দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র মাথাব্যথা ও আচরণগত কিছু পরিবর্তনের কারণে হাসপাতালে গিয়েছিলেন স্পেনের ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। প্রাথমিক পরীক্ষায় চিকিৎসকদের ধারণা হয়েছিল, তাঁর মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার (মেটাস্ট্যাটিক ব্রেন ক্যানসার) হয়েছে। তবে ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সামনে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতা। তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার নয়, বরং জীবন্ত ফিতাকৃমির (টেপওয়ার্ম) লার্ভা বাসা বেঁধেছিল।
ঘটনাটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC) প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Emerging Infectious Diseases-এ প্রকাশিত একটি কেস রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। পরে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে Fox News Digital।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেনের কাস্তেয়োন অঞ্চলের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি কখনো এমন কোনো দেশে ভ্রমণ করেননি, যেখানে এই রোগ সাধারণভাবে বেশি দেখা যায়। তবুও তিনি নিউরোসিস্টিসারকোসিস
(Neurocysticercosis) নামে পরিচিত একটি বিরল পরজীবী সংক্রমণে আক্রান্ত হন। এটি Taenia solium বা শূকরের ফিতাকৃমির ডিম থেকে সৃষ্ট একটি রোগ, যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করতে পারে।
প্রথমে সিটি স্ক্যানে চিকিৎসকেরা তাঁর মস্তিষ্কে একাধিক অস্বাভাবিক দাগ দেখতে পান। সেগুলো দেখতে ক্যানসারের টিউমারের মতো হওয়ায় ধারণা করা হয়, শরীরের অন্য কোথাও থেকে ক্যানসার ছড়িয়ে মস্তিষ্কে এসেছে।
এই সন্দেহের ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা পুরো শরীরের স্ক্যান, কোলনোস্কোপিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। কিন্তু কোথাও ক্যানসারের কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।
এরপর আরও বিস্তারিত এমআরআই পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, মস্তিষ্কে কয়েকটি তরলভর্তি সিস্ট রয়েছে এবং কয়েকটির ভেতরে ফিতাকৃমির মাথাও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। পরে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে রোগী নিউরোসিস্টিসারকোসিসে আক্রান্ত।
চিকিৎসকেরা তাঁকে অ্যালবেনডাজল ও প্রাজিকোয়ান্টেল নামে দুটি পরজীবীনাশক ওষুধ এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ কমাতে কর্টিকোস্টেরয়েড প্রয়োগ করেন। চিকিৎসা শেষে তিনি কোনো জটিলতা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে কেস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষকদের ধারণা, বহু বছর আগে অসাবধানতাবশত ফিতাকৃমির অতি ক্ষুদ্র ডিম শরীরে প্রবেশ করার ফলে এই সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময় এমন কিছু সহকর্মীর সংস্পর্শে তিনি এসেছিলেন, যারা এমন অঞ্চল থেকে এসেছিলেন যেখানে এই রোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তবে এটিকে নিশ্চিত সংক্রমণের উৎস হিসেবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শূকরের মাংস ঠিকমতো রান্না না করে খেলে সাধারণত অন্ত্রে ফিতাকৃমির সংক্রমণ হতে পারে। কিন্তু নিউরোসিস্টিসারকোসিস হয় ভিন্নভাবে। দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ফিতাকৃমির ডিম শরীরে প্রবেশ করলে সেগুলো রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে মস্তিষ্কসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সিস্ট তৈরি করতে পারে। এ অবস্থায় খিঁচুনি, স্ট্রোক, স্নায়বিক জটিলতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং অন্যান্য গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি একটি একক রোগীর ঘটনা। তাই এর ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা যাবে না। তবে যেসব অঞ্চলে এই রোগ খুব কম দেখা যায়, সেখানেও এমন সংক্রমণ ঘটতে পারে, এ ঘটনাটি সেই সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করে।
কেস রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নিউরোসিস্টিসারকোসিসের ২ শতাংশেরও কম ঘটনা দেশীয়ভাবে সংক্রমিত বলে বিবেচিত হয়। আবার ১৯৯০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে পশ্চিম ইউরোপে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৮টি।
গবেষকদের মতে, রোগীর ভ্রমণের ইতিহাস না থাকলেও মস্তিষ্কে একাধিক রিং-আকৃতির ক্ষত দেখা গেলে শুধু ক্যানসারের সম্ভাবনা নয়, নিউরোসিস্টিসারকোসিসের মতো বিরল পরজীবী সংক্রমণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত। এতে অপ্রয়োজনীয় ক্যানসার-সংক্রান্ত জটিল পরীক্ষা বা অস্ত্রোপচার এড়িয়ে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র মাথাব্যথা ও আচরণগত কিছু পরিবর্তনের কারণে হাসপাতালে গিয়েছিলেন স্পেনের ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। প্রাথমিক পরীক্ষায় চিকিৎসকদের ধারণা হয়েছিল, তাঁর মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার (মেটাস্ট্যাটিক ব্রেন ক্যানসার) হয়েছে। তবে ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সামনে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতা। তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার নয়, বরং জীবন্ত ফিতাকৃমির (টেপওয়ার্ম) লার্ভা বাসা বেঁধেছিল। ঘটনাটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC) প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Emerging Infectious Diseases-এ প্রকাশিত একটি কেস রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। পরে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে Fox News Digital। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেনের কাস্তেয়োন অঞ্চলের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি কখনো এমন কোনো দেশে ভ্রমণ করেননি, যেখানে এই রোগ সাধারণভাবে বেশি দেখা যায়। তবুও তিনি নিউরোসিস্টিসারকোসিস (Neurocysticercosis) নামে পরিচিত একটি বিরল পরজীবী সংক্রমণে আক্রান্ত হন। এটি Taenia solium বা শূকরের ফিতাকৃমির ডিম থেকে সৃষ্ট একটি রোগ, যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করতে পারে। প্রথমে সিটি স্ক্যানে চিকিৎসকেরা তাঁর মস্তিষ্কে একাধিক অস্বাভাবিক দাগ দেখতে পান। সেগুলো দেখতে ক্যানসারের টিউমারের মতো হওয়ায় ধারণা করা হয়, শরীরের অন্য কোথাও থেকে ক্যানসার ছড়িয়ে মস্তিষ্কে এসেছে। এই সন্দেহের ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা পুরো শরীরের স্ক্যান, কোলনোস্কোপিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। কিন্তু কোথাও ক্যানসারের কোনো উৎস পাওয়া যায়নি। এরপর আরও বিস্তারিত এমআরআই পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, মস্তিষ্কে কয়েকটি তরলভর্তি সিস্ট রয়েছে এবং কয়েকটির ভেতরে ফিতাকৃমির মাথাও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। পরে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে রোগী নিউরোসিস্টিসারকোসিসে আক্রান্ত। চিকিৎসকেরা তাঁকে অ্যালবেনডাজল ও প্রাজিকোয়ান্টেল নামে দুটি পরজীবীনাশক ওষুধ এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ কমাতে কর্টিকোস্টেরয়েড প্রয়োগ করেন। চিকিৎসা শেষে তিনি কোনো জটিলতা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে কেস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, বহু বছর আগে অসাবধানতাবশত ফিতাকৃমির অতি ক্ষুদ্র ডিম শরীরে প্রবেশ করার ফলে এই সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময় এমন কিছু সহকর্মীর সংস্পর্শে তিনি এসেছিলেন, যারা এমন অঞ্চল থেকে এসেছিলেন যেখানে এই রোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তবে এটিকে নিশ্চিত সংক্রমণের উৎস হিসেবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শূকরের মাংস ঠিকমতো রান্না না করে খেলে সাধারণত অন্ত্রে ফিতাকৃমির সংক্রমণ হতে পারে। কিন্তু নিউরোসিস্টিসারকোসিস হয় ভিন্নভাবে। দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ফিতাকৃমির ডিম শরীরে প্রবেশ করলে সেগুলো রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে মস্তিষ্কসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সিস্ট তৈরি করতে পারে। এ অবস্থায় খিঁচুনি, স্ট্রোক, স্নায়বিক জটিলতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং অন্যান্য গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি একটি একক রোগীর ঘটনা। তাই এর ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা যাবে না। তবে যেসব অঞ্চলে এই রোগ খুব কম দেখা যায়, সেখানেও এমন সংক্রমণ ঘটতে পারে, এ ঘটনাটি সেই সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করে। কেস রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নিউরোসিস্টিসারকোসিসের ২ শতাংশেরও কম ঘটনা দেশীয়ভাবে সংক্রমিত বলে বিবেচিত হয়। আবার ১৯৯০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে পশ্চিম ইউরোপে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৮টি। গবেষকদের মতে, রোগীর ভ্রমণের ইতিহাস না থাকলেও মস্তিষ্কে একাধিক রিং-আকৃতির ক্ষত দেখা গেলে শুধু ক্যানসারের সম্ভাবনা নয়, নিউরোসিস্টিসারকোসিসের মতো বিরল পরজীবী সংক্রমণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত। এতে অপ্রয়োজনীয় ক্যানসার-সংক্রান্ত জটিল পরীক্ষা বা অস্ত্রোপচার এড়িয়ে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
রক্তচাপ বেড়ে গেছে শুনলেই মনে হয় বুঝি সারাজীবনের জন্য ওষুধ খেতে হবে। কিন্তু জানেন কি, সঠিক জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে রক্তচাপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব? বাংলাদেশে প্রতি তিনজনে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, অথচ অনেকেই জানেন না যে তাদের এই সমস্যা আছে। রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয় কারণ এটি নিজে কোনো উপসর্গ দেখায় না, কিন্তু হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং কিডনি রোগের মতো মারাত্মক সমস্যার কারণ হতে পারে। আজকের এই ব্লগে আমরা জানবো রক্তচাপ কী, কেন হয় এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। রক্তচাপ কী এবং কত হওয়া উচিত? রক্তচাপ হলো হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত পাম্প করার সময় রক্তনালীর দেয়ালে যে চাপ পড়ে তার পরিমাপ। রক্তচাপ মাপার যন্ত্র অনুযায়ী এটি দুটি সংখ্যায় প্রকাশ করা হয় যেমন ১২০/৮০। প্রথম সংখ্যাটি (সিস্টোলিক) হলো হৃদপিণ্ড সংকুচিত হওয়ার সময়ের চাপ এবং দ্বিতীয় সংখ্যাটি (ডায়াস্টোলিক) হলো হৃদপিণ্ড শিথিল হওয়ার সময়ের চাপ। উচ্চ রক্তচাপের কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু কারণে রক্তচাপ বাড়ে। এই কারণ সমূহ হচ্ছে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম কম করা, মানসিক চাপে থাকা, ধূমপান ও মদ্যপান করা ছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও হয়ে থাকে। সাধারণত ৪০ বছরের পর রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। রক্তচাপ বেশি হলে কী হয়? অনেকেই ভাবেন মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা হলেই রক্তচাপ বেশি। কিন্তু আসলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো উপসর্গ থাকে না। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ), কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া, চোখের ক্ষতি ও দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং পায়ে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায় এবার জানবো কীভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ছাড়াই রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। লবণ কম খাওয়া এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রান্নায় লবণ কম দিতে হবে এবং খাওয়ার সময় আলাদা লবণ একদমই নেওয়া যাবে না। প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন চিপস, চানাচুর, আচার, সস, ফাস্ট ফুড যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রতি ১ কেজি ওজন কমালে রক্তচাপ ১ mmHg কমে যায়। যদি আপনার ওজন বেশি থাকে তাহলে ৫-১০ কেজি ওজন কমিয়ে দেখুন, রক্তচাপ তুলনামূলক কমে যাবে। নিয়মিত ব্যায়াম করা সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন ৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন। হাঁটা সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর ব্যায়াম। সকালে বা বিকেলে দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটার মতো যেকোনো একটি করুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সুস্থ জীবন যাপন করতে চাইলে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। যেসকল খাবার আমাদের প্রতিনিয়ত খাওয়া উচিৎ তা হচ্ছে তাজা ফল ও সবজি, ডাল, বাদাম, মাছ, লাল চাল বা ঢেঁকিছাঁটা চাল এবং দই। আর যে সকল খাবার এড়িয়ে চলা উচিৎ ভাজাপোড়া, কোমল পানীয় ও প্যাকেটজাত জুস, অতিরিক্ত মিষ্টি এবং গরু ও খাসির মাংস সপ্তাহে ১ দিনের বেশি নয়। ধূমপান ও মদ্যপান ছেড়ে দেওয়া একটি সিগারেট খাওয়ার পর ২০ মিনিট পর্যন্ত রক্তচাপ বেড়ে থাকে। দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান রক্তনালী শক্ত করে দেয় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়ায়। মদ্যপানও রক্তচাপ বাড়ায় এবং ওষুধের কার্যকারিতা কমায়। মানসিক চাপ কমান মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম, ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটান। অবসর সময়ে শখের কাজ যেমন বই পড়া, বাগান করা এসব করুন। নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন ৪০ বছরের পর মাসে অন্তত একবার রক্তচাপ মাপুন। বাড়িতে একটি ডিজিটাল BP মেশিন রাখতে পারেন। বর্তমান বাজারে ভালো মানের ডিজিটাল বিপি মেশিনের দাম ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে মাপুন। পরিমাপের আগে ১০ মিনিট বিশ্রাম নিন এবং এই সময় ধূমপান বা কফি খাবেন না। নিয়মিত ওষুধ খান ডাক্তার যদি ওষুধ দিয়ে থাকেন, তাহলে নিয়মিত সময়মতো ওষধ খেতে হবে। রক্তচাপ স্বাভাবিক মনে হলেও নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। অনেকে মনে করেন যে রক্তচাপ ১২০/৮০ হলেই ওষুধ ছেড়ে দেবেন, তবে এটা ভুল। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ পরিবর্তন বা বন্ধ করা বিপজ্জনক। পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান পটাসিয়াম লবণের ক্ষতিকর প্রভাব কমায়। কলা, কমলা, টমেটো, পালং শাক, মিষ্টি আলু, মটরশুঁটি এসবে প্রচুর পটাসিয়াম আছে। তবে কিডনি রোগী হলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বেশি পটাসিয়াম খাবেন না। ক্যাফেইন কমান দিনে ২-৩ কাপের বেশি চা বা কফি খাবেন না। ক্যাফেইন সাময়িক রক্তচাপ বাড়ায়। যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের জন্য গ্রিন টি ভালো বিকল্প হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ মানে জীবনের শেষ নয়, বরং সুস্থ জীবনের নতুন শুরু। সঠিক জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব। ৩০ বছর বয়স থেকেই সচেতন হন, নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন।
বিশ্বজুড়ে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও আশার আলো দেখাচ্ছে চীন। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটি ক্যানসার মোকাবিলায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছে। সম্প্রতি দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিছুয়ান ক্যানসার হাসপাতালে আয়োজিত ক্যানসার সচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই চিত্র উঠে আসে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের প্রধান লেই হাইছাও জানান, ক্যানসারকে ভয় না পেয়ে প্রতিরোধের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অন্তত ৪০ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে সুস্থ জীবনযাপন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার (স্ক্রিনিং) ওপর জোর দেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে চীনে নারীদের জন্য বিনামূল্যে জরায়ু ও স্তন ক্যানসার পরীক্ষা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর আওতায় এ পর্যন্ত ৩০ কোটির বেশি জরায়ু ক্যানসার এবং ২০ কোটির বেশি স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ফলে দেশটিতে ক্যানসার রোগীদের বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৫ সালে ক্যানসার রোগীদের পাঁচ বছর বেঁচে থাকার হার ছিল ৪০.৫ শতাংশ, যা ২০২২ সালে বেড়ে ৪৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। চীন সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৪৬.৬ শতাংশে উন্নীত করা। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্ত হলে অস্ত্রোপচারের পর ফিরে আসার ঝুঁকি কমেছে এবং কোলোরেক্টাল ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার হার ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।