সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

স্কলারশিপ

স্নাতকে সিজিপিএ তুলনামূলক কম হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
সিজিপিএ কম হলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, ১৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ

স্নাতক পর্যায়ে সিজিপিএ তুলনামূলক কম হওয়ায় বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনে সহায়তা করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা তৈরি করেছেন মুন মোদাক। ফল ২০২৬ সেশনকে সামনে রেখে তৈরি এই তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, দেশ, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সম্ভাব্য ভর্তির যোগ্যতা তুলে ধরা হয়েছে। তবে তালিকায় থাকা সব বিশ্ববিদ্যালয় কম সিজিপিএর শিক্ষার্থী গ্রহণ করে, এমন নয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে ভর্তির শর্ত আলাদা হতে পারে।   বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের প্রশ্ন, সিজিপিএ কম হলে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সম্ভব কি না। অনেকে জানতে চান, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, আইইএলটিএসের কত স্কোর প্রয়োজন এবং নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে কোন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় বেশি উপযোগী। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।   তালিকার প্রস্তুতকারী মুন মোদাক নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানিয়েছেন, স্নাতক পর্যায়ে পড়ার সময় তাঁরও বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা না থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিনি দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে জানতে শুরু করেন। কোন দেশে ভালো সুযোগ রয়েছে, কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে হয় এবং নিজের যোগ্যতার সঙ্গে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করার পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়াই তাঁর উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।   যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রকাশিত তালিকার প্রথম ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ই যুক্তরাজ্যের। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড, ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরা, ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার, কিংস কলেজ লন্ডন, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টল এবং ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো।   এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, অর্থনীতি, সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক এবং প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। তালিকায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের জন্য স্নাতকে যুক্তরাজ্যের ২:১ সমমানের ফলাফল এবং আইইএলটিএসে সাধারণত ৬ দশমিক ৫ থেকে ৭ দশমিক ৫ স্কোরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে শুধু ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করলেই ভর্তি নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর একাডেমিক ফলাফল, নির্বাচিত বিষয়ের সঙ্গে পূর্ববর্তী শিক্ষার সামঞ্জস্য, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্যান্য শর্তও গুরুত্বপূর্ণ।   কানাডার ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় তালিকার ১১ থেকে ২০ নম্বরে রয়েছে কানাডার ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হলো ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা, ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু, ইউনিভার্সিটি অব মন্ট্রিয়ল, কুইন্স ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারি।   কানাডার এসব প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষি, ব্যবসায় শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গণিত ও সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।   প্রদত্ত তালিকায় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে স্নাতকে ৩ দশমিক শূন্য সিজিপিএ অথবা বি-প্লাস গড় ফলাফলের কথা উল্লেখ রয়েছে। ইংরেজি ভাষার যোগ্যতার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে আইইএলটিএস ৬ দশমিক ৫ অথবা টোফেলের নির্দিষ্ট স্কোর দেখানো হয়েছে। তবে এগুলো সব প্রোগ্রামের জন্য অভিন্ন যোগ্যতা নয়। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডিতে বিভাগ, গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক এবং অর্থায়নের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিশ্ববিদ্যালয় তালিকার ৪১ থেকে ৫০ নম্বরে সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ ও ইপিএফএল, নেদারল্যান্ডসের ডেলফট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, ওয়াগেনিঙ্গেন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব আমস্টারডাম, ইউট্রেখট ইউনিভার্সিটি, লাইডেন ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব গ্রোনিঙ্গেন রয়েছে। বেলজিয়ামের দুটি প্রতিষ্ঠান হলো কেইউ লুভেন ও ঘেন্ট ইউনিভার্সিটি।   এসব প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃষি, খাদ্যবিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, স্থাপত্য, আইন, অর্থনীতি এবং মানবিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। তালিকায় নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আইইএলটিএস ৬ দশমিক ৫ উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের কিছু প্রতিষ্ঠানে উচ্চ একাডেমিক ফলাফল ও নির্দিষ্ট ভাষাগত দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে।   উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয় ডেনমার্কের ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহেগেন ও আরহুস ইউনিভার্সিটি, সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট, লুন্ড ইউনিভার্সিটি ও উপসালা ইউনিভার্সিটি, নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব অসলো এবং ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব হেলসিঙ্কি তালিকায় স্থান পেয়েছে।   এ ছাড়া আয়ারল্যান্ডের ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিন ও ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিন এবং ফ্রান্সের সরবোন ইউনিভার্সিটিও রয়েছে।   এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, কৃষি, আইন, শিক্ষা, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত অনেক কোর্সে আইইএলটিএস গ্রহণ করা হলেও স্থানীয় ভাষায় পরিচালিত প্রোগ্রামে অতিরিক্ত ভাষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হতে পারে।   চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে চীনের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি, পিকিং ইউনিভার্সিটি, ফুদান ইউনিভার্সিটি, ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটি এবং সাংহাই জিয়াও টং ইউনিভার্সিটির নাম রয়েছে।   জাপানের ইউনিভার্সিটি অব টোকিও ও কিয়োটো ইউনিভার্সিটি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও কাইস্টও তালিকাভুক্ত। এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি অব হংকং রয়েছে।   এসব প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কম্পিউটার বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করা যায়।   চীন ও জাপানের কিছু প্রোগ্রামে ইংরেজির পাশাপাশি চীনা বা জাপানি ভাষার দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে। তবে ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত প্রোগ্রামের জন্য পৃথক ভাষাগত শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।   সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্য তালিকায় সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর ও নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি রয়েছে। মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালায়া এবং থাইল্যান্ডের চুলালংকর্ন ইউনিভার্সিটিও অন্তর্ভুক্ত।   ভারতের আইআইটি বোম্বে, আইআইটি দিল্লি ও ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের নাম রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষা অথবা অন্যান্য একাডেমিক যোগ্যতার প্রয়োজন হতে পারে।   মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সৌদি আরবের কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বা কাওস্ট, ইসরায়েলের টেকনিয়ন ও তেল আবিব ইউনিভার্সিটি রয়েছে। বিশেষ করে কাওস্টের গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা কর্মসূচি বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিবেচনায় আসতে পারে।   ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের আরও বিশ্ববিদ্যালয় তালিকার ৮১ থেকে ৯০ নম্বরে ইতালির ইউনিভার্সিটি অব বোলোনিয়া, পলিটেকনিকো দি মিলানো ও সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটি অব রোম রয়েছে।   স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব বার্সেলোনা ও অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব মাদ্রিদ, পর্তুগালের ইউনিভার্সিটি অব লিসবন, চেক প্রজাতন্ত্রের চার্লস ইউনিভার্সিটি, পোল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারশ, অস্ট্রিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েনা এবং হাঙ্গেরির ইওটভস লোরান্ড ইউনিভার্সিটিও স্থান পেয়েছে।   এসব প্রতিষ্ঠানে আইন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, স্থাপত্য, সামাজিক বিজ্ঞান, গণিত ও মানবিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্সের পাশাপাশি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানীয় ভাষার প্রোগ্রামও রয়েছে।   নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় নিউজিল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব অকল্যান্ড ও ইউনিভার্সিটি অব ওটাগো, ব্রাজিলের ইউনিভার্সিটি অব সাও পাওলো, মেক্সিকোর ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি, আর্জেন্টিনার ইউনিভার্সিটি অব বুয়েনস আইরেস এবং চিলির পন্টিফিক্যাল ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব চিলি তালিকায় রয়েছে।   দক্ষিণ আফ্রিকার ইউনিভার্সিটি অব কেপটাউন ও ইউনিভার্সিটি অব দ্য উইটওয়াটারসরান্ডও অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া তুরস্কের মিডল ইস্ট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং লেবাননের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের নাম রয়েছে।   এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, চিকিৎসা, প্রকৌশল, কৃষি, ব্যবসায় শিক্ষা ও সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তবে স্প্যানিশ, পর্তুগিজসহ স্থানীয় ভাষায় পরিচালিত কোর্সের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভাষার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ।   আইইএলটিএস ৫ থেকে ৫.৫ স্কোরের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে বিকল্প পথ তালিকার একটি বিশেষ অংশে যুক্তরাজ্যের এমন ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে আইইএলটিএস ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ স্কোরের শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য প্রস্তুতিমূলক শিক্ষাপথের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইউনিভার্সিটি অব বেডফোর্ডশায়ার, ইউনিভার্সিটি অব বোল্টন, ইউনিভার্সিটি অব স্টার্লিং, নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি, ব্যাঙ্গর ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার, ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অব সান্ডারল্যান্ড, টিসাইড ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব ব্র্যাডফোর্ড।   এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইইএলটিএস ৫ বা ৫ দশমিক ৫ স্কোর থাকলেই এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল মাস্টার্স প্রোগ্রামে সরাসরি ভর্তি হওয়া যাবে, এমন নয়। তালিকায় কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার ওয়ান, ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার জিরো অথবা প্রি-সেশনাল ইংলিশ কোর্সের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   এসব প্রস্তুতিমূলক কোর্সের যোগ্যতা, মেয়াদ, খরচ এবং পরবর্তী ডিগ্রি প্রোগ্রামে অগ্রসর হওয়ার শর্ত পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আবেদনকারীদের নিশ্চিত হতে হবে, প্রস্তাবিত প্রস্তুতিমূলক কোর্সটি তাঁদের কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।   সিজিপিএ কম হলে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করবেন বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে শুধু একটি তালিকার ওপর নির্ভর না করে নিজের একাডেমিক প্রোফাইল মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। স্নাতকের ফলাফল, পড়াশোনার বিষয়, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত লক্ষ্য বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করা উচিত।   বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ন্যূনতম ভর্তির যোগ্যতা পূরণ করা এবং বাস্তবে প্রতিযোগিতামূলক আবেদনকারী হওয়া এক বিষয় নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম সিজিপিএর শর্ত পূরণ করলেও অন্য আবেদনকারীদের তুলনায় সুযোগ কম থাকতে পারে। আবার কিছু প্রোগ্রামে গবেষণার অভিজ্ঞতা, কাজের অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী স্টেটমেন্ট অব পারপাস, সুপারিশপত্র এবং পূর্ববর্তী শিক্ষার বিষয়ভিত্তিক সামঞ্জস্য আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে।   একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, জীবনযাত্রার ব্যয়, স্কলারশিপ, গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজের সুযোগ এবং ভিসার শর্ত বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে যাঁরা সম্পূর্ণ অর্থায়ন নিয়ে পড়তে চান, তাঁদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগের ফান্ডিং নীতি যাচাই করা জরুরি।   উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায় থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য তালিকাটি বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার একটি সহায়ক উপকরণ হতে পারে। তবে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল অ্যাডমিশন পেজ থেকে সর্বশেষ যোগ্যতা, আবেদনের সময়সীমা, ফি, স্কলারশিপ এবং ভাষাগত শর্ত নিশ্চিত করতে হবে।   সিজিপিএ তুলনামূলক কম হলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায় না। উপযুক্ত দেশ ও প্রোগ্রাম নির্বাচন, বাস্তবসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই এবং যথাযথ প্রস্তুতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগ খুঁজে নিতে পারেন। তবে সেই সুযোগ নির্ভর করবে নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের ভর্তি নীতির ওপর।   সূত্র: মুন মোদাকের প্রকাশিত ‘ইউনিভার্সিটি লিস্ট আউটসাইড ইউএসএ।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার ফাফসা আবেদন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে পড়ার খরচ কমাতে সরকারি সহায়তার আবেদন শুরু, জেনে নিন আবেদনের নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার আবেদন শুরু হয়েছে। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের আওতায় ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন ফর ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড বা ফাফসা ফরম এখন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। এর মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি ও পড়াশোনার অন্যান্য খরচ মেটাতে সরকারি অনুদান, স্টুডেন্ট লোন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শিক্ষাবর্ষের জন্য এই আবেদন কার্যক্রম চালু রয়েছে।   ফাফসা হলো যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচ মেটাতে সরকারি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার অন্যতম প্রধান আবেদনব্যবস্থা। শুধু নতুন শিক্ষার্থীরাই নন, বর্তমানে কলেজে পড়াশোনা করছেন এমন শিক্ষার্থীরাও পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন করতে পারবেন। পরিবারের আয় কম হলে নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আবেদন করলেই অর্থ পাওয়া নিশ্চিত নয়। শিক্ষার্থীর যোগ্যতা, পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী সহায়তার পরিমাণ নির্ধারিত হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফাফসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তার জন্য বিবেচিত হতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে ফেডারেল পেল গ্র্যান্ট, ফেডারেল ওয়ার্ক স্টাডি এবং ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন। পেল গ্র্যান্ট সাধারণত ফেরত দিতে হয় না। অন্যদিকে স্টুডেন্ট লোন নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী পরিশোধ করতে হয়। ওয়ার্ক স্টাডি কর্মসূচিতে যোগ্য শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি অনুমোদিত চাকরির মাধ্যমে আয় করার সুযোগ পেতে পারেন।   নতুন শিক্ষাবর্ষের ফাফসা আবেদন করতে শিক্ষার্থী ও প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত এবং আর্থিক তথ্য দিতে হবে। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য সাধারণত ২০২৫ সালের ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্নের তথ্য ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি পরিবারের আয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, নির্দিষ্ট সম্পদের তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিবরণ চাওয়া হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আইআরএসের তথ্য সরাসরি ফাফসা আবেদনব্যবস্থায় যুক্ত করা যায়। এতে তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং ভুলের সম্ভাবনা কমে।   যেসব শিক্ষার্থী বাবা-মায়ের ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল হিসেবে বিবেচিত হন, তাঁদের আবেদনে সাধারণত বাবা-মায়ের তথ্যও প্রয়োজন হয়। তবে বাবা-মায়ের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর না থাকলেও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তাঁরা স্টুডেন্টএইড অ্যাকাউন্ট তৈরি করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর নিজের ফেডারেল আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা আলাদাভাবে বিবেচিত হবে। পরিবারের কোনো সদস্যের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর না থাকলেই শিক্ষার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য হয়ে যান না।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এই আবেদন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব পরিবারের সন্তান আগামী বছর কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের এখন থেকেই আর্থিক সহায়তার বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন। মার্কিন নাগরিক এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন নন সিটিজেন শিক্ষার্থীরা ফেডারেল সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারী শিক্ষার্থীরাও সাধারণত যোগ্যতার অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা কিংবা কোনো কলেজে ভর্তি হওয়া ফেডারেল সহায়তা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।   অন্যদিকে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের জন্য যোগ্য নন। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা স্কলারশিপ এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। ফলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্সিয়াল এইড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের জন্য প্রযোজ্য সুযোগগুলো যাচাই করতে হবে।   ফাফসা আবেদন করার ক্ষেত্রে সময়সীমার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ফেডারেল সরকারের নির্ধারিত শেষ সময়ের পাশাপাশি প্রতিটি স্টেট এবং কলেজের নিজস্ব ডেডলাইন থাকতে পারে। অনেক কলেজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়া শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়। কিছু স্টেট গ্র্যান্ট এবং কলেজভিত্তিক সহায়তার অর্থও সীমিত থাকে। তাই আবেদন করার সুযোগ থাকলেও দেরি করলে নির্দিষ্ট কিছু সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।   আবেদন জমা দেওয়ার পর ফাফসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর তথ্য যাচাই করে একটি ফাফসা সাবমিশন সামারি তৈরি করে। অধিকাংশ আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে এক থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। আবেদনকারীর নির্বাচিত কলেজগুলোতেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনা করে সহায়তার প্রস্তাব দিতে পারে। কোনো তথ্য ভুল হলে কিংবা নতুন কলেজ যুক্ত করার প্রয়োজন হলে আবেদন সংশোধনের সুযোগও রয়েছে।   ফাফসা আবেদন সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে করা যায়। আবেদন করতে শিক্ষার্থীকে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের সরকারি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। সেখানে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীর পরিস্থিতি অনুযায়ী বাবা-মা অথবা স্বামী-স্ত্রীর তথ্যও লাগতে পারে। আবেদন সম্পন্ন করার আগে সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।   বিশেষ করে যেসব পরিবারের আয় গত কয়েক বছরে কমেছে, চাকরি হারানোর ঘটনা ঘটেছে কিংবা আর্থিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, তাঁদের বিষয়টি কলেজের ফিন্যান্সিয়াল এইড অফিসকে জানানো উচিত। ফাফসায় আগের বছরের ট্যাক্স তথ্য ব্যবহার করা হলেও বর্তমান আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন বিবেচনায় নেওয়ার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কলেজ আর্থিক সহায়তার হিসাব সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে কলেজশিক্ষার ব্যয় মেটাতে ফাফসা অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার পথ। তবে আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীর নাগরিকত্ব বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, পরিবারের আর্থিক তথ্য, কলেজের ডেডলাইন এবং সম্ভাব্য সহায়তার ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। শিক্ষা বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, যোগ্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব আবেদন সম্পন্ন করা উচিত, যাতে কলেজ ও স্টেটভিত্তিক আর্থিক সহায়তার সুযোগ হাতছাড়া না হয়।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপ!
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপ: দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা কীভাবে ও কখন আবেদন করবেন?

যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচ অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ। তবে শিক্ষার্থীর একাডেমিক যোগ্যতা, পরিবারের আর্থিক অবস্থা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। হার্ভার্ড, এমআইটি ও ইয়েলের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফুলব্রাইট, নাইট-হেনেসি এবং বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি স্নাতকোত্তর ও পেশাগত পর্যায়ে পড়াশোনার খরচ বহনে সহায়তা করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব স্কলারশিপের নিয়ম এক নয়। কিছু সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন বাসিন্দাদের জন্য, কিছু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য, আবার কিছু কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব, পড়াশোনার বিষয় বা কাজের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো স্কলারশিপ সম্পূর্ণ খরচ বহন করতে পারে, আবার কোনোটি কেবল আংশিক অর্থায়ন দেয়। তাই আবেদন করার আগে যোগ্যতা, সহায়তার পরিমাণ এবং আবেদনের সময়সীমা যাচাই করা জরুরি।   হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা : যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে। এখানে সাধারণ বৃত্তির মতো শুধু পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে অর্থ দেওয়া হয় না; পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য ও শিক্ষার খরচ বহনের সক্ষমতা বিবেচনা করে সহায়তা নির্ধারণ করা হয়। যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তার মধ্যে টিউশনসহ অন্যান্য শিক্ষাব্যয়ের বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক, আর সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করে প্রতিটি পরিবারের পরিস্থিতির ওপর।   আবেদনের সময়: ২০২৭ সালের শরৎকালীন ভর্তি প্রক্রিয়ায় আগাম আবেদনের সময়সীমা সাধারণত ১ নভেম্বর এবং নিয়মিত আবেদনের সময়সীমা ১ জানুয়ারি। আর্থিক সহায়তার কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ভর্তির ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট বছরের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।   এমআইটি (ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) আর্থিক সহায়তা : বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছে এমআইটি অন্যতম আকর্ষণীয় প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়টি স্নাতক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনা করে সহায়তা দেয়। ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আবেদনকারীর আর্থিক সামর্থ্যকে বাধা হিসেবে বিবেচনা না করার নীতি অনুসরণ করে এমআইটি। যোগ্য শিক্ষার্থীদের প্রমাণিত আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী টিউশন, আবাসন, খাবার ও অন্যান্য শিক্ষাব্যয়ের জন্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের সহায়তা পেতে হলে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে এবং নির্ধারিত আর্থিক নথি জমা দিতে হবে।   আবেদনের সময়: আগাম ও নিয়মিত ভর্তি প্রক্রিয়ার সময়সীমা আলাদা। সাধারণত আগাম আবেদনের সময় নভেম্বরের শুরু এবং নিয়মিত আবেদনের সময়সীমা জানুয়ারির শুরুতে থাকে। আর্থিক সহায়তার আবেদনও সংশ্লিষ্ট ভর্তি সময়সূচি অনুসারে সম্পন্ন করতে হয়।   ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা : ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও আর্থিক সহায়তার সুযোগ রাখে। স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন করে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির নীতিমালা অনুযায়ী, ভর্তি ও আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যকে বাধা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না এবং যোগ্য শিক্ষার্থীদের প্রমাণিত আর্থিক প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্য রাখা হয়। সহায়তা সাধারণত ঋণের পরিবর্তে বৃত্তির মাধ্যমে দেওয়া হয়। ফলে উচ্চশিক্ষার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।   আবেদনের সময়: সাধারণত আগাম আবেদনের সময়সীমা ১ নভেম্বর এবং নিয়মিত আবেদনের সময়সীমা ২ জানুয়ারির কাছাকাছি থাকে। প্রতিবছর তারিখ পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি যাচাই করতে হবে।   ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রাম :  যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ কর্মসূচির আওতায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য অনুদান পেতে পারেন। সাধারণত ভালো একাডেমিক ফল, ইংরেজিতে দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং নিজ দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়। অনুদানের মধ্যে অর্থায়ন, স্বাস্থ্যসুবিধা ও অন্যান্য সহায়তা থাকতে পারে। তবে প্রতিটি দেশের জন্য যোগ্যতা, নির্বাচনপদ্ধতি এবং অর্থায়নের পরিমাণ এক নয়; সব নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করা হবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই।   আবেদনের সময়: সময়সীমা আবেদনকারীর নাগরিকত্বের দেশের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের নিজ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট ফুলব্রাইট কর্তৃপক্ষের ঘোষিত সময়সূচি অনুসরণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কেউ শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ের কারণে এই কর্মসূচিতে যোগ্য হয়ে যাবেন না; নাগরিকত্ব, বসবাস ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   নাইট-হেনেসি স্কলারস, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় : স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট-হেনেসি স্কলারস কর্মসূচি স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়তে আগ্রহী মেধাবী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এতে আবেদন করতে পারেন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের স্ট্যানফোর্ডের অনুমোদিত পূর্ণকালীন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে হয়। কর্মসূচিটি সাধারণত টিউশন, জীবনযাপনের ব্যয় এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কিছু অন্যান্য খরচের জন্য অর্থায়ন দেয়। তবে স্কলারশিপে নির্বাচিত হওয়া এবং স্ট্যানফোর্ডের নির্দিষ্ট ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া দুটি পৃথক প্রক্রিয়া। তাই উভয় আবেদনের শর্ত পূরণ করা জরুরি।   আবেদনের সময়: ২০২৭ সালের শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর জন্য আবেদন ৬ অক্টোবর ২০২৬-এ বন্ধ হয়েছে। পরবর্তী ২০২৮ সালের গোষ্ঠীর আবেদন ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে শুরু হওয়ার কথা। আগ্রহীদের স্কলারশিপের পাশাপাশি পছন্দের ডিগ্রি প্রোগ্রামের সময়সীমাও যাচাই করতে হবে।   এএইউডব্লিউ আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ : যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আসা নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সহায়তার জন্য আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি উইমেনের আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ কর্মসূচি রয়েছে। যোগ্য আন্তর্জাতিক নারী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স, ডক্টরাল বা নির্দিষ্ট পোস্টডক্টরাল পর্যায়ে পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য অর্থায়নের আবেদন করতে পারেন। একাডেমিক যোগ্যতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নিজ দেশ বা সমাজে অবদানের সম্ভাবনা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এটি সব নারী শিক্ষার্থী বা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত সাধারণ বৃত্তি নয়; নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত শর্ত রয়েছে।   আবেদনের সময়: ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বন্ধ হয়েছে। পরবর্তী চক্রের নতুন সময়সূচি প্রকাশিত হলে তা অনুসরণ করতে হবে। আবেদনকারীদের আগে থেকেই একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, সুপারিশপত্র ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি প্রস্তুত রাখা উচিত।   হুবার্ট এইচ. হামফ্রে ফেলোশিপ : হুবার্ট এইচ. হামফ্রে ফেলোশিপ অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরের পেশাগত ও একাডেমিক উন্নয়নের সুযোগ। এটি সাধারণ ডিগ্রি প্রদানকারী স্কলারশিপ নয়; বরং নেতৃত্ব, জনসেবা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়। যোগ্য হতে হলে সাধারণত স্নাতক ডিগ্রি, অন্তত পাঁচ বছরের পূর্ণকালীন পেশাগত অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের প্রমাণ, জনসেবায় অবদান এবং ইংরেজিতে দক্ষতা থাকতে হয়। নির্বাচিত ফেলোদের জন্য টিউশন ও ফি, জীবনযাপনের ভাতা, স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা দেওয়া হতে পারে।   আবেদনের সময়: সময়সীমা দেশভেদে আলাদা। আবেদনকারীদের নিজ দেশের যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা দ্বিপক্ষীয় ফুলব্রাইট কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। সাধারণত পরবর্তী বছরের কর্মসূচির জন্য আগের বছরই আবেদন ও বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাই আগ্রহী পেশাজীবীদের আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।   রোটারি পিস ফেলোশিপ : শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংঘাত নিরসন, মানবাধিকার ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী পেশাজীবীদের জন্য রোটারি পিস ফেলোশিপ একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ। কর্মসূচিটির আওতায় নির্বাচিত প্রার্থীরা অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় বা রোটারি পিস সেন্টারে মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা পেশাগত সার্টিফিকেট কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন। অর্থায়নের মধ্যে টিউশন, আবাসন, যাতায়াত এবং প্রোগ্রাম-সংশ্লিষ্ট কিছু খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে এটি সাধারণ স্নাতক পর্যায়ের বৃত্তি নয়; সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং সামাজিক প্রভাব তৈরির সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।   আবেদনের সময়: ২০২৭-২৮ চক্রের আবেদন বন্ধ হয়েছে। ২০২৮-২৯ চক্রের আবেদন ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা। আগ্রহীদের আবেদনপত্র, সুপারিশপত্র, প্রবন্ধ এবং প্রয়োজনীয় একাডেমিক নথি আগেভাগে প্রস্তুত রাখতে হবে।   জয়েন্ট জাপান-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম : বিশ্বব্যাংক ও জাপান সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচি উন্নয়নশীল দেশের যোগ্য পেশাজীবীদের নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়াশোনার জন্য অর্থায়ন দেয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ননীতি, অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পড়ার সুযোগ থাকতে পারে। সাধারণত যোগ্য দেশের নাগরিকত্ব, স্নাতক ডিগ্রি, উন্নয়নসংশ্লিষ্ট কাজে অন্তত তিন বছরের বেতনভুক্ত অভিজ্ঞতা এবং অংশগ্রহণকারী মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার শর্ত রয়েছে। সহায়তার মধ্যে টিউশন, মাসিক জীবনযাপনের ভাতা, যাতায়াত ও স্বাস্থ্যবিমা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফিরে উন্নয়নে অবদান রাখার প্রত্যাশাও এই কর্মসূচির অংশ।   আবেদনের সময়: ২০২৭ সালের প্রথম আবেদনপর্ব ১৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ২৯ মার্চ থেকে ২১ মে পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। তবে আবেদন করার আগে দেখতে হবে, পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম ওই বছরের অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে কি না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য এটি সাধারণ দেশীয় শিক্ষার্থী বৃত্তি নয়; যোগ্য উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়।   এমপাওয়ার গ্লোবাল সিটিজেন স্কলারশিপ : যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে পড়াশোনা করতে পারবেন এমন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এমপাওয়ার ফাইন্যান্সিংয়ের গ্লোবাল সিটিজেন স্কলারশিপ একটি বিকল্প। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি বা অধ্যয়নরত যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য। নির্বাচনে প্রার্থীর প্রবন্ধ, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য, পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে পেশাগত পরিকল্পনার সম্পর্ক এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব তৈরির সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়। ২০২৬ সালের ঘোষিত কর্মসূচিতে প্রথম পুরস্কার ৮ হাজার ডলার, দ্বিতীয় পুরস্কার ২ হাজার ডলার এবং তৃতীয় পুরস্কার ১ হাজার ডলার। এটি সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যয় মেটানোর নিশ্চয়তা নয়; বরং নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা।   আবেদনের সময়: বর্তমান চক্রের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬। আবেদনকারীকে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় আবেদন ও প্রবন্ধ জমা দিতে হবে। এই স্কলারশিপটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নয়; আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ডিএসিএ সুবিধাভোগীরা আবেদন করতে পারেন।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ : এই দশটি সুযোগের মধ্যে সবগুলো একই ধরনের নয়। হার্ভার্ড, এমআইটি ও ইয়েলের আর্থিক সহায়তা মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনা করে নির্ধারিত হয়। অন্যদিকে ফুলব্রাইট, নাইট-হেনেসি, এএইউডব্লিউ, হামফ্রে, রোটারি ও বিশ্বব্যাংকের কর্মসূচিগুলোর নিজস্ব যোগ্যতা, শিক্ষার স্তর এবং পেশাগত শর্ত রয়েছে। এমপাওয়ারের বৃত্তি আবার নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থায়ন দেয়। তাই শুধু স্কলারশিপের নাম দেখে আবেদন না করে নিজের নাগরিকত্ব, অভিবাসন অবস্থা, শিক্ষার স্তর, পছন্দের বিষয় এবং আর্থিক প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে সুযোগ বেছে নেওয়া উচিত।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন অ-নাগরিক শিক্ষার্থীরা ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে শুধু এফ-১ বা এম-১ স্টুডেন্ট ভিসা থাকলেই সাধারণত ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড পাওয়া যায় না। গ্রিন কার্ডধারীসহ নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন অবস্থার শিক্ষার্থীরা যোগ্য হতে পারেন। অন্যদিকে ডিএসিএ সুবিধাভোগী ও অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীরা ফেডারেল সহায়তার জন্য যোগ্য না হলেও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আর্থিক সহায়তা, রাজ্যভিত্তিক কর্মসূচি বা বেসরকারি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ কারণে প্রতিটি শিক্ষার্থীর অবস্থার ভিত্তিতে নিয়ম যাচাই করা জরুরি।   স্কলারশিপের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, পরীক্ষার ফল, সুপারিশপত্র, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ, পারিবারিক আয়ের নথি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার ফল প্রস্তুত রাখা ভালো। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও আর্থিক সহায়তার আবেদন আলাদাভাবে জমা দিতে হয়। কিছু কর্মসূচিতে আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়, আবার কিছু কর্মসূচিতে নিজ দেশের যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। আবেদনের সময়সীমা প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে, তাই পুরোনো তারিখের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।   সবশেষে, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার খরচ কমানোর জন্য শুধু বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই সুযোগ খোঁজা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আর্থিক সহায়তা, বেসরকারি স্কলারশিপ, পেশাগত ফেলোশিপ এবং নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক অনুদান একসঙ্গে বিবেচনা করলে বিকল্পের পরিসর বাড়তে পারে। সঠিক সময়ে প্রস্তুতি নেওয়া এবং যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করাই আবেদন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় অধ্যাপককে ইমেইল পাঠানোর প্রস্তুতি
বিদেশে উচ্চশিক্ষা: অধ্যাপককে ইমেইল পাঠানোর আগে জানতে ও যাচাই করতে হবে ১০ বিষয়

বিদেশে গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি করতে আগ্রহীদের জন্য সম্ভাব্য গবেষণা তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি সংক্ষিপ্ত ও প্রাসঙ্গিক ইমেইলে নিজের গবেষণার আগ্রহ, যোগ্যতা এবং অধ্যাপকের কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য তুলে ধরতে হয়। তবে আবেদন করার আগে অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ জরুরি কি না, তা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে আলাদা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনায়ও সংশ্লিষ্ট কোর্সের নিয়ম আগে দেখে নিতে বলা হয়েছে।   ইমেইল পাঠানোর প্রস্তুতিতে নিচের ১০টি বিষয় যাচাই করলে যোগাযোগের উদ্দেশ্য পরিষ্কার রাখা এবং সাধারণ ভুল এড়ানো সহজ হবে। ১. ইমেইল ঠিকানা ও প্রদর্শিত নাম নিজের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি পেশাদার ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করুন। প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল থাকলে সেটিও ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রাপকের কাছে আপনার যে নামটি দেখা যাবে, তার বানান ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করুন। ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার নির্দেশনায়ও উপযুক্ত ইমেইল ঠিকানা এবং পেশাদার ভাষা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  ২. বিষয়ের ঘরে যোগাযোগের উদ্দেশ্য ইমেইলের বিষয় বা সাবজেক্ট দেখেই যেন যোগাযোগের কারণ বোঝা যায়। পিএইচডি কিংবা গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তরের সুযোগ জানতে চাইছেন কি না এবং কোন শিক্ষাবর্ষে শুরু করতে চান, তা সংক্ষেপে লিখুন। শুধু ‘ভর্তির আবেদন’ বা ‘গবেষণার সুযোগ’ লিখলে উদ্দেশ্য পুরোপুরি স্পষ্ট নাও হতে পারে। ৩. অধ্যাপকের পরিচয় ও সঠিক সম্বোধন অধ্যাপকের নাম, পদবি, বিভাগ ও বর্তমান প্রতিষ্ঠান যাচাই করুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রোফাইল থেকে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো। সাধারণ সম্বোধনের বদলে তাঁর নামসহ উপযুক্ত একাডেমিক পদবি ব্যবহার করুন। অন্য কাউকে পাঠানো খসড়া সম্পাদনা করলে আগের অধ্যাপক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থেকে গেছে কি না, বিশেষভাবে পরীক্ষা করুন।  ৪. যোগাযোগের নিয়ম ও সময় অধ্যাপক নতুন শিক্ষার্থী নিচ্ছেন কি না এবং যোগাযোগের জন্য আলাদা ফরম বা নির্দেশনা দিয়েছেন কি না, আগে দেখুন। কিছু প্রোগ্রামে সরাসরি ইমেইলের পরিবর্তে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। অধ্যাপকের স্থানীয় সময় বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘণ্টায় পাঠালেই উত্তর আসবে, এমন নিশ্চয়তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।  ৫. প্রত্যেক অধ্যাপকের জন্য আলাদা বক্তব্য একই লেখা অপরিবর্তিত রেখে বহু অধ্যাপককে পাঠানো এড়িয়ে চলুন। তাঁর সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র, গবেষণাগারের কাজ এবং প্রকাশিত প্রকল্পের বিবরণ পড়ুন। কোন কাজটি আপনার আগ্রহের সঙ্গে মেলে, তা নির্দিষ্ট করে এক বা দুই বাক্যে লিখুন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী, যোগাযোগের আগে অধ্যাপকের গবেষণা সম্পর্কে জেনে নেওয়া এবং সেই বোঝাপড়া ইমেইলে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।  ৬. নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে গবেষণার মিল আপনার থিসিস, গবেষণা প্রকল্প, ব্যবহৃত পদ্ধতি বা প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা অধ্যাপকের গবেষণার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা ব্যাখ্যা করুন। শুধু ‘আপনার গবেষণা ভালো লেগেছে’ বলার চেয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ে নিজের আগ্রহ ও প্রস্তুতি দেখানো বেশি তথ্যবহুল। যে দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা বাস্তবে নেই, তা উল্লেখ করবেন না।  ৭. সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য লেখা তিন থেকে চারটি ছোট অনুচ্ছেদে পরিচয়, গবেষণার আগ্রহ, প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা এবং অনুরোধ সাজানো যেতে পারে। খসড়া সংক্ষিপ্ত রাখতে ১৫০ থেকে ২৫০ শব্দকে একটি ব্যবহারিক লক্ষ্য হিসেবে ধরতে পারেন। এটি সর্বজনীন বা বাধ্যতামূলক সীমা নয়। দীর্ঘ আত্মজীবনী, অপ্রয়োজনীয় প্রশংসা এবং একই তথ্যের পুনরাবৃত্তি বাদ দিন। ৮. প্রয়োজনীয় নথি ও সংযুক্তি অধ্যাপক বা প্রোগ্রামের নির্দেশনা অনুযায়ী হালনাগাদ একাডেমিক সিভি, সংক্ষিপ্ত গবেষণা প্রস্তাব কিংবা নম্বরপত্র সংযুক্ত করুন। সব প্রতিষ্ঠানের চাহিদা এক নয়। অক্সফোর্ডের নির্দেশনায় সিভি ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে খসড়া গবেষণা প্রস্তাব সংযুক্ত করার কথা রয়েছে। ফাইল পিডিএফ আকারে পাঠালে নামের মধ্যে নিজের পরিচয় ও নথির ধরন পরিষ্কার রাখুন। অপ্রয়োজনীয় নথি পাঠিয়ে ইমেইল ভারী করবেন না।  ৯. বানান, তথ্য ও সংযুক্তি পরীক্ষা পাঠানোর আগে অধ্যাপকের নাম, গবেষণাপত্রের শিরোনাম, নিজের ডিগ্রি, ফলাফল ও অভিজ্ঞতার তথ্য মিলিয়ে নিন। বানান ও ব্যাকরণ সংশোধনের সফটওয়্যার ব্যবহার করলেও চূড়ান্ত লেখাটি নিজে পড়ুন। প্রাপকের ঠিকানা সঠিক কি না এবং উল্লেখ করা ফাইলগুলো সংযুক্ত হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করুন।  ১০. শেষে স্পষ্ট ও বিনয়ী অনুরোধ আসন্ন শিক্ষাবর্ষে অধ্যাপক নতুন গবেষণার্থী নেবেন কি না এবং সম্ভাব্য অর্থায়ন রয়েছে কি না, তা ভদ্রভাবে জানতে চান। প্রয়োজন হলে সংক্ষিপ্ত অনলাইন আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। অনুরোধ এমনভাবে লিখুন, যাতে প্রাপক সহজেই বুঝতে পারেন আপনি তাঁর কাছে কী জানতে চাইছেন।  ইমেইলের উত্তর না এলে সঙ্গে সঙ্গে আবার পাঠানোর প্রয়োজন নেই। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন নির্দেশিকায় এক থেকে দুই সপ্তাহ পর সংক্ষিপ্ত অনুস্মারক পাঠানোর পরামর্শ রয়েছে। আগের ইমেইলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিনয়ের সঙ্গে খোঁজ নিতে পারেন। এরপরও উত্তর না পেলে অন্য উপযুক্ত অধ্যাপক ও গবেষণার সুযোগ খোঁজা চালিয়ে যান।  অধ্যাপকের ইতিবাচক উত্তর পেলেও সেটিকে ভর্তি বা অর্থায়নের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা যাবে না। অক্সফোর্ডের ইতিহাস বিভাগের নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনো অধ্যাপক তত্ত্বাবধানে আগ্রহ দেখালেই ভর্তির প্রস্তাব নিশ্চিত হয় না। সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের আনুষ্ঠানিক আবেদন, যোগ্যতা ও মূল্যায়নের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
মাস্টার্স পর্যায়ের বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ১ হাজার ২০০ ইউরো
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর, ফ্রান্সে বিনা খরচে মাস্টার্স ও পিএইচডির সুযোগ

বাংলাদেশিসহ বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রান্সে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার ফ্রান্স এক্সিলেন্স আইফেল বৃত্তির ২০২৭ সালের আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফরাসি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে মনোনীত প্রার্থীদের আবেদন ক্যাম্পাস ফ্রান্সে জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ জানুয়ারি ২০২৭। তবে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের আগেই যোগাযোগ করতে হবে।      ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য বিদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশটির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আকৃষ্ট করা। বৃত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ক্যাম্পাস ফ্রান্স। এতে মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা মাসিক ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা পান।  ক্যাম্পাস ফ্রান্সের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, মাস্টার্স পর্যায়ের বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ১ হাজার ২০০ ইউরো এবং পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা মাসে ২ হাজার ১০০ ইউরো ভাতা পান। এর পাশাপাশি কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যাতায়াত, ইন্স্যুরেন্স, আবাসন খুঁজতে সহায়তা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সুবিধা রয়েছে। আবাসন খুঁজতে সহায়তা পাওয়ার অর্থ বিনা ভাড়ায় বাসস্থান নিশ্চিত হওয়া নয়।      তবে এই সুযোগকে শর্তহীনভাবে ‘বিনা খরচে পড়াশোনা’ বলা সঠিক নয়। ক্যাম্পাস ফ্রান্স স্পষ্ট করেছে, আইফেল কর্মসূচি সরাসরি টিউশন ফি বহন করে না। ফলে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সে ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে কি না এবং অন্য কোনো খরচ দিতে হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিশ্চিত করতে হবে।  এই বৃত্তিতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি ক্যাম্পাস ফ্রান্সে আবেদন জমা দিতে পারেন না। প্রথমে ফ্রান্সের সংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রার্থীর আবেদন গ্রহণ ও সমর্থন করলে তারাই নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বৃত্তির আবেদন পাঠায়। তাই ৬ জানুয়ারির কেন্দ্রীয় সময়সীমার অপেক্ষা না করে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাছাইয়ের সময়সূচি জেনে নেওয়া প্রয়োজন।      আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পরিকল্পনা ও আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে দিকনির্দেশনার জন্য ক্যাম্পাস ফ্রান্স বাংলাদেশ অথবা ফরাসি দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। নির্বাচিত কোর্সের ভর্তি, ভাষাগত যোগ্যতা ও বৃত্তির শর্ত মিলিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের মনোনয়ন পাওয়ার পরও চূড়ান্ত বৃত্তি নিশ্চিত হয় না। 

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অফার পাওয়ার পর আরকানসাসের হেনড্রিক্স কলেজে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রামের মুমতাহিনা করিম মীম। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মীমের ২৫টি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৬ কোটি টাকার স্কলারশিপ অফার

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মুমতাহিনা করিম মীম যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির প্রস্তাব পাওয়ার পর আরকানসাসের হেনড্রিক্স কলেজে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৫ সালে তিনি কলেজটির হেইস মেমোরিয়াল স্কলারশিপ অর্জন করেন, যার আওতায় টিউশন ফি, থাকা ও খাবারসহ সরাসরি শিক্ষাব্যয় বহন করা হয়।   হেনড্রিক্স কলেজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৯ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার জন্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারজন এই বৃত্তি পেয়েছেন। তালিকায় বাংলাদেশের মীমকে হেইস ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী। কলেজ জানিয়েছে, টিউশন ফি বাড়লে বৃত্তির অর্থও সেই অনুযায়ী বাড়ে।    মীমকে নিয়ে প্রচারিত ‘৩৬ কোটি টাকার স্কলারশিপ’ কথাটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বৃত্তির প্রস্তাবের সম্মিলিত মূল্য। ইত্তেফাকের ২০২৫ সালের ৪ আগস্টের প্রতিবেদনে এই হিসাব উল্লেখ করা হয়। এটি এক প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া বৃত্তি কিংবা একসঙ্গে তাঁর হাতে আসা অর্থ নয়। একই প্রতিবেদনে জানানো হয়, এসব বিকল্পের মধ্য থেকে তিনি হেনড্রিক্স কলেজকে বেছে নিয়েছেন।    প্রথম আলোর ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মীম ওই বছরের ৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন। ২৬ আগস্ট তাঁর ক্লাস শুরু হয়। তিনি কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ফলে তাঁর এই অর্জনটি ২০২৫ সালের, নতুন করে পাওয়া বৃত্তির ঘোষণা নয়।   রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটায় জন্ম হলেও মীম বড় হয়েছেন চট্টগ্রাম নগরে। অংকুর সোসাইটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি।   প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয়ের শুরু মায়ের হাত ধরে। প্রথম আলোকে মীম জানান, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মা তাঁকে কোডিং শেখার ভিডিও দেন। সপ্তম শ্রেণিতে স্কুলের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করেন। নবম শ্রেণিতে প্রতিষ্ঠা করেন প্রোগ্রামিং ক্লাব, যেখানে অন্য শিক্ষার্থীদের কোডিং শেখাতেন।   করোনাকালে ইউটিউব দেখে রোবোটিকসের বিভিন্ন কাজ শেখেন মীম। জমানো টাকায় আরডুইনো কিট ও সেন্সর কিনে নিজের ঘরে ছোট একটি পরীক্ষাগার গড়ে তোলেন। সেখানেই তৈরি করেন খাবার পরিবেশনকারী রোবট ‘কিবো’।   পড়াশোনার পাশাপাশি আঁকাআঁকি, বিতর্ক, সাহিত্য ও সংগীতেও যুক্ত ছিলেন তিনি। মীমের ভাষ্য, এসব অভিজ্ঞতা বিদেশে ভর্তির আবেদনে তাঁকে সহায়তা করেছে। প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মেয়েদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও পরিবারের, বিশেষ করে মায়ের সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিতে বছরে ৩৫ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড
ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোতে পিএইচডি ফান্ডিং, বছরে ন্যূনতম ৩৫,১০০ ডলারের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোতে পূর্ণকালীন ও সম্পূর্ণ অর্থায়নপ্রাপ্ত পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টার থেকে নতুন ন্যূনতম স্টাইপেন্ড কার্যকর হবে। ১২ মাসের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে বছরে ন্যূনতম ৩৫ হাজার ১০০ ডলার এবং ১০ মাসের নিয়োগে শিক্ষাবর্ষে ন্যূনতম ২৭ হাজার ডলার পাবেন যোগ্য শিক্ষার্থীরা। ফান্ডিং প্যাকেজে টিউশন ও নির্ধারিত ফি মওকুফের সুবিধাও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের প্রকাশিত তথ্যে এসব জানানো হয়েছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পিএইচডি এক্সিলেন্স ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় এই স্টাইপেন্ড কাঠামো প্রযোজ্য হবে। এটি সব মাস্টার্স বা পিএইচডি আবেদনকারীর জন্য স্বয়ংক্রিয় অর্থায়নের ঘোষণা নয়। পূর্ণকালীন ও সম্পূর্ণ অর্থায়নপ্রাপ্ত পিএইচডি শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে নিয়োগের ভিত্তিতে সুবিধা দেওয়া হবে। পিএইচডির অ্যাসিস্ট্যান্টশিপগুলো প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়।  বাফেলোতে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে। টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টরা পাঠদান কার্যক্রমে, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়ক কাজে এবং রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টরা শিক্ষকদের গবেষণায় সহায়তা করেন। টিচিং ও গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টের নিয়োগ সাধারণত সংশ্লিষ্ট বিভাগ দেয়। রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দেওয়া হয় বিভাগ বা গবেষণা অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মাধ্যমে।  ফুল অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে সাধারণত সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা এবং হাফ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ১০ ঘণ্টা কাজের প্রত্যাশা থাকে। স্টেট পেরোলে থাকা টিচিং ও গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত হেলথ ইন্স্যুরেন্সসহ কিছু সুবিধা রয়েছে। নিয়োগের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য সুবিধা ও শর্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।  মাস্টার্সে পড়তে আগ্রহীদের ক্ষেত্রে অর্থায়নের বিষয়টি আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ মাস্টার্স প্রোগ্রামের খরচ শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অর্থায়নে বহন করতে হয়। ফলে পিএইচডির জন্য ঘোষিত স্টাইপেন্ড ও টিউশন মওকুফের কাঠামো মাস্টার্সেও একইভাবে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যাবে না।  আবেদনের যোগ্যতা, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের প্রাপ্যতা ও সময়সীমা জানতে আগ্রহীদের নিজ নিজ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরাও পছন্দের বিভাগের কাছে ইমেইলে এসব তথ্য জানতে পারেন।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
বর্তমানে যেসব ফুল ফ্রি স্কলারশিপে আবেদন চলছে, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুযোগ
বর্তমানে যেসব ফুল ফ্রি স্কলারশিপে আবেদন চলছে, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুযোগ

বিদেশে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের ২৭টি স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষায় অর্থায়নের সুযোগের একটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশের এসব কর্মসূচিতে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত কিংবা গবেষণার খরচে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সব স্কলারশিপ সম্পূর্ণ ফান্ডেড নয়। কিছু কর্মসূচিতে শুধু টিউশন ফি কিংবা আংশিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।   প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, অক্টোবর মাসেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপের আবেদন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের গেটস কেমব্রিজ স্কলারশিপের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য ১৪ অক্টোবর এবং কমনওয়েলথ মাস্টার্স স্কলারশিপের জন্য ২০ অক্টোবর গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন। ফ্রান্সের এমিল বুতমি স্কলারশিপের মাস্টার্স পর্যায়ে প্রথম আবেদন পর্বের শেষ সময় ১৮ অক্টোবর। তবে আবেদনকারীর নাগরিকত্ব, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী সময়সীমায় পার্থক্য রয়েছে।   যুক্তরাজ্যের গেটস কেমব্রিজ স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম পরিচিত উচ্চশিক্ষা বৃত্তি। এই কর্মসূচির আওতায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি, জীবনযাপনের খরচ এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বহন করা হয়। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য আবেদনের শেষ সময় ১৪ অক্টোবর ২০২৬। অন্য দেশের আবেদনকারীদের জন্য কোর্সভেদে ৮ ডিসেম্বর ২০২৬ অথবা ৬ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সময় রয়েছে। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ১৪ অক্টোবরের ডেডলাইন সাধারণভাবে প্রযোজ্য নয়।   যুক্তরাজ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ কমনওয়েলথ মাস্টার্স স্কলারশিপ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশসহ যোগ্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পান। স্কলারশিপে টিউশন ফি, বিমানভাড়া ও জীবনযাপনের নির্ধারিত ভাতাসহ বিভিন্ন ব্যয় বহন করা হয়। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ২০ অক্টোবর ব্রিটিশ সময় বিকেল ৪টায় আবেদন শেষ হবে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনও এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।   ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিল বুতমি স্কলারশিপেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এই স্কলারশিপ মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য। মাস্টার্স পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দুই বছরের প্রতিটি বছরে ১৮ হাজার ৫০০ ইউরো পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড় পান। প্রথম আবেদন পর্বের ডেডলাইন ১৮ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় পর্বের ডেডলাইন ২৯ নভেম্বর। ব্যাচেলর পর্যায়ের আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্যও আলাদা সুযোগ রয়েছে। তবে এটি মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের সব জীবনযাত্রার খরচ বহন করে না।   দক্ষিণ কোরিয়ার গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ বা জিকেএস ২০২৭ কর্মসূচিও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের এই স্কলারশিপে বিভিন্ন পর্যায়ে টিউশন ফি, ভাষাশিক্ষা ও জীবনযাপনের সহায়তার সুযোগ থাকে। প্রকাশিত তালিকায় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের এম্বাসি ট্র্যাকের ডেডলাইন ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। তবে ইউনিভার্সিটি ট্র্যাকের আবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে পৃথক সময়ে পরিচালিত হয়। তাই আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাচেলর করতে আগ্রহীদের জন্য ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির স্ট্যাম্পস স্কলারশিপ একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ। প্রকাশিত তালিকায় ১ নভেম্বর ২০২৬ আবেদন শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এই স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন, আবাসন এবং অন্যান্য নির্ধারিত শিক্ষাব্যয়ের জন্য সহায়তা পেতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ও স্কলারশিপ বিবেচনার শর্ত একসঙ্গে পূরণ করতে হয়।   একই সময়ে রাশিয়ার ওপেন ডোরস স্কলারশিপ কর্মসূচিতেও আবেদন করার সুযোগের কথা রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় ১ নভেম্বর ডেডলাইন উল্লেখ করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে নির্ধারিত বিষয়ে মাস্টার্স, পিএইচডি এবং গবেষণার সুযোগ রয়েছে। তবে সব শিক্ষার্থী একই ধরনের আর্থিক সুবিধা পান না। বিশেষ করে সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার খরচ বহন করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত দেখে নিশ্চিত হতে হবে।   এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক জাপান স্কলারশিপ প্রোগ্রামও গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচির আওতায় জাপানের এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব টোকিওসহ অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি, জীবনযাপনের ভাতা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সুবিধা পেতে পারেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের আবেদনের সময়সীমা এবং কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত আলাদা হতে পারে।   চীনের ইয়েনচিং একাডেমি স্কলারশিপেও মাস্টার্স পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই কর্মসূচিতে চীনবিষয়ক আন্তবিষয়ক গবেষণা ও পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রকাশিত তালিকায় ৩০ নভেম্বর ২০২৬ আবেদন শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সময় অস্ট্রিয়ার হেলমুট ভাইথ স্টাইপেন্ডের ডেডলাইনও দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রিয়ার এই কর্মসূচি কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স করতে আগ্রহী যোগ্য নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।   ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যৌথভাবে মাস্টার্স করার জন্য ইরাসমাস মুন্ডাস কর্মসূচিতে একাধিক স্কলারশিপ রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় এমএপিপি, আইএলএসপিএসডি, এমইএসপিওএম ও গ্লোকাল কর্মসূচির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রোগ্রামে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে বিভিন্ন ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে। তবে ইরাসমাস মুন্ডাসের সব প্রোগ্রামের আবেদন একসঙ্গে শুরু বা শেষ হয় না। প্রতিটি কোর্সের নিজস্ব আবেদন পদ্ধতি, যোগ্যতা এবং ফান্ডিংয়ের শর্ত রয়েছে।   সুইজারল্যান্ডের ইপিএফএল মাস্টার্স এক্সিলেন্স ফেলোশিপের জন্য ১৫ ডিসেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন। প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি সেমিস্টারে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ সহায়তা পান। সর্বোচ্চ চার সেমিস্টার পর্যন্ত এই অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে ফেলোশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিজেদের টিউশন ফি ও আবাসনসহ অন্যান্য ব্যয়ের দায়িত্বও বিবেচনায় রাখতে হয়। ফলে এটিকে সব খরচ বহনকারী স্কলারশিপ হিসেবে উল্লেখ করা যথাযথ নয়।   নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিখট বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএল হাই পটেনশিয়াল স্কলারশিপেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে এবং স্কলারশিপের চূড়ান্ত ডেডলাইন ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। তবে স্কলারশিপের জন্য বিবেচিত হতে অনেক মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন ১০ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। এই স্কলারশিপ মূলত নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য, সব ব্যাচেলর কোর্সের জন্য নয়।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের লাইডেন ইউনিভার্সিটি এক্সিলেন্স স্কলারশিপে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাবদ নির্ধারিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই স্কলারশিপ সম্পূর্ণ ফান্ডেড নয় এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বেশি। তাই শুধু স্কলারশিপের নাম দেখে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।   জার্মানির ডাড ইপিওএস স্কলারশিপ উন্নয়নসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা করতে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচিতে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, অর্থনীতি, ইঞ্জিনিয়ারিং, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং নগর পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স ও নির্দিষ্ট স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক কর্মঅভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সব কোর্সের ডেডলাইন এক নয়। ডাডের ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে আলাদা আবেদন সময়সূচি দেওয়া হয়েছে।   সৌদি আরবের কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বা কাউস্টেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি মূলত স্নাতকোত্তর পর্যায়ের গবেষণাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া যোগ্য শিক্ষার্থীরা টিউশন সহায়তা, আবাসন এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট ফান্ডিংয়ের সুযোগ পান। তবে আবেদনকারীকে আগে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তির শর্ত ও নির্ধারিত ইনটেক সম্পর্কে জানতে হবে।   কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ এবং হামাদ বিন খলিফা ইউনিভার্সিটিতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় যথাক্রমে ১৫ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ ডেডলাইন উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তি ও ফান্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত পৃথক হতে পারে।   থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতেও মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে স্কলারশিপ রয়েছে। তবে এআইটির সাধারণ স্কলারশিপে সম্পূর্ণ অথবা আংশিক টিউশন ফি ছাড় দেওয়া হতে পারে। জীবনযাপনের খরচ এবং অন্যান্য ফি অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীকে বহন করতে হয়। ফলে সব এআইটি স্কলারশিপকে সম্পূর্ণ ফান্ডেড হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।   প্রকাশিত ২৭টি সুযোগের তালিকায় আরও রয়েছে সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াসংশ্লিষ্ট জেমস স্কলারশিপ, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াইয়ের এডিবি স্কলারশিপ, সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপ এবং ফ্রান্সের এমওপিজিএ ফেলোশিপ। তবে এসব কর্মসূচির মধ্যে কিছু গবেষণা ফেলোশিপ, কিছু টিউশন সহায়তা এবং কিছু সম্পূর্ণ স্কলারশিপ। সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রধান ক্যাম্পাস বর্তমানে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত, হাঙ্গেরিতে নয়। পাশাপাশি সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপের সব বিভাগ সাধারণ মাস্টার্স ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়।   বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের পাশাপাশি ভর্তির যোগ্যতা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রতিষ্ঠানে ভালো সিজিপিএ, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং প্রাসঙ্গিক গবেষণা বা কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে পিএইচডি ও গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে আবেদনকারীর গবেষণার আগ্রহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সুযোগের মধ্যে মিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ।   তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, স্কলারশিপের আবেদন চালু থাকা এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আবেদন চালু থাকা সব সময় একই বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে হয়। কিছু স্কলারশিপে আলাদা আবেদন প্রয়োজন, আবার কিছু প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন থেকেই ফান্ডিংয়ের জন্য বিবেচনা করা হয়।   ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই অক্টোবর থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা জরুরি। বিশেষ করে যেসব স্কলারশিপের আবেদন অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে শেষ হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে যোগ্যতা ও ডেডলাইন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি স্কলারশিপে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, বিমানভাড়া এবং অন্যান্য খরচের কতটুকু বহন করা হবে, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এতে আবেদনকারীরা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুযোগ নির্বাচন করতে পারবেন।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
কম সিজিপিএ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে
কম সিজিপিএতেও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করুন এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, জেনে নিন শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন, কিন্তু সিজিপিএ তুলনামূলক কম? সিজিপিএ কম হলেও দেশটির কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নাম থাকলেই ভর্তি বা সম্পূর্ণ স্কলারশিপ নিশ্চিত—এমন ধারণা ঠিক নয়। আবেদনকারীর পছন্দের বিভাগ, ডিগ্রির ধরন এবং অর্থায়নের শর্ত আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।   কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেওয়া আবদুল হাকিম তিস্তির নামে সরবরাহ করা ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় এমন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য ন্যূনতম জিপিএ ২ দশমিক ৫০। আবার একই তালিকার কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যূনতম জিপিএ ৩ দশমিক ০০ প্রয়োজন।   ইউনিভার্সিটি অব ডেনভারের আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে স্নাতক ডিগ্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের মান অনুযায়ী ন্যূনতম ২ দশমিক ৫০ জিপিএ অথবা সম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট কোর্সওয়ার্কে ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম আলাদা শর্ত দিলে সেটিই প্রযোজ্য হবে।   ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসের সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভর্তি শর্তেও সর্বশেষ সম্পন্ন ডিগ্রি অথবা শেষ ৬০ সেমিস্টার ক্রেডিটে অন্তত ২ দশমিক ৫০ জিপিএ গ্রহণের বিধান রয়েছে। তবে কোনো বিভাগ অতিরিক্ত যোগ্যতা নির্ধারণ করলে আবেদনকারীকে তা পূরণ করতে হবে।   ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারে সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভর্তির জন্য স্নাতক পর্যায়ে ন্যূনতম ২ দশমিক ৭৫ জিপিএ প্রয়োজন। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ৩ দশমিক ০০। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কম জিপিএধারী আবেদনকারীর আবেদনও পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।   অন্যদিকে টেক্সাস উইমেনস ইউনিভার্সিটিতে সাধারণভাবে স্নাতকের শেষ ৬০ সেমিস্টার ক্রেডিটে ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন। তবে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগ চাইলে ওই অংশে অন্তত ২ দশমিক ৫০ জিপিএ থাকা আবেদনকারীকে সাময়িক ভর্তির জন্য বিবেচনা করতে পারে। অর্থাৎ শুধু মোট সিজিপিএ নয়, শেষ কয়েক বছরের একাডেমিক ফলও কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   তালিকায় থাকা ইউনিভার্সিটি অব মেইন অ্যাট প্রেস্ক আইলের ক্ষেত্রেও প্রোগ্রামভেদে পার্থক্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মাস্টার অব আর্টস ইন অর্গানাইজেশনাল লিডারশিপ এবং মাস্টার অব সায়েন্স ইন বিজনেস প্রোগ্রামে ন্যূনতম ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন। তাই পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে এক কথায় ‘কম সিজিপিএতে ভর্তির বিশ্ববিদ্যালয়’ বলা ঠিক হবে না।   সরবরাহ করা তালিকার প্রথম ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো—কলোরাডোর ইউনিভার্সিটি অব ডেনভার, ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি সান মার্কোস, আলাবামার আলাবামা এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, আরকানসাসের আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়ার ফোর্ট ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটি, আইওয়ার ইউনিভার্সিটি অব নর্দার্ন আইওয়া, লুইজিয়ানার ইউনিভার্সিটি অব লুইজিয়ানা অ্যাট মনরো, আরকানসাসের ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস অ্যাট লিটল রক, ক্যানসাসের ফোর্ট হেইস স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ম্যাসাচুসেটসের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথ।   পরের ১০টি হলো—মেইনের ইউনিভার্সিটি অব মেইন অ্যাট প্রেস্ক আইল, ভার্জিনিয়ার লিবার্টি ইউনিভার্সিটি, কলোরাডোর ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার, আইডাহোর ইউনিভার্সিটি অব আইডাহো, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন ক্লিয়ার লেক, ওয়েস্ট টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, আলাবামার ট্রয় ইউনিভার্সিটি, টেক্সাসের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, মিজৌরির ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিজৌরি এবং মিজৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটি।   ২১ থেকে ৩০ নম্বরে রয়েছে—মিশিগানের ইস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি ও সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি, উইসকনসিনের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন মিলওয়াকি, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস ও টেক্সাস উইমেনস ইউনিভার্সিটি, লুইজিয়ানার ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্স, মিসিসিপির জ্যাকসন স্টেট ইউনিভার্সিটি, লুইজিয়ানার সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড এ অ্যান্ড এম কলেজ এবং টেক্সাসের প্রেইরি ভিউ এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি।   তালিকার শেষ ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—ওহাইওর কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটি, ক্লিভল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব টলিডো, ক্যানসাসের উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, কেনটাকির ইস্টার্ন কেনটাকি ইউনিভার্সিটি ও মারে স্টেট ইউনিভার্সিটি, টেনেসির টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি, আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট আলাবামা এবং টেক্সাসের লামার ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আরলিংটন।   তবে এই ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রোগ্রামে কম সিজিপিএ গ্রহণ করা হবে বা সব আবেদনকারীকে সম্পূর্ণ অর্থায়ন দেওয়া হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে কোনো একটি মাস্টার্স প্রোগ্রামের যোগ্যতা দেখে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি প্রোগ্রাম বা অর্থায়নের সুযোগ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।   ভর্তি যোগ্যতার পাশাপাশি অর্থায়নের বিষয়টিও আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। ইউনিভার্সিটি অব ডেনভারের তথ্য অনুযায়ী, গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগ থেকে দেওয়া হয়। বিভাগভেদে টিচিং, রিসার্চ ও সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগও থাকতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপকে প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাই ন্যূনতম ভর্তি যোগ্যতা পূরণ করলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত—এমনটি ভাবার সুযোগ নেই।   আবেদনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি শর্তের পাশাপাশি পছন্দের বিভাগের নির্দিষ্ট নির্দেশনাও ভালোভাবে পড়তে হবে। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিজৌরির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে জিআরই বা জিম্যাট, নির্দিষ্ট ন্যূনতম জিপিএ, সুপারিশপত্র এবং স্টেটমেন্ট অব পারপাসের মতো অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জিপিএর সমমান নির্ধারণ। ডেনভারের আন্তর্জাতিক ভর্তি নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রের সমমানের জিপিএর কথা বলা হয়েছে। তাই বাংলাদেশের ট্রান্সক্রিপ্টে থাকা সিজিপিএ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নির্দিষ্ট জিপিএর সঙ্গে মিলিয়ে আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত করা উচিত নয়। যে প্রোগ্রামে আবেদন করতে চান, সেই বিভাগের ভর্তি দপ্তরের কাছ থেকে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি এবং অর্থায়নের শর্ত নিশ্চিত করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডার ব্রাইট ফিউচারস স্কলারশিপে বাড়ছে পরীক্ষার নম্বরের শর্ত
ফ্লোরিডার ব্রাইট ফিউচারস স্কলারশিপে বাড়ছে পরীক্ষার নম্বরের শর্ত

ফ্লোরিডায় ২০২৮ সালে হাইস্কুল শেষ করা শিক্ষার্থীদের ব্রাইট ফিউচারস স্কলারশিপ পেতে আগের ব্যাচের চেয়ে বেশি নম্বর লাগবে। অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগের আগস্টে হালনাগাদ করা নির্দেশিকায় দুটি প্রধান স্কলারশিপেরই এসএটি পরীক্ষার ন্যূনতম নম্বর বাড়ানো হয়েছে। পরিবর্তনটি ২০২৮ সালের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য; ২০২৭ সালে হাইস্কুল শেষ করা শিক্ষার্থীদের নম্বরের শর্ত আগের মতোই রয়েছে।    ফ্লোরিডা অ্যাকাডেমিক স্কলারস ক্যাটাগরিতে ২০২৮ সালের গ্র্যাজুয়েটদের এসএটিতে অন্তত ১৩৫০ পেতে হবে। ২০২৭ সালের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য প্রয়োজন ১৩৩০। একই ক্যাটাগরিতে সিএলটি পরীক্ষার ন্যূনতম নম্বর ৯৫ থেকে ৯৬ হলেও এসিটির শর্ত ২৯-ই থাকছে।    ফ্লোরিডা মেডালিয়ন স্কলারস ক্যাটাগরিতে এসএটির শর্ত ১১৯০ থেকে ১২০০, এসিটির শর্ত ২৪ থেকে ২৫ এবং সিএলটির শর্ত ৮২ থেকে ৮৩ হচ্ছে। অর্থাৎ ২০২৮ সালের শিক্ষার্থীদের জন্য সব পরীক্ষার নম্বরের শর্ত একই হারে বাড়েনি।   তবে পরীক্ষার নম্বর পেলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত হয় না। অ্যাকাডেমিক স্কলারসের জন্য নির্ধারিত কোর্সে ন্যূনতম ৩ দশমিক ৫০ এবং মেডালিয়ন স্কলারসের জন্য ৩ দশমিক ০০ ওয়েটেড জিপিএ প্রয়োজন। পাশাপাশি নির্ধারিত কোর্স, স্বেচ্ছাসেবা বা বেতনভুক্ত কাজের ঘণ্টা এবং আবেদনসংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হয়। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্কলারশিপ পেতে শিক্ষার্থীকে ফ্লোরিডার বাসিন্দা এবং মার্কিন নাগরিক অথবা যোগ্য অনাগরিকও হতে হবে।    শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো হাইস্কুল শেষ করার বছর অনুযায়ী শর্ত মিলিয়ে দেখা। ফ্লোরিডার সরকারি তথ্যপত্র অনুযায়ী, পরীক্ষার নম্বর অর্জন করতে হবে গ্র্যাজুয়েশনের বছরের ৩১ আগস্টের মধ্যে; বছরের মাঝামাঝি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য আলাদা সময়সীমা রয়েছে। একই বছরের ৩১ আগস্টের মধ্যে ফ্লোরিডা ফিন্যান্সিয়াল এইড আবেদনও জমা দিতে হয়। 

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েস প্রোগ্রামের স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের আবেদন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফুলফান্ডেড স্কলারশিপ, আবেদন শুরু

বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে সম্পূর্ণ অর্থায়নে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ এসেছে। কেনেডি-লুগার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড স্টাডি বা ইয়েস প্রোগ্রামের স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। আবেদন করা যাবে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টা পর্যন্ত।    ইয়েস প্রোগ্রামের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে একটি সেমিস্টার অবস্থান করে একটি আমেরিকান হাইস্কুলে পড়াশোনা করবেন। একই সময়ে তারা একটি মার্কিন পরিবারের সঙ্গে বসবাসের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।    প্রোগ্রামটির আওতায় শুধু একাডেমিক পড়াশোনাই নয়, নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শাসনব্যবস্থা, ব্যবসা ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকবে। মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েস প্রোগ্রামের অন্যতম লক্ষ্য হলো তরুণ নেতৃত্বের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা।    এই কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজেদের সংস্কৃতি, অভিজ্ঞতা ও দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন। ফলে এটি শুধু বিদেশে পড়াশোনার কর্মসূচি নয়, দুই দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরির একটি বিনিময় কর্মসূচিও।   শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হবে মেধার ভিত্তিতে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ইয়েস প্রোগ্রাম ২০০৪ সালে চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৫৩০ জন শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছেন বলে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে।    আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসোর্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টা। আবেদন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করে আবেদন করতে হবে।    স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের এই কর্মসূচিতে সুযোগ পেলে বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন শিক্ষা পরিবেশে অভিজ্ঞতা অর্জন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবেন।  সূত্র: দি ডেইলি ক্যাম্পাস

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
অ্যামাজনে চাকরি পেতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর যে প্রস্তুতি প্রয়োজন
অ্যামাজনে চাকরি পেতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, জেনে নিন

মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে ফারিহা জেরিন রাবিতা ২০২১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় পাড়ি দেন। বিদেশে পড়াশোনার খরচ পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে থাকলেও স্কলারশিপ, ক্যাম্পাসে কাজ এবং একের পর এক ইন্ডাস্ট্রি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি শেষ পর্যন্ত টরন্টোতে অ্যামাজনের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন।    বাংলাদেশের এইচএসসি ২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাবিতার শুরুতে লক্ষ্য ছিল বুয়েটে পড়া। করোনার কারণে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলে কানাডায় পড়াশোনার সুযোগ নিয়ে ভাবতে শুরু করেন তিনি। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপ নিয়ে গবেষণা করে শেষ পর্যন্ত কানাডার ডালহৌসি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। চার বছরে ৪৪ হাজার ৪০০ কানাডিয়ান ডলারের Seymour Schulich Scholarship তার বিদেশে পড়ার পথটি সহজ করে দেয়।    কানাডায় গিয়ে পড়াশোনার খরচ সামলাতে শুরুতে একটি স্টেডিয়ামে পার্টটাইম কাজ নেন রাবিতা। তবে কাজটি তার পড়াশোনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করছিল। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন, এমন কাজ করবেন যা একই সঙ্গে আয় এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করবে।   পরবর্তী চার বছরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ১৫টি ভিন্ন পদে কাজ করেন। এর মধ্যে ছিল রেসিডেন্স অ্যাসিস্ট্যান্ট, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, ফ্যাকাল্টি অ্যাম্বাসাডর, কো-অপ অ্যাম্বাসাডর ও আইটি সার্ভিসেসের বিভিন্ন দায়িত্ব। টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে টানা চার সেমিস্টারে ১৫০টির বেশি শিক্ষার্থীর ল্যাব পরিচালনাও করেন তিনি। এসব কাজ তাকে যোগাযোগ, নেতৃত্ব ও দায়িত্ব ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেয়।    এরপর আসে তিনটি কো-অপের সুযোগ, তিনটি ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে। টরন্টোর Munich Re-তে প্রথম কো-অপে কাজ করার আগে কানাডায় তার কোনো ইন্ডাস্ট্রি অভিজ্ঞতা ছিল না। অন্তত ১০০টি কোম্পানিতে আবেদন করে শেষ পর্যন্ত প্রথম করপোরেট চাকরির সুযোগ পান তিনি।   দ্বিতীয় কো-অপে হ্যালিফ্যাক্সের Ubisoft-এ জুনিয়র প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করেন। ছোটবেলায় গেমের মাধ্যমে কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়া রাবিতার জন্য এটি ছিল বিশেষ অভিজ্ঞতা। তবে গেম ডেভেলপমেন্টের কাজ করার পর তিনি বুঝতে পারেন, দীর্ঘমেয়াদে এই খাতকে নিজের ক্যারিয়ারের জন্য বেছে নিতে চান না।   তৃতীয় কো-অপে সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি Arctic Wolf-এ ব্যাকএন্ড ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করেন। সেখানে স্বয়ংক্রিয় সিকিউরিটি রিপোর্ট তৈরির একটি সিস্টেম উন্নত করতে ভূমিকা রাখেন তিনি। আগে যেখানে রিপোর্ট তৈরি হতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা লাগত, নতুন মাইক্রোসার্ভিস চালুর পর সময় নেমে আসে প্রায় তিন ঘণ্টায়। অর্থাৎ রিপোর্ট তৈরির সময় ৮৫ শতাংশের বেশি কমে যায়।    স্নাতক হওয়ার আগে থেকেই রাবিতার লক্ষ্য ছিল অ্যামাজনে কাজ করা। ২০২৫ সালের সামার সেমিস্টারে, গ্র্যাজুয়েশনের প্রায় দুই মাস আগে তিনি অ্যামাজনের নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করেন। নিজের সিভিতে শুধু কী কাজ করেছেন তা নয়, সেই কাজের ফলে কী পরিবর্তন এসেছে, সেটিও তুলে ধরেন। অ্যামাজনের Leadership Principles-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কভার লেটারও তৈরি করেন তিনি।   আবেদন বাছাই হওয়ার পর প্রায় তিন ঘণ্টার অনলাইন অ্যাসেসমেন্টে দুটি কোডিং প্রশ্ন ও একটি আচরণগত অংশ ছিল। এরপর তিন দফা এক ঘণ্টার ইন্টারভিউ দেন তিনি। প্রথম দুটি ছিল কারিগরি, যেখানে কোডিং, সমস্যা সমাধান, জটিলতা বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। শেষ ইন্টারভিউতে অ্যামাজনের Leadership Principles অনুযায়ী তার পূর্ব অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব নেওয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অনিশ্চিত পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।    আবেদন থেকে চাকরির অফার পেতে রাবিতার প্রায় দুই মাস সময় লাগে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যামাজনে কাজ শুরু করেন তিনি। একই বছরের অক্টোবরে তার গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন হয়।   বর্তমানে তার কর্মদিবসে কোডিং, কোড রিভিউ, মিটিং, প্রোডাক্ট ম্যানেজারদের সঙ্গে আলোচনা, সিস্টেম ডিজাইন, টেস্টিং ও ডিবাগিংয়ের মতো কাজ থাকে। কখনো কখনো অন-কল দায়িত্বে ভোর ৪টার সময়ও সমস্যার সমাধানে সাড়া দিতে হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাবিতার টরন্টোর জীবন ও অ্যামাজনে কাজের অভিজ্ঞতার ভিডিও অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হলেও তিনি জানান, বাস্তব চাকরিজীবনে চাপ, ডেডলাইন ও বার্নআউটও রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরিটির কঠিন দিকের তুলনায় ভালো লাগার দিকই বেশি, তাই তিনি এই পেশা নিয়ে সন্তুষ্ট।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রাবিতার পরামর্শ, চাকরিযোগ্য হওয়ার জন্য শেষ বর্ষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শুরু থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। শুধু ভালো ফল নয়, পড়াশোনার বাইরেও কিছু তৈরি করা এবং কী তৈরি করেছেন, কোন সমস্যার সমাধান করেছেন ও কী শিখেছেন, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি। সূত্র: The business standard

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
ইরাসমাস মুন্ডাসে ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত স্কলারশিপ, যেভাবে স্টেপ বাই স্টেপ আবেদন করবেন
ইরাসমাস মুন্ডাসে ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত স্কলারশিপ, যেভাবে স্টেপ বাই স্টেপ আবেদন করবেন

ইউরোপের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ, টিউশন ফিসহ বিভিন্ন খরচে আর্থিক সহায়তা এবং মাসিক স্কলারশিপ, সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স অন্যতম আকর্ষণীয় স্কলারশিপ। তবে কোন প্রোগ্রাম বেছে নেবেন, কীভাবে আবেদন করবেন, মোটিভেশন লেটার ও সিভি কেমন হবে কিংবা রেকমেন্ডেশন লেটারে কী থাকা প্রয়োজন, এসব নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে প্রায়ই নানা প্রশ্ন থাকে।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচির অধীনে পরিচালিত ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স মূলত আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত মাস্টার্স প্রোগ্রাম। একটি প্রোগ্রাম সাধারণত বিভিন্ন দেশের একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম পরিচালনা করে। ফলে একজন শিক্ষার্থী একই ডিগ্রির অংশ হিসেবে একাধিক দেশে এবং একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারেন।   বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য ইইউ অর্থায়িত স্কলারশিপ মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে এবং এটি সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত দেওয়া হয়। স্কলারশিপে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের খরচের পাশাপাশি ভ্রমণ, ভিসা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ে সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। মাস্টার্স প্রোগ্রামগুলো সাধারণত এক থেকে দুই শিক্ষাবর্ষের হয়ে থাকে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই স্কলারশিপ নতুন নয়। ইরাসমাস মুন্ডাসে বাংলাদেশ অতীতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ১৩৯ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইরাসমাস প্লাস স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। ইইউর আরেকটি তথ্যে ২০২১ সালের ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্সে ১৫২ বাংলাদেশি নির্বাচিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়, যা বাংলাদেশকে সে সময় বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রেখেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বাংলাদেশ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য স্কলারশিপপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বাংলাদেশ গত বছর বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ পেয়েছে এমন দাবির পক্ষে সর্বশেষ প্রকাশিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য থেকে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে আবেদনকারীদের দেশভিত্তিক র‌্যাঙ্কিংয়ের চেয়ে নিজের আবেদন শক্তিশালী করার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।   আবেদনের প্রথম ধাপ সঠিক প্রোগ্রাম নির্বাচন। একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, আগ্রহ, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের যোগ্যতার শর্তের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ইরাসমাস মুন্ডাসের প্রতিটি মাস্টার্সের নিজস্ব ওয়েবসাইটে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়, ভর্তির যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং আবেদনের সময়সীমা দেওয়া থাকে।   সাধারণভাবে আবেদনকারীকে ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী হতে হয়। ব্যাচেলরের শেষ বর্ষে থাকা শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারেন, তবে মাস্টার্স প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার আগেই তাদের স্নাতক সম্পন্ন করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ব্যাচেলর সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।   আবেদন একটি কেন্দ্রীয় ফর্মের মাধ্যমে করা হয় না। শিক্ষার্থীকে পছন্দের ইরাসমাস মুন্ডাস প্রোগ্রাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি আবেদন করতে হয়। বেশির ভাগ প্রোগ্রামের আবেদন অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে নেওয়া হয়। তবে ডেডলাইন ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রোগ্রামভেদে আলাদা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ মোটিভেশন লেটার বা এসওপি। এখানে শুধু বিদেশে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেই যথেষ্ট নয়। কেন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামটি বেছে নেওয়া হয়েছে, আবেদনকারীর আগের পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সেটির সম্পর্ক কী এবং ডিগ্রি শেষে অর্জিত জ্ঞান কীভাবে কাজে লাগাতে চান, সেগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।   সিভিতেও অপ্রয়োজনীয় তথ্যের পরিবর্তে একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণা, প্রজেক্ট, ইন্টার্নশিপ, চাকরির অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, স্বেচ্ছাসেবী কাজ ও প্রাসঙ্গিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একইভাবে রেকমেন্ডেশন লেটার এমন ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া ভালো, যিনি আবেদনকারীর একাডেমিক বা পেশাগত সক্ষমতা সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে লিখতে পারবেন। তবে কতটি রেকমেন্ডেশন প্রয়োজন এবং কার কাছ থেকে নেওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নিয়ম দেখে নিশ্চিত হতে হবে।   শুধু ভালো ফলাফল থাকলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত হয় না। প্রতিযোগিতামূলক এই স্কলারশিপে পুরো অ্যাপ্লিকেশন প্রোফাইলের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে সম্পর্কহীন প্রোগ্রামে আবেদন, একই মোটিভেশন লেটার সব প্রোগ্রামে ব্যবহার, ডেডলাইনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা কিংবা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ঠিকভাবে না পড়া আবেদনকে দুর্বল করে দিতে পারে।   বর্তমানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ইরাসমাস মুন্ডাস নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও বিভিন্ন গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে। বিল্লাল হোসাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০ পর্বের একটি গাইডে সার্বিক আবেদন প্রক্রিয়া, ফাইন্যানশিয়াল সুবিধা, সঠিক প্রোগ্রাম ও ইউনিভার্সিটি কনসোর্টিয়াম নির্বাচন, মোটিভেশন লেটার, নমুনা এসওপি, সিভি, রেকমেন্ডেশন লেটার, ডকুমেন্টেশন, বিভিন্ন বিষয়ের প্রোগ্রাম এবং আবেদনের সাধারণ ভুল নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি ভবিষ্যতে Billal Beyond Borders-এর মাধ্যমে স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষার অ্যাডমিশন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও গাইডলাইন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।   ২০২৬ সালে নতুন করে ৩৭টি ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স প্রকল্প নির্বাচিত হয়েছে। এসব নতুন মাস্টার্স প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী আবেদন ২০২৬ সালের শরৎ থেকে শুরু হওয়ার কথা। ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষে আবেদন করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এখন থেকেই প্রোগ্রাম খোঁজা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত করা এবং নিজের একাডেমিক ও পেশাগত প্রোফাইলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোর্স বাছাই করার উপযুক্ত সময়।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া তরুণী ওহান্না কারাসকোজা। ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবাকে এক্সেল শেখানো, সেই গল্প লিখেই ইয়েল-পেন-ডার্টমাউথে সুযোগ পেলেন তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার তরুণী ওহান্না কারাসকোজার কলেজে ভর্তির গল্পটি এখন অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। গুয়াতেমালার অভিবাসী পরিবারের সন্তান এই শিক্ষার্থী ২৭টি কলেজে আবেদন করে ইয়েল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া এবং ডার্টমাউথ কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর কলেজের ব্যক্তিগত প্রবন্ধের বিষয় ছিল নিজের বাবা-মায়ের প্রযুক্তি ব্যবহারের সংগ্রাম এবং সেই পরিস্থিতিতে পরিবারকে সাহায্য করতে তাঁর নিজের নেওয়া দায়িত্ব। চলতি শরতে তিনি ইয়েলে পড়তে যাচ্ছেন।    সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাসকোজা মোট ২৭টি কলেজে আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে চারটি ছিল আইভি লিগের প্রতিষ্ঠান। তিনি শেষ পর্যন্ত চারটির মধ্যে তিনটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। একই আবেদন প্রক্রিয়ায় ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পূর্ণ টিউশন মেরিট স্কলারশিপও পেয়েছেন এবং শীর্ষস্থানীয় লিবারেল আর্টস কলেজগুলোর কয়েকটিতেও ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।    তবে তাঁর আবেদনপত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি ছিল এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা শুরু হয়েছিল পরিবারের প্রয়োজন থেকে।   কারাসকোজার বাবা-মা দুজনই গুয়াতেমালার অভিবাসী। তাঁরা ছোট বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে কাজ শুরু করেছিলেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে এসে শ্রমনির্ভর কাজে যুক্ত হন। কারাসকোজার বাবা ট্রাক ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ব্যবসার বিল তৈরি ও হিসাব রাখার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োজন হলেও প্রযুক্তি ব্যবহারে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত।    তখন মাত্র ৯ বছর বয়সে কারাসকোজা পরিবারের কাজে বাবাকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন। স্কুলের কম্পিউটার ল্যাবে বসে তিনি নিজে নিজে মাইক্রোসফট এক্সেল শেখেন। পরে বাবার ব্যবসার জন্য বিল তৈরির টেমপ্লেট বানানোও শেখেন। ধীরে ধীরে পরিবারের বিভিন্ন ডিজিটাল কাজেও তিনি সহায়তা করতে শুরু করেন।    এই অভিজ্ঞতাই পরে তাঁর কলেজের ব্যক্তিগত প্রবন্ধের মূল বিষয় হয়ে ওঠে। প্রযুক্তি ব্যবহারে বাবা-মায়ের সীমাবদ্ধতা এবং সেই সীমাবদ্ধতা পূরণ করতে ছোট বয়স থেকেই মেয়ের দায়িত্ব নেওয়ার গল্পটি তিনি তুলে ধরেন। তাঁর গল্পে প্রযুক্তি শুধু একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম শেখার বিষয় ছিল না, বরং পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে নিজের উদ্যোগে একটি নতুন দক্ষতা অর্জনের অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছিল।   কলেজে ভর্তির প্রস্তুতির সময়ও একই ধরনের উদ্যোগী মনোভাব দেখা যায় তাঁর মধ্যে। বিভিন্ন সুযোগ ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি সম্পর্কে নিজে গবেষণা করে তিনি কংগ্রেশনাল হিসপ্যানিক ককাস ইনস্টিটিউটের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। পরে একটি জাতীয় পর্যায়ের আইন প্রতিষ্ঠানে বেতনভুক্ত ইন্টার্নশিপও করেন।    কারাসকোজা ক্যালিফোর্নিয়ার উডল্যান্ড হিলসের উইলিয়াম হাওয়ার্ড টাফট চার্টার হাইস্কুলের শিক্ষার্থী। স্কুলজীবনে তিনি টিন কোর্ট, মক ট্রায়াল, মডেল ইউনাইটেড নেশনস, স্পিচ অ্যান্ড ডিবেটসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তিনি খেলাধুলাতেও সক্রিয় ছিলেন। কংগ্রেশনাল হিসপ্যানিক ককাস ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে তিনি আইনজীবী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন।   শেষ পর্যন্ত কারাসকোজা ইয়েলকে বেছে নিয়েছেন। ইয়েলে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়ার পর তাঁর আনন্দের মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। তিনটি আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুযোগ পাওয়ার খবর তিনি নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।    কারাসকোজার গল্পটি দেখাচ্ছে, কলেজের ব্যক্তিগত প্রবন্ধে শুধু ভালো ফলাফল বা পুরস্কারের তালিকা নয়, একজন শিক্ষার্থীর জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ, উদ্যোগ এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে কী শেখা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাঁর ক্ষেত্রে পরিবারের প্রয়োজন থেকে শেখা একটি প্রযুক্তিগত দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাঁর গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
ঢাকার নটর ডেম কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ফায়েজ আহমাদ বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
এইচএসসি শেষেই এমআইটিতে ফায়েজ! বছরে ৯২ হাজার ডলারের বেশি স্কলারশিপ

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পাওয়া অনেকটা স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্নই এবার বাস্তবে পরিণত করেছেন ঢাকার নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী ফায়েজ আহমাদ। ২০২৬ সালের এইচএসসি ব্যাচের এই শিক্ষার্থী এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে তার এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে, আর আগামী সেপ্টেম্বরেই শুরু হবে এমআইটিতে তার নতুন অধ্যায়।   রাজশাহীতে ২০০৮ সালে জন্ম ফায়েজের। তিন বড় ভাইবোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠার সময় থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি নানা বিষয়ে জানার আগ্রহ তৈরি হয় তার। মাত্র চার বছর বয়সে ভাইবোনদের কাছ থেকেই দাবা খেলা শেখেন। এরপর ধীরে ধীরে একাডেমিক পড়াশোনার গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞান, গবেষণা, বিতর্ক, দাবা ও বিভিন্ন অলিম্পিয়াডে নিজেকে যুক্ত করেন।   ফায়েজের এই পথচলায় সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার পরিবার। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অনেক পরিবার একাডেমিক পড়াশোনার ক্ষতি হবে আশঙ্কায় সন্তানদের সহশিক্ষা কার্যক্রম থেকে দূরে রাখেন। তবে তার বাবা-মা কখনো তাকে সেভাবে সীমাবদ্ধ করেননি। পরিবারের এই স্বাধীনতা ও সহযোগিতাই তাকে নিজের আগ্রহ অনুসরণ করার সুযোগ দিয়েছে।   শুধু এমআইটিতে ভর্তি নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজের মেধার প্রমাণ রেখেছেন ফায়েজ। ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের হয়ে রৌপ্য পদক জেতেন তিনি। আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডেও ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টানা দুটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। এসব অর্জন তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের একজন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত করে।   বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের পাশাপাশি গবেষণাতেও আগ্রহ রয়েছে ফায়েজের। তিনি বায়োইনফরমেটিকস নিয়ে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন এবং ক্যানসার-সম্পর্কিত জৈবিক তথ্য বিশ্লেষণ নিয়েও কাজ করেছেন। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী হিসেবে গবেষণায় তার এই সম্পৃক্ততা এমআইটিতে আবেদনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   দাবার প্রতিও তার রয়েছে দীর্ঘদিনের আগ্রহ। নটর ডেম কলেজের দাবা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি বিতর্কেও সক্রিয় ছিলেন।   এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার খবর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়ে ফায়েজ বলেন, এই অর্জনের পেছনে বাবা-মা, ভাইবোন, শিক্ষক, বন্ধু এবং যারা ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাকে সহযোগিতা করেছেন, সবার অবদান রয়েছে। এমআইটি থেকে তিনি বছরে ৯২ হাজার ৭৮৪ ডলারের আর্থিক সহায়তাও পেয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সহায়তার আওতায় টিউশন, আবাসন, খাবার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   ফায়েজের যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনার গুরুত্বও সামনে আনে। রাজশাহীতে বেড়ে ওঠা এই তরুণ শিক্ষার্থী দেখিয়েছেন, নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, অলিম্পিয়াড, বিতর্ক, দাবা ও অন্যান্য আগ্রহকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়াও সম্ভব।   এইচএসসি পরীক্ষার পর যখন অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন ফায়েজের সামনে খুলে গেছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রযুক্তি ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এমআইটির ২০৩০ সালের ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে শুরু হবে তার নতুন পথচলা।

তাবাস্সুম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
আবেদন ছাড়াই মিলতে পারে ভর্তি ও ২৪,০০০$ স্কলারশিপের অফার
আবেদন ছাড়াই মিলতে পারে ভর্তি ও ২৪,০০০$ স্কলারশিপের অফার, কলেজে ভর্তির ঝামেলা কমাতে নতুন উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে ভর্তির দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া সহজ করতে জনপ্রিয় শিক্ষা প্ল্যাটফর্মগুলো এখন “ডাইরেক্ট অ্যাডমিশন” পদ্ধতি চালু করছে। এই ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষার্থীকে আলাদা করে আবেদন করার আগেই কলেজ থেকে ভর্তি ও স্কলারশিপের প্রাথমিক অফার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে আবেদন ফি, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং জটিল আবেদন প্রক্রিয়ার চাপ কমতে পারে।    বর্তমানে এনআইচি এবং কমন অ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীরা নিজেদের একাডেমিক তথ্য, গ্রেড পয়েন্ট গড় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে প্রোফাইল তৈরি করলে অংশগ্রহণকারী কলেজগুলো সেই তথ্য মূল্যায়ন করে সরাসরি ভর্তি ও স্কলারশিপের অফার পাঠাতে পারে। তবে এসব অফার চূড়ান্ত ভর্তি নয়। শিক্ষার্থীকে পরে অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্টসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে কলেজের শর্ত পূরণ করতে হয়।   শিক্ষাবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো অনেক শিক্ষার্থী আগে থেকেই জানতে পারেন কোন কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ এবং কী পরিমাণ স্কলারশিপ পেতে পারেন। ফলে অপ্রয়োজনীয় আবেদন কমে আসে এবং কলেজ বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হয়।    তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ডাইরেক্ট অ্যাডমিশনের অফার পেলেই সেটি গ্রহণ করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। শিক্ষার্থীরা চাইলে একাধিক কলেজের অফার তুলনা করে নিজেদের জন্য উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে স্কলারশিপের পরিমাণও শিক্ষার্থীর ফলাফল, বিষয় নির্বাচন, আবাসন পরিকল্পনা বা অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের পর পরিবর্তিত হতে পারে।    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে ভর্তির খরচ ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পর ডাইরেক্ট অ্যাডমিশন ব্যবস্থা দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষ করে প্রথম প্রজন্মের কলেজগামী এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী হতে আরও উৎসাহিত হবেন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
সিফাত। ছবি:সংগৃহীত
এইচএসসি পরীক্ষার আগেই এমআইটিতে ১০ কোটি টাকার স্কলারশিপ অর্জন চাঁদপুরের সিফাতের

এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগেই বিশ্বের অন্যতম সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)-তে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির সুযোগ এবং প্রায় ১০ কোটি টাকার স্কলারশিপ অর্জন করে নজির গড়েছেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সিফাত। তার এই অর্জন শুধু চাঁদপুর নয়, গোটা বাংলাদেশের জন্যই গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।   চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাসকারী সিফাতের গ্রামের বাড়ি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নওগাঁ গ্রামে। তার বাবা মো. নাসির উদ্দিন মতলব রয়মনেনসা মহিলা কলেজের শিক্ষক এবং মা কামরুন নাহার হাজীগঞ্জ মডেল কলেজের শিক্ষক।   ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার স্বপ্ন ছিল সিফাতের। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি নিয়মিত অংশ নেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গণিত, প্রোগ্রামিং এবং ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে। ধারাবাহিক পরিশ্রমের ফল হিসেবে ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন তিনি।   এর আগে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন সিফাত। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত এবং এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   নিজের অনুভূতি জানিয়ে সিফাত বলেন, এমআইটিতে ভর্তির সুযোগ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা কখনোই ছিল না। তবে লক্ষ্য থেকে সরে না গিয়ে তিনি নিয়মিত প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন। সেই অধ্যবসায়ই তাকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ এনে দিয়েছে।   বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এমআইটি প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অত্যন্ত সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থীকে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি করে। বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পান। এবার সেই গৌরবের তালিকায় যুক্ত হলো চাঁদপুরের মেধাবী তরুণ সিফাতের নাম।   শিক্ষাবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে সাফল্য, একাডেমিক কৃতিত্ব এবং ধারাবাহিক দক্ষতার সমন্বয়ই সিফাতকে এই অর্জনের পথে এগিয়ে দিয়েছে। তার সাফল্য দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থীর জন্য আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

Unknown আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় বড় সুযোগ, বছরে ৪৫ লাখ টাকার বৃত্তি
শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় বড় সুযোগ, বছরে ৪৫ লাখ টাকার বৃত্তি

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার মারডক ইউনিভার্সিটি। ২০২৭ সালের রিসার্চ ট্রেনিং প্রোগ্রাম (আরটিপি) স্কলারশিপের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্বের যেকোনো দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।   অস্ট্রেলিয়ান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই স্কলারশিপের মাধ্যমে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স (এমফিল) এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে মারডক ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন গবেষণাভিত্তিক বিষয়ে এই বৃত্তির আওতায় আবেদন করা যাবে।   বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার মার্কিন ডলার পাবেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের গবেষকদের তত্ত্বাবধানে গবেষণার সুযোগ এবং বৈশ্বিক গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।   মাস্টার্স (গবেষণাভিত্তিক) প্রোগ্রামের জন্য আবেদনকারীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণি অথবা দ্বিতীয় শ্রেণির অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।   পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য আবেদনকারীদের গবেষণার সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হবে। সাধারণত প্রথম শ্রেণি বা আপার সেকেন্ড ক্লাস অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি, স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা গবেষণার দক্ষতা প্রমাণ করে এমন সমমানের যোগ্যতা প্রয়োজন হবে।   আবেদন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সম্পূর্ণ আবেদন গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অফিসে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে হবে।   আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।   মারডক ইউনিভার্সিটি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম পরিচিত গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পেতে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করেন।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
বিদেশে বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ
বিদেশে বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ, আন্ডারগ্রাজুয়েট পর্যায়ে ৬ টি সরকারি ফুল-ফান্ড স্কলারশিপ

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থাকলেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন না। তবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের সরকার সম্পূর্ণ অর্থায়নে বা ফুল-ফান্ড স্কলারশিপের সুযোগ দিয়ে থাকে। এসব বৃত্তির অধিকাংশের সার্কুলার প্রকাশ করে বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যেখানে আবেদন করে টিউশন ফি, আবাসন, মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্যবীমাসহ নানা সুবিধা পাওয়া সম্ভব।   রাশিয়া, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, জাপান ও তুরস্ক—এই ছয়টি দেশের সরকারি স্কলারশিপ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত। প্রতিটি বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা ও সুবিধা ভিন্ন হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি মাসিক ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পান।   রাশিয়ান সরকারি স্কলারশিপের আওতায় বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষাসহ ১৫টির বেশি বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মূল কোর্স শুরুর আগে রুশ ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। টিউশন ফি, আবাসন ও ভিসা-সংক্রান্ত ব্যয় বহন করে রাশিয়া সরকার। আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে শুরু হয়।   ভারতের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (ICCR) স্কলারশিপের মাধ্যমে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভারতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান। চিকিৎসাবিজ্ঞান ছাড়া প্রায় সব বিষয়ে আবেদন করা যায়। নির্বাচিতরা সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি মাসিক ভাতাও পান। আবেদনকারীদের লিখিত পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে চূড়ান্ত নির্বাচন করা হয়।   দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ (GKS) আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম আকর্ষণীয় বৃত্তি। এতে টিউশন ফি, আবাসন, স্বাস্থ্যবীমা, মাসিক ভাতা এবং যাতায়াতের বিমান ভাড়াও অন্তর্ভুক্ত থাকে। আবেদনকারীদের এক বছর কোরিয়ান ভাষা শেখানো হয় এবং এর খরচও বহন করে কর্তৃপক্ষ।   চীনের সরকারি CSC স্কলারশিপের আওতায় শত শত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, কৃষি, অর্থনীতি, আইন, শিক্ষা, সাহিত্য, ইতিহাস ও চারুকলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। চীনা ভাষায় দক্ষ না হলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এক বছর ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয়। সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে আবেদন গ্রহণ করা হয়।   জাপানের MEXT বা মনবুশো স্কলারশিপ এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সরকারি বৃত্তি হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থী এ সুযোগ পান। আবেদনকারীদের লিখিত পরীক্ষা, ভাষা দক্ষতা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিতরা টিউশন ফি ছাড়াও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাসিক ভাতা পান।   তুরস্কের Türkiye Bursları স্কলারশিপও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি, আবাসন, মাসিক ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়। আবেদনকারীদের একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি সুপারিশপত্র, ভাষা দক্ষতা এবং সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।   উচ্চশিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সরকারি স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত অল্প সময়ের জন্য খোলা থাকে। তাই আগ্রহী শিক্ষার্থীদের পাসপোর্ট, একাডেমিক সনদ, নম্বরপত্র, মেডিকেল সনদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা উচিত। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির দিকে নিয়মিত নজর রাখলে আবেদন করার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা কমে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকায় ফুল-ফান্ডিংয়ের সুযোগ কাদের বেশি? ব্যাচেলর-মাস্টার্সে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড
আমেরিকায় ফুল-ফান্ডিংয়ের সুযোগ কাদের বেশি? ব্যাচেলর-মাস্টার্সে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন হলেও খরচের কারণে সেই স্বপ্ন অনেক সময় অধরাই থেকে যায়। তবে সঠিক পরিকল্পনা, ভালো একাডেমিক ফলাফল এবং সময়মতো আবেদন করলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাচেলর ও মাস্টার্স—দুই পর্যায়েই ফুল-ফান্ডিং বা বড় ধরনের স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   ব্যাচেলর পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হাইস্কুলের ফলাফল (GPA) এবং SAT বা ACT-এর মতো মানসম্মত পরীক্ষার স্কোর। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মেধার ভিত্তিতে Merit Scholarship দিয়ে থাকে। আবেদনকারীর পরীক্ষার ফল বিশ্ববিদ্যালয়ের গড়ের চেয়ে ভালো হলে টিউশন ফি-এর বড় অংশ, এমনকি পুরো টিউশনও মওকুফ হতে পারে।   বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য Merit-based Full Scholarship দিয়ে থাকে। আবেদনকারীর একাডেমিক প্রোফাইল যদি শীর্ষ পর্যায়ের হয়, তাহলে পুরো টিউশন ফি কভার হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে সময়মতো আবেদনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপের আবেদন নভেম্বরের মধ্যে শুরু বা শেষ হয়ে যায়। তাই Early Application করলে অর্থায়নের সুযোগ তুলনামূলক বেশি থাকে।   অন্যদিকে মাস্টার্স পর্যায়ে স্কলারশিপের প্রধান উৎস হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ। অনেক শিক্ষার্থী Teaching Assistant (TA) বা Research Assistant (RA) হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। এতে শুধু টিউশন ফি মওকুফই নয়, মাসিক স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়, যা জীবনযাত্রার ব্যয়ের একটি বড় অংশ বহন করতে সহায়তা করে।   বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য Research Assistant হিসেবে অর্থায়নের সুযোগ তুলনামূলক বেশি। এ ক্ষেত্রে আবেদন করার আগেই সম্ভাব্য সুপারভাইজার বা সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সুযোগ বাড়ে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, মাস্টার্সের অর্থায়ন অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকেই দেওয়া হয়। তাই আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় প্রধান বা সম্ভাব্য গবেষণা সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করাও গুরুত্বপূর্ণ।   স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ GPA বজায় রাখা, প্রয়োজন হলে SAT, GRE বা GMAT পরীক্ষায় ভালো স্কোর করা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বেশি অর্থায়ন দেয়, এমন বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই আবেদন সম্পন্ন করা।   উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-ফান্ডিং পাওয়ার জন্য শুধু ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়। শক্তিশালী একাডেমিক প্রোফাইল, পরীক্ষায় ভালো স্কোর, সময়মতো আবেদন, সঠিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন এবং অধ্যাপকদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ—এই বিষয়গুলো একসঙ্গে থাকলেই স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের শীর্ষ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে ইউরোপ। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশিদের জন্য ইউরোপের ২৭টি ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ, বিনা খরচেই ইউরোপে যেসব স্কলারশিপে আবেদন করবেন

উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সুযোগ এবং বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখার আকর্ষণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে ইউরোপ উচ্চশিক্ষার অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। তবে ইউরোপের সব দেশে পড়াশোনা বিনা খরচে করা যায় কিংবা তালিকাভুক্ত সব বৃত্তিই সম্পূর্ণ অর্থায়িত—এমন ধারণা ঠিক নয়।   দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী টিউশন ফি এবং বৃত্তির সুবিধা ভিন্ন হয়। কোনো বৃত্তিতে টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, যাতায়াত ও বিমা—সবকিছু দেওয়া হয়। আবার কোনো কর্মসূচি কেবল টিউশন ফি মওকুফ বা আংশিক আর্থিক সহায়তা দেয়। ইউরোপীয় কমিশনও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপজুড়ে বিপুলসংখ্যক বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা থাকলেও প্রতিটির যোগ্যতা ও সুযোগ আলাদা।    বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও পরিচিত কয়েকটি বৃত্তির তথ্য তুলে ধরা হলো।   ১. ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে পরিচিত পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তিগুলোর একটি ইরাসমাস মুন্ডাস। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সাধারণত একাধিক ইউরোপীয় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে একই যৌথ মাস্টার্স প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে পড়ার সুযোগ পান।   বৃত্তিতে শিক্ষাব্যয়, ভ্রমণ, ভিসা, প্রাথমিকভাবে বসবাস শুরু করার খরচ এবং মাসিক জীবনযাত্রার ভাতা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ ইউরো করে ২৪ মাস পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হতে পারে। আবেদন করতে হয় পছন্দের কোর্স পরিচালনাকারী বিশ্ববিদ্যালয় বা কনসোর্টিয়ামের কাছে।    ২. যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ স্কলারশিপ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বৃত্তি কমনওয়েলথ স্কলারশিপ। মাস্টার্স, পিএইচডি, শেয়ার্ড মাস্টার্স, দূরশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট গবেষণা কার্যক্রমে আলাদা সুযোগ রয়েছে।   সাধারণত টিউশন ফি, যাতায়াত, জীবনযাত্রার ভাতা এবং অন্যান্য অনুমোদিত ব্যয় দেওয়া হয়। তবে সব কর্মসূচিতে একই যোগ্যতা প্রযোজ্য নয়। কোনো কোনো বিভাগে মনোনয়নকারী সংস্থার মাধ্যমে এবং কোনো ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স ও পিএইচডি বৃত্তির আবেদন ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে।    ৩. শেভেনিং স্কলারশিপ শেভেনিং যুক্তরাজ্য সরকারের পূর্ণ অর্থায়নের আন্তর্জাতিক মাস্টার্স বৃত্তি। এটি সাধারণত এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য দেওয়া হয়। নেতৃত্বের দক্ষতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নিজ দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সক্ষমতাকে নির্বাচনে গুরুত্ব দেওয়া হয়।   বাংলাদেশি নাগরিকেরা এই বৃত্তিতে আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্যের অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স নির্বাচনসহ সব শর্ত পূরণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বছরের আবেদনকাল আলাদাভাবে ঘোষণা করা হয়।    ৪. সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ ফর গ্লোবাল প্রফেশনালস নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পর্যায়ে সহায়তা দেয়। বাংলাদেশ সাধারণত যোগ্য দেশের তালিকায় থাকে।   এই বৃত্তিতে সাধারণত সম্পূর্ণ টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, বিমা এবং নির্দিষ্ট ভ্রমণ অনুদান অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে সুইডেনের নির্ধারিত মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করতে হয়, এরপর আলাদাভাবে বৃত্তির আবেদন সম্পন্ন করতে হয়।   সুইডেনের সব বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি অবশ্য পূর্ণ অর্থায়িত নয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কেবল টিউশন ফির একটি অংশ বা পুরোটা মওকুফ করে।   ৫. জার্মানির ডিএএডি বৃত্তি জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস বা ডিএএডি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের মাস্টার্স, পিএইচডি, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি বৃত্তি পরিচালনা করে।   উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্মজীবীদের জন্য ইপোস কর্মসূচি বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত। বৃত্তিভেদে মাসিক ভাতা, বিমা, যাতায়াত এবং অন্যান্য সুবিধা থাকতে পারে। সব ডিএএডি কর্মসূচি পূর্ণ অর্থায়িত নয় এবং সব কোর্সে চাকরির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলকও নয়।   ৬. অস্ট্রিয়ার ওএএডি বৃত্তি অস্ট্রিয়ার শিক্ষা ও আন্তর্জাতিকীকরণ সংস্থা ওএএডি বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য বিভিন্ন বৃত্তির তথ্য এবং আবেদনব্যবস্থা পরিচালনা করে।   স্নাতকোত্তর, পিএইচডি, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি অধ্যয়নের জন্য একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। তবে ‘ওএএডি’ একটি একক পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তির নাম নয়; এটি বিভিন্ন বৃত্তি ও অনুদানের প্ল্যাটফর্ম। প্রতিটি কর্মসূচির সুবিধা, বয়সসীমা ও যোগ্যতা আলাদা।   ৭. সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপ সুইজারল্যান্ড সরকারের এই বৃত্তি মূলত বিদেশি গবেষক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং কিছু ক্ষেত্রে শিল্পকলার শিক্ষার্থীদের জন্য।   এটি সাধারণ ব্যাচেলর বা সব ধরনের মাস্টার্স কোর্সের বৃত্তি নয়। গবেষণা প্রস্তাব, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সুইজারল্যান্ডের কোনো অধ্যাপক বা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   ৮. ইটিএইচ জুরিখ বৃত্তি সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবী মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য এক্সিলেন্স স্কলারশিপ অ্যান্ড অপরচুনিটি প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। এতে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সহায়তা পাওয়া যায়।   এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং শক্তিশালী একাডেমিক ফলাফল প্রয়োজন। ইটিএইচ জুরিখের সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বৃত্তি পান না।   ৯. নেদারল্যান্ডসের বৃত্তি নেদারল্যান্ডসে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক একাধিক বৃত্তি রয়েছে। এর মধ্যে মাস্ট্রিখ ইউনিভার্সিটি, টিইউ ডেলফট, লেইডেন ইউনিভার্সিটি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মসূচি পূর্ণ বা বড় অঙ্কের অর্থায়ন দেয়।   তবে ‘স্টাডি ইন হল্যান্ড’ নিজে কোনো একক পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি নয়; এটি উচ্চশিক্ষার তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। নেদারল্যান্ডস স্কলারশিপসহ অনেক কর্মসূচি আংশিক অনুদান দেয়। তাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নের পরিমাণ আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   ১০. ফিনল্যান্ডের বৃত্তি ফিনল্যান্ডে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক টিউশন ফি এবং বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। অধিকাংশ বৃত্তি টিউশন ফি আংশিক বা পুরো মওকুফ করে; জীবনযাত্রার সব খরচ সবসময় বহন করে না।   এডুফি ফেলোশিপ মূলত ডক্টরাল পর্যায়ের গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটিকে সবার জন্য সাধারণ ব্যাচেলর বা মাস্টার্সের পূর্ণ বৃত্তি হিসেবে দেখা ঠিক নয়।   ১১. ডেনমার্কের সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি ডেনমার্কের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের উচ্চমেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সরকারি অর্থায়নে টিউশন মওকুফ এবং কখনো জীবনযাত্রার অনুদান দেয়।   তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় বা সব কোর্সে এই সুবিধা নেই। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃত্তির জন্য বিবেচনা করা হয়।   ১২. বেলজিয়ামের ভিএলআইআর-ইউওএস বৃত্তি ভিএলআইআর-ইউওএস নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের বেলজিয়ামের ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলে মাস্টার্স ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য বৃত্তি দেয়। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের যোগ্যতা প্রতি বছরের দেশতালিকা ও কোর্স অনুযায়ী যাচাই করতে হয়।   নির্বাচিতদের টিউশন, ভ্রমণ, বিমা এবং জীবনযাত্রার খরচ দেওয়া হতে পারে।   ১৩. মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ ফ্ল্যান্ডার্স সরকারের মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য। এতে অনুদানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।   তবে এটি সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সাধারণত ফ্লেমিশ বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীকে মনোনয়ন দেয়।   ১৪. ফ্রান্সের আইফেল এক্সিলেন্স স্কলারশিপ ফরাসি সরকারের আইফেল বৃত্তি নির্বাচিত মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য। এতে মাসিক ভাতা, ভ্রমণ, বিমা এবং কিছু আনুষঙ্গিক সুবিধা থাকতে পারে।   তবে আইফেল কর্মসূচি সাধারণভাবে টিউশন ফি সরাসরি বহন করে না। শিক্ষার্থী নিজে সরাসরি আবেদনও করতে পারেন না; ফরাসি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়।   ১৫. এমিল বুতমি স্কলারশিপ ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিল বুতমি বৃত্তি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যাচেলর ও মাস্টার্স পর্যায়ে দেওয়া হয়।   এটি ‘শুধু বিজ্ঞান বিভাগের’ বৃত্তি নয় এবং সবসময় পূর্ণ অর্থায়নও দেয় না। অর্থের পরিমাণ শিক্ষার স্তর ও নির্বাচিত বৃত্তির ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়।   ১৬. ইতালিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের এমএইসিআই বৃত্তি বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স, উচ্চতর শিল্প ও সংগীত শিক্ষা, পিএইচডি, গবেষণা এবং ইতালীয় ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কোর্সে সহায়তা দেয়।   সাধারণত মাসিক ভাতা ও স্বাস্থ্যবিমা থাকে। টিউশন মওকুফ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি এবং কোর্সের ওপর নির্ভর করতে পারে। ব্যাচেলর পর্যায়ে সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।   ইতালির বিভিন্ন আঞ্চলিক বৃত্তি—যেমন ডিএসইউ বা ইআর-জিও—পারিবারিক আয় ও মেধার ভিত্তিতে টিউশন মওকুফ, আবাসন, খাবার এবং নগদ ভাতা দিতে পারে।   ১৭. নরওয়েতে পড়াশোনা নরওয়ের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বিনা টিউশন ফিতে হয়, এই পুরোনো তথ্য এখন আর সাধারণভাবে সঠিক নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে টিউশন ফি দিতে হয়।   কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বৃত্তি বা টিউশন মওকুফ দিতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের সর্বশেষ তথ্যেও বলা হয়েছে, নরওয়ের কিছু প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বৃত্তি বা ফি মওকুফের সুযোগ দেয়।    ১৮. হাঙ্গেরির স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপের সবচেয়ে পরিচিত সরকারি বৃত্তিগুলোর একটি স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম। ব্যাচেলর, মাস্টার্স, সমন্বিত মাস্টার্স এবং পিএইচডি পর্যায়ে সুযোগ থাকে।   সাধারণত টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, আবাসন সহায়তা এবং চিকিৎসাবিমা দেওয়া হয়। তবে আবাসন ও মাসিক ভাতা সব জীবনযাত্রার ব্যয় পূরণ নাও করতে পারে। বাংলাদেশের মনোনয়নকারী কর্তৃপক্ষ এবং হাঙ্গেরির অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদনসংক্রান্ত ধাপ অনুসরণ করতে হয়।   ১৯. এস্তোনিয়ার সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি এস্তোনিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি, বিনিময়, গ্রীষ্মকালীন কোর্স এবং গবেষণার জন্য বিভিন্ন অনুদান দেয়। কিছু বৃত্তি মাসিক ভাতা দেয়, আবার কিছু কেবল নির্দিষ্ট খরচ বহন করে।   এস্তোনিয়ার সব বৃত্তিকে পূর্ণ অর্থায়িত বলা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে সুযোগ যাচাই করতে হবে।   ২০. চেক সরকারের বৃত্তি চেক প্রজাতন্ত্র নির্বাচিত উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের জন্য সরকারি বৃত্তি দেয়। তবে যোগ্য দেশের তালিকা প্রতি বছর পরিবর্তিত হতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিকেরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষে তালিকাভুক্ত কি না, তা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে যাচাই করতে হবে।   চেক ভাষা ও ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার জন্য যোগ্যতা ও প্রস্তুতিমূলক কোর্সের নিয়মও আলাদা হতে পারে।   ২১. পোল্যান্ডের বৃত্তি পোল্যান্ডে ন্যাশনাল এজেন্সি ফর একাডেমিক এক্সচেঞ্জ বা নাওয়া বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একাধিক কর্মসূচি পরিচালনা করে।   ‘অল অ্যাবাউট পোল্যান্ড স্কলারশিপ’ নামে একক কোনো প্রধান সরকারি পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তির ওপর নির্ভর না করে নাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা যাচাই করা উচিত।   ২২. লিথুয়ানিয়ান স্টেট স্কলারশিপ লিথুয়ানিয়া নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের পূর্ণকালীন মাস্টার্স, স্বল্পমেয়াদি অধ্যয়ন এবং ভাষা ও সংস্কৃতির কোর্সে সরকারি সহায়তা দিয়ে থাকে।   বাংলাদেশ প্রতিবছর সব বিভাগে যোগ্য নাও থাকতে পারে। বৃত্তিতে টিউশন ও মাসিক ভাতার পরিমাণ কর্মসূচিভেদে আলাদা।   ২৩. লাটভিয়ার সরকারি বৃত্তি লাটভিয়ায় কোনো বৃত্তি নেই—এ দাবি সঠিক নয়। দেশটির সরকার বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক এবং গ্রীষ্মকালীন স্কুলের অংশগ্রহণকারীদের জন্য বৃত্তি দিয়ে থাকে।   তবে যোগ্য দেশের তালিকা, অর্থের পরিমাণ ও শিক্ষার স্তর প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে। এই অনুদান সব ব্যয় পূরণ নাও করতে পারে।   ২৪. মাল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি ইউনিভার্সিটি অব মাল্টাসহ দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন মওকুফ বা বৃত্তি দিতে পারে।   এটি মাল্টায় সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য স্বয়ংক্রিয় পূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থা নয়। বিভাগ, গবেষণা প্রকল্প ও তহবিলের প্রাপ্যতার ওপর সুযোগ নির্ভর করে।   ২৫. রাশিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ রাশিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি কোটার আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ে বৃত্তি দেয়। এতে সাধারণত টিউশন ফি এবং সীমিত মাসিক ভাতা থাকতে পারে।   আবাসন, যাতায়াত, বিমা ও দৈনন্দিন ব্যয়ের কতটা শিক্ষার্থীকে বহন করতে হবে, তা আগে যাচাই করা জরুরি। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতা, ভিসা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত নির্দেশনাও বিবেচনায় নিতে হবে।   ২৬. তুর্কিয়ে বুরসলারি তুরস্ক সরকারের তুর্কিয়ে বুরসলারি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের বহুল পরিচিত পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি।   সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান নির্ধারণ, টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা, তুর্কি ভাষা শিক্ষা এবং একবারের যাতায়াত টিকিট অন্তর্ভুক্ত থাকে। বয়স, ফলাফল এবং শিক্ষার স্তর অনুযায়ী যোগ্যতার শর্ত আলাদা।   ২৭. মারি স্ক্লোদোভস্কা-কুরি অ্যাকশনস মারি স্ক্লোদোভস্কা-কুরি অ্যাকশনস কেবল প্রচলিত অর্থে পিএইচডি বৃত্তি নয়। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের গবেষণা ও গবেষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।   ডক্টরাল নেটওয়ার্কের অর্থায়িত পিএইচডি পদ ছাড়াও পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপ, গবেষক বিনিময় এবং অন্যান্য গবেষণা প্রকল্প রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তির আবেদন না করে প্রকাশিত গবেষণা পদে চাকরিপ্রার্থীর মতো আবেদন করেন।   শুধু আইইএলটিএস ও চাকরি থাকলেই কি আবেদন করা যায়   স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বৃত্তিতে শুধু আইইএলটিএস এবং বর্তমানে চাকরির প্রমাণ দিলেই আবেদন করা যায়—এ তথ্য সঠিক নয়। প্রয়োজনীয় শর্তের মধ্যে থাকতে পারে শিক্ষাগত সনদ, ফলাফল, ভাষা দক্ষতা, মোটিভেশন লেটার, জীবনবৃত্তান্ত, সুপারিশপত্র, কাজ বা নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, গবেষণা প্রস্তাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রমাণ।   সব বৃত্তিতে চাকরি বাধ্যতামূলক নয়। আবার শেভেনিং, সুইডিশ ইনস্টিটিউট, ডিএএডির কিছু কর্মসূচি ও নির্দিষ্ট স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে কাজের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   একইভাবে সব বৃত্তিতে আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে টোয়েফল, পিটিই, কেমব্রিজ পরীক্ষা কিংবা আগের পড়াশোনা ইংরেজি মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার সনদ গ্রহণ করা হতে পারে। তবে শুধু ‘মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন’ সনদ সব প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করে না।   আবেদনের আগে যা যাচাই করতে হবে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রথমে নিজের শিক্ষার স্তর, বিষয়, ফলাফল, ভাষা দক্ষতা, কর্মজীবন এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অনুযায়ী বৃত্তি বাছাই করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বৃত্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি ঘোষণায় আবেদনকাল, যোগ্য দেশ, বয়সসীমা, অর্থায়নের পরিমাণ এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা জরুরি।   কোনো ফেসবুক পোস্ট, ব্যক্তিগত ব্লগ বা এজেন্সির তালিকা দেখে অর্থ প্রদান করা উচিত নয়। ইউরোপীয় কমিশনও শিক্ষার্থীদের দেশভিত্তিক উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি, ভিসা ও জীবনযাত্রার তথ্য সরকারি প্ল্যাটফর্ম থেকে যাচাই করার পরামর্শ দেয়।    বৃত্তির সময়সীমা ও নিয়ম প্রতিবছর পরিবর্তিত হয়। ফলে পুরোনো তালিকা অনুসরণ না করে আবেদন করার শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ সরকারি বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ড. ফেরদৌস সালেহীনের লেখা সূরা আল-ফাতিহার তাফসির ও জীবনের প্রতিফলনবিষয়ক নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন বা উপস্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি

অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০