অটিজম নিয়েও ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ডের বিশেষায়িত কর্মসূচিতে জোশুয়া, স্বপ্ন নিউরোসার্জন হওয়ার
অটিজম নিয়ে বেড়ে ওঠা জোশুয়া বেকফোর্ড মাত্র ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিশুদের জন্য পরিচালিত একটি বিশেষায়িত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। ছোটবেলা থেকেই অসাধারণ শেখার ক্ষমতার পরিচয় দেওয়া এই ব্রিটিশ তরুণ পরবর্তী সময়ে অটিজম সচেতনতা ও শিক্ষাবিষয়ক কাজেও যুক্ত হয়েছেন।
জোশুয়ার শেখার ক্ষমতা তাঁর বাবা নক্স ড্যানিয়েলের নজরে আসে মাত্র ১০ মাস বয়সে। কম্পিউটারের কিবোর্ডে বিভিন্ন অক্ষর দেখিয়ে দিলে জোশুয়া সেগুলো মনে রাখতে এবং চিহ্নিত করতে পারতেন। এরপর অল্প বয়সেই তাঁর শেখার গতি স্বাভাবিক বয়সভিত্তিক শিক্ষার সীমা ছাড়িয়ে যায়।
তিন বছর বয়সের মধ্যেই তিনি ধ্বনিভিত্তিক পদ্ধতিতে সাবলীলভাবে পড়তে পারতেন এবং জাপানি ভাষা শেখা শুরু করেছিলেন। কম্পিউটারে টাইপ করাও তিনি ছোট বয়সেই আয়ত্ত করেন। মানুষের শরীর ও অ্যানাটমির প্রতিও তাঁর আগ্রহ তৈরি হয় খুব অল্প বয়সে।
জোশুয়ার মেধা বিকাশের জন্য প্রচলিত বয়সভিত্তিক শিক্ষার বাইরে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁর বাবা। ২০১১ সালে তিনি অক্সফোর্ডের মেধাবী শিশুদের জন্য পরিচালিত একটি কর্মসূচির বিষয়ে জানতে পারেন। কর্মসূচিটি মূলত ৮ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য হলেও জোশুয়া তখন মাত্র ছয় বছরের ছিলেন। তাঁর বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর জোশুয়াকে বিশেষভাবে ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
অক্সফোর্ডে জোশুয়া দর্শন ও ইতিহাসের ওপর বিশেষায়িত কোর্স করেন এবং উভয় বিষয়েই কৃতিত্বের সঙ্গে সাফল্য অর্জন করেন। তবে তাঁর এই পথচলা প্রচলিত অর্থে ছয় বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার ঘটনা ছিল না; বরং মেধাবী শিশুদের জন্য তৈরি বিশেষায়িত শিক্ষাকর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল।
জোশুয়ার গল্পকে ঘিরে তাই একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসে, অসাধারণ প্রতিভাবান শিশুদের কীভাবে শনাক্ত করা হবে এবং তাদের জন্য কেমন শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। সমর্থকদের মতে, বয়সের ভিত্তিতে একই ধরনের পাঠ্যক্রমে সব শিশুকে আটকে না রেখে মেধা ও শেখার সক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, শিশুদের খুব অল্প বয়সে অত্যন্ত দ্রুতগতির শিক্ষাব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়ার সামাজিক ও মানসিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একটি শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার পাশাপাশি তার সামাজিক বিকাশ, মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং বয়স উপযোগী পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ।
জোশুয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তাঁর অসাধারণ মেধা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। অটিজম নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং অটিজম আক্রান্ত মানুষের জন্য সুযোগ ও সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার কাজেও তিনি যুক্ত হয়েছেন। তিনি ন্যাশনাল অটিস্টিক সোসাইটির একটি প্রচারণার সঙ্গেও কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
শৈশবের সেই অসাধারণ শিক্ষাযাত্রার পর তাঁর দীর্ঘদিনের আরেকটি লক্ষ্য নিউরোসার্জন হওয়া। অল্প বয়স থেকেই মানবদেহ ও মস্তিষ্কের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল এবং সেই আগ্রহই ভবিষ্যৎ পেশার স্বপ্নকে প্রভাবিত করেছে।
জোশুয়া বেকফোর্ডের পথচলা শুধু একজন মেধাবী শিশুর সাফল্যের গল্প নয়। এটি একই সঙ্গে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে আনে, যেখানে প্রতিটি শিশুর সক্ষমতা, শেখার ধরন এবং প্রয়োজনকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। তাঁর গল্প দেখিয়েছে, প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা যেমন জরুরি, তেমনি সেই প্রতিভাকে সমাজের জন্য ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের পথ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিক্ষা
View moreঅটিজম নিয়ে বেড়ে ওঠা জোশুয়া বেকফোর্ড মাত্র ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিশুদের জন্য পরিচালিত একটি বিশেষায়িত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। ছোটবেলা থেকেই অসাধারণ শেখার ক্ষমতার পরিচয় দেওয়া এই ব্রিটিশ তরুণ পরবর্তী সময়ে অটিজম সচেতনতা ও শিক্ষাবিষয়ক কাজেও যুক্ত হয়েছেন। জোশুয়ার শেখার ক্ষমতা তাঁর বাবা নক্স ড্যানিয়েলের নজরে আসে মাত্র ১০ মাস বয়সে। কম্পিউটারের কিবোর্ডে বিভিন্ন অক্ষর দেখিয়ে দিলে জোশুয়া সেগুলো মনে রাখতে এবং চিহ্নিত করতে পারতেন। এরপর অল্প বয়সেই তাঁর শেখার গতি স্বাভাবিক বয়সভিত্তিক শিক্ষার সীমা ছাড়িয়ে যায়। তিন বছর বয়সের মধ্যেই তিনি ধ্বনিভিত্তিক পদ্ধতিতে সাবলীলভাবে পড়তে পারতেন এবং জাপানি ভাষা শেখা শুরু করেছিলেন। কম্পিউটারে টাইপ করাও তিনি ছোট বয়সেই আয়ত্ত করেন। মানুষের শরীর ও অ্যানাটমির প্রতিও তাঁর আগ্রহ তৈরি হয় খুব অল্প বয়সে। জোশুয়ার মেধা বিকাশের জন্য প্রচলিত বয়সভিত্তিক শিক্ষার বাইরে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁর বাবা। ২০১১ সালে তিনি অক্সফোর্ডের মেধাবী শিশুদের জন্য পরিচালিত একটি কর্মসূচির বিষয়ে জানতে পারেন। কর্মসূচিটি মূলত ৮ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য হলেও জোশুয়া তখন মাত্র ছয় বছরের ছিলেন। তাঁর বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর জোশুয়াকে বিশেষভাবে ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। অক্সফোর্ডে জোশুয়া দর্শন ও ইতিহাসের ওপর বিশেষায়িত কোর্স করেন এবং উভয় বিষয়েই কৃতিত্বের সঙ্গে সাফল্য অর্জন করেন। তবে তাঁর এই পথচলা প্রচলিত অর্থে ছয় বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার ঘটনা ছিল না; বরং মেধাবী শিশুদের জন্য তৈরি বিশেষায়িত শিক্ষাকর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। জোশুয়ার গল্পকে ঘিরে তাই একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসে, অসাধারণ প্রতিভাবান শিশুদের কীভাবে শনাক্ত করা হবে এবং তাদের জন্য কেমন শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। সমর্থকদের মতে, বয়সের ভিত্তিতে একই ধরনের পাঠ্যক্রমে সব শিশুকে আটকে না রেখে মেধা ও শেখার সক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, শিশুদের খুব অল্প বয়সে অত্যন্ত দ্রুতগতির শিক্ষাব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়ার সামাজিক ও মানসিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একটি শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার পাশাপাশি তার সামাজিক বিকাশ, মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং বয়স উপযোগী পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। জোশুয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তাঁর অসাধারণ মেধা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। অটিজম নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং অটিজম আক্রান্ত মানুষের জন্য সুযোগ ও সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার কাজেও তিনি যুক্ত হয়েছেন। তিনি ন্যাশনাল অটিস্টিক সোসাইটির একটি প্রচারণার সঙ্গেও কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। শৈশবের সেই অসাধারণ শিক্ষাযাত্রার পর তাঁর দীর্ঘদিনের আরেকটি লক্ষ্য নিউরোসার্জন হওয়া। অল্প বয়স থেকেই মানবদেহ ও মস্তিষ্কের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল এবং সেই আগ্রহই ভবিষ্যৎ পেশার স্বপ্নকে প্রভাবিত করেছে। জোশুয়া বেকফোর্ডের পথচলা শুধু একজন মেধাবী শিশুর সাফল্যের গল্প নয়। এটি একই সঙ্গে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে আনে, যেখানে প্রতিটি শিশুর সক্ষমতা, শেখার ধরন এবং প্রয়োজনকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। তাঁর গল্প দেখিয়েছে, প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা যেমন জরুরি, তেমনি সেই প্রতিভাকে সমাজের জন্য ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের পথ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
১৮০ টাকা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান শান্তার হার্ভার্ড যাত্রা
পড়াশোনায় অনিয়ম করলে বাতিল হতে পারে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা, সতর্ক করল ঢাকা ইউএস এম্বাসি
বিদেশে পড়াশোনার খরচে সহায়তা করতে পারে খণ্ডকালীন চাকরি, দেশভেদে বদলে যায় নিয়ম ও আয়
এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে চান, কিন্তু এখনো আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর নেই? সে ক্ষেত্রে সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি ভাষা কোর্স এবং শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মতো বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে। তবে এর অর্থ ইংরেজি দক্ষতা ছাড়াই সরাসরি ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া নয়। বরং নির্দিষ্ট ইংরেজি কোর্স, নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মাধ্যমে পরে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমন পাঁচটি সম্ভাব্য বিশ্ববিদ্যালয় হলো জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি, ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস, পেনসিলভানিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটি এবং আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম, যোগ্যতা ও প্রোগ্রামের শর্ত আলাদা হওয়ায় আবেদন করার আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা জরুরি। কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়া জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। তবে শিক্ষার্থীরা এই নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে সেই শর্ত পূরণের পথ নিতে পারেন। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই কার্যক্রমে এফ-১ শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনার সুযোগ এবং আই-২০ পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। একই সময়ে স্নাতক পর্যায়ের ডিগ্রি প্রোগ্রামে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে থাকা অবস্থায় শর্তসাপেক্ষ ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। নির্ধারিত উচ্চতর ইংরেজি স্তর সফলভাবে শেষ করার পর শর্তসাপেক্ষ ভর্তি পূর্ণাঙ্গ ভর্তিতে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হয়। অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলে সরাসরি ডিগ্রি ক্লাস শুরু করার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এগোনোর সুযোগ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, ফ্লোরিডা ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি সম্ভাব্য পথ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করা শিক্ষার্থীরা এই কার্যক্রমে আবেদন করতে পারেন। এখানে শিক্ষার্থীর ইংরেজির বর্তমান দক্ষতা নির্ধারণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা নেওয়া হয়। ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত স্তরে রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের অষ্টম স্তর সফলভাবে শেষ করার পর স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইইএলটিএস, টোফেল বা ডুয়োলিঙ্গো স্কোরের প্রয়োজন থাকে না। ফলে এইচএসসি বা সমমানের স্কুল শিক্ষা শেষ করা কোনো শিক্ষার্থীর কাছে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর প্রস্তুত না থাকলেও ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার একটি পথ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস, টেক্সাস টেক্সাসের ডেন্টনে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ইংরেজি প্রস্তুতির সুযোগ দেয়। এখানে নতুন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা দিতে হয়। এই পরীক্ষায় শ্রবণ, পড়া, ব্যাকরণ ও লিখিত ইংরেজি দক্ষতা যাচাই করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত স্তরে রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউটের ষষ্ঠ স্তর সফলভাবে শেষ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণ করার সুযোগ রয়েছে। শর্তসাপেক্ষে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ইংরেজি কোর্সের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কোর্সেও পড়তে পারেন। অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইংরেজি মূল্যায়ন ও নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। টেম্পল ইউনিভার্সিটি, পেনসিলভানিয়া পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত টেম্পল ইউনিভার্সিটিতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি শিক্ষা এবং শর্তসাপেক্ষ ভর্তির ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, একাডেমিকভাবে যোগ্য কোনো শিক্ষার্থী যদি টোফেল বা আইইএলটিএস স্কোর জমা না দেন, তাহলে তাকে অস্থায়ী বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মাধ্যমে নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনীয় ইংরেজি দক্ষতা অর্জনের পর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথ তৈরি হয়। টেম্পলের আমেরিকান ভাষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের বিশেষ ইংরেজি প্রস্তুতি কার্যক্রমও এমন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পথ, যাদের ইংরেজির স্কোর সরাসরি ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য যথেষ্ট নয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা পূর্ণকালীন ইংরেজি ক্লাস, একাডেমিক সহায়তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে পারেন। তবে টেম্পল ইউনিভার্সিটির সরাসরি স্নাতক ভর্তির জন্য নির্দিষ্ট ইংরেজি দক্ষতার স্কোর রয়েছে। তাই “আইইএলটিএস ছাড়া ভর্তি” বলতে এখানে সরাসরি ডিগ্রি ক্লাসে ঢুকে যাওয়া নয়; বরং অস্থায়ী বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তি এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার সুযোগকে বোঝায়। ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা, আলাবামা আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য শর্তসাপেক্ষ ভর্তির ব্যবস্থা রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী একাডেমিক ভর্তির শর্ত পূরণ করেন কিন্তু ইংরেজি ভাষা দক্ষতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেন না, তারা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ব্যবস্থায় আবেদনের সময় ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। শর্তসাপেক্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন। প্রয়োজনীয় ইংরেজি দক্ষতা অর্জনের পর তারা ডিগ্রি প্রোগ্রামে যেতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউটের ছয়টি স্তর রয়েছে। শিক্ষার্থীর শুরুতে থাকা ইংরেজি দক্ষতা এবং শেখার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে প্রোগ্রাম শেষ করতে কত সময় লাগবে তা নির্ধারিত হয়। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ষষ্ঠ স্তর সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট ফলাফল অর্জন করাও ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণের একটি স্বীকৃত পথ। তবে শর্তসাপেক্ষ ভর্তি পেতে শুধু ইংরেজি ভাষার শর্ত পূরণ করলেই হবে না। একাডেমিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে। আইইএলটিএস বা টোফেল একেবারেই লাগবে না? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বুঝতে হবে। “আইইএলটিএস বা টোফেল ছাড়াই” কথাটির অর্থ ইংরেজি দক্ষতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে শিক্ষার্থীর ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা, দক্ষতা পরীক্ষা বা ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম ব্যবহার করা হতে পারে। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্তসাপেক্ষ ভর্তি নিয়ে প্রথমে নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করতে হয়। অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও বিকল্প পথে ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার সুযোগ থাকতে পারে। এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর থাকলে সেটি অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ভর্তি বা ভাষার স্তর নির্ধারণের কাজে ব্যবহার করা যায়। তাই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয় বলে আইইএলটিএস বা টোফেল সব পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয়, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এফ-১ ভিসা ও আই-২০-এর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি হওয়া বা আই-২০ পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী ভিসা নিশ্চিত নয়। এফ-১ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই-২০ পাওয়ার পর সেভিস প্রক্রিয়া, ভিসা আবেদন এবং সাক্ষাৎকারের ধাপ রয়েছে। কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য আই-২০ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখে। তবে আই-২০ পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ভিসা সাক্ষাৎকারে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার উদ্দেশ্য, নির্বাচিত প্রোগ্রাম, শিক্ষার খরচ বহনের সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে। তাই আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকলেও ইংরেজিতে নিজের পড়াশোনার পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার মতো প্রস্তুতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। খরচ ও একাডেমিক যোগ্যতাও দেখতে হবে আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকার কারণে শুধু ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি হলেই যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা নিশ্চিত হয়ে যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে একাডেমিক যোগ্যতা, একাডেমিক সনদ ও নম্বরপত্র, আর্থিক সক্ষমতা, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য কাগজপত্রের শর্ত থাকতে পারে। এ ছাড়া নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য আলাদা শিক্ষার ফি ও অন্যান্য খরচ থাকতে পারে। শর্তসাপেক্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার আগে কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় ইংরেজি শেখার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম আলাদা। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার অষ্টম স্তর, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের ষষ্ঠ স্তর, ইউনিভার্সিটি অব আলাবামার ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউট এবং কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের শর্ত এক নয়। টেম্পল ইউনিভার্সিটিতেও অস্থায়ী ভর্তি ও ইংরেজি প্রস্তুতি কার্যক্রমের আলাদা নিয়ম রয়েছে। তাই এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম ও শর্তসাপেক্ষ ভর্তি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প পথ তৈরি করে। তবে এগুলোকে আইইএলটিএস বা টোফেলের “বিকল্প পরীক্ষা” হিসেবে নয়, বরং ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের বিকল্প ভর্তি-পথ হিসেবে দেখা উচিত। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ভর্তি নীতি, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার ফি, আর্থিক যোগ্যতা এবং এফ-১ ভিসাসংক্রান্ত নির্দেশনা অবশ্যই যাচাই করা উচিত। ভর্তি ও ইংরেজি ভাষার শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
সৌদি পাঠ্যবই থেকে বাদ ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি
ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমায় পিএইচডিতে ফুল ফান্ডিং, পরিবার নিয়েও যাওয়ার বড় সুযোগ
বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা
মাত্র তিন দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর সাড়ে তিন বছরেও কর্মস্থলে ফেরেননি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নেননি তিনি। দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২২ আগস্ট থেকে তিন দিনের ছুটি নেন জিল্লুর রহমান। পরদিন ২৩ আগস্ট তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন। এরপর আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার পদটি এখনো শূন্য ঘোষণা করা হয়নি। এর আগেও ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন জিল্লুর রহমান। সে সময় বিদ্যালয় থেকে দুই মাসের ছুটি নিলেও প্রায় পাঁচ মাস চার দিন পর দেশে ফেরেন বলে বিদ্যালয় সূত্রের দাবি। ওই সফরের ক্ষেত্রেও বিদেশ যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশে ফেরার পর তিনি সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন বলেও বিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে। প্রধান শিক্ষকের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাদের ভাষ্য, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকলে শুধু দাপ্তরিক কাজ নয়, শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনাতেও এর প্রভাব পড়ে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা ফারুকী জানিয়েছেন, জিল্লুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তিনি কবে দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগ দেবেন, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নতুন নয়। ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন দাশ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। বর্তমান রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউসার জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশে যেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। জিল্লুর রহমান সেই অনুমতি নেননি বলে তাদের কাছে থাকা তথ্যে জানা গেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র মিত্রও জানিয়েছেন, চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া এভাবে বিদেশে অবস্থানের সুযোগ নেই। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জিল্লুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমি ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর আগের এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষকসহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক পদে শূন্যতা এবং প্রশাসনিক সংকটের কথাও উঠে এসেছিল।
২৬ আগস্ট কানাডায় ২ হাজার ৯৭০ স্টাডি পারমিটের নতুন কোটা, সুযোগ ৩৩ দেশের ফ্রেঞ্চভাষীদের
কাজের অনুমতি দাবিতে ক্যালগেরিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ১২ জনকে নিয়ে নতুন অভিবাসন শঙ্কা