যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে বহু বছর ধরে সক্রিয় একটি মানবপাচার ও যৌন শোষণ চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী, পালিয়ে যাওয়া শিশু এবং অসহায় নারীদের টার্গেট করে প্রতারণা, ভয়ভীতি ও সহিংসতার মাধ্যমে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করত।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের ফিগুয়েরোয়া করিডরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত এই অভিযানে একাধিক সংস্থা একযোগে অংশ নেয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয় এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পরিচিতজন এবং বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে কিশোরী ও তরুণীদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনত। চাকরি, ভালো আয় কিংবা নিরাপদ জীবনের আশ্বাস দিয়ে তাদের ফাঁদে ফেলা হতো। পরে শারীরিক নির্যাতন, হুমকি ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, অপরাধচক্রটি কয়েক বছর ধরে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, চক্রটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নিত। কেউ ভুক্তভোগী সংগ্রহ করত, কেউ তাদের ওপর নজরদারি চালাত, আবার কেউ অর্থ লেনদেন ও থাকার ব্যবস্থা পরিচালনা করত। একটি মোটেলের ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে যে তিনি জেনেশুনে কক্ষ ভাড়া দিয়ে এই অপরাধ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তদন্তে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫১ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং কেউ কেউ পালিয়ে যাওয়া শিশু বা পালক পরিবারে বেড়ে ওঠা কিশোরী। তদন্তকারীরা বলছেন, এসব ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং আইনি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার কাজও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণ, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনা এবং অর্থপাচারসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে কয়েকজন অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
তদন্ত কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এই চক্রটি কেবল একজন বা দুজনের মাধ্যমে পরিচালিত হতো না। এটি ছিল একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক, যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করত। তদন্তের স্বার্থে ডিজিটাল তথ্য, আর্থিক লেনদেন এবং যোগাযোগের নথি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এই অভিযানের মাধ্যমে দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসে মানবপাচার ও যৌন শোষণ চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তদন্ত এখনো চলমান থাকায় ভবিষ্যতে আরও গ্রেপ্তার বা নতুন অভিযোগ আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
মানবপাচারকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুতর সংঘবদ্ধ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অসহায় মানুষকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এমন অপরাধ দমনে ফেডারেল ও স্থানীয় সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। সর্বশেষ এই অভিযান সেই প্রচেষ্টারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে মানবপাচারের সম্ভাব্য লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সন্দেহজনক কোনো ঘটনা চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিলি শ্মিটকে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের পর গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রায় এক মাস পলাতক থাকার পর ১৬ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে কলোরাডো অঙ্গরাজ্য থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, পালিয়ে যেতে তাকে সহায়তা করার অভিযোগে তার সৎবাবাকেও আটক করা হয়েছে। মার্কিন মার্শাল সার্ভিসের ফিলাডেলফিয়া শাখা জানিয়েছে, বুধবার কলোরাডো স্প্রিংসে এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা আজ্জুবাইর আউটেন-ফ্লেমিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তিনি নিজের পরিচয় গোপনের চেষ্টা করেছিলেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তদন্তকারীদের মতে, গত ৬ জুন ভোররাত দেড়টার দিকে দক্ষিণ ফিলাডেলফিয়ায় বিলি শ্মিটের ওপর হামলার ঘটনায় আউটেন-ফ্লেমিং এবং আরেক ১৬ বছর বয়সী কিশোর কাসিম স্মিথ জড়িত ছিলেন। প্রসিকিউটর ল্যারি ক্রাসনারের ভাষ্য অনুযায়ী, এনবিএ ফাইনালের খেলা দেখে একটি স্থানীয় বার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বিলি শ্মিট। পথে দুই কিশোর তার পথরোধ করে। অভিযোগ রয়েছে, আউটেন-ফ্লেমিং প্রথমে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন, পরে তাকে ঘুষি মেরে পকেট তল্লাশি করেন। ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরা দুই সন্দেহভাজন শ্মিটকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। পরে তারা সেখান থেকে হেঁটে চলে যেতে শুরু করলে শ্মিট নিজের ফোন ফেরত চেয়ে তাদের পিছু নেন। তদন্তে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে আউটেন-ফ্লেমিং ফোনটি রাস্তার দিকে ছুড়ে ফেলেন। এরপর দুই কিশোর আলাদা হয়ে যায়। শ্মিট কাসিম স্মিথের পিছু নিলে স্মিথ পেছনের পকেট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালান বলে অভিযোগ। গুলিটি শ্মিটের বুকে লাগে। হামলার পর দুই সন্দেহভাজন ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে একটি এসইউভি গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শ্মিটকে পেন-প্রেসবাইটেরিয়ান মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তে আরও জানা গেছে, ৩৫ বছর বয়সী ডন্টে আবদুলমালিকের বিরুদ্ধে তার সৎছেলে আউটেন-ফ্লেমিংকে ফিলাডেলফিয়া থেকে কলোরাডোতে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার এড়াতে সহায়তা, বিচার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি এবং প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে আউটেন-ফ্লেমিংয়ের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, হত্যা ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে বর্তমানে কলোরাডোর জেবুলন পাইক ইয়ুথ সেন্টারে রাখা হয়েছে। ফিলাডেলফিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। এদিকে একই মামলার আরেক সন্দেহভাজন কাসিম স্মিথ এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে তথ্য দিলে ৫ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ফিলাডেলফিয়া ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, দুই কিশোরের বিরুদ্ধেই হত্যা, ডাকাতি এবং হত্যা ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা বিল শ্মিট ছেলের হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, "আমি ওই দুই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে চাই এবং তাদের যেন আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির মুখোমুখি করা হয়।" পরিবারের সদস্যরা জানান, বিলি শ্মিট পেন স্টেট ওয়ার্ল্ড ক্যাম্পাসে ডিজিটাল সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। তিনি সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষ শেষ করেছিলেন। পরিবারের ভাষ্য, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ, যিনি কখনো কারও ক্ষতি করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে বহু বছর ধরে সক্রিয় একটি মানবপাচার ও যৌন শোষণ চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী, পালিয়ে যাওয়া শিশু এবং অসহায় নারীদের টার্গেট করে প্রতারণা, ভয়ভীতি ও সহিংসতার মাধ্যমে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করত। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের ফিগুয়েরোয়া করিডরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত এই অভিযানে একাধিক সংস্থা একযোগে অংশ নেয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয় এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পরিচিতজন এবং বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে কিশোরী ও তরুণীদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনত। চাকরি, ভালো আয় কিংবা নিরাপদ জীবনের আশ্বাস দিয়ে তাদের ফাঁদে ফেলা হতো। পরে শারীরিক নির্যাতন, হুমকি ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, অপরাধচক্রটি কয়েক বছর ধরে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, চক্রটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নিত। কেউ ভুক্তভোগী সংগ্রহ করত, কেউ তাদের ওপর নজরদারি চালাত, আবার কেউ অর্থ লেনদেন ও থাকার ব্যবস্থা পরিচালনা করত। একটি মোটেলের ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে যে তিনি জেনেশুনে কক্ষ ভাড়া দিয়ে এই অপরাধ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তদন্তে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫১ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং কেউ কেউ পালিয়ে যাওয়া শিশু বা পালক পরিবারে বেড়ে ওঠা কিশোরী। তদন্তকারীরা বলছেন, এসব ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং আইনি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার কাজও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণ, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনা এবং অর্থপাচারসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে কয়েকজন অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তদন্ত কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এই চক্রটি কেবল একজন বা দুজনের মাধ্যমে পরিচালিত হতো না। এটি ছিল একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক, যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করত। তদন্তের স্বার্থে ডিজিটাল তথ্য, আর্থিক লেনদেন এবং যোগাযোগের নথি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এই অভিযানের মাধ্যমে দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসে মানবপাচার ও যৌন শোষণ চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তদন্ত এখনো চলমান থাকায় ভবিষ্যতে আরও গ্রেপ্তার বা নতুন অভিযোগ আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মানবপাচারকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুতর সংঘবদ্ধ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অসহায় মানুষকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এমন অপরাধ দমনে ফেডারেল ও স্থানীয় সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। সর্বশেষ এই অভিযান সেই প্রচেষ্টারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে মানবপাচারের সম্ভাব্য লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সন্দেহজনক কোনো ঘটনা চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্য এ সপ্তাহে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজ্যের অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেড়ে ১০৫ থেকে ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করবে। কানেকটিকাটে এমন তীব্র গরমের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে এক্সট্রিম হিট ওয়ার্নিং জারি করেছে। এই সতর্কতা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যের রাজধানী হার্টফোর্ডসহ অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট স্পর্শ করতে পারে। এটি ২০১১ সালের পর সবচেয়ে উষ্ণ দিনের একটি হতে পারে। একই সঙ্গে কয়েকটি শহরে বহু বছরের দৈনিক তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। উপকূলীয় এলাকাগুলো তুলনামূলক শীতল হলেও সেখানেও তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কানেকটিকাটের গভর্নর নেড ল্যামন্ট অঙ্গরাজ্যের চরম গরম মোকাবিলা প্রটোকল চালু করেছেন। এর আওতায় বিভিন্ন শহর ও পৌরসভায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কুলিং সেন্টার খোলা হয়েছে, যাতে যাদের বাড়িতে পর্যাপ্ত শীতল পরিবেশ নেই তারা সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন। রাজ্যের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থা সমন্বিতভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাসিন্দারা নিকটস্থ কুলিং সেন্টারের তথ্য রাজ্যব্যাপী তথ্যসেবা থেকে জানতে পারবেন। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, অসুস্থ মানুষ এবং যাদের ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই, তাদের দ্রুত এসব কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড গরমে অবস্থান করলে হিট এক্সহসশন ও হিট স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, হালকা পোশাক পরা এবং রোদে দীর্ঘক্ষণ কাজ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিশু ও পোষা প্রাণীকে কোনো অবস্থাতেই বন্ধ গাড়ির ভেতরে রেখে না যাওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গরমের পাশাপাশি আর্দ্রতার মাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকবে। বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শরীরের ঘাম দ্রুত শুকাতে পারবে না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হবে এবং মানুষ বাস্তব তাপমাত্রার তুলনায় আরও বেশি গরম অনুভব করবে। এ কারণেই তাপসূচক ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া সংগঠনও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অনেক জায়গায় দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে অনুশীলন স্থগিত করা হয়েছে অথবা সকাল ও সন্ধ্যায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের নিয়মিত বিরতি, পর্যাপ্ত পানি পান এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ বিপুল সংখ্যক মানুষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। যদিও এ পর্যন্ত বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া যায়নি, তবুও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আবহাওয়া দপ্তর আরও জানিয়েছে, স্বাধীনতা দিবসের ছুটির পুরো সময়জুড়েই গরম অব্যাহত থাকতে পারে। শুক্রবার ও শনিবারও তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকবে। একই সময়ে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজি প্রদর্শনী ও উন্মুক্ত আকাশের অনুষ্ঠানগুলোতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। তবে সব এলাকায় সারাদিন বৃষ্টি হবে—এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। এই ধরনের তাপপ্রবাহে রাতের তাপমাত্রাও তুলনামূলক বেশি থাকায় শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। এতে অসুস্থতার ঝুঁকি আরও বাড়ে। তাই রাতে পর্যাপ্ত ঠান্ডা পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করতে পারে। এরপর আগামী সপ্তাহের শুরুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ঘরে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ততদিন পর্যন্ত বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।