তীব্র তাপপ্রবাহে নিউইয়র্কে শতাধিক কুলিং সেন্টার চালু, প্রবীণ-শিশুসহ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক কুলিং সেন্টার চালু করেছে। প্রবীণ, শিশু, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, গৃহহীন মানুষ এবং যাদের বাসায় পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই, তাদের এসব কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিউইয়র্কে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাবে অনুভূত তাপমাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নগর প্রশাসন জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
শহরের বিভিন্ন লাইব্রেরি, কমিউনিটি সেন্টার, সিনিয়র সেন্টার এবং সরকারি ভবনকে অস্থায়ী কুলিং সেন্টারে রূপান্তর করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।
শুধু কুলিং সেন্টারই নয়, নগর কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত মোবাইল সহায়তা ভ্যানও মোতায়েন করেছে। এসব ভ্যান শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পানীয় জল, ইলেকট্রোলাইট, সানস্ক্রিন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। পাশাপাশি গৃহহীন ও একাকী বসবাসকারী প্রবীণদের খোঁজ নিতে বিশেষ টিমও মাঠে কাজ করছে।
শহর প্রশাসন বাসিন্দাদের দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়ার, পর্যাপ্ত পানি পান করার এবং পরিবারের প্রবীণ সদস্য ও প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের কখনোই পার্ক করা গাড়ির ভেতরে রেখে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে, কারণ কয়েক মিনিটের মধ্যেই গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে নগর প্রশাসন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোরও আহ্বান জানিয়েছে। বড় বড় ডিজিটাল বিলবোর্ডের আলো কমানো এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।
স্বাধীনতা দিবসের ছুটিকে সামনে রেখে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাইরে বের হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবা বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। প্রয়োজনে কুলিং সেন্টারের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, অতিরিক্ত গরমকে অবহেলা না করে কেউ অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত ছায়াযুক্ত বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে যেতে হবে এবং প্রয়োজনে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। একই সঙ্গে একা বসবাসকারী প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চলমান তাপপ্রবাহকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম তীব্র গরমের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটির এই জরুরি পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো তাপজনিত অসুস্থতা ও সম্ভাব্য প্রাণহানি কমিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ডেনভারে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাল 'উইশ ফর হুইলস' এবং 'ক্রোয়েঙ্কে স্পোর্টস চ্যারিটিজ'। এক যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে তারা ডেনভার মেট্রো এলাকার ২০০ জনেরও বেশি দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ নতুন সাইকেল এবং হেলমেট উপহার দিয়েছে। আয়োজকদের মতে, এই শিশুদের কাছে একটি সাইকেল শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি তাদের জন্য স্বাধীনতা, শরীরচর্চা এবং নতুন রোমাঞ্চের প্রতীক। 'উইশ ফর হুইলস'-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্র্যাড অ্যাপেল জানান, নিউ ইয়র্ক সিটিতে কাটানো তার নিজের শৈশব থেকেই এই উদ্যোগের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তিনি। ছোটবেলায় রাস্তায় বাতি জ্বলার আগ পর্যন্ত তিনি সাইকেল চালাতেন। কিন্তু কলোরাডোতে আসার পর তিনি উপলব্ধি করেন, এখানকার অনেক শিশুর সেই সুযোগ নেই এবং তারা সাইকেল চালানোর মতো আনন্দদায়ক কাজের সাথে তেমন যুক্ত নয়। মূলত এরপর থেকেই শিশুদের মাঝে সাইকেল বিতরণের এই উদ্যোগ নেন তিনি। এই কর্মসূচির জন্য মূলত আর্থিক টানাপোড়েনে থাকা পরিবারগুলোর শিশুদের সাহায্যার্থে পরিচালিত স্কুলগুলোকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ শিক্ষার্থীই বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে খাবার পেয়ে থাকে। থর্নটনের নর্থ স্টার এলিমেন্টারি এবং কমার্স সিটির অ্যালসাপ ও কেম্প এলিমেন্টারি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এই সাইকেলগুলো দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার 'বল অ্যারেনা'-তে আয়োজিত এক বিশেষ ইভেন্টে ক্রোয়েঙ্কে স্পোর্টসের কর্মী, মাসকট এবং স্বেচ্ছাসেবকরা মিলে সাইকেলগুলো জোড়া লাগানোর কাজ করেন। পরে সেগুলো স্কুলে গিয়ে শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের সাইকেল চালানো শেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়। অ্যালসাপ এলিমেন্টারি স্কুলের শিক্ষিকা টেলর হার্টে জানান, তার ক্লাসের অনেক শিশুই কখনো সাইকেল চালাতে শেখেনি। নতুন সাইকেল পেয়ে তারা এখন নতুন কিছু শেখার দারুণ সুযোগ পেল। আয়োজকরা আশা করছেন, এই উপহার শিশুদের কেবল বিনোদনই দেবে না, বরং তাদের শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে এটি পরিবারগুলোর জন্য যাতায়াতের একটি বিকল্প মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে এবং শিশুদের নিজেদের চারপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি করে দেবে।
চুরি করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ চোর, এখন মালিকের কাছে ১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি
ঋণ, প্রত্যাখ্যান আর ভিসা লটারির ব্যর্থতা, শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব পেলেন ভারতের সাইমন শেঠি
ভারতীয় প্রতিবেশীদের বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মার্কিন নারী
৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কলম্বিয়াকে আরও ১ কোটি ১০ লাখ ডলার মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এই অতিরিক্ত সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন অর্থসহ ভূমিকম্প মোকাবিলায় কলম্বিয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। নতুন সহায়তা খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, সুরক্ষা ও আশ্রয়ের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তাকারী অংশীদারদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও অন্যান্য স্থাপনার কাঠামোগত মূল্যায়নেও এই অর্থ ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ১০ আগস্ট পশ্চিম কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেশটির কয়েকটি শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। বাড়িঘরের পাশাপাশি স্কুল, হাসপাতাল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, দেশটি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ডের সঙ্গে কাজ করছে। মিয়ামিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি গুদাম থেকে এসব ত্রাণসামগ্রী কলম্বিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। প্রথম ফ্লাইটে আশ্রয়ের উপকরণ, পানি, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী এবং যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে শত শত স্টারলিংক কিট পাঠানো হচ্ছে। ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধার কারিগরি দলও কলম্বিয়ায় পৌঁছেছে। বুধবার দেশটিতে পৌঁছানো এসব দল কলম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বয়, যোগাযোগ এবং কাঠামোগত প্রকৌশল সহায়তা দিচ্ছে। কলম্বিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট শুক্রবার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৭৫ জন। এছাড়া ৩৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ৩৫৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধসে পড়া স্থাপনা ও আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। এসব দল কলম্বিয়ার জরুরি সেবাদানকারী কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে ধসে পড়া ভবন ও সীমিত পরিসরের স্থানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করছে। মার্কিন সহায়তার নতুন অর্থের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাবার, স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও আশ্রয়ের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার নিরাপত্তা ও কাঠামোগত অবস্থা মূল্যায়নের কাজও করা হবে। ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিমানযোগে সহায়তা পাঠানোর কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। এদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তা এবং ভূমিকম্পের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোও স্থানীয় জরুরি সেবাদানকারীদের সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাবার, পানি, আশ্রয় এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন মেটানো এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সহায়তা এসব মানবিক প্রয়োজন মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃত, আহত ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বাড়ার মধ্যে উদ্ধার অভিযানও চলছে। কর্তৃপক্ষ ধসে পড়া স্থাপনায় আটকে থাকা মানুষদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা করছে।
সমর্থকদের ভিড়ে থাকত জমজমাট, এখন ৫০ শতাংশ ছাড়েও বন্ধ হচ্ছে ‘ট্রাম্প সুপারস্টোর’
যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে শত শত অভিবাসীর শুনানি, হাজির না হলেই বহিষ্কার
ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয়দের আটক বেড়েছে ১১০৯ শতাংশ, সবচেয়ে বেশি ভারতীয়দের
ভারতে মার্কিন ভিসার জন্য আবেদন করা সব বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে এখন সাক্ষাৎকারে সরাসরি উপস্থিত হতে হবে। বয়সের ভিত্তিতে কোনো শিশুকে সাক্ষাৎকার থেকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। অর্থাৎ নবজাতক থেকে শুরু করে ১৭ বছর বয়সী সব অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীকেই ভিসা সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হতে হবে। মার্কিন দূতাবাসের এই নির্দেশনা ভারতীয় বাবা-মা ও অভিভাবকদের জন্য প্রযোজ্য। ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক আবেদনকারীকে কনস্যুলার কর্মকর্তার সামনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে দূতাবাস জানিয়েছে। ফলে শুধু বাবা-মা সাক্ষাৎকারে উপস্থিত থাকলে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ভিসা আবেদন সম্পন্ন হবে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিশুর বয়স খুব কম হলেও তাকে সাক্ষাৎকারে নিয়ে যেতে হবে। এমনকি নবজাতক শিশুর ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। একইভাবে ১৭ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীকেও সাক্ষাৎকারে সরাসরি উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাৎ বয়সের ভিত্তিতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাক্ষাৎকারে উপস্থিতির কোনো ছাড় রাখা হয়নি। ভারতীয় অভিভাবকদের তাই সন্তানের মার্কিন ভিসা আবেদনের সময় সাক্ষাৎকারে শিশুর উপস্থিতির বিষয়টি আগে থেকেই নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত দিনে আবেদনকারী শিশুকেও সাক্ষাৎকারের জন্য উপস্থিত থাকতে হবে। এই নিয়ম সব বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একইভাবে কার্যকর হবে। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রত্যেক আবেদনকারীকে ব্যক্তিগতভাবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। সে কারণেই অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীদেরও সাক্ষাৎকারে সরাসরি উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত উপস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ভিসার জন্য আবেদন করা অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বয়সের ভিত্তিতে সাক্ষাৎকারের ছাড় থাকছে না। ফলে সন্তানের বয়স একেবারে কম হলেও অভিভাবকদের তাকে সাক্ষাৎকারের জন্য সঙ্গে নিতে হবে। এই নির্দেশনার ফলে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের নিয়ে মার্কিন ভিসার আবেদন করা ভারতীয় পরিবারগুলোর প্রস্তুতিতে নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। বাবা-মাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পাশাপাশি সাক্ষাৎকারের নির্ধারিত দিনে সন্তানের উপস্থিতিও নিশ্চিত করতে হবে। বয়স কম হওয়াকে সাক্ষাৎকার এড়িয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে ভারতীয় অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মার্কিন ভিসার জন্য আবেদন করার সময় সন্তানের বয়স দেখে সাক্ষাৎকারে তার উপস্থিতি প্রয়োজন নেই বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। সব বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীকেই সাক্ষাৎকারে সরাসরি উপস্থিত হতে হবে। মার্কিন দূতাবাসের এই স্পষ্টীকরণের ফলে শিশুদের ভিসা সাক্ষাৎকার নিয়ে বয়সভিত্তিক ছাড়ের বিষয়ে বিভ্রান্তির অবকাশ থাকছে না। নবজাতক থেকে ১৭ বছর বয়সী পর্যন্ত সব অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে। সূত্র: ইকোনমিক টাইমস
মার্কিন সেনাসদস্য মেয়ের আবেদনও রক্ষা করতে পারল না বাবাকে, মেক্সিকোয় পাঠিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন
লস অ্যাঞ্জেলেসে ফোবানার ৪০তম সম্মেলন, আর মাত্র ১৯ দিন পর শুরু