উচ্চশিক্ষা

যুদ্ধের প্রভাবে বদলে যাচ্ছে রাশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা, বাড়ছে কারিগরি শিক্ষার দিকে ঝোঁক
যুদ্ধের প্রভাবে বদলে যাচ্ছে রাশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা, বাড়ছে কারিগরি শিক্ষার দিকে ঝোঁক

রাশিয়ায় বিদ্যালয়ভিত্তিক সাধারণ পড়াশোনা ও উচ্চশিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহে ঐতিহাসিক ধস নেমেছে। সম্পতি প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশটিতে নবম শ্রেণি শেষ করে মাত্র ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ১০ম শ্রেণিতে পদার্পণ করছে, যা আধুনিক রাশিয়ার ইতিহাসে সর্বনিম্ন। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী সাধারণ পড়াশোনার পরিবর্তে দ্রুত কারিগরি কলেজে ভর্তি করা এবং কারিগরি পেশায় যুক্ত করার একটি সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় কৌশল দৃশ্যমান হচ্ছে। এর ফলে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়ের মতো সাধারণ শিক্ষার বাইরে ছিটকে পড়ার যে ভয় অভিভাবকদের মনে ছিল, তা ফের চেপে বসেছে দেশটির সমাজে।   বিশ্লেষকদের মতে, শিশুদের একাডেমিক শিক্ষার পথ থেকে সরিয়ে কারিগরি শিক্ষার দিকে ঠেলে দেওয়ার পেছনে ক্রেমলিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বেশ কয়েকটি হিসাব কাজ করছে। প্রথমত, একটি সন্তানকে ১১ বছর ধরে সাধারণ শিক্ষা দেওয়ার খরচ ৯ বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বড় অংশ সামরিক খাতে ব্যয় হওয়ায় শিক্ষা খাতের পেছনে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ রাখতে চাইছে না মস্কো। দ্বিতীয়ত, সাধারণ শিক্ষা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক বছর সময় পার করা শিক্ষার্থীদের চেয়ে কারিগরি কলেজ থেকে বের হওয়া তরুণরা যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে দ্রুত ভূমিকা রাখতে পারে। তারা সরাসরি কারখানাগুলোতে ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে যুক্ত হতে পারবে এবং ট্যাক্স দিয়ে যুদ্ধের ব্যয়ভার বহনে অবদান রাখতে পারবে।   গবেষকদের একাংশের মতে, রাশিয়ার বর্তমান শিক্ষানীতি ও প্রশাসনিক মনোভাব দিন দিন চরম সোশ্যাল ডারউইনবাদী ও অমানবিক রূপ নিচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্হতা ও জ্ঞান প্রসারের মাধ্যমের বদলে কেবল যুদ্ধকালীন শ্রমশক্তি এবং সামরিক বাহিনীর জোগানদাতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের যোগ্য করার চেষ্টা না করে তাদেরকে সস্তা শ্রমশক্তি কিংবা সরাসরি সামরিক অভিযানে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো দৃষ্টিভঙ্গি পরিলক্ষিত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় স্তরে নীতি-নির্ধারকদের এই কঠোর সিদ্ধান্ত রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের মেধা বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং দেশটির শিক্ষাব্যবস্থাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের শীর্ষ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে ইউরোপ। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশিদের জন্য ইউরোপের ২৭টি ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ, বিনা খরচেই ইউরোপে যেসব স্কলারশিপে আবেদন করবেন

উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সুযোগ এবং বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখার আকর্ষণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে ইউরোপ উচ্চশিক্ষার অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। তবে ইউরোপের সব দেশে পড়াশোনা বিনা খরচে করা যায় কিংবা তালিকাভুক্ত সব বৃত্তিই সম্পূর্ণ অর্থায়িত—এমন ধারণা ঠিক নয়।   দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী টিউশন ফি এবং বৃত্তির সুবিধা ভিন্ন হয়। কোনো বৃত্তিতে টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, যাতায়াত ও বিমা—সবকিছু দেওয়া হয়। আবার কোনো কর্মসূচি কেবল টিউশন ফি মওকুফ বা আংশিক আর্থিক সহায়তা দেয়। ইউরোপীয় কমিশনও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপজুড়ে বিপুলসংখ্যক বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা থাকলেও প্রতিটির যোগ্যতা ও সুযোগ আলাদা।    বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও পরিচিত কয়েকটি বৃত্তির তথ্য তুলে ধরা হলো।   ১. ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে পরিচিত পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তিগুলোর একটি ইরাসমাস মুন্ডাস। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সাধারণত একাধিক ইউরোপীয় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে একই যৌথ মাস্টার্স প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে পড়ার সুযোগ পান।   বৃত্তিতে শিক্ষাব্যয়, ভ্রমণ, ভিসা, প্রাথমিকভাবে বসবাস শুরু করার খরচ এবং মাসিক জীবনযাত্রার ভাতা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ ইউরো করে ২৪ মাস পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হতে পারে। আবেদন করতে হয় পছন্দের কোর্স পরিচালনাকারী বিশ্ববিদ্যালয় বা কনসোর্টিয়ামের কাছে।    ২. যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ স্কলারশিপ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বৃত্তি কমনওয়েলথ স্কলারশিপ। মাস্টার্স, পিএইচডি, শেয়ার্ড মাস্টার্স, দূরশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট গবেষণা কার্যক্রমে আলাদা সুযোগ রয়েছে।   সাধারণত টিউশন ফি, যাতায়াত, জীবনযাত্রার ভাতা এবং অন্যান্য অনুমোদিত ব্যয় দেওয়া হয়। তবে সব কর্মসূচিতে একই যোগ্যতা প্রযোজ্য নয়। কোনো কোনো বিভাগে মনোনয়নকারী সংস্থার মাধ্যমে এবং কোনো ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স ও পিএইচডি বৃত্তির আবেদন ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে।    ৩. শেভেনিং স্কলারশিপ শেভেনিং যুক্তরাজ্য সরকারের পূর্ণ অর্থায়নের আন্তর্জাতিক মাস্টার্স বৃত্তি। এটি সাধারণত এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য দেওয়া হয়। নেতৃত্বের দক্ষতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নিজ দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সক্ষমতাকে নির্বাচনে গুরুত্ব দেওয়া হয়।   বাংলাদেশি নাগরিকেরা এই বৃত্তিতে আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্যের অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স নির্বাচনসহ সব শর্ত পূরণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বছরের আবেদনকাল আলাদাভাবে ঘোষণা করা হয়।    ৪. সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ ফর গ্লোবাল প্রফেশনালস নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পর্যায়ে সহায়তা দেয়। বাংলাদেশ সাধারণত যোগ্য দেশের তালিকায় থাকে।   এই বৃত্তিতে সাধারণত সম্পূর্ণ টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, বিমা এবং নির্দিষ্ট ভ্রমণ অনুদান অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে সুইডেনের নির্ধারিত মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করতে হয়, এরপর আলাদাভাবে বৃত্তির আবেদন সম্পন্ন করতে হয়।   সুইডেনের সব বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি অবশ্য পূর্ণ অর্থায়িত নয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কেবল টিউশন ফির একটি অংশ বা পুরোটা মওকুফ করে।   ৫. জার্মানির ডিএএডি বৃত্তি জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস বা ডিএএডি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের মাস্টার্স, পিএইচডি, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি বৃত্তি পরিচালনা করে।   উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্মজীবীদের জন্য ইপোস কর্মসূচি বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত। বৃত্তিভেদে মাসিক ভাতা, বিমা, যাতায়াত এবং অন্যান্য সুবিধা থাকতে পারে। সব ডিএএডি কর্মসূচি পূর্ণ অর্থায়িত নয় এবং সব কোর্সে চাকরির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলকও নয়।   ৬. অস্ট্রিয়ার ওএএডি বৃত্তি অস্ট্রিয়ার শিক্ষা ও আন্তর্জাতিকীকরণ সংস্থা ওএএডি বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য বিভিন্ন বৃত্তির তথ্য এবং আবেদনব্যবস্থা পরিচালনা করে।   স্নাতকোত্তর, পিএইচডি, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি অধ্যয়নের জন্য একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। তবে ‘ওএএডি’ একটি একক পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তির নাম নয়; এটি বিভিন্ন বৃত্তি ও অনুদানের প্ল্যাটফর্ম। প্রতিটি কর্মসূচির সুবিধা, বয়সসীমা ও যোগ্যতা আলাদা।   ৭. সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপ সুইজারল্যান্ড সরকারের এই বৃত্তি মূলত বিদেশি গবেষক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং কিছু ক্ষেত্রে শিল্পকলার শিক্ষার্থীদের জন্য।   এটি সাধারণ ব্যাচেলর বা সব ধরনের মাস্টার্স কোর্সের বৃত্তি নয়। গবেষণা প্রস্তাব, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সুইজারল্যান্ডের কোনো অধ্যাপক বা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   ৮. ইটিএইচ জুরিখ বৃত্তি সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবী মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য এক্সিলেন্স স্কলারশিপ অ্যান্ড অপরচুনিটি প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। এতে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সহায়তা পাওয়া যায়।   এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং শক্তিশালী একাডেমিক ফলাফল প্রয়োজন। ইটিএইচ জুরিখের সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বৃত্তি পান না।   ৯. নেদারল্যান্ডসের বৃত্তি নেদারল্যান্ডসে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক একাধিক বৃত্তি রয়েছে। এর মধ্যে মাস্ট্রিখ ইউনিভার্সিটি, টিইউ ডেলফট, লেইডেন ইউনিভার্সিটি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মসূচি পূর্ণ বা বড় অঙ্কের অর্থায়ন দেয়।   তবে ‘স্টাডি ইন হল্যান্ড’ নিজে কোনো একক পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি নয়; এটি উচ্চশিক্ষার তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। নেদারল্যান্ডস স্কলারশিপসহ অনেক কর্মসূচি আংশিক অনুদান দেয়। তাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নের পরিমাণ আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   ১০. ফিনল্যান্ডের বৃত্তি ফিনল্যান্ডে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক টিউশন ফি এবং বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। অধিকাংশ বৃত্তি টিউশন ফি আংশিক বা পুরো মওকুফ করে; জীবনযাত্রার সব খরচ সবসময় বহন করে না।   এডুফি ফেলোশিপ মূলত ডক্টরাল পর্যায়ের গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটিকে সবার জন্য সাধারণ ব্যাচেলর বা মাস্টার্সের পূর্ণ বৃত্তি হিসেবে দেখা ঠিক নয়।   ১১. ডেনমার্কের সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি ডেনমার্কের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের উচ্চমেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সরকারি অর্থায়নে টিউশন মওকুফ এবং কখনো জীবনযাত্রার অনুদান দেয়।   তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় বা সব কোর্সে এই সুবিধা নেই। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃত্তির জন্য বিবেচনা করা হয়।   ১২. বেলজিয়ামের ভিএলআইআর-ইউওএস বৃত্তি ভিএলআইআর-ইউওএস নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের বেলজিয়ামের ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলে মাস্টার্স ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য বৃত্তি দেয়। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের যোগ্যতা প্রতি বছরের দেশতালিকা ও কোর্স অনুযায়ী যাচাই করতে হয়।   নির্বাচিতদের টিউশন, ভ্রমণ, বিমা এবং জীবনযাত্রার খরচ দেওয়া হতে পারে।   ১৩. মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ ফ্ল্যান্ডার্স সরকারের মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য। এতে অনুদানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।   তবে এটি সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সাধারণত ফ্লেমিশ বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীকে মনোনয়ন দেয়।   ১৪. ফ্রান্সের আইফেল এক্সিলেন্স স্কলারশিপ ফরাসি সরকারের আইফেল বৃত্তি নির্বাচিত মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য। এতে মাসিক ভাতা, ভ্রমণ, বিমা এবং কিছু আনুষঙ্গিক সুবিধা থাকতে পারে।   তবে আইফেল কর্মসূচি সাধারণভাবে টিউশন ফি সরাসরি বহন করে না। শিক্ষার্থী নিজে সরাসরি আবেদনও করতে পারেন না; ফরাসি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়।   ১৫. এমিল বুতমি স্কলারশিপ ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিল বুতমি বৃত্তি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যাচেলর ও মাস্টার্স পর্যায়ে দেওয়া হয়।   এটি ‘শুধু বিজ্ঞান বিভাগের’ বৃত্তি নয় এবং সবসময় পূর্ণ অর্থায়নও দেয় না। অর্থের পরিমাণ শিক্ষার স্তর ও নির্বাচিত বৃত্তির ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়।   ১৬. ইতালিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের এমএইসিআই বৃত্তি বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স, উচ্চতর শিল্প ও সংগীত শিক্ষা, পিএইচডি, গবেষণা এবং ইতালীয় ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কোর্সে সহায়তা দেয়।   সাধারণত মাসিক ভাতা ও স্বাস্থ্যবিমা থাকে। টিউশন মওকুফ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি এবং কোর্সের ওপর নির্ভর করতে পারে। ব্যাচেলর পর্যায়ে সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।   ইতালির বিভিন্ন আঞ্চলিক বৃত্তি—যেমন ডিএসইউ বা ইআর-জিও—পারিবারিক আয় ও মেধার ভিত্তিতে টিউশন মওকুফ, আবাসন, খাবার এবং নগদ ভাতা দিতে পারে।   ১৭. নরওয়েতে পড়াশোনা নরওয়ের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বিনা টিউশন ফিতে হয়, এই পুরোনো তথ্য এখন আর সাধারণভাবে সঠিক নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে টিউশন ফি দিতে হয়।   কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বৃত্তি বা টিউশন মওকুফ দিতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের সর্বশেষ তথ্যেও বলা হয়েছে, নরওয়ের কিছু প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বৃত্তি বা ফি মওকুফের সুযোগ দেয়।    ১৮. হাঙ্গেরির স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপের সবচেয়ে পরিচিত সরকারি বৃত্তিগুলোর একটি স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম। ব্যাচেলর, মাস্টার্স, সমন্বিত মাস্টার্স এবং পিএইচডি পর্যায়ে সুযোগ থাকে।   সাধারণত টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, আবাসন সহায়তা এবং চিকিৎসাবিমা দেওয়া হয়। তবে আবাসন ও মাসিক ভাতা সব জীবনযাত্রার ব্যয় পূরণ নাও করতে পারে। বাংলাদেশের মনোনয়নকারী কর্তৃপক্ষ এবং হাঙ্গেরির অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদনসংক্রান্ত ধাপ অনুসরণ করতে হয়।   ১৯. এস্তোনিয়ার সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি এস্তোনিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি, বিনিময়, গ্রীষ্মকালীন কোর্স এবং গবেষণার জন্য বিভিন্ন অনুদান দেয়। কিছু বৃত্তি মাসিক ভাতা দেয়, আবার কিছু কেবল নির্দিষ্ট খরচ বহন করে।   এস্তোনিয়ার সব বৃত্তিকে পূর্ণ অর্থায়িত বলা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে সুযোগ যাচাই করতে হবে।   ২০. চেক সরকারের বৃত্তি চেক প্রজাতন্ত্র নির্বাচিত উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের জন্য সরকারি বৃত্তি দেয়। তবে যোগ্য দেশের তালিকা প্রতি বছর পরিবর্তিত হতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিকেরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষে তালিকাভুক্ত কি না, তা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে যাচাই করতে হবে।   চেক ভাষা ও ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার জন্য যোগ্যতা ও প্রস্তুতিমূলক কোর্সের নিয়মও আলাদা হতে পারে।   ২১. পোল্যান্ডের বৃত্তি পোল্যান্ডে ন্যাশনাল এজেন্সি ফর একাডেমিক এক্সচেঞ্জ বা নাওয়া বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একাধিক কর্মসূচি পরিচালনা করে।   ‘অল অ্যাবাউট পোল্যান্ড স্কলারশিপ’ নামে একক কোনো প্রধান সরকারি পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তির ওপর নির্ভর না করে নাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা যাচাই করা উচিত।   ২২. লিথুয়ানিয়ান স্টেট স্কলারশিপ লিথুয়ানিয়া নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের পূর্ণকালীন মাস্টার্স, স্বল্পমেয়াদি অধ্যয়ন এবং ভাষা ও সংস্কৃতির কোর্সে সরকারি সহায়তা দিয়ে থাকে।   বাংলাদেশ প্রতিবছর সব বিভাগে যোগ্য নাও থাকতে পারে। বৃত্তিতে টিউশন ও মাসিক ভাতার পরিমাণ কর্মসূচিভেদে আলাদা।   ২৩. লাটভিয়ার সরকারি বৃত্তি লাটভিয়ায় কোনো বৃত্তি নেই—এ দাবি সঠিক নয়। দেশটির সরকার বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক এবং গ্রীষ্মকালীন স্কুলের অংশগ্রহণকারীদের জন্য বৃত্তি দিয়ে থাকে।   তবে যোগ্য দেশের তালিকা, অর্থের পরিমাণ ও শিক্ষার স্তর প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে। এই অনুদান সব ব্যয় পূরণ নাও করতে পারে।   ২৪. মাল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি ইউনিভার্সিটি অব মাল্টাসহ দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন মওকুফ বা বৃত্তি দিতে পারে।   এটি মাল্টায় সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য স্বয়ংক্রিয় পূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থা নয়। বিভাগ, গবেষণা প্রকল্প ও তহবিলের প্রাপ্যতার ওপর সুযোগ নির্ভর করে।   ২৫. রাশিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ রাশিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি কোটার আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ে বৃত্তি দেয়। এতে সাধারণত টিউশন ফি এবং সীমিত মাসিক ভাতা থাকতে পারে।   আবাসন, যাতায়াত, বিমা ও দৈনন্দিন ব্যয়ের কতটা শিক্ষার্থীকে বহন করতে হবে, তা আগে যাচাই করা জরুরি। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতা, ভিসা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত নির্দেশনাও বিবেচনায় নিতে হবে।   ২৬. তুর্কিয়ে বুরসলারি তুরস্ক সরকারের তুর্কিয়ে বুরসলারি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের বহুল পরিচিত পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি।   সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান নির্ধারণ, টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা, তুর্কি ভাষা শিক্ষা এবং একবারের যাতায়াত টিকিট অন্তর্ভুক্ত থাকে। বয়স, ফলাফল এবং শিক্ষার স্তর অনুযায়ী যোগ্যতার শর্ত আলাদা।   ২৭. মারি স্ক্লোদোভস্কা-কুরি অ্যাকশনস মারি স্ক্লোদোভস্কা-কুরি অ্যাকশনস কেবল প্রচলিত অর্থে পিএইচডি বৃত্তি নয়। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের গবেষণা ও গবেষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।   ডক্টরাল নেটওয়ার্কের অর্থায়িত পিএইচডি পদ ছাড়াও পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপ, গবেষক বিনিময় এবং অন্যান্য গবেষণা প্রকল্প রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তির আবেদন না করে প্রকাশিত গবেষণা পদে চাকরিপ্রার্থীর মতো আবেদন করেন।   শুধু আইইএলটিএস ও চাকরি থাকলেই কি আবেদন করা যায়   স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বৃত্তিতে শুধু আইইএলটিএস এবং বর্তমানে চাকরির প্রমাণ দিলেই আবেদন করা যায়—এ তথ্য সঠিক নয়। প্রয়োজনীয় শর্তের মধ্যে থাকতে পারে শিক্ষাগত সনদ, ফলাফল, ভাষা দক্ষতা, মোটিভেশন লেটার, জীবনবৃত্তান্ত, সুপারিশপত্র, কাজ বা নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, গবেষণা প্রস্তাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রমাণ।   সব বৃত্তিতে চাকরি বাধ্যতামূলক নয়। আবার শেভেনিং, সুইডিশ ইনস্টিটিউট, ডিএএডির কিছু কর্মসূচি ও নির্দিষ্ট স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে কাজের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   একইভাবে সব বৃত্তিতে আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে টোয়েফল, পিটিই, কেমব্রিজ পরীক্ষা কিংবা আগের পড়াশোনা ইংরেজি মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার সনদ গ্রহণ করা হতে পারে। তবে শুধু ‘মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন’ সনদ সব প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করে না।   আবেদনের আগে যা যাচাই করতে হবে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রথমে নিজের শিক্ষার স্তর, বিষয়, ফলাফল, ভাষা দক্ষতা, কর্মজীবন এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অনুযায়ী বৃত্তি বাছাই করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বৃত্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি ঘোষণায় আবেদনকাল, যোগ্য দেশ, বয়সসীমা, অর্থায়নের পরিমাণ এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা জরুরি।   কোনো ফেসবুক পোস্ট, ব্যক্তিগত ব্লগ বা এজেন্সির তালিকা দেখে অর্থ প্রদান করা উচিত নয়। ইউরোপীয় কমিশনও শিক্ষার্থীদের দেশভিত্তিক উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি, ভিসা ও জীবনযাত্রার তথ্য সরকারি প্ল্যাটফর্ম থেকে যাচাই করার পরামর্শ দেয়।    বৃত্তির সময়সীমা ও নিয়ম প্রতিবছর পরিবর্তিত হয়। ফলে পুরোনো তালিকা অনুসরণ না করে আবেদন করার শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ সরকারি বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
কুয়েটের তরুণ শিক্ষক আবদুল্লাহ আল ফাহাদ
কুয়েটের তরুণ শিক্ষক আবদুল্লাহ আল ফাহাদের যুক্তরাজ্যে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ

বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র হলেও এবার যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগোতে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ অর্জন করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (রিসার্চ) বিষয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির মর্যাদাপূর্ণ EPSRC Doctoral Landscape Award (DLA) লাভ করেছেন।   এই স্কলারশিপের আওতায় তার সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে। পাশাপাশি গবেষণাকালীন জীবনযাপনের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের নির্ধারিত বার্ষিক স্টাইপেন্ডও পাবেন, যা পুরো গবেষণা মেয়াদজুড়ে প্রদান করা হবে।   আবদুল্লাহ আল ফাহাদ কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি খুলনার নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।   এ পর্যন্ত তার তিনটি আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি Q1, একটি Q2 এবং একটি Q4 মানের জার্নালে স্থান পেয়েছে। এছাড়া স্প্রিংগার থেকে প্রকাশিত একটি বইয়ের অধ্যায়, দুটি IEEE আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন এবং স্প্রিংগারে প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা আরও একটি গবেষণাপত্র রয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে নির্বাচিত হওয়ার পেছনে দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পিত প্রস্তুতি, ধারাবাহিক গবেষণা, আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা এবং সম্ভাব্য সুপারভাইজারদের সঙ্গে নিয়মিত একাডেমিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আবেদন প্রক্রিয়ায় নানা প্রতিযোগিতা ও অনিশ্চয়তা থাকলেও তিনি গবেষণার লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।   যুক্তরাজ্যের Engineering and Physical Sciences Research Council (EPSRC) দেশটির প্রকৌশল ও ভৌতবিজ্ঞান গবেষণার অন্যতম প্রধান অর্থায়নকারী সংস্থা। তাদের অর্থায়নে পরিচালিত Doctoral Landscape Award-এর মাধ্যমে প্রতিবছর নির্বাচিত গবেষকদের বিশ্বমানের গবেষণার সুযোগ, আধুনিক গবেষণাগার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।   উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ এখনও পিএইচডির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দিলেও যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার মান, শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়নের কারণে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।   নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আবদুল্লাহ আল ফাহাদ মনে করেন, বিদেশে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই গবেষণায় সম্পৃক্ত হওয়া, আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনায় গুরুত্ব দেওয়া, শক্তিশালী একাডেমিক প্রোফাইল তৈরি করা এবং সম্ভাব্য সুপারভাইজারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধৈর্য ধরে আবেদন চালিয়ে যাওয়াও সফলতার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।   কুয়েটের একজন তরুণ শিক্ষক থেকে বিশ্বের অন্যতম গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ অর্জনের এই সাফল্য বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। বিশেষ করে যারা যুক্তরাজ্যে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য এটি প্রমাণ করে যে সঠিক পরিকল্পনা, মানসম্মত গবেষণা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
চরম আর্থিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে ওকলাহোমা ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি-র সুযোগ পেলেন গোলাম আজম। ছবি: সংগৃহীত
হতদরিদ্র পরিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি, গোলাম আজমের অনুপ্রেরণার গল্প

একসময় যে পরিবারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, সেই পরিবার থেকেই উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন গোলাম আজম। প্রতিকূলতা পেরিয়ে তার এই পথচলা এখন অনেক শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।   পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যেই বেড়ে ওঠা গোলাম আজম পড়াশোনা থেকে কখনও সরে দাঁড়াননি। সীমিত সামর্থ্য নিয়েও ধাপে ধাপে তিনি স্কুল ও কলেজের শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর ভর্তি হন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে উচ্চশিক্ষা শেষ করে গবেষণার পথে এগিয়ে যান।   পরে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করে তিনি ওকলাহোমা ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি করার সুযোগ অর্জন করেন। এতে তার টিউশন ফি ও গবেষণাসংক্রান্ত ব্যয়ের পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   গোলাম আজমের এই সাফল্য দেখিয়ে দেয়, প্রতিকূল পরিবেশ সবসময় স্বপ্নপূরণের পথে শেষ কথা নয়। যোগ্যতা, ধারাবাহিক পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং সঠিক প্রস্তুতি থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজের জায়গা তৈরি করা সম্ভব।   উল্লেখ্য, গোলাম আজমের পারিবারিক অবস্থা ও শিক্ষাজীবনের তথ্য তার পরিচিতজনদের দেওয়া বর্ণনার ভিত্তিতে জানা গেছে। তার ফুল ফান্ডেড পিএইচডির তথ্য প্রকাশিত বিবরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও ব্যক্তিগত জীবনের অন্যান্য তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তাবাস্সুম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
এআই ব্যবহারের সন্দেহের পর পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
এআই দিয়ে নকল ঠেকাতে ইন-পার্সন পরীক্ষা, আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড় নম্বর ৯৬ থেকে ৪৮.৬-এ নেমে এলো

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পরীক্ষায় নকলের সন্দেহে মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগভুক্ত ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কোর্সে গড় নম্বর ৯৬ শতাংশ থেকে নেমে ৪৮.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ১৮ জন শিক্ষার্থী কোর্স থেকে নাম প্রত্যাহার করেন এবং প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। ঘটনাটি উচ্চশিক্ষায় এআই ব্যবহারের নৈতিকতা এবং একাডেমিক সততা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।   উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনসাইড হায়ার এড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রবার্তো সেরানো চলতি বসন্ত সেমিস্টারে ‘ওয়েলফেয়ার ইকোনমিক্স অ্যান্ড সোশ্যাল চয়েস থিওরি’ কোর্সে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো টেক-হোম মিডটার্ম পরীক্ষা নেন।   পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তিনি লক্ষ্য করেন, শিক্ষার্থীদের অনেক উত্তরপত্রে একই ধরনের ভাষা, গাণিতিক বিশ্লেষণ এবং প্রমাণ উপস্থাপনের ধরণ দেখা যাচ্ছে। তার সন্দেহ হয়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে উত্তর তৈরি করেছে। যদিও এ অভিযোগে কোনো শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী ঘোষণা করা হয়নি।   এরপর অধ্যাপক সেরানো সিদ্ধান্ত নেন, চূড়ান্ত পরীক্ষা (ফাইনাল) হবে সম্পূর্ণ ইন-পার্সন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের জানান, মিডটার্ম ও ফাইনালের ফলাফলের মধ্যে বড় ধরনের অমিল দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে।   এই ঘোষণার পর ১৮ জন শিক্ষার্থী কোর্স থেকে নাম প্রত্যাহার করেন। যারা ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেন, তাদের গড় নম্বর নেমে আসে ৪৮.৬ শতাংশে, যা ওই কোর্সের ইতিহাসে সর্বনিম্ন বলে দাবি করেন অধ্যাপক সেরানো। একই সঙ্গে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করতে ব্যর্থ হন।   ঘটনার পর অধ্যাপক সেরানো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, সম্ভাব্য প্রতিটি একাডেমিক অসদাচরণের অভিযোগ আলাদাভাবে জমা দিতে বলা হয়েছে, যা এত বড় সংখ্যক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের জন্য অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ।   অন্যদিকে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, একাডেমিক অসদাচরণের প্রতিটি অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী পৃথকভাবে তদন্ত করা হয় এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনারেটিভ এআই দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ইন-পার্সন পরীক্ষা, মৌখিক মূল্যায়ন, প্রকল্পভিত্তিক পরীক্ষা এবং এআই ব্যবহারের সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনাও দেখিয়ে দিয়েছে, এআই-নির্ভর যুগে একাডেমিক সততা রক্ষায় প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের উদ্যোগে পরিচালিত অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামে আবেদন চলছে। ছবি: সংগৃহীত
আইইএলটিএস ছাড়াই হার্ভার্ডের লিডারশিপ প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ, আবেদনের শেষ সময় আজ

বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল-এর শিক্ষকদের উদ্যোগে পরিচালিত ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ আবেদন গ্রহণ চলছে। সম্পূর্ণ অর্থায়নে পরিচালিত আট সপ্তাহের এই অনলাইন নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ-তরুণীরা অংশ নিতে পারবেন। বিশেষ সুবিধা হলো, এ প্রোগ্রামে আবেদন করতে আইইএলটিএস বা অন্য কোনো ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষার স্কোর বাধ্যতামূলক নয়।   প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপকদের উদ্যোগে চালু হয়। এর লক্ষ্য হলো সামাজিক ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মেধাবী তরুণদের নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলা এবং নিজ নিজ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তাদের প্রস্তুত করা।   প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এবং মোট আট সপ্তাহব্যাপী পরিচালিত হবে। এতে তিনটি মডিউলের মাধ্যমে নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং বাস্তব দক্ষতা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগে এই কর্মসূচির নাম ছিল ‘ক্রসরোডস ইমার্জিং লিডারস প্রোগ্রাম’।   বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এ প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী সামাজিক বা আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত কিংবা সম্প্রতি এসব ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, এমন শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া আবেদনকারীকে পরিবারের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী হতে হবে।   প্রোগ্রামে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি হার্ভার্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাসে অংশ নেওয়া, বিশ্বমানের একাডেমিক ও ক্যারিয়ার উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ, ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালায় অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ থাকবে। এছাড়া উচ্চশিক্ষা ও বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।   আগ্রহীদের আগামী ১০ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুষদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
জার্মানির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপের প্রথম ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুষদ, যাত্রা শুরু ২০২৭ সালে

জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বতন্ত্র ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব (Islamic Theology) অনুষদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর লক্ষ্যে বর্তমানে নির্মাণাধীন ‘ক্যাম্পাস অব রিলিজিয়নস’-এ ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট এবং ইসলামিক ধর্মতত্ত্বের অনুষদগুলোকে একই ক্যাম্পাসে একত্রিত করা হবে।   জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে (DW)-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম জার্মানির মুনস্টার শহরে ২০২১ সাল থেকে ‘ক্যাম্পাস অব রিলিজিয়নস’-এর নির্মাণকাজ চলছে। নতুন এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা, গবেষণা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার পরিবেশ তৈরি করা।   নবগঠিত ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুষদের প্রতিষ্ঠাতা ডিন মোহানাদ খোরশিদে বলেন, এই উদ্যোগের অংশ হতে পারা তার জন্য অত্যন্ত গর্বের। মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৫ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফল হিসেবে এই অনুষদের প্রতিষ্ঠা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তার মতে, নতুন অনুষদে ইসলামের উদার, গবেষণাভিত্তিক এবং মুক্তচিন্তার ব্যাখ্যা নিয়ে কাজ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর প্রভাব শুধু ইউরোপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম সমাজেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।   খোরশিদে এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইসলামিক থিওলজি-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন অনুষদ প্রতিষ্ঠার ফলে ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব বিভাগ এখন নিজস্বভাবে পিএইচডি এবং অন্যান্য উচ্চতর গবেষণা ডিগ্রি প্রদান করতে পারবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান ও বিভিন্ন তহবিল পাওয়ার সুযোগও আরও বাড়বে। ২০১২ সালে মাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী এবং তিনজন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল সেন্টার ফর ইসলামিক থিওলজি। বর্তমানে সেখানে আটজন অধ্যাপক এবং ৫০ জনের বেশি শিক্ষক-কর্মকর্তা কাজ করছেন। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।   জার্মানির সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ইসলাম ধর্ম শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে দক্ষ শিক্ষকের চাহিদাও দ্রুত বেড়েছে। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া-তে প্রায় তিন হাজার ইসলাম ধর্মের শিক্ষকের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৩০ জন। ফলে নতুন অনুষদটি শিক্ষক সংকট দূর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খোরশিদে জানান, ২০২৭ সাল থেকে ‘ইসলাম অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়ার্ক’ নামে একটি নতুন স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এই কোর্সের মাধ্যমে যুব উন্নয়ন, হাসপাতালভিত্তিক ধর্মীয় পরামর্শ, প্রবীণদের সেবা এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক খাতে দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করা হবে।   নতুন অনুষদের নীতিমালায় ইসলাম ও গণতন্ত্রের সহাবস্থান, কোরআনের সমসাময়িক ও গবেষণাভিত্তিক ব্যাখ্যা এবং আন্তধর্মীয় সংলাপকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চরমপন্থা, ইসলামবাদ এবং ইহুদিবিদ্বেষের বিরোধিতার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। খোরশিদে বলেন, অনুষদ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা প্রকাশের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় এ উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।   তার মতে, বিশ্বের অনেক মানুষ ইসলামের উদার ও গবেষণানির্ভর ব্যাখ্যার প্রতি আগ্রহী। দীর্ঘমেয়াদে মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ বৈশ্বিক ইসলামিক গবেষণা ও চিন্তাচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র নরবার্ট রবার্স বলেন, একই ক্যাম্পাসে খ্রিস্টান ও ইসলামিক ধর্মতত্ত্বের অনুষদ প্রতিষ্ঠা আন্তধর্মীয় বোঝাপড়া এবং সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।   অন্যদিকে জার্মানির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী আনেত্তে শাভান এই উদ্যোগকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ইউরোপে একাডেমিক ধর্মতত্ত্ব চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রান্সে বাংলাদেশিসহ ইউরোপের বাইরের শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা বাতিল I ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে বাংলাদেশিসহ ইউরোপের বাইরের শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা বাতিল

ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় দুঃসংবাদ সামনে এসেছে। ফরাসি সরকার তাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবাসন-সহায়তা নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে অ-ইইউ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সরকারি আবাসন ভাতা বা এপিএল কর্মসূচির বাইরে থেকে যাবেন।   ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক ঘোষণায় জানিয়েছে, আগামী ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকা (ইইএ) এবং সুইজারল্যান্ডের বাইরের যেসব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ক্রুসের (CROUS) সামাজিক বৃত্তি পান না, তাঁরা আর কাফের (CAF) মাধ্যমে দেওয়া এপিএল আবাসন ভাতার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।   এতদিন ফ্রান্সে পড়তে যাওয়া অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মাসিক বাসাভাড়ার একটি বড় অংশ সরকারি সহায়তা হিসেবে পেতেন, যা শহর ও বাসস্থানের ধরন অনুযায়ী তাঁদের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক স্বস্তি এনে দিত। নতুন নীতির ফলে সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর মাসিক ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে।   ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মূলত সরকারি ব্যয় আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে এবং প্রকৃত প্রয়োজনীয়দের মাঝে সামাজিক সহায়তা কেন্দ্রীভূত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকা ও সুইজারল্যান্ডের শিক্ষার্থীরা আগের মতোই এই আবাসন ভাতা পাবেন।   এর পাশাপাশি ক্রুসের সামাজিক বৃত্তিপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। সরকার আরও নিশ্চিত করেছে যে, আবাসন ভাতার নিয়ম পরিবর্তন হলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রুস পরিচালিত অন্যান্য সুবিধা, যেমন—স্বল্পমূল্যের খাবার এবং সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিগুলো আগের মতোই চালু থাকবে।   শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর। কারণ, এসব দেশের অনেক শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ফ্রান্সে পড়াশোনা করতে যান এবং খরচের দিক থেকে তাঁরা এই আবাসন ভাতার ওপর বেশ নির্ভরশীল থাকেন। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, নতুন নীতি কার্যকর হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।   ফলে ভবিষ্যতে ফ্রান্সে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত আর্থিক প্রস্তুতি নিতে হবে এবং অনেকেই হয়তো উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের অন্যান্য দেশে সুযোগ খোঁজার দিকে ঝুঁকবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় I ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ অভিবাসীদের ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের উচ্চশিক্ষায় অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার লক্ষ্যে সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ বা নথিপত্রহীন অভিবাসীদের ভর্তি নিষিদ্ধ করেছে স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক ভোটাভুটিতে ৬-১ ভোটে বিতর্কিত এই নীতিটি পাস হয়। এর ফলে ফ্লোরিডার ২৮টি স্টেট কলেজ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষা কার্যক্রমগুলো অবৈধ অভিবাসীদের জন্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।   অরল্যান্ডো সেন্টিনেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাবের বিপক্ষে একমাত্র ভোটটি দিয়েছেন বোর্ডের সদস্য ড্যানিয়েল ফোগানহোলি, যিনি নিজে একজন ব্রাজিলীয় অভিবাসীর সন্তান এবং প্রথম প্রজন্মের আমেরিকান। তবে বোর্ড অব এডুকেশন দাবি করেছে, ভর্তি সংক্রান্ত নতুন মাপকাঠি নির্ধারণের এই ক্ষমতা ফ্লোরিডার বিদ্যমান আইনেই তাদের দেওয়া হয়েছে।   হায়ার এড ড্রাইভের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ফ্লোরিডার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৫০ হাজার নথিপত্রহীন বা অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত ছিল। গত বছরই ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডেকা) কর্মসূচির আওতাধীন অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য ‘ইন-স্টেট টিউশন’ বা হ্রাসকৃত বেতন সুবিধা বাতিল করেছিল ফ্লোরিডা প্রশাসন।   নতুন এই নিষেধাজ্ঞার পর জনসাধারণের মতামতের অংশে অ্যালেক্স লিবারম্যান নামের এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "শিক্ষাব্যবস্থা কোনোভাবেই অভিবাসীদের নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের হাতিয়ার হতে পারে না।" ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ভার্জিনিয়া বোল্টন একে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপ শুধু শিক্ষা বিভাগের আদর্শেরই পরিপন্থী নয়, বরং এটি মার্কিন সংবিধানেরও ঘোর বিরোধী।   অন্যদিকে, ফ্লোরিডার ডেমোক্র্যাট দলীয় স্টেট সিনেটর কার্লোস গুইলারমো স্মিথ এই নতুন নীতিকে সরাসরি ফ্লোরিডা আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, অঙ্গরাজ্যের আইনে স্টেট কলেজগুলোতে সবার জন্য ‘উন্মুক্ত দ্বার’ ভর্তি নীতি বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে, যা এই নিয়মের মাধ্যমে লঙ্ঘিত হচ্ছে। এছাড়া সংবিধানে সবার জন্য শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটিকেও চরমভাবে অবজ্ঞা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   তবে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস বোর্ডের এই ভোটাভুটি ও সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানিয়েছেন। স্পেকট্রাম নিউজের শেয়ার করা একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, "আপনি এখানে অবৈধভাবে অবস্থান করবেন আর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবেন, এটি কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না। আমি চাই ওই আসনগুলোতে ফ্লোরিডার বৈধ বাসিন্দারাই সুযোগ পাক।"

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন ব্যবস্থার নতুন নিয়ম | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট লোনে বড় পরিবর্তন, যা জানা জরুরি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন ব্যবস্থায় ১ জুলাই থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়মে ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি, নতুন ঋণ গ্রহণের সুযোগ এবং কিছু ঋণের সীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে বর্তমানে যারা ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন ব্যবহার করছেন এবং ভবিষ্যতে যারা ঋণ নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের ওপর এ পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে।   মার্কিন শিক্ষা বিভাগ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা অফিস এবং জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া SAVE (Saving on a Valuable Education) ঋণ পরিশোধ কর্মসূচিকে ঘিরে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, SAVE কর্মসূচি আর আগের মতো চালু থাকছে না। বর্তমানে এ কর্মসূচিতে নিবন্ধিত ঋণগ্রহীতাদের অন্য একটি অনুমোদিত পরিশোধ পরিকল্পনায় যেতে হবে। শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের এ বিষয়ে ধাপে ধাপে নোটিশ পাঠানো হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন পরিকল্পনা নির্বাচন করতে হবে। তা না হলে অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য একটি পরিশোধ ব্যবস্থায় স্থানান্তর করা হতে পারে, যেখানে মাসিক কিস্তির পরিমাণ আগের তুলনায় বেশি হতে পারে।   একই সঙ্গে ১ জুলাই থেকে নতুন ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন গ্রহণকারীদের জন্যও নতুন কাঠামো চালু হয়েছে। নতুন ঋণগ্রহীতাদের জন্য প্রধান দুটি পরিশোধ পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। এর একটি আয়ভিত্তিক পরিশোধ পরিকল্পনা, যেখানে ঋণগ্রহীতার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাসিক কিস্তি নির্ধারণ করা হবে। অন্যটি নির্দিষ্ট সময়সূচিভিত্তিক পরিশোধ পরিকল্পনা, যেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।   নতুন নিয়মে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য Graduate PLUS Loan কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি Parent PLUS Loan-এর ক্ষেত্রেও ঋণের সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের জন্য ফেডারেল ঋণ গ্রহণের সুযোগ সীমিত হতে পারে।   অন্যদিকে, শিক্ষা বিভাগ সময়মতো ঋণ পরিশোধে উৎসাহ দিতে স্বয়ংক্রিয় কিস্তি পরিশোধ (AutoPay) ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুদ ছাড়ের সুবিধাও ঘোষণা করেছে। এ সুবিধা গ্রহণ করলে যোগ্য ঋণগ্রহীতারা সুদের হারে অতিরিক্ত ছাড় পেতে পারেন।   উচ্চশিক্ষা–সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নিয়মের ফলে অনেক শিক্ষার্থীর মাসিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বর্তমানে যাদের ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন রয়েছে, তাদের নিজ নিজ লোন সার্ভিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোন পরিশোধ পরিকল্পনা তাদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হবে, তা দ্রুত যাচাই করা উচিত।   যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং যেসব পরিবার সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের ওপর নির্ভর করেন, তাদের জন্যও এ পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগে ঋণের নতুন নিয়ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বা জটিলতা এড়ানো সহজ হবে।   মার্কিন শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী কয়েক মাসে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন নির্দেশনা ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানানো হবে। তাই যাদের ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন রয়েছে, তাদের শিক্ষা বিভাগের নোটিশ এবং নিজ নিজ লোন সার্ভিসারের বার্তাগুলো নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশের রেজওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের টেইলর I ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করতে গিয়ে শুধু ডিগ্রিই নয়, একই গবেষণাগারেই খুঁজে পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক জীবনসঙ্গী

বিদেশে উচ্চশিক্ষা অনেকের কাছেই নতুন জ্ঞান, গবেষণা এবং ক্যারিয়ার গড়ার এক অনন্য সুযোগ। তবে বাংলাদেশের রেজওয়ানের জন্য সেই যাত্রা এনে দিয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি—নিজের জীবনসঙ্গী।   উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে পিএইচডি করতে যান রেজওয়ান। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সেখানে গবেষণায় যোগ দেন টেইলর। মলিকুলার বায়োসায়েন্স ভবনের একই গবেষণাগারে কাজ করতে গিয়েই তাদের প্রথম পরিচয়।   রেজওয়ান বলেন, “আমি বাংলাদেশ থেকে, আর টেইলর যুক্তরাষ্ট্রের। ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে গবেষণা করতে না এলে হয়তো কোনো দিনই আমাদের দেখা হতো না।”   সে সময় টেইলর স্ট্রাকচারাল বায়োলজিতে পিএইচডি করছিলেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল জিন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক (৩ডি) গঠন, যা ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   অন্যদিকে, রেজওয়ানের গবেষণার বিষয় ছিল ফাঙ্গাল প্রোটিন ব্যবহার করে ন্যানোপার্টিকল কোটিং প্রযুক্তি। বায়োটেকনোলজিতে ন্যানো-ক্যারিয়ার হিসেবে এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।   দিনের বেশিরভাগ সময় একই গবেষণাগারে কাটত দুজনের। গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করতে করতেই গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। সময়ের সঙ্গে সেই বন্ধুত্ব রূপ নেয় ভালোবাসায়, আর শেষ পর্যন্ত তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।   রেজওয়ান ও টেইলরের গল্পটি মনে করিয়ে দেয়, বিদেশে উচ্চশিক্ষা শুধু ডিগ্রি বা গবেষণার সুযোগই এনে দেয় না; কখনো কখনো জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মানুষটির সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেয়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডার ২৮টি সরকারি কলেজে অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধে নতুন নিয়ম অনুমোদন | ছবি: অরল্যান্ডো বিজনেস জার্নাল
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবৈধ অভিবাসীদের কলেজে ভর্তি ও জিইডি প্রোগ্রাম নিষিদ্ধ

আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সরকারি কলেজ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষামূলক ‘জিইডি’ (GED) প্রস্তুতিমূলক প্রোগ্রামে অবৈধ অভিবাসীদের ভর্তির সুযোগ বন্ধ করে নতুন নিয়ম অনুমোদন করেছে রাজ্য শিক্ষা বোর্ড। মঙ্গলবার এক কনফারেন্স কলের মাধ্যমে এই বিতর্কিত নিয়মটি পাস করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩৫ নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফ্লোরিডার ২৮টি সরকারি কলেজের ট্রাস্টি বোর্ডকে এখন থেকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা মার্কিন নাগরিক কিংবা আইনগতভাবে দেশটিতে অবস্থান করছেন। এর পাশাপাশি সরকারি হাইস্কুল ও স্টেট কলেজগুলোতে পরিচালিত প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং জিইডি কোর্সেও অনথিভুক্ত বা অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   রাজ্য শিক্ষা বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও অভিবাসী অধিকারকর্মী। তাদের দাবি, ফ্লোরিডার আইনসভা বা লেজিসলেচার চলতি বছর যে বিধিনিষেধগুলো পাস করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, শিক্ষা বোর্ড এখন সেই নিয়মগুলোই জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। গভর্নর রন ডেসান্টিসের নিযুক্ত করা বোর্ড সদস্য ড্যানিয়েল ফোগানহোলি একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেন।   ফ্লোরিডার কলেজ বিভাগের চ্যান্সেলর ক্যাথি হেবদা অবশ্য বোর্ড সদস্যদের জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার বিদ্যমান আইনের সাথে কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই নিয়মগুলো আপডেট করা হয়েছে। তবে চলতি বছরের আইনসভা অধিবেশনে এই ধরনের বিল ব্যর্থ হওয়ার পরেও কেন নতুন করে এই প্রশাসনিক নিয়ম চালুর প্রয়োজন হলো, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।   অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে অরল্যান্ডোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যানা এসকামানি বলেন, কোনো শিশুর নিজের কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও কেবল ইমিগ্রেশন নথির অজুহাতে তার উচ্চশিক্ষার পথ বন্ধ করে দেওয়াটা সম্পূর্ণ অ-আমেরিকান এবং সংবিধান পরিপন্থী। এমনকি আইনসভার দ্বিপাক্ষিক যৌথ প্রশাসনিক পদ্ধতি কমিটিও এই নতুন নিয়মের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষা বিভাগকে চিঠি পাঠিয়েছে।   সূত্র: ফক্স ৩৫ ওর্ল্যান্ডো

তাবাস্সুম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
বহু শিক্ষার্থী নিজেদের আবাসন ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে নিজ বাড়িতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন | ছবি: বেঞ্জামিন জন/আলামি
আবাসন সংকটে ব্রিটেন, হোস্টেল ছেড়ে বাড়িতে ফিরছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা!

যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও চড়া বাড়ি ভাড়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী নিজেদের আবাসন ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে নিজ বাড়িতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও ক্যাম্পাস জীবনকে সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আর্থিক দুশ্চিন্তার কারণে তরুণদের একটি বড় অংশ ঐতিহ্যবাহী আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের নানা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।   চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত রেজোলিউশন ফাউন্ডেশনের বার্ষিক 'ইন্টারজেনারেশনাল অডিট' রিপোর্টে দেখা গেছে, ইংল্যান্ডের সবচেয়ে দরিদ্র এলাকার প্রায় ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নিজেদের বাড়িতে থাকার পরিকল্পনা করছেন। এর বিপরীতে ধনী এলাকার মাত্র ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই সংস্থার প্রেসিডেন্ট ডেভিড উইলেটস জানান, এটি কোনো স্বাধীন বা স্বাভাবিক পছন্দ নয়, বরং সম্পূর্ণ আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকছেন, যা তাদের পরবর্তী জীবনের সামাজিক নেটওয়ার্ক ও সুযোগকে প্রভাবিত করছে।   লন্ডন রেন্ট বা উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই দৈনিক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করছেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ১৯ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী জানান, সকালে ক্লাস শেষ হলেও ক্যারিয়ার বিষয়ক নানা সেমিনার বা সামাজিক ক্লাবের অনুষ্ঠান থাকে সন্ধ্যায়, যার কারণে দীর্ঘ সময় তাঁকে ক্যাম্পাসে অপেক্ষা করতে হয়। বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় ও অর্থের অপচয় এড়াতে এই দীর্ঘ অপেক্ষার ফলে তিনি প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ফলে অনেকেই স্বতঃস্ফূর্ত আড্ডা, নেটওয়ার্কিং এবং ক্যারিয়ারের বড় বড় সুযোগগুলো হাতছাড়া করছেন।   তবে এই পরিস্থিতির কিছু ইতিবাচক দিকও দেখছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ। লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, বাড়িতে থাকার কারণে তাঁকে বাড়তি ভাড়ার টাকা জোগাতে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম চাকরি করতে হচ্ছে না, ফলে তিনি পড়াশোনায় বেশি মনোযোগ দিতে পারছেন। হাইয়ার এডুকেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর নিক হিলম্যান বলেন, বাড়িতে থাকার অর্থ হলো কম ঋণ, পরিবারের দৃঢ় সমর্থন এবং পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া। মূল বিষয় হলো শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছেন কি না।   যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস এবং সাটন ট্রাস্টের গবেষকরা অবশ্য মনে করছেন, ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের কোর্স পাওয়া যায় না, যার ফলে দরিদ্র শিক্ষার্থীরা তাঁদের পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারছেন না। দেশটির বর্তমান অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং আবাসন সংকটের কারণে ঐতিহ্যবাহী আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জীবন এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নীতিনির্ধারকদের এই বৈষম্য দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

তাবাস্সুম জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
শাহরিয়ার নাজিম সীমান্ত | ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘ইয়াং সাউথ এশিয়ান লিডারস ইনিশিয়েটিভ’ (ওয়াইএসএএলআই) ফেলোশিপ পেয়েছেন প্রথম আলো বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের কার্যনির্বাহী সদস্য শাহরিয়ার নাজিম সীমান্ত। এই বিশেষ সাফল্যের অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকান এক্সিলেন্স, এন্টারপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে তিনি নিজ দেশ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সম্পূর্ণ অর্থায়নে এই আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামটি গত ৩০ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের নিয়ে আয়োজিত অত্যন্ত চমৎকার ও শিক্ষণীয় এই পুরো প্রোগ্রামটি আয়োজনে বিশেষ সহায়তা করেছে আমেরিকার ওমাহার নেব্রাস্কা ইউনিভার্সিটি এবং দ্য ইস্ট-ওয়েস্ট সেন্টার।   বর্তমানে শাহরিয়ার নাজিম সীমান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করছেন। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময়ব্যাপী সেই ফলপ্রসূ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শেষে তিনি লব্ধ জ্ঞান নিয়ে নিজ দেশে ফিরে এসেছেন।   এবারের আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ তথা বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা থেকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ৩৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এর মধ্যে লাল-সবুজের দেশ বাংলাদেশ থেকে সুযোগ পেয়েছেন শাহরিয়ারসহ মাত্র ৬ জন দক্ষ শিক্ষার্থী।   ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনায় এই বিশেষ আঞ্চলিক প্রোগ্রামটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। এটি মূলত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী সম্ভাবনাময় তরুণদের নেতৃত্বের বাস্তব সক্ষমতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং যুব ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে গৃহীত একটি অনন্য উদ্যোগ।   এই মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপের মূল উদ্দেশ্য হলো দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিভাবান তরুণ সমাজকে আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে এমনভাবে প্রস্তুত করা, যাতে তাঁরা ভবিষ্যতে নিজ নিজ অঞ্চলের অভিন্ন বৈশ্বিক সংকট ও চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর ও টেকসই ভূমিকা রাখতে পারেন।

তাবাস্সুম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
এআই যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে ১২ হাজার কলা ও মানবিক বিভাগের ডিগ্রি বাতিল করেছে চীন
এআই যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে ১২ হাজার কলা ও মানবিক বিভাগের ডিগ্রি বাতিল করেছে চীন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে চীন। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গত কয়েক বছরে কলা, মানবিক ও ভাষাবিষয়ক প্রায় ১২ হাজার ডিগ্রি কর্মসূচি বাতিল করেছে। একই সময়ে প্রযুক্তি ও এআই-সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার নতুন ডিগ্রি চালু করা হয়েছে।   চীনের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষা কার্যক্রম এই পুনর্গঠনের আওতায় এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওপর।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীনের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার ২০০টি নতুন স্নাতক ডিগ্রি কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এসব নতুন কোর্সের বড় অংশই কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, উন্নত প্রকৌশল, রোবোটিকস এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।   সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকদের কাছে কলা ও মানবিক বিষয়ের অনেক ডিগ্রি এখন ক্রমেই কর্মসংস্থানের দিক থেকে কম কার্যকর এবং অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিপরীতে ‘এমবডিড ইন্টেলিজেন্স’সহ নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক ডিগ্রিগুলোকে চীনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।   সাংহাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, দুর্বল চাকরির বাজারের কারণে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় কিছু প্রচলিত ডিগ্রি কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছে।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি পণ্য নকশা বা প্রোডাক্ট ডিজাইন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আগে যেসব কাজের জন্য মানুষের দক্ষতা অপরিহার্য ছিল, এখন তার অনেকটাই এআই দিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে।   তিনি বলেন, “মডেল তৈরি, নকশার প্রাথমিক খসড়া এবং দৃশ্যায়নের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাচ্ছে।”   বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীনের এই উদ্যোগ বৈশ্বিক একটি প্রবণতারই অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।   ভারত ইতোমধ্যে জাতীয় বিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও জাতীয় পর্যায়ে এআই শিক্ষা উদ্যোগ চালু করেছে। একইভাবে কাজাখস্তান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে জাতীয় প্রতিযোগিতা সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করে নতুন শিক্ষা কৌশল বাস্তবায়ন করছে।   ইউরোপেও এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। স্পেন তার ‘ডিজিটাল স্পেন’ কৌশলের অংশ হিসেবে শিক্ষাক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে।   অন্যদিকে যুক্তরাজ্যেও শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের আলোচনা চলছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন গত বছর জানিয়েছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে তথ্যবিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক নতুন শিক্ষাগত যোগ্যতা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।   যুক্তরাজ্যের জাতীয় শিক্ষাক্রমের গত এক দশকের সবচেয়ে বড় পর্যালোচনার ফল আগামী বছর প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হবে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে। ব্রিজেট ফিলিপসন সে সময় বলেছিলেন, “জাতীয় শিক্ষাক্রম সর্বশেষ হালনাগাদের পর এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের প্রস্তুত করা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”   তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা দিতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হয়।”

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
স্টুডেন্ট ভিসা, খরচ ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা: স্টুডেন্ট ভিসা, খরচ ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে জার্মানি। তুলনামূলক কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ডিগ্রির কারণে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো শিক্ষার্থী সেখানে পড়তে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ থেকেও এ সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।   ভিসাবিষয়ক তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘জার্মানি ভিসা’-এর তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়া বাধ্যতামূলক।   জানা গেছে, জার্মানির স্টুডেন্ট ভিসা মূলত দীর্ঘমেয়াদি ন্যাশনাল ‘ডি’ ক্যাটাগরির ভিসা। এই ভিসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার দেশটিতে প্রবেশ করতে পারেন এবং সাধারণত এটি দুই বছরের জন্য বৈধ থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতে আরও দুই বছর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে এ ভিসার আবেদন ফি নির্ধারিত হয়েছে ৭৫ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৭০০ টাকার মতো।   স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে প্রথমেই জার্মানির স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হয়। পাশাপাশি সেখানে অবস্থানকালে নিজের খরচ বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ব্লকড অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে ১১ হাজার ৯০৪ ইউরো জমা থাকার প্রমাণ দিতে হয়, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৭ লাখ টাকার বেশি। তবে বৈধ স্কলারশিপ থাকলে তা-ও আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।   এ ছাড়া ভর্তিকৃত কোর্সের ধরন অনুযায়ী জার্মান বা ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার সনদ জমা দিতে হতে পারে।   তবে সব দেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই ভিসা বাধ্যতামূলক নয়। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরাইল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা জার্মানিতে প্রবেশের আগে স্টুডেন্ট ভিসা ছাড়াই যেতে পারেন। তারা সেখানে পৌঁছানোর পর স্থানীয় বিদেশি নিবন্ধন দপ্তরে আবাসিক অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন।   অন্যদিকে, ভিসামুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা যদি ৯০ দিনের বেশি মেয়াদের কোনো কোর্সে ভর্তি হন, তাহলে তাদেরও আবাসিক অনুমোদন নিতে হয়। তবে স্বল্পমেয়াদি কোর্স বা এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে শেনজেন ভিসা প্রযোজ্য হতে পারে।   পড়াশোনার ধরন অনুযায়ী জার্মানিতে বিভিন্ন ধরনের স্টাডি ভিসা রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ণকালীন একাডেমিক অধ্যয়ন, জার্মান ভাষা কোর্স, স্টুডিয়েনকলেগ, প্রস্তুতিমূলক কোর্স এবং বাধ্যতামূলক প্রাক-ইন্টার্নশিপের জন্য পৃথক ভিসা দেওয়া হয়।   আবেদন প্রক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে সুসংগঠিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের জার্মান দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করা যায়। অনেক দেশে অনলাইনে আবেদন করার সুবিধাও রয়েছে, বাংলাদেশ থেকেও এই সুবিধা ব্যবহার করা সম্ভব।   ভিসা আবেদনের সময় সাধারণত পূরণকৃত আবেদনপত্র, বৈধ পাসপোর্ট, সাম্প্রতিক ছবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির প্রমাণ, একাডেমিক সনদ ও নম্বরপত্র, ভাষাগত দক্ষতার সনদ, ভ্রমণবীমা, জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), মোটিভেশন লেটার এবং আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ জমা দিতে হয়।   আর্থিক প্রমাণ হিসেবে স্কলারশিপের কাগজপত্র, জার্মানিতে বসবাসরত কোনো ব্যক্তির স্পনসরশিপ ঘোষণা, ব্লকড অ্যাকাউন্টের তথ্য বা অভিভাবকের আর্থিক বিবরণী গ্রহণযোগ্য হতে পারে।   শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। তাই আবেদন করার আগে জার্মান দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টিক সিটিতে মেয়রের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচি ঘোষণা, আবেদন ১৫ জুন পর্যন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে মেয়রের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকালে লেফট্যানেন্ট গভর্নর শিলা অলিভার প্লাজায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র চলতি বছরের স্কলারশিপের অর্থের পরিমাণ ও আবেদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তুলে ধরেন।   ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই বিশেষ শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় এবার মোট ৫২টি স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের হাইস্কুল সিনিয়র শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০টি এবং ট্রেড স্কুল, মাস্টার্স ও ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ১২টি স্কলারশিপ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত বৃত্তি পেতে পারেন।   বৃত্তির শর্ত অনুযায়ী আবেদনকারীকে অবশ্যই আটলান্টিক সিটির স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীকে ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েটিং ক্লাসের সদস্য অথবা সম্প্রতি মাস্টার্স কিংবা ডক্টরাল প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া থাকতে হবে। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে যারা এই স্কলারশিপ পেয়েছেন, তারা এবার নতুন করে আবেদনের জন্য যোগ্য হবেন না। বৃত্তির অর্থ সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে।   সিটি প্রশাসন জানায়, সিটি কর্মচারী ও কমিউনিটির সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বাধীন বৃত্তি কমিটি আবেদনপত্র মূল্যায়ন করবে। সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক স্কোরিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করা হবে।   সংবাদ সম্মেলনে সিটি কাউন্সিল সভাপতি অ্যারন রেনডলফ, সহসভাপতি কলিম শাহবাজ এবং কাউন্সিলর এট লার্জ স্টিফেনি মার্শালসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের আগামী সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৪টার মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে যেসব কারণে

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া যেমন বড় অর্জন, তেমনি ভিসা পাওয়ার পর তা ধরে রাখতে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব নিয়ম ভঙ্গ করলে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল বা প্রত্যাহারের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা পড়াশোনা ও বৈধ অবস্থান উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে।   ভিসা বাতিল হতে পারে যেসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী ভিসা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বাতিল হতে পারে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো—কোনো শিক্ষার্থী যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমতি বা যথাযথ তথ্য ছাড়া পাঁচ মাসের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকেন, তাহলে তার ভিসা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ভিসা-সংক্রান্ত রেকর্ড সঠিকভাবে আপডেট না করলে শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে, যা ভিসা বাতিলের কারণ হতে পারে। ভুয়া তথ্য বা নথি জমা দেওয়া, অনুমতি ছাড়া কাজ করা অথবা অন্য কোনো ধরনের জালিয়াতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে ভিসা বাতিল হতে পারে। শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতির পরিবর্তন বা নতুন তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে তিনি আর ভিসার শর্ত পূরণ করছেন না, সেক্ষেত্রেও ভিসা বাতিল হতে পারে। এছাড়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় বা অপরাধের অভিযোগও কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বাতিলের কারণ হতে পারে।   ভিসা বাতিল হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমে জানতে হবে কোন কারণে ভিসা বাতিল হয়েছে। এটি প্রশাসনিক ত্রুটি, দীর্ঘ অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর করণীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে-বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সেবা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভুল সিদ্ধান্ত হলে বা ব্যাখ্যার সুযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পুনরায় আবেদন বা আপিল করা   জটিল পরিস্থিতিতে অভিবাসন আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া ট্রাভেল বা স্টুডেন্ট ইনস্যুরেন্সে ভিসা বাতিলজনিত সুবিধা আছে কি না তা যাচাই করা   শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হওয়া কঠিন পরিস্থিতি হলেও দ্রুত পদক্ষেপ, সঠিক তথ্য জানা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়ক হতে পারে।

Unknown জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
উচ্চশিক্ষায় সুযোগ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইলেন শিক্ষামন্ত্রী

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে তাঁর দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশন্স’ বিষয়ক বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।   বৈঠকে শিক্ষা ও সামাজিক খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।   চার্লস জে হার্ডার বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন ও পুষ্টিহীনতার মতো সমস্যা রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়ের খাদ্য কর্মসূচি, শিশুস্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।   জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে সরকার নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, সারাদেশে মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি চালু, শিক্ষার্থীদের জন্য পোশাক সরবরাহ এবং খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা।   তিনি আরও জানান, শিক্ষার আধুনিকায়ন, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন এবং শিক্ষাকে আনন্দমুখর করতে বিদ্যালয়ে ক্রীড়া ও কৃষি শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।   বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণ সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদও জানান তিনি।   এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত ছিলেন।

Unknown এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাখ্যানে নতুন রেকর্ড: চরম ভোগান্তিতে বাংলাদেশি ও ভারতীয়রা

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে চাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন। গত এক বছরে মার্কিন স্টুডেন্ট ভিসা (F-1 Visa) প্রত্যাখানের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এই সংকটে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিজনেজ স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখানের হার আকাশচুম্বী হয়ে ৬১ শতাংশে ঠেকেছে। একই ধারায় বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর স্বপ্নও থমকে গেছে ভিসা না পাওয়ায়। কেন বাড়ছে রিফিউজালের হার? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কনস্যুলেটগুলো এখন আবেদনকারীদের 'ইমিগ্রেশন ইনটেন্ট' বা পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার মানসিকতা নিয়ে অনেক বেশি কড়াকড়ি করছে। এছাড়া আর্থিক সক্ষমতার যথাযথ প্রমাণ এবং সঠিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে ত্রুটিকেও এই গণহারে ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে রেকর্ড সংখ্যক আবেদন জমা পড়লেও সে তুলনায় ভিসা ইস্যুর হার ছিল অনেক কম। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অস্বাভাবিক প্রত্যাখ্যান হারের কারণে অনেক শিক্ষার্থী এখন বিকল্প হিসেবে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপের দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। যারা দীর্ঘ সময় ধরে আইইএলটিএস (IELTS) এবং জিআরই (GRE) দিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন, ভিসা না পাওয়ায় তাদের ক্যারিয়ার এখন অনিশ্চয়তার মুখে। মার্কিন প্রশাসনের এই কড়াকড়ি আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: ফাইল ফটো
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা: অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর আবেদন প্রত্যাখ্যান

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্সের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে করা স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ৫১ শতাংশই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি আবেদনকারী ভিসা পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ভিসা অনুমোদনের হারের রেকর্ড গড়েছে।   টাইমস হায়ার এডুকেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে বিদেশ থেকে করা উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক ভিসা আবেদনের মাত্র ৬৭.৬ শতাংশ অনুমোদন পেয়েছে। কেবল বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। নেপালে ৬৫ শতাংশ, ভারতে ৪০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৩৮ শতাংশ এবং ভুটানে ৩৬ শতাংশ আবেদন বাতিল হয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন গত বছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ এখন আবেদনকারীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য বা ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ কি না, তা যাচাইয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার কারণেই বিপুল সংখ্যক আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, গত বছরের তুলনায় আবেদন বৃদ্ধির হার নেপালে ৯১ শতাংশ এবং ভারতে ৩৬ শতাংশ হলেও চীন থেকে আবেদনের হার কমেছে।   ভিসা প্রত্যাখ্যানের এই ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া। সংগঠনটির মতে, এই পরিস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর 'ঝুঁকি' রেটিং বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।   অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এখন থেকে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রস্তুতির বিষয়গুলো আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা প্রয়োজন, যাতে প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।

তাবাস্সুম এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০