বিনোদন

'ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল আত্মহত্যার কথা মাথায় এসেছিল', ব্র্যাড পিটের স্বীকারোক্তি

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ৮:১৮
'ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল আত্মহত্যার কথা মাথায় এসেছিল', ব্র্যাড পিটের স্বীকারোক্তি
'ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল আত্মহত্যার কথা মাথায় এসেছিল', ব্র্যাড পিটের স্বীকারোক্তি

হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট জানিয়েছেন, জীবনের এক কঠিন সময়ে পারিবারিক সংকটের কারণে মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে আত্মহত্যাকে তিনি সাময়িকভাবে ‘স্বস্তির পথ’ হিসেবে বুঝতে পেরেছিলেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। 

 

সোমবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ৬২ বছর বয়সী এই অভিনেতা নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। পিট জানান, ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল যে আত্মহত্যার চিন্তার সঙ্গে নিজেকে পরিচিত মনে হচ্ছিল। তবে তাঁর বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছা এবং আশাবাদী মানসিকতা তাঁকে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে। 

পিটের এই বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর সাবেক স্ত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও সন্তানদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। জোলির সঙ্গে তাঁদের বিচ্ছেদ ২০১৬ সালে শুরু হলেও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। তাঁদের ছয় সন্তান রয়েছে। 

সন্তানদের সঙ্গে পিটের সম্পর্কও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ দূরত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁদের কয়েকজন সন্তান ইতোমধ্যে পিটের পদবি ব্যবহার করা বন্ধ করেছেন। শিলোর পদবি পরিবর্তনের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং জাহারা ও ম্যাডক্সের ক্ষেত্রেও এ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

সাক্ষাৎকারে পিট তাঁর মায়ের মৃত্যুর প্রভাবের কথাও বলেন। তাঁর মা জেন পিট ২০২৫ সালের আগস্টে মারা যান। পারিবারিক দূরত্ব, মায়ের মৃত্যু এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা পরিবর্তন মিলিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলো তাঁর জন্য বেশ কঠিন ছিল বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। 

 

 

পিট আরও জানান, সাত বছর মদ্যপান থেকে দূরে থাকার পর তিনি আবার পান করা শুরু করেছেন। তবে এখন তিনি আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক থাকার চেষ্টা করেন। অতীতে মদ্যপান থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাসের সহায়তা এবং অভিনেতা ব্র্যাডলি কুপারের সমর্থনের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। 

অ্যাঞ্জেলিনা জোলিও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের সন্তানদের নিয়ে কথা বলেছেন। জুনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সন্তানরা তাঁকে জীবনের কঠিন সময় পার হতে সহায়তা করেছে এবং তাঁর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে ভূমিকা রেখেছে। 

 

তবে পিটের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তিনি আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন এমন দাবি করেননি। বরং তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আত্মহত্যাকে কেন কেউ স্বস্তির পথ মনে করতে পারে, সেই অনুভূতির কথা বলেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিনোদন

View more
'ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল আত্মহত্যার কথা মাথায় এসেছিল', ব্র্যাড পিটের স্বীকারোক্তি
'ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল আত্মহত্যার কথা মাথায় এসেছিল', ব্র্যাড পিটের স্বীকারোক্তি

হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট জানিয়েছেন, জীবনের এক কঠিন সময়ে পারিবারিক সংকটের কারণে মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে আত্মহত্যাকে তিনি সাময়িকভাবে ‘স্বস্তির পথ’ হিসেবে বুঝতে পেরেছিলেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা তাঁর ছিল না।    সোমবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ৬২ বছর বয়সী এই অভিনেতা নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। পিট জানান, ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল যে আত্মহত্যার চিন্তার সঙ্গে নিজেকে পরিচিত মনে হচ্ছিল। তবে তাঁর বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছা এবং আশাবাদী মানসিকতা তাঁকে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে।  পিটের এই বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর সাবেক স্ত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও সন্তানদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। জোলির সঙ্গে তাঁদের বিচ্ছেদ ২০১৬ সালে শুরু হলেও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। তাঁদের ছয় সন্তান রয়েছে।  সন্তানদের সঙ্গে পিটের সম্পর্কও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ দূরত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁদের কয়েকজন সন্তান ইতোমধ্যে পিটের পদবি ব্যবহার করা বন্ধ করেছেন। শিলোর পদবি পরিবর্তনের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং জাহারা ও ম্যাডক্সের ক্ষেত্রেও এ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  সাক্ষাৎকারে পিট তাঁর মায়ের মৃত্যুর প্রভাবের কথাও বলেন। তাঁর মা জেন পিট ২০২৫ সালের আগস্টে মারা যান। পারিবারিক দূরত্ব, মায়ের মৃত্যু এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা পরিবর্তন মিলিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলো তাঁর জন্য বেশ কঠিন ছিল বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।      পিট আরও জানান, সাত বছর মদ্যপান থেকে দূরে থাকার পর তিনি আবার পান করা শুরু করেছেন। তবে এখন তিনি আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক থাকার চেষ্টা করেন। অতীতে মদ্যপান থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাসের সহায়তা এবং অভিনেতা ব্র্যাডলি কুপারের সমর্থনের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।  অ্যাঞ্জেলিনা জোলিও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের সন্তানদের নিয়ে কথা বলেছেন। জুনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সন্তানরা তাঁকে জীবনের কঠিন সময় পার হতে সহায়তা করেছে এবং তাঁর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে ভূমিকা রেখেছে।    তবে পিটের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তিনি আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন এমন দাবি করেননি। বরং তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আত্মহত্যাকে কেন কেউ স্বস্তির পথ মনে করতে পারে, সেই অনুভূতির কথা বলেছেন।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ৮:১৮
ইসলাম ধর্মে শান্তি খুজে পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন ভারতীয় অভিনেত্রী দীপিকা

ইসলাম ধর্মে শান্তি খুজে পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন ভারতীয় অভিনেত্রী দীপিকা

কানিয়ের সঙ্গে সংসার করা ছিল দুঃসহ, হুটহাট আমার ল্যাম্বরগিনিগুলো মানুষকে দিয়ে দিত

কানিয়ের সঙ্গে সংসার করা ছিল দুঃসহ, হুটহাট আমার ল্যাম্বরগিনিগুলো মানুষকে দিয়ে দিত

লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম যখন গিয়েছিলাম, তখন বাসাভাড়া দেওয়ার মতো টাকাও ছিল না

লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম যখন গিয়েছিলাম, তখন বাসাভাড়া দেওয়ার মতো টাকাও ছিল না

দক্ষিণ ফ্রান্সে নৌভ্রমণের সময় ক্যাটি পেরি ও জাস্টিন ট্রুডো। ছবি: সংগৃহীত
নৌভ্রমণে ক্যাটি পেরির বুকে সানস্ক্রিন মেখে দিলেন জাস্টিন ট্রুডো, ফ্রান্সে ধরা পড়ল প্রেমের অন্য রূপ

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পপ তারকা ক্যাটি পেরি এবং কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর দক্ষিণ ফ্রান্সে একসঙ্গে অবকাশযাপনের নতুন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নৌভ্রমণের সময় দুজনের আন্তরিক মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হওয়ার পর সেসব ছবি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।   ডেইলি এক্সপ্রেস ইউএসসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্ধুদের সঙ্গে নৌভ্রমণে বেরিয়েছিলেন এই তারকা জুটি। সে সময় ক্যাটি পেরিকে রোদ থেকে সুরক্ষিত রাখতে তার শরীরে সানস্ক্রিন মাখিয়ে দিতে দেখা যায় জাস্টিন ট্রুডোকে। নৌকায় বসে দুজনকে স্বাভাবিক ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ সময় কাটাতে, একসঙ্গে ছবি তুলতে এবং আলাপচারিতায় মগ্ন থাকতে দেখা গেছে।   সেদিন ক্যাটি পেরির পরনে ছিল হালকা নীলাভ-সবুজ রঙের পোশাক। এর সঙ্গে তিনি পরেছিলেন ক্যাট-আই সানগ্লাস, সোনালি কানের দুল ও স্যান্ডেল। অন্যদিকে ট্রুডোকে দেখা যায় জলপাই রঙের শার্ট, খয়েরি প্যান্ট ও আরামদায়ক জুতা পরিহিত অবস্থায়।   এই অবকাশযাপনকে অনেকেই তাদের সম্পর্কের এক বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে দেখছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কানাডার মন্ট্রিয়ালে প্রথমবার একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর তাদের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে জাপানের টোকিও সফরের ছবি প্রকাশের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ক্যাটি পেরি। এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও জনসমক্ষে একাধিকবার একসঙ্গে উপস্থিত হয়েছেন তারা।   গত মাসে নিউইয়র্কের ট্রিবেকা চলচ্চিত্র উৎসবে ক্যাটি পেরির কনসার্টভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ক্যাটি পেরি: দ্য লাইফটাইমস ট্যুর, লাইভ ফ্রম প্যারিস’-এর প্রিমিয়ারেও একসঙ্গে অংশ নেন তারা। সেই অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে ট্রুডোকে নিজের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ বলে উল্লেখ করেন পেরি। তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি দিন নতুন কিছু শেখার সুযোগ এনে দেয় এবং এই সম্পর্ক তাকে আরও স্থির ও পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।   পেরি আরও জানান, ২০২৫ সালে দীর্ঘ সময় ধরে চলা তার ‘লাইফটাইমস ট্যুর’ শেষ করার পর তিনি নিজেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ অনুভব করছেন। তার ভাষায়, জীবনের বিশেষ একজন মানুষের উপস্থিতি তাকে মানসিকভাবে দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে এবং সেটি তার ব্যক্তিগত জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।   অন্যদিকে, ট্রুডো বর্তমানে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে নেই। দায়িত্ব ছাড়ার পর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগের তুলনায় বেশি সময় দিচ্ছেন তিনি। ক্যাটি পেরির সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যমে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে দুজনই খুব সীমিত মন্তব্য করেছেন।   দক্ষিণ ফ্রান্সে তাদের সাম্প্রতিক নৌভ্রমণের ছবিগুলো প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভক্তদের একাংশ তাদের নতুন ছবিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করলেও, অনেকেই তারকা এই জুটির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২০:৫৫
নাম থেকে বাবার পদবি বাদ দেওয়ায় টম ক্রুজের সঙ্গে মেয়ে সুরির দীর্ঘদিনের দূরত্ব নিয়ে ফের আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

কেন বাবার পদবি বাদ দিলেন টম ক্রুজের মেয়ে? বাবা-মেয়ের দূরত্ব নিয়ে যা জানা গেছে

বাবার সাথে সম্পর্ক ছেদ করলেন টম ক্রুজের মেয়ে

বাবার সাথে সম্পর্ক ছেদ করলেন টম ক্রুজের মেয়ে, নথিতে এখন নতুন পরিচয়

এক্সে অবৈধভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় ‘দ্য ওডিসি’র পাইরেটেড কপি। ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ ফাঁস, তিন ঘণ্টার কম সময়েই লাখ লাখ ভিউ

ইলন মাস্ক ও সঙ্গী শিভন জিলিস
'আমার সঙ্গী ভারতীয়' ছেলের নাম শেখর, রেসিজম ও মুসলিমবিদ্বেষীর অভিযোগে জবাব দিলেন ইলন মাস্ক

বর্ণবাদ ও মুসলিমবিদ্বেষের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজের সঙ্গীর ভারতীয় বংশপরিচয় এবং তাঁদের সন্তানদের উদাহরণ সামনে এনেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গী শিভন জিলিস অর্ধেক ভারতীয় এবং তাঁদের চার সন্তান রয়েছে। এ কারণেই নিজেকে বর্ণবাদী বলা ঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।  বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, তাঁদের এক সন্তানের নাম রাখা হয়েছে বিখ্যাত ভারতীয় বংশোদ্ভূত পদার্থবিজ্ঞানী সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখরের সম্মানে। নোবেলজয়ী এই বিজ্ঞানীর নাম অনুসারে মাস্ক ও জিলিসের যমজ ছেলেদের একজনের মধ্যনাম রাখা হয়েছে ‘সেখর’। নিজের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রসঙ্গও তুলে ধরে মাস্ক দাবি করেন, তাঁর কোম্পানিগুলোর শীর্ষ পদে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ কাজ করছেন এবং সেখানে বর্ণবাদের কোনো উপস্থিতি তিনি দেখেন না।      টেক্সাসে টেসলার একটি কারখানায় ধারণ করা প্রায় ৯০ মিনিটের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দ্য ইকোনমিস্টের প্রধান সম্পাদক জ্যানি মিন্টন বেডোস। ইউরোপের অভিবাসন, মুসলিম জনগোষ্ঠী ও উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে মাস্কের ধারাবাহিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, এসব বক্তব্য বর্ণবাদী বা মুসলিমবিদ্বেষী কি না।  যুক্তরাজ্য নিয়ে আগের সতর্কবার্তা পুনর্ব্যক্ত করে মাস্ক বলেন, পশ্চিমা মূল্যবোধের বিরোধী বিশ্বাস ধারণকারী কোনো জনগোষ্ঠী দ্রুত বাড়তে থাকলে একসময় সেখানে বড় ধরনের সংঘাত বা ‘হিসাব-নিকাশের পরিস্থিতি’ তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, কয়েক বছর ধরে তিনি যুক্তরাজ্যে যাননি। এর আগে তিনি দেশটিতে ভবিষ্যতে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।    সাক্ষাৎকারে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়, তিনি মুসলিমবিদ্বেষী কি না। জবাবে মাস্ক স্পষ্টভাবে হ্যাঁ বা না বলেননি। তিনি বলেন, ধর্ষণ ও হত্যার বিরোধিতা করেন এবং পশ্চিমা বিশ্বে প্রচলিত আইন ও মূল্যবোধের বিপরীত কোনো বিধান চাপিয়ে দেওয়ারও বিরোধী। ইউরোপের যেসব রাজনৈতিক শক্তিকে সংবাদমাধ্যম ‘উগ্র ডানপন্থী’ হিসেবে বর্ণনা করে, তাদের তিনি নিরাপদ শহর, সুরক্ষিত সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রিত সরকারি ব্যয়ের দাবি তোলা ‘স্বাভাবিক মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।  মাস্কের বর্ণবাদবিরোধী এই আত্মপক্ষসমর্থন নতুন নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন বিনিয়োগকারী বিনোদ খোসলা তাঁকে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মনোভাব ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করলে মাস্ক একইভাবে শিভন জিলিসের ভারতীয় পরিচয় ও তাঁদের সন্তানের নামের উদাহরণ দিয়েছিলেন। জবাবে খোসলা বলেছিলেন, পরিবারের পরিচয় সামনে না এনে মাস্কের এমন বক্তব্য প্রকাশ করা এড়িয়ে চলা উচিত, যেগুলো মানুষের কাছে বর্ণবাদী বলে মনে হতে পারে।      মাস্ক অতীতে শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী বিশ্বে দ্রুত সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে বলে একাধিকবার মন্তব্য করেছেন। তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিবাসন, জাতিগত পরিচয় ও ইউরোপের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মাস্ক অবশ্য বরাবরই বর্ণবাদ, ইহুদিবিদ্বেষ ও সহিংসতার সমর্থক হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। একই সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও কথা বলেন মাস্ক। তিনি স্বীকার করেন, রাজনীতিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং কিছুটা ‘মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন’। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সম্মিলিত মানববুদ্ধিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেন তিনি।

Unknown প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ২২:১৯
মেগান ফক্স ও ব্রায়ান অস্টিন গ্রিন তাদের দাম্পত্য জীবনের একটি পুরোনো অনুষ্ঠানে। ছবি: সংগৃহীত

‘শুধু শারীরিক আকর্ষণ দিয়ে সম্পর্ক টেকে না’, মেগান ফক্সের সঙ্গে সংসার ভাঙার আসল কারণ জানালেন ব্রায়ান

জুরাসিক পার্ক’খ্যাত অভিনেতা স্যাম নিল।  ছবি: সংগৃহীত

জুরাসিক পার্ক’খ্যাত অভিনেতা স্যাম নিল ৭৮ বছর বয়সে মারা গেলেন, শোক বিশ্ব চলচ্চিত্রে

পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে ব্যস্ত নগরজীবন ছেড়ে শান্ত পরিবেশ বেছে নিয়েছেন আলি লার্টার। ছবি: সংগৃহীত

হলিউডের কোলাহলপূর্ণ জীবন ছেড়ে এখন পরিবারকেই সবচেয়ে বেশি সময় দিচ্ছেন ‘ল্যান্ডম্যান’ তারকা

0 Comments