যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা এখনো বিশ্বের লাখো শিক্ষার্থীর কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্বপ্নগুলোর একটি। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক গবেষণার সুযোগ, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং পড়াশোনা শেষে বৈশ্বিক চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ—সব মিলিয়ে প্রতিবছর হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এই যাত্রা মোটেও সহজ নয়। সঠিক পরিকল্পনা, সময়মতো প্রস্তুতি এবং প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি শুরু করার সবচেয়ে ভালো সময় হলো আবেদন করার অন্তত এক থেকে দুই বছর আগে। প্রথমেই নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। আপনি স্নাতক, মাস্টার্স নাকি পিএইচডি করতে চান, কোন বিষয়ে পড়তে চান এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের ক্যারিয়ার গড়তে চান—এসব বিষয় পরিষ্কার থাকলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একাডেমিক ফলাফল। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবেদনকারীর জিপিএ বা সিজিপিএকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তাই শুরু থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া জরুরি। শুধু ভালো ফলাফলই নয়, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রজেক্ট এবং একাডেমিক অর্জনও আবেদনকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে যারা মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে চান, তাদের জন্য গবেষণার অভিজ্ঞতা একটি বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করে।
একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। বিতর্ক, বিজ্ঞান ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, নেতৃত্বমূলক কার্যক্রম, খেলাধুলা বা সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের গুণাবলি তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীর সামগ্রিক দক্ষতা মূল্যায়ন করে। তাই শুধু পরীক্ষার ফল নয়, পড়াশোনার বাইরেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার চেষ্টা করুন।
ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির অন্যতম প্রধান ধাপ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সাধারণত IELTS, TOEFL অথবা বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃত অন্য কোনো ইংরেজি দক্ষতা পরীক্ষার স্কোর জমা দিতে হয়। তবে কোন পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে এবং কত স্কোর লাগবে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এজন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত ইংরেজি বই পড়া, একাডেমিক লেখা অনুশীলন এবং ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাস ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।
ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টিও আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি। স্নাতক পর্যায়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় SAT বা ACT স্কোর গ্রহণ করলেও বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান টেস্ট-অপশনাল নীতি অনুসরণ করছে। আবার মাস্টার্স বা পিএইচডির ক্ষেত্রে কিছু প্রোগ্রামে GRE প্রয়োজন হয়, তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি বাধ্যতামূলক নয়। একইভাবে ব্যবসায় শিক্ষা বা MBA-এর জন্য অনেক ক্ষেত্রে GMAT চাওয়া হয়। তাই কোনো পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার আগে অবশ্যই লক্ষ্যভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
এরপর আসে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন। শুধু বিশ্ব র্যাঙ্কিং দেখে বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়া উচিত নয়। বরং নিজের বিষয়, গবেষণার সুযোগ, শিক্ষকদের দক্ষতা, টিউশন ফি, জীবনযাত্রার খরচ, বৃত্তির সুযোগ এবং ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি করতে হবে। সাধারণত ৮ থেকে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তালিকায় উচ্চ প্রতিযোগিতার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি তুলনামূলক নিরাপদ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ও রাখা উচিত।
আবেদনপত্র তৈরির সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে Statement of Purpose (SOP), Letter of Recommendation (LOR), জীবনবৃত্তান্ত (CV/Resume) এবং একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট। SOP-তে নিজের একাডেমিক পটভূমি, গবেষণার আগ্রহ, কেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। অন্যদিকে LOR এমন শিক্ষকের কাছ থেকে নেওয়া উচিত, যিনি আপনার দক্ষতা ও যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত লিখতে পারবেন। একটি সুন্দরভাবে সাজানো CV-তেও আপনার একাডেমিক অর্জন, গবেষণা, প্রজেক্ট, ইন্টার্নশিপ, প্রকাশনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম উল্লেখ করা উচিত।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা অসম্পূর্ণ। টিউশন ফি, বাসস্থান, স্বাস্থ্যবিমা, বইপত্র এবং দৈনন্দিন খরচ মিলিয়ে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ, ফেলোশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট (TA), রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট (RA) এবং অন্যান্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া উচিত। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আংশিক বা পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর শুরু হয় স্টুডেন্ট ভিসার প্রক্রিয়া। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে I-20 ফর্ম পাওয়ার পর SEVIS ফি পরিশোধ করতে হয় এবং DS-160 অনলাইন ফর্ম পূরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে F-1 স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। ভিসা সাক্ষাৎকারে সাধারণত পড়াশোনার উদ্দেশ্য, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, অর্থায়নের উৎস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সৎ ও স্পষ্ট উত্তর দেওয়াই সফল হওয়ার অন্যতম চাবিকাঠি।
সবশেষে, ভিসা পাওয়ার পর আবাসনের ব্যবস্থা, বিমান টিকিট, স্বাস্থ্যবিমা, প্রয়োজনীয় টিকা এবং নতুন পরিবেশ সম্পর্কে আগাম ধারণা নিয়ে যাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পথ দীর্ঘ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হলেও সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত প্রস্তুতি এবং অধ্যবসায় থাকলে এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। সময়মতো প্রস্তুতি শুরু করুন, তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন এবং প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করুন। তাহলেই আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা এখনো বিশ্বের লাখো শিক্ষার্থীর কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্বপ্নগুলোর একটি। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক গবেষণার সুযোগ, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং পড়াশোনা শেষে বৈশ্বিক চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ—সব মিলিয়ে প্রতিবছর হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এই যাত্রা মোটেও সহজ নয়। সঠিক পরিকল্পনা, সময়মতো প্রস্তুতি এবং প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি শুরু করার সবচেয়ে ভালো সময় হলো আবেদন করার অন্তত এক থেকে দুই বছর আগে। প্রথমেই নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। আপনি স্নাতক, মাস্টার্স নাকি পিএইচডি করতে চান, কোন বিষয়ে পড়তে চান এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের ক্যারিয়ার গড়তে চান—এসব বিষয় পরিষ্কার থাকলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একাডেমিক ফলাফল। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবেদনকারীর জিপিএ বা সিজিপিএকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তাই শুরু থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া জরুরি। শুধু ভালো ফলাফলই নয়, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রজেক্ট এবং একাডেমিক অর্জনও আবেদনকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে যারা মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে চান, তাদের জন্য গবেষণার অভিজ্ঞতা একটি বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করে। একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। বিতর্ক, বিজ্ঞান ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, নেতৃত্বমূলক কার্যক্রম, খেলাধুলা বা সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের গুণাবলি তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীর সামগ্রিক দক্ষতা মূল্যায়ন করে। তাই শুধু পরীক্ষার ফল নয়, পড়াশোনার বাইরেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার চেষ্টা করুন। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির অন্যতম প্রধান ধাপ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সাধারণত IELTS, TOEFL অথবা বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃত অন্য কোনো ইংরেজি দক্ষতা পরীক্ষার স্কোর জমা দিতে হয়। তবে কোন পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে এবং কত স্কোর লাগবে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এজন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত ইংরেজি বই পড়া, একাডেমিক লেখা অনুশীলন এবং ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাস ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে। ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টিও আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি। স্নাতক পর্যায়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় SAT বা ACT স্কোর গ্রহণ করলেও বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান টেস্ট-অপশনাল নীতি অনুসরণ করছে। আবার মাস্টার্স বা পিএইচডির ক্ষেত্রে কিছু প্রোগ্রামে GRE প্রয়োজন হয়, তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি বাধ্যতামূলক নয়। একইভাবে ব্যবসায় শিক্ষা বা MBA-এর জন্য অনেক ক্ষেত্রে GMAT চাওয়া হয়। তাই কোনো পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার আগে অবশ্যই লক্ষ্যভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালা যাচাই করে নেওয়া উচিত। এরপর আসে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন। শুধু বিশ্ব র্যাঙ্কিং দেখে বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়া উচিত নয়। বরং নিজের বিষয়, গবেষণার সুযোগ, শিক্ষকদের দক্ষতা, টিউশন ফি, জীবনযাত্রার খরচ, বৃত্তির সুযোগ এবং ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি করতে হবে। সাধারণত ৮ থেকে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তালিকায় উচ্চ প্রতিযোগিতার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি তুলনামূলক নিরাপদ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ও রাখা উচিত। আবেদনপত্র তৈরির সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে Statement of Purpose (SOP), Letter of Recommendation (LOR), জীবনবৃত্তান্ত (CV/Resume) এবং একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট। SOP-তে নিজের একাডেমিক পটভূমি, গবেষণার আগ্রহ, কেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। অন্যদিকে LOR এমন শিক্ষকের কাছ থেকে নেওয়া উচিত, যিনি আপনার দক্ষতা ও যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত লিখতে পারবেন। একটি সুন্দরভাবে সাজানো CV-তেও আপনার একাডেমিক অর্জন, গবেষণা, প্রজেক্ট, ইন্টার্নশিপ, প্রকাশনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম উল্লেখ করা উচিত। অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা অসম্পূর্ণ। টিউশন ফি, বাসস্থান, স্বাস্থ্যবিমা, বইপত্র এবং দৈনন্দিন খরচ মিলিয়ে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ, ফেলোশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট (TA), রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট (RA) এবং অন্যান্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া উচিত। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আংশিক বা পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর শুরু হয় স্টুডেন্ট ভিসার প্রক্রিয়া। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে I-20 ফর্ম পাওয়ার পর SEVIS ফি পরিশোধ করতে হয় এবং DS-160 অনলাইন ফর্ম পূরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে F-1 স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। ভিসা সাক্ষাৎকারে সাধারণত পড়াশোনার উদ্দেশ্য, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, অর্থায়নের উৎস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সৎ ও স্পষ্ট উত্তর দেওয়াই সফল হওয়ার অন্যতম চাবিকাঠি। সবশেষে, ভিসা পাওয়ার পর আবাসনের ব্যবস্থা, বিমান টিকিট, স্বাস্থ্যবিমা, প্রয়োজনীয় টিকা এবং নতুন পরিবেশ সম্পর্কে আগাম ধারণা নিয়ে যাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পথ দীর্ঘ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হলেও সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত প্রস্তুতি এবং অধ্যবসায় থাকলে এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। সময়মতো প্রস্তুতি শুরু করুন, তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন এবং প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করুন। তাহলেই আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে উঠবে।
উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সুযোগ এবং বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখার আকর্ষণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে ইউরোপ উচ্চশিক্ষার অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। তবে ইউরোপের সব দেশে পড়াশোনা বিনা খরচে করা যায় কিংবা তালিকাভুক্ত সব বৃত্তিই সম্পূর্ণ অর্থায়িত—এমন ধারণা ঠিক নয়। দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী টিউশন ফি এবং বৃত্তির সুবিধা ভিন্ন হয়। কোনো বৃত্তিতে টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, যাতায়াত ও বিমা—সবকিছু দেওয়া হয়। আবার কোনো কর্মসূচি কেবল টিউশন ফি মওকুফ বা আংশিক আর্থিক সহায়তা দেয়। ইউরোপীয় কমিশনও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপজুড়ে বিপুলসংখ্যক বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা থাকলেও প্রতিটির যোগ্যতা ও সুযোগ আলাদা। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও পরিচিত কয়েকটি বৃত্তির তথ্য তুলে ধরা হলো। ১. ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে পরিচিত পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তিগুলোর একটি ইরাসমাস মুন্ডাস। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সাধারণত একাধিক ইউরোপীয় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে একই যৌথ মাস্টার্স প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে পড়ার সুযোগ পান। বৃত্তিতে শিক্ষাব্যয়, ভ্রমণ, ভিসা, প্রাথমিকভাবে বসবাস শুরু করার খরচ এবং মাসিক জীবনযাত্রার ভাতা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ ইউরো করে ২৪ মাস পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হতে পারে। আবেদন করতে হয় পছন্দের কোর্স পরিচালনাকারী বিশ্ববিদ্যালয় বা কনসোর্টিয়ামের কাছে। ২. যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ স্কলারশিপ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বৃত্তি কমনওয়েলথ স্কলারশিপ। মাস্টার্স, পিএইচডি, শেয়ার্ড মাস্টার্স, দূরশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট গবেষণা কার্যক্রমে আলাদা সুযোগ রয়েছে। সাধারণত টিউশন ফি, যাতায়াত, জীবনযাত্রার ভাতা এবং অন্যান্য অনুমোদিত ব্যয় দেওয়া হয়। তবে সব কর্মসূচিতে একই যোগ্যতা প্রযোজ্য নয়। কোনো কোনো বিভাগে মনোনয়নকারী সংস্থার মাধ্যমে এবং কোনো ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স ও পিএইচডি বৃত্তির আবেদন ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে। ৩. শেভেনিং স্কলারশিপ শেভেনিং যুক্তরাজ্য সরকারের পূর্ণ অর্থায়নের আন্তর্জাতিক মাস্টার্স বৃত্তি। এটি সাধারণত এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য দেওয়া হয়। নেতৃত্বের দক্ষতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নিজ দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সক্ষমতাকে নির্বাচনে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশি নাগরিকেরা এই বৃত্তিতে আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্যের অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স নির্বাচনসহ সব শর্ত পূরণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বছরের আবেদনকাল আলাদাভাবে ঘোষণা করা হয়। ৪. সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ ফর গ্লোবাল প্রফেশনালস নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পর্যায়ে সহায়তা দেয়। বাংলাদেশ সাধারণত যোগ্য দেশের তালিকায় থাকে। এই বৃত্তিতে সাধারণত সম্পূর্ণ টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, বিমা এবং নির্দিষ্ট ভ্রমণ অনুদান অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে সুইডেনের নির্ধারিত মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করতে হয়, এরপর আলাদাভাবে বৃত্তির আবেদন সম্পন্ন করতে হয়। সুইডেনের সব বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি অবশ্য পূর্ণ অর্থায়িত নয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কেবল টিউশন ফির একটি অংশ বা পুরোটা মওকুফ করে। ৫. জার্মানির ডিএএডি বৃত্তি জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস বা ডিএএডি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের মাস্টার্স, পিএইচডি, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি বৃত্তি পরিচালনা করে। উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্মজীবীদের জন্য ইপোস কর্মসূচি বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত। বৃত্তিভেদে মাসিক ভাতা, বিমা, যাতায়াত এবং অন্যান্য সুবিধা থাকতে পারে। সব ডিএএডি কর্মসূচি পূর্ণ অর্থায়িত নয় এবং সব কোর্সে চাকরির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলকও নয়। ৬. অস্ট্রিয়ার ওএএডি বৃত্তি অস্ট্রিয়ার শিক্ষা ও আন্তর্জাতিকীকরণ সংস্থা ওএএডি বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য বিভিন্ন বৃত্তির তথ্য এবং আবেদনব্যবস্থা পরিচালনা করে। স্নাতকোত্তর, পিএইচডি, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি অধ্যয়নের জন্য একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। তবে ‘ওএএডি’ একটি একক পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তির নাম নয়; এটি বিভিন্ন বৃত্তি ও অনুদানের প্ল্যাটফর্ম। প্রতিটি কর্মসূচির সুবিধা, বয়সসীমা ও যোগ্যতা আলাদা। ৭. সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপ সুইজারল্যান্ড সরকারের এই বৃত্তি মূলত বিদেশি গবেষক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং কিছু ক্ষেত্রে শিল্পকলার শিক্ষার্থীদের জন্য। এটি সাধারণ ব্যাচেলর বা সব ধরনের মাস্টার্স কোর্সের বৃত্তি নয়। গবেষণা প্রস্তাব, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সুইজারল্যান্ডের কোনো অধ্যাপক বা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ৮. ইটিএইচ জুরিখ বৃত্তি সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবী মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য এক্সিলেন্স স্কলারশিপ অ্যান্ড অপরচুনিটি প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। এতে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সহায়তা পাওয়া যায়। এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং শক্তিশালী একাডেমিক ফলাফল প্রয়োজন। ইটিএইচ জুরিখের সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বৃত্তি পান না। ৯. নেদারল্যান্ডসের বৃত্তি নেদারল্যান্ডসে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক একাধিক বৃত্তি রয়েছে। এর মধ্যে মাস্ট্রিখ ইউনিভার্সিটি, টিইউ ডেলফট, লেইডেন ইউনিভার্সিটি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মসূচি পূর্ণ বা বড় অঙ্কের অর্থায়ন দেয়। তবে ‘স্টাডি ইন হল্যান্ড’ নিজে কোনো একক পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি নয়; এটি উচ্চশিক্ষার তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। নেদারল্যান্ডস স্কলারশিপসহ অনেক কর্মসূচি আংশিক অনুদান দেয়। তাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নের পরিমাণ আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। ১০. ফিনল্যান্ডের বৃত্তি ফিনল্যান্ডে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক টিউশন ফি এবং বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। অধিকাংশ বৃত্তি টিউশন ফি আংশিক বা পুরো মওকুফ করে; জীবনযাত্রার সব খরচ সবসময় বহন করে না। এডুফি ফেলোশিপ মূলত ডক্টরাল পর্যায়ের গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটিকে সবার জন্য সাধারণ ব্যাচেলর বা মাস্টার্সের পূর্ণ বৃত্তি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ১১. ডেনমার্কের সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি ডেনমার্কের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের উচ্চমেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সরকারি অর্থায়নে টিউশন মওকুফ এবং কখনো জীবনযাত্রার অনুদান দেয়। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় বা সব কোর্সে এই সুবিধা নেই। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃত্তির জন্য বিবেচনা করা হয়। ১২. বেলজিয়ামের ভিএলআইআর-ইউওএস বৃত্তি ভিএলআইআর-ইউওএস নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের বেলজিয়ামের ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলে মাস্টার্স ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য বৃত্তি দেয়। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের যোগ্যতা প্রতি বছরের দেশতালিকা ও কোর্স অনুযায়ী যাচাই করতে হয়। নির্বাচিতদের টিউশন, ভ্রমণ, বিমা এবং জীবনযাত্রার খরচ দেওয়া হতে পারে। ১৩. মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ ফ্ল্যান্ডার্স সরকারের মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য। এতে অনুদানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। তবে এটি সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সাধারণত ফ্লেমিশ বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীকে মনোনয়ন দেয়। ১৪. ফ্রান্সের আইফেল এক্সিলেন্স স্কলারশিপ ফরাসি সরকারের আইফেল বৃত্তি নির্বাচিত মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য। এতে মাসিক ভাতা, ভ্রমণ, বিমা এবং কিছু আনুষঙ্গিক সুবিধা থাকতে পারে। তবে আইফেল কর্মসূচি সাধারণভাবে টিউশন ফি সরাসরি বহন করে না। শিক্ষার্থী নিজে সরাসরি আবেদনও করতে পারেন না; ফরাসি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়। ১৫. এমিল বুতমি স্কলারশিপ ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিল বুতমি বৃত্তি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যাচেলর ও মাস্টার্স পর্যায়ে দেওয়া হয়। এটি ‘শুধু বিজ্ঞান বিভাগের’ বৃত্তি নয় এবং সবসময় পূর্ণ অর্থায়নও দেয় না। অর্থের পরিমাণ শিক্ষার স্তর ও নির্বাচিত বৃত্তির ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়। ১৬. ইতালিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের এমএইসিআই বৃত্তি বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স, উচ্চতর শিল্প ও সংগীত শিক্ষা, পিএইচডি, গবেষণা এবং ইতালীয় ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কোর্সে সহায়তা দেয়। সাধারণত মাসিক ভাতা ও স্বাস্থ্যবিমা থাকে। টিউশন মওকুফ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি এবং কোর্সের ওপর নির্ভর করতে পারে। ব্যাচেলর পর্যায়ে সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ইতালির বিভিন্ন আঞ্চলিক বৃত্তি—যেমন ডিএসইউ বা ইআর-জিও—পারিবারিক আয় ও মেধার ভিত্তিতে টিউশন মওকুফ, আবাসন, খাবার এবং নগদ ভাতা দিতে পারে। ১৭. নরওয়েতে পড়াশোনা নরওয়ের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বিনা টিউশন ফিতে হয়, এই পুরোনো তথ্য এখন আর সাধারণভাবে সঠিক নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে টিউশন ফি দিতে হয়। কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বৃত্তি বা টিউশন মওকুফ দিতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের সর্বশেষ তথ্যেও বলা হয়েছে, নরওয়ের কিছু প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বৃত্তি বা ফি মওকুফের সুযোগ দেয়। ১৮. হাঙ্গেরির স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপের সবচেয়ে পরিচিত সরকারি বৃত্তিগুলোর একটি স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম। ব্যাচেলর, মাস্টার্স, সমন্বিত মাস্টার্স এবং পিএইচডি পর্যায়ে সুযোগ থাকে। সাধারণত টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, আবাসন সহায়তা এবং চিকিৎসাবিমা দেওয়া হয়। তবে আবাসন ও মাসিক ভাতা সব জীবনযাত্রার ব্যয় পূরণ নাও করতে পারে। বাংলাদেশের মনোনয়নকারী কর্তৃপক্ষ এবং হাঙ্গেরির অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদনসংক্রান্ত ধাপ অনুসরণ করতে হয়। ১৯. এস্তোনিয়ার সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি এস্তোনিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি, বিনিময়, গ্রীষ্মকালীন কোর্স এবং গবেষণার জন্য বিভিন্ন অনুদান দেয়। কিছু বৃত্তি মাসিক ভাতা দেয়, আবার কিছু কেবল নির্দিষ্ট খরচ বহন করে। এস্তোনিয়ার সব বৃত্তিকে পূর্ণ অর্থায়িত বলা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে সুযোগ যাচাই করতে হবে। ২০. চেক সরকারের বৃত্তি চেক প্রজাতন্ত্র নির্বাচিত উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের জন্য সরকারি বৃত্তি দেয়। তবে যোগ্য দেশের তালিকা প্রতি বছর পরিবর্তিত হতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিকেরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষে তালিকাভুক্ত কি না, তা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে যাচাই করতে হবে। চেক ভাষা ও ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার জন্য যোগ্যতা ও প্রস্তুতিমূলক কোর্সের নিয়মও আলাদা হতে পারে। ২১. পোল্যান্ডের বৃত্তি পোল্যান্ডে ন্যাশনাল এজেন্সি ফর একাডেমিক এক্সচেঞ্জ বা নাওয়া বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একাধিক কর্মসূচি পরিচালনা করে। ‘অল অ্যাবাউট পোল্যান্ড স্কলারশিপ’ নামে একক কোনো প্রধান সরকারি পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তির ওপর নির্ভর না করে নাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা যাচাই করা উচিত। ২২. লিথুয়ানিয়ান স্টেট স্কলারশিপ লিথুয়ানিয়া নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের পূর্ণকালীন মাস্টার্স, স্বল্পমেয়াদি অধ্যয়ন এবং ভাষা ও সংস্কৃতির কোর্সে সরকারি সহায়তা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ প্রতিবছর সব বিভাগে যোগ্য নাও থাকতে পারে। বৃত্তিতে টিউশন ও মাসিক ভাতার পরিমাণ কর্মসূচিভেদে আলাদা। ২৩. লাটভিয়ার সরকারি বৃত্তি লাটভিয়ায় কোনো বৃত্তি নেই—এ দাবি সঠিক নয়। দেশটির সরকার বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক এবং গ্রীষ্মকালীন স্কুলের অংশগ্রহণকারীদের জন্য বৃত্তি দিয়ে থাকে। তবে যোগ্য দেশের তালিকা, অর্থের পরিমাণ ও শিক্ষার স্তর প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে। এই অনুদান সব ব্যয় পূরণ নাও করতে পারে। ২৪. মাল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি ইউনিভার্সিটি অব মাল্টাসহ দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন মওকুফ বা বৃত্তি দিতে পারে। এটি মাল্টায় সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য স্বয়ংক্রিয় পূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থা নয়। বিভাগ, গবেষণা প্রকল্প ও তহবিলের প্রাপ্যতার ওপর সুযোগ নির্ভর করে। ২৫. রাশিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ রাশিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি কোটার আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ে বৃত্তি দেয়। এতে সাধারণত টিউশন ফি এবং সীমিত মাসিক ভাতা থাকতে পারে। আবাসন, যাতায়াত, বিমা ও দৈনন্দিন ব্যয়ের কতটা শিক্ষার্থীকে বহন করতে হবে, তা আগে যাচাই করা জরুরি। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতা, ভিসা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত নির্দেশনাও বিবেচনায় নিতে হবে। ২৬. তুর্কিয়ে বুরসলারি তুরস্ক সরকারের তুর্কিয়ে বুরসলারি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের বহুল পরিচিত পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান নির্ধারণ, টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা, তুর্কি ভাষা শিক্ষা এবং একবারের যাতায়াত টিকিট অন্তর্ভুক্ত থাকে। বয়স, ফলাফল এবং শিক্ষার স্তর অনুযায়ী যোগ্যতার শর্ত আলাদা। ২৭. মারি স্ক্লোদোভস্কা-কুরি অ্যাকশনস মারি স্ক্লোদোভস্কা-কুরি অ্যাকশনস কেবল প্রচলিত অর্থে পিএইচডি বৃত্তি নয়। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের গবেষণা ও গবেষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। ডক্টরাল নেটওয়ার্কের অর্থায়িত পিএইচডি পদ ছাড়াও পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপ, গবেষক বিনিময় এবং অন্যান্য গবেষণা প্রকল্প রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তির আবেদন না করে প্রকাশিত গবেষণা পদে চাকরিপ্রার্থীর মতো আবেদন করেন। শুধু আইইএলটিএস ও চাকরি থাকলেই কি আবেদন করা যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বৃত্তিতে শুধু আইইএলটিএস এবং বর্তমানে চাকরির প্রমাণ দিলেই আবেদন করা যায়—এ তথ্য সঠিক নয়। প্রয়োজনীয় শর্তের মধ্যে থাকতে পারে শিক্ষাগত সনদ, ফলাফল, ভাষা দক্ষতা, মোটিভেশন লেটার, জীবনবৃত্তান্ত, সুপারিশপত্র, কাজ বা নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, গবেষণা প্রস্তাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রমাণ। সব বৃত্তিতে চাকরি বাধ্যতামূলক নয়। আবার শেভেনিং, সুইডিশ ইনস্টিটিউট, ডিএএডির কিছু কর্মসূচি ও নির্দিষ্ট স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে কাজের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একইভাবে সব বৃত্তিতে আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে টোয়েফল, পিটিই, কেমব্রিজ পরীক্ষা কিংবা আগের পড়াশোনা ইংরেজি মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার সনদ গ্রহণ করা হতে পারে। তবে শুধু ‘মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন’ সনদ সব প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করে না। আবেদনের আগে যা যাচাই করতে হবে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রথমে নিজের শিক্ষার স্তর, বিষয়, ফলাফল, ভাষা দক্ষতা, কর্মজীবন এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অনুযায়ী বৃত্তি বাছাই করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বৃত্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি ঘোষণায় আবেদনকাল, যোগ্য দেশ, বয়সসীমা, অর্থায়নের পরিমাণ এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা জরুরি। কোনো ফেসবুক পোস্ট, ব্যক্তিগত ব্লগ বা এজেন্সির তালিকা দেখে অর্থ প্রদান করা উচিত নয়। ইউরোপীয় কমিশনও শিক্ষার্থীদের দেশভিত্তিক উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি, ভিসা ও জীবনযাত্রার তথ্য সরকারি প্ল্যাটফর্ম থেকে যাচাই করার পরামর্শ দেয়। বৃত্তির সময়সীমা ও নিয়ম প্রতিবছর পরিবর্তিত হয়। ফলে পুরোনো তালিকা অনুসরণ না করে আবেদন করার শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ সরকারি বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা সাদিয়া রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইউটায় সরাসরি পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। পূর্ণ অর্থায়নের আওতায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাজবিজ্ঞান ও ক্রিমিনোলজি বিভাগে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবেও কাজ করবেন। ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থীর পিএইচডি কার্যক্রম শুরু হবে ২০২৬ সালের ফল সেমিস্টারে। ইউনিভার্সিটি অব ইউটার প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, আগামী ২৪ আগস্ট সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হবে। সব প্রক্রিয়া ঠিকভাবে সম্পন্ন হলে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সাদিয়ার। সাদিয়া জানান, উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন। আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত গবেষণার সুযোগ ও আর্থিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করে ইউনিভার্সিটি অব ইউটাকে বেছে নিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব ইউটার সমাজবিজ্ঞান পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, পিএইচডিতে ভর্তির আবেদনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থায়নের জন্য বিবেচিত হয়। ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা ও গবেষণার আগ্রহ অনুযায়ী সাধারণত গবেষণা বা শিক্ষা সহকারী হিসেবে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়। অর্থায়নের মধ্যে বৃত্তি, টিউশন ফি মওকুফ এবং ভর্তুকিযুক্ত স্বাস্থ্যবিমার মতো সুবিধা থাকতে পারে। স্নাতকে সাদিয়ার সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৭০। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিটি কোর্সে গবেষণাসংশ্লিষ্ট কাজ, টার্ম পেপার, সেমিনার পেপার ও চূড়ান্ত বর্ষের গবেষণা প্রকল্পে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তার তিনটি গবেষণাপত্র বর্তমানে আন্তর্জাতিক জার্নালে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। বিভাগসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, শাবিপ্রবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে স্নাতক শেষ করেই সরাসরি বিদেশে পিএইচডি করার সুযোগ পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে সাদিয়ার দীর্ঘ সংগ্রাম ও প্রয়াত বাবার একটি অপূর্ণ স্বপ্ন। সাদিয়া বলেন, “আমি অত্যন্ত খুশি। আমার বাবার স্বপ্ন ছিল, আমি যেন ডাক্তার হই। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ২০১৭ সালে তিনি মারা যান। অনেক চেষ্টা করেও আমি মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাইনি। তবে পরবর্তী সময়ে কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছি।” পিএইচডি সম্পন্ন করে বাবার স্বপ্নকে অন্যভাবে পূরণ করতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি আন্তরিকতার সঙ্গে ডিগ্রিটি সম্পন্ন করতে চাই, যেন একদিন নামের আগে ‘ডক্টর’ শব্দটি যোগ করতে পারি। এতে আমার বাবার আত্মা হয়তো খুশি হবে। বাবার মৃত্যুর পর আমাদের তিন বোনকে বড় করতে আম্মাও অনেক সংগ্রাম করেছেন। আমি তার মুখেও হাসি ফোটাতে চাই।” স্নাতক শেষ করেই পিএইচডির সুযোগ পাওয়ার প্রস্তুতি সম্পর্কে সাদিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকেই গবেষণাসংশ্লিষ্ট কাজগুলো তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে করেছেন। গবেষণার নকশা তৈরি, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন গবেষণা সরঞ্জাম এবং বিশ্লেষণধর্মী সফটওয়্যার ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করেছেন। আবেদনের সময় নিজের গবেষণার আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরে একটি শক্তিশালী স্টেটমেন্ট অব পারপাস প্রস্তুত করেছিলেন তিনি। শিক্ষকদের সুপারিশপত্র এবং গবেষণার অভিজ্ঞতাও তার আবেদনকে শক্তিশালী করেছে বলে মনে করেন সাদিয়া। তিনি বলেন, “আমার তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. শাহ মো. আতিকুল হক স্যার যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, আমি সেভাবেই কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমার তিনটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। গবেষণায় সহায়ক বিভিন্ন পদ্ধতি ও সফটওয়্যার ব্যবহারের জ্ঞানও অর্জন করেছি। ভালো স্টেটমেন্ট অব পারপাস এবং শক্তিশালী সুপারিশপত্র আমার আবেদনকে এগিয়ে দিয়েছে।” নিজের সাফল্যের জন্য পরিবার, শিক্ষক, স্বামী, জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সাদিয়া। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ প্রস্তুতির পথে বিভিন্ন সময়ে তাদের পরামর্শ, উৎসাহ ও সহযোগিতা তাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। সাদিয়ার অর্জন সম্পর্কে অধ্যাপক আতিকুল হক বলেন, “তার লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা খুবই স্পষ্ট। আমি তাকে যেভাবে কাজ করতে বলেছি, সে একাগ্রতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সেভাবে কাজ করেছে। স্নাতক শেষ করার সময়ই তার তিনটি গবেষণাপত্র ভালো জার্নালে পর্যালোচনাধীন থাকা প্রমাণ করে, গবেষণার জন্য তার প্রয়োজনীয় আগ্রহ ও সক্ষমতা রয়েছে। এই অর্জন তার ধারাবাহিক পরিশ্রমের ফল। আমি তার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।”