সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিনোদন

‘পা হারিয়ে ১০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি!’ রিয়েলিটি শো প্রযোজকদের বিরুদ্ধে মামলা

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১০:৩৭
ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাঁ পা হারানোর পর অনুষ্ঠানটির প্রযোজকদের বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন প্রতিযোগী স্তাভরোস ফ্লোরোস। ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাঁ পা হারানোর পর অনুষ্ঠানটির প্রযোজকদের বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন প্রতিযোগী স্তাভরোস ফ্লোরোস। ছবি: সংগৃহীত

‘সারভাইভার গ্রিস’ রিয়েলিটি শোর প্রতিযোগী স্তাভরোস ফ্লোরোস শুটিংয়ের বিরতিতে মাছ শিকার করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাঁ পা হারানোর পর অনুষ্ঠানটির প্রযোজকদের বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন। ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রের সাওনা দ্বীপের কাছে সমুদ্রে মাছ শিকার করার সময় একটি পর্যটকবাহী নৌকার পাখা তার শরীরে আঘাত করে। এতে তার বাঁ পা হাঁটুর ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে মামলায় দাবি করেছেন তিনি।

 

দুর্ঘটনাটি ঘটে শুটিংয়ের বিরতির সময়। ফ্লোরোস তখন সমুদ্রে মাছ শিকার করছিলেন। তার দাবি, প্রতিযোগীদের মাছ শিকারে অভ্যস্ত করে তোলা হয়েছিল এবং যে এলাকায় তারা মাছ শিকার করতেন, সেখানে পর্যটকবাহী নৌকার চলাচল ছিল বেশি। তার অভিযোগ, এই ঝুঁকি সম্পর্কে প্রযোজকেরা জানতেন। এরপরও প্রতিযোগীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

 

ফ্লোরোসের অভিযোগ, মাছ শিকারের জন্য ব্যবহৃত ওই সমুদ্র এলাকায় নিরাপত্তা নৌকা, সুরক্ষিত এলাকা কিংবা পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক চিহ্নের ব্যবস্থা ছিল না। তিনি আরও দাবি করেছেন, ওই জলসীমায় এর আগেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং সেখানে একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল। এসব বিষয় জানা থাকা সত্ত্বেও প্রযোজকেরা প্রতিযোগীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি বলে তিনি মামলায় অভিযোগ করেছেন।

 

দুর্ঘটনার সময় একটি পর্যটকবাহী নৌকার পাখা ফ্লোরোসের শরীরে আঘাত করে। তার মামলার নথি অনুযায়ী, এতে তার বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সমুদ্রে পড়ে যাওয়া পাটি পরে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি দাবি করেছেন। দুর্ঘটনার পর একটি পর্যটকবাহী নৌকায় থাকা এক অপরিচিত ব্যক্তি তার ক্ষতস্থানে রক্তপাত বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা নেন। ফ্লোরোসের দাবি, ওই ব্যক্তি টুর্নিকেট প্রয়োগ না করলে তিনি বেঁচে থাকতে নাও পারতেন।

 

দুর্ঘটনার পর ফ্লোরোসকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে মিয়ামির একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয়। দুর্ঘটনার পর মোট ৬১ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শারীরিক পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

 

ফ্লোরোসের মামলায় আরও বলা হয়েছে, মাছ শিকারকে অনুষ্ঠানটির প্রতিযোগীদের জীবনের একটি অংশ হিসেবে রাখা হয়েছিল। সে কারণে প্রতিযোগীদের এমন উন্মুক্ত জলসীমায় যেতে হতো, যেখানে পর্যটকবাহী নৌযানের চলাচল ছিল। তার অভিযোগ, প্রতিযোগীদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল নির্ধারণ, নিরাপত্তা নৌকা রাখা কিংবা নৌযান চলাচলের বিষয়ে সতর্কতামূলক চিহ্ন স্থাপনের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

ফ্লোরোসের দাবি, দুর্ঘটনার আগে ওই জলসীমায় নৌযানের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রযোজনা কর্তৃপক্ষের জানা ছিল। তারপরও তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। মামলায় তিনি এই নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতিকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং এর জন্য প্রযোজকদের দায়ী করেছেন।

 

তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আকুনমেদিয়া দুর্ঘটনার পর ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি রিয়েলিটি শোর প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে নয়, বরং প্রতিযোগিতার বাইরে মাছ শিকার করার সময় ঘটেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পর্যটকবাহী নৌকা মাছ শিকাররত অবস্থায় ফ্লোরোসকে আঘাত করে।

 

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই আহত প্রতিযোগীকে সহায়তা করা এবং নিরাপদে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে বলেও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

 

দুর্ঘটনার পর অনুষ্ঠানটির চলতি মৌসুমের শুটিং বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ফ্লোরোস হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি শারীরিক পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে থাকেন। গ্রিসে ফিরে আসার পরও তিনি নিজের শারীরিক অবস্থার বিভিন্ন আপডেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। সেখানে তাকে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে দেখা গেছে।

 

ফ্লোরোস এখন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। মামলায় তিনি দুর্ঘটনার কারণে নিজের পা হারানো, দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে প্রতিযোগীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকার অভিযোগও করেছেন।

 

তবে ফ্লোরোসের করা এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দুর্ঘটনার পর দ্রুত সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদন্তের কথা উল্লেখ করেছে। ফলে মামলাটিতে প্রযোজকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার দায় নিয়ে ফ্লোরোসের অভিযোগগুলো এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচাই হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিনোদন

View more
ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাঁ পা হারানোর পর অনুষ্ঠানটির প্রযোজকদের বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন প্রতিযোগী স্তাভরোস ফ্লোরোস। ছবি: সংগৃহীত
‘পা হারিয়ে ১০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি!’ রিয়েলিটি শো প্রযোজকদের বিরুদ্ধে মামলা

‘সারভাইভার গ্রিস’ রিয়েলিটি শোর প্রতিযোগী স্তাভরোস ফ্লোরোস শুটিংয়ের বিরতিতে মাছ শিকার করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাঁ পা হারানোর পর অনুষ্ঠানটির প্রযোজকদের বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন। ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রের সাওনা দ্বীপের কাছে সমুদ্রে মাছ শিকার করার সময় একটি পর্যটকবাহী নৌকার পাখা তার শরীরে আঘাত করে। এতে তার বাঁ পা হাঁটুর ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে মামলায় দাবি করেছেন তিনি।   দুর্ঘটনাটি ঘটে শুটিংয়ের বিরতির সময়। ফ্লোরোস তখন সমুদ্রে মাছ শিকার করছিলেন। তার দাবি, প্রতিযোগীদের মাছ শিকারে অভ্যস্ত করে তোলা হয়েছিল এবং যে এলাকায় তারা মাছ শিকার করতেন, সেখানে পর্যটকবাহী নৌকার চলাচল ছিল বেশি। তার অভিযোগ, এই ঝুঁকি সম্পর্কে প্রযোজকেরা জানতেন। এরপরও প্রতিযোগীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।   ফ্লোরোসের অভিযোগ, মাছ শিকারের জন্য ব্যবহৃত ওই সমুদ্র এলাকায় নিরাপত্তা নৌকা, সুরক্ষিত এলাকা কিংবা পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক চিহ্নের ব্যবস্থা ছিল না। তিনি আরও দাবি করেছেন, ওই জলসীমায় এর আগেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং সেখানে একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল। এসব বিষয় জানা থাকা সত্ত্বেও প্রযোজকেরা প্রতিযোগীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি বলে তিনি মামলায় অভিযোগ করেছেন।   দুর্ঘটনার সময় একটি পর্যটকবাহী নৌকার পাখা ফ্লোরোসের শরীরে আঘাত করে। তার মামলার নথি অনুযায়ী, এতে তার বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সমুদ্রে পড়ে যাওয়া পাটি পরে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি দাবি করেছেন। দুর্ঘটনার পর একটি পর্যটকবাহী নৌকায় থাকা এক অপরিচিত ব্যক্তি তার ক্ষতস্থানে রক্তপাত বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা নেন। ফ্লোরোসের দাবি, ওই ব্যক্তি টুর্নিকেট প্রয়োগ না করলে তিনি বেঁচে থাকতে নাও পারতেন।   দুর্ঘটনার পর ফ্লোরোসকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে মিয়ামির একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয়। দুর্ঘটনার পর মোট ৬১ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শারীরিক পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।   ফ্লোরোসের মামলায় আরও বলা হয়েছে, মাছ শিকারকে অনুষ্ঠানটির প্রতিযোগীদের জীবনের একটি অংশ হিসেবে রাখা হয়েছিল। সে কারণে প্রতিযোগীদের এমন উন্মুক্ত জলসীমায় যেতে হতো, যেখানে পর্যটকবাহী নৌযানের চলাচল ছিল। তার অভিযোগ, প্রতিযোগীদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল নির্ধারণ, নিরাপত্তা নৌকা রাখা কিংবা নৌযান চলাচলের বিষয়ে সতর্কতামূলক চিহ্ন স্থাপনের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।   ফ্লোরোসের দাবি, দুর্ঘটনার আগে ওই জলসীমায় নৌযানের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রযোজনা কর্তৃপক্ষের জানা ছিল। তারপরও তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। মামলায় তিনি এই নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতিকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং এর জন্য প্রযোজকদের দায়ী করেছেন।   তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আকুনমেদিয়া দুর্ঘটনার পর ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি রিয়েলিটি শোর প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে নয়, বরং প্রতিযোগিতার বাইরে মাছ শিকার করার সময় ঘটেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পর্যটকবাহী নৌকা মাছ শিকাররত অবস্থায় ফ্লোরোসকে আঘাত করে।   প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই আহত প্রতিযোগীকে সহায়তা করা এবং নিরাপদে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে বলেও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।   দুর্ঘটনার পর অনুষ্ঠানটির চলতি মৌসুমের শুটিং বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ফ্লোরোস হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি শারীরিক পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে থাকেন। গ্রিসে ফিরে আসার পরও তিনি নিজের শারীরিক অবস্থার বিভিন্ন আপডেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। সেখানে তাকে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে দেখা গেছে।   ফ্লোরোস এখন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। মামলায় তিনি দুর্ঘটনার কারণে নিজের পা হারানো, দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে প্রতিযোগীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকার অভিযোগও করেছেন।   তবে ফ্লোরোসের করা এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দুর্ঘটনার পর দ্রুত সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদন্তের কথা উল্লেখ করেছে। ফলে মামলাটিতে প্রযোজকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার দায় নিয়ে ফ্লোরোসের অভিযোগগুলো এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচাই হবে।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১০:৩৭
অভিনয় থেকে বিরতি নিয়ে চাষাবাদে বরুণ ধাওয়ান

অভিনয় থেকে বিরতি নিয়ে চাষাবাদে বরুণ ধাওয়ান, নতুন খেতে ধান রোপণে ব্যস্ত

গায়ক বাদশাহ এবং পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখি

গোপনে বিয়ের পাঁচ মাসেই বিচ্ছেদ, ভেঙে গেল বাদশাহ-ইশার সংসার

সাপের কামড়ের পর প্রাণ বাঁচাতে নিজের তর্জনী কেটে ফেলেন

সাপের কামড়ে বিষ ছড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে কেটে ফেললেন আঙুল! পরে জানলেন শাপটি বিষধর ছিল না

ব্রিটিশ গায়ক হ্যারি ট্যাপের ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা, বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’
ব্রিটিশ গায়ক হ্যারি ট্যাপের ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা, বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’

ব্রিটিশ গায়ক ও সংগীত প্রযোজক হ্যারি ট্যাপ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ২০২৬ সালের জুনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে অনুসারীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।”    ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার পর হ্যারি ট্যাপ তার প্রতি ভালোবাসা, সমর্থন ও ইতিবাচক বার্তা পাঠানো মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, এতটা সমর্থন পাবেন বলে তিনি আশা করেননি।    তবে ইসলাম গ্রহণের পেছনের ব্যক্তিগত কারণ বা তার আধ্যাত্মিক যাত্রার বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করতে চান না এই সংগীতশিল্পী। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে হয়তো নিজের ইসলাম গ্রহণের গল্প বিস্তারিতভাবে শেয়ার করবেন। আপাতত বিষয়টি ব্যক্তিগত রাখতেই চান তিনি।    তার ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা আসে। হ্যারি ট্যাপের ইসলাম গ্রহণের খবরটি পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও আলোচনায় আসে।   হ্যারি ট্যাপের পরিচিতি মূলত সংগীতশিল্পী ও প্রযোজক হিসেবে। তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি তিনি নিজেই প্রকাশ্যে নিশ্চিত করায় এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের যাত্রা সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো তথ্য তিনি এখনো প্রকাশ করেননি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১১:১৩
ডাক্তার বলেছিল,এই ওজন খুব শীঘ্রই কবরে নিয়ে যাবে! ৪১ বছর বয়সে মিস ইউএসএ মঞ্চে অ্যাম্বার উহলার,

ডাক্তার বলেছিল,এই ওজন খুব শীঘ্রই কবরে নিয়ে যাবে! ৪১ বছর বয়সে মিস ইউএসএ মঞ্চে অ্যাম্বার উহলার,

হলিউডে পরিচিতি পাওয়ার আগে অর্থকষ্টের সময় থেকে মস্তিষ্কের টিউমারের কঠিন দিন, মার্ক রাফালোর পাশে ছিলেন স্ত্রী সানরাইজ কইগনি। ছবি: সংগৃহীত

হলিউডে সাফল্যের আগে অর্থকষ্ট, মস্তিষ্কে টিউমার, মার্ক রাফালোর কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন স্ত্রী

বাবা চার্লস চ্যান ও মা লি-লি চ্যানের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্তে হলিউডের অ্যাকশন তারকা জ্যাকি চ্যান। ছবি: সংগৃহীত

জ্যাকির বাবা ছিলেন স্পাই, মা জড়িত ছিলেন আফিম পাচারে, তাদের প্রেম হয়েছিল অ্যারেস্ট হওয়ার পর

পুরো ফিল্ম ক্যারিয়ারের এক বছরের চেয়েও ইউটিউব থেকে বেশি আয় ফারাহ খানের
পুরো ফিল্ম ক্যারিয়ারের এক বছরের চেয়েও ইউটিউব থেকে বেশি আয় ফারাহ খানের

বলিউডের পরিচালক ও কোরিওগ্রাফার ফারাহ খান জানিয়েছেন, ইউটিউব থেকে এক বছরে তিনি যে পরিমাণ আয় করেছেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কোনো এক বছরেও এত অর্থ উপার্জন করতে পারেননি। ২০২৪ সালে শুরু করা তাঁর রান্না ও লাইফস্টাইলভিত্তিক ভ্লগ এখন শুধু জনপ্রিয়তাই নয়, বড় আয়ের উৎসও হয়ে উঠেছে।   সোহা আলি খানের সঙ্গে এক সাম্প্রতিক আলাপচারিতায় ফারাহ তাঁর ইউটিউব যাত্রা ও আয়ের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, নতুন সিনেমার কাজ শুরু হতে সময় লাগবে বুঝতে পেরে দলের পরামর্শে ইউটিউব চ্যানেল শুরু করেন। খাবার নিয়ে কনটেন্ট তৈরির পরিকল্পনা থেকেই পরে তাঁর দীর্ঘদিনের কুক দিলীপকে ভিডিওতে যুক্ত করেন।   দিলীপকে যুক্ত করার পরই বদলে যায় চ্যানেলের চিত্র। ফারাহর সঙ্গে তাঁর স্বাভাবিক কথাবার্তা, রসিকতা ও রান্নার ভিডিও দর্শকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এমনকি দ্বিতীয় ভ্লগ প্রকাশের পরই ফারাহ ইউটিউবের সিলভার প্লে বাটন পান, যা ১ লাখ সাবস্ক্রাইবার পূর্ণ করার স্বীকৃতি।   ফারাহ জানিয়েছেন, ইউটিউবের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো সৃজনশীল স্বাধীনতা। সিনেমা, টেলিভিশন বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মতো এখানে কোনো প্রডাকশন হাউস বা চ্যানেলকে কনটেন্টের ধরন কিংবা অতিথি বাছাই নিয়ে নির্দেশনা দিতে হয় না। নিজের চ্যানেলে নিজের পছন্দমতো কনটেন্ট তৈরি করতে পারছেন তিনি।   এই স্বাধীনতার পাশাপাশি ইউটিউব তাঁকে আর্থিকভাবেও চমকে দিয়েছে। ফারাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ফিল্মে বহু সিনেমা পরিচালনা করেও ক্যারিয়ারের কোনো এক বছরে তিনি ইউটিউব থেকে পাওয়া এক বছরের আয়ের মতো অর্থ উপার্জন করেননি।   ফারাহর এই ডিজিটাল সাফল্যের সঙ্গে তাঁর কুক দিলীপের জীবনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ফারাহ জানিয়েছেন, ইউটিউব থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ দিয়ে তিনি দিলীপের ঋণ পরিশোধে সহায়তা করেছেন এবং তাঁর সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করছেন।   রান্নার ভিডিও, তারকাদের সঙ্গে আড্ডা এবং দিলীপের সঙ্গে মজার কথোপকথন মিলিয়ে ফারাহ খানের ইউটিউব চ্যানেল এখন তাঁর ফিল্ম ক্যারিয়ারের বাইরে আলাদা একটি পরিচয় তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়েছে, বিনোদন জগতের পরিচিত মুখের জন্যও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নতুন ধরনের সৃজনশীলতা ও আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১:৫১
সত্যি প্রমাণ করতে পরদিন স্কুলে হাজির হেনরি ক্যাভিল!

সুপারম্যান চাচা বলায় শাস্তি, সত্যি প্রমাণ করতে পরদিন স্কুলে হাজির হেনরি ক্যাভিল!

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্র্যাড পিটের মেয়ে ভিভিয়েনর বাবার পদবি বাদ দিতে আইনি পদক্ষেপ

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্র্যাড পিটের মেয়ে ভিভিয়েনর বাবার পদবি বাদ দিতে আইনি পদক্ষেপ

কানাডার ঐতিহাসিক কাসা লোমা দুর্গ ভাড়া করে গথ ধারার স্ট্রিমার পিংচুর সঙ্গে র‍্যাপার ড্রেকের বিশেষ ডেট। ছবি: সংগৃহীত

প্রেমিকার অনুরোধে কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করে, তার জন্য পুরো দুর্গ ভাড়া নিলেন ড্রেক

0 Comments