সাধারণ পেট ফাঁপা ভেবে এড়িয়ে গিয়েছিলেন, সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ল স্টেজ ৪ ক্যানসার
পেট ফাঁপাকে প্রথমে সাধারণ হজমের সমস্যা ভেবেছিলেন ৬৯ বছর বয়সী কেট পিং। কিন্তু প্রায় দুই মাসেও অস্বস্তি না কমায় চিকিৎসকের কাছে গেলে নার্স প্র্যাকটিশনার কোলনোস্কপির বদলে সিটি স্ক্যান করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই পরীক্ষাতেই ধরা পড়ে পিংয়ের স্টেজ ৪ ওভারিয়ান ক্যানসার। ততক্ষণে রোগটি তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
পিংয়ের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় তিনি দুটি পারিবারিক ব্যবসা সামলানোর পাশাপাশি ছেলের ওপেন-হার্ট অস্ত্রোপচার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তার আগে থেকেই মানসিক চাপের সময় হজম ও অন্ত্রের নানা সমস্যা হতো। তাই পেট ফুলে যাওয়ার বিষয়টিকেও তিনি শুরুতে সেভাবেই দেখেছিলেন। ছেলের অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পরও যখন সমস্যা থেকে যায়, তখন তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।
চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় তার পেট এতটাই ফুলে ছিল যে নাভির আশপাশে স্পর্শ করলেও অস্বস্তি লাগত। পিং ধারণা করেছিলেন, তাকে সম্ভবত কোলনোস্কপি করতে বলা হবে। কিন্তু নার্স প্র্যাকটিশনারের সিটি স্ক্যানের সিদ্ধান্ত তাকে অবাক করে দেয়। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তিনি জানতে পারেন, তার ওভারিয়ান ক্যানসার অনেকটা অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
ক্যানসার বিশেষজ্ঞ প্রিমাল ঠাকারের কাছে চিকিৎসা শুরু করার পর পিং জানতে পারেন, ওভারিয়ান ক্যানসার অনেক সময় শুরুতেই শনাক্ত করা কঠিন। রোগটির এমন কোনো নির্দিষ্ট স্ক্রিনিং পরীক্ষা নেই, যা নিয়মিতভাবে সবার ক্ষেত্রে এটি শনাক্ত করতে পারে। পাশাপাশি এর প্রাথমিক উপসর্গগুলোও অনেক সময় মেনোপজ বা তুলনামূলক কম গুরুতর শারীরিক সমস্যার সঙ্গে মিলে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেট ফাঁপা, অল্প খাবারেই দ্রুত পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি এবং মলত্যাগ বা প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন ওভারিয়ান ক্যানসারের সম্ভাব্য সতর্কসংকেত হতে পারে। পেটের ভেতর তরল জমলেও পেট ফুলে যেতে পারে। পিংয়ের ক্ষেত্রে রোগটি অনেকটা অগ্রসর হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসকেরা প্রথমে কেমোথেরাপির মাধ্যমে টিউমার ছোট করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করা হয়।
চিকিৎসার সময় পিংকে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও সামলাতে হয়েছে। চুল পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বমিভাব ও ক্লান্তির মতো সমস্যায় ভুগেছেন তিনি। প্রতি তিন সপ্তাহ পরপর কেমোথেরাপি নিতে হতো এবং প্রতিটি চিকিৎসা পর্বের পর প্রায় এক সপ্তাহ স্বাভাবিক কাজকর্ম থেকে দূরে থাকতে হতো। তবে প্রতিবার চিকিৎসকের কাছ থেকে রোগের উন্নতির খবর তাকে মানসিকভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিংয়ের অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে জরায়ু অপসারণের পাশাপাশি শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করে ক্যানসারের উপস্থিতি খোঁজা হয়। অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর প্রায় ছয় সপ্তাহ তিনি সুস্থ হওয়ার জন্য সময় নেন। এরপর শরীরে অবশিষ্ট ক্যানসার কোষ ধ্বংস করার লক্ষ্যে আবার কেমোথেরাপি শুরু করেন।
এরপর ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে তাকে কয়েক দফা ইমিউনোথেরাপিও দেওয়া হয়। চলতি বছরের বসন্তে তার শেষ ইনফিউশন সম্পন্ন হয়। নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন আর নেই, এই খবরকে পিং অবিশ্বাস্য বলে বর্ণনা করেছেন। তবে ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে তিনি প্রতিদিন একটি কেমোথেরাপির ওষুধ সেবন করছেন।
পিংয়ের চিকিৎসার পুরো ঘটনাপ্রবাহে যে বিষয়টি তাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে, সেটি হলো তার সিটি স্ক্যানের সিদ্ধান্ত নেওয়া নার্স প্র্যাকটিশনারের ভূমিকা। কয়েক মাস চিকিৎসা চলার পর একদিন পিং তার স্বামীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করার ফোন ধরেন। ফোনের অপর প্রান্তের কণ্ঠটি তার পরিচিত মনে হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, এই ব্যক্তিই তার সিটি স্ক্যানের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ওই নার্স প্র্যাকটিশনার পিংকে জানান, তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু ওভারিয়ান ক্যানসারে মারা গিয়েছিলেন, কারণ রোগটি সময়মতো শনাক্ত হয়নি। পিংয়ের উপসর্গগুলো দেখে তাই তিনি ঝুঁকি না নিয়ে সিটি স্ক্যান করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ঘটনাটি জানতে পেরে পিং তাকে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ওই সিদ্ধান্তই তার জীবন বাঁচিয়েছে।
বর্তমানে পিং নিজের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ওভারিয়ান ক্যানসারের উপসর্গ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। তার ছেলে এবং তিনি আবার নিজেদের দুটি রেস্তোরাঁর কাজে ফিরেছেন। সেখানে ক্যানসারের চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেকে তার সঙ্গে কথা বলেন। পিং তাদের উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, স্টেজ ৪ ক্যানসারের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও আশার জায়গা থাকে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্বাস্থ্য
View moreঅস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে চীনের সাংহাইয়ে থাকা একটি কৃত্রিম কিডনিতে সফলভাবে অস্ত্রোপচারের পরীক্ষা চালিয়েছেন একজন চিকিৎসক। অত্যাধুনিক রোবটিক প্রযুক্তির সাহায্যে তিনি দূর থেকে অস্ত্রোপচারের যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিম কিডনিতে কাটাছেঁড়া ও সেলাই সম্পন্ন করেন। এই পরীক্ষায় কোনো মানুষের শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়নি। তবে সফল পরীক্ষাটি ভবিষ্যতে দূরবর্তী এলাকার রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম সেভেন নিউজ ২৫ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই পরীক্ষামূলক অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ ইউরোলজিক্যাল সার্জন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর রুবান থানিগাসালাম। তিনি সিডনির ক্রিস ও’ব্রায়েন লাইফহাউস হাসপাতালের একটি বিশেষ কনসোলে বসে সাংহাইয়ে স্থাপিত টোমাই নামের সার্জিক্যাল রোবট নিয়ন্ত্রণ করেন। চিকিৎসক সিডনিতে থাকলেও রোবটের যান্ত্রিক হাতগুলো চীনে রাখা কৃত্রিম কিডনির ওপর কাজ করছিল। অত্যাধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসকের হাতের নির্দেশ রোবটের কাছে পৌঁছে যায় এবং সেই অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের কাজ সম্পন্ন হয়। চিকিৎসক রুবান থানিগাসালাম জানান, অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশাল দেশে অনেক শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চ প্রশিক্ষিত রোবটিক সার্জনের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে ক্যানসারের মতো জটিল রোগের অস্ত্রোপচারের জন্য অনেক রোগীকে দূরের বড় শহরে যেতে হয়। এতে চিকিৎসার খরচ বাড়ার পাশাপাশি পরিবারগুলোকেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। নতুন এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বড় শহরে বসেই দূরবর্তী হাসপাতালের রোগীদের অস্ত্রোপচার করতে পারবেন। ফলে রোগীদের নিজেদের এলাকা ছেড়ে অন্য শহরে যাওয়ার প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রে কমে আসতে পারে। পরীক্ষাটিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও রোবটের কার্যক্রম সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। চিকিৎসক জানান, অস্ত্রোপচারের জন্য ফাইভজি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণত দূর থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্দেশ পাঠানো এবং রোবটের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার সময়ের ব্যবধান যত কম হয়, তত ভালো। এই সময়ের ব্যবধানকে প্রযুক্তিগত ভাষায় লেটেন্সি বলা হয়। চিকিৎসকের মতে, আদর্শ পরিস্থিতিতে এই ব্যবধান ৫০ মিলিসেকেন্ডের নিচে থাকা ভালো। তবে সিডনি ও সাংহাইয়ের মধ্যে পরিচালিত পরীক্ষায় লেটেন্সি ছিল প্রায় ১৫০ মিলিসেকেন্ড। প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা বেশি সময়ের ব্যবধান থাকলেও পরীক্ষার ফল নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার দূরে রোবট পরিচালনার সময় কাজের গতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা অনুভূত হয়নি। অস্ত্রোপচারের আগে যোগাযোগব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছিল এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য বিকল্প সংযোগও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়াটি প্রত্যাশার চেয়ে ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে পরীক্ষামূলক পরিবেশে সফল হওয়া এবং বাস্তব রোগীর ওপর নিরাপদে অস্ত্রোপচার করার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। রোবটিক সার্জারি সাধারণ অস্ত্রোপচার থেকে কিছুটা আলাদা। এ পদ্ধতিতে চিকিৎসক সরাসরি হাতে অস্ত্রোপচারের যন্ত্র ব্যবহার না করে একটি বিশেষ কনসোল থেকে রোবটের যান্ত্রিক হাত নিয়ন্ত্রণ করেন। রোবটের সঙ্গে যুক্ত ক্যামেরা অস্ত্রোপচারের স্থানটির বিস্তারিত ছবি চিকিৎসকের সামনে তুলে ধরে। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী যন্ত্রগুলো নির্দিষ্ট স্থানে কাজ করে। দূরবর্তী রোবটিক সার্জারিতে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয় উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ, নির্ভরযোগ্য তথ্য আদানপ্রদান এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে দূর থেকে রোবটিক অস্ত্রোপচারের পরীক্ষা ও বাস্তব চিকিৎসা পরিচালিত হয়েছে। রুবান থানিগাসালাম জানান, টোমাই রোবটিক সিস্টেম ব্যবহার করে আগে জিব্রাল্টারে থাকা একজন রোগীর প্রোস্টেট ক্যানসারের অস্ত্রোপচার লন্ডন থেকে পরিচালনার নজির রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য দেশেও দূরবর্তী অস্ত্রোপচারে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া থেকে সাংহাইয়ের রোবট নিয়ন্ত্রণের সাম্প্রতিক পরীক্ষাটি দেশটির চিকিৎসা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন একটি অগ্রগতি। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার হাসপাতালগুলোতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সেবা চালুর সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হয়েছে। অবশ্য নতুন প্রযুক্তিটি অস্ট্রেলিয়ার হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা হিসেবে চালু করতে এখনো বেশ কিছু অনুমোদন প্রয়োজন। চিকিৎসক জানান, রোবট ব্যবহারের অনুমোদন থাকলেও হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পর্যালোচনা, চিকিৎসাসংক্রান্ত আইনি অনুমোদন এবং ইন্স্যুরেন্সের বিষয়গুলো সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি রোগীর পাশে আরেকটি চিকিৎসক দল উপস্থিত থাকতে হবে, যাতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বা কোনো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় বাস্তব রোগীর ওপর এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দূরবর্তী রোবটিক সার্জারি সফলভাবে চালু করা গেলে চিকিৎসাসেবায় ভৌগোলিক দূরত্বের বাধা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় দক্ষ সার্জনের অভাব রয়েছে, সেখানকার রোগীরা বড় শহরের বিশেষজ্ঞদের সেবা পেতে পারেন। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা অন্য হাসপাতালের সার্জনদের দূর থেকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিতে পারবেন। তবে প্রযুক্তির নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক দল এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত না করে এটি ব্যাপকভাবে চালু করা সম্ভব নয়। সিডনি থেকে সাংহাইয়ে পরিচালিত পরীক্ষাটি সেই সম্ভাবনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
ফ্লোরিডায় রোবটের সাহায্যে ৩৫ মাইল দূরের হাসপাতালে রোগীর সার্জারি করলেন চিকিৎসক
নার্সিংহোমে চাকরিতে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ, নতুন উদ্যোগ
পাঁচ বছর ভেগান ডায়েটে সুস্থ হয়ে শক্তি হারান, মাংস খেয়েই নিজেকে সুস্থ রাখতে পারছেন বেয়ার গ্রিলস
হরমোন ছাড়াই পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণের নতুন পদ্ধতি তৈরির গবেষণায় এগোচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। এমন একটি পরীক্ষামূলক বড়ি তৈরি করা হচ্ছে, যা সেবনের প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে। গবেষকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বড়িটি ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত গর্ভধারণ প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। এরপর ওষুধের প্রভাব কমে গেলে পুরুষের প্রজননক্ষমতা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার কথা। তবে বড়িটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের শরীরে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত হওয়ার আগে এটি ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েইল কর্নেল মেডিসিনের দুই ফার্মাকোলজি গবেষক ড. জোখেন বাক ও ড. লনি লেভিন এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের গবেষণার পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট চার বছরের জন্য ৮২ লাখ ডলারের অনুদান দিয়েছে। এই অর্থ দিয়ে ওষুধটির নিরাপত্তা, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং মানুষের শরীরে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে। গবেষকদের লক্ষ্য, পুরুষদের জন্য এমন একটি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি তৈরি করা, যা প্রতিদিন ওষুধ সেবন না করেও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যাবে। প্রচলিত অনেক পদ্ধতিতে দীর্ঘ সময় ধরে ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু নতুন এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শুক্রাণুর চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হবে। ফলে ভবিষ্যতে এটি কার্যকর ও নিরাপদ প্রমাণিত হলে পরিবার পরিকল্পনায় পুরুষদের অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বর্তমানে পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রচলিত পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে কনডম ও ভ্যাসেকটমি। ভ্যাসেকটমি একটি অস্ত্রোপচারভিত্তিক পদ্ধতি। অন্যদিকে, নারীদের জন্য হরমোনভিত্তিক বড়িসহ বিভিন্ন ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। এসব পদ্ধতির কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ফলে জন্মনিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব শুধু নারীদের ওপর নির্ভরশীল না রেখে নারী-পুরুষের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার জন্য নতুন বিকল্প তৈরির প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। এই গবেষণার বিশেষ দিক হলো, পরীক্ষাধীন বড়িটি হরমোনের মাত্রা পরিবর্তন করে কাজ করার পরিবর্তে শুক্রাণুর চলাচলের সঙ্গে যুক্ত একটি এনজাইমের কার্যক্রম সাময়িকভাবে আটকে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হচ্ছে। এনজাইমটি শুক্রাণুর স্বাভাবিক চলাচল ও নিষেকের উপযোগী হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষকদের মতে, এই এনজাইমের কার্যক্রম বন্ধ করা গেলে শুক্রাণু স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে গিয়ে ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে পারবে না। ওষুধের প্রভাব কমে গেলে এনজাইমের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হওয়ার কথা। এ কারণে নতুন পদ্ধতিটি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের পরিবর্তে সাময়িক ও প্রয়োজনভিত্তিক জন্মনিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা তৈরি করছে। এই পদ্ধতির কেন্দ্রে রয়েছে ‘সলিউবল অ্যাডেনাইলাইল সাইক্লেজ’ বা এসএসি নামের একটি এনজাইম। শুক্রাণুর চলাচল নিয়ন্ত্রণে এই এনজাইম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষকদের তৈরি ওষুধটি এনজাইমটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার চেষ্টা করবে। ফলে বীর্যপাতের পর শুক্রাণু নারীর প্রজননতন্ত্রের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা হারাতে পারে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় এসএসি এনজাইমের কার্যক্রম বন্ধ করে শুক্রাণুর চলাচল বাধাগ্রস্ত করার প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই পরীক্ষায় সাময়িকভাবে গর্ভধারণও প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছিল। তবে প্রাণীর শরীরে পাওয়া ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রেও একই হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নতুন বড়িটি মানুষের জন্য কার্যকর ও নিরাপদ কি না, তা জানতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন। গবেষকদের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ওষুধটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ওয়েইল কর্নেল মেডিসিনের গবেষকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে সুস্থ পুরুষদের নিয়ে একটি নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এতে অংশগ্রহণকারীদের একাংশকে পরীক্ষাধীন ওষুধ এবং অন্য অংশকে দেখতে একই রকম নিষ্ক্রিয় ওষুধ দেওয়া হতে পারে। এরপর তাঁদের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি শুক্রাণুর চলাচলে কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে এবং সেই পরিবর্তন সাময়িক কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হবে। এ ধরনের ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তার মান অত্যন্ত কঠোর হওয়া প্রয়োজন। কারণ, ওষুধটি সাধারণত সুস্থ পুরুষেরা ব্যবহার করবেন। তাই শুক্রাণুর চলাচল বন্ধ করার পাশাপাশি শরীরের অন্য অঙ্গের ওপর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব পড়ে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসএসি প্রোটিন শরীরের অন্যান্য টিস্যুতেও পাওয়া যায়। ফলে এনজাইমটির কার্যক্রম আটকে দিলে চোখসহ অন্য অঙ্গের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওষুধটি পুরুষের শরীরে কাজ করার পর বীর্যের সঙ্গে নারীর প্রজননতন্ত্রে প্রবেশ করা শুক্রাণুর চলাচলও কার্যকরভাবে বন্ধ রাখতে পারবে কি না। ওষুধের প্রভাব নির্ধারিত সময়ের আগেই কমে গেলে বা শুক্রাণু আবার চলাচল শুরু করলে গর্ভধারণের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে। তাই বড়িটি কত দ্রুত কাজ শুরু করে, কতক্ষণ কার্যকর থাকে এবং এর প্রভাব কতটা নির্ভরযোগ্য—এসব প্রশ্নের উত্তর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় পাওয়া জরুরি। গবেষকদের আশা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মানুষের শরীরে প্রাথমিক পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হতে পারে। তবে এটি একটি লক্ষ্য, নিশ্চিত সময়সীমা নয়। প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলেও বৃহত্তর পরিসরে ওষুধটির কার্যকারিতা যাচাই করতে আরও কয়েক বছর লাগতে পারে। তাই কবে এটি বাজারে আসবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে, হরমোন ছাড়াই প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি তৈরির এই গবেষণা পরিবার পরিকল্পনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এখনো এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের শরীরে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ার পরই বোঝা যাবে, ভবিষ্যতে এটি প্রচলিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কার্যকর বিকল্প হতে পারবে কি না।
যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ ভয় বাড়াচ্ছে, চলতি বছরেই তৃতীয় মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত
বার্ধক্যের গতি কমাতে পারে ভিটামিন ডি, হার্ভার্ডের গবেষণায় উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বয়স্কদের মধ্যে কোলন ক্যানসার কমলেও তরুণদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
ত্বকের মারাত্মক ক্যানসার মেলানোমার চিকিৎসায় বড় অগ্রগতির খবর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা। রোগীর শরীরের ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তৈরি নতুন এমআরএনএ টিকা ব্যবহারে অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না ও মার্কের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত বড় পরিসরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই ফল পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত গবেষণার বিস্তারিত ফলাফলে ক্যানসারের ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা দেখা গেছে। তবে পরীক্ষামূলক এই টিকা এখনো সাধারণ রোগীদের ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পায়নি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন টিকাটির নাম ইন্টিসমেরান অটোজিন। এটি এমআরএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি, যে প্রযুক্তি করোনাভাইরাসের টিকা তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে প্রচলিত টিকার সঙ্গে এর গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। প্রতিটি রোগীর ক্যানসার কোষের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে আলাদাভাবে এই টিকা তৈরি করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে ক্যানসার কোষ আবার তৈরি হলে তা শনাক্ত করে আক্রমণ করতে পারে। গবেষণার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ১৩৭ জন মেলানোমা রোগী। তাঁদের প্রত্যেকের শরীর থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্ত টিউমার অপসারণ করা হয়েছিল। এরপর সবাইকে প্রচলিত ইমিউনোথেরাপি ওষুধ কিট্রুডা দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের একটি দল অতিরিক্তভাবে নতুন এমআরএনএ টিকা পান, অন্য দলকে দেওয়া হয় প্লাসিবো। প্রায় দুই বছর পর্যবেক্ষণের পর দেখা যায়, টিকা পাওয়া রোগীদের ৮২ দশমিক ২ শতাংশের ক্যানসার ফিরে আসেনি। অন্যদিকে শুধু প্রচলিত চিকিৎসা পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৭০ শতাংশ। গবেষণার বিস্তারিত ফল অনুযায়ী, নতুন টিকা ও কিট্রুডা একসঙ্গে ব্যবহারে ক্যানসার ফিরে আসা বা মৃত্যুর আপেক্ষিক ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে শরীরের দূরবর্তী অঙ্গে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমেছে ৩৮ শতাংশ। তবে এর অর্থ এই নয় যে টিকা গ্রহণকারী প্রত্যেক রোগীর ক্যানসার সেরে গেছে কিংবা তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। গবেষণায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রোগ ফিরে আসা এবং মৃত্যুর সম্মিলিত ঝুঁকি পরিমাপ করা হয়েছে। রোগীদের সামগ্রিক আয়ু কতটা বাড়বে, তা জানতে আরও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। নতুন এই চিকিৎসাপদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা টিকা তৈরি করা। প্রথমে অস্ত্রোপচারে অপসারণ করা টিউমারের নমুনা থেকে জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করেন গবেষকেরা। এরপর সেই তথ্য ব্যবহার করে এমন এমআরএনএ টিকা তৈরি করা হয়, যা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষের বিশেষ প্রোটিন চিনতে সহায়তা করে। গবেষণায় অংশ নেওয়া রোগীদের সর্বোচ্চ নয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ডোজের মধ্যে তিন সপ্তাহের ব্যবধান রাখা হয়। মডার্নার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, টিউমারের জিনগত বিশ্লেষণ থেকে টিকা তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ছয় সপ্তাহ বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অবস্থিত এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারের চিকিৎসক ও গবেষক ড. হুসেইন তাওবি এই ফলাফলকে ক্যানসার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। গবেষণায় সরাসরি যুক্ত নন এমন বিশেষজ্ঞরাও ব্যক্তিভিত্তিক টিকার সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির লম্বার্ডি কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার সেন্টারের উপপরিচালক ড. মাইকেল অ্যাটকিনস মনে করেন, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় কাজে আসতে পারে। তবে অন্য ক্যানসারের ক্ষেত্রেও একই ফল পাওয়া যাবে কি না, তা পৃথক গবেষণায় নিশ্চিত করতে হবে। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৬২ বছর বয়সী টনি হাউটের অভিজ্ঞতাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। কানে দীর্ঘদিন ধরে একটি ক্ষত থেকে মাঝেমধ্যে রক্তপাত হচ্ছিল তাঁর। পরে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মেলানোমা শনাক্ত করেন। অস্ত্রোপচারের সময় দেখা যায়, ক্যানসার ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। ২০২৪ সালে তিনি এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারের পরীক্ষামূলক চিকিৎসায় অংশ নেন। সর্বশেষ পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ক্যানসারের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে একজন রোগীর এই ফলাফল দিয়ে সবার ক্ষেত্রে চিকিৎসাটির কার্যকারিতা নির্ধারণ করা যায় না। নতুন টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। সাধারণ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে ব্যথা, ক্লান্তি এবং শরীরের অন্যান্য সাময়িক অস্বস্তি। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় গুরুতর চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হার নতুন টিকা ও কিট্রুডা পাওয়া দলে ছিল ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। শুধু কিট্রুডা পাওয়া দলে এই হার ছিল ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে চিকিৎসার সম্ভাব্য উপকারের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এর আগে দ্বিতীয় ধাপের গবেষণায় পাঁচ বছরের পর্যবেক্ষণে নতুন টিকার সঙ্গে কিট্রুডা ব্যবহারে ক্যানসার ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯ শতাংশ কমার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। তবে সেটি ছিল তুলনামূলক ছোট গবেষণা। নতুন তৃতীয় ধাপের বড় পরীক্ষায় ঝুঁকি কমার হার পাওয়া গেছে ৪২ শতাংশ। দুটি ফল আলাদা গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ সময়ের ভিত্তিতে তৈরি হওয়ায় এগুলোকে একই ফল হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না। সর্বশেষ গবেষণার বিস্তারিত ফল ইউরোপিয়ান সোসাইটি ফর মেডিকেল অনকোলজির সম্মেলনে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মডার্না ও মার্ক জানিয়েছে, তারা নতুন চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদনের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ এখনো এই টিকা অনুমোদন করেনি। ফলে এটি বর্তমানে সাধারণ রোগীদের জন্য নিয়মিত চিকিৎসা হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে না। টিকাটির সম্ভাব্য দামও প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠান দুটি। প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদাভাবে উৎপাদনের প্রয়োজন হওয়ায় ভবিষ্যতে এর খরচ ও সহজলভ্যতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। মেলানোমা ত্বকের ক্যানসারের একটি গুরুতর ধরন, যা শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বর্তমানে ফুসফুস, কিডনি, অগ্ন্যাশয়সহ আরও কয়েক ধরনের ক্যানসারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিভিত্তিক এমআরএনএ চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে নতুন ফলাফলকে সব ধরনের ক্যানসারের প্রতিষেধক আবিষ্কার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গবেষকেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে আরও পরীক্ষা ও অনুমোদনপ্রক্রিয়া সফল হলে ব্যক্তিভিত্তিক এমআরএনএ টিকা ক্যানসার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে।
বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ থাবা, ঝুঁকিতে শিশুরা! মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ২১৪ জন
ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে নতুন টিকার সাফল্য, রোগ ফিরে আসার আশঙ্কা কমেছে ৪২ শতাংশ