আমিরাতে আটকে পড়া বিদেশিদের জরিমানা ছাড়া বৈধ হওয়ার শেষ সুযোগ
আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ফ্লাইট বাতিলের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আটকে পড়া বিদেশি নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের একটি বিশেষ সময়সীমা (গ্রেস পিরিয়ড) ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। এর ফলে আগে থেকে জরিমানা মওকুফের সুবিধা পাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি ও পর্যটকরা আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক দণ্ড ছাড়াই নিজ দেশে ফেরার অথবা ভিসার মেয়াদ নবায়নের সুযোগ পাবেন। আমিরাত সরকারের ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্টস সিকিউরিটি (আইসিপি) এক ঘোষণায় এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সংস্থাটি জানায়, গত ১০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ ছাড় চলবে আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুবিধাভোগীদের ভিসা নিয়মিতকরণ অথবা দেশত্যাগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে নতুন করে কোনো আবেদন বা বাড়তি পদক্ষেপ নিতে হবে না। তারা বিমানবন্দরে গিয়ে স্বাভাবিক ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন।
এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার কারণে আমিরাতের আকাশসীমায় ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং বহু ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। ফলে যাদের রেসিডেন্সি ভিসা বাতিল হয়েছিল, যারা ভিজিট ভিসায় ছিলেন এবং যাদের প্রস্থানের অনুমতি ছিল—এমন হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে দেশটিতে আটকে পড়েন। পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনা করে গত মার্চ মাসে আইসিপি এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এসব আটকে পড়া মানুষের ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণজনিত ওভারস্টে জরিমানা সম্পূর্ণ মওকুফ করেছিল।
আইসিপি স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানে আঞ্চলিক আকাশপথের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হয়ে আসায় আগের সেই ব্যতিক্রমী অবস্থার অবসান ঘটেছে। তাই জরিমানা মওকুফ রাখার মতো জরুরি পরিস্থিতি আর বিদ্যমান নেই। আটকে পড়া বিদেশিদের মধ্যে যারা আমিরাতে বৈধভাবে থাকতে চান, তাদের এই এক মাসের মধ্যে রেসিডেন্সি বা ভিসার মেয়াদ নবায়ন করে নিজেদের অবস্থান বৈধ করে নিতে হবে।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আগামী ৯ জুলাইয়ের পর এই বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ আর কার্যকর থাকবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসা নবায়ন বা দেশত্যাগ না করলে ভবিষ্যতে নতুন ভিসা প্রাপ্তিতে জটিলতা, জরিমানা এবং দেশটিতে পুনরায় প্রবেশের ক্ষেত্রে আইনি বাধার সম্মুখীন হতে হবে। আমিরাতে কর্মরত ও আটকে পড়া বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসীর জন্য এই সুযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধায় তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর সামরিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করতে এবার রাশিয়ায় একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করছে উত্তর কোরিয়া। কিয়েভের দেওয়া তথ্যমতে, রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলে অবস্থিত ১১২তম মিসাইল ব্রিগেডের অধীনে প্রায় ৯০ জন উত্তর কোরিয়ান কর্মীকে নিয়ে এই বিশেষ ইউনিটটি গঠন করা হচ্ছে। আগামী মাসে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সামরিক মোতায়েনের চূড়ান্ত রূপরেখা এবং মোট ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা নির্ধারিত হবে বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে কিয়েভ ধারণা করছে, এই ইউনিটে অন্তত ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ছয়টি লঞ্চার যুক্ত থাকতে পারে। উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের জন্য নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে কিয়েভ উচ্চমানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সংকট আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, কারণ এ ধরনের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ভূপাতিত করা অত্যন্ত কঠিন। বিদেশি থিঙ্ক ট্যাংকের সামরিক বিশ্লেষক রব লি উল্লেখ করেছেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই অভাবই বর্তমানে ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান দুর্বলতা। বিশেষ করে আসন্ন শীতকালে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেনের পাওয়ার গ্রিড বা জ্বালানি অবকাঠামোতে ভারী হামলার যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা কিয়েভের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এর আগে ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকেই রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার তৈরি প্রায় ১৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের রাদুশনে গ্রামে উত্তর কোরীয় একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পিয়ংইয়ং রাশিয়াকে কোটি কোটি আর্টিলারি শেল বা গোলা সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে হাজার হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের খবরও সামনে এসেছে। তবে নতুন করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট গঠনের বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘে অবস্থিত উত্তর কোরিয়ার দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে কুকুরের মাংস খাওয়ার পরামর্শ উত্তর কোরিয়ায়
ট্রাম্পের নজরদারির মধ্যেই রাশিয়ার প্রভাব কমছে পুতিনের? নতুন বিশ্লেষণ
মোদির ভিডিও সরানো নিয়ে মেটাকে ৩ দিনের আলটিমেটাম, জাকারবার্গের প্রকাশ্যে ক্ষমা দাবি ভারতের
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাপক রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং অন্তত ৪৪ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, হামলায় ব্যবহৃত কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি, কারণ দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট রয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, চারটি উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। ড্রোনগুলোর বেশিরভাগই ভূপাতিত করা গেলেও কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো যায়নি। হামলায় কিয়েভ, ব্রোভারি, বুচা ও ফাস্টিভ এলাকায় গুদামঘর, রেলওয়ে স্থাপনা, শিল্পকারখানা এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, দ্রুত পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করা হলে অনেক প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো। তিনি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি দ্রুত সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানান এবং বিলম্বের কারণে বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে বলে সতর্ক করেন। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছু এলাকায় রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। তবে ইউক্রেনের সরকার বলছে, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল বেসামরিক অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছে। এতে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহর আগের তুলনায় আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রেল সংযোগের আশায় পুরোনো প্রকল্প ফের চালু করছে দক্ষিণ কোরিয়া
শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে ৭ জনের মৃত্যু, বন্ধ পাহাড়ি এলাকার স্কুল
হামাস অস্ত্র না ছাড়লে গাজা ছাড়বে না ইসরায়েল: নেতানিয়াহু
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক বা দেশীয় আইনে কোনো বিশেষ অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এ.এস.এম. শাহরিয়ার কবির। সম্প্রতি ভারতে শেখ হাসিনার বর্তমান আইনি অবস্থান এবং সেখানে বসে তার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি এই দাবি করেন। এই বিশ্লেষকের মতে, ভারতে বর্তমানে শেখ হাসিনা ঠিক কী পরিচয়ে বা আইনি মর্যাদায় অবস্থান করছেন, তা একেবারেই অস্পষ্ট। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রাজনৈতিক আশ্রয় (পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম) নেননি। এমনকি তিনি কোনো নির্দিষ্ট ভিসার অধীনে সেখানে অবস্থান করছেন কি না বা তিনি ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো রাষ্ট্রীয় অতিথি কি না—সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি। শাহরিয়ার কবির তার বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করেন, আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় না নিয়ে কোনো পলাতক ব্যক্তিকে এভাবে অন্য একটি দেশে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াটা প্রচলিত আন্তর্জাতিক রীতি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে উল্লেখ্য যে, এই বক্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে ওই রাজনৈতিক বিশ্লেষকের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও দাবি। ভারতে শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থান বা আইনি মর্যাদা নিয়ে ভারতের সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পর্যন্ত এ ধরনের কোনো মন্তব্য বা বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
রাশিয়ার বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নি হত ৫
মানহীন হওয়ায় ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ