ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের ঋণগ্রহীতাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ। স্বয়ংক্রিয় কিস্তি পরিশোধ বা অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত গ্রাহকদের জন্য সুদের হারে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে যোগ্য ঋণগ্রহীতারা সুদের হারে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত ছাড় পাবেন।
মার্কিন শিক্ষা বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন সুবিধাটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে এবং ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধে গ্রাহকদের আরও উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই সুবিধা সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। শুধুমাত্র ২০১২ সালের ১ জুলাই বা তার পর নেওয়া যোগ্য ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের গ্রাহকেরাই অতিরিক্ত সুদ-ছাড়ের আওতায় আসবেন।
অটো-পে হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ঋণগ্রহীতার ব্যাংক হিসাব থেকে নির্ধারিত তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তির অর্থ কেটে নেওয়া হয়। ফলে কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব বা ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। একই সঙ্গে ঋণ খেলাপির সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের বোঝা অনেক পরিবারের জন্য বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের চাপের কারণে অনেক গ্রাহক সময়মতো কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সুদের হারে অতিরিক্ত ছাড় অনেক ঋণগ্রহীতার জন্য আর্থিক স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।
মার্কিন শিক্ষা বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, করোনা মহামারির আগে ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন গ্রাহকদের প্রায় ৮০ শতাংশ অটো-পে ব্যবস্থার মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করতেন। তবে মহামারির পর সেই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বর্তমানে মাত্র প্রায় ৪০ শতাংশ গ্রাহক এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
এই হার পুনরায় বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন প্রণোদনা চালু করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, অটো-পে ব্যবস্থায় বেশি মানুষকে যুক্ত করা গেলে ঋণ পরিশোধের ধারাবাহিকতা বাড়বে এবং প্রশাসনিক ব্যয়ও কমবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যারা ইতোমধ্যে অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত রয়েছেন, তাদের জন্য নতুন করে কোনো আবেদন বা আলাদা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নতুন সুদ-ছাড়ের সুবিধা পাবেন।
অন্যদিকে যারা এখনও অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত নন, তারা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এ ব্যবস্থায় নাম নিবন্ধন করে ভবিষ্যতে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণ খাতে বকেয়া ঋণের পরিমাণ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে ঋণগ্রহীতাদের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সময়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নতুন উদ্যোগ নিয়ে থাকে। সর্বশেষ এই সুদ-ছাড় কর্মসূচিও সেই প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন নীতির ফলে লাখো শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থী তাদের ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও আর্থিক সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: মার্কিন শিক্ষা বিভাগের ঘোষণা
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
শিক্ষা
View moreযুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা থেকে যুক্তরাজ্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন ফিলিস্তিনি তরুণী হায়া জাবের। যুক্তরাজ্য সরকারের সম্মানজনক চেভেনিং স্কলারশিপের আওতায় তিনি পাবলিক হেলথ বিষয়ে মাস্টার্স করছেন। তাঁর লক্ষ্য, উচ্চশিক্ষায় অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। চেভেনিং স্কলারশিপ কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হায়া জাবেরের এই শিক্ষাযাত্রার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে জানানো হয়, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ অতিক্রম করেছেন তিনি। তাঁর উচ্চশিক্ষার এই সুযোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে বিসেইসু ফাউন্ডেশন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে হায়া জাবের বলেন, গাজা থেকে আসা একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এই যাত্রা তাঁর কাছে শুধু একটি একাডেমিক ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়। এটি ব্রিটিশ সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানার, দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলার এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার একটি সুযোগ। হায়ার উচ্চশিক্ষার বিষয় পাবলিক হেলথ বা জনস্বাস্থ্য। এই বিষয়ে রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনা এবং জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। অর্জিত দক্ষতা ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য খাতে কাজে লাগানোর আশা করছেন তিনি। দীর্ঘদিনের সংঘাত এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ব্যাপক সংকটের মুখে পড়েছে। হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রের কার্যক্রম, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। চেভেনিং স্কলারশিপ যুক্তরাজ্য সরকারের একটি আন্তর্জাতিক বৃত্তি কর্মসূচি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও এই কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্যদিকে বিসেইসু ফাউন্ডেশন চেভেনিংয়ের অংশীদার হিসেবে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সহযোগিতা করে। হায়া জাবেরের শিক্ষাযাত্রাও এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে সহায়তা পাচ্ছে। চেভেনিং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পেরে তারা গর্বিত। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। গাজা থেকে লন্ডনের একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানো হায়া জাবেরের জন্য তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়। তাঁর এই শিক্ষাযাত্রার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভবিষ্যতে নিজ দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
বিদেশে মাস্টার্সে ভর্তির আগে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ে ১৫ বিষয় জানা জরুরি, জানুন বিস্তারিত
নিউইয়র্কে দুটি স্কুল বন্ধের পরিকল্পনা, অনিশ্চয়তায় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ পেতে বিদেশি প্রফেসর খুঁজবেন রিসার্চ প্ল্যাটফর্মে, জেনে নিন বিস্তারিত
ইউরোপের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ টিউশন ফি ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা। ইরাসমাস মুন্ডাসের অর্থায়নে পরিচালিত ইউরোপিয়ান মাস্টার্স ইন সাসটেইনেবল সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইএমএসএসই) প্রোগ্রামে ২০২৭ থেকে ২০২৯ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী ১৫ নভেম্বর। নির্বাচিত বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা দুই বছর প্রতি মাসে ১ হাজার ৪০০ ইউরো করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। টাইমস টুডের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আন্তর্জাতিক স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি ছাড়াও স্বাস্থ্যবিমা এবং প্রোগ্রামসংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের সুবিধা রয়েছে। দুই বছর মেয়াদি এই প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীরা ইউরোপের একাধিক দেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও আলবেনিয়ার চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে পরিচালিত এই প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য টেকসই প্রকৌশলব্যবস্থা, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করা। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ২৪ মাসে মোট ৩৩ হাজার ৬০০ ইউরো পাবেন। অর্থাৎ প্রতি মাসে ১ হাজার ৪০০ ইউরো হিসেবে এই অর্থ দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কোনো টিউশন ফি দিতে হবে না। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা এবং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই প্রোগ্রামে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স এবং বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, কেমিক্যাল ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিকসে স্নাতক ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করার সুযোগ পাবেন। আবেদনের যোগ্যতা আবেদনকারীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম ১৮০ ইসিটিএস ক্রেডিটের সমমানের স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। সাধারণভাবে এটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অন্তত তিন বছরের পড়াশোনার সমতুল্য। এ ছাড়া ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। এ জন্য নির্ধারিত ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার সনদ জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রোগ্রামের নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত ক্ষেত্রে ভাষাগত যোগ্যতার ছাড়ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। যেসব বিষয়ে পড়ার সুযোগ ইএমএসএসই প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি বিশেষায়ন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতালির ইউনিভার্সিটি অব জেনোয়ায় সিস্টেমস অব সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ানো হবে। এখানে বিভিন্ন প্রকৌশলব্যবস্থার পদ্ধতি, কাঠামো এবং ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হবে। ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অব কম্পিয়েনে অ্যাডভান্সড অপটিমাইজেশন স্ট্র্যাটেজিস ফর সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। এই বিশেষায়নে বিভিন্ন সিস্টেমের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, পূর্বাভাস তৈরি এবং উন্নত অপটিমাইজেশন কৌশলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া স্পেনের পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি অব কাতালোনিয়ায় অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং সিস্টেমস বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল প্রযুক্তি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আবেদন করতে শিক্ষার্থীদের বৈধ পাসপোর্টের কপি, স্নাতক ডিগ্রির মূল সনদ অথবা গ্রহণযোগ্য সাময়িক সনদ, ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষার সনদ অথবা অনুমোদিত ছাড়ের প্রমাণ প্রস্তুত রাখতে হবে। পাশাপাশি হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত, সর্বোচ্চ ৫০০ শব্দের মোটিভেশন লেটার অথবা সর্বোচ্চ ৬০ সেকেন্ডের পরিচিতিমূলক ভিডিও এবং সুপারিশপত্র প্রয়োজন হবে। আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষায়ন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবেদনের সময়সূচি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০২৯ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন শুরু হবে ১৫ নভেম্বর ২০২৬। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ভর্তির শর্ত, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষা দক্ষতার নিয়ম এবং বৃত্তির বিস্তারিত তথ্য যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করার পর নির্ধারিত অনলাইন আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন জমা দেওয়া যাবে। ইউরোপে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিবেশে প্রকৌশল বিষয়ে বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে পারে এই প্রোগ্রাম। বিশেষ করে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় উচ্চশিক্ষার সুযোগ।
তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হওয়া বুয়েটের সামিন থেকে গেলেন দেশে, বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতের প্রকৌশলী
যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্স ও সোস্যাল সায়েন্সে পিএইচডি! আবেদন ও ফান্ডিং পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
সিজিপিএ কম হলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, ১৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ থাকার দাবি করা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি শিক্ষাস্তরেই ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়া যায়, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়, ডিগ্রি, বিভাগ এবং শিক্ষার্থীর যোগ্যতা অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার সুযোগ ও শর্ত আলাদা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ বলতে সাধারণত টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তাকে বোঝানো হয়। তবে সব স্কলারশিপে একই সুবিধা থাকে না। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শুধু টিউশন ফি মওকুফ করে, আবার কোনো প্রতিষ্ঠান আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা কিংবা অন্যান্য খরচের জন্যও সহায়তা দেয়। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে টিউশন সহায়তার পাশাপাশি স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ তুলনামূলক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হয়। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন ভর্তি মূল্যায়নে বিবেচিত হতে পারে। অন্যদিকে বিভিন্ন পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো এবং নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতেও স্নাতক ও গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা, ফেলোশিপ কিংবা গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারীর দায়িত্বের মাধ্যমে অর্থায়ন পেতে পারেন। তবে মাস্টার্স পর্যায়ের সব প্রোগ্রাম একই ধরনের অর্থায়নের আওতায় পড়ে না। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ডিয়েগো, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান্তা বারবারা এবং ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন ম্যাডিসন উল্লেখযোগ্য। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য ফেলোশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থায়নের পরিমাণ ও যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতির ওপর নির্ভর করে। স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক অ্যাট বাফেলো, সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা, ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্ট এবং ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারেও বিভিন্ন পর্যায়ে স্কলারশিপ ও গবেষণাভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেধা, একাডেমিক ফলাফল এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হয়। তবে ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব সুবিধা পান না। যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়, যেমন সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি কার্বনডেল, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি কিংসভিল, টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস এবং ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটিতে বিভাগভিত্তিক স্কলারশিপ ও অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ থাকতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অর্থায়ন নীতি, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা এবং আবেদনের সময়সীমা যাচাই করা জরুরি। একইভাবে আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেম, ভার্জিনিয়া টেক, বেমিডজি স্টেট ইউনিভার্সিটি, বেইলর ইউনিভার্সিটি এবং ইস্ট টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতেও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম স্কলারশিপের তালিকায় থাকা মানেই সেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়ার নিশ্চয়তা নয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের অর্থায়নের পার্থক্য বোঝা। ব্যাচেলর পর্যায়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মেধাভিত্তিক বা প্রয়োজনভিত্তিক স্কলারশিপ দেয়। মাস্টার্স পর্যায়ে কিছু প্রোগ্রামে আংশিক স্কলারশিপ পাওয়া গেলেও সম্পূর্ণ অর্থায়ন তুলনামূলক সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারীর দায়িত্বের মাধ্যমে টিউশন এবং জীবনযাপনের খরচের জন্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণার অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হয়। কিছু প্রোগ্রামে জিআরই বা অন্যান্য পরীক্ষার স্কোর প্রয়োজন হতে পারে, আবার অনেক প্রোগ্রামে এসব পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা নেই। তাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। স্কলারশিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আর্থিক সহায়তার মেয়াদ। কোনো প্রোগ্রামে এক বছরের জন্য সহায়তা দেওয়া হয়, আবার কিছু পিএইচডি প্রোগ্রামে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একাধিক বছরের অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকে। অফার লেটারে টিউশন, স্টাইপেন্ড, স্বাস্থ্যবিমা, অতিরিক্ত ফি এবং অর্থায়নের মেয়াদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কি না, তা দেখে নেওয়া প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় একই প্রতিষ্ঠানের নাম একাধিকবার এসেছে এবং কয়েকটি ক্রমিক নম্বর অনুপস্থিত রয়েছে। ফলে তালিকাটিকে ২৮টি পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ের যাচাইকৃত পূর্ণাঙ্গ তালিকা হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের সব ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ রয়েছে বলেও নিশ্চিত হওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের চেয়ে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের অর্থায়ন ব্যবস্থা যাচাই করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন, ফিন্যান্সিয়াল এইড এবং গ্র্যাজুয়েট ফান্ডিং বিভাগের তথ্য দেখে আবেদন করলে স্কলারশিপের প্রকৃত সুযোগ, শর্ত এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব।
জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির প্রস্তুতিতে ৩৪ বিশেষ কোর্স, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ
কলেজে ভর্তির আবেদনে লাগবে না কোনো ফি, নিউইয়র্কে সুযোগ পাচ্ছেন হাজারো শিক্ষার্থী