শিক্ষা

ভাউচারে হিউস্টনের এসব বেসরকারি স্কুলে পড়া হতে পারে সম্পূর্ণ বিনা টিউশনে

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ৬:৩৫
আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরে অবস্থিত রাইস ইউনিভার্সিটি "লাভেট হল"। ছবি:সংগৃহীত
আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরে অবস্থিত রাইস ইউনিভার্সিটি "লাভেট হল"। ছবি:সংগৃহীত

টেক্সাসের নতুন স্কুল ভাউচার কর্মসূচির আওতায় হিউস্টন এলাকার ৫০টির বেশি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের টিউশন খরচ পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হতে পারে। এসব স্কুলের বার্ষিক টিউশন রাজ্য সরকারের দেওয়া $১০,৪৭৪ ভাউচারের চেয়ে কম। তবে সাশ্রয়ী স্কুলগুলোর প্রায় সবই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোঁজা পরিবারগুলোর সামনে বিকল্প খুবই সীমিত। 

 

হিউস্টন ক্রনিকলের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভাউচারের অর্থের মধ্যে পড়া স্কুলগুলোর গড় বার্ষিক টিউশন প্রায় $৮,৫০০। অর্থাৎ টিউশন পরিশোধের পর কিছু অর্থ ইউনিফর্ম, পাঠ্যসামগ্রী বা কর্মসূচির অনুমোদিত অন্যান্য শিক্ষা ব্যয়ে ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে।

 

২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য টেক্সাস এডুকেশন ফ্রিডম অ্যাকাউন্টস কর্মসূচিতে অনুমোদিত কোনো বেসরকারি স্কুলে ভর্তি শিক্ষার্থী সাধারণভাবে $১০,৪৭৪ পাবে। এই অর্থ টেক্সাসের সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীপ্রতি রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের গড় বরাদ্দের ৮৫ শতাংশের সমান। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এবং বৈধ ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা পরিকল্পনা বা আইইপি থাকা শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন অনুসারে সর্বোচ্চ $৩০,০০০ পর্যন্ত পেতে পারে। হোমস্কুলে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ সর্বোচ্চ $২,০০০। 

 

বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত সাশ্রয়ী স্কুলগুলোর অধিকাংশই খ্রিষ্টান বা ক্যাথলিক প্রতিষ্ঠান। পাঁচটি ইসলামিক স্কুলও এই তালিকায় রয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া সাশ্রয়ী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একমাত্র উল্লেখযোগ্য বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে চিনকোয়াপিন প্রেপের নাম।

 

ফলে ভাউচার কর্মসূচি অনেক পরিবারের জন্য বেসরকারি শিক্ষার আর্থিক বাধা কমালেও পছন্দের পরিসর সবার জন্য সমান নয়। কোনো পরিবার ধর্মীয় শিক্ষা না চাইলে টিউশন ভাউচারের সীমার মধ্যে উপযুক্ত স্কুল পাওয়া কঠিন হতে পারে।

 

অন্যদিকে, হিউস্টনের অনেক অভিজাত বেসরকারি স্কুল ভাউচার কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও কম টিউশনের স্কুলগুলোর বড় অংশই এতে যুক্ত হয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাশ্রয়ী তালিকায় থাকা মাত্র দুটি স্কুল ভাউচারের অর্থ গ্রহণ করছে না।

 

ইসলামিক স্কুলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে কর্মসূচির শুরুতে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে অনুমোদিত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বা তাদের আবেদন আটকে রাখার অভিযোগে মুসলিম অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরে আদালতের নির্দেশে আবেদন প্রক্রিয়া বাড়ানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট ইসলামিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় পর্যালোচনা করে কর্মসূচিতে যুক্ত করা হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাশ্রয়ী স্কুলের তালিকায় থাকা পাঁচটি ইসলামিক স্কুলই এখন ভাউচার গ্রহণের অনুমোদন পেয়েছে। 

 

তবে ভাউচার পেলেই পরিবারের সব শিক্ষা ব্যয় শূন্য হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। হিউস্টন ক্রনিকলের হিসাবে শুধু মূল টিউশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভর্তি ফি, প্রযুক্তি ফি, বই, পরিবহন, খাবার, ইউনিফর্ম, খেলাধুলা ও অন্যান্য বাধ্যতামূলক খরচ যোগ হলে পরিবারকে আলাদাভাবে অর্থ দিতে হতে পারে।

 

স্কুলগুলোর টিউশনও আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। সাশ্রয়ী স্কুলগুলোর গড় টিউশন প্রায় $১,০০০ বৃদ্ধি পেয়েছে। Eternity Christian School-এর টিউশন প্রায় ৪০ শতাংশ এবং Iman Academy-এর টিউশন প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পাঁচ শতাংশের বেশি হারে টিউশন বাড়িয়েছে। 

 

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারি ভর্তুকি চালু হলে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টিউশন বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। তবে হিউস্টনের সব স্কুল একই হারে ফি বাড়ায়নি এবং অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো ভাউচারের নির্ধারিত অর্থের নিচে টিউশন রাখছে।

 

টেক্সাস আইনসভা নতুন শিক্ষা কর্মসূচির জন্য $১ বিলিয়ন বরাদ্দ দিয়েছে। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে এক লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে কর্মসূচিটির সরকারি ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে। বেসরকারি স্কুলে ভর্তি শিক্ষার্থীদের মোট বরাদ্দের প্রথম ২৫ শতাংশ ১ জুলাই দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ২৫ শতাংশ ১ অক্টোবর এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দেওয়ার কথা, শর্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীকে অনুমোদিত স্কুলে ভর্তি থাকতে হবে। 

 

হিউস্টন এলাকায় শত শত বেসরকারি স্কুল থাকলেও প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ভাউচার গ্রহণ করে না। পাশাপাশি ভাউচার পাওয়ার অর্থ কোনো নির্দিষ্ট স্কুলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভর্তি হওয়ার অধিকার নয়। আসনসংখ্যা, শিক্ষার্থীর যোগ্যতা, স্কুলের নিজস্ব ভর্তি নীতি এবং অতিরিক্ত ফি বিবেচনা করেই পরিবারগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

 

তবে বার্ষিক টিউশন $১০,৪৭৪-এর নিচে থাকা ৫০টির বেশি স্কুলের উপস্থিতি হিউস্টনের বহু পরিবারের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে আগে আর্থিক কারণে বেসরকারি স্কুল বিবেচনা করতে না পারা পরিবারগুলো এখন বিনা টিউশন বা তুলনামূলক কম খরচে সন্তানকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষ বিকল্পের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত ফি কর্মসূচিটির বাস্তব সুবিধা কতটা বিস্তৃত হবে, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

শিক্ষা

View more
আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরে অবস্থিত রাইস ইউনিভার্সিটি "লাভেট হল"। ছবি:সংগৃহীত
ভাউচারে হিউস্টনের এসব বেসরকারি স্কুলে পড়া হতে পারে সম্পূর্ণ বিনা টিউশনে

টেক্সাসের নতুন স্কুল ভাউচার কর্মসূচির আওতায় হিউস্টন এলাকার ৫০টির বেশি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের টিউশন খরচ পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হতে পারে। এসব স্কুলের বার্ষিক টিউশন রাজ্য সরকারের দেওয়া $১০,৪৭৪ ভাউচারের চেয়ে কম। তবে সাশ্রয়ী স্কুলগুলোর প্রায় সবই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোঁজা পরিবারগুলোর সামনে বিকল্প খুবই সীমিত।    হিউস্টন ক্রনিকলের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভাউচারের অর্থের মধ্যে পড়া স্কুলগুলোর গড় বার্ষিক টিউশন প্রায় $৮,৫০০। অর্থাৎ টিউশন পরিশোধের পর কিছু অর্থ ইউনিফর্ম, পাঠ্যসামগ্রী বা কর্মসূচির অনুমোদিত অন্যান্য শিক্ষা ব্যয়ে ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে।   ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য টেক্সাস এডুকেশন ফ্রিডম অ্যাকাউন্টস কর্মসূচিতে অনুমোদিত কোনো বেসরকারি স্কুলে ভর্তি শিক্ষার্থী সাধারণভাবে $১০,৪৭৪ পাবে। এই অর্থ টেক্সাসের সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীপ্রতি রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের গড় বরাদ্দের ৮৫ শতাংশের সমান। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এবং বৈধ ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা পরিকল্পনা বা আইইপি থাকা শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন অনুসারে সর্বোচ্চ $৩০,০০০ পর্যন্ত পেতে পারে। হোমস্কুলে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ সর্বোচ্চ $২,০০০।    বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত সাশ্রয়ী স্কুলগুলোর অধিকাংশই খ্রিষ্টান বা ক্যাথলিক প্রতিষ্ঠান। পাঁচটি ইসলামিক স্কুলও এই তালিকায় রয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া সাশ্রয়ী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একমাত্র উল্লেখযোগ্য বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে চিনকোয়াপিন প্রেপের নাম।   ফলে ভাউচার কর্মসূচি অনেক পরিবারের জন্য বেসরকারি শিক্ষার আর্থিক বাধা কমালেও পছন্দের পরিসর সবার জন্য সমান নয়। কোনো পরিবার ধর্মীয় শিক্ষা না চাইলে টিউশন ভাউচারের সীমার মধ্যে উপযুক্ত স্কুল পাওয়া কঠিন হতে পারে।   অন্যদিকে, হিউস্টনের অনেক অভিজাত বেসরকারি স্কুল ভাউচার কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও কম টিউশনের স্কুলগুলোর বড় অংশই এতে যুক্ত হয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাশ্রয়ী তালিকায় থাকা মাত্র দুটি স্কুল ভাউচারের অর্থ গ্রহণ করছে না।   ইসলামিক স্কুলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে কর্মসূচির শুরুতে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে অনুমোদিত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বা তাদের আবেদন আটকে রাখার অভিযোগে মুসলিম অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরে আদালতের নির্দেশে আবেদন প্রক্রিয়া বাড়ানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট ইসলামিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় পর্যালোচনা করে কর্মসূচিতে যুক্ত করা হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাশ্রয়ী স্কুলের তালিকায় থাকা পাঁচটি ইসলামিক স্কুলই এখন ভাউচার গ্রহণের অনুমোদন পেয়েছে।    তবে ভাউচার পেলেই পরিবারের সব শিক্ষা ব্যয় শূন্য হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। হিউস্টন ক্রনিকলের হিসাবে শুধু মূল টিউশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভর্তি ফি, প্রযুক্তি ফি, বই, পরিবহন, খাবার, ইউনিফর্ম, খেলাধুলা ও অন্যান্য বাধ্যতামূলক খরচ যোগ হলে পরিবারকে আলাদাভাবে অর্থ দিতে হতে পারে।   স্কুলগুলোর টিউশনও আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। সাশ্রয়ী স্কুলগুলোর গড় টিউশন প্রায় $১,০০০ বৃদ্ধি পেয়েছে। Eternity Christian School-এর টিউশন প্রায় ৪০ শতাংশ এবং Iman Academy-এর টিউশন প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পাঁচ শতাংশের বেশি হারে টিউশন বাড়িয়েছে।    বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারি ভর্তুকি চালু হলে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টিউশন বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। তবে হিউস্টনের সব স্কুল একই হারে ফি বাড়ায়নি এবং অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো ভাউচারের নির্ধারিত অর্থের নিচে টিউশন রাখছে।   টেক্সাস আইনসভা নতুন শিক্ষা কর্মসূচির জন্য $১ বিলিয়ন বরাদ্দ দিয়েছে। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে এক লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে কর্মসূচিটির সরকারি ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে। বেসরকারি স্কুলে ভর্তি শিক্ষার্থীদের মোট বরাদ্দের প্রথম ২৫ শতাংশ ১ জুলাই দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ২৫ শতাংশ ১ অক্টোবর এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দেওয়ার কথা, শর্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীকে অনুমোদিত স্কুলে ভর্তি থাকতে হবে।    হিউস্টন এলাকায় শত শত বেসরকারি স্কুল থাকলেও প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ভাউচার গ্রহণ করে না। পাশাপাশি ভাউচার পাওয়ার অর্থ কোনো নির্দিষ্ট স্কুলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভর্তি হওয়ার অধিকার নয়। আসনসংখ্যা, শিক্ষার্থীর যোগ্যতা, স্কুলের নিজস্ব ভর্তি নীতি এবং অতিরিক্ত ফি বিবেচনা করেই পরিবারগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।   তবে বার্ষিক টিউশন $১০,৪৭৪-এর নিচে থাকা ৫০টির বেশি স্কুলের উপস্থিতি হিউস্টনের বহু পরিবারের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে আগে আর্থিক কারণে বেসরকারি স্কুল বিবেচনা করতে না পারা পরিবারগুলো এখন বিনা টিউশন বা তুলনামূলক কম খরচে সন্তানকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষ বিকল্পের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত ফি কর্মসূচিটির বাস্তব সুবিধা কতটা বিস্তৃত হবে, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ৬:৩৫
আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান?

আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান? যেভাবে প্রস্তুতি নেবেন

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি:সংগৃহীত

ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পরও হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০২ শিক্ষার্থীর নাম কাটা, ক্ষোভে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নীলাওয়ান রাখাইন। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার উচ্চতর ডিগ্রিতে ভর্তির সুযোগ পেলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নীলাওয়ান রাখাইন

বিদেশে বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ
বিদেশে বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ, আন্ডারগ্রাজুয়েট পর্যায়ে ৬ টি সরকারি ফুল-ফান্ড স্কলারশিপ

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থাকলেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন না। তবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের সরকার সম্পূর্ণ অর্থায়নে বা ফুল-ফান্ড স্কলারশিপের সুযোগ দিয়ে থাকে। এসব বৃত্তির অধিকাংশের সার্কুলার প্রকাশ করে বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যেখানে আবেদন করে টিউশন ফি, আবাসন, মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্যবীমাসহ নানা সুবিধা পাওয়া সম্ভব।   রাশিয়া, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, জাপান ও তুরস্ক—এই ছয়টি দেশের সরকারি স্কলারশিপ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত। প্রতিটি বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা ও সুবিধা ভিন্ন হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি মাসিক ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পান।   রাশিয়ান সরকারি স্কলারশিপের আওতায় বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষাসহ ১৫টির বেশি বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মূল কোর্স শুরুর আগে রুশ ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। টিউশন ফি, আবাসন ও ভিসা-সংক্রান্ত ব্যয় বহন করে রাশিয়া সরকার। আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে শুরু হয়।   ভারতের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (ICCR) স্কলারশিপের মাধ্যমে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভারতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান। চিকিৎসাবিজ্ঞান ছাড়া প্রায় সব বিষয়ে আবেদন করা যায়। নির্বাচিতরা সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি মাসিক ভাতাও পান। আবেদনকারীদের লিখিত পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে চূড়ান্ত নির্বাচন করা হয়।   দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ (GKS) আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম আকর্ষণীয় বৃত্তি। এতে টিউশন ফি, আবাসন, স্বাস্থ্যবীমা, মাসিক ভাতা এবং যাতায়াতের বিমান ভাড়াও অন্তর্ভুক্ত থাকে। আবেদনকারীদের এক বছর কোরিয়ান ভাষা শেখানো হয় এবং এর খরচও বহন করে কর্তৃপক্ষ।   চীনের সরকারি CSC স্কলারশিপের আওতায় শত শত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, কৃষি, অর্থনীতি, আইন, শিক্ষা, সাহিত্য, ইতিহাস ও চারুকলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। চীনা ভাষায় দক্ষ না হলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এক বছর ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয়। সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে আবেদন গ্রহণ করা হয়।   জাপানের MEXT বা মনবুশো স্কলারশিপ এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সরকারি বৃত্তি হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থী এ সুযোগ পান। আবেদনকারীদের লিখিত পরীক্ষা, ভাষা দক্ষতা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিতরা টিউশন ফি ছাড়াও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাসিক ভাতা পান।   তুরস্কের Türkiye Bursları স্কলারশিপও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি, আবাসন, মাসিক ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়। আবেদনকারীদের একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি সুপারিশপত্র, ভাষা দক্ষতা এবং সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।   উচ্চশিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সরকারি স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত অল্প সময়ের জন্য খোলা থাকে। তাই আগ্রহী শিক্ষার্থীদের পাসপোর্ট, একাডেমিক সনদ, নম্বরপত্র, মেডিকেল সনদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা উচিত। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির দিকে নিয়মিত নজর রাখলে আবেদন করার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা কমে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ১:১১
উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের শীর্ষ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে ইউরোপ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের জন্য ইউরোপের ২৭টি ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ, বিনা খরচেই ইউরোপে যেসব স্কলারশিপে আবেদন করবেন

যুক্তরাষ্ট্রের যে ৪০ টি  বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে ফ্রীতে  আবেদন করার সুযোগ!

যুক্তরাষ্ট্রের যে ৪০ টি বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে ফ্রীতে আবেদন করার সুযোগ!

ছবি: সংগৃহীত

মার্কেটিং থেকে পাবলিক পলিসিতে পিএইচডি! পাহাড়ের থেকে নিউমা চৌধুরী এবার যুক্তরাষ্ট্রে

ওয়াল স্ট্রিটের চাকরি ছেড়ে শিক্ষকতায় নতুন ক্যারিয়ার গড়েছেন স্টিভ মেনকিং। ছবি: সংগৃহীত
ওয়াল স্ট্রিটের মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে এখন বাড়ি থেকেই ঘণ্টায় ১ হাজার ডলার আয়, শিক্ষক স্টিভ মেনকিংয়ের অনুপ্রেরণার গল্প

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে ছয় অঙ্কের বেতনের চাকরি ছেড়ে নিজের পছন্দের পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছিলেন স্টিভ মেনকিং। এক দশক পর সেই সিদ্ধান্তই তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে। বর্তমানে বাড়ি থেকেই ব্যক্তিগতভাবে পড়িয়ে তিনি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ এক হাজার মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক নিচ্ছেন এবং বছরে পাঁচ লাখ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। সিএনবিসি মেক ইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই যাত্রার গল্প তুলে ধরেছেন তিনি।    বর্তমানে ৩৬ বছর বয়সী স্টিভ মেনকিং কর্মজীবনের শুরুতে নিউইয়র্কভিত্তিক এসএমবি ক্যাপিটালে ইকুইটি ট্রেডার হিসেবে কাজ করতেন। উচ্চ বেতন থাকলেও দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং তীব্র মানসিক চাপ তাঁকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে তোলে। ২৫ বছর বয়সের কিছুদিন পর তিনি উপলব্ধি করেন, এই জীবনধারা তাঁর জন্য নয়। এরপরই তিনি চাকরি ছেড়ে শিক্ষকতায় পূর্ণসময়ের ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন।    মেনকিং জানান, ওয়াল স্ট্রিটে যোগ দেওয়ার আগে তিনি শিক্ষক সহকারী ও ব্যক্তিগত টিউটর হিসেবে কাজ করেছিলেন। সেই সময় শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার মধ্যেই তিনি প্রকৃত তৃপ্তি খুঁজে পেয়েছিলেন। পরে সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আবার শিক্ষা পেশায় ফিরিয়ে আনে।  চাকরি ছাড়ার পর শুরুটা সহজ ছিল না। স্বাধীনভাবে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন টিউটরিং প্রতিষ্ঠানে নিজের জীবনবৃত্তান্ত পাঠাতে হয়েছে। ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পেশাজীবীদের মধ্যে তাঁর সুনাম তৈরি হয়। বর্তমানে তিনি শিক্ষার্থী, বিনিয়োগ ব্যাংকিংয়ে আগ্রহী তরুণ এবং আর্থিক খাতের পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।  মেনকিং সপ্তাহে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ঘণ্টা কাজ করেন। ব্যক্তিগত টিউটরিংয়ের পাশাপাশি অনলাইন কোর্স তৈরি, প্রশিক্ষণ পরিচালনা এবং আর্থিক পরামর্শ দিয়েও আয় করেন। তাঁর ভাষায়, আগের চাকরির তুলনায় এখন কাজের চাপ অনেক কম, তবে পেশাগত সন্তুষ্টি অনেক বেশি।   শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিতে আগ্রহীদের জন্য তিনি তিনটি পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে এমনভাবে কাজে লাগাতে হবে, যা অন্যদের জন্য বাস্তব মূল্য তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, শুরুতেই বড় আয়ের আশা না করে ধীরে ধীরে সুনাম ও দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে। তৃতীয়ত, একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে উচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।    স্টিভ মেনকিংয়ের এই গল্প দেখায়, শুধু উচ্চ বেতনের চাকরিই সফলতার একমাত্র পথ নয়। নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং আগ্রহকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ভিন্ন পেশাতেও আর্থিক সাফল্য এবং ব্যক্তিগত তৃপ্তি, দুটিই অর্জন করা সম্ভব।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ২০:৫৯
ছবি: সংগৃহীত

স্নাতক শেষে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ পেলেন শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী সাদিয়া

ছবি: সংগৃহীত

২.৯৬ সিজিপিএ, আইইএলটিএসে দুইবার ব্যর্থ, তবুও পেলেন যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি

যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এফ-১ ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় বড় পরিবর্তন, সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ৪ বছর

0 Comments