সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ইরান যুদ্ধের প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পালাবদল, ক্ষমতা হারানোর মুখে ট্রাম্পের দল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২১:২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মোজতবা খামেনেয়ী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মোজতবা খামেনেয়ী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের রাজনৈতিক প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাট পার্টি। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই নিউজউইক তাদের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছে’।

 

প্রতিবেদনটির মূল বক্তব্য হলো, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে, তার উল্টো প্রভাব পড়েছে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার রাজনীতিতে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এবং নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায়। ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও। 


১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস দখল করে ইরানি শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী গোষ্ঠীর সদস্যরা। এ ঘটনায় ৫২ জন মার্কিন কূটনীতিক ও নাগরিককে ৪৪৪ দিন জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। সংকটটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের প্রশাসনকে বড় রাজনৈতিক চাপে ফেলে। ৪৭ বছর পর একই তারিখে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম কার্টার ও ট্রাম্পের ছবি পাশাপাশি প্রকাশ করে শিরোনাম দেয়, ‘কার্টার থেকে ট্রাম্প, কীভাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের বিপাকে ফেলেছে’। দুই প্রেসিডেন্টের ছবিতেই লাল ক্রস চিহ্ন দিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়।

 

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে অন্তত ৫৪টি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২২৮টি আসন নিশ্চিত করেছে বলে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে। ফলে আইন পাস, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ট্রাম্পকে এখন বিরোধী দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর একটি অংশ ছিল ইরান।’ 


নিউজউইককে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিশ্লেষক ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সারির অধ্যাপক মার্ক শানাহান বলেন, এখন পর্যন্ত মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি তুলনামূলক কম হলেও যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব হিসেবে দেশে পণ্যমূল্য বেড়েছে। তাঁর মতে, টেক্সাস, কানসাস ও আইওয়ার মতো অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের কাছে পররাষ্ট্রনীতি মুখ্য বিষয় না হলেও দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বড় উদ্বেগের কারণ হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু ইরান সেই প্রতিশ্রুতির অসারতা তুলে ধরেছে।

 

নির্বাচনের আগে পরিচালিত গ্যালাপের এক জরিপে ৭৭ শতাংশ ভোটার ইরান যুদ্ধকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ অথবা ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি যুদ্ধের বিষয়টিও ভোটারদের বিবেচনায় ছিল। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ২৭ সেন্টে পৌঁছেছিল, যা আগের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের বাড়তি খরচ রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে।

 

ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রক্ষণশীল ভাষ্যকার ম্যাট ওয়ালশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুদ্ধকে গত দুই দশকের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ভুল বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। অন্যদিকে, স্ট্যান্ড টুগেদারের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রিড স্মিথ নির্বাচনের ফল প্রকাশের রাতে লেখেন, ‘এটা যুদ্ধের কারণেই হয়েছে।’

 

ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের (এনআইএসি) সভাপতি জামাল আবদি বলেন, নির্বাচনের আগে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে এলে ফল ভিন্ন হতে পারত। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অবরোধ বজায় রাখতে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি এবং জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে চলেছে। তাঁর মতে, ডেমোক্র্যাটদের জয়কে ভোটারদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা উচিত।

 

ইরানের নেতারাও রিপাবলিকানদের পরাজয়কে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে মার্কিন ভোটারদের অবস্থান হিসেবে তুলে ধরেছেন। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, মার্কিনরা যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন এবং ইরান সেই বার্তাকে সমর্থন করে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধানের উপদেষ্টা হামিদরেজা মোগাদ্দামফারও রিপাবলিকানদের পরাজয়কে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতির ব্যর্থতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। 


তবে ইরান যুদ্ধকেই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছেন না সব বিশ্লেষক। ফ্রান্সের এসইএসসি বিজনেস স্কুলের ভূরাজনীতি, প্রতিরক্ষা ও নেতৃত্ববিষয়ক কেন্দ্রের সহপরিচালক অরেলিয়াঁ কোলসন বলেন, অর্থনীতি নিয়ে মানুষের আস্থাহীনতা এবং ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ আগে থেকেই ছিল। ইরান যুদ্ধ সেই অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত সরাসরি মানুষের সংসারের খরচে প্রভাব ফেলেছে। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধটি যখন পেট্রল পাম্পের দামে প্রভাব ফেলেছে, তখন সেটি আর শুধু পররাষ্ট্রনীতির বিষয় থাকেনি, হয়ে উঠেছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রশ্ন।

 

নির্বাচনের ফলের পর ট্রাম্পের সামনে কংগ্রেসে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে থাকা দুই কক্ষের সঙ্গে কাজ করার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা খাতে পরিবর্তন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তদন্তের অঙ্গীকার করেছে। ফলে ইরান যুদ্ধের সামরিক ও কূটনৈতিক পরিণতির পাশাপাশি এর রাজনৈতিক প্রভাবও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বাকি দুই বছরকে কঠিন করে তুলতে পারে।

 

সূত্র: নিউজউইক, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

বিশ্ব

View more
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মোজতবা খামেনেয়ী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরান যুদ্ধের প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পালাবদল, ক্ষমতা হারানোর মুখে ট্রাম্পের দল

ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের রাজনৈতিক প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাট পার্টি। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই নিউজউইক তাদের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছে’।   প্রতিবেদনটির মূল বক্তব্য হলো, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে, তার উল্টো প্রভাব পড়েছে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার রাজনীতিতে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এবং নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায়। ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও।  ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস দখল করে ইরানি শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী গোষ্ঠীর সদস্যরা। এ ঘটনায় ৫২ জন মার্কিন কূটনীতিক ও নাগরিককে ৪৪৪ দিন জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। সংকটটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের প্রশাসনকে বড় রাজনৈতিক চাপে ফেলে। ৪৭ বছর পর একই তারিখে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম কার্টার ও ট্রাম্পের ছবি পাশাপাশি প্রকাশ করে শিরোনাম দেয়, ‘কার্টার থেকে ট্রাম্প, কীভাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের বিপাকে ফেলেছে’। দুই প্রেসিডেন্টের ছবিতেই লাল ক্রস চিহ্ন দিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়।   মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে অন্তত ৫৪টি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২২৮টি আসন নিশ্চিত করেছে বলে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে। ফলে আইন পাস, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ট্রাম্পকে এখন বিরোধী দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর একটি অংশ ছিল ইরান।’  নিউজউইককে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিশ্লেষক ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সারির অধ্যাপক মার্ক শানাহান বলেন, এখন পর্যন্ত মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি তুলনামূলক কম হলেও যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব হিসেবে দেশে পণ্যমূল্য বেড়েছে। তাঁর মতে, টেক্সাস, কানসাস ও আইওয়ার মতো অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের কাছে পররাষ্ট্রনীতি মুখ্য বিষয় না হলেও দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বড় উদ্বেগের কারণ হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু ইরান সেই প্রতিশ্রুতির অসারতা তুলে ধরেছে।   নির্বাচনের আগে পরিচালিত গ্যালাপের এক জরিপে ৭৭ শতাংশ ভোটার ইরান যুদ্ধকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ অথবা ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি যুদ্ধের বিষয়টিও ভোটারদের বিবেচনায় ছিল। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ২৭ সেন্টে পৌঁছেছিল, যা আগের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের বাড়তি খরচ রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে।   ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রক্ষণশীল ভাষ্যকার ম্যাট ওয়ালশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুদ্ধকে গত দুই দশকের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ভুল বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। অন্যদিকে, স্ট্যান্ড টুগেদারের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রিড স্মিথ নির্বাচনের ফল প্রকাশের রাতে লেখেন, ‘এটা যুদ্ধের কারণেই হয়েছে।’   ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের (এনআইএসি) সভাপতি জামাল আবদি বলেন, নির্বাচনের আগে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে এলে ফল ভিন্ন হতে পারত। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অবরোধ বজায় রাখতে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি এবং জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে চলেছে। তাঁর মতে, ডেমোক্র্যাটদের জয়কে ভোটারদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা উচিত।   ইরানের নেতারাও রিপাবলিকানদের পরাজয়কে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে মার্কিন ভোটারদের অবস্থান হিসেবে তুলে ধরেছেন। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, মার্কিনরা যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন এবং ইরান সেই বার্তাকে সমর্থন করে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধানের উপদেষ্টা হামিদরেজা মোগাদ্দামফারও রিপাবলিকানদের পরাজয়কে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতির ব্যর্থতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।  তবে ইরান যুদ্ধকেই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছেন না সব বিশ্লেষক। ফ্রান্সের এসইএসসি বিজনেস স্কুলের ভূরাজনীতি, প্রতিরক্ষা ও নেতৃত্ববিষয়ক কেন্দ্রের সহপরিচালক অরেলিয়াঁ কোলসন বলেন, অর্থনীতি নিয়ে মানুষের আস্থাহীনতা এবং ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ আগে থেকেই ছিল। ইরান যুদ্ধ সেই অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত সরাসরি মানুষের সংসারের খরচে প্রভাব ফেলেছে। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধটি যখন পেট্রল পাম্পের দামে প্রভাব ফেলেছে, তখন সেটি আর শুধু পররাষ্ট্রনীতির বিষয় থাকেনি, হয়ে উঠেছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রশ্ন।   নির্বাচনের ফলের পর ট্রাম্পের সামনে কংগ্রেসে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে থাকা দুই কক্ষের সঙ্গে কাজ করার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা খাতে পরিবর্তন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তদন্তের অঙ্গীকার করেছে। ফলে ইরান যুদ্ধের সামরিক ও কূটনৈতিক পরিণতির পাশাপাশি এর রাজনৈতিক প্রভাবও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বাকি দুই বছরকে কঠিন করে তুলতে পারে।   সূত্র: নিউজউইক, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২১:২৬
চীনে শাওমির গাড়ি কারখানায় যন্ত্রাংশ বাছাই ও সাজানোর কাজে ব্যস্ত মানবাকৃতির রোবট। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

চীনের কারখানায় ৮ ঘণ্টার শিফট শেষ করে ইতিহাস গড়ল শাওমির হিউম্যানয়েড রোবট

যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনে আর্থিক সক্ষমতার শর্ত বাড়ানো হচ্ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাজ্যে পড়তে যেতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে দেখাতে হবে বাড়তি অর্থ, কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত সামরিক হামলার খবর জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরানে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র, ৩ মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

বাইন্যান্সে রেকর্ড পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি হ্যাকিংয়ের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আনা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার উত্তর কোরিয়ার

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের তদন্ত ও অভিযোগকে ‘গতানুগতিক উসকানি’ এবং ‘অযৌক্তিক বক্তব্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এফবিআইয়ের দাবি, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী ট্রেডারট্রেইটর এ চুরির সঙ্গে জড়িত।   মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটলেই যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করার চেষ্টা করে। তাঁর দাবি, দেশটির বিরুদ্ধে ভুল ধারণা ছড়িয়ে আন্তর্জাতিক জনমত প্রভাবিত করতে চায় ওয়াশিংটন। এফবিআইয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী মনোভাবের আরেকটি প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।   বাইন্যান্স গত শুক্রবার জানায়, তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে হ্যাকাররা ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি করেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এফবিআই শনিবার জানায়, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এ ঘটনার জন্য দায়ী। সংস্থাটির মতে, একই গোষ্ঠী গত বছর ক্রিপ্টো বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির সঙ্গেও জড়িত ছিল।   এফবিআইয়ের তদন্তে বলা হয়েছে, চুরি করা ডিজিটাল সম্পদের বড় অংশ ইথেরিয়ামে রূপান্তর করা হচ্ছে। এসব সম্পদ বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। অর্থ পাচার ঠেকাতে ক্রিপ্টো বিনিময় প্রতিষ্ঠান, ব্লকচেইন বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ডিজিটাল ঠিকানাগুলো শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এফবিআই।   এদিকে বাইন্যান্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া সম্পদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে তারা নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করবে। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের বিপরীতে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংরক্ষণের কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীদারের সহযোগিতায় প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ আটকে দেওয়া হয়েছে। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর ১ নভেম্বর থেকে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন আবার চালু করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকেরা প্রায় ৪৬৪ কোটি ডলারের সম্পদ উত্তোলন করেন।   উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি ও অন্যান্য অবৈধ সাইবার কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ নতুন নয়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে থাকা দেশটি এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে মনে করেন বিভিন্ন দেশের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের ধারণা, এ ধরনের অর্থ দেশটির অর্থনীতি সচল রাখা এবং পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যয় মেটানোর কাজে ব্যবহার হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ২০২২ সালে জানিয়েছিল, আগের পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা প্রায় ১১০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অন্যান্য ভার্চুয়াল সম্পদ চুরি করেছে।   অতীতেও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক বড় সাইবার হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভারে হামলা, ২০১৪ সালে সনি পিকচার্স হ্যাকিং এবং ২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ওয়ানাক্রাই ম্যালওয়্যার হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সাধারণত অস্বীকার করে আসছে পিয়ংইয়ং।   দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার অবৈধ সাইবার কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে। এ ধরনের তৎপরতা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে সিউল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, বাইন্যান্সের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত নয়। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং এ মুহূর্তে উত্তর কোরিয়াই দায়ী কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।   বাইন্যান্সের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন উত্তর কোরিয়া আবারও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার দেশটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য নতুন ধরনের ক্লাস্টার ওয়ারহেড পরীক্ষা করার কথাও জানিয়েছে। ফলে ক্রিপ্টো চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা।

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ২২:২৫
কোরআন অবমাননার ঘটনায় স্যান্ডবার্গকে স্থগিত কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন স্টকহোম জেলা আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সুইডেনে কোরআন পোড়ানো ও অবমাননার দায়ে জেড স্যান্ডবার্গকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত

বিওয়াইডির কর্মীসংখ্যা ১০ লাখ ২০ হাজার ছাড়ানোর তথ্য জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ওয়াং চুয়ানফু। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

১০ লাখের বেশি কর্মী নিয়ে শীর্ষে চীনের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি, পেছনে ফেলল টেসলা, টয়োটা ও ফোর্ডকে

রামায়ণের পৌরাণিক পুষ্পক বিমানকে টেসলার নতুন রোডস্টারের সঙ্গে তুলনা করেছেন রণবীর কাপুর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

৫ হাজার বছর আগেই ভারতের উড়ন্ত গাড়ি ছিল, ইলন মাস্কের টেসলার সঙ্গে রামায়ণের পুষ্পক রথের তুলনা রণবীরের

ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন পারিশাদ কাভিয়ানি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানি নারীদের স্বাধীনতার দাবিতে সমর্থন না পেয়ে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন ছাড়লেন কানাডীয় নারী

ইরানের নারীদের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের একাংশের নীরবতার সমালোচনা করে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন ইরানি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নারী পারিশাদ কাভিয়ানি। তাঁর অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার থাকা আন্দোলনের কিছু সমর্থক ইরানি নারীদের স্বাধীনতার দাবিতে একইভাবে সরব নন। এমনকি কেউ কেউ ইরানের ক্ষমতাসীন শাসনব্যবস্থার পক্ষেও অবস্থান নিচ্ছেন। ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে যে আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন, সেখানে মানবাধিকারের চেয়ে রাজনৈতিক আদর্শকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর মনে হয়েছে।   ইরানে জন্ম নেওয়া কাভিয়ানি ১৪ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে কানাডায় চলে যান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যু এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে প্রভাব ফেলেছে। তিনি জানান, একসময় ফিলিস্তিনিদের অধিকারের দাবিতে আয়োজিত মিছিল ও কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে সাবেক আন্দোলনসঙ্গীদের কাছ থেকে সমকামীবিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও নারীবিদ্বেষী আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিজ্ঞতাও আন্দোলন থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান কাভিয়ানি।   কাভিয়ানির মতে, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার ব্যক্তিদের ইরানি নারীদের পোশাকের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকার নিয়েও কথা বলা উচিত। তাঁর অভিযোগ, ইরানের নারীরা নিজেদের পছন্দমতো পোশাক পরার স্বাধীনতা চাইলে আন্দোলনের অনেক সমর্থক নীরব থাকেন। কেউ কেউ আবার ইরানের ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো দেশের বা গোষ্ঠীর জন্য আলাদা মানদণ্ড থাকা উচিত নয়।   ইরানে শৈশবের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে কাভিয়ানি বলেন, সেখানে রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা এবং তাদের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি নিয়মিত তুলে ধরা হতো। কিন্তু দেশের ভেতরে দারিদ্র্য, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অসুবিধার মতো সমস্যাগুলোও তিনি দেখেছেন। তাঁর প্রশ্ন, দেশের নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ না করে বিদেশে সহায়তা পাঠানোর বিষয়টিকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন।   ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলাকে আন্দোলন থেকে সরে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে উল্লেখ করেন কাভিয়ানি। তাঁর বক্তব্য, ওই হামলার পর কিছু আন্দোলনসমর্থকের প্রতিক্রিয়া তাঁকে হতাশ করে। তিনি মনে করেন, কারও জাতীয়তা বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে হত্যা, নির্যাতন কিংবা জিম্মি করে রাখার বিষয়টি সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা এবং তাদের জিম্মি করার বিরোধিতা করা উচিত, যে পক্ষই তা করুক না কেন। এ অবস্থানের কারণে আন্দোলনের কিছু মানুষের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয় বলে জানান তিনি।   কাভিয়ানি আরও বলেন, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের কিছু সমর্থকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষে যায় এমন প্রচার ও বক্তব্য দেখে তিনি আরও অস্বস্তি বোধ করেন। তাঁর অভিযোগ, মানবাধিকারের কথা বলা ব্যক্তিদের একটি অংশ নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনায় বেছে বেছে প্রতিক্রিয়া দেখায়। এ কারণে আন্দোলনটির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা আর ধরে রাখতে চাননি তিনি।   ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে কাভিয়ানির বক্তব্য ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁর আন্দোলন ছাড়ার কারণ তুলে ধরা হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন একটি বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক-সামাজিক পরিসর। কাভিয়ানির অভিযোগ আন্দোলনের সব সমর্থক বা সংগঠনের অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে না। ফিলিস্তিনিদের অধিকার, ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং ইরানের নারীদের স্বাধীনতার প্রশ্নগুলো পৃথক হলেও মানবাধিকারের বৃহত্তর আলোচনায় এগুলো পরস্পরবিরোধী নয়।   সূত্র: ফক্স নিউজ ডিজিটাল

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ০:১২
ইরানের দাবি, কেশম দ্বীপের আকাশে মার্কিন এমকিউএম-১৭০ ড্রোন আটক করা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

কেশম দ্বীপে অক্ষত অবস্থায় মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন আটক করল ইরান

ইসলাম গ্রহণের আগে উইলিয়াম হেনরি কুইলিয়াম নামে পরিচিত ছিলেন আবদুল্লাহ কুইলিয়াম। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইংল্যান্ডে লিভারপুল মসজিদ প্রতিষ্ঠা ও ৬০০ ব্রিটিশকে ইসলামে দীক্ষিত করেন আইনজীবী উইলিয়াম হেনরি

চীনের সবচেয়ে ধনী নারী ঝৌ ছুনফেই, তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

কারখানার শ্রমিক থেকে প্রযুক্তি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, চীনের শীর্ষ ধনী নারী ঝৌ কুনফেই

0 Comments