আজ ১ জুলাই- বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনার দিন। ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের এই দিনে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নতুন গতি পায়। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে শুরু হওয়া সেই কর্মসূচি ধীরে ধীরে দেশব্যাপী বিস্তৃত হয়ে পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলন ‘জুলাই বিপ্লব’ নামে পরিচিতি পায়। ২০২৪ সালের ১ জুলাই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে নতুন প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ওই ব্যানারেই গণপদযাত্রা, সড়ক অবরোধ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশ, বিক্ষোভ এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। যেভাবে শুরু জুলাই আন্দোলন সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই জুলাই আন্দোলনের সূচনা। ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট ২০১৮ সালে জারি করা কোটা বাতিলের সরকারি পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করলে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ মোট ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল হয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা নতুন করে আন্দোলনে নামেন এবং কোটা বাতিলের নির্বাহী আদেশ জারির দাবি জানান। আন্দোলনের শুরুটা ছিল শান্তিপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কর্মসূচি বিস্তৃত হতে থাকে। ১ জুলাই থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান, মিছিল এবং রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ২ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচিও ঘোষণা করেন আন্দোলনের সমন্বয়করা। একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতীকীভাবে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানান। আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল আরও আগে। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেয়। তবে ২০২৪ সালের হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে সেই কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ৯ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। ওই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে ১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে দেশব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়। সমাবেশে আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা দেন, ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের আবাসনসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি। এদিকে আন্দোলন ক্রমেই বিস্তৃত হতে থাকে। এর মধ্যে আপিল বিভাগের শুনানিতে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে। পরে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর নিয়মিত আপিল করার পরামর্শ দেয় আপিল বিভাগ। ৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে আনুষ্ঠানিক নৈতিক সমর্থন জানায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। ৭ জুলাই ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই দিন অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও দেন আন্দোলনকারীরা। ৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৬৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনকারীরা সরকারি চাকরির সব গ্রেডে ন্যূনতম কোটা রেখে তাদের ভাষায় ‘অযৌক্তিক’ কোটা বাতিলের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। সেদিন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বল এখন সরকারের কোর্টে। এখন আর আদালত দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। সরকারই ঠিক করতে পারে, এই আন্দোলনের গতিপথ কী হবে।’ ৯ জুলাই আবারও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সময়ে হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনে পক্ষভুক্ত হতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আবেদন করেন। ১০ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের ওপর চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা জারি করেন এবং ৭ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে ওই দিনই আন্দোলনকারীরা সড়ক-মহাসড়কের পাশাপাশি রেলপথও অবরোধ করেন। এতে ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ১১ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই: সংঘর্ষ, প্রাণহানি ও আন্দোলনের মোড় ঘোরার দিনগুলো ১১ জুলাই রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ব্যারিকেড ভেঙে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। একই দিনে কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বহু শিক্ষার্থী আহত হন। এদিন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান মন্তব্য করেন, শিক্ষার্থীরা ‘লিমিট ক্রস করে যাচ্ছে’। একই সময়ে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আদালতের রায় রাস্তায় আন্দোলন করে পরিবর্তন করা যায় না। তিনি বলেন, জনগণের চলাচল ও কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব এবং পরিস্থিতি হুমকির মুখে পড়লে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। ১২ জুলাই পুলিশি হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে ১১ জুলাই শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করে পুলিশ। ১৩ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা চলছে। একই দিন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, কোটা-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান আদালতের মাধ্যমেই হতে হবে। ১৪ জুলাই কোটা বহালের পক্ষে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ওই দিন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, "মুক্তিযোদ্ধার সন্তান-নাতি-পুতিরা কেউ মেধাবী না, যত রাজাকারের বাচ্চারা-নাতি-পুতি হলো মেধাবী, তাই না?... মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরাও সরকারি চাকরি পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে?" এই বক্তব্যের পরই কোটা সংস্কার আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামেন। "তুমি কে, আমি কে? রাজাকার, রাজাকার", "কে বলেছে, কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার" এবং "চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার" স্লোগানে ক্যাম্পাসগুলো মুখর হয়ে ওঠে। একই দিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, কোটা আন্দোলনকে সরকারবিরোধী রূপ দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বিএনপি। ১৫ জুলাই আন্দোলন আরও সংঘাতপূর্ণ রূপ নেয়। সকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, "রাজাকার স্লোগানের জবাব দেওয়ার জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট।" এরপর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা রাজাকার স্লোগান দিচ্ছেন, তাদের শেষ দেখিয়ে ছাড়া হবে। ওই দিন দুপুরে বহিরাগতদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশের সহযোগিতায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নির্বিচারে মারধর চালান। এতে ছাত্রীসহ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। একই দিন বিকেলে কার্জন হল এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা যায়। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা মাজহারুল কবির শয়ন বলেন, "ছাত্রলীগ চাইলে ওদের ফুঁ দিলে পাঁচ মিনিট টিকবে না। পাঁচটা মিনিট দাঁড়াতে পারবে না।" হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দিনভর সংঘর্ষে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি, আহতদের মধ্যে দুই শতাধিকই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী। রাতে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন দাবি করেন, তাদের শতাধিক নেতাকর্মীও আহত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে শিক্ষকসহ এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হন। ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে ১৬ জুলাই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। একই দিন হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল দায়ের করে। অন্যদিকে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকে। ১৬ জুলাই আন্দোলনের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে রংপুরে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ আন্দোলনের সময় বুক পেতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। পরে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। একই দিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে সংঘর্ষে আবু সাঈদসহ মোট ছয়জন নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুরসহ ছয় জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়। সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং এইচএসসি পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি আবাসিক হলের নিয়ন্ত্রণ নেন আন্দোলনকারীরা। বিভিন্ন হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল থেকে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেত্রীকে বের করে দেন বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা। এদিন নিহতদের স্মরণে ১৭ জুলাই সারা দেশে গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ১৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট: রক্তঝরা আন্দোলন, দমন-পীড়ন এবং সরকারের পতন ১৭ জুলাই আন্দোলন নতুন মোড় নেয়। আন্দোলনের চাপের মধ্যে সরকার রাজনৈতিক দমন-পীড়ন আরও জোরদার করে। এদিন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, তারা এই আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন, তবে আন্দোলনের প্রতি নৈতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে। এদিকে আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করলেও প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। নিহতদের স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কফিন মিছিল পণ্ড করে দেয় পুলিশ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে আরও কয়েকজন আহত হন। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে পরদিন 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষণে তিনি বলেন, "আপনজন হারানোর বেদনা যে কত কষ্টের, তা আমার থেকে আর কেউ বেশি জানে না।" তিনি ১৬ জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের ঘোষণা দেন এবং উচ্চ আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। তবে একই দিন রাতেই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টোলপ্লাজায় আগুন দেওয়া হয়। ঢাকাসহ অর্ধশতাধিক জেলায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় বহু মানুষ হতাহত হন। উত্তরায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি বিতরণের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। তার শেষ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। একই দিন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবন, সেতু ভবন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় হেলিকপ্টার থেকে গুলি, কাঁদানে গ্যাস এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আওয়ামী লীগ সরকার কোটা সংস্কারের মাধ্যমে ২০ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব দেয় এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানায়। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে রাত থেকেই সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে দেশের সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর কোটা আন্দোলন ঘিরে কারফিউ জারি, সেনাবাহিনী মোতায়েন, ইন্টারনেট বন্ধসহ একের পর এক পদক্ষেপ নেয় সরকার। কিন্তু এসব উদ্যোগেও আন্দোলন দমিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দমন-পীড়নের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে থাকে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। সরকারবিরোধী কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে এই গণঅভ্যুত্থান 'জুলাই বিপ্লব' নামে পরিচিতি লাভ করে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করে। প্রতি বছরের ১ জুলাই সেই আন্দোলনের সূচনার দিন হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। আজ সেই ইতিহাস বদলে দেওয়া জুলাই বিপ্লবের সূচনার দিন।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।
নেপালের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর জামিন পেলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। বৃহস্পতিবার নেপালের সুপ্রিম কোর্ট তাকে ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন প্রদানের নির্দেশ দেয়। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা এই প্রবীণ নেতাকে তার পরিবারের জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় জামিন পেয়েছেন দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকও। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন জি (Gen Z) প্রজন্মের নেতৃত্বে পরিচালিত এক বিশাল দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দমন-পীড়নে প্রায় ৭৭ জন প্রতিবাদী প্রাণ হারান। ওই ঘটনায় 'কর্তব্যে অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার' অভিযোগে গত ২৮ মার্চ কেপি শর্মা অলি ও রমেশ লেখককে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিকভাবে অলির জামিন আবেদন খারিজ হলেও গত ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানায়, তদন্তের স্বার্থে তাকে আর হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই। ৯ এপ্রিলের মধ্যে তাকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জামিন পেলেও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং পুলিশি প্রয়োজনে যেকোনো সময় তাকে হাজিরা দিতে হবে। ওলি সরকারের পতনের পর দেশটিতে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বলেন্দ্র শাহ (বালেন শাহ)।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিশাল গণবিক্ষোভ। ‘নো কিংস ডে’ বা ‘রাজা নয়’ দিবসে আয়োজিত এই বিক্ষোভে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি হলো ট্রাম্পের একচ্ছত্র ক্ষমতার চর্চা বন্ধ করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করা। ওয়াশিংটন ডিসিসহ দেশটির প্রধান প্রধান শহরগুলো এখন আন্দোলনকারীদের দখলে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে তার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ বর্তমানে তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট, যা সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সর্বনিম্ন হারের চেয়েও নিচে নেমে গেছে। মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ব্যাহত হওয়ায় ট্রাম্পের ওপর এই গণঅসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বরং এটি আমেরিকার শাসনব্যবস্থায় বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাথে সংঘাত ও ন্যাটো নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হচ্ছে, তখন দেশের ভেতরে এই বিশাল জনজোয়ার তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, যদি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হয় এবং জনগণের দাবি মানা না হয়, তবে এই আন্দোলন আরও সহিংস রূপ নিতে পারে। বর্তমানে হোয়াইট হাউসের সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুরো বিশ্ব আমেরিকার এই পরিস্থিতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।