ঈদের দিন জিয়া উদ্যানে কবরের ওপর উঠে যুবকের আত্মহত্যাচেষ্টা
রাজধানীর জিয়া উদ্যানে ঈদের দিন এক যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia-এর সমাধির ওপর উঠে পড়েন। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই যুবক জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করে হঠাৎ মাজারের ওপর উঠে পড়েন এবং ব্লেড দিয়ে নিজের শরীর ক্ষতবিক্ষত করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের গলায়ও আঘাত করার চেষ্টা করেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, তিনি সমাধির ওপর গড়াগড়ি দিচ্ছেন। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণে এনে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।
ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) কাজী মুস্তাফিজ জানান, ওই যুবক ঘুরতে এসে হঠাৎ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ও উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে Shaheed Suhrawardy Medical College Hospital-এ পাঠানো হয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreবাসাবাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে বাড়তি আয় করার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করলে প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে প্রণোদনা পাওয়া যাবে। এ সুবিধা পেতে হলে নির্ধারিত সময়সীমা ও কারিগরি শর্ত পূরণ করতে হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ গত ১ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়েছে, নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুসরণ করে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যোগ্য ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করে জাতীয় গ্রিডে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করলে পরবর্তী তিন বছর এ প্রণোদনা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা দেওয়া হবে। বিশেষ এই সুবিধা ব্যাটারিসহ নির্ধারিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য প্রযোজ্য। নির্ধারিত সময়ের পরে স্থাপন করা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এ বিশেষ প্রণোদনা পাওয়া যাবে না। প্রণোদনার অর্থ গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব অথবা অনুমোদিত মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাবে জমা দেওয়া হবে। প্রতি তিন মাস পরপর অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই নগদ অর্থ দেওয়া হবে না। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো গ্রাহকের তথ্য, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ এবং প্রণোদনাসহ বিদ্যুতের মূল্যের হিসাব সংরক্ষণ করবে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো। ছাদে সৌর প্যানেল বসালে দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি নিজস্ব কাজে ব্যবহার করা যায়। এতে গ্রিড থেকে কেনা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজস্ব চাহিদা পূরণের পরও অবশিষ্ট থাকলে নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যায়। নেট মিটারিংয়ে দ্বিমুখী মিটারের সাহায্যে গ্রিড থেকে নেওয়া এবং গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের হিসাব রাখা হয়। ফলে গ্রাহক নিজের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করার পাশাপাশি উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের হিসাবও পান। তবে কতটুকু বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করেই প্রণোদনার হিসাব নির্ধারিত হবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের সম্ভাব্য খরচ ও উৎপাদন সম্পর্কে ধারণা পেতে বিদ্যুৎ বিভাগের রুফটপ সোলার ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে। ছাদের মোট আয়তন এবং ব্যবহারযোগ্য জায়গার তথ্য দিলে এ ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে সম্ভাব্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষমতা, উৎপাদন এবং খরচ-লাভের প্রাথমিক হিসাব জানা সম্ভব। ক্যালকুলেটরের উদাহরণ অনুযায়ী, ২ হাজার বর্গফুটের একটি আবাসিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে মাসে গড়ে ১ হাজার ৮৩৩ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ হিসাবে বছরে উৎপাদন হতে পারে প্রায় ২১ হাজার ৯৯৬ ইউনিট। তবে প্রকৃত উৎপাদন ছাদের ব্যবহারযোগ্য জায়গা, সৌর প্যানেলের সক্ষমতা, সূর্যালোক এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে গ্রাহকেরা তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা নিতে পারবেন। এসব প্রতিষ্ঠান ছাদের উপযোগিতা যাচাই, সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করতে পারে। ব্যাটারি থাকলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করা সম্ভব। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও উপযুক্ত ব্যাকআপ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংরক্ষিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সৌর প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ ব্যবস্থাটির সব সরঞ্জাম বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড মেনে স্থাপন করতে হবে। এ বিষয়ে সহায়তা দিতে বিদ্যুৎ বিভাগ ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পাওয়া যাবে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসার বাড়াতে সরকার গত ১৯ অক্টোবর ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ-২০২৬’ জারি করেছে। এতে সর্বোচ্চ পাঁচ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সরকারি কোম্পানি এবং বেসরকারি স্থাপনাতেও এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে। বাসাবাড়ির ছাদ, আঙিনা, পরিত্যক্ত জমি, জলাশয় ও চা বাগানের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও শিল্প স্থাপনার ছাদেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ এবং কৃষিকাজের সঙ্গে সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাও অধ্যাদেশের আওতায় এসেছে। এ অধ্যাদেশে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য দুটি মডেল রাখা হয়েছে। ওপেক্স মডেলে বিনিয়োগকারী নিজ খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনা করবেন। চুক্তি অনুযায়ী গ্রাহক উৎপাদিত বিদ্যুতের জন্য মূল্য পরিশোধ করবেন। অন্যদিকে, ক্যাপেক্স মডেলে নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ করতে নির্দিষ্ট শর্তে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত পণ্য ও সেবা কেনার ক্ষেত্রে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির সুযোগও রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও সরঞ্জাম সুরক্ষায় বিভিন্ন অপরাধের শাস্তিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ বা যন্ত্রাংশ চুরি, চোরাই সরঞ্জাম কেনাবেচা কিংবা হেফাজতে রাখার অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। সৌর প্যানেল বা যন্ত্রাংশ ভাঙচুর কিংবা ক্ষতিসাধনের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। অনুমতি ছাড়া অবৈধ সংযোগ স্থাপন এবং স্থাপন, পরিদর্শন বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রেও শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদী মনে করেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয়ের সুযোগ তৈরি করা সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এর সুফল পেতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি প্রণোদনার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত। তাঁর মতে, নেট মিটারিং সংযোগ পেতে বিদ্যমান জটিলতা দূর করা জরুরি। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোকে এক মাসের মধ্যে সংযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া গেলে কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রণোদনার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সরকার কীভাবে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ কিনবে, সে বিষয়ে আগেভাগে স্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে জীবাশ্ম জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এ কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বাধ্যবাধকতা আরোপের পাশাপাশি বেসরকারি গ্রাহকদেরও এ ব্যবস্থায় উৎসাহিত করা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ ও বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ সাধারণ গ্রাহকদের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় আগ্রহী করবে। তবে কর্মসূচির সফলতা নির্ভর করবে সময়মতো সংযোগ পাওয়া, কারিগরি মান বজায় রাখা, প্রণোদনার অর্থ নিয়মিত পরিশোধ এবং ভবিষ্যতে উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণের নীতির ওপর।
২০২৬ সালে মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ, পূর্বাভাস আইএমএফের
শ্যালিকাকে বিয়ে করে বিতর্কে মাসুদ রানা, এবার মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে বের করে দিল গ্রামবাসী
তাশরীফের বাবার ১৭ থেকে ১৮টি বিয়ের দাবি, ভিডিওতে যা বললেন মা পরিচয় দেওয়া নারী
মানুষের শেষ বিদায়ের প্রস্তুতিতে বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন হাফেজ শিকদার। কারও মৃ ত্যুর খবর পেলেই ছুটে যেতেন কবর খনন করতে। বিনা পারিশ্রমিকে নিজের হাতে খুঁড়েছেন ৩৯৬টি কবর। ইচ্ছা ছিল, আরও চারটি কবর খুঁড়ে সংখ্যাটি ৪০০-তে নিয়ে যাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই মা রা গেছেন তিনি। মৃ ত্যুর আগেই বাড়ির সামনে নিজের কবরের জায়গা প্রস্তুত করে রাখা এবং কাফনের কাপড় কিনে রাখার ঘটনাও এখন স্মরণ করছেন স্বজনেরা। ৭০ বছর বয়সী হাফেজ শিকদার পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও মানুষের শেষ বিদায়ের প্রস্তুতিতে বিনা পারিশ্রমিকে সহযোগিতা করার কারণে এলাকায় তাঁর বিশেষ পরিচিতি ছিল। রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃ ত্যু হয়। পরদিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে কুয়াকাটায় জানাজা শেষে নিজ বাড়ির সামনে তাঁকে দাফন করা হয়। সোমবার সকাল ১০টার দিকে কুয়াকাটা খানকা সাহালিয়া কমপ্লেক্স মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন। তাঁর মৃ ত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। হাফেজ শিকদারের মেজো ছেলে মো. হারিস শিকদার জানান, আশপাশের এলাকায় কারও মৃ ত্যুর খবর পেলেই তাঁর বাবা কবর খননের জন্য ছুটে যেতেন। কোনো পারিশ্রমিক না নিয়েই তিনি এ কাজ করতেন। এভাবেই দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের শেষ বিদায়ের প্রস্তুতিতে পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। হারিস শিকদার বলেন, তাঁর বাবার ইচ্ছা ছিল আরও চারটি কবর খুঁড়ে মোট সংখ্যা ৪০০-তে উন্নীত করা। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়ার আগেই তিনি মা রা গেলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এলাকা ও আশপাশে কারও মৃ ত্যুর খবর শুনলেই বাবা কবর খুঁড়তে ছুটে যেতেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল, আরও চারটি কবর খননের মাধ্যমে সংখ্যাটি ৪০০ পূর্ণ করবেন। কিন্তু তার আগেই তিনি চলে গেলেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।’ হাফেজ শিকদারের ছোট ছেলে এসএম আলমাস জানান, নিজের মৃ ত্যুর কথা ভেবে আগেই বাড়ির সামনে কবরের জায়গা প্রস্তুত করে রেখেছিলেন তাঁর বাবা। শুধু তা-ই নয়, নিজের কাফনের কাপড়ও দোকান থেকে কিনে রেখেছিলেন। আলমাস বলেন, ‘বাবা গতকালও আমাদের মাঝে ছিলেন, কিন্তু আজ আর নেই। তিনি আগে থেকেই বাড়ির সামনে নিজের জন্য কবরের জায়গা প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। এমনকি নিজের কাফনের কাপড়ও দোকানে কিনে রেখে গিয়েছিলেন। বাবা আমাদের ছয় ভাই-বোনকে খুব ভালোবাসতেন। এলাকার সবাই তাঁকে খুব পছন্দ করতেন।’ মানুষের শেষ বিদায়ের প্রস্তুতিতে বিনা পারিশ্রমিকে পাশে দাঁড়ানো হাফেজ শিকদারের জীবনের এই অধ্যায় এখন কুয়াকাটার মানুষের স্মৃতিতে রয়ে গেল। ৩৯৬টি কবর খননের পর তাঁর চলে যাওয়ায় অপূর্ণ থেকে গেল ৪০০ পূরণের ইচ্ছা।
ঘরে বসেই টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে, জেনে নিন আবেদনের নিয়ম
এক দিনের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর হলেন নবম শ্রেণির লাবনী
আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে ফেরার সুযোগ পাবেন বাংলাদেশি কর্মীরা
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটবাউর গ্রামের এক পরিবারে আট ভাই-বোনের মধ্যে চারজনই খর্বাকৃতির। তাঁদের মধ্যে দুই ভাই কিছুটা হাঁটাচলা করতে পারলেও দুই বোন দাঁড়াতে পারেন না। খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজ—সবকিছুর জন্যই অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন হয় তাঁদের। এর ওপর বাড়িতে যাতায়াতের উপযুক্ত রাস্তা না থাকায় তাঁদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শারীরিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি চলাচলের এই সংকট পরিবারটির স্বাভাবিক জীবনযাপনকে কঠিন করে তুলেছে। বিশেষ করে দুই বোনকে বাড়ির বাইরে নেওয়া কিংবা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের পড়তে হয় বিপাকে। এই চার ভাই-বোন হলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দীঘি ইউনিয়নের ভাটবাউর গ্রামের মৃত হযরত আলী ও জহুরা বেগমের সন্তান মোছা. হাবিয়া (৬৪), মোছা. মেহেরজান (৫৮), ইজ্জত আলী (৫২) ও সিরাজ আলী (৪৮)। তাঁদের বাবা-মায়ের আট সন্তানের মধ্যে পাঁচ মেয়ে ও তিন ছেলে। বাকি চার ভাই-বোন ছবিয়া বেগম (৬১), আফেলা বেগম (৫৫), লিটন মিয়া (৪৬) ও দাপালি বেগম (৪২)। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, চার ভাই-বোন জন্মগতভাবে খর্বাকৃতির ছিলেন না। শৈশবে অসুস্থ হওয়ার পর তাঁদের শারীরিক সমস্যার সূত্রপাত হয়। মা জহুরা বেগম জানান, প্রথম সন্তান হাবিয়ার বয়স যখন সাত বছর, তখন তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। জ্বর সেরে যাওয়ার কয়েক দিন পর হাঁটাচলায় অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। পরে কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করিয়েও কোনো উন্নতি হয়নি। অন্য তিন সন্তানের ক্ষেত্রেও সাত থেকে আট বছর বয়সে হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার পর হাঁটাচলায় সমস্যা দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে তাঁদের দুজনের চলাফেরার সক্ষমতা এতটাই সীমিত হয়ে পড়ে যে তাঁরা এখন দাঁড়াতেও পারেন না। সন্তানদের শারীরিক অবস্থার কারণে গ্রামের মানুষের নানা কটূক্তিও সহ্য করতে হয়েছে জহুরা বেগমকে। তাঁর কথায়, বাড়ির বাইরে বের হলে মানুষ তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা করত, এখনো করে। পরিবারটির দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে মেহেরজান বলেন, তাঁদের কষ্টের খোঁজ কেউ নেন না। প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারের বোঝা হয়ে আছেন বলে তাঁর মনে হয়। হুইলচেয়ারে করে বাইরে নিয়ে যাওয়ার মতো রাস্তাও নেই। নানা দিক থেকে তাঁদের কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। পরিবারটির বসবাসের জায়গায় পৌঁছাতে ভাটবাউর বাজারের পাকা সড়কের পাশের কয়েকটি বাড়ির ওপর দিয়ে যেতে হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, হাবিয়া ও মেহেরজানকে ঘর থেকে বাইরে আনতে তাঁদের মা ও ভাই লিটন মিয়াকে কোলে তুলে নিতে হয়। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁদের খাওয়ান। এমনকি প্রাকৃতিক কাজ সারতেও তাঁদের অন্যের সহায়তা নিতে হয়। অন্যদিকে, খর্বাকৃতির হলেও ইজ্জত আলী ও সিরাজ আলী কিছুটা স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন। তাঁরা ভাটবাউর বাজারে সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে পান-সিগারেটের দোকান চালান। তবে সেখান থেকে তাঁদের আয় খুবই সামান্য। পরিবারের প্রধান উপার্জনের উৎসের মধ্যে রয়েছে এই দোকানের আয়, জমির ফসল এবং সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা। প্রায় দুই বছর ধরে চার ভাই-বোন সরকারি ভাতা পাচ্ছেন। তবে এই সহায়তায় সংসারের প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুশিয়া আক্তার জানান, চার ভাই-বোনের প্রত্যেককে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়। প্রতি তিন মাসে তাঁরা ৩ হাজার টাকা করে পান। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী দুই ভাইকে একটি ট্রাইসাইকেলও দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র ব্যবসা করার জন্য তাঁদের ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। পরিবারটির আর্থিক সংকটের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ। ইজ্জত আলীর দুই ছেলে ইয়াসির আরাফাত (২২) ও আলিফ আহম্মেদ (২০) উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। তাঁরা সুস্থ ও স্বাভাবিক। তবে অভাবের সংসারে বড় ছেলে আরাফাত সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছেন। ইজ্জত আলীর আশা, ছেলের সরকারি চাকরি হলে পরিবারের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে। ইজ্জত আলী বিয়ে করলেও অন্য তিন ভাই-বোনের বিয়ে হয়নি। তাঁরা একই বাড়িতে থাকেন। সুস্থ চার ভাই-বোনের মধ্যে তিন মেয়ে ও এক ছেলের বিয়ে দিয়েছেন জহুরা বেগম। বর্তমানে প্রতিবন্ধী চার সন্তান, এক ছেলে, দুই পুত্রবধূ ও দুই নাতিকে নিয়ে তাঁর সংসার। পরিবারটির সদস্যরা জানান, বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় তাঁদের দুর্ভোগের শেষ নেই। দুই বোনকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলেও সহজে বের করা যায় না। প্রায় দুই বছর আগে প্রতিবেশীদের সহায়তায় রাস্তায় কিছু মাটি ফেলা হয়েছিল। কিন্তু অর্থের অভাবে পরে আর কাজ এগোয়নি। সরকারি কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তাটি নির্মাণ করা গেলে অন্তত হুইলচেয়ারে করে দুই বোনকে বাড়ির বাইরে আনা-নেওয়া সম্ভব হতো। স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজসেবক আমজাদ হোসেন বলেন, পরিবারটির চার সদস্যের শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁদের দৈনন্দিন জীবন এমনিতেই কঠিন। তার ওপর বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা না থাকায় সমস্যা আরও বেড়েছে। শুধু এই পরিবার নয়, আশপাশের অন্তত আরও ১০টি পরিবার চলাচলের রাস্তা না থাকায় অন্যের বাড়ির ওপর দিয়ে যাতায়াত করে। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাসরিন জানান, পরিবারটির পরিস্থিতি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। প্রতিবন্ধী এই পরিবারসহ আশপাশের অন্য পরিবারগুলোর চলাচলের সুবিধার জন্য রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সম্প্রতি প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে পরিবারটিকে একটি সেলাই মেশিন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী উপহার দেওয়া হয়েছে। প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বন্ধুসভার সদস্যরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে এসব উপহার তুলে দেন।
সাঈদী আল্লাহর ওলি ছিলেন, ভাই কেন সাক্ষ্য দিয়েছেন জানেন না মানিকের বোন
ময়মনসিংহ মেডিকেল থেকে অক্সফোর্ড! লন্ডনে চিকিৎসা ও গবেষণায় ডা. ফারাহ দিভা খান