল করার কাজ চালিয়ে যায়। এ সময় আরও জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েক ডজন পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, চলতি মাসের শুরু থেকে জুবুবা গ্রামে ইতোমধ্যে ১,৫০০টিরও বেশি জলপাই গাছ ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে গ্রামটির ১২৮ দুনাম জমির জলপাই গাছ উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই দিনে পশ্চিম তীরের রামাল্লাহর পশ্চিমে দেইর কাদ্দিস ও খারবাথা বনি হারিস গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায়ও শত শত দুনাম কৃষিজমি বুলডোজার দিয়ে সমতল করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, জমিগুলোর বেশির ভাগই ছিল জলপাই বাগান। এলাকাটি ইসরায়েলি বসতি নিলি-র সঙ্গে সংযুক্ত করার কাজের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। এদিকে পশ্চিম তীরের তুবাসের পূর্বে তায়াসির গ্রামে নিজেদের জমিতে কাজ করার সময় ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীরা কৃষকদের মারধর করে এবং জমিতে কাজ করতে বাধা দেয়। স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, তায়াসির এলাকার উপকণ্ঠে দীর্ঘদিন ধরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, কৃষিজমি দখলের চেষ্টা এবং নতুন বসতি স্থাপনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
মাত্র ২৪ বছর বয়সে নিউ জার্সির বেলভিল টাউনশিপের মেয়র নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় এসেছেন ফ্র্যাঙ্ক ভেলেজ তৃতীয়। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিক এবং টানা আট বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা বর্তমান মেয়র মাইকেল মেলহ্যামকে পরাজিত করে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। গত ১ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ১২ মে অনুষ্ঠিত বেলভিলের অদলীয় (নন-পার্টিজান) মেয়র নির্বাচনে ভেলেজ প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। শুধু তাই নয়, টাউনশিপের ২৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতেই তিনি জয় পান, যা স্থানীয় নির্বাচনে বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফলকে বেলভিলের ভোটারদের পরিবর্তনের পক্ষে স্পষ্ট রায় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফ্র্যাঙ্ক ভেলেজের জনসেবার পথচলা শুরু হয় মাত্র ১৯ বছর বয়সে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তার বোনের অভিজ্ঞতা তাকে সমাজসেবামূলক কাজে অনুপ্রাণিত করে। এরপর তিনি বেলভিল বোর্ড অব এডুকেশনের সদস্য হিসেবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের পক্ষে কাজ করেন। পরে দ্বিতীয় ওয়ার্ডের কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হয়ে শিশু ও প্রবীণদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি সম্প্রসারণ, স্থানীয় ব্যবসার উন্নয়ন এবং কমিউনিটির অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করেন। তিনি প্রয়াত মার্কিন কংগ্রেসম্যান বিল পাসক্রেলের ফেডারেল স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারের নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত ইস্যু ছিল চলতি বছরের শুরুতে বেলভিলে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ ১৪-অ্যালার্ম গুদাম অগ্নিকাণ্ড। ওই ঘটনায় বহু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয় এবং স্থানীয় স্কুলগুলো এক সপ্তাহেরও বেশি সময় বন্ধ থাকে। সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের যোগাযোগ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক বাসিন্দা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই পরিস্থিতি নির্বাচনে পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে। নির্বাচনী প্রচারণায় ভেলেজ দায়িত্বশীল উন্নয়ন, জননিরাপত্তা জোরদার, স্থানীয় ব্যবসার প্রসার, পার্ক ও জনসেবার উন্নয়ন এবং কর্মজীবী পরিবারের দৈনন্দিন সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তার প্রচারণার মূল বার্তা ছিল—স্থানীয় সরকারের সিদ্ধান্তে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। ফোর্ডহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর নিজ শহরেই জনসেবায় যুক্ত হন ভেলেজ। নির্বাচনে জয়ের পর তিনি বলেন, বেলভিলবাসীর এই আস্থা তার জন্য বড় দায়িত্ব। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে কাজ করবেন। নিউ জার্সির এসেক্স কাউন্টিতে অবস্থিত বেলভিল টাউনশিপের আয়তন প্রায় ৩ বর্গমাইল এবং এটি নিউয়ার্ক শহরের পাশেই অবস্থিত। মাত্র ২৪ বছর বয়সে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে ফ্র্যাঙ্ক ভেলেজ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। অনেকের মতে, তার এই বিজয় প্রমাণ করে যে বয়স নয়, জনগণের আস্থা, ধারাবাহিক জনসেবা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতাই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শক্তি।
লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
শাহারিয়া নয়ন
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি ধ্বংস, জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা এবং ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র জানায়, পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের পশ্চিমে অবস্থিত জুবুবা গ্রামে রোববারও ইসরায়েলি বুলডোজার কৃষিজমি সমতল করার কাজ চালিয়ে যায়। এ সময় আরও জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েক ডজন পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, চলতি মাসের শুরু থেকে জুবুবা গ্রামে ইতোমধ্যে ১,৫০০টিরও বেশি জলপাই গাছ ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে গ্রামটির ১২৮ দুনাম জমির জলপাই গাছ উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই দিনে পশ্চিম তীরের রামাল্লাহর পশ্চিমে দেইর কাদ্দিস ও খারবাথা বনি হারিস গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায়ও শত শত দুনাম কৃষিজমি বুলডোজার দিয়ে সমতল করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, জমিগুলোর বেশির ভাগই ছিল জলপাই বাগান। এলাকাটি ইসরায়েলি বসতি নিলি-র সঙ্গে সংযুক্ত করার কাজের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। এদিকে পশ্চিম তীরের তুবাসের পূর্বে তায়াসির গ্রামে নিজেদের জমিতে কাজ করার সময় ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীরা কৃষকদের মারধর করে এবং জমিতে কাজ করতে বাধা দেয়। স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, তায়াসির এলাকার উপকণ্ঠে দীর্ঘদিন ধরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, কৃষিজমি দখলের চেষ্টা এবং নতুন বসতি স্থাপনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়া এবং ইরানের পক্ষ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের দাবি ঘিরে সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের চাপ দেখা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ ডলারে পৌঁছায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকেছেন। এর ফলে ডলারের মান শক্তিশালী হয়েছে এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলনও বেড়েছে। একই সময়ে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন দেখা যায়। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের ওপর চাপ বেশি ছিল। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ রুটে যেকোনো অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজার, পরিবহন ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপর দ্রুত প্রভাব ফেলে। ইরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে একই ধরনের দাবির বিরোধিতা করে বলেছিল, আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতেও উভয় পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে, ফলে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় আছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ার কেভিন ওয়ার্শ কংগ্রেসে প্রথমবারের মতো সাক্ষ্য দেওয়ার আগে বাজারে সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মূল্যস্ফীতির তথ্যও বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। জ্বালানির দাম আরও বাড়লে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার নিয়ে ফেডের অবস্থান কঠোর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয় বা হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন আরও ব্যাহত হয়, তাহলে শুধু জ্বালানির দামই নয়, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন খরচ এবং ভোক্তা মূল্যও নতুন করে চাপে পড়তে পারে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালিয়ে হিমার্স (HIMARS) ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে অভিযানে তিন মার্কিন কর্মকর্তা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই সম্ভব হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, রোববার (১২ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা একটি 'নির্ভুল ড্রোন অভিযান' চালিয়ে কুয়েতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র পড সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের দিকে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত ছিল। বাহিনীটি আরও জানায়, অভিযানে তিন মার্কিন কর্মকর্তা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে এই হতাহতের তথ্যের ভিত্তি হিসেবে তারা অনানুষ্ঠানিক সূত্রের কথা উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সংঘাত এবং ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হিমার্স ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ (পেন্টাগন), মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কিংবা কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিতকরণ বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে আইআরজিসির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এর আগে কুয়েত জানিয়েছিল, দেশটির উত্তরাঞ্চলের তিনটি স্থল সীমান্ত চৌকি এবং কুয়েত অয়েল কোম্পানি (কেওসি) পরিচালিত একটি অফশোর তেল প্ল্যাটফর্মে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অন্তত একজন কর্মী আহত হয়েছেন। তবে হামলার জন্য কোনো পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করেনি কুয়েত। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তবে সংঘাতের সময় উভয় পক্ষের বিভিন্ন দাবি ও পাল্টা দাবি প্রকাশিত হওয়ায় সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, ফার্স নিউজ এজেন্সি
ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপের ১৩ জন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার ছবি ও নামসংবলিত একটি ‘প্রতিশোধের লক্ষ্য’ (টার্গেট) তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকাটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এটি ইরানের সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদিত তালিকা কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, তেহরানের পৌর কর্তৃপক্ষ-ঘনিষ্ঠ হামশাহরি পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে শনিবার গভীর রাতে একটি ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করা হয়। সেখানে ১৩ জন বিদেশি নেতার ছবি যুক্ত করে প্রতিশোধের আহ্বানসংবলিত বার্তা তুলে ধরা হয়। তবে একই ইনফোগ্রাফিক পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তালিকা প্রকাশের আগে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার পিতা, নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি এক বার্তায় বলেন, প্রতিশোধ নেওয়া জাতির ইচ্ছা এবং তা বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্টজসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা। তবে এএফপি বলছে, ইনফোগ্রাফিকটি ইরানের সরকার বা সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে, এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এটিকে সরকারি ‘হিট লিস্ট’ হিসেবে নিশ্চিতভাবে বর্ণনা করা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরান অভিযোগ করেছিল, কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে হামলায় পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে। ওই প্রেক্ষাপটেই ইউরোপীয় কয়েকজন নেতার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রতীকী তালিকা বা উসকানিমূলক বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে তালিকাটি কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি নীতির অংশ কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এর গুরুত্ব মূল্যায়নে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সূত্র: এএফপি, হামশাহরি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।