যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে চান? ১৮১ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফি ও ভর্তি সম্ভাবনার তথ্য এক তালিকায়
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার স্বপ্ন দেখছেন? কিন্তু কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন, কোথায় আবেদন ফি কম, কোথায় ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করছেন? সেই সমস্যার সমাধান দিতে তৈরি হয়েছে ১৮১টি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন R1 (Carnegie Classification) গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার।
প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও বিশ্লেষণ করে তৈরি করা এই তালিকায় একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফি, ২০২৫ সালের উপলব্ধ ভর্তি তথ্যের ভিত্তিতে আনুমানিক পিএইচডি অ্যাকসেপ্টেন্স রেট (Acceptance Rate) এবং ডুওলিঙ্গো ইংলিশ টেস্ট (DET) গ্রহণ করে কি না এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অ্যাকসেপ্টেন্স রেট অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। ফলে শত শত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেঁটে সময় নষ্ট না করে আবেদনকারীরা খুব সহজেই নিজেদের প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে একটি বাস্তবসম্মত শর্টলিস্ট তৈরি করতে পারবেন। এতে আবেদন ব্যয়, প্রতিযোগিতার মাত্রা এবং সম্ভাব্য সুযোগ সবকিছু এক নজরেই বোঝা সম্ভব।
তালিকার প্রস্তুতকারীর দাবি, তথ্যগুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংকলন করা হয়েছে। তবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি, সেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই বাদ রাখা হয়েছে, যাতে বিভ্রান্তিকর তথ্য অন্তর্ভুক্ত না হয়।
উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি আবেদনের ক্ষেত্রে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং নয়, গবেষণার ক্ষেত্র, সম্ভাব্য সুপারভাইজার, অর্থায়নের সুযোগ, আবেদন ব্যয় এবং ভর্তি প্রতিযোগিতার মতো বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটি নির্ভরযোগ্য ও সংগঠিত তথ্যভান্ডার আবেদনকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা থাকলে আবেদন শুরু করার আগে এই তথ্যভান্ডার একবার দেখে নেওয়া আপনার সময়, অর্থ এবং পরিশ্রম তিনটিই বাঁচাতে পারে। তাই সম্পূর্ণ তালিকাটি দেখে নিজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেছে নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া না করাই ভালো।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিক্ষা
View moreকক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার নুদরাত ফারিহা ঐশী যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টে পাঁচ বছর মেয়াদি পূর্ণ অর্থায়নের পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পিএইচডি করছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি কুতুবদিয়ার তরুণদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। নুদরাত ফারিহা ঐশীর শিক্ষাজীবনের শুরু বাংলাদেশেই। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করার পর তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। সেখানে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতেও হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পড়ার সুযোগ রয়েছে। স্নাতক শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ফারিহা। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিজপোর্ট থেকে বিজনেস অ্যানালিটিক্স বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যানালিটিক্স স্নাতকোত্তর কর্মসূচিতে তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণা এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি থিসিস বা ইন্টার্নশিপের সুযোগ রয়েছে। এরপর শুরু হয় পিএইচডিতে ভর্তির প্রস্তুতি। গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশন বা জিআরইতেও ভালো ফল করেন তিনি। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও আবেদন প্রক্রিয়া শেষে এবার ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টে হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টে পিএইচডির সুযোগ পেয়েছেন। ইউম্যাস অ্যামহার্স্টের তথ্য অনুযায়ী, হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টের পিএইচডি কর্মসূচিতে গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি এই কর্মসূচির শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত বছরে ৪০ হাজার ডলারের বেশি গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব, ভোক্তার আচরণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে। কুতুবদিয়ার দক্ষিণ ধুরংয়ের সন্তান ফারিহা ঐশী স্থানীয়ভাবে একটি পরিচিত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তিনি দক্ষিণ ধুরং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমেদের নাতনী। তার বাবা জাফর একজন ব্যাংকার এবং মা লাভলী গৃহিণী। পরিবারের সদস্যরা তার এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। ফারিহার এই সাফল্যের গল্পের আরেকটি দিক হলো, তার একাডেমিক পথটি একাধিক বিষয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। বাংলাদেশে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রে বিজনেস অ্যানালিটিক্সে স্নাতকোত্তর এবং এখন হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টে পিএইচডি করছেন তিনি। ফলে ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ ও পর্যটন গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। পিএইচডি শেষে অর্জিত জ্ঞান, গবেষণার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দেশ, মানুষ ও মানবতার কল্যাণে কাজে লাগাতে চান ফারিহা ঐশী। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার এই নতুন অধ্যায় সফলভাবে শেষ করে ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি। কুতুবদিয়ার মতো একটি দ্বীপ উপজেলা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ পাওয়া ফারিহা ঐশীর যাত্রা তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার গল্প। তার সামনে এখন দীর্ঘ গবেষণার পথ। এই পথ সফলভাবে পেরিয়ে তিনি কী ধরনের গবেষণা ও অবদান রাখেন, সেটিই হবে তার পরবর্তী অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়
যুক্তরাষ্ট্রে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফুলফান্ডেড স্কলারশিপ, আবেদন শুরু
তিন তরুণীর জেদে বুয়েটের দরজা খুলেছিল নারীদের জন্য, যাঁদের হাত ধরে প্রকৌশলে নারীর যাত্রা
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের একটি পরিবার থেকে একে একে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়ার সুযোগ পেয়েছেন চার ভাই। বাবা আমিনুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, মা আলেয়া বেগম গৃহিণী। নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ না থাকলেও সন্তানদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখিয়েছেন তারা। সেই স্বপ্ন পূরণ করে চার ভাইই বুয়েটে পড়েছেন বা পড়ছেন। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের ছাইনীপাড়া গ্রামের এই চার ভাই হলেন হাসান মনির, হাসান মুরাদ, হাসান মাসুম ও হাসান মামুন। বুয়েটের সঙ্গে পরিবারের যাত্রা শুরু হয় ২০০৯ সালে বড় ভাই হাসান মনিরের ভর্তির মধ্য দিয়ে। ওই বছর ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ৫৭তম হন। এরপর মুরাদ ৭৪তম, মাসুম ৮০তম এবং সবার ছোট মামুন ৩২৪তম হয়ে বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পান। ২০২২ সালে মামুন বুয়েটের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর চার ভাইয়ের বুয়েটযাত্রা পূর্ণতা পায়। তখন বড় ভাই মনির বুয়েট থেকে স্নাতক শেষ করে ঢাকার মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বুয়েটে এমএসসি করছিলেন। মুরাদ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ছিলেন। আর মাসুম তখন বুয়েটের তৃতীয় বর্ষে পড়ছিলেন। চার ভাইয়ের বড় বোন আয়েশা সুলতানাও চিকিৎসক। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের ছোট মেয়ে আইমান সুলতানা ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। হাসান মামুনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের বাবা-মা নিজেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাননি। কিন্তু গ্রামের পরিবেশ থেকেই সন্তানদের বড় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন। বুয়েটেই পড়তে হবে, এমন কোনো চাপও ছিল না। বরং সন্তানরা যে বিষয়ে আগ্রহী, সে পথেই এগিয়ে যেতে বাবা-মা তাদের সহযোগিতা করেছেন। ছোটবেলায় সন্তানদের পড়াশোনায় বাবা-মায়ের সরাসরি ভূমিকা ছিল। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মা এবং সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাবা তাদের পড়িয়েছেন। এরপর বড় ভাইয়েরাই ছোটদের পড়াশোনায় সহায়তা করেছেন। গণিতের মৌলিক ধারণা শক্ত করার ওপরও বাবা বিশেষ গুরুত্ব দিতেন বলে জানিয়েছেন মামুন। চার ভাইয়ের বুয়েটে পড়ার পেছনে তারা কোনো বিশেষ কৌশল নয়, নিয়মিত পড়াশোনা, মৌলিক ধারণা পরিষ্কার রাখা এবং কঠোর পরিশ্রমকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। ভর্তি পরীক্ষার আগের বছরের প্রশ্ন অনুশীলন ও বড় ভাইদের অভিজ্ঞতাও তাদের প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছে। একই পরিবারের চার ভাইয়ের দীর্ঘ সময় ধরে বুয়েটে পড়ার এই গল্প ২০২২ সালে প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। একটি সাধারণ শিক্ষক পরিবার থেকে সন্তানদের একের পর এক দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া পরিবারটির শিক্ষা ও পরিশ্রমের অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। সূএ: প্রথম আলো
অটিজম নিয়েও ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ডের বিশেষায়িত কর্মসূচিতে জোশুয়া, স্বপ্ন নিউরোসার্জন হওয়ার
১৮০ টাকা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান শান্তার হার্ভার্ড যাত্রা
পড়াশোনায় অনিয়ম করলে বাতিল হতে পারে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা, সতর্ক করল ঢাকা ইউএস এম্বাসি
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করেন। এতে দৈনন্দিন খরচের কিছুটা জোগান দেওয়ার পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগও তৈরি হয়। তবে দেশভেদে শিক্ষার্থীদের কাজের সময়সীমা ও নিয়ম ভিন্ন। শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ মূলত সংশ্লিষ্ট দেশের স্টুডেন্ট ভিসার শর্তের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই কাজ ক্যাম্পাসের ভেতরে করার নিয়ম রয়েছে। যুক্তরাজ্যে ক্লাস চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করা যায়। আর নির্ধারিত ছুটির সময়ে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ থাকে। কানাডায় ক্লাস চলাকালে ক্যাম্পাসের বাইরে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা কাজ করার অনুমতি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সময় দুই সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করা যায়। তবে সরকারি ছুটির সময়ে কাজের ক্ষেত্রে এই সীমা প্রযোজ্য নয়। আর জার্মানিতে বছরে সর্বোচ্চ ১৪০ পূর্ণ দিন বা ২৮০ অর্ধদিবস কাজের অনুমতি রয়েছে। সেমিস্টারের সময় সাধারণত সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার বেশি কাজ না করার নিয়ম রয়েছে। এবার আসা যাক সম্ভাব্য আয়ের হিসাবে। যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রি ও রেস্তোরাঁ-হসপিটালিটি খাতে শিক্ষার্থীরা ঘণ্টায় প্রায় ১১ থেকে ১৪ পাউন্ড আয় করতে পারেন। তবে গণিত, বিজ্ঞান বা ইংরেজির মতো বিষয়ে দক্ষ শিক্ষার্থীরা টিউশনের মাধ্যমে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ৩০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করতে পারেন। কানাডায় সাধারণ খণ্ডকালীন কাজে ঘণ্টায় প্রায় ১৫ থেকে ১৮ কানাডীয় ডলার আয় করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সহকারী হিসেবে এই আয় ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৪০ কানাডীয় ডলার পর্যন্ত হতে পারে। গবেষণা সহকারী হিসেবেও ঘণ্টায় ২০ থেকে ৩৫ কানাডীয় ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে কানাডায় ন্যূনতম মজুরি প্রদেশভেদে আলাদা। অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজের মজুরি তুলনামূলক বেশি। খুচরা বিক্রি ও হসপিটালিটি খাতে ঘণ্টায় প্রায় ২৭ থেকে ৩০ অস্ট্রেলীয় ডলার আয় করা যায়। আর টিউশনের মাধ্যমে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫০ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত আয় হতে পারে। তবে বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে শুধু খণ্ডকালীন চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর করে আর্থিক পরিকল্পনা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খণ্ডকালীন কাজের আয় দিয়ে বাজার-সদাই, যাতায়াত ও মোবাইল বিলের মতো নিয়মিত কিছু খরচ সামলানো সম্ভব হলেও টিউশন ফি ও বাসাভাড়ার মতো বড় ব্যয়ের জন্য আগে থেকেই পর্যাপ্ত আর্থিক প্রস্তুতি থাকা জরুরি। কারণ কাজের সুযোগ সবসময় নিশ্চিত নয়, আর ভিসার নির্ধারিত সময়সীমার বেশি কাজ করাও আইনগত সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের বর্তমান স্টুডেন্ট ভিসার নিয়ম, কাজের অনুমোদিত সময় এবং শ্রম আইন ভালোভাবে জেনে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন
সৌদি পাঠ্যবই থেকে বাদ ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি