স্কলারশিপ

শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় বড় সুযোগ, বছরে ৪৫ লাখ টাকার বৃত্তি
শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় বড় সুযোগ, বছরে ৪৫ লাখ টাকার বৃত্তি

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার মারডক ইউনিভার্সিটি। ২০২৭ সালের রিসার্চ ট্রেনিং প্রোগ্রাম (আরটিপি) স্কলারশিপের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্বের যেকোনো দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।   অস্ট্রেলিয়ান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই স্কলারশিপের মাধ্যমে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স (এমফিল) এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে মারডক ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন গবেষণাভিত্তিক বিষয়ে এই বৃত্তির আওতায় আবেদন করা যাবে।   বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার মার্কিন ডলার পাবেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের গবেষকদের তত্ত্বাবধানে গবেষণার সুযোগ এবং বৈশ্বিক গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।   মাস্টার্স (গবেষণাভিত্তিক) প্রোগ্রামের জন্য আবেদনকারীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণি অথবা দ্বিতীয় শ্রেণির অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।   পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য আবেদনকারীদের গবেষণার সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হবে। সাধারণত প্রথম শ্রেণি বা আপার সেকেন্ড ক্লাস অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি, স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা গবেষণার দক্ষতা প্রমাণ করে এমন সমমানের যোগ্যতা প্রয়োজন হবে।   আবেদন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সম্পূর্ণ আবেদন গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অফিসে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে হবে।   আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।   মারডক ইউনিভার্সিটি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম পরিচিত গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পেতে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করেন।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
বিদেশে বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ
বিদেশে বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ, আন্ডারগ্রাজুয়েট পর্যায়ে ৬ টি সরকারি ফুল-ফান্ড স্কলারশিপ

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থাকলেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন না। তবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের সরকার সম্পূর্ণ অর্থায়নে বা ফুল-ফান্ড স্কলারশিপের সুযোগ দিয়ে থাকে। এসব বৃত্তির অধিকাংশের সার্কুলার প্রকাশ করে বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যেখানে আবেদন করে টিউশন ফি, আবাসন, মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্যবীমাসহ নানা সুবিধা পাওয়া সম্ভব।   রাশিয়া, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, জাপান ও তুরস্ক—এই ছয়টি দেশের সরকারি স্কলারশিপ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত। প্রতিটি বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা ও সুবিধা ভিন্ন হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি মাসিক ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পান।   রাশিয়ান সরকারি স্কলারশিপের আওতায় বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষাসহ ১৫টির বেশি বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মূল কোর্স শুরুর আগে রুশ ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। টিউশন ফি, আবাসন ও ভিসা-সংক্রান্ত ব্যয় বহন করে রাশিয়া সরকার। আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে শুরু হয়।   ভারতের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (ICCR) স্কলারশিপের মাধ্যমে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভারতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান। চিকিৎসাবিজ্ঞান ছাড়া প্রায় সব বিষয়ে আবেদন করা যায়। নির্বাচিতরা সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি মাসিক ভাতাও পান। আবেদনকারীদের লিখিত পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে চূড়ান্ত নির্বাচন করা হয়।   দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ (GKS) আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম আকর্ষণীয় বৃত্তি। এতে টিউশন ফি, আবাসন, স্বাস্থ্যবীমা, মাসিক ভাতা এবং যাতায়াতের বিমান ভাড়াও অন্তর্ভুক্ত থাকে। আবেদনকারীদের এক বছর কোরিয়ান ভাষা শেখানো হয় এবং এর খরচও বহন করে কর্তৃপক্ষ।   চীনের সরকারি CSC স্কলারশিপের আওতায় শত শত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, কৃষি, অর্থনীতি, আইন, শিক্ষা, সাহিত্য, ইতিহাস ও চারুকলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। চীনা ভাষায় দক্ষ না হলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এক বছর ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয়। সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে আবেদন গ্রহণ করা হয়।   জাপানের MEXT বা মনবুশো স্কলারশিপ এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সরকারি বৃত্তি হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থী এ সুযোগ পান। আবেদনকারীদের লিখিত পরীক্ষা, ভাষা দক্ষতা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিতরা টিউশন ফি ছাড়াও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাসিক ভাতা পান।   তুরস্কের Türkiye Bursları স্কলারশিপও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি, আবাসন, মাসিক ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়। আবেদনকারীদের একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি সুপারিশপত্র, ভাষা দক্ষতা এবং সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।   উচ্চশিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সরকারি স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত অল্প সময়ের জন্য খোলা থাকে। তাই আগ্রহী শিক্ষার্থীদের পাসপোর্ট, একাডেমিক সনদ, নম্বরপত্র, মেডিকেল সনদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা উচিত। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির দিকে নিয়মিত নজর রাখলে আবেদন করার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা কমে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকায় ফুল-ফান্ডিংয়ের সুযোগ কাদের বেশি? ব্যাচেলর-মাস্টার্সে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড
আমেরিকায় ফুল-ফান্ডিংয়ের সুযোগ কাদের বেশি? ব্যাচেলর-মাস্টার্সে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন হলেও খরচের কারণে সেই স্বপ্ন অনেক সময় অধরাই থেকে যায়। তবে সঠিক পরিকল্পনা, ভালো একাডেমিক ফলাফল এবং সময়মতো আবেদন করলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাচেলর ও মাস্টার্স—দুই পর্যায়েই ফুল-ফান্ডিং বা বড় ধরনের স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   ব্যাচেলর পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হাইস্কুলের ফলাফল (GPA) এবং SAT বা ACT-এর মতো মানসম্মত পরীক্ষার স্কোর। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মেধার ভিত্তিতে Merit Scholarship দিয়ে থাকে। আবেদনকারীর পরীক্ষার ফল বিশ্ববিদ্যালয়ের গড়ের চেয়ে ভালো হলে টিউশন ফি-এর বড় অংশ, এমনকি পুরো টিউশনও মওকুফ হতে পারে।   বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য Merit-based Full Scholarship দিয়ে থাকে। আবেদনকারীর একাডেমিক প্রোফাইল যদি শীর্ষ পর্যায়ের হয়, তাহলে পুরো টিউশন ফি কভার হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে সময়মতো আবেদনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপের আবেদন নভেম্বরের মধ্যে শুরু বা শেষ হয়ে যায়। তাই Early Application করলে অর্থায়নের সুযোগ তুলনামূলক বেশি থাকে।   অন্যদিকে মাস্টার্স পর্যায়ে স্কলারশিপের প্রধান উৎস হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ। অনেক শিক্ষার্থী Teaching Assistant (TA) বা Research Assistant (RA) হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। এতে শুধু টিউশন ফি মওকুফই নয়, মাসিক স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়, যা জীবনযাত্রার ব্যয়ের একটি বড় অংশ বহন করতে সহায়তা করে।   বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য Research Assistant হিসেবে অর্থায়নের সুযোগ তুলনামূলক বেশি। এ ক্ষেত্রে আবেদন করার আগেই সম্ভাব্য সুপারভাইজার বা সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সুযোগ বাড়ে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, মাস্টার্সের অর্থায়ন অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকেই দেওয়া হয়। তাই আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় প্রধান বা সম্ভাব্য গবেষণা সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করাও গুরুত্বপূর্ণ।   স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ GPA বজায় রাখা, প্রয়োজন হলে SAT, GRE বা GMAT পরীক্ষায় ভালো স্কোর করা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বেশি অর্থায়ন দেয়, এমন বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই আবেদন সম্পন্ন করা।   উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-ফান্ডিং পাওয়ার জন্য শুধু ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়। শক্তিশালী একাডেমিক প্রোফাইল, পরীক্ষায় ভালো স্কোর, সময়মতো আবেদন, সঠিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন এবং অধ্যাপকদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ—এই বিষয়গুলো একসঙ্গে থাকলেই স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের শীর্ষ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে ইউরোপ। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশিদের জন্য ইউরোপের ২৭টি ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ, বিনা খরচেই ইউরোপে যেসব স্কলারশিপে আবেদন করবেন

উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সুযোগ এবং বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখার আকর্ষণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে ইউরোপ উচ্চশিক্ষার অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। তবে ইউরোপের সব দেশে পড়াশোনা বিনা খরচে করা যায় কিংবা তালিকাভুক্ত সব বৃত্তিই সম্পূর্ণ অর্থায়িত—এমন ধারণা ঠিক নয়।   দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী টিউশন ফি এবং বৃত্তির সুবিধা ভিন্ন হয়। কোনো বৃত্তিতে টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, যাতায়াত ও বিমা—সবকিছু দেওয়া হয়। আবার কোনো কর্মসূচি কেবল টিউশন ফি মওকুফ বা আংশিক আর্থিক সহায়তা দেয়। ইউরোপীয় কমিশনও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপজুড়ে বিপুলসংখ্যক বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা থাকলেও প্রতিটির যোগ্যতা ও সুযোগ আলাদা।    বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও পরিচিত কয়েকটি বৃত্তির তথ্য তুলে ধরা হলো।   ১. ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে পরিচিত পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তিগুলোর একটি ইরাসমাস মুন্ডাস। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সাধারণত একাধিক ইউরোপীয় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে একই যৌথ মাস্টার্স প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে পড়ার সুযোগ পান।   বৃত্তিতে শিক্ষাব্যয়, ভ্রমণ, ভিসা, প্রাথমিকভাবে বসবাস শুরু করার খরচ এবং মাসিক জীবনযাত্রার ভাতা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ ইউরো করে ২৪ মাস পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হতে পারে। আবেদন করতে হয় পছন্দের কোর্স পরিচালনাকারী বিশ্ববিদ্যালয় বা কনসোর্টিয়ামের কাছে।    ২. যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ স্কলারশিপ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বৃত্তি কমনওয়েলথ স্কলারশিপ। মাস্টার্স, পিএইচডি, শেয়ার্ড মাস্টার্স, দূরশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট গবেষণা কার্যক্রমে আলাদা সুযোগ রয়েছে।   সাধারণত টিউশন ফি, যাতায়াত, জীবনযাত্রার ভাতা এবং অন্যান্য অনুমোদিত ব্যয় দেওয়া হয়। তবে সব কর্মসূচিতে একই যোগ্যতা প্রযোজ্য নয়। কোনো কোনো বিভাগে মনোনয়নকারী সংস্থার মাধ্যমে এবং কোনো ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স ও পিএইচডি বৃত্তির আবেদন ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে।    ৩. শেভেনিং স্কলারশিপ শেভেনিং যুক্তরাজ্য সরকারের পূর্ণ অর্থায়নের আন্তর্জাতিক মাস্টার্স বৃত্তি। এটি সাধারণত এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য দেওয়া হয়। নেতৃত্বের দক্ষতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নিজ দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সক্ষমতাকে নির্বাচনে গুরুত্ব দেওয়া হয়।   বাংলাদেশি নাগরিকেরা এই বৃত্তিতে আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্যের অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স নির্বাচনসহ সব শর্ত পূরণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বছরের আবেদনকাল আলাদাভাবে ঘোষণা করা হয়।    ৪. সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ ফর গ্লোবাল প্রফেশনালস নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পর্যায়ে সহায়তা দেয়। বাংলাদেশ সাধারণত যোগ্য দেশের তালিকায় থাকে।   এই বৃত্তিতে সাধারণত সম্পূর্ণ টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, বিমা এবং নির্দিষ্ট ভ্রমণ অনুদান অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে সুইডেনের নির্ধারিত মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করতে হয়, এরপর আলাদাভাবে বৃত্তির আবেদন সম্পন্ন করতে হয়।   সুইডেনের সব বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি অবশ্য পূর্ণ অর্থায়িত নয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কেবল টিউশন ফির একটি অংশ বা পুরোটা মওকুফ করে।   ৫. জার্মানির ডিএএডি বৃত্তি জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস বা ডিএএডি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের মাস্টার্স, পিএইচডি, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি বৃত্তি পরিচালনা করে।   উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্মজীবীদের জন্য ইপোস কর্মসূচি বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত। বৃত্তিভেদে মাসিক ভাতা, বিমা, যাতায়াত এবং অন্যান্য সুবিধা থাকতে পারে। সব ডিএএডি কর্মসূচি পূর্ণ অর্থায়িত নয় এবং সব কোর্সে চাকরির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলকও নয়।   ৬. অস্ট্রিয়ার ওএএডি বৃত্তি অস্ট্রিয়ার শিক্ষা ও আন্তর্জাতিকীকরণ সংস্থা ওএএডি বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য বিভিন্ন বৃত্তির তথ্য এবং আবেদনব্যবস্থা পরিচালনা করে।   স্নাতকোত্তর, পিএইচডি, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি অধ্যয়নের জন্য একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। তবে ‘ওএএডি’ একটি একক পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তির নাম নয়; এটি বিভিন্ন বৃত্তি ও অনুদানের প্ল্যাটফর্ম। প্রতিটি কর্মসূচির সুবিধা, বয়সসীমা ও যোগ্যতা আলাদা।   ৭. সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপ সুইজারল্যান্ড সরকারের এই বৃত্তি মূলত বিদেশি গবেষক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং কিছু ক্ষেত্রে শিল্পকলার শিক্ষার্থীদের জন্য।   এটি সাধারণ ব্যাচেলর বা সব ধরনের মাস্টার্স কোর্সের বৃত্তি নয়। গবেষণা প্রস্তাব, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সুইজারল্যান্ডের কোনো অধ্যাপক বা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   ৮. ইটিএইচ জুরিখ বৃত্তি সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবী মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য এক্সিলেন্স স্কলারশিপ অ্যান্ড অপরচুনিটি প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। এতে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সহায়তা পাওয়া যায়।   এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং শক্তিশালী একাডেমিক ফলাফল প্রয়োজন। ইটিএইচ জুরিখের সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বৃত্তি পান না।   ৯. নেদারল্যান্ডসের বৃত্তি নেদারল্যান্ডসে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক একাধিক বৃত্তি রয়েছে। এর মধ্যে মাস্ট্রিখ ইউনিভার্সিটি, টিইউ ডেলফট, লেইডেন ইউনিভার্সিটি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মসূচি পূর্ণ বা বড় অঙ্কের অর্থায়ন দেয়।   তবে ‘স্টাডি ইন হল্যান্ড’ নিজে কোনো একক পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি নয়; এটি উচ্চশিক্ষার তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। নেদারল্যান্ডস স্কলারশিপসহ অনেক কর্মসূচি আংশিক অনুদান দেয়। তাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নের পরিমাণ আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   ১০. ফিনল্যান্ডের বৃত্তি ফিনল্যান্ডে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক টিউশন ফি এবং বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। অধিকাংশ বৃত্তি টিউশন ফি আংশিক বা পুরো মওকুফ করে; জীবনযাত্রার সব খরচ সবসময় বহন করে না।   এডুফি ফেলোশিপ মূলত ডক্টরাল পর্যায়ের গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটিকে সবার জন্য সাধারণ ব্যাচেলর বা মাস্টার্সের পূর্ণ বৃত্তি হিসেবে দেখা ঠিক নয়।   ১১. ডেনমার্কের সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি ডেনমার্কের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের উচ্চমেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সরকারি অর্থায়নে টিউশন মওকুফ এবং কখনো জীবনযাত্রার অনুদান দেয়।   তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় বা সব কোর্সে এই সুবিধা নেই। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃত্তির জন্য বিবেচনা করা হয়।   ১২. বেলজিয়ামের ভিএলআইআর-ইউওএস বৃত্তি ভিএলআইআর-ইউওএস নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের বেলজিয়ামের ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলে মাস্টার্স ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য বৃত্তি দেয়। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের যোগ্যতা প্রতি বছরের দেশতালিকা ও কোর্স অনুযায়ী যাচাই করতে হয়।   নির্বাচিতদের টিউশন, ভ্রমণ, বিমা এবং জীবনযাত্রার খরচ দেওয়া হতে পারে।   ১৩. মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ ফ্ল্যান্ডার্স সরকারের মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য। এতে অনুদানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।   তবে এটি সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সাধারণত ফ্লেমিশ বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীকে মনোনয়ন দেয়।   ১৪. ফ্রান্সের আইফেল এক্সিলেন্স স্কলারশিপ ফরাসি সরকারের আইফেল বৃত্তি নির্বাচিত মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য। এতে মাসিক ভাতা, ভ্রমণ, বিমা এবং কিছু আনুষঙ্গিক সুবিধা থাকতে পারে।   তবে আইফেল কর্মসূচি সাধারণভাবে টিউশন ফি সরাসরি বহন করে না। শিক্ষার্থী নিজে সরাসরি আবেদনও করতে পারেন না; ফরাসি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়।   ১৫. এমিল বুতমি স্কলারশিপ ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিল বুতমি বৃত্তি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যাচেলর ও মাস্টার্স পর্যায়ে দেওয়া হয়।   এটি ‘শুধু বিজ্ঞান বিভাগের’ বৃত্তি নয় এবং সবসময় পূর্ণ অর্থায়নও দেয় না। অর্থের পরিমাণ শিক্ষার স্তর ও নির্বাচিত বৃত্তির ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়।   ১৬. ইতালিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের এমএইসিআই বৃত্তি বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স, উচ্চতর শিল্প ও সংগীত শিক্ষা, পিএইচডি, গবেষণা এবং ইতালীয় ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কোর্সে সহায়তা দেয়।   সাধারণত মাসিক ভাতা ও স্বাস্থ্যবিমা থাকে। টিউশন মওকুফ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি এবং কোর্সের ওপর নির্ভর করতে পারে। ব্যাচেলর পর্যায়ে সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।   ইতালির বিভিন্ন আঞ্চলিক বৃত্তি—যেমন ডিএসইউ বা ইআর-জিও—পারিবারিক আয় ও মেধার ভিত্তিতে টিউশন মওকুফ, আবাসন, খাবার এবং নগদ ভাতা দিতে পারে।   ১৭. নরওয়েতে পড়াশোনা নরওয়ের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বিনা টিউশন ফিতে হয়, এই পুরোনো তথ্য এখন আর সাধারণভাবে সঠিক নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে টিউশন ফি দিতে হয়।   কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বৃত্তি বা টিউশন মওকুফ দিতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের সর্বশেষ তথ্যেও বলা হয়েছে, নরওয়ের কিছু প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বৃত্তি বা ফি মওকুফের সুযোগ দেয়।    ১৮. হাঙ্গেরির স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপের সবচেয়ে পরিচিত সরকারি বৃত্তিগুলোর একটি স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম। ব্যাচেলর, মাস্টার্স, সমন্বিত মাস্টার্স এবং পিএইচডি পর্যায়ে সুযোগ থাকে।   সাধারণত টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, আবাসন সহায়তা এবং চিকিৎসাবিমা দেওয়া হয়। তবে আবাসন ও মাসিক ভাতা সব জীবনযাত্রার ব্যয় পূরণ নাও করতে পারে। বাংলাদেশের মনোনয়নকারী কর্তৃপক্ষ এবং হাঙ্গেরির অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদনসংক্রান্ত ধাপ অনুসরণ করতে হয়।   ১৯. এস্তোনিয়ার সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি এস্তোনিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি, বিনিময়, গ্রীষ্মকালীন কোর্স এবং গবেষণার জন্য বিভিন্ন অনুদান দেয়। কিছু বৃত্তি মাসিক ভাতা দেয়, আবার কিছু কেবল নির্দিষ্ট খরচ বহন করে।   এস্তোনিয়ার সব বৃত্তিকে পূর্ণ অর্থায়িত বলা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে সুযোগ যাচাই করতে হবে।   ২০. চেক সরকারের বৃত্তি চেক প্রজাতন্ত্র নির্বাচিত উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের জন্য সরকারি বৃত্তি দেয়। তবে যোগ্য দেশের তালিকা প্রতি বছর পরিবর্তিত হতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিকেরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষে তালিকাভুক্ত কি না, তা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে যাচাই করতে হবে।   চেক ভাষা ও ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার জন্য যোগ্যতা ও প্রস্তুতিমূলক কোর্সের নিয়মও আলাদা হতে পারে।   ২১. পোল্যান্ডের বৃত্তি পোল্যান্ডে ন্যাশনাল এজেন্সি ফর একাডেমিক এক্সচেঞ্জ বা নাওয়া বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একাধিক কর্মসূচি পরিচালনা করে।   ‘অল অ্যাবাউট পোল্যান্ড স্কলারশিপ’ নামে একক কোনো প্রধান সরকারি পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তির ওপর নির্ভর না করে নাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা যাচাই করা উচিত।   ২২. লিথুয়ানিয়ান স্টেট স্কলারশিপ লিথুয়ানিয়া নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের পূর্ণকালীন মাস্টার্স, স্বল্পমেয়াদি অধ্যয়ন এবং ভাষা ও সংস্কৃতির কোর্সে সরকারি সহায়তা দিয়ে থাকে।   বাংলাদেশ প্রতিবছর সব বিভাগে যোগ্য নাও থাকতে পারে। বৃত্তিতে টিউশন ও মাসিক ভাতার পরিমাণ কর্মসূচিভেদে আলাদা।   ২৩. লাটভিয়ার সরকারি বৃত্তি লাটভিয়ায় কোনো বৃত্তি নেই—এ দাবি সঠিক নয়। দেশটির সরকার বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক এবং গ্রীষ্মকালীন স্কুলের অংশগ্রহণকারীদের জন্য বৃত্তি দিয়ে থাকে।   তবে যোগ্য দেশের তালিকা, অর্থের পরিমাণ ও শিক্ষার স্তর প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে। এই অনুদান সব ব্যয় পূরণ নাও করতে পারে।   ২৪. মাল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি ইউনিভার্সিটি অব মাল্টাসহ দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন মওকুফ বা বৃত্তি দিতে পারে।   এটি মাল্টায় সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য স্বয়ংক্রিয় পূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থা নয়। বিভাগ, গবেষণা প্রকল্প ও তহবিলের প্রাপ্যতার ওপর সুযোগ নির্ভর করে।   ২৫. রাশিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ রাশিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি কোটার আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ে বৃত্তি দেয়। এতে সাধারণত টিউশন ফি এবং সীমিত মাসিক ভাতা থাকতে পারে।   আবাসন, যাতায়াত, বিমা ও দৈনন্দিন ব্যয়ের কতটা শিক্ষার্থীকে বহন করতে হবে, তা আগে যাচাই করা জরুরি। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতা, ভিসা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত নির্দেশনাও বিবেচনায় নিতে হবে।   ২৬. তুর্কিয়ে বুরসলারি তুরস্ক সরকারের তুর্কিয়ে বুরসলারি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের বহুল পরিচিত পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি।   সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান নির্ধারণ, টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা, তুর্কি ভাষা শিক্ষা এবং একবারের যাতায়াত টিকিট অন্তর্ভুক্ত থাকে। বয়স, ফলাফল এবং শিক্ষার স্তর অনুযায়ী যোগ্যতার শর্ত আলাদা।   ২৭. মারি স্ক্লোদোভস্কা-কুরি অ্যাকশনস মারি স্ক্লোদোভস্কা-কুরি অ্যাকশনস কেবল প্রচলিত অর্থে পিএইচডি বৃত্তি নয়। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের গবেষণা ও গবেষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।   ডক্টরাল নেটওয়ার্কের অর্থায়িত পিএইচডি পদ ছাড়াও পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপ, গবেষক বিনিময় এবং অন্যান্য গবেষণা প্রকল্প রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তির আবেদন না করে প্রকাশিত গবেষণা পদে চাকরিপ্রার্থীর মতো আবেদন করেন।   শুধু আইইএলটিএস ও চাকরি থাকলেই কি আবেদন করা যায়   স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বৃত্তিতে শুধু আইইএলটিএস এবং বর্তমানে চাকরির প্রমাণ দিলেই আবেদন করা যায়—এ তথ্য সঠিক নয়। প্রয়োজনীয় শর্তের মধ্যে থাকতে পারে শিক্ষাগত সনদ, ফলাফল, ভাষা দক্ষতা, মোটিভেশন লেটার, জীবনবৃত্তান্ত, সুপারিশপত্র, কাজ বা নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, গবেষণা প্রস্তাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রমাণ।   সব বৃত্তিতে চাকরি বাধ্যতামূলক নয়। আবার শেভেনিং, সুইডিশ ইনস্টিটিউট, ডিএএডির কিছু কর্মসূচি ও নির্দিষ্ট স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে কাজের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   একইভাবে সব বৃত্তিতে আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে টোয়েফল, পিটিই, কেমব্রিজ পরীক্ষা কিংবা আগের পড়াশোনা ইংরেজি মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার সনদ গ্রহণ করা হতে পারে। তবে শুধু ‘মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন’ সনদ সব প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করে না।   আবেদনের আগে যা যাচাই করতে হবে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রথমে নিজের শিক্ষার স্তর, বিষয়, ফলাফল, ভাষা দক্ষতা, কর্মজীবন এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অনুযায়ী বৃত্তি বাছাই করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বৃত্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি ঘোষণায় আবেদনকাল, যোগ্য দেশ, বয়সসীমা, অর্থায়নের পরিমাণ এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা জরুরি।   কোনো ফেসবুক পোস্ট, ব্যক্তিগত ব্লগ বা এজেন্সির তালিকা দেখে অর্থ প্রদান করা উচিত নয়। ইউরোপীয় কমিশনও শিক্ষার্থীদের দেশভিত্তিক উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি, ভিসা ও জীবনযাত্রার তথ্য সরকারি প্ল্যাটফর্ম থেকে যাচাই করার পরামর্শ দেয়।    বৃত্তির সময়সীমা ও নিয়ম প্রতিবছর পরিবর্তিত হয়। ফলে পুরোনো তালিকা অনুসরণ না করে আবেদন করার শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ সরকারি বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষার স্কলারশিপ খুঁজে পাওয়ার ৫ নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট, যেভাবে করবেন আবেদন

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন অনেক শিক্ষার্থী। কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে অনেকেই সময়মতো উপযুক্ত স্কলারশিপের খোঁজ পান না। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য স্কলারশিপের তথ্য অনলাইনে পাওয়া যায়। প্রয়োজন শুধু সঠিক জায়গায় খোঁজ করার দক্ষতা।   স্কলারশিপ পাওয়ার প্রথম ধাপ হলো নিজের যোগ্যতা ও আগ্রহের সঙ্গে মিল থাকা সুযোগগুলো খুঁজে বের করা। অনেক শিক্ষার্থী এখনো জানেন না কোন কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের তথ্য পাওয়া যায়। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।   Studyportals Scholarship Search   বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্কলারশিপ খুঁজে পাওয়ার জন্য Studyportals Scholarship Search একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম। এখানে দেশ, বিষয় এবং ডিগ্রির ধরন অনুযায়ী স্কলারশিপ খোঁজা যায়।   WeMakeScholars   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বড় স্কলারশিপ ডাটাবেজ। এখানে মাস্টার্স, পিএইচডি এবং বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্কলারশিপের তথ্য পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীরা নিজেদের একাডেমিক যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ খুঁজে নিতে পারেন।   DAAD Scholarship Database   জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছে DAAD Scholarship Database একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস (DAAD) পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্মে জার্মানির বিভিন্ন স্কলারশিপ ও গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।   Scholars4Dev   সম্পূর্ণ অর্থায়িত (Fully Funded) এবং আংশিক অর্থায়িত আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের তথ্য খুঁজে পাওয়ার জন্য Scholars4Dev একটি পরিচিত প্ল্যাটফর্ম। দেশ, ডিগ্রি ও শিক্ষার স্তর অনুযায়ী এখানে সুযোগগুলো সাজানো থাকে।   Opportunity Desk   স্কলারশিপ ছাড়াও ফেলোশিপ, এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, ইন্টার্নশিপ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সুযোগের নিয়মিত আপডেট প্রকাশ করে Opportunity Desk। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি কার্যকর তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে।   তবে শুধু ওয়েবসাইটের নাম জানলেই হবে না, সঠিকভাবে সার্চ করাও গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে Opportunity Desk ব্যবহার করে সহজেই নিজের জন্য উপযুক্ত সুযোগ খুঁজে বের করা যায়।   প্রথমে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সার্চ অপশনে যেতে হবে। এরপর নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কীওয়ার্ড লিখতে হবে। যেমন— Australia Scholarship, Japan Scholarship, Fully Funded Scholarship, Master's Scholarship, PhD Scholarship অথবা Erasmus Mundus।   সার্চ করার পর পাওয়া প্রতিটি স্কলারশিপের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে দেখতে হবে আবেদনকারীর যোগ্যতা (Eligibility), কী ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে (Benefits), প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Required Documents), আবেদনের শেষ সময় (Deadline) এবং আবেদন করার অফিসিয়াল লিংক।   আবেদনের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ— এসব ওয়েবসাইট সাধারণত নিজেরা কোনো আবেদন গ্রহণ করে না। তারা শুধু বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সুযোগগুলো এক জায়গায় প্রকাশ করে। আবেদন করার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য যাচাই করতে হবে।   স্কলারশিপ খোঁজার সময় শুধু দেশের নাম লিখে সার্চ না করে নির্দিষ্ট ফরম্যাট ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। যেমন:   Fully Funded Japan Master's Scholarship   Australia PhD Scholarship   Study in UK Scholarship   Erasmus Mundus Scholarship   এ ছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য Fully Funded Scholarship 2027, Australia Awards Scholarship, MEXT Scholarship এবং Chevening Scholarship-এর মতো জনপ্রিয় প্রোগ্রামগুলো নিয়েও নিয়মিত খোঁজ রাখা যেতে পারে।   উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ পাওয়া শুধু ভাগ্যের বিষয় নয়, বরং সঠিক তথ্য খোঁজা, সময়মতো প্রস্তুতি নেওয়া এবং নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল থাকা সুযোগে আবেদন করার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত পড়াশোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সুযোগ সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখা এবং আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করা।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের উদ্যোগে পরিচালিত অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামে আবেদন চলছে। ছবি: সংগৃহীত
আইইএলটিএস ছাড়াই হার্ভার্ডের লিডারশিপ প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ, আবেদনের শেষ সময় আজ

বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল-এর শিক্ষকদের উদ্যোগে পরিচালিত ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ আবেদন গ্রহণ চলছে। সম্পূর্ণ অর্থায়নে পরিচালিত আট সপ্তাহের এই অনলাইন নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ-তরুণীরা অংশ নিতে পারবেন। বিশেষ সুবিধা হলো, এ প্রোগ্রামে আবেদন করতে আইইএলটিএস বা অন্য কোনো ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষার স্কোর বাধ্যতামূলক নয়।   প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপকদের উদ্যোগে চালু হয়। এর লক্ষ্য হলো সামাজিক ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মেধাবী তরুণদের নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলা এবং নিজ নিজ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তাদের প্রস্তুত করা।   প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এবং মোট আট সপ্তাহব্যাপী পরিচালিত হবে। এতে তিনটি মডিউলের মাধ্যমে নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং বাস্তব দক্ষতা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগে এই কর্মসূচির নাম ছিল ‘ক্রসরোডস ইমার্জিং লিডারস প্রোগ্রাম’।   বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এ প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী সামাজিক বা আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত কিংবা সম্প্রতি এসব ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, এমন শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া আবেদনকারীকে পরিবারের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী হতে হবে।   প্রোগ্রামে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি হার্ভার্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাসে অংশ নেওয়া, বিশ্বমানের একাডেমিক ও ক্যারিয়ার উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ, ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালায় অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ থাকবে। এছাড়া উচ্চশিক্ষা ও বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।   আগ্রহীদের আগামী ১০ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয় ও ফান্ডিংয়ের তথ্য নিয়ে পড়াশোনায় ব্যস্ত এক শিক্ষার্থী (প্রতীকী ছবি)
বিদেশে পড়তে চান? ফান্ডিং পাওয়ার আগে এই ৩ বিষয় অবশ্যই জেনে নিন

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ফুলি ফান্ডেড সুযোগ পাওয়ার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীর। তবে বাস্তবতা হলো, শত শত বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত ফান্ডিং পান না। যারা ফুল ফান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে এসেছেন তাদের অনেকের মতে, এর অন্যতম কারণ শুধু ভালো ফলাফলের অভাব নয়; বরং সঠিক পরিকল্পনা, গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রোগ্রাম নির্বাচন এবং ফান্ডিং ব্যবস্থার যথাযথ ধারণার অভাব।   উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে আবেদনকারীদের তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।   প্রথমত, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রফেসর নির্বাচন করতে হবে। অনেক আবেদনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাঙ্কিং দেখে আবেদন করলেও অধিকাংশ গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে অর্থায়নের বড় অংশ আসে সংশ্লিষ্ট প্রফেসরের গবেষণা অনুদান থেকে। তাই আবেদন করার আগে নিজের গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন প্রফেসরের সাম্প্রতিক গবেষণা, প্রকাশনা, চলমান প্রকল্প এবং গবেষণাগারের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেওয়া জরুরি। গবেষণার মিল যত বেশি হবে, ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে।   দ্বিতীয়ত, ফান্ডিংয়ের কাঠামো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। অনেকেই মনে করেন, ফান্ডিং মানেই স্কলারশিপ। কিন্তু বাস্তবে উচ্চশিক্ষায় অর্থায়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত। গবেষণা সহকারী (রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ), শিক্ষকতা সহকারী (টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ), ফেলোশিপ, প্রশিক্ষণ অনুদান, বিভাগীয় পুরস্কার কিংবা গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমেও পূর্ণ বা আংশিক অর্থায়ন পাওয়া যায়। আবেদন করার আগে জানা উচিত—ফান্ডিং কে দিচ্ছে, সেটি কি ভর্তির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলবে, নাকি আলাদা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে। একই সঙ্গে ফান্ডিংয়ের মেয়াদ, টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্যবিমা ও গবেষণার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।   তৃতীয়ত, শুধু একাডেমিক ফল নয়, নিজের গবেষণার সম্ভাবনাকেও তুলে ধরতে হবে। ভালো সিজিপিএ ও গবেষণা প্রকাশনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেগুলোই একমাত্র বিবেচ্য নয়। অনেক আবেদনকারী তুলনামূলক সাধারণ একাডেমিক ফলাফল নিয়েও ফান্ডিং পান, কারণ তারা গবেষণার আগ্রহ, নতুন দক্ষতা অর্জনের সক্ষমতা এবং গবেষণা দলে কার্যকর অবদান রাখার সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হন। একটি শক্তিশালী জীবনবৃত্তান্ত সাক্ষাৎকার পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে আবেদনকারীর ভবিষ্যৎ গবেষণা সম্ভাবনা ও পরিকল্পনা।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সফল আবেদন কেবল বেশি সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার ওপর নির্ভর করে না। বরং সঠিক গবেষণার ক্ষেত্র নির্বাচন, উপযুক্ত প্রফেসরের সঙ্গে মিল খুঁজে বের করা, ফান্ডিংয়ের উৎস ও শর্ত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা এবং নিজের গবেষণা সক্ষমতাকে কার্যকরভাবে উপস্থাপন করাই সফলতার মূল চাবিকাঠি।   ফলে যারা বিদেশে ফুলি ফান্ডেড উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজছেন, তাদের জন্য পরামর্শ হলো—সংখ্যার চেয়ে মানসম্মত আবেদনকে গুরুত্ব দিন। লক্ষ্যভিত্তিক প্রস্তুতি, গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আবেদন এবং ফান্ডিং ব্যবস্থার সঠিক বোঝাপড়াই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

তাবাস্সুম জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আহমদ সোহান মেমোরিয়াল স্কলারশিপ পেলেন সামিরাতু বারা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি হাইস্কুলের কৃতি শিক্ষার্থী সামিরাতু বারা এ বছরের ‘আহমদ সোহান মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ লাভ করেছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় স্কুলটির দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ‘কমেন্সমেন্ট সেরিমনি ২০২৬’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এই স্কলারশিপের অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়।   অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. উমায়রা টিয়ো। তিনি নবস্নাতক শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে উচ্চশিক্ষা, নিয়মিত অধ্যয়ন, অনুশীলন এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ভবিষ্যৎ জীবনে সফল হতে শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় ও ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।   স্কলারশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল ভ্যারেনা কাবারক্যাস প্রয়াত শিক্ষার্থী আহমদ সোহানের স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কৃতি ছাত্র সোহান আজ আমাদের মাঝে নেই। তবে সে আছে আমাদের মনের গভীরে, আমাদের অস্তিত্বের শিকড়ে। আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।”   প্রিন্সিপাল আরও বলেন, সোহান মেধার বিকাশ ও জ্ঞানার্জনের প্রতি অসাধারণ আগ্রহ নিয়ে শিক্ষা জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখেছিলেন। তার স্মৃতি ও অর্জন আজও স্কুল সম্প্রদায়কে অনুপ্রাণিত করে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আহমদ জে সোহান ২০১০ সালে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি হাইস্কুল থেকে একাধিক পুরস্কারসহ কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। তবে কলেজ জীবন শুরু করার মাত্র দুই সপ্তাহ পর, একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।   তার স্মৃতি, মেধা ও শিক্ষাজীবনের অনুকরণীয় সাফল্যকে সম্মান জানাতে ২০১১ সালে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ ‘আহমদ সোহান মেমোরিয়াল স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ চালু করে। এরপর থেকে প্রতিবছর মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের এই সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে আহমদ সোহানের মা জাহানারা বি আহমদ এবং বাবা সিরাজ উদ্দিন আহমদ সোহাগ উপস্থিত ছিলেন। তারা স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সামিরাতু বারাকে অভিনন্দন জানান এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

Unknown জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
জাপানে ফুল স্কলারশিপ নিয়ে পিএইচডি করার সুযোগ

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জাপান থেকে এসেছে আকর্ষণীয় এক সুযোগ। দেশটির কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (কেইউটি) ২০২৭ সালের স্পেশাল স্কলারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি পূর্ণ অর্থায়নের পিএইচডি কর্মসূচি। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি, নিবন্ধন ফি এবং সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে। পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য মাসিক ভাতা, গবেষণাসংক্রান্ত সহায়তা এবং যাতায়াত ব্যয়ের সুবিধাও দেওয়া হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আবেদন করতে কোনো ফি দিতে হবে না।   গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি দীর্ঘদিন ধরে এই বিশেষ বৃত্তি কর্মসূচি পরিচালনা করছে। তিন বছর মেয়াদি এই পিএইচডি প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীরা এপ্রিল অথবা অক্টোবর সেশনে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি জাপানের অন্যতম স্বনামধন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানটি বিশেষভাবে পরিচিত।   এই বৃত্তির আওতায় ইন্টেলিজেন্ট মেকানিক্যাল অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ফোটোনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডিজাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স, ইনফরমেটিকস, ডেটা অ্যান্ড ইনোভেশন এবং ইকোনমিকস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে।   আবেদনকারীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে অথবা ডিগ্রি সম্পন্ন হওয়ার শেষ পর্যায়ে থাকতে হবে। ভর্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময় আবেদনকারীর বয়স ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। পাশাপাশি ভালো একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন করার আগে সম্ভাব্য সুপারভাইজারের অনুমোদন নিতে হবে। এজন্য প্রথমে নির্ধারিত গবেষণা প্রকল্প নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজার বা প্রকল্প পরিচালকের কাছে প্রি-অ্যাপ্লিকেশন রিকোয়েস্ট ফরম পাঠাতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ আবেদন জমা দেওয়া যাবে।   আবেদনের জন্য প্রয়োজন হবে অনলাইন আবেদনপত্র, বৈধ পাসপোর্টের কপি, জীবনবৃত্তান্ত, ইংরেজি ভাষা দক্ষতার সনদ, গবেষণা প্রস্তাবনা, কভার লেটার এবং ব্যক্তিগত বিবৃতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, পিএইচডি সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীদের তিন বছর অধ্যয়ন, নির্ধারিত ক্রেডিট অর্জন, চূড়ান্ত গবেষণা প্রতিরক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং অন্তত একটি স্বনামধন্য পিয়ার-রিভিউড জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে হবে।   বিদেশে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজছেন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী জাপানে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি বা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি আকর্ষণীয় পথ। ২০২৭ সালের এই স্পেশাল স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদনের শেষ তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২৬।   সূত্র: কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, জাপান

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
৭০টি বিশ্ববিদ্যালয়, ৪৭ লাখ ডলারের স্কলারশিপ—সব ছেড়ে স্বপ্নের কলেজে ভার্জিনিয়ার তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার এক হাইস্কুল পড়ুয়া তরুণী অবিশ্বাস্য এক শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ পেয়েও সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। লেকল্যান্ড হাইস্কুলের শেষ বর্ষের ছাত্রী অ্যালেক্সিস মরিসন দেশের ৭০টিরও বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। সেই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর জন্য মোট ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ডলারের (প্রায় ৪.৬৭ মিলিয়ন) চোখধাঁধানো স্কলারশিপের প্রস্তাব আসে।   কিন্তু সব পূর্ণাঙ্গ বৃত্তির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিয়েছেন, যেখানে তাঁকে নিজের পকেট থেকেই পড়াশোনার সিংহভাগ খরচ চালাতে হবে।   জানা গেছে, ভার্জিনিয়া টেক এবং ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির মতো স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মরিসনকে বিনা খরচে পড়াশোনা করার সুযোগ (ফুল রাইড স্কলারশিপ) দিয়েছিল।   কিন্তু তিনি ক্লেমসন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে বার্ষিক টিউশন ফি কমপক্ষে ২৩ হাজার ডলার, অথচ প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে মাত্র ৮ হাজার ডলার বৃত্তি প্রদান করেছে।   এত বড় আর্থিক সুবিধা ছেড়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে মরিসন জানান, ক্লেমসন মূলত তাঁর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। ভর্তির চিঠি পাওয়ার মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "সুযোগ পাওয়ার খবরটি শুনে আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম। সে সময় সারা ঘরে আমাদের আনন্দ, চিৎকার আর কান্নার রোল পড়ে গিয়েছিল।"   অ্যাকাডেমিক ফলাফলের দিক থেকে নিজের স্কুলের শীর্ষ পাঁচজনের মধ্যে না থাকলেও, মরিসনের আবেদনপত্রটিকে অনন্য করে তুলেছিল তাঁর শিক্ষাবহির্ভূত নানা কার্যক্রম বা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস।   ৪.১ জিপিএ অর্জনের পাশাপাশি তিনি ৩০০ ঘণ্টারও বেশি স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেছেন। এ ছাড়া তিনি ন্যাশনাল অনার সোসাইটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন এবং অন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়িয়েছেন।   তিনি এত বেশি কলেজে আবেদন করেছিলেন যে, একপর্যায়ে নিজেই তার হিসাব হারিয়ে ফেলেন। এভাবেই তিনি ভার্জিনিয়ার অন্যতম কাঙ্ক্ষিত কলেজ আবেদনকারীতে পরিণত হন।   মেয়ের এই সিদ্ধান্তে বাবা জেমস অবশ্য ইতিবাচক মনোভাবই দেখিয়েছেন। তিনি মজা করে বলেন, "অন্তত সে এমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নিয়েছে যারা কিছু আর্থিক সুবিধা তো দিচ্ছে।" মরিসনের হাতে বর্তমানে ১০ হাজার ডলারের একটি বেসরকারি স্কলারশিপও রয়েছে।   তাঁর বাবা আরও জানান, পড়াশোনার অতিরিক্ত খরচ মেটাতে তাঁর নিজস্ব 'জিআই বিল' এবং অন্যান্য সামরিক সুবিধা ব্যবহার করা যাবে। আগামী ফল সেমিস্টার থেকে ক্লেমসন ইউনিভার্সিটিতে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে নিজের স্বপ্নের পড়াশোনা শুরু করবেন অ্যালেক্সিস মরিসন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
‘লিডনেক্সট ২০২৬’ ফেলোশিপ, এশিয়া ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আবেদন করুন এখনই

বিশ্বমঞ্চে আগামীর দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘লিডনেক্সট ২০২৬: অ্যাম্বাসেডর ফর এ গ্লোবাল ফিউচার’ (LeadNext 2026: Ambassadors for a Global Future) প্রোগ্রামের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে এশিয়া ফাউন্ডেশন। এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদীয়মান তরুণ নেতাদের জন্য এটি একটি অনন্য সুযোগ, যেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মিলবে ক্যালিফোর্নিয়া ভ্রমণের সুযোগ। এটি চার মাস মেয়াদী একটি হাইব্রিড (অনলাইন ও সরাসরি) ফেলোশিপ প্রোগ্রাম। নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা অভিজ্ঞ মেন্টরদের তত্ত্বাবধানে ভার্চুয়াল মাস্টারক্লাসে অংশ নেবেন। প্রোগ্রামের শেষ পর্যায়ে আগামী বছরের (২০২৬) সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো বে-এরিয়াতে এক সপ্তাহব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেবেন তারা। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা, যারা সমাজ পরিবর্তন বা নেতৃত্বে আগ্রহী, তারা এই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তরুণদের জন্য এটি একটি বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজক সংস্থা এশিয়া ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এই প্রোগ্রামের যাবতীয় খরচ (আবাসন, যাতায়াত ও প্রশিক্ষণ) তারা বহন করবে। বিশেষ করে অংশগ্রহণকারীদের মার্কিন ভিসা প্রাপ্তিতে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হবে। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ভিসা সাপোর্ট লেটার প্রদান, ফি মওকুফ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং নতুন কার্যকর হতে যাওয়া ‘ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি’ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা: আবেদনের শেষ সময়: ৫ মে, ২০২৬ (যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী)। ফলাফল ঘোষণা: জুন মাসের শুরুতে। ক্যালিফোর্নিয়া সামিট: ১৯ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরণের আন্তর্জাতিক বিনিময় প্রোগ্রাম দক্ষ জনশক্তি ও নেটওয়ার্ক তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যারা উচ্চশিক্ষা বা পেশাদার ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান, তাদের জন্য ‘লিডনেক্সট’ একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এশিয়া ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইনিভাবে বাবার ‘ক্রুজ’ পদবি বাদ দিয়ে নতুন নাম গ্রহণ করেছেন সুরি। ছবি: সংগৃহীত

কোটি টাকার সম্পত্তি ও পরিচয় ছেড়ে আইনিভাবে বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন টম ক্রুজের মেয়ে সুরি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০