নভেম্বরে তারেক রহমানের ভারত সফর চূড়ান্তে ঢাকা-দিল্লির আলোচনা; বাণিজ্য, সীমান্ত ও গঙ্গার পানিবণ্টন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আগামী নভেম্বরে তাঁকে নয়াদিল্লিতে নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা আবারও আলোচনা শুরু করেছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-এর কূটনৈতিক সূত্রনির্ভর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের সরকার সফরের নির্দিষ্ট তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। তাই সফরটি নিশ্চিত না বলে সম্ভাব্য নভেম্বর সফর হিসেবে উল্লেখ করাই যথাযথ।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম ১৮ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের পরিকল্পনা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা আবার শুরু হয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা নভেম্বরে সফরের জন্য সুবিধাজনক একটি সময় খুঁজছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর অক্টোবর ও নভেম্বরেও তাঁর একাধিক কূটনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে নভেম্বরে নয়াদিল্লি সফরের জন্য সুবিধাজনক সময় নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
ঢাকা ও নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা নিয়মিত যোগাযোগ ও বৈঠকের মাধ্যমে সম্ভাব্য সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সফরের সম্ভাব্য আলোচ্যসূচি নিয়েও কাজ চলছে। এর মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
সম্ভাব্য সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সফর অনুষ্ঠিত হলে বাণিজ্য স্বাভাবিক করা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন। চুক্তিটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ফলে এর নবায়ন নিয়ে দুই দেশের আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে সম্ভাব্য সফরের আলোচ্যসূচির মধ্যে গঙ্গার পানি চুক্তির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের একাধিক মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এসব বৈঠককে দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ভারত সরকার তাঁকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ১৪ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে। তবে তখনও সফরের কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।
এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারেক রহমানের প্রস্তাবিত দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর নিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে তখনও কোনো তথ্য পায়নি দিল্লি। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, তারেক রহমান দুটি পৃথক আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন—একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি ব্রিকস সম্মেলনের জন্য।
ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণটি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের বক্তব্যে পার্থক্যও দেখা যায়। বাংলাদেশ জানিয়েছিল, আমন্ত্রণটি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি নয়, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনের জন্যও তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেননি। এর মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। ১৮ সেপ্টেম্বরের দ্য হিন্দু-ভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন নভেম্বরের একটি সুবিধাজনক সময়ে সফর আয়োজনের জন্য সরকারি পর্যায়ে আলোচনা আবার শুরু হয়েছে।
এদিকে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানান। এর জবাবে মোদিও তাঁকে ধন্যবাদ জানান। এই সৌজন্য বিনিময়ের সময়েই ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে এই যোগাযোগকে সফর চূড়ান্ত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না।
সব মিলিয়ে, ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নভেম্বরে ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন। বাণিজ্য, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় সম্ভাব্য সফরের আলোচ্য হতে পারে। তবে সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreরাজশাহীর নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামের এক নারীকে শুক্রবার সকালে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। ফ্ল্যাটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাঁদের বের করে আনা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করে অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী ওই ফ্ল্যাটে অন্য এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছেন। তবে আন্নির করা অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি। মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলাও চলমান রয়েছে। প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুমতি বা ছুটি না নিয়েই তিনি রাজশাহীতে গিয়েছিলেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আন্নি আক্তার নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটে যান। তাঁর দাবি, তিনি জানতে পারেন মাহবুব আলম সেখানে অবস্থান করছেন এবং তাঁর সঙ্গে সানজিদা মৌ নামের আরেক নারী রয়েছেন। দীর্ঘ সময় দরজায় ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দরজা না খোলায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে গিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর মাহবুব ও সানজিদাকে থানায় নেওয়া হয়। নাদের হাজির মোড়ের ফ্ল্যাটটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সাধারণত তাঁর পালিত মেয়ে ও জামাই থাকেন বলে জানা গেছে। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওই ফ্ল্যাটে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করেন আন্নি। সানজিদা সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেননি। থানায় নেওয়ার পর মাহবুব আলম সানজিদা মৌকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুবের ষষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর দাবি, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাঁকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি মাহবুবের ব্যক্তিগত জীবন ও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পারেন বলে অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের কোনোটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আন্নির অভিযোগ, মাহবুব আলম বিভিন্ন জেলায় কর্মরত থাকার সময় একাধিক নারীকে বিয়ে করেছেন বা তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং এর আগেও সেখানে সানজিদা মৌকে তাঁর সঙ্গে দেখেছিলেন। তবে এসব দাবির পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে মাহবুব আলম দাবি করেছেন, তিনি আন্নি আক্তারকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন। পুলিশকে তিনি তালাকের একটি কাগজ দিয়েছেন বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে আন্নির দাবি, তিনি কোনো তালাকের কাগজ পাননি এবং তালাকের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন না। ফলে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের বর্তমান আইনি অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি বা আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর আন্নি আক্তার মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন। চন্দ্রিমা থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানায় নেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল থেকে রাজশাহীতে যাওয়ার অভিযোগটিও আলাদাভাবে আলোচনায় এসেছে। সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট জানিয়েছেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি ছিল না এবং তিনি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই রাজশাহীতে যান। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নৌকা স্থগিত রেখেই জাতীয় নির্বাচনের জন্য ১২০ প্রতীক চূড়ান্ত করল নির্বাচন কমিশন
নভেম্বরে তারেক রহমানের ভারত সফর চূড়ান্তে ঢাকা-দিল্লির আলোচনা; বাণিজ্য, সীমান্ত ও গঙ্গার পানিবণ্টন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশি গবেষকের স্টার্টআপ কিনল অ্যাপল, মস্তিষ্কের সংকেত শনাক্তে নতুন প্রযুক্তি
গাজীপুরের চন্দ্রা-কোনাবাড়ী এলাকায় ব্যতিক্রমী এক পারিবারিক সম্পর্কের গল্প সামনে এসেছে। আব্দুর রহমান নামের এক ব্যক্তি চার বছর ধরে দুই স্ত্রীকে নিয়ে একই সংসারে বসবাস করছেন। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে আপত্তি না করে বরং নিজেই উদ্যোগ নিয়েছিলেন প্রথম স্ত্রী রুমা আক্তার। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে পারিবারিকভাবে রুমা আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় আব্দুর রহমানের। দীর্ঘদিন একসঙ্গে সংসার করার পর একপর্যায়ে নাজনিন সুলতানা নামের আরেক নারীকে পছন্দ করেন তিনি। বিষয়টি গোপন না রেখে স্বামী প্রথম স্ত্রীকে জানান। এরপর রুমা স্বামীর ইচ্ছাকে মেনে নিয়ে দ্বিতীয় বিয়েতে সম্মতি দেন। পরে রুমা নিজে উপস্থিত থেকে কাজী অফিসে বিয়ের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। বিয়ে শেষে নাজনিনকে পরিবারের সদস্য হিসেবে ঘরে তুলে আনেন তিনি। সেই থেকে প্রায় চার বছর ধরে দুই স্ত্রীকে নিয়েই চলছে আব্দুর রহমানের সংসার। বর্তমানে এই পরিবারে মোট তিন সন্তান রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। এই পরিবারের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো দুই স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক। সাধারণত সতিনের সম্পর্ককে ঘিরে পারিবারিক দ্বন্দ্বের নানা ঘটনা শোনা গেলেও আব্দুর রহমানের পরিবারের চিত্র ভিন্ন। রুমা ও নাজনিনের মধ্যে গড়ে উঠেছে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তারা একে অপরকে বোনের মতো সহযোগিতা করেন বলে পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য। শুধু ঘরের কাজেই নয়, বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের একসঙ্গে দেখা যায়। বাজার করতে যাওয়া, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া কিংবা পারিবারিক বিভিন্ন কাজে তারা পাশাপাশি থাকেন। দীর্ঘদিন একই সংসারে থাকার ফলে তাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়াও তৈরি হয়েছে বলে পরিবারটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আব্দুর রহমান জানান, দুই স্ত্রীকে নিয়ে সংসার পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি দুজনের প্রতি সমান অধিকার ও মর্যাদা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। সমাজের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন এবং কৌতূহল দেখান। তবে এসবের বাইরে পারিবারিক শান্তি বজায় রাখাকেই তিনি গুরুত্ব দেন বলে জানান। তবে এই পরিবারের অভিজ্ঞতা যে সবার ক্ষেত্রে একই হবে, এমন কোনো সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বহুবিবাহের সামাজিক, পারিবারিক ও আইনি বিষয় দেশভেদে এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। আব্দুর রহমানের পরিবারের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর সম্মতি এবং দুই স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্কই ঘটনাটিকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। চার বছর ধরে একই সংসারে দুই স্ত্রীকে নিয়ে বসবাসের এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই পরিবারের পারস্পরিক বোঝাপড়া নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে পরিবারের সদস্যদের কাছে এটি এখন তাদের স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন, যেখানে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারস্পরিক সম্মতি, সহযোগিতা ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: কালবেলা
মর্গে ৫ দিন পড়ে ছিল মরদেহ, হঠাৎ জীবিত হয়ে ওঠেন খোরশেদ, চমকে যায় সবাই
দুই কিডনি বিকল, মায়ের কিডনি মিললেও মারা যাওয়ার ভয়ে কিডনি দিবেন না মা!
‘কিছু হবে না’ বলে পটকা মাছ খেয়ে অসুস্থ দোকানির প্রাণ গেল
শাপলা চত্বর মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বেনজীর আহমেদসহ পলাতক ৩০ অভিযুক্তের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিষয়ে এ আদেশ দেন। মামলায় মোট ৪১ জন অভিযুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ জন বর্তমানে পলাতক এবং তাদের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে মামলায় অভিযুক্ত আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বুধবার সকালে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে তাঁর আবেদন নাকচ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে হাসানুল হক ইনু, দীপু মনি, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল আহসান ও ফারজানা রুপাসহ ১১ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলার পলাতক অভিযুক্তদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার জন্য এর আগে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কেউ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেননি। পরে তাদের পক্ষে আইনি কার্যক্রম নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৭ জুলাই শাপলা চত্বরের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। মামলাটি ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রাণহানির ঘটনাকে ঘিরে করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে আসামিদের পারস্পরিক যোগসাজশে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।
ব্রিকসে না গিয়ে দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছেন তারেক রহমান: রিজভী
ভুয়া মার্কিন কূটনীতিক সেজে প্রতারণা, মার্কিন দূতাবাসের জরুরি সতর্কতা