স্বাস্থ্য

দেশে হামের প্রকোপ: ২০ জেলার ৩০ স্থান ‘হটস্পট’ ঘোষণা, কাল থেকে জরুরি টিকাদান

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশ: এপ্রিল ৩, ২০২৬ ২১:৪২
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

দেশে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ২০টি জেলার ৩০টি স্থানকে ‘হটস্পট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এসব উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগামীকাল রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের সব শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩০টি হটস্পট এলাকায় কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১ মে, অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মন্ত্রণালয়।

 

হামের হটস্পট এলাকাগুলো:

ঘোষিত হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে— বরগুনা পৌরসভা ও সদর; পাবনা পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া; চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর ও হাইমচর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; গাজীপুর সদর; চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট। এছাড়াও নেত্রকোনার আটপাড়া; ময়মনসিংহের সদর, ত্রিশাল ও তারাকান্দা; রাজশাহীর গোদাগাড়ী; বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; নওগাঁর পোরশা; যশোর পৌরসভা ও সদর; নাটোর পৌরসভা ও সদর; মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, লৌহজং ও শ্রীনগর; মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর; ঢাকার নবাবগঞ্জ; ঝালকাঠির নলছিটি এবং শরীয়তপুরের জাজিরা।

 

বিশেষ পরামর্শ:

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব শিশুর বর্তমানে জ্বর রয়েছে বা অসুস্থ, তাদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দিতে হবে। এছাড়া হামে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়ক হবে। শিশুদের সুরক্ষায় এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

স্বাস্থ্য

View more
ছবি: সংগৃহীত
কুরবানির গোশত সংরক্ষণে অসচেতনতা বাড়াচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

পবিত্র ঈদুল আজহা শুধু পশু কুরবানির আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ত্যাগ, তাকওয়া, পরিচ্ছন্নতা ও মানবিকতার এক অনন্য শিক্ষা। কুরবানির সঙ্গে যেমন জড়িয়ে আছে ধর্মীয় বিধান, তেমনি রয়েছে স্বাস্থ্যবিধি, পরিবেশ সচেতনতা এবং বৈজ্ঞানিক দিকও। কিন্তু প্রতি বছর অসচেতনতা, তাড়াহুড়া এবং সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অনেকেই এমন কিছু ভুল করেন, যা কুরবানির গোশতের গুণগত মান নষ্ট করে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ায়। এসব ভুল শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বৈজ্ঞানিকভাবেও ক্ষতিকর হতে পারে। কুরবানির সময় সাধারণ কিছু ভুল ও তার সঠিক দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।   জবাইয়ের সময় যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয় ও সঠিক পদ্ধতি: কুরবানির অন্যতম বড় ভুল হলো শরিয়তসম্মত জবাই পদ্ধতি অনুসরণ না করা, যেমন— ধারালো ছুরি ব্যবহার না করা, পশুকে অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়া কিংবা এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা। আরেকটি গুরুতর ভুল হলো, জবাইয়ের পর পশুর পুরোপুরি প্রাণ বের হওয়ার আগেই চামড়া ছাড়ানো বা দ্রুত প্রাণ বের করার জন্য গলার স্থান বা মেরুদণ্ডে ধারালো ছুরির আগা দিয়ে আঘাত করা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে, এতে পশুর মেরুরজ্জুর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পশু আকস্মিক শক বা হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়ার ব্যাঘাতে মারা যেতে পারে। ফলে শরীর থেকে স্বাভাবিকভাবে রক্ত বের হতে পারে না এবং গোশতে জমাট রক্ত থেকে গোশতের গুণগত মান ও সংরক্ষণ ক্ষমতা হ্রাস পায়। সঠিক নিয়ম হলো প্রধান রগগুলো কেটে পশুর শরীর থেকে পর্যাপ্ত রক্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া।   গরম গোশত সংরক্ষণ ও ধোয়ার ভুল পদ্ধতি: কুরবানির পরপরই গরম গরম গোশত রান্না করে খাওয়া কিংবা তাড়াহুড়া করে পলিথিনে ভরে স্তূপ করে রাখা বড় ধরনের ভুল। বৈজ্ঞানিকভাবে, জবাইয়ের পর গোশত অন্তত ৬ ঘণ্টা ঠান্ডা পরিবেশে রাখা বা ‘চিলিং’ করা উত্তম, যা গোশত নরম করে, স্বাদ উন্নত করে এবং ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকি কমায়। গরম অবস্থায় গোশত প্যাকেট বা স্তূপ করে রাখলে ভেতরে তাপ আটকে দ্রুত জীবাণু বৃদ্ধি ও পচনের আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া গোশত কাটার পর অতিরিক্ত পানি দিয়ে বারবার ধোয়ার ফলে গোশতের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাদ নষ্ট হতে পারে এবং পানির ছিটা থেকে জীবাণু রান্নাঘরের সিঙ্ক বা অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে গোশতে দৃশ্যমান ময়লা, লোম বা জমাট রক্ত থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পানি দিয়ে পরিষ্কার করা যেতে পারে।   অতিরিক্ত গোশত খাওয়ার ঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণ: কুরবানির দিনে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত গোশত বেশি পরিমাণে খেলে বদহজম, গ্যাসট্রিক, অ্যাসিডিটি, উচ্চ কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে, তাই পরিমিত খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু জবাই করা, রক্ত ও বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রাখা, ড্রেন বন্ধ করে দেওয়া কিংবা রাস্তা দখল করার কারণে পরিবেশ দূষণ হয় এবং রোগজীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘ সময় রক্ত ও বর্জ্য পড়ে থাকলে দুর্গন্ধ, মাছি ও সংক্রমণের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, তাই নির্দিষ্ট স্থানে পরিচ্ছন্নভাবে কুরবানি সম্পন্ন করা এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করা জরুরি।   কুরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়, এটি সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা, সহমর্মিতা ও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতিফলন। তাই শরিয়তের বিধান, স্বাস্থ্যবিধি ও বৈজ্ঞানিক দিক মাথায় রেখে সঠিকভাবে কুরবানি সম্পন্ন করা সবার দায়িত্ব। সচেতনতা ও সঠিক নিয়ম মেনে কুরবানি করলে একদিকে যেমন ইবাদতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে পরিবার ও সমাজও থাকে নিরাপদ, সুস্থ ও ঝুঁকিমুক্ত।

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশ: মে ১৯, ২০২৬ ২২:১০
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের হারানো অঙ্গ পুনরুদ্ধারের জিনের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

ছবি: সংগৃহীত।

কড়াকড়ি শিথিল, গাঁজা সেবনে বৈধতা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ছবি: সংগৃহীত।

দ্রুত শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ, ক্যানসার চিকিৎসায় বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে চীন

ছবি: ফাইল ফটো
অতিরিক্ত চিনি কি সন্তানের মস্তিষ্কের ক্ষতি করছে? জেনে নিন সুরক্ষার উপায়

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত চিনির উপস্থিতি শিশুদের কেবল দাঁতের ক্ষতিই করে না, বরং এটি তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা এবং আচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন পুষ্টি গবেষণা সংস্থার মতে, শিশুদের সুষম খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করতে চিনি গ্রহণ সীমিত রাখা জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, চিনির আধিক্য শিশুর মনোযোগ ও মানসিক স্থিতিশীলতায় ব্যাঘাত ঘটায়।   চিনির প্রভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত ওঠানামা করে, যা শিশুকে অস্থির ও খিটখিটে করে তোলে। দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণে শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধি পায়, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়া ছোটবেলার এই মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস বড় হয়েও থেকে যায়, যা ভবিষ্যতে বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।   বিশেষজ্ঞরা প্রক্রিয়াজাত চিনি যেমন ক্যান্ডি, প্যাকেটজাত জুস বা সিরিয়াল কমিয়ে প্রাকৃতিক বিকল্প হিসেবে ফলমূল বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে থাকা ফাইবার চিনির ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে পুষ্টি নিশ্চিত করে। এছাড়া খাবারের তালিকায় কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (যেমন বাদাম) রাখলে রক্তে গ্লুকোজের ভারসাম্য বজায় থাকে।   সন্তানের মেধা ও আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করা এবং নির্দিষ্ট সময়ে সুষম খাবার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছোট ছোট এই দৈনন্দিন পরিবর্তনগুলোই শিশুর মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশ: এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ২২:৪৬
ছবি: সংগৃহীত।

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু: বাড়ছে উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত।

কন্ডোমের দিন শেষ! পুরুষদের ‘গর্ভনিরোধক’ তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা

ছবি: সংগৃহীত।

হামের প্রকোপে কাঁপছে দেশ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

ছবি - সংগৃহিত
বুকের ব্যথাটা গ্যাসের নাকি হার্টের, কীভাবে বুঝবেন?

বুকে ব্যথা হলেই তা হৃদরোগ নয়; এটি গ্যাস্ট্রিক (অ্যাসিড রিফ্লাক্স), ফুসফুসের সমস্যা, পেশিতে টান, পিত্তথলির রোগ কিংবা মানসিক চাপের কারণে হতে পারে। হৃদরোগের ব্যথায় বুকের মাঝে চাপ ধরে, যা ঘাড় বা হাতে ছড়ায়। তবে তীব্র বুকে ব্যথা, ঘাম ও শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে ইসিজি ও ট্রপোনিন আই পরীক্ষা করা উচিত।   অনেক সময় সাধারণ কিছু শারীরিক সমস্যার কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, হার্টের সমস্যা ছাড়াও ফুসফুস, পাকস্থলী— এমনকি মানসিক চাপের কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। বুকে ব্যথা হলে হার্টের রোগের কথাই মাথায় আসে। চিনচিনে ব্যথা হোক কিংবা বুকে চাপ অনুভব করা— সবার জন্য সেই হৃদ্যন্ত্রকেই দায়ী করা হয়। অথচ খলনায়ক হতে পারে ফুসফুস কিংবা পাকস্থলী।   বুকে চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে সব সময়ে? না কি মাঝেমধ্যে চাপ চাপ ব্যথার অনুভূতি হচ্ছে? মনে হচ্ছে, কেউ যেন কয়েক মণ ভারি পাথর বসিয়ে দিয়েছে। বুকে ব্যথা হলেই হৃদরোগ বলে ভেবে নেন অনেকেই। আতঙ্কিতও হন। কিন্তু বুকে ব্যথার কারণ অনেক হতে পারে। হার্টের অসুখের প্রধান উপসর্গই হলো বুকে ব্যথা, যার সঙ্গে বদহজম বা গ্যাসের ব্যথার মিল আছে। আবার ফুসফুসের রোগ হলেও তার পূর্বলক্ষণে বুকে ব্যথা হতে পারে।    বুকে ব্যথার ধরন ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’ হয় অনেকের। তখন মনে হয় গলার কাছে কিছু দলা পাকিয়ে রয়েছে। খাদ্যনালি দিয়ে অ্যাসিড উঠে আসতে থাকে গলার কাছে। প্রচণ্ড জ্বালা হয়। সেই সঙ্গে বুকে-পিঠে ব্যথা করতে থাকে। যদি বুকে ব্যথার পাশাপাশি গলার কাছে কিছু দলা পাকিয়ে আছে মনে হয়, তা হলে বুঝতে হবে তা অম্বলের জন্য হচ্ছে। আর আছে বুকের মাঝখানে কিংবা নিচের দিকে জ্বালাপোড়া অনুভব হওয়া। শোয়ার সময় বা খাওয়ার পর এ ব্যথা বাড়তে পারে। ভারি খাবার খেয়ে শোবার পরেই চোঁয়া ঢেকুর উঠতে শুরু করে। এমন ব্যথার কারণ হতে পারে ‘জিইআরডি’। অর্থাৎ ‘গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ’। আর শ্বাস টানার সময়ে কিংবা কাশতে গিয়ে যদি বুকের একপাশে তীব্র যন্ত্রণা বা চিনচিনে ব্যথার মতো অনুভূতি হয়, তাহলে সেটি ফুসফুসের সমস্যার কারণে হতে পারে।   বুকে সারাক্ষণই যদি ব্যথা হতে থাকে, সঙ্গে কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে বুঝতে হবে নিউমোনিয়া বাসা বাঁধছে। পানি জমছে ফুসফুসে। আর ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধলেও তীব্র ব্যথা হতে পারে। এ ব্যথাকে হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন অনেকেই। কিন্তু এটি হয় পালমোনারি এমবলিজম বা ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কারণে। অনেক সময়ে যক্ষ্মা বা ফুসফুসে ক্যানসার বাসা বাঁধলেও বুকে ব্যথার অনুভূতি হয়। তবে সে ক্ষেত্রে কফের সঙ্গে রক্ত উঠে আসতে পারে।   হৃদরোগের ব্যথার লক্ষণ হৃদরোগের কারণে ব্যথা হলে তার উপসর্গ কিছুটা আলাদা হয়। তখন বুকের মাঝখানে ব্যথা শুরু হবে। মনে হবে বুকে চাপ ধরছে। এ ব্যথা যদি বুক থেকে ঠেলে গলার দিকে উঠতে শুরু করে, সেই সঙ্গে হাতেও ব্যথা শুরু হয়, তাহলে সাবধান হতে হবে। ব্যথার সঙ্গেই দরদর করে ঘাম হতে পারে। ব্যথা ধীরে ধীরে পিঠের দিকেও যাবে। চোয়াল ও কাঁধেও ব্যথা শুরু হবে। তখন হাত-পা ঠান্ডা হতে শুরু করবে। হৃৎস্পন্দনের হার বেড়ে যাবে। তখন একমুহূর্তও সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে রোগীকে।

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশ: এপ্রিল ১০, ২০২৬ ২০:৫৭
ছবি: সংগৃহীত

কোলেস্টেরল কমাতে ওটমিল ও কাঠবাদাম; ঘরোয়া পদ্ধতিতে বাঁচবে আপনার হৃদয়

ছবি: সংগৃহীত

হাম ও অন্ধত্বের ঝুঁকি: আপনার শিশুকে সুরক্ষিত রাখছেন তো?

ছবি: সংগৃহীত

হাম পরিস্থিতিতে সরকারের তথ্যহীনতা নিয়ে তাসনিম জারার অভিযোগ

0 Comments