সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
সন্তান জন্মের পর মাকে নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে হত্যা
সন্তান জন্মের পর মাকে নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে হত্যা! মৃত্যুর আগে করা হয় মাথা ন্যাড়া

রাশিয়ার চেচনিয়া অঞ্চলে তিন সন্তানের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীকে তাঁর বাবা হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জুখরা মুজায়েভা নামের ওই নারীকে স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে তাঁর মাথা ন্যাড়া করে নিজেই নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করা হয় এবং পরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ঘটনাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।    চেচনিয়ার কুরচালয় গ্রামে বসবাসকারী জুখরা এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, তাঁর বাবা সামরাদি মুজায়েভ মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, জুখরা জীবিত ও সুস্থ আছেন। পরে জানান, তিনি বিদেশে চলে গেছেন। তবে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।    স্বাধীনভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কহীন তিনটি সূত্র দাবি করেছে, জুখরাকে তাঁর বাবা হত্যা করে থাকতে পারেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে তাঁর মাথা ন্যাড়া করা হয়, এরপর তাঁকে নিজের কবর নিজেকেই খুঁড়তে বাধ্য করা হয় এবং পরে গুলি করা হয়। স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই কথিত হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।    জুখরার স্বামী ইয়াকুব মাগোমাদভ ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর হয়ে অংশ নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জুখরার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল কিশোরী বয়সে। ১৭ বছর বয়সে তিনি যমজ সন্তানের মা হন। পরে তাঁদের আরও একটি কন্যাসন্তান হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রসাধনী বিক্রির ছোট ব্যবসাও পরিচালনা করতেন তিনি।    ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ‘অনার কিলিং’ বা কথিত সম্মান রক্ষার নামে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, জুখরাকে হত্যার পেছনে পরিবারের ‘সম্মান’ রক্ষার ধারণা কাজ করে থাকতে পারে। এ ঘটনায় চেচনিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।    তবে জুখরা সত্যিই নিহত হয়েছেন কি না, সেটিও এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ককেশাস নটসহ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও হত্যার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

৪৮ মিনিট Ago
নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ
নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ, প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এমনকি অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান বা চিকিৎসার খরচ বহনের সক্ষমতা না থাকলেও নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মাধ্যমে কম খরচে বা বিনা খরচে চিকিৎসা পাওয়া যায়। সিটির অভিবাসী বিষয়ক দপ্তর এবং স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নয়।   এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা হলো এনওয়াইসি কেয়ার। এটি কোনো স্বাস্থ্যবিমা নয়। যারা মেডিকেইড বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নেই কিংবা বিমার খরচ বহন করতে পারেন না, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটির এই কর্মসূচির মাধ্যমে কম খরচে বা বিনা খরচে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   এনওয়াইসি কেয়ারের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ, টিকা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যায়। পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে চিকিৎসার খরচ নির্ধারণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো খরচ ছাড়াই সেবা পাওয়া সম্ভব। এ কর্মসূচির জন্য কোনো মাসিক সদস্য ফি বা প্রিমিয়াম দিতে হয় না।   এনওয়াইসি কেয়ারের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান জানতে চাওয়া হয় না। তবে আবেদনকারীর নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাস, পরিচয়, পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যা সম্পর্কে তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে ৬৪৬-৬৯২-২২৭৩ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।   নিউইয়র্ক সিটির সরকারি হাসপাতাল ও বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রেও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে কিংবা প্রয়োজনীয় বিমার খরচ বহন করতে না পারলে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা যায়। হাসপাতালের আর্থিক পরামর্শদাতার সঙ্গে কথা বললে নিজের যোগ্যতা এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব।   ম্যানহাটানে স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এনওয়াইসি ফ্রি ক্লিনিকও একটি বিকল্প। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পরিচালিত এই ক্লিনিকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের বিনা খরচে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ১৬ ইস্ট ১৬তম স্ট্রিটে অবস্থিত এই ক্লিনিকে সাধারণত আগে থেকে সময় নিতে হয়। যাওয়ার আগে বর্তমান সময়সূচি ও রোগী গ্রহণের নিয়ম নিশ্চিত করা উচিত।   ইস্ট হারলেম এলাকায় মাউন্ট সিনাইয়ের ইস্ট হারলেম হেলথ আউটরিচ পার্টনারশিপও স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনামূল্যের চিকিৎসাকেন্দ্র। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়।   নিউইয়র্কে আরও কিছু শিক্ষার্থী পরিচালিত কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক টেকের পিলার্স এনওয়াইসি কমিউনিটি ফ্রি ক্লিনিক হারলেম এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেয়। স্বাস্থ্যবিমা না থাকা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থানও এসব সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নয়।   যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হলে নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের যৌনস্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলো থেকেও কম খরচে বা বিনা খরচে চিকিৎসা নেওয়া যায়। ১২ বছর বা তার বেশি বয়সীরা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নির্বিশেষে যৌনবাহিত সংক্রমণ ও এইচআইভি পরীক্ষা এবং চিকিৎসা, এইচআইভি প্রতিরোধের ওষুধ, জরুরি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা, জন্মনিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারেন। অধিকাংশ সেবা সরাসরি গিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   টিকা ও যক্ষ্মা চিকিৎসার জন্যও সিটির আলাদা ক্লিনিক রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের টিকাদান কেন্দ্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নির্বিশেষে কম খরচে বা বিনা খরচে কিছু টিকা দেওয়া হয়। যক্ষ্মা পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিনা খরচে যক্ষ্মা পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থাও রয়েছে।   কুইন্সসহ নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় থাকা প্রবাসীদের জন্য প্রথমে কাছের সরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে আর্থিক সহায়তা বিভাগের সঙ্গে কথা বলা ভালো। সেখানে এনওয়াইসি কেয়ার, আর্থিক সহায়তা কিংবা অন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমার জন্য আপনি যোগ্য কি না, তা যাচাই করে দেওয়া যেতে পারে।   তবে জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কম খরচের ক্লিনিকের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। জরুরি পরিস্থিতিতে অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান বা অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা নির্বিশেষে জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ৯১১ নম্বরে কল করে নিকটস্থ জরুরি বিভাগে যেতে হবে।   প্রবাসীদের আরও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিবাসনসংক্রান্ত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসা নেওয়া বন্ধ না করে বিশ্বস্ত অভিবাসন আইনজীবী বা সিটি পরিচালিত আইনি সহায়তা কেন্দ্রের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ সময়সূচি, সেবার ধরন, যোগ্যতার শর্ত এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।

৫৯ মিনিট Ago
বাংলাদেশে চিকিৎসায় নতুন সাফল্য
কনুইয়ের জয়েন্টসহ সম্পূর্ণ বাহু প্রতিস্থাপন, বাংলাদেশে চিকিৎসায় নতুন সাফল্য

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কনুইয়ের জয়েন্টসহ সম্পূর্ণ বাহু প্রতিস্থাপনের জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা। ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার আলোক হেলথ কেয়ার অ্যান্ড হাসপাতালে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, নিটোরের অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসক দল প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করে।   অস্ত্রোপচারটির বিশেষত্ব হলো, ক্যানসারে আক্রান্ত অংশ অপসারণ করেও রোগীর পুরো বাহু ও কনুইয়ের কার্যকারিতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের অঙ্গ সংরক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাকে লিম্ব স্যালভেজ বলা হয়। এতে ক্যানসারের কারণে অঙ্গচ্ছেদ না করে আক্রান্ত অংশ অপসারণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম ইমপ্লান্ট বা প্রস্থেসিস ব্যবহার করা হয়।   চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ক্যানসার আক্রান্ত অংশ সম্পূর্ণভাবে অপসারণের পাশাপাশি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ু নিরাপদ রাখা। অস্ত্রোপচারে ভাস্কুলার সার্জন ডা. এস এম পারভেজ আহমেদ সোহেল সংবেদনশীল রক্তনালি ও স্নায়ুগুলো সংরক্ষণে কাজ করেন। আক্রান্ত অংশ অপসারণের পর রোগীর শারীরিক গঠনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি বিশেষ প্রস্থেসিস সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়।   এই চিকিৎসা পদ্ধতির লক্ষ্য শুধু ক্যানসার আক্রান্ত টিস্যু অপসারণ নয়, সম্ভব হলে রোগীর আক্রান্ত অঙ্গের কার্যক্ষমতাও ধরে রাখা। হাড় ও নরম টিস্যুর ক্যানসারের ক্ষেত্রে লিম্ব স্যালভেজ সার্জারি বর্তমানে অঙ্গচ্ছেদ এড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীনের পেশাগত প্রোফাইলেও অর্থো অনকোলজি এবং লিম্ব স্যালভেজ সার্জারির বিশেষায়িত কাজের উল্লেখ রয়েছে।    সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দলের দাবি অনুযায়ী, এর আগে ২০১৯ সালে একই বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ উরুর হাড় প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারও করেছিল। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের রয়্যাল অর্থোপেডিক হসপিটাল থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের এই অভিজ্ঞতা জটিল অর্থোপেডিক অনকোলজি চিকিৎসায় দেশে সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।   চিকিৎসকদের এই সাফল্য দেশে জটিল হাড়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় অঙ্গচ্ছেদ এড়িয়ে আধুনিক লিম্ব স্যালভেজ সার্জারির সুযোগ আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিদেশে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হওয়া রোগীদের জন্য দেশে তুলনামূলক কম খরচে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা দেওয়ার পথও আরও শক্তিশালী হতে পারে। সূত্র: সাইন্স বী

১ ঘন্টা Ago
সাংবাদিকের দিকে তেড়ে গেলেন ট্রাম্প
৫ হাজার ডলারের চেক নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিকের দিকে তেড়ে গেলেন ট্রাম্প, বললেন, 'নট ইউ'

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে প্রশ্ন করায় এবিসি নিউজের সিনিয়র পলিটিক্যাল করেসপন্ডেন্ট র‍্যাচেল স্কটের দিকে তেড়ে যাওয়ার মতো করে এগিয়ে যান তিনি। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ডালাস ফোর্ট ওর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে ঘটে।   রিপাবলিকানদের মিডটার্ম কনভেনশন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার আগে ট্রাম্পকে ওই ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন করেন স্কট। ট্রাম্প তাকে বারবার থামিয়ে দিয়ে বলেন, “নট ইউ, নট ইউ। হেই, নট ইউ।” এ সময় তিনি আঙুল নাড়ানোর পাশাপাশি স্কটের দিকে এক পা এগিয়ে ঝুঁকে পড়েন। তবে প্রতিবেদনে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্কটকে শারীরিকভাবে আঘাত করার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।    স্কটের প্রশ্ন ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পরও অর্থনীতি ভালো চলছে বলে দাবি করলে ভোটারদের ভোট দেওয়ার জন্য ৫ হাজার ডলারের মতো আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রয়োজন কেন হচ্ছে। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেন, এই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা ভোটারদের ভোটে উৎসাহিত করার জন্য নয়। তিনি এটিকে বাইডেন প্রশাসনের সময়কার পরিস্থিতি সহ্য করার পর মার্কিন নাগরিকদের জন্য “পুরস্কার” হিসেবে বর্ণনা করেন।    ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেট দুটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে। পরিকল্পনাটির সম্ভাব্য ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। তবে অর্থের উৎস, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে এখনো বড় প্রশ্ন রয়েছে।    এদিকে স্কটের দিকে ট্রাম্পের এই আচরণকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন করার কারণে তিনি স্কটকে প্রকাশ্যে অপমান করেছেন। মে মাসে তাকে “স্টুপিড”, “ওয়ান অব দ্য ওয়ার্স্ট রিপোর্টার্স” এবং “আ হরর শো” বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে স্কটকে “দ্য মোস্ট অবনক্সিয়াস রিপোর্টার” এবং “টেরিবল রিপোর্টার” বলেও আক্রমণ করেছিলেন তিনি।    ঘটনার পর এবিসি নিউজ এক বিবৃতিতে র‍্যাচেল স্কট এবং তাদের পুরো ওয়াশিংটন টিমের প্রতি সমর্থন জানায়। স্কট নিজে অবশ্য এ ঘটনা নিয়ে আলাদা কোনো মন্তব্য না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করেছেন।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ, প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এমনকি অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান বা চিকিৎসার খরচ বহনের সক্ষমতা না থাকলেও নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মাধ্যমে কম খরচে বা বিনা খরচে চিকিৎসা পাওয়া যায়। সিটির অভিবাসী বিষয়ক দপ্তর এবং স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নয়।   এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা হলো এনওয়াইসি কেয়ার। এটি কোনো স্বাস্থ্যবিমা নয়। যারা মেডিকেইড বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নেই কিংবা বিমার খরচ বহন করতে পারেন না, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটির এই কর্মসূচির মাধ্যমে কম খরচে বা বিনা খরচে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   এনওয়াইসি কেয়ারের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ, টিকা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যায়। পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে চিকিৎসার খরচ নির্ধারণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো খরচ ছাড়াই সেবা পাওয়া সম্ভব। এ কর্মসূচির জন্য কোনো মাসিক সদস্য ফি বা প্রিমিয়াম দিতে হয় না।   এনওয়াইসি কেয়ারের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান জানতে চাওয়া হয় না। তবে আবেদনকারীর নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাস, পরিচয়, পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যা সম্পর্কে তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে ৬৪৬-৬৯২-২২৭৩ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।   নিউইয়র্ক সিটির সরকারি হাসপাতাল ও বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রেও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে কিংবা প্রয়োজনীয় বিমার খরচ বহন করতে না পারলে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা যায়। হাসপাতালের আর্থিক পরামর্শদাতার সঙ্গে কথা বললে নিজের যোগ্যতা এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব।   ম্যানহাটানে স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এনওয়াইসি ফ্রি ক্লিনিকও একটি বিকল্প। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পরিচালিত এই ক্লিনিকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের বিনা খরচে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ১৬ ইস্ট ১৬তম স্ট্রিটে অবস্থিত এই ক্লিনিকে সাধারণত আগে থেকে সময় নিতে হয়। যাওয়ার আগে বর্তমান সময়সূচি ও রোগী গ্রহণের নিয়ম নিশ্চিত করা উচিত।   ইস্ট হারলেম এলাকায় মাউন্ট সিনাইয়ের ইস্ট হারলেম হেলথ আউটরিচ পার্টনারশিপও স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনামূল্যের চিকিৎসাকেন্দ্র। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়।   নিউইয়র্কে আরও কিছু শিক্ষার্থী পরিচালিত কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক টেকের পিলার্স এনওয়াইসি কমিউনিটি ফ্রি ক্লিনিক হারলেম এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেয়। স্বাস্থ্যবিমা না থাকা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থানও এসব সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নয়।   যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হলে নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের যৌনস্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলো থেকেও কম খরচে বা বিনা খরচে চিকিৎসা নেওয়া যায়। ১২ বছর বা তার বেশি বয়সীরা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নির্বিশেষে যৌনবাহিত সংক্রমণ ও এইচআইভি পরীক্ষা এবং চিকিৎসা, এইচআইভি প্রতিরোধের ওষুধ, জরুরি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা, জন্মনিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারেন। অধিকাংশ সেবা সরাসরি গিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   টিকা ও যক্ষ্মা চিকিৎসার জন্যও সিটির আলাদা ক্লিনিক রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের টিকাদান কেন্দ্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নির্বিশেষে কম খরচে বা বিনা খরচে কিছু টিকা দেওয়া হয়। যক্ষ্মা পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিনা খরচে যক্ষ্মা পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থাও রয়েছে।   কুইন্সসহ নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় থাকা প্রবাসীদের জন্য প্রথমে কাছের সরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে আর্থিক সহায়তা বিভাগের সঙ্গে কথা বলা ভালো। সেখানে এনওয়াইসি কেয়ার, আর্থিক সহায়তা কিংবা অন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমার জন্য আপনি যোগ্য কি না, তা যাচাই করে দেওয়া যেতে পারে।   তবে জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কম খরচের ক্লিনিকের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। জরুরি পরিস্থিতিতে অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান বা অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা নির্বিশেষে জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ৯১১ নম্বরে কল করে নিকটস্থ জরুরি বিভাগে যেতে হবে।   প্রবাসীদের আরও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিবাসনসংক্রান্ত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসা নেওয়া বন্ধ না করে বিশ্বস্ত অভিবাসন আইনজীবী বা সিটি পরিচালিত আইনি সহায়তা কেন্দ্রের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ সময়সূচি, সেবার ধরন, যোগ্যতার শর্ত এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১:৪৩
২ যুগের মার্কিন যুদ্ধে ৩ হাজার নিহতের বদলায় প্রাণ গেছে ৪৫ লাখ মানুষের

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর শুরু হওয়া ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ ২৫ বছরে যুদ্ধ ও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে অন্তত ৪৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্প। এই হিসাবের মধ্যে সরাসরি সহিংসতায় নিহতের পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, অর্থনীতি ও অবকাঠামো ধ্বংসের ফলে পরোক্ষ মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার হামলায় নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ও পেনসিলভানিয়ায় মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। ওই হামলার পর আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে ২০০৩ সালে ইরাকে আক্রমণসহ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক অভিযান বিস্তৃত হয়।   ব্রাউন ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন ও পাকিস্তানে যুদ্ধের সরাসরি সহিংসতায় ৯ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৩২ হাজারের বেশি ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।    তবে যুদ্ধের প্রকৃত মানবিক ক্ষয়ক্ষতি আরও অনেক বেশি বলে গবেষণাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো ভেঙে পড়া, অর্থনৈতিক সংকট, রোগের বিস্তার এবং খাদ্য ও পানির সংকটের মতো পরোক্ষ প্রভাবে আরও প্রায় ৩৬ থেকে ৩৮ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ৪৫ থেকে ৪৭ লাখ হতে পারে।    গবেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও এর মানবিক ক্ষতি থেমে যায় না। বোমা হামলা ও সামরিক সংঘাতের সরাসরি প্রাণহানির পাশাপাশি ধ্বংস হয়ে যাওয়া হাসপাতাল, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং জনসেবার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বহু বছর ধরে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে রাখে। এ কারণে যুদ্ধের মোট প্রাণহানির সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন।    ব্রাউন ইউনিভার্সিটির আগের হিসাবেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধগুলোর বিপুল মানবিক ও আর্থিক ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। ২০২১ সালের ২০ বছর পূর্তির হিসাবে শুধু যুদ্ধগুলোর সরাসরি মৃত্যুই ৯ লাখের বেশি বলে জানানো হয়েছিল এবং এসব সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।    এদিকে ১১ সেপ্টেম্বর হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে নিহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি পরবর্তী যুদ্ধগুলোর মানবিক মূল্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এসব সামরিক অভিযানের প্রভাব এখনো যুদ্ধকবলিত দেশগুলোর মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর ওপর রয়েছে।

সন্তান জন্মের পর মাকে নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে হত্যা! মৃত্যুর আগে করা হয় মাথা ন্যাড়া

রাশিয়ার চেচনিয়া অঞ্চলে তিন সন্তানের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীকে তাঁর বাবা হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জুখরা মুজায়েভা নামের ওই নারীকে স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে তাঁর মাথা ন্যাড়া করে নিজেই নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করা হয় এবং পরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ঘটনাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।    চেচনিয়ার কুরচালয় গ্রামে বসবাসকারী জুখরা এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, তাঁর বাবা সামরাদি মুজায়েভ মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, জুখরা জীবিত ও সুস্থ আছেন। পরে জানান, তিনি বিদেশে চলে গেছেন। তবে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।    স্বাধীনভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কহীন তিনটি সূত্র দাবি করেছে, জুখরাকে তাঁর বাবা হত্যা করে থাকতে পারেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে তাঁর মাথা ন্যাড়া করা হয়, এরপর তাঁকে নিজের কবর নিজেকেই খুঁড়তে বাধ্য করা হয় এবং পরে গুলি করা হয়। স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই কথিত হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।    জুখরার স্বামী ইয়াকুব মাগোমাদভ ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর হয়ে অংশ নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জুখরার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল কিশোরী বয়সে। ১৭ বছর বয়সে তিনি যমজ সন্তানের মা হন। পরে তাঁদের আরও একটি কন্যাসন্তান হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রসাধনী বিক্রির ছোট ব্যবসাও পরিচালনা করতেন তিনি।    ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ‘অনার কিলিং’ বা কথিত সম্মান রক্ষার নামে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, জুখরাকে হত্যার পেছনে পরিবারের ‘সম্মান’ রক্ষার ধারণা কাজ করে থাকতে পারে। এ ঘটনায় চেচনিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।    তবে জুখরা সত্যিই নিহত হয়েছেন কি না, সেটিও এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ককেশাস নটসহ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও হত্যার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

কাঠমান্ডুর ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেল থেকে ১০ বাংলাদেশি আটক
কাঠমান্ডুর ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেল থেকে ১০ বাংলাদেশি আটক

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পর্যটন এলাকা ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপ ও অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে সবাইকে আরও তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের জন্য দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগে পাঠানো হয়েছে।    নেপালের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঠামেলের হোটেল ঢাকা এক্সপ্রেস, হোটেল ডি ভেদা এবং হোটেল আল রহমানসহ কয়েকটি স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়। কাঠমান্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিসের পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ অবস্থান ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়।    আটক ব্যক্তিরা হলেন ফাহিমা আক্তার হাসান, মাহমুদ, মাহবুব হাসান, রিপন মাহমুদ, এমডি কেরামত আলী খান, শহিদুর রহমান, এমডি খলিলুর রহমান, আরিফুর রহমান, এমডি মারুফ মৃধা এবং মোহাম্মদ হানিফ মিয়া। তাদের বয়স ২৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাদের বাংলাদেশের গাজীপুরের গাজীপুর সদর ও গাছাবাড়ি পুলিশ স্টেশন এলাকার বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    নেপালের ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক টিকারাম ধাকাল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে আটক ব্যক্তিদের একজনের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি নেপালে অবস্থান করছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চলছে।    পুলিশের বরাতে আরও বলা হয়েছে, দলটির সদস্যরা ঠামেলের মুসলিমা টোল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মারামারি এবং ভিসায় যে উদ্দেশ্যে নেপালে প্রবেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, তার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান।    এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আরেক বাংলাদেশি নারী খাতুন-ই-জান্নাত বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।    নেপালে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এর আগেও তরুণদের উন্নত দেশে পাঠানোর কথা বলে বাংলাদেশ থেকে নেপালে নেওয়া এবং তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তদন্তের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে বর্তমান ১০ জনের বিরুদ্ধে ওই আগের অভিযোগগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। সর্বশেষ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জর্ডানে অবস্থিত মুওয়াফাক সালতি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলার আগে চীনা স্যাটেলাইটের ছবি সংগ্রহ করেছিল ইরান। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলায় চীনা স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করেছে ইরান

জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে গত জুলাইয়ে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ও পরে চীনা উৎস থেকে পাওয়া উচ্চমানের উপগ্রহচিত্র ব্যবহার করেছিল ইরান। ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটির উচ্চ রেজল্যুশনের উপগ্রহচিত্র সংগ্রহ করেছিল। ঘাঁটিটি দেশটির আজরাক এলাকায় অবস্থিত এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, আম্মান থেকে ঘাঁটিটির দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার।   মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানকে এসব ছবি সরবরাহকারী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম তারা প্রকাশ করেননি। একই সঙ্গে চীনের সরকার সরাসরি এই কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এমন অভিযোগও তোলা হয়নি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বিষয়টি চীনা প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরেছেন। চীনের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে এ বিষয়ে প্রমাণ চাওয়া হয়েছে বলে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   গত ১৭ জুলাই মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় প্রথমে দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। আরও একজন সেনা নিখোঁজ ছিলেন এবং চারজন আহত হন। পরে নিখোঁজ ওই সেনার অবস্থাও মৃত হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। ফলে ওই হামলায় মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় তিনে।   মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় বারবার ইরানের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ঘাঁটিটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ মোতায়েন রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘাঁটিটি এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।   উপগ্রহচিত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলায় লক্ষ্য নির্ধারণের সক্ষমতা বাড়ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা উৎস থেকে পাওয়া চিত্র ইরানকে ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সেখানে থাকা সামরিক সম্পদের অবস্থান সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা দিতে পারে।   ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে চীনা প্রযুক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে এর আগেও ওয়াশিংটন উদ্বেগ জানিয়েছে। মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে চীন ও হংকংভিত্তিক বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মে মাসের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় উপগ্রহচিত্র সরবরাহের এই নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় না।   ফলে ইরানের হামলায় চীনা উৎসের উপগ্রহচিত্র ব্যবহারের খবরটি মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হলেও, এতে চীন সরকার সরাসরি জড়িত ছিল এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো প্রকাশ্য প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। ঘটনাটি বরং ইরানের সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণে বেসরকারি বা চীনা বাণিজ্যিক উপগ্রহতথ্যের সম্ভাব্য ব্যবহার এবং এ ধরনের সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, আল জাজিরা

৯/১১ হামলায় নিহত স্বামী টম স্ট্রাডার নামের পাশে টেরি স্ট্রাডা। ছবি: সংগৃহীত
৯/১১ হামলায় সৌদি যোগসূত্রের অভিযোগ, ২৫ বছর পরও জবাব চান নিহতদের স্বজনেরা

যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরও সৌদি আরবের সঙ্গে হামলাকারীদের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ উত্তর মেলেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হামলায় নিহতদের স্বজনেরা। হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার নিউইয়র্কে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রশাসনগুলোর ভূমিকা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে হামলার কথিত যোগসূত্র নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন টেরি স্ট্রাডা। তাঁর স্বামী টম স্ট্রাডা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলায় নিহত হন।   টেরি স্ট্রাডা ৯/১১ ফ্যামিলিজ ইউনাইটেডের জাতীয় চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হামলার সঙ্গে সৌদি নাগরিকদের সম্ভাব্য যোগাযোগ এবং এ বিষয়ে মার্কিন তদন্তের নথি প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছেন। শুক্রবারের স্মরণ অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন, একাধিক মার্কিন প্রশাসন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে সৌদি আরবকে রক্ষা করার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। তাঁর বক্তব্যের সময় উপস্থিত কয়েকজন নিহতের স্বজনও সমর্থন জানান।   ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সদস্যরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালায়। দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার এবং একটি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আঘাত করে। আরেকটি বিমান পেনসিলভানিয়ার একটি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।   হামলায় অংশ নেওয়া ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জনই সৌদি নাগরিক ছিলেন। এ কারণেই হামলার পর থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে হামলাকারীদের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ কমিশনের তদন্তে সৌদি সরকার হামলার অর্থায়ন করেছিল এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবও হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।   তবে মার্কিন তদন্তে সৌদি নাগরিকদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে হামলাকারীদের যোগাযোগের তথ্য সামনে আসে। বিশেষ করে নওয়াফ আল-হাজমি ও খালিদ আল-মিহধার নামের দুই হামলাকারী ২০০০ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো এলাকায় অবস্থান করেন। সেখানে তাঁদের সঙ্গে সৌদি নাগরিক ওমর আল-বায়োমির যোগাযোগ হয়।   বায়োমি তাঁদের বাসা খুঁজে পেতে, ব্যাংক হিসাব খুলতে এবং স্থানীয় পরিবেশে মানিয়ে নিতে সহায়তা করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। এতদিন এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে বায়োমির সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎকে অনেকটা আকস্মিক ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত নথি ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।   প্রোপাবলিকার সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ২০০১ সালে বায়োমির বাসা থেকে বেশ কিছু নথি ও সামগ্রী জব্দ করেছিল। এর মধ্যে একটি হাতে আঁকা চিত্র ছিল, যা একটি বিমানের গতিপথের হিসাবের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবন ঘুরে দেখার একটি ভিডিওও উদ্ধার করা হয়েছিল। পরিবারের আইনজীবীরা মনে করেন, এসব তথ্য হামলার আগে বায়োমির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখায়।   প্রকাশিত এফবিআই নথিতে বায়োমির সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং সেখান থেকে মাসিক অর্থ পাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি সরকার ৯/১১ হামলার পরিকল্পনা বা অর্থায়নে সরাসরি জড়িত ছিল এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।   সৌদি নাগরিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে এফবিআই পরবর্তী সময়ে ‘অপারেশন এনকোর’ নামে একটি তদন্ত চালায়। তদন্তকারীরা নওয়াফ আল-হাজমি ও খালিদ আল-মিহধারের সঙ্গে বায়োমি এবং সৌদি কূটনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মকর্তাদের যোগাযোগের বিষয়টি অনুসন্ধান করেন। তদন্তে এমন সাক্ষ্যও পাওয়া যায়, যাতে সৌদি কূটনীতিক ও ধর্মীয় নেতা ফাহাদ আল-থুমাইরির সঙ্গে ওই দুই হামলাকারীর যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে।   তদন্তকারীদের কিছু তথ্য অনুযায়ী, থুমাইরি হামলাকারীদের সঙ্গে বায়োমির পরিচয় ঘটাতে ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অপারেশন এনকোর শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালে বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং এফবিআইয়ের হাতে থাকা বিভিন্ন নথি নিয়ে প্রশ্ন অব্যাহত রয়েছে।   ৯/১১ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের একটি অংশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়ানি মামলা করেছে। ২০১৬ সালে জাস্টিস এগেইনস্ট স্পনসরস অব টেররিজম অ্যাক্ট, সংক্ষেপে জাস্টা, আইনে পরিণত হওয়ার পর এই ধরনের মামলা করার আইনি পথ আরও সহজ হয়।   ২০২৫ সালে মার্কিন জেলা বিচারক জর্জ ড্যানিয়েলস সৌদি আরবের বিরুদ্ধে মামলাটি এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন। আদালত সৌদি সরকারের সঙ্গে হামলাকারীদের সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়ে পরিবারের উপস্থাপিত প্রমাণকে মামলা চালানোর পর্যায়ে যথেষ্ট বলে বিবেচনা করেন। সৌদি আরব ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। মামলাটির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানি ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর ম্যানহাটনে হওয়ার কথা রয়েছে।   পরিবারগুলোর আইনজীবীরা মনে করছেন, মামলা এগিয়ে গেলে আরও নথি, যোগাযোগের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য আদালতের সামনে আসতে পারে। তবে মামলাটি কোনো পর্যায়ে ব্যক্তিগত সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনসমক্ষে না আসার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তাঁরা।   ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরও এর প্রভাব শুধু হামলার দিন নিহত ব্যক্তিদের পরিবারেই সীমাবদ্ধ নেই। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসাবশেষ থেকে ছড়িয়ে পড়া ধুলা ও বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসা উদ্ধারকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিয়েছে।   ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হেলথ প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৫৭ হাজারের বেশি মানুষের ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি কর্মসূচির আওতায় প্রত্যয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯/১১-পরবর্তী বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে ভুক্তভোগীদের মৃত্যুও অব্যাহত রয়েছে।   নিহতদের স্বজনেরা বলছেন, ২৫ বছর পরও তাঁদের লড়াই শুধু অতীতের ঘটনা জানার জন্য নয়, বরং মার্কিন সরকারের হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়ার জন্য। তাঁদের দাবি, ৯/১১ হামলার সঙ্গে সৌদি নাগরিকদের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে যেসব প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে, সেগুলোর উত্তর জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।   সূত্র: নিউজউইক

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
সন্তান জন্মের পর মাকে নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে হত্যা
সন্তান জন্মের পর মাকে নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে হত্যা! মৃত্যুর আগে করা হয় মাথা ন্যাড়া
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১:৫৪

রাশিয়ার চেচনিয়া অঞ্চলে তিন সন্তানের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীকে তাঁর বাবা হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জুখরা মুজায়েভা নামের ওই নারীকে স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে তাঁর মাথা ন্যাড়া করে নিজেই নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করা হয় এবং পরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ঘটনাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।    চেচনিয়ার কুরচালয় গ্রামে বসবাসকারী জুখরা এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, তাঁর বাবা সামরাদি মুজায়েভ মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, জুখরা জীবিত ও সুস্থ আছেন। পরে জানান, তিনি বিদেশে চলে গেছেন। তবে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।    স্বাধীনভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কহীন তিনটি সূত্র দাবি করেছে, জুখরাকে তাঁর বাবা হত্যা করে থাকতে পারেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে তাঁর মাথা ন্যাড়া করা হয়, এরপর তাঁকে নিজের কবর নিজেকেই খুঁড়তে বাধ্য করা হয় এবং পরে গুলি করা হয়। স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই কথিত হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।    জুখরার স্বামী ইয়াকুব মাগোমাদভ ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর হয়ে অংশ নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জুখরার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল কিশোরী বয়সে। ১৭ বছর বয়সে তিনি যমজ সন্তানের মা হন। পরে তাঁদের আরও একটি কন্যাসন্তান হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রসাধনী বিক্রির ছোট ব্যবসাও পরিচালনা করতেন তিনি।    ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ‘অনার কিলিং’ বা কথিত সম্মান রক্ষার নামে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, জুখরাকে হত্যার পেছনে পরিবারের ‘সম্মান’ রক্ষার ধারণা কাজ করে থাকতে পারে। এ ঘটনায় চেচনিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।    তবে জুখরা সত্যিই নিহত হয়েছেন কি না, সেটিও এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ককেশাস নটসহ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও হত্যার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

কাঠমান্ডুর ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেল থেকে ১০ বাংলাদেশি আটক
কাঠমান্ডুর ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেল থেকে ১০ বাংলাদেশি আটক
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ০:২৩

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পর্যটন এলাকা ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপ ও অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে সবাইকে আরও তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের জন্য দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগে পাঠানো হয়েছে।    নেপালের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঠামেলের হোটেল ঢাকা এক্সপ্রেস, হোটেল ডি ভেদা এবং হোটেল আল রহমানসহ কয়েকটি স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়। কাঠমান্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিসের পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ অবস্থান ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়।    আটক ব্যক্তিরা হলেন ফাহিমা আক্তার হাসান, মাহমুদ, মাহবুব হাসান, রিপন মাহমুদ, এমডি কেরামত আলী খান, শহিদুর রহমান, এমডি খলিলুর রহমান, আরিফুর রহমান, এমডি মারুফ মৃধা এবং মোহাম্মদ হানিফ মিয়া। তাদের বয়স ২৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাদের বাংলাদেশের গাজীপুরের গাজীপুর সদর ও গাছাবাড়ি পুলিশ স্টেশন এলাকার বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    নেপালের ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক টিকারাম ধাকাল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে আটক ব্যক্তিদের একজনের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি নেপালে অবস্থান করছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চলছে।    পুলিশের বরাতে আরও বলা হয়েছে, দলটির সদস্যরা ঠামেলের মুসলিমা টোল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মারামারি এবং ভিসায় যে উদ্দেশ্যে নেপালে প্রবেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, তার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান।    এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আরেক বাংলাদেশি নারী খাতুন-ই-জান্নাত বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।    নেপালে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এর আগেও তরুণদের উন্নত দেশে পাঠানোর কথা বলে বাংলাদেশ থেকে নেপালে নেওয়া এবং তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তদন্তের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে বর্তমান ১০ জনের বিরুদ্ধে ওই আগের অভিযোগগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। সর্বশেষ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জার্মান নারীকে  ৩৩ ছুরিকাঘাতে হত্যা সোমালি অভিবাসীর
“সুযোগ পেলে আবারও করতাম” জার্মান নারীকে ৩৩ ছুরিকাঘাতে হত্যা সোমালি অভিবাসীর
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ০:১২

জার্মানির বাডেন-ভুর্টেমবার্গের ভিসলখ শহরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মনোরোগ ক্লিনিক থেকে পালিয়ে ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় সোমালি নাগরিক আহমাদ এন.-এর বিরুদ্ধে ওঠা মামলায় আদালত তাকে মানসিক অসুস্থতার কারণে অপরাধের জন্য দায়ী নয় বলে বিবেচনা করেছে। ঘটনার পর তাকে আবারও ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিক চিকিৎসার আওতায় রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি এখনো ভেইনসবের্গের ক্লিনিকাম আম ভেইসেনহফে চিকিৎসাধীন।   ২০২৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভিসলখের সাইকিয়াট্রিশেস জেন্ট্রুম নর্ডবাডেনের ফরেনসিক সাইকিয়াট্রি ইউনিট থেকে বের হওয়ার সময় আহমাদ এন. পালিয়ে যান। এর আগে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে তাকে ওই প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের মূল্যায়নে তার চিকিৎসায় অগ্রগতি হওয়ায় ধাপে ধাপে কিছুটা ছাড়ের আওতায় তিনি প্রতিষ্ঠানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।   পালানোর পর তিনি শহরের একটি TEDi দোকানে যান। সেখানে ৩০ বছর বয়সী লিসা এস.-কে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় তাকে ৩৩ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল।   আহমাদ এন.-এর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ ছিল। আদালতের নথি ও জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে যৌন হয়রানি, শারীরিক হামলা, হুমকি এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার মতো অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে হাইডেলবার্গের একটি আদালত মানসিক অসুস্থতার কারণে তাকে অপরাধের জন্য দায়ী না বলে বিবেচনা করে এবং নিরাপত্তামূলক মানসিক চিকিৎসার আওতায় রাখার নির্দেশ দেয়।   তার অভিবাসন অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বাডেন-ভুর্টেমবার্গের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সাল থেকেই তার বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার নির্দেশ ছিল। তবে মানসিক চিকিৎসা ও আদালতের নির্দেশে তাকে জার্মানিতে রাখা হয়েছিল।   হত্যাকাণ্ডের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে কীভাবে এমন একজন ব্যক্তিকে ক্লিনিকের বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং তার পালিয়ে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব ছিল কি না। চিকিৎসা কর্তৃপক্ষের ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও তখন রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়।   ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইডেলবার্গের ল্যান্ড কোর্টে হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রসিকিউশন পক্ষের বক্তব্য ছিল, আহমাদ এন. প্যারানয়েড স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত থাকায় ঘটনার সময় নিজের কাজের বেআইনি চরিত্র বুঝতে সক্ষম ছিলেন না। পরে তাকে শাস্তিমূলক কারাদণ্ডের পরিবর্তে মানসিক চিকিৎসা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার আওতায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়।   ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে জার্মানির অভিবাসন ব্যবস্থা, মানসিকভাবে অসুস্থ অপরাধীদের ব্যবস্থাপনা এবং ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিতে ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে সমালোচনা করা হয়। তবে রাজনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগগুলো মতামতভিত্তিক; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় বা অবহেলা নিয়ে পৃথকভাবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তদন্তের বিষয় রয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের একটি ফাইল ছবি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের যৌথ মহড়া শেষ হতেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২৩:৪১

দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার একদিন পর পূর্ব উপকূল থেকে সাগরের দিকে একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার স্থানীয় সময় ভোরে চালানো এই উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।   দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় শহর ওনসানের এলাকা থেকে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এগুলো প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব সাগরে গিয়ে পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সুনির্দিষ্ট ধরন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিস্তারিত বিশ্লেষণ চলছে।   দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উৎক্ষেপণের শুরু থেকেই উত্তর কোরিয়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। জাপানের সঙ্গেও এ বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে। সম্ভাব্য আরও উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করেছে।   উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তর জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক করে। বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ঘটনাটিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে এবং উত্তর কোরিয়াকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানায়।   যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ উৎক্ষেপণ তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড বা দেশটির মিত্রদের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করেনি। তবে দক্ষিণ কোরিয়াসহ আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতিরক্ষায় ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি বহাল রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।   উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণটি এমন সময়ে হলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান তাদের পাঁচ দিনের ‘ফ্রিডম এজ’ যৌথ সামরিক মহড়া শেষ করেছে। ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ উপকূলের জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মোকাবিলায় তিন দেশের সামরিক সমন্বয় ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোই ছিল মহড়ার অন্যতম লক্ষ্য।   উত্তর কোরিয়া শুরু থেকেই এই মহড়ার বিরোধিতা করে আসছিল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম সং-গি মহড়া শুরুর দিন সতর্ক করে বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়া শক্ত অবস্থান থেকে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে সম্ভাব্য আগ্রাসনের প্রস্তুতি হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া প্রায়ই দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়ার সময় বা তার পরপরই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। গত ২০ আগস্টও দেশটি পূর্ব সাগরের দিকে একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এবার ২৩ দিনের বিরতির পর আবারও একই ধরনের উৎক্ষেপণ করা হলো।   এদিকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে দেশটি ‘ক্যাং কন’ নামে প্রায় ৫ হাজার টন ওজনের একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত করেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন জানিয়েছেন, জাহাজটি দেশটির পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।   উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে তাই শুধু সামরিক মহড়ার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং দেশটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদর্শনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে উৎক্ষেপণটি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সামরিক হামলার প্রস্তুতি নির্দেশ করে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: আল জাজিরা

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.36K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
1.12K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.23K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
1.09K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.04K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়