১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ, সরকারি ভবনেও বড় পরিকল্পনা
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি পর্যায়ে বড় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশানের বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মধ্যেই এ উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে সচিবালয়, জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারি স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের এই উদ্যোগের পেছনে সাধারণ মানুষের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার উৎসাহিত করার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মীর শাহে আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার আগে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেই এর ব্যবহার বাড়িয়ে উদাহরণ তৈরি করতে হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরিকল্পনায় বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন এবং পরিকল্পনা কমিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য সৌরবিদ্যুৎকে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সগুলো। মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রস্তুত থাকা ৩ হাজার ৪১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভবনে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ কর্মসূচির জন্য মোট ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব অনুযায়ী, এক ঘণ্টার ব্যাকআপসহ ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ লাখ ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। উপজেলা প্রকৌশলীদের দ্রুত এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সকে এই কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়ার কারণ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব স্থাপনায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে আসেন। সেখানে সৌর প্যানেল ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দৃশ্যমান হলে সাধারণ মানুষ প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাবেন এবং নিজেদের বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহী হতে পারেন।
সরকারের পরিকল্পনায় শুধু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের বিষয়টিও রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে নিজস্ব চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন সরকারি ভবনগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। গত আগস্টে মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পাশাপাশি জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি অফিসেও পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের মতে, এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমেও জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১২টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রায় ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বায়ু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও কৃষিজমিতে সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তিসহ অন্যান্য উৎস থেকেও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্রেডার তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৮৫২ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত এবং প্রায় ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট গ্রিডের বাইরে ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ১ অক্টোবর থেকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ঘোষণাকে তাই বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং সরকারি স্থাপনা থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার পর্যায় পর্যন্ত সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের বৃহত্তর কর্মসূচির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুতের প্রচলিত উৎসের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি সরকারি ভবনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও দৃশ্যমান হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreসিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে আবারও দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী দানের ডেগ খুলে অর্থ গণনা করা হচ্ছে। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে এই গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল ৯টার পর মাজারের দানবাক্স ও তিনটি ঐতিহ্যবাহী ডেগের তালা খোলা হয়। এরপর সেখান থেকে পাওয়া টাকা মাজার প্রাঙ্গণে এনে গণনা শুরু করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শুরুর সময় নিয়ে সামান্য পার্থক্য রয়েছে—কোনোটিতে সকাল ৯টা, আবার কোনোটিতে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের কথা বলা হয়েছে। এবার দানবাক্স ও ডেগ থেকে নগদ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী পাওয়া গেছে। একটি স্থানীয় প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্টদের বরাতে বলা হয়েছে, দানবাক্সগুলো থেকে প্রায় চার বস্তা টাকা বের হয়েছে। তবে গণনা শেষ হওয়ার আগে মোট অর্থের চূড়ান্ত পরিমাণ জানা যায়নি। মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত ১৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে গণনা চলছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। এর আগে গত ১৫ আগস্ট তৃতীয়বারের মতো দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনা করা হয়েছিল। তখন নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। ফলে প্রায় ৩৪ দিন পর আবার দানের অর্থ গণনা করা হচ্ছে। মাজারে বহু বছরের প্রচলিত প্রথা ভেঙে প্রথমবার প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনা করা হয় গত ২২ জুন। প্রথম দফায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। তৃতীয় দফার ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকাসহ জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে যোগ করা ৫ লাখ টাকা মিলিয়ে আগের তিন দফায় নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।গণনা শেষে দানের অর্থ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে নির্ধারিত হিসাবে জমা রাখার কথা রয়েছে।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত
রাজধানীতে নাশকতা ঠেকাতে দুই শতাধিক চেকপোস্ট, মোটরসাইকেলে বিশেষ নজরদারি
১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ, সরকারি ভবনেও বড় পরিকল্পনা
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। নতুন পে-স্কেল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। নতুন কাঠামোয় আগের মতো ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। গ্রেডভেদে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। তবে নতুন বর্ধিত মূল বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। গেজেট অনুযায়ী, তিন ধাপে এটি বাস্তবায়ন হবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপ এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শতভাগ বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে। নতুন পে-স্কেলের বর্ধিত ভাতা পেতে অবশ্য আরও অপেক্ষা করতে হবে। গেজেট অনুযায়ী, বর্ধিত ভাতার সুবিধা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান পেনশনভোগীরাও নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবেন। সরকারের অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পেনশনভোগী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন। পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এর আগে ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভা নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন করে। তখনই জানানো হয়েছিল, নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে এবং অর্থ বিভাগ পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় গেজেট, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার গেজেট প্রকাশ করা হলো। গেজেট প্রকাশের ফলে এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ফিক্সেশন, বর্ধিত বেতন ও বকেয়া হিসাব নির্ধারণের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। অর্থাৎ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও নতুন বেতন কাঠামোর টাকা হাতে পাওয়ার প্রক্রিয়া নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বাস্তবায়ন কার্যক্রমের ওপর।
মায়ের আইফোন নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ, জঙ্গলে মিলল ১৩ বছরের অপ্রতিমের মরদেহ
দুপুরের পরই প্রকাশ হতে পারে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন
যে কোনো সময় আসতে পারে এক দফা দাবি জামায়াত আমিরের হুশিয়ার
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের কানলী গ্রামের তরুণ রিজভী ইসলাম নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে চাকরি পেয়েছেন। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, এনওয়াইপিডিতে তিনি ট্রাফিক-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে কাজ করবেন। এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রিজভী ইসলাম কানলী গ্রামের শাহিনুল ইসলাম ওরফে দুলালের ছেলে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তিনি স্বপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে যাওয়ার পর নিজের ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তুতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যান। রিজভীর চাচা সাইদুল ইসলাম সেলিম জানান, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর থেকেই রিজভী নিজের পেশাগত ভবিষ্যৎ গড়তে নিয়মিত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর এনওয়াইপিডির ট্রাফিক-সংশ্লিষ্ট বিভাগে চাকরির সুযোগ পান তিনি। রিজভীর এই অর্জনে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি কানলী গ্রামের মানুষের মধ্যেও আনন্দ দেখা দিয়েছে। বিয়ানীবাজারের একজন তরুণ হিসেবে নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগে কাজের সুযোগ পাওয়াকে স্থানীয়রা তাঁর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন পরিবেশে বসবাস শুরু করার পর অল্প সময়ের মধ্যে পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে রিজভীর এই অর্জন তাঁর পরিবারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এনওয়াইপিডিতে তাঁর নির্দিষ্ট পদবি, নিয়োগের তারিখ এবং দায়িত্বের বিস্তারিত বিষয়ে প্রকাশ্য সরকারি সূত্রে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ প্রস্তুতি ও প্রচেষ্টার পর পাওয়া এই চাকরির মাধ্যমে রিজভীর যুক্তরাষ্ট্রের পেশাজীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
বুয়েটের মেকানিক্যাল থেকে শিক্ষকতা, এবার পিএইচডির জন্য প্রিন্সটনে সানজানা
স্ত্রীর অপারেশন নিয়ে দুশ্চিন্তায় অজ্ঞান স্বামী, ভিডিও ভাইরাল