চীনের কারখানায় ৮ ঘণ্টার শিফট শেষ করে ইতিহাস গড়ল শাওমির হিউম্যানয়েড রোবট
চীনে নিজেদের গাড়ি তৈরির কারখানায় মানবাকৃতির রোবটের সক্ষমতা পরীক্ষা করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি। পরীক্ষায় রোবটগুলো ৮ ঘণ্টা ৫ মিনিট ধরে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বাছাই করে নির্দিষ্ট জায়গায় সাজানোর কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের মানবাকৃতির রোবটের ক্ষেত্রে এটিই প্রথমবারের মতো আট ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কারখানার কাজে অংশ নেওয়ার পরীক্ষা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে গাড়ি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যতে রোবট ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করছে শাওমি।
পরীক্ষায় রোবটগুলোকে গাড়ির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ অংশের দুই পাশের আবরণ বা প্যানেল নির্দিষ্ট স্থান থেকে তুলে সংরক্ষণের তাকের নির্ধারিত ঘরে রাখতে বলা হয়। এসব প্যানেল গাড়ির সামনের আসন দুটির মাঝখানে থাকা কেন্দ্রীয় কনসোলের পাশের অংশে ব্যবহার করা হয়। কাজটি করতে রোবটগুলোকে যন্ত্রাংশের বাক্স থেকে প্যানেল তুলে নির্দিষ্ট তাক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়েছে। এরপর সেগুলো সঠিক অবস্থানে সাজাতে হয়েছে। শাওমির প্রকাশিত ভিডিওতে এই কাজের বিভিন্ন ধাপ দেখা যায়।
পরীক্ষার সময় রোবটগুলোকে দুইবার ব্যাটারি চার্জ দিতে হয়েছে। প্রথমবার ৩ ঘণ্টা ২ মিনিট কাজের পর এবং দ্বিতীয়বার ৬ ঘণ্টা ৩ মিনিটের মাথায় চার্জের জন্য বিরতি নেয় তারা। ফলে ৮ ঘণ্টা ৫ মিনিটের সময়টিকে একটানা বিরতিহীন কাজের সময় বলা যাবে না; এটি চার্জ দেওয়ার বিরতিসহ পরীক্ষায় নথিভুক্ত মোট কার্যক্রমের সময়। শাওমির প্রকাশিত ভিডিওতে কাজের সময় গণনার পাশাপাশি রোবটগুলোর চার্জ নেওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।
পরীক্ষায় একটি রোবটের হাত থেকে যন্ত্রাংশ পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে চাকার ওপর চলাচলকারী আরেকটি রোবট এসে সেটি তুলে নেয়। শাওমির দাবি, তাদের মানবাকৃতির রোবট উৎপাদন লাইনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে পারে এবং কাজের মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা শনাক্ত করে সমাধানের চেষ্টা করতে পারে। তবে পড়ে যাওয়া যন্ত্রাংশ উদ্ধারের ঘটনাটি দেখিয়েছে, এ ধরনের কাজে একাধিক ধরনের রোবটের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কিছু তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি শাওমি। আট ঘণ্টার বেশি সময়ে মোট কতটি যন্ত্রাংশ সাজানো হয়েছে, কতগুলো সঠিকভাবে নির্ধারিত স্থানে রাখা সম্ভব হয়েছে কিংবা পুরো প্রক্রিয়ায় কতবার মানুষের সহায়তা নিতে হয়েছে, তা জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে শুধু কাজের সময়ের ভিত্তিতে রোবটগুলোর উৎপাদন দক্ষতা বা মানুষের সমান গতিতে কাজ করার সক্ষমতা যাচাই করা যাচ্ছে না। পরীক্ষাটি আপাতত কারখানার নির্দিষ্ট একটি কাজে রোবটের সক্ষমতা যাচাইয়ের উদ্যোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
গাড়ি উৎপাদনে রোবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি শাওমির প্রথম পরীক্ষা নয়। চলতি বছরের মার্চে প্রতিষ্ঠানটি বেইজিংয়ের বৈদ্যুতিক গাড়ি কারখানায় তিন ঘণ্টার একটি পরীক্ষায় মানবাকৃতির রোবট দিয়ে গাড়ির মেঝেতে নাট লাগানোর কাজ করিয়েছিল। সে সময় শাওমি জানিয়েছিল, দুই পাশে একসঙ্গে নাট লাগানোর কাজে রোবটের সাফল্যের হার ছিল ৯০ দশমিক ২ শতাংশ এবং প্রতিটি গাড়ির জন্য নির্ধারিত ৭৬ সেকেন্ডের উৎপাদন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে পেরেছিল। নতুন পরীক্ষায় যন্ত্রাংশ সাজানোর মতো ভিন্ন ধরনের কাজে রোবটের দীর্ঘ সময় কাজ করার সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে।
শাওমির এই উদ্যোগের লক্ষ্য ভবিষ্যতে গাড়ি উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে মানবাকৃতির রোবট ব্যবহার করা। তবে পরীক্ষায় পাওয়া ফলাফল এখনই ব্যাপকভাবে কারখানায় এসব রোবট ব্যবহারের প্রস্তুতি প্রমাণ করে না। কাজের গতি, নির্ভুলতা, ব্যাটারির কার্যক্ষমতা এবং মানুষের সহায়তা ছাড়াই কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে পারে, এসব বিষয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন।
সূত্র: শাওমি টেকের প্রকাশিত ভিডিও ও ঘোষণা, ইন্টারেস্টিং ইঞ্জিনিয়ারিং, রোবোটিকা গাইড।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
বিশ্ব
View moreচীনে নিজেদের গাড়ি তৈরির কারখানায় মানবাকৃতির রোবটের সক্ষমতা পরীক্ষা করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি। পরীক্ষায় রোবটগুলো ৮ ঘণ্টা ৫ মিনিট ধরে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বাছাই করে নির্দিষ্ট জায়গায় সাজানোর কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের মানবাকৃতির রোবটের ক্ষেত্রে এটিই প্রথমবারের মতো আট ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কারখানার কাজে অংশ নেওয়ার পরীক্ষা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে গাড়ি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যতে রোবট ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করছে শাওমি। পরীক্ষায় রোবটগুলোকে গাড়ির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ অংশের দুই পাশের আবরণ বা প্যানেল নির্দিষ্ট স্থান থেকে তুলে সংরক্ষণের তাকের নির্ধারিত ঘরে রাখতে বলা হয়। এসব প্যানেল গাড়ির সামনের আসন দুটির মাঝখানে থাকা কেন্দ্রীয় কনসোলের পাশের অংশে ব্যবহার করা হয়। কাজটি করতে রোবটগুলোকে যন্ত্রাংশের বাক্স থেকে প্যানেল তুলে নির্দিষ্ট তাক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়েছে। এরপর সেগুলো সঠিক অবস্থানে সাজাতে হয়েছে। শাওমির প্রকাশিত ভিডিওতে এই কাজের বিভিন্ন ধাপ দেখা যায়। পরীক্ষার সময় রোবটগুলোকে দুইবার ব্যাটারি চার্জ দিতে হয়েছে। প্রথমবার ৩ ঘণ্টা ২ মিনিট কাজের পর এবং দ্বিতীয়বার ৬ ঘণ্টা ৩ মিনিটের মাথায় চার্জের জন্য বিরতি নেয় তারা। ফলে ৮ ঘণ্টা ৫ মিনিটের সময়টিকে একটানা বিরতিহীন কাজের সময় বলা যাবে না; এটি চার্জ দেওয়ার বিরতিসহ পরীক্ষায় নথিভুক্ত মোট কার্যক্রমের সময়। শাওমির প্রকাশিত ভিডিওতে কাজের সময় গণনার পাশাপাশি রোবটগুলোর চার্জ নেওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে। পরীক্ষায় একটি রোবটের হাত থেকে যন্ত্রাংশ পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে চাকার ওপর চলাচলকারী আরেকটি রোবট এসে সেটি তুলে নেয়। শাওমির দাবি, তাদের মানবাকৃতির রোবট উৎপাদন লাইনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে পারে এবং কাজের মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা শনাক্ত করে সমাধানের চেষ্টা করতে পারে। তবে পড়ে যাওয়া যন্ত্রাংশ উদ্ধারের ঘটনাটি দেখিয়েছে, এ ধরনের কাজে একাধিক ধরনের রোবটের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কিছু তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি শাওমি। আট ঘণ্টার বেশি সময়ে মোট কতটি যন্ত্রাংশ সাজানো হয়েছে, কতগুলো সঠিকভাবে নির্ধারিত স্থানে রাখা সম্ভব হয়েছে কিংবা পুরো প্রক্রিয়ায় কতবার মানুষের সহায়তা নিতে হয়েছে, তা জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে শুধু কাজের সময়ের ভিত্তিতে রোবটগুলোর উৎপাদন দক্ষতা বা মানুষের সমান গতিতে কাজ করার সক্ষমতা যাচাই করা যাচ্ছে না। পরীক্ষাটি আপাতত কারখানার নির্দিষ্ট একটি কাজে রোবটের সক্ষমতা যাচাইয়ের উদ্যোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। গাড়ি উৎপাদনে রোবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি শাওমির প্রথম পরীক্ষা নয়। চলতি বছরের মার্চে প্রতিষ্ঠানটি বেইজিংয়ের বৈদ্যুতিক গাড়ি কারখানায় তিন ঘণ্টার একটি পরীক্ষায় মানবাকৃতির রোবট দিয়ে গাড়ির মেঝেতে নাট লাগানোর কাজ করিয়েছিল। সে সময় শাওমি জানিয়েছিল, দুই পাশে একসঙ্গে নাট লাগানোর কাজে রোবটের সাফল্যের হার ছিল ৯০ দশমিক ২ শতাংশ এবং প্রতিটি গাড়ির জন্য নির্ধারিত ৭৬ সেকেন্ডের উৎপাদন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে পেরেছিল। নতুন পরীক্ষায় যন্ত্রাংশ সাজানোর মতো ভিন্ন ধরনের কাজে রোবটের দীর্ঘ সময় কাজ করার সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। শাওমির এই উদ্যোগের লক্ষ্য ভবিষ্যতে গাড়ি উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে মানবাকৃতির রোবট ব্যবহার করা। তবে পরীক্ষায় পাওয়া ফলাফল এখনই ব্যাপকভাবে কারখানায় এসব রোবট ব্যবহারের প্রস্তুতি প্রমাণ করে না। কাজের গতি, নির্ভুলতা, ব্যাটারির কার্যক্ষমতা এবং মানুষের সহায়তা ছাড়াই কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে পারে, এসব বিষয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন। সূত্র: শাওমি টেকের প্রকাশিত ভিডিও ও ঘোষণা, ইন্টারেস্টিং ইঞ্জিনিয়ারিং, রোবোটিকা গাইড।
যুক্তরাজ্যে পড়তে যেতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে দেখাতে হবে বাড়তি অর্থ, কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম
ইরানে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র, ৩ মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের
বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার উত্তর কোরিয়ার
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে পবিত্র কোরআন পোড়ানো ও অবমাননার ঘটনায় উগ্র ডানপন্থী কর্মী জেড স্যান্ডবার্গকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশটির আদালত। ২০২৪ সালের ওই ঘটনার প্রায় দুই বছর পর গত ৩০ অক্টোবর স্টকহোম জেলা আদালত এ রায় দেন। ৫০ বছর বয়সী স্যান্ডবার্গকে স্থগিত কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩ হাজার সুইডিশ ক্রোনা জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই জরিমানার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ও দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী স্যান্ডবার্গকে প্রতিদিন ১০০ ক্রোনা হিসাবে মোট ৩ হাজার ক্রোনা জরিমানা দিতে হবে। এ ছাড়া অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা তহবিলে ১ হাজার ক্রোনা এবং সরকারি আইনজীবীর খরচ বাবদ রাষ্ট্রকে ১৭ হাজার ক্রোনা পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে জরিমানা ও অন্যান্য খরচ বাবদ তার ওপর ২১ হাজার ক্রোনা আর্থিক দায় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালে স্টকহোমের একটি মসজিদের সামনে দেওয়া বক্তব্যের ঘটনায় স্যান্ডবার্গকে খালাস দিয়েছেন আদালত। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘আমরা আমাদের রাস্তায় কোনো মুসলিম দেখতে চাই না’ বলে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ছিল। আদালত ওই বক্তব্য-সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেননি। ফলে ২০২৪ সালের কোরআন অবমাননার ঘটনায় দণ্ডিত হলেও পরের বছরের ওই অভিযোগ থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট। সেদিন স্টকহোমের ওডেনপ্লান স্কয়ারে প্রকাশ্যে পবিত্র কোরআনের একটি কপি পোড়ান জেড স্যান্ডবার্গ। এরপর বইটিতে লাথি মারেন তিনি। পুরো ঘটনাটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সম্প্রচার করেন। এ ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করলেন। সুইডেনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হলেও দেশটির আইনে কোনো জাতিগত বা জাতীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো কিংবা তাদের অবমাননা করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ধর্মীয় মতাদর্শের সমালোচনা এবং কোনো ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর বক্তব্য বা আচরণের মধ্যে আইনি পার্থক্য রয়েছে। স্যান্ডবার্গের মামলার রায়েও ২০২৪ সালের কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে, তবে ২০২৫ সালের বক্তব্য-সংক্রান্ত অভিযোগে খালাস দেওয়া হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
১০ লাখের বেশি কর্মী নিয়ে শীর্ষে চীনের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি, পেছনে ফেলল টেসলা, টয়োটা ও ফোর্ডকে
৫ হাজার বছর আগেই ভারতের উড়ন্ত গাড়ি ছিল, ইলন মাস্কের টেসলার সঙ্গে রামায়ণের পুষ্পক রথের তুলনা রণবীরের
ইরানি নারীদের স্বাধীনতার দাবিতে সমর্থন না পেয়ে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন ছাড়লেন কানাডীয় নারী
দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি এমকিউএম-১৭০ ড্রোন অক্ষত অবস্থায় আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শুক্রবার বিকেলে উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেটি ভূপাতিত করা হয় বলে জানিয়েছে বাহিনীটির মহাকাশ বিভাগ। আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এটি দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের মার্কিন ড্রোন অক্ষত অবস্থায় তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ড্রোনটি কেশম দ্বীপের আকাশে শনাক্ত করার পর ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। পরে বাহিনীর সদস্যরা সেটি অক্ষত অবস্থায় জব্দ করেন। তবে ড্রোনটি কী ধরনের নজরদারি কার্যক্রম চালাচ্ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি বাহিনীটি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পার্স টুডে এ খবর প্রকাশ করেছে। এর আগে চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালির পশ্চিম অংশে একই মডেলের আরেকটি মার্কিন ড্রোন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছিল আইআরজিসির নৌবাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট ড্রোনটির দিকনির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে নিরাপদে অবতরণ করায়। ড্রোনটি পারস্য উপসাগরীয় উপকূল এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শনাক্ত করার কাজে নিয়োজিত ছিল বলেও দাবি করে বাহিনীটি। আইআরজিসি নৌবাহিনীর দাবি, ড্রোন থেকে উদ্ধার করা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ উপকূলের একটি দেশ থেকে উড্ডয়ন করেছিল। তবে কোন দেশ থেকে এটি উড়েছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি। বৃহস্পতিবারের ড্রোন আটকের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স ইরানের বক্তব্যকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন। শুক্রবার কেশম দ্বীপে ড্রোন আটকের নতুন দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমকিউএম-১৭০ মডেলের ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিফন অ্যারোস্পেস নির্মিত ‘আউটল’ সিরিজের একটি চালকবিহীন আকাশযান। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এটি মূলত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকির অনুকরণে ব্যবহারের জন্য তৈরি। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী এতে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর ও ক্যামেরা যুক্ত করা যায়। ফলে ড্রোনটির প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এর নির্দিষ্ট সরঞ্জাম ও মিশনসংক্রান্ত তথ্য জানা প্রয়োজন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ এ পথ দিয়ে চলাচল করে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি এ অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা এবং ড্রোনসংক্রান্ত পাল্টাপাল্টি দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে কেশম দ্বীপে ড্রোন আটকের সর্বশেষ দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সূত্র: পার্স টুডে, আনাদোলু এজেন্সি ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের বক্তব্য।
ইংল্যান্ডে লিভারপুল মসজিদ প্রতিষ্ঠা ও ৬০০ ব্রিটিশকে ইসলামে দীক্ষিত করেন আইনজীবী উইলিয়াম হেনরি
কারখানার শ্রমিক থেকে প্রযুক্তি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, চীনের শীর্ষ ধনী নারী ঝৌ কুনফেই