সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
শিক্ষা

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা: স্টুডেন্ট ভিসা, খরচ ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১:৪৯
স্টুডেন্ট ভিসা, খরচ ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
স্টুডেন্ট ভিসা, খরচ ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে জার্মানি। তুলনামূলক কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ডিগ্রির কারণে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো শিক্ষার্থী সেখানে পড়তে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ থেকেও এ সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

 

ভিসাবিষয়ক তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘জার্মানি ভিসা’-এর তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়া বাধ্যতামূলক।

 

জানা গেছে, জার্মানির স্টুডেন্ট ভিসা মূলত দীর্ঘমেয়াদি ন্যাশনাল ‘ডি’ ক্যাটাগরির ভিসা। এই ভিসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার দেশটিতে প্রবেশ করতে পারেন এবং সাধারণত এটি দুই বছরের জন্য বৈধ থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতে আরও দুই বছর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে এ ভিসার আবেদন ফি নির্ধারিত হয়েছে ৭৫ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৭০০ টাকার মতো।

 

স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে প্রথমেই জার্মানির স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হয়। পাশাপাশি সেখানে অবস্থানকালে নিজের খরচ বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ব্লকড অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে ১১ হাজার ৯০৪ ইউরো জমা থাকার প্রমাণ দিতে হয়, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৭ লাখ টাকার বেশি। তবে বৈধ স্কলারশিপ থাকলে তা-ও আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

 

এ ছাড়া ভর্তিকৃত কোর্সের ধরন অনুযায়ী জার্মান বা ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার সনদ জমা দিতে হতে পারে।

 

তবে সব দেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই ভিসা বাধ্যতামূলক নয়। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরাইল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা জার্মানিতে প্রবেশের আগে স্টুডেন্ট ভিসা ছাড়াই যেতে পারেন। তারা সেখানে পৌঁছানোর পর স্থানীয় বিদেশি নিবন্ধন দপ্তরে আবাসিক অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন।

 

অন্যদিকে, ভিসামুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা যদি ৯০ দিনের বেশি মেয়াদের কোনো কোর্সে ভর্তি হন, তাহলে তাদেরও আবাসিক অনুমোদন নিতে হয়। তবে স্বল্পমেয়াদি কোর্স বা এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে শেনজেন ভিসা প্রযোজ্য হতে পারে।

 

পড়াশোনার ধরন অনুযায়ী জার্মানিতে বিভিন্ন ধরনের স্টাডি ভিসা রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ণকালীন একাডেমিক অধ্যয়ন, জার্মান ভাষা কোর্স, স্টুডিয়েনকলেগ, প্রস্তুতিমূলক কোর্স এবং বাধ্যতামূলক প্রাক-ইন্টার্নশিপের জন্য পৃথক ভিসা দেওয়া হয়।

 

আবেদন প্রক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে সুসংগঠিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের জার্মান দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করা যায়। অনেক দেশে অনলাইনে আবেদন করার সুবিধাও রয়েছে, বাংলাদেশ থেকেও এই সুবিধা ব্যবহার করা সম্ভব।

 

ভিসা আবেদনের সময় সাধারণত পূরণকৃত আবেদনপত্র, বৈধ পাসপোর্ট, সাম্প্রতিক ছবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির প্রমাণ, একাডেমিক সনদ ও নম্বরপত্র, ভাষাগত দক্ষতার সনদ, ভ্রমণবীমা, জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), মোটিভেশন লেটার এবং আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ জমা দিতে হয়।

 

আর্থিক প্রমাণ হিসেবে স্কলারশিপের কাগজপত্র, জার্মানিতে বসবাসরত কোনো ব্যক্তির স্পনসরশিপ ঘোষণা, ব্লকড অ্যাকাউন্টের তথ্য বা অভিভাবকের আর্থিক বিবরণী গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

 

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। তাই আবেদন করার আগে জার্মান দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

শিক্ষা

View more
এফবিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা সান দিয়েগোর শিক্ষার্থীদের
সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফবিআইয়ের ক্যারিয়ার ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা

সান দিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়া: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সান দিয়েগো শাখা সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির (এসডিএসইউ) ক্রিমিনাল জাস্টিস স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে একটি বিশেষ কমিউনিটি আউটরিচ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। এই আয়োজনে শুধু মতবিনিময় নয়, বরং ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা, অপরাধ তদন্ত ও ফেডারেল সার্ভিসে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এফবিআইয়ের কার্যক্রম ও ক্যারিয়ারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এফবিআই সান দিয়েগোর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়। ব্যুরোতে কী ধরনের কাজ করা হয়, বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে কী ধরনের ক্যারিয়ারের সুযোগ রয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করতে পারে—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীরা এফবিআইয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম, তদন্ত প্রক্রিয়া এবং ব্যুরোর বিভিন্ন পেশাগত ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে যারা ভবিষ্যতে এফবিআই বা একই ধরনের ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা ও তদন্ত সংস্থায় কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এ ধরনের সরাসরি যোগাযোগ বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। অনুষ্ঠানে এফবিআইয়ের এভিডেন্স রেসপন্স টিমের কাজ সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়। অপরাধস্থলে কীভাবে আলামত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং একটি অপরাধ তদন্তে এসব প্রমাণ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে ব্যুরোর কাজের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়। এফবিআই সান দিয়োর কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার গঠন, ব্যুরোর কাজের ধরন এবং অপরাধ তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে চান। কর্মকর্তারা তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পেশাজীবন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও কৌতূহলকে উৎসাহিত করেন। এফবিআই সান দিয়ো এক পোস্টে জানায়, তরুণ ও আগ্রহী ভবিষ্যৎ পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরে তারা আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের চিন্তাশীল প্রশ্ন ও সক্রিয় অংশগ্রহণেরও প্রশংসা করা হয়। এ ধরনের কমিউনিটি আউটরিচ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও একটি ফেডারেল তদন্ত সংস্থার কাজ, পেশাগত পরিবেশ এবং সম্ভাব্য ক্যারিয়ার সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৮:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি সুযোগ পেয়েছেন নুদরাত ফারিহা ঐশী। ছবি: সংগৃহীত

কুতুবদিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেলেন ফারিহা ঐশী

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েস প্রোগ্রামের স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের আবেদন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফুলফান্ডেড স্কলারশিপ, আবেদন শুরু

১৯৬৪ সালে ইপুয়েটে (বর্তমান বুয়েট) প্রকৌশল পড়ার স্বপ্ন নিয়ে হাজির হন তিন তরুণী। ছবি: সংগৃহীত
তিন তরুণীর জেদে বুয়েটের দরজা খুলেছিল নারীদের জন্য, যাঁদের হাত ধরে প্রকৌশলে নারীর যাত্রা

১৯৬৪ সালে তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (ইপুয়েট), বর্তমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছিল মূলত পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য। সেই সময় প্রকৌশল পড়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির দরজায় হাজির হন তিন তরুণী - খালেদা শাহরিয়ার কবির, মনোয়ারা বেগম ও শিরীন সুলতানা। তাঁদের দৃঢ় অবস্থানই শেষ পর্যন্ত ইপুয়েটে প্রকৌশলের বিভিন্ন বিভাগে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশের পথ খুলে দেয়।   ১৯৬৪ সালের জানুয়ারিতে ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী খালেদা শাহরিয়ার কবির ও শিরীন সুলতানা এবং হলিক্রস কলেজের শিক্ষার্থী মনোয়ারা বেগম ইপুয়েটে প্রকৌশল পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন স্থাপত্য বিভাগে নারী শিক্ষার্থীরা পড়লেও প্রকৌশলের অন্য বিভাগগুলোতে তাঁদের ভর্তি নেওয়া হতো না। বিশেষ করে পুরকৌশলকে নারীদের জন্য অনুপযুক্ত মনে করা হতো।   এর অন্যতম কারণ ছিল পুরকৌশলের ব্যবহারিক কাজ। শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হতো এবং সাভারে এক মাসের আবাসিক সার্ভে ক্যাম্পেও অংশ নিতে হতো। তৎকালীন রক্ষণশীল সামাজিক বাস্তবতায় মেয়েদের এমন পরিবেশে পাঠানো নিয়ে কর্তৃপক্ষের আপত্তি ছিল।   কিন্তু তিন তরুণী সেই আপত্তি মেনে নেননি। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মেয়েদের প্রকৌশল পড়তে বাধা দেওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। শেষ পর্যন্ত ইপুয়েট কর্তৃপক্ষ তাঁদের ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেয়। তিনজনই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ইপুয়েটে ভর্তি হন।   তবে পুরকৌশল পড়ার পথ তখনো পুরোপুরি খোলেনি। প্রথম বর্ষের পর বিভাগ বেছে নেওয়ার সময় খালেদা ও শিরীন পুরকৌশল নিতে চাইলে আবার আপত্তি জানায় কর্তৃপক্ষ। পরে পরিবারের সম্মতি নিয়ে সাভারের আবাসিক সার্ভে ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়ার পর তাঁদের পুরকৌশলে পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। মনোয়ারা বেগম কেমিকৌশল বেছে নেন।    তিন নারীকে ঘিরে তখন ইপুয়েট ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক কৌতূহল। তাঁদের দেখতে মানুষ ভিড় করত। বহু বছর পর স্মৃতিচারণ করে খালেদা শাহরিয়ার জানিয়েছিলেন, তাঁদের নিয়ে তখন পুরো শহরেই আলোচনা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, ইপুয়েটে ভর্তি হতে তাঁদের কোনো মামলা করতে হয়নি। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের মামলা করে ভর্তি হওয়ার দাবি ছড়ালেও তা সঠিক নয়।    ১৯৬৮ সালে খালেদা শাহরিয়ার কবির ও শিরীন সুলতানা পুরকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম নারী সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেন। ওই বছর পুরকৌশল বিভাগ থেকে ১১৩ জনের বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক হন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন এই দুই নারী। সমকালীন সংবাদপত্র মর্নিং নিউজ তাঁদের সাফল্যকে পূর্ব পাকিস্তানের নারীদের জন্য নতুন পেশার পথ উন্মোচন হিসেবে তুলে ধরেছিল।    মনোয়ারা বেগম পরে ১৯৭০ সালে কেমিকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এভাবেই তিনজন হয়ে ওঠেন ইপুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের প্রথম নারী শিক্ষার্থীদের দল।    খালেদা শাহরিয়ার কবিরের পথচলা এরপরও দীর্ঘ হয়েছে। ১৯৬৯ সালে একটি প্রকৌশল পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ১৯৭০ সালে যোগ দেন তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অথরিটিতে, যা পরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে রূপ নেয়। সেখানে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন এবং ২০০৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন।    দেশের গুরুত্বপূর্ণ পানি উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন খালেদা শাহরিয়ার। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের নকশা ও বাস্তবায়নসহ একাধিক পানি উন্নয়ন প্রকল্পে তাঁর ভূমিকা ছিল। ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি মারা যান।    আজ বুয়েটে নারী শিক্ষার্থীর উপস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু সেই স্বাভাবিকতার শুরু হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন প্রকৌশল শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণই ছিল ব্যতিক্রম। খালেদা শাহরিয়ার কবির, মনোয়ারা বেগম ও শিরীন সুলতানার সেই পথচলা শুধু তাঁদের নিজেদের শিক্ষাজীবনের সাফল্য ছিল না, পরবর্তী প্রজন্মের নারী প্রকৌশলীদের জন্যও তৈরি করেছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।   সূএ: প্রথম আলো

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১২:১৪
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের চার ভাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

চার ছেলেই বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার, প্রশংসায় ভাসছেন এক রত্নগর্ভা মা

অটিজম জয় করে মাত্র ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিস্ময় বালক জোশুয়া বেকফোর্ড। ছবি: সংগৃহীত

অটিজম নিয়েও ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ডের বিশেষায়িত কর্মসূচিতে জোশুয়া, স্বপ্ন নিউরোসার্জন হওয়ার

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ক্যাম্পাসের সামনে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়তে আসা শান্তা যাদব। ছবি: সংগৃহীত

১৮০ টাকা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান শান্তার হার্ভার্ড যাত্রা

মার্কিন ভিসা ছবি:সংগৃহীত
পড়াশোনায় অনিয়ম করলে বাতিল হতে পারে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা, সতর্ক করল ঢাকা ইউএস এম্বাসি

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীদের ভিসার শর্ত মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেছে ইউএস এম্বাসি ঢাকা।   এক বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাসটি জানায়, কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিলে, নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে নিজের স্টাডি প্রোগ্রাম থেকে সরে দাঁড়ালে তার শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে।   শুধু ভিসা বাতিলই নয়, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।তাই সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে শিক্ষার্থীদের সবসময় ভিসার শর্ত মেনে চলা এবং স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস—শিক্ষার্থী হিসেবে বৈধ অবস্থান বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থানের ক্ষেত্রে পড়াশোনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়মগুলো যথাযথভাবে পালন করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে পড়াশোনার কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করাও জরুরি।   দূতাবাসের এই সতর্কবার্তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত এবং ভবিষ্যতে পড়াশোনার জন্য দেশটিতে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভিসার শর্ত সম্পর্কে সচেতন করার জন্য দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ৫:২৯
বিদেশে পড়াশোনার খরচে সহায়তা করতে পারে খণ্ডকালীন চাকরি

বিদেশে পড়াশোনার খরচে সহায়তা করতে পারে খণ্ডকালীন চাকরি, দেশভেদে বদলে যায় নিয়ম ও আয়

এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন

এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন

সৌদি পাঠ্যবই থেকে বাদ ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি

0 Comments