সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
শিক্ষা

বাংলাদেশিদের জন্য ইউরোপের ২৭টি ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ, বিনা খরচেই ইউরোপে যেসব স্কলারশিপে আবেদন করবেন

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১:০
উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের শীর্ষ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে ইউরোপ। ছবি: সংগৃহীত
উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের শীর্ষ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে ইউরোপ। ছবি: সংগৃহীত

উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সুযোগ এবং বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখার আকর্ষণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে ইউরোপ উচ্চশিক্ষার অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। তবে ইউরোপের সব দেশে পড়াশোনা বিনা খরচে করা যায় কিংবা তালিকাভুক্ত সব বৃত্তিই সম্পূর্ণ অর্থায়িত—এমন ধারণা ঠিক নয়।

 

দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী টিউশন ফি এবং বৃত্তির সুবিধা ভিন্ন হয়। কোনো বৃত্তিতে টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, যাতায়াত ও বিমা—সবকিছু দেওয়া হয়। আবার কোনো কর্মসূচি কেবল টিউশন ফি মওকুফ বা আংশিক আর্থিক সহায়তা দেয়। ইউরোপীয় কমিশনও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপজুড়ে বিপুলসংখ্যক বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা থাকলেও প্রতিটির যোগ্যতা ও সুযোগ আলাদা। 

 

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও পরিচিত কয়েকটি বৃত্তির তথ্য তুলে ধরা হলো।

 

১. ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে পরিচিত পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তিগুলোর একটি ইরাসমাস মুন্ডাস। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সাধারণত একাধিক ইউরোপীয় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে একই যৌথ মাস্টার্স প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে পড়ার সুযোগ পান।

 

বৃত্তিতে শিক্ষাব্যয়, ভ্রমণ, ভিসা, প্রাথমিকভাবে বসবাস শুরু করার খরচ এবং মাসিক জীবনযাত্রার ভাতা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ ইউরো করে ২৪ মাস পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হতে পারে। আবেদন করতে হয় পছন্দের কোর্স পরিচালনাকারী বিশ্ববিদ্যালয় বা কনসোর্টিয়ামের কাছে। 

 

২. যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ স্কলারশিপ

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বৃত্তি কমনওয়েলথ স্কলারশিপ। মাস্টার্স, পিএইচডি, শেয়ার্ড মাস্টার্স, দূরশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট গবেষণা কার্যক্রমে আলাদা সুযোগ রয়েছে।

 

সাধারণত টিউশন ফি, যাতায়াত, জীবনযাত্রার ভাতা এবং অন্যান্য অনুমোদিত ব্যয় দেওয়া হয়। তবে সব কর্মসূচিতে একই যোগ্যতা প্রযোজ্য নয়। কোনো কোনো বিভাগে মনোনয়নকারী সংস্থার মাধ্যমে এবং কোনো ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স ও পিএইচডি বৃত্তির আবেদন ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে। 
 

৩. শেভেনিং স্কলারশিপ

শেভেনিং যুক্তরাজ্য সরকারের পূর্ণ অর্থায়নের আন্তর্জাতিক মাস্টার্স বৃত্তি। এটি সাধারণত এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য দেওয়া হয়। নেতৃত্বের দক্ষতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নিজ দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সক্ষমতাকে নির্বাচনে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

বাংলাদেশি নাগরিকেরা এই বৃত্তিতে আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্যের অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স নির্বাচনসহ সব শর্ত পূরণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বছরের আবেদনকাল আলাদাভাবে ঘোষণা করা হয়। 

 

৪. সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ

সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ ফর গ্লোবাল প্রফেশনালস নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পর্যায়ে সহায়তা দেয়। বাংলাদেশ সাধারণত যোগ্য দেশের তালিকায় থাকে।

 

এই বৃত্তিতে সাধারণত সম্পূর্ণ টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, বিমা এবং নির্দিষ্ট ভ্রমণ অনুদান অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে সুইডেনের নির্ধারিত মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করতে হয়, এরপর আলাদাভাবে বৃত্তির আবেদন সম্পন্ন করতে হয়।

 

সুইডেনের সব বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি অবশ্য পূর্ণ অর্থায়িত নয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কেবল টিউশন ফির একটি অংশ বা পুরোটা মওকুফ করে।

 

৫. জার্মানির ডিএএডি বৃত্তি

জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস বা ডিএএডি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের মাস্টার্স, পিএইচডি, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি বৃত্তি পরিচালনা করে।

 

উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্মজীবীদের জন্য ইপোস কর্মসূচি বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত। বৃত্তিভেদে মাসিক ভাতা, বিমা, যাতায়াত এবং অন্যান্য সুবিধা থাকতে পারে। সব ডিএএডি কর্মসূচি পূর্ণ অর্থায়িত নয় এবং সব কোর্সে চাকরির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলকও নয়।

 

৬. অস্ট্রিয়ার ওএএডি বৃত্তি

অস্ট্রিয়ার শিক্ষা ও আন্তর্জাতিকীকরণ সংস্থা ওএএডি বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য বিভিন্ন বৃত্তির তথ্য এবং আবেদনব্যবস্থা পরিচালনা করে।

 

স্নাতকোত্তর, পিএইচডি, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি অধ্যয়নের জন্য একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। তবে ‘ওএএডি’ একটি একক পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তির নাম নয়; এটি বিভিন্ন বৃত্তি ও অনুদানের প্ল্যাটফর্ম। প্রতিটি কর্মসূচির সুবিধা, বয়সসীমা ও যোগ্যতা আলাদা।

 

৭. সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপ

সুইজারল্যান্ড সরকারের এই বৃত্তি মূলত বিদেশি গবেষক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং কিছু ক্ষেত্রে শিল্পকলার শিক্ষার্থীদের জন্য।

 

এটি সাধারণ ব্যাচেলর বা সব ধরনের মাস্টার্স কোর্সের বৃত্তি নয়। গবেষণা প্রস্তাব, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সুইজারল্যান্ডের কোনো অধ্যাপক বা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

 

৮. ইটিএইচ জুরিখ বৃত্তি

সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবী মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য এক্সিলেন্স স্কলারশিপ অ্যান্ড অপরচুনিটি প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। এতে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সহায়তা পাওয়া যায়।

 

এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং শক্তিশালী একাডেমিক ফলাফল প্রয়োজন। ইটিএইচ জুরিখের সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বৃত্তি পান না।

 

৯. নেদারল্যান্ডসের বৃত্তি

নেদারল্যান্ডসে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক একাধিক বৃত্তি রয়েছে। এর মধ্যে মাস্ট্রিখ ইউনিভার্সিটি, টিইউ ডেলফট, লেইডেন ইউনিভার্সিটি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মসূচি পূর্ণ বা বড় অঙ্কের অর্থায়ন দেয়।

 

তবে ‘স্টাডি ইন হল্যান্ড’ নিজে কোনো একক পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি নয়; এটি উচ্চশিক্ষার তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। নেদারল্যান্ডস স্কলারশিপসহ অনেক কর্মসূচি আংশিক অনুদান দেয়। তাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নের পরিমাণ আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।

 

১০. ফিনল্যান্ডের বৃত্তি

ফিনল্যান্ডে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক টিউশন ফি এবং বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। অধিকাংশ বৃত্তি টিউশন ফি আংশিক বা পুরো মওকুফ করে; জীবনযাত্রার সব খরচ সবসময় বহন করে না।

 

এডুফি ফেলোশিপ মূলত ডক্টরাল পর্যায়ের গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটিকে সবার জন্য সাধারণ ব্যাচেলর বা মাস্টার্সের পূর্ণ বৃত্তি হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

 

১১. ডেনমার্কের সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি

ডেনমার্কের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের উচ্চমেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সরকারি অর্থায়নে টিউশন মওকুফ এবং কখনো জীবনযাত্রার অনুদান দেয়।

 

তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় বা সব কোর্সে এই সুবিধা নেই। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃত্তির জন্য বিবেচনা করা হয়।

 

১২. বেলজিয়ামের ভিএলআইআর-ইউওএস বৃত্তি

ভিএলআইআর-ইউওএস নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের বেলজিয়ামের ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলে মাস্টার্স ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য বৃত্তি দেয়। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের যোগ্যতা প্রতি বছরের দেশতালিকা ও কোর্স অনুযায়ী যাচাই করতে হয়।

 

নির্বাচিতদের টিউশন, ভ্রমণ, বিমা এবং জীবনযাত্রার খরচ দেওয়া হতে পারে।

 

১৩. মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ

ফ্ল্যান্ডার্স সরকারের মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য। এতে অনুদানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

 

তবে এটি সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সাধারণত ফ্লেমিশ বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীকে মনোনয়ন দেয়।

 

১৪. ফ্রান্সের আইফেল এক্সিলেন্স স্কলারশিপ

ফরাসি সরকারের আইফেল বৃত্তি নির্বাচিত মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য। এতে মাসিক ভাতা, ভ্রমণ, বিমা এবং কিছু আনুষঙ্গিক সুবিধা থাকতে পারে।

 

তবে আইফেল কর্মসূচি সাধারণভাবে টিউশন ফি সরাসরি বহন করে না। শিক্ষার্থী নিজে সরাসরি আবেদনও করতে পারেন না; ফরাসি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়।

 

১৫. এমিল বুতমি স্কলারশিপ

ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিল বুতমি বৃত্তি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যাচেলর ও মাস্টার্স পর্যায়ে দেওয়া হয়।

 

এটি ‘শুধু বিজ্ঞান বিভাগের’ বৃত্তি নয় এবং সবসময় পূর্ণ অর্থায়নও দেয় না। অর্থের পরিমাণ শিক্ষার স্তর ও নির্বাচিত বৃত্তির ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়।

 

১৬. ইতালিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ

ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের এমএইসিআই বৃত্তি বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স, উচ্চতর শিল্প ও সংগীত শিক্ষা, পিএইচডি, গবেষণা এবং ইতালীয় ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কোর্সে সহায়তা দেয়।

 

সাধারণত মাসিক ভাতা ও স্বাস্থ্যবিমা থাকে। টিউশন মওকুফ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি এবং কোর্সের ওপর নির্ভর করতে পারে। ব্যাচেলর পর্যায়ে সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।

 

ইতালির বিভিন্ন আঞ্চলিক বৃত্তি—যেমন ডিএসইউ বা ইআর-জিও—পারিবারিক আয় ও মেধার ভিত্তিতে টিউশন মওকুফ, আবাসন, খাবার এবং নগদ ভাতা দিতে পারে।

 

১৭. নরওয়েতে পড়াশোনা

নরওয়ের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বিনা টিউশন ফিতে হয়, এই পুরোনো তথ্য এখন আর সাধারণভাবে সঠিক নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে টিউশন ফি দিতে হয়।

 

কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বৃত্তি বা টিউশন মওকুফ দিতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের সর্বশেষ তথ্যেও বলা হয়েছে, নরওয়ের কিছু প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বৃত্তি বা ফি মওকুফের সুযোগ দেয়। 

 

১৮. হাঙ্গেরির স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপের সবচেয়ে পরিচিত সরকারি বৃত্তিগুলোর একটি স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম। ব্যাচেলর, মাস্টার্স, সমন্বিত মাস্টার্স এবং পিএইচডি পর্যায়ে সুযোগ থাকে।

 

সাধারণত টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, আবাসন সহায়তা এবং চিকিৎসাবিমা দেওয়া হয়। তবে আবাসন ও মাসিক ভাতা সব জীবনযাত্রার ব্যয় পূরণ নাও করতে পারে। বাংলাদেশের মনোনয়নকারী কর্তৃপক্ষ এবং হাঙ্গেরির অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদনসংক্রান্ত ধাপ অনুসরণ করতে হয়।

 

১৯. এস্তোনিয়ার সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি

এস্তোনিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি, বিনিময়, গ্রীষ্মকালীন কোর্স এবং গবেষণার জন্য বিভিন্ন অনুদান দেয়। কিছু বৃত্তি মাসিক ভাতা দেয়, আবার কিছু কেবল নির্দিষ্ট খরচ বহন করে।

 

এস্তোনিয়ার সব বৃত্তিকে পূর্ণ অর্থায়িত বলা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে সুযোগ যাচাই করতে হবে।

 

২০. চেক সরকারের বৃত্তি

চেক প্রজাতন্ত্র নির্বাচিত উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের জন্য সরকারি বৃত্তি দেয়। তবে যোগ্য দেশের তালিকা প্রতি বছর পরিবর্তিত হতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিকেরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষে তালিকাভুক্ত কি না, তা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে যাচাই করতে হবে।

 

চেক ভাষা ও ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার জন্য যোগ্যতা ও প্রস্তুতিমূলক কোর্সের নিয়মও আলাদা হতে পারে।

 

২১. পোল্যান্ডের বৃত্তি

পোল্যান্ডে ন্যাশনাল এজেন্সি ফর একাডেমিক এক্সচেঞ্জ বা নাওয়া বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একাধিক কর্মসূচি পরিচালনা করে।

 

‘অল অ্যাবাউট পোল্যান্ড স্কলারশিপ’ নামে একক কোনো প্রধান সরকারি পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তির ওপর নির্ভর না করে নাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা যাচাই করা উচিত।

 

২২. লিথুয়ানিয়ান স্টেট স্কলারশিপ

লিথুয়ানিয়া নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের পূর্ণকালীন মাস্টার্স, স্বল্পমেয়াদি অধ্যয়ন এবং ভাষা ও সংস্কৃতির কোর্সে সরকারি সহায়তা দিয়ে থাকে।

 

বাংলাদেশ প্রতিবছর সব বিভাগে যোগ্য নাও থাকতে পারে। বৃত্তিতে টিউশন ও মাসিক ভাতার পরিমাণ কর্মসূচিভেদে আলাদা।

 

২৩. লাটভিয়ার সরকারি বৃত্তি

লাটভিয়ায় কোনো বৃত্তি নেই—এ দাবি সঠিক নয়। দেশটির সরকার বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক এবং গ্রীষ্মকালীন স্কুলের অংশগ্রহণকারীদের জন্য বৃত্তি দিয়ে থাকে।

 

তবে যোগ্য দেশের তালিকা, অর্থের পরিমাণ ও শিক্ষার স্তর প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে। এই অনুদান সব ব্যয় পূরণ নাও করতে পারে।

 

২৪. মাল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি

ইউনিভার্সিটি অব মাল্টাসহ দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন মওকুফ বা বৃত্তি দিতে পারে।

 

এটি মাল্টায় সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য স্বয়ংক্রিয় পূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থা নয়। বিভাগ, গবেষণা প্রকল্প ও তহবিলের প্রাপ্যতার ওপর সুযোগ নির্ভর করে।

 

২৫. রাশিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ

রাশিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি কোটার আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ে বৃত্তি দেয়। এতে সাধারণত টিউশন ফি এবং সীমিত মাসিক ভাতা থাকতে পারে।

 

আবাসন, যাতায়াত, বিমা ও দৈনন্দিন ব্যয়ের কতটা শিক্ষার্থীকে বহন করতে হবে, তা আগে যাচাই করা জরুরি। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতা, ভিসা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত নির্দেশনাও বিবেচনায় নিতে হবে।

 

২৬. তুর্কিয়ে বুরসলারি

তুরস্ক সরকারের তুর্কিয়ে বুরসলারি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের বহুল পরিচিত পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি।

 

সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান নির্ধারণ, টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা, তুর্কি ভাষা শিক্ষা এবং একবারের যাতায়াত টিকিট অন্তর্ভুক্ত থাকে। বয়স, ফলাফল এবং শিক্ষার স্তর অনুযায়ী যোগ্যতার শর্ত আলাদা।

 

২৭. মারি স্ক্লোদোভস্কা-কুরি অ্যাকশনস

মারি স্ক্লোদোভস্কা-কুরি অ্যাকশনস কেবল প্রচলিত অর্থে পিএইচডি বৃত্তি নয়। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের গবেষণা ও গবেষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

 

ডক্টরাল নেটওয়ার্কের অর্থায়িত পিএইচডি পদ ছাড়াও পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপ, গবেষক বিনিময় এবং অন্যান্য গবেষণা প্রকল্প রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তির আবেদন না করে প্রকাশিত গবেষণা পদে চাকরিপ্রার্থীর মতো আবেদন করেন।

 

শুধু আইইএলটিএস ও চাকরি থাকলেই কি আবেদন করা যায়

 

স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বৃত্তিতে শুধু আইইএলটিএস এবং বর্তমানে চাকরির প্রমাণ দিলেই আবেদন করা যায়—এ তথ্য সঠিক নয়। প্রয়োজনীয় শর্তের মধ্যে থাকতে পারে শিক্ষাগত সনদ, ফলাফল, ভাষা দক্ষতা, মোটিভেশন লেটার, জীবনবৃত্তান্ত, সুপারিশপত্র, কাজ বা নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, গবেষণা প্রস্তাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রমাণ।

 

সব বৃত্তিতে চাকরি বাধ্যতামূলক নয়। আবার শেভেনিং, সুইডিশ ইনস্টিটিউট, ডিএএডির কিছু কর্মসূচি ও নির্দিষ্ট স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে কাজের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

 

একইভাবে সব বৃত্তিতে আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে টোয়েফল, পিটিই, কেমব্রিজ পরীক্ষা কিংবা আগের পড়াশোনা ইংরেজি মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার সনদ গ্রহণ করা হতে পারে। তবে শুধু ‘মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন’ সনদ সব প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করে না।

 

আবেদনের আগে যা যাচাই করতে হবে

আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রথমে নিজের শিক্ষার স্তর, বিষয়, ফলাফল, ভাষা দক্ষতা, কর্মজীবন এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অনুযায়ী বৃত্তি বাছাই করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বৃত্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি ঘোষণায় আবেদনকাল, যোগ্য দেশ, বয়সসীমা, অর্থায়নের পরিমাণ এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা জরুরি।

 

কোনো ফেসবুক পোস্ট, ব্যক্তিগত ব্লগ বা এজেন্সির তালিকা দেখে অর্থ প্রদান করা উচিত নয়। ইউরোপীয় কমিশনও শিক্ষার্থীদের দেশভিত্তিক উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি, ভিসা ও জীবনযাত্রার তথ্য সরকারি প্ল্যাটফর্ম থেকে যাচাই করার পরামর্শ দেয়। 

 

বৃত্তির সময়সীমা ও নিয়ম প্রতিবছর পরিবর্তিত হয়। ফলে পুরোনো তালিকা অনুসরণ না করে আবেদন করার শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ সরকারি বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

শিক্ষা

View more
এইচএসসি-তে জিপিএ ২.৯৩ পাওয়ার পর নানা বাধা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচডিতে ভর্তির অফার পেয়েছেন রায়হান চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
এইচএসসিতে জিপিএ ২.৯৩ পেয়েও ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির অফার পেলেন রায়হান

এইচএসসিতে জিপিএ ২.৯৩ পাওয়ার পর উচ্চশিক্ষার পথ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন রায়হান চৌধুরী। পরে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণার প্রস্তুতি চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচডিতে ভর্তির অফার পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দেওয়া পোস্টে রায়হান বলেছেন, কয়েকটি অফারে পূর্ণ অর্থায়ন এবং কয়েকটিতে আংশিক অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। সবগুলো অফার পূর্ণ অর্থায়নের নয়।   রায়হানের দেওয়া তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এগুলো হলো মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইওমিং, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ডাকোটা, নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোর কাউন্টি। যুক্তরাজ্য থেকে অফার পেয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তির অফার পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে কোন অফারে অর্থায়নের কী শর্ত রয়েছে, তা তাঁর দেওয়া বিবরণে পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়নি।   নিজের শিক্ষাজীবনের কথা বলতে গিয়ে রায়হান জানিয়েছেন, এইচএসসির ফলের কারণে দেশের কয়েকটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা ছিল না তাঁর। এরপর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ফলাফল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয়েছে বলেও তাঁর ভাষ্য। সেই অভিজ্ঞতার মধ্যেই গবেষণার দক্ষতা গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেন তিনি। নিজের কাজের মাধ্যমে যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়াই ছিল তাঁর লক্ষ্য।   রায়হানের বর্ণনায়, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর গবেষণার প্রস্তুতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। দিনে শিক্ষকতা, ক্লাসের প্রস্তুতি, খাতা দেখা এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতেন। রাতে সময় দিতেন গবেষণাপত্র পড়া, মেশিন লার্নিং শেখা ও কোড লেখায়। কোনো বিষয়ে নিজের ঘাটতি বুঝতে পারলে সেটি শেখার চেষ্টা করতেন। এই প্রস্তুতির জন্য ছুটির দিন এবং ব্যক্তিগত সময়ের বড় অংশ ব্যয় করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।   তাঁর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে চট্টগ্রামের সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজে কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষক হিসেবে কাজ করার তথ্য রয়েছে। সেখানে মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং, সাইবার সিকিউরিটি ও কোয়ান্টাম মেশিন লার্নিংকে গবেষণার আগ্রহের ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। ওয়েবসাইটে আইইইই ও স্প্রিংগারের সম্মেলনে প্রকাশিত গবেষণার তালিকাও দেওয়া আছে। এসব গবেষণার কয়েকটিতে সহলেখক হিসেবে ফারহান শাহরিয়ারের নাম রয়েছে।    রায়হান জানিয়েছেন, গবেষণার জন্য আলাদা তহবিল না থাকায় শিক্ষকতার আয় থেকে প্রকাশনা ও দক্ষতা অর্জনের খরচ চালিয়েছেন। এই সময়ে পরিবার তাঁকে সমর্থন দিয়েছে। বিশেষভাবে গবেষণাসঙ্গী ফারহান শাহরিয়ারের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। গবেষণার কাজ থেকে আবেদনপ্রক্রিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে পাশে থাকার পাশাপাশি ব্যর্থতার পরও আবার চেষ্টা করতে উৎসাহ দিয়েছেন ফারহান।   বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইইএলটিএস ও জিআরই পরীক্ষায় অংশ নেন রায়হান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য গবেষণা তত্ত্বাবধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এক হাজারের বেশি ইমেইল পাঠিয়েছিলেন। অধিকাংশের উত্তর পাননি। প্রথম দফায় আবেদন করেও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ আসেনি। এরপর প্রস্তুতি ও যোগাযোগ চালিয়ে যান এবং দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিবাচক সাড়া পান বলে জানিয়েছেন তিনি।   এই অভিজ্ঞতার শেষ পর্যায়ে এসে রায়হান নিজের সাফল্যের জন্য পরিবার, গবেষণাসঙ্গী এবং নিয়মিত পরিশ্রমের ভূমিকা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে আল্লাহর রহমত ও বাবা মায়ের দোয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া বিবরণে এখনো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার গ্রহণ করেছেন বা কবে পিএইচডি শুরু করবেন, তা উল্লেখ নেই। আপাতত সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অফার পাওয়ার অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছেন তিনি, ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের নয়। সূত্র: সিইউ আর এইচ এস

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১২:৪
অস্কার ক্লেন মেডেল পেয়েছেন বাঙালি বিজ্ঞানী অশোক সেন

হকিংয়ের পাওয়া পুরস্কার এবার বাঙালির! পদার্থবিদ্যার অস্কার ক্লেন মেডেল অশোক সেনের

সুইডেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ টিউশন ফি ও মাসিক জীবনযাত্রার ভাতাসহ মাস্টার্স করার সুযোগ

বিনা টিউশন ফিতে সুইডেনে মাস্টার্স, সঙ্গে মাসে ১ লক্ষ ৮০  হাজার টাকা ভাতা!

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় অধ্যাপককে ইমেইল পাঠানোর প্রস্তুতি

বিদেশে উচ্চশিক্ষা: অধ্যাপককে ইমেইল পাঠানোর আগে জানতে ও যাচাই করতে হবে ১০ বিষয়

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সিদ্দিকী
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অক্সফোর্ডে পাবলিক পলিসি পড়ছেন ইস্ট ওয়েস্টের ইসরাত জাহান

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সিদ্দিকী যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার অব পাবলিক পলিসি প্রোগ্রামে পড়াশোনা শুরু করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্লাভাটনিক স্কুল অব গভর্নমেন্টে এই উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি জয়েন্ট জাপান ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ প্রোগ্রামের সহায়তা পেয়েছেন বলে নিজের প্রকাশিত বক্তব্যে জানিয়েছেন।  ইসরাতের এই অর্জনের কথা জানিয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিও। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত বার্তায় তাঁকে আইন বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রাক্তনী হিসেবে উল্লেখ করে অক্সফোর্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য অভিনন্দন জানানো হয়েছে।    অক্সফোর্ডের ব্লাভাটনিক স্কুল অব গভর্নমেন্টে প্রকাশিত পরিচিতি অনুযায়ী, ইসরাত ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি ও আন্তর্জাতিক আইনে বিশেষায়িত এলএলএম সম্পন্ন করেছেন। স্নাতকে তিনি ‘ম্যাগনা কাম লাউডে’ সম্মাননা অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবী।  আইন পেশার পাশাপাশি উন্নয়ন খাতে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। অক্সফোর্ডের পরিচিতিতে বলা হয়েছে, লিঙ্গভিত্তিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ছয় বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন ইসরাত। তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়ন খাতে তাঁর পথচলা শুরু হয়।    পরবর্তী সময়ে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে আইন ও নীতি সংস্কার, গবেষণা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের কাজে যুক্ত হন তিনি। আইন ও নীতির পরিবর্তন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।    ইসরাতের নীতিগত আগ্রহের মধ্যে রয়েছে নারী ও পুরুষের পৃথক প্রয়োজন বিবেচনায় শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিচার খাতের সংস্কার এবং আইন ও নীতির পরিবর্তনকে কার্যকর জনসেবায় রূপ দেওয়া। আইন বিষয়ে পড়াশোনা ও উন্নয়ন খাতে কাজের অভিজ্ঞতার পর এবার অক্সফোর্ডে জননীতি নিয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন তিনি। সূত্র: ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি  

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ৩:৩২
শিক্ষার্থীদের জন্য দুই মাসের অনলাইন বেসিক আইইএলটিএস ও ‘রোড টু হায়ার স্টাডি কোর্স ২০২৬’ আয়োজন করছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

স্বল্পমূল্যে আইইএলটিএস কোর্স করাবে ছাত্রশিবির, জেনে নিন আবেদনের নিয়ম

ইতালিতে স্কলারশিপে উচ্চশিক্ষা

ইতালিতে স্কলারশিপে উচ্চশিক্ষা! জেনে নিন টপ ইউনিভার্সিটির তালিকা

স্নাতক ডিগ্রি নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ছাড়াই পিএইচডির সুযোগ, জানুন বিস্তারিত তালিকা

মাস্টার্স পর্যায়ের বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ১ হাজার ২০০ ইউরো
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর, ফ্রান্সে বিনা খরচে মাস্টার্স ও পিএইচডির সুযোগ

বাংলাদেশিসহ বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রান্সে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার ফ্রান্স এক্সিলেন্স আইফেল বৃত্তির ২০২৭ সালের আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফরাসি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে মনোনীত প্রার্থীদের আবেদন ক্যাম্পাস ফ্রান্সে জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ জানুয়ারি ২০২৭। তবে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের আগেই যোগাযোগ করতে হবে।      ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য বিদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশটির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আকৃষ্ট করা। বৃত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ক্যাম্পাস ফ্রান্স। এতে মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা মাসিক ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা পান।  ক্যাম্পাস ফ্রান্সের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, মাস্টার্স পর্যায়ের বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ১ হাজার ২০০ ইউরো এবং পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা মাসে ২ হাজার ১০০ ইউরো ভাতা পান। এর পাশাপাশি কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যাতায়াত, ইন্স্যুরেন্স, আবাসন খুঁজতে সহায়তা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সুবিধা রয়েছে। আবাসন খুঁজতে সহায়তা পাওয়ার অর্থ বিনা ভাড়ায় বাসস্থান নিশ্চিত হওয়া নয়।      তবে এই সুযোগকে শর্তহীনভাবে ‘বিনা খরচে পড়াশোনা’ বলা সঠিক নয়। ক্যাম্পাস ফ্রান্স স্পষ্ট করেছে, আইফেল কর্মসূচি সরাসরি টিউশন ফি বহন করে না। ফলে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সে ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে কি না এবং অন্য কোনো খরচ দিতে হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিশ্চিত করতে হবে।  এই বৃত্তিতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি ক্যাম্পাস ফ্রান্সে আবেদন জমা দিতে পারেন না। প্রথমে ফ্রান্সের সংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রার্থীর আবেদন গ্রহণ ও সমর্থন করলে তারাই নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বৃত্তির আবেদন পাঠায়। তাই ৬ জানুয়ারির কেন্দ্রীয় সময়সীমার অপেক্ষা না করে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাছাইয়ের সময়সূচি জেনে নেওয়া প্রয়োজন।      আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পরিকল্পনা ও আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে দিকনির্দেশনার জন্য ক্যাম্পাস ফ্রান্স বাংলাদেশ অথবা ফরাসি দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। নির্বাচিত কোর্সের ভর্তি, ভাষাগত যোগ্যতা ও বৃত্তির শর্ত মিলিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের মনোনয়ন পাওয়ার পরও চূড়ান্ত বৃত্তি নিশ্চিত হয় না। 

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৩:৪২
প্রতিকী ছবি এডিট আমেরিকা বাংলা।

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের চূড়ান্ত নোটিশ, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে বাড়বে কিস্তির চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রিতে আবেদনের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রিতে আবেদনের সুযোগ, জেনে নিন আবেদন এর সময়

দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমপ্রধান দেশের শিক্ষার্থীদের ফুল ফান্ডে যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার সুযোগ! জানুন বিস্তারিত

0 Comments