সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

স্বপ্ন, মেধা আর পরিশ্রমে জাপানে বিরল ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেলেন চবির তাহিয়া

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৫:৫৫
তাহিয়া তাবাসসুম I ছবি: সংগৃহীত
তাহিয়া তাবাসসুম I ছবি: সংগৃহীত

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ফিজিওলজিক্যাল সায়েন্সের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেয়েছেন সন্দ্বীপের মেয়ে তাহিয়া তাবাসসুম। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই গবেষণার স্বপ্ন দেখা তাহিয়া নিজের মেধা, অধ্যবসায় এবং সুপরিকল্পিত প্রস্তুতির মাধ্যমেই এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন।

 

তাহিয়ার শিক্ষাজীবনের শুরুটা সন্দ্বীপেই। সাউথ সন্দ্বীপ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের পর তিনি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। স্কুলজীবনেই চাচা মিজানুর রহমানের অনুপ্রেরণায় একজন গবেষক হওয়ার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর প্রথম বর্ষ থেকেই গবেষণায় যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণাগারের অপর্যাপ্ত সুযোগ, প্রয়োজনীয় কেমিক্যালের অভাব এবং গবেষণা খাতে কম বরাদ্দের কারণে তিনি বেশ হতাশ হন। তবে এই সীমাবদ্ধতাকে তিনি কেবল নিজের বিভাগের নয়, বরং পুরো দেশের গবেষণাব্যবস্থার একটি চিত্র হিসেবে উপলব্ধি করেন। আর তখনই স্নাতক শেষ করার আগেই দেশের বাইরের কোনো উন্নত গবেষণাগারে কাজের স্বপ্নটি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

 

দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় নিজ বিভাগের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর জাপানে ইন্টার্নশিপের খবর তাহিয়াকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। এরপর থেকে তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের জন্য প্রস্তুত করতে শুরু করেন। শুধু পড়াশোনায় নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও তিনি ছিলেন সমান উজ্জ্বল। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াড আয়োজনে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি ‘নেটওয়ার্ক অব ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্টস (এনওয়াইবি)’-এর সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। মানবদেহের জিনগত রোগ নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে পোস্টার উপস্থাপনের জন্য অর্জন করেন একাধিক পুরস্কার।

 

তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত ৩ দশমিক ৮৩ সিজিপিএ ধরে রাখার পাশাপাশি ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে তিনি ওয়েবসাইট ঘেঁটে এবং সিনিয়রদের পরামর্শ নিয়ে বিদেশে আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে তিনি জাপানে ইন্টার্নশিপের জন্য আবেদন করেন।

 

চলতি বছরের মার্চ মাসে ই-মেইলের মাধ্যমে জাপানের গবেষণাগার থেকে চূড়ান্ত সুখবরটি পান তাহিয়া। দক্ষিণ এশিয়া থেকে প্রতিবছর মাত্র দুই-তিনজন শিক্ষার্থী এই সুযোগ পান, তাই এমন খবর প্রথমে তার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বরে তিনি এই ইন্টার্নশিপে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি মলিকুলার নিউরোইমিউনোলজি ল্যাবে কাজ করবেন।

 

বর্তমান বিশ্বে স্নায়বিক রোগ, বিশেষ করে আলঝেইমার, স্মৃতিভ্রম ও চলাফেরায় নিয়ন্ত্রণহীনতার মতো জটিল সমস্যাগুলোর নিরাময়ে কোনো উপযুক্ত প্রতিষেধক নেই। তাহিয়া মূলত এই চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্রটিতেই গবেষণা চালাবেন। ভবিষ্যতে মলিকুলার জেনেটিকস নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখা তাহিয়া মনে করেন, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বে প্রচুর সুযোগ রয়েছে, তবে সেটি খুঁজে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। নতুন দক্ষতা অর্জন ও সিনিয়রদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে প্রস্তুতি জোরদার করলেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
ভারী বৃষ্টিতে নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন তারেক রহমান

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী, ওই দিন নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি এবং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। এ সময় জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সাইডলাইন মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।  রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, এবারের সফরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা, দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি।  পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিউইয়র্ক সফরকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক বৈঠক হবে। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বেশ কয়েকটি সাইডলাইন মিটিংয়ের আয়োজন থাকবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে।  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া ও সেখানে ভাষণ দেওয়া। সাইডলাইনে বিভিন্ন বৈঠক হবে। তবে এ ধরনের বৈঠকের অনেক সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হয়। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত দুই নেতার বৈঠকের নির্দিষ্ট সময়সূচি চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে যাওয়ার পর কার কার সঙ্গে বৈঠক করবেন, তা চূড়ান্ত হলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।  এবারের সফরে রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে সামনে থাকবে। হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে সাইডলাইনে বিশেষ বৈঠকের আয়োজনের উদ্যোগ রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যু বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি।  জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশনকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার বড় সুযোগ হবে এই সফর।  জাতিসংঘের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ থাকবে। তবে কোন কোন নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে এবং সেগুলোর নির্দিষ্ট সময়সূচি কবে চূড়ান্ত হবে, তা এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৮:৪৫
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, অর্থ রয়েছে সুইস ব্যাংকেও

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত

এমপির লাগে না, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যানেরও লাগবে না শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

ঢাবি শিক্ষার্থীদের ‘এতিম-মিসকিন’ দেখিয়ে ফান্ড এনেছে ডাকসু

ঢাবি শিক্ষার্থীদের ‘এতিম-মিসকিন’ দেখিয়ে ফান্ড এনেছে ডাকসু: হামিম

মেয়ের পোষা ছাগল হারানোকে জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা বললেন আসিফ নজরুল
মেয়ের পোষা ছাগল হারানোকে জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা বললেন আসিফ নজরুল

ছোট মেয়ের পোষা ছাগল হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে নিজের জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।   আসিফ নজরুল জানান, হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে থাকার সময় সাড়ে ৯ বছর বয়সী ছোট মেয়ের একাকিত্ব কাটাতে একটি ছাগল কিনে দেওয়া হয়েছিল। ধীরে ধীরে ছাগলটির সঙ্গে শিশুটির গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। প্রতিদিন মেয়ের স্কুলে যাওয়া ও ফেরার সঙ্গে ছাগলটিরও যেন অভ্যাস তৈরি হয়েছিল। স্কুল থেকে ফিরে মেয়েটি ছাগলটির সঙ্গে খেলত। এমনকি নিজের মুঠোফোনের ওয়ালপেপারেও ছাগলটির সঙ্গে তোলা ছবি রেখেছিল সে।   ২০২৪ সালের শেষ দিকে সরকারি বাসভবন থেকে ছাগলটি হারিয়ে যাওয়ার পর মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বলে জানান আসিফ নজরুল। তার ভাষ্য, কাঁদতে কাঁদতে একপর্যায়ে মেয়েটি বমি করে এবং প্রায় দেড় দিন কোনো খাবার খেতে পারেনি।   ছাগলটি পরে জবাই করে খেয়ে ফেলা হয়েছিল বলে জানতে পারলেও বিষয়টি এখনো মেয়েকে জানানো হয়নি। আসিফ নজরুল জানান, শিশুটিকে বলা হয়েছে দরজা খোলা থাকায় ছাগলটি পালিয়ে গেছে। সত্যটি জানলে সে আরও বেশি ভেঙে পড়তে পারে বলে পরিবারটি বিষয়টি গোপন রেখেছে।   ছাগলটি কীভাবে জবাই করা হয়েছিল, সে সম্পর্কেও আসিফ নজরুল অনুষ্ঠানে বিস্তারিত জানান। তার দাবি, প্রথমে ভোঁতা বঁটি দিয়ে ছাগলটি কাটার চেষ্টা করা হলেও সেটি সম্ভব হয়নি। পরে কারওয়ান বাজার থেকে ধারালো বঁটি এনে ছাগলটি জবাই করা হয়।   ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ ছিল বলে যে আলোচনা রয়েছে, তা নাকচ করে আসিফ নজরুল বলেন, ছাগলটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি, বরং মজা করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ছাত্রনেতাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও তিনি বলেন, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে তার শেষ দিন পর্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।   ২০২৪ সালের শেষ দিকে হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে আসিফ নজরুলের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল উধাও হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ সময় পর টকশোতে অংশ নিয়ে ঘটনাটির পেছনের বিষয় এবং মেয়ের ওপর এর প্রভাবের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ২:৫০
বাংলাদেশে চিকিৎসায় নতুন সাফল্য

কনুইয়ের জয়েন্টসহ সম্পূর্ণ বাহু প্রতিস্থাপন, বাংলাদেশে চিকিৎসায় নতুন সাফল্য

চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে দেশের প্রথম মার্কিন তুলার গুদাম, কমবে পোশাক খাতের কাঁচামাল সংগ্রহের সময়

চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে দেশের প্রথম মার্কিন তুলার গুদাম, কমবে পোশাক খাতের কাঁচামাল সংগ্রহের সময়

৩ মাস ধরে ধর্ষণের শিকার, মাদরাসাছাত্রের কল,

৩ মাস ধরে ধর্ষণের শিকার, মাদরাসাছাত্রের কল, "মা আমাকে নিয়ে যাও"

চট্টগ্রামের খুলশী-জালালাবাদে যৌথ অভিযানে আটক বিদেশি নাগরিকরা
চট্টগ্রামে গোপন আস্তানায় অভিযান, চীনা-পাকিস্তানিসহ ৬৩ বিদেশি আটক

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী-জালালাবাদ এলাকায় একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে চীনা ও পাকিস্তানিসহ ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, ভবনটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান ও সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। অভিযানে ৭০টি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এসব ডিভাইস বিশ্লেষণ করে আটক ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন ও অনলাইন কার্যক্রমের তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছেন, ভবনটিতে কেন অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের বৈধ কাগজপত্র, ভিসার ধরন এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভবনটিতে বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের পাশাপাশি ক্যাসিনোসদৃশ বা জুয়াসংক্রান্ত কার্যক্রম চলার তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। জব্দ করা ডিভাইস ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কথিত জুয়া কার্যক্রমের সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব ও অনলাইন মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্ত শেষে আটক ব্যক্তিদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য এবং ভবনটিতে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে নেওয়া হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৮:৫৩
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দে ৩৫-৪০ কোটি টাকার কাজের দাবি ডাকসুর

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ লাখ টাকার বাজেট, ৩৫-৪০ কোটি টাকার কাজের দাবি ডাকসুর

রাশিয়ায় ইলেকট্রনিক শ্রমিকের কাজের আশায় গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত নান্দাইলের আল মামুন

ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে, যুদ্ধে প্রাণ হারালেন মামুন

ইউরোপে সামগ্রিকভাবে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমলেও ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেও ইউরোপে বেড়েছে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন

0 Comments