ফিলাডেলফিয়ায় রহস্যময় বাড়িতে নিখোঁজ ৫ নারী, তদন্তে একের পর এক ভ য়ংকর তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার ওলনি এলাকার একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে চলা দীর্ঘ তদন্তে এবার নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফিলাডেলফিয়া পুলিশের তদন্তে ওই বাড়ির সঙ্গে নিখোঁজ পাঁচজন নারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ফিলাডেলফিয়া পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ডব্লিউপিভিআই জানিয়েছে, নিখোঁজ ওই নারীদের মধ্যে সর্বশেষ যুক্ত হয়েছেন নিকোল ফুসারো, যিনি ২০১৮ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হন।
পুলিশ কমিশনার কেভিন বেথেল জানিয়েছেন, তদন্তের এই পর্যায়ে চলতি সপ্তাহেই নতুন কোনো বড় আপডেট আসতে পারে। মূলত ৪৪ বছর বয়সী ইউজিন হর্শের বাড়িকে কেন্দ্র করেই গত জুন মাস থেকে এই ব্যাপক তল্লাশি ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
এই মামলার সঙ্গে যুক্ত নিখোঁজ অন্য নারীদের মধ্যে রয়েছেন গ্যাব্রিয়েল আমারান্দো, যিনি ২০১২ সালে ২২ বছর বয়সে নিখোঁজ হন এবং মারিবেল ফ্রেসেস, যিনি ২০১৮ সালে ২৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হন। গত মাসে পুলিশ জানিয়েছিল যে, তদন্তে উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু ছবি ও ভিডিওতে ওই দুই নারীকে দেখা গেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে তারা আর বেঁচে নেই। তবে এখন পর্যন্ত তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এই রহস্যময় ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালে নিখোঁজ হওয়া ৩৫ বছর বয়সী ব্লেয়ার টনজেলির অন্তর্ধানের মধ্য দিয়ে। ইউজিন হর্শকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তার সঙ্গে থাকা এক নারীর কাছে টনজেলির নাম লেখা একটি পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। ওই নারী পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে, হর্শই তাকে ওই আইডি কার্ডটি দিয়েছিলেন।
এছাড়া ২০১৬ সালে নিখোঁজ হওয়া ৪৪ বছর বয়সী অ্যামি ম্যাকহেলকেও সর্বশেষ এই বাড়িতেই দেখা গিয়েছিল বলে তার পরিবার নিশ্চিত করেছে। ম্যাকহেল ছিলেন ইউজিন হর্শের প্রয়াত বাবা রেমন্ড হর্শের স্ত্রী।
তদন্তের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন রেমন্ড হর্শ। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্তকারীরা এমন একটি ভিডিও উদ্ধার করেছেন, যেখানে রেমন্ডকে এক নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করতে দেখা গেছে; যদিও ওই নারীর পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বর্তমানে আগ্নেয়াস্ত্র আইনের মামলায় ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন ইউজিন হর্শ।
গত ১৯ জুন রাতে ইনডিপেনডেন্স মলের কাছে একটি কালো বিএমডব্লিউ গাড়ি সন্দেহজনকভাবে পার্ক করা অবস্থায় দেখে এক পার্ক রেঞ্জার তাদের পরিচয় জানতে চাইলে পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ রাসায়নিক পদার্থ, মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র এবং পানির পাইপের সঙ্গে যুক্ত একটি বড় ড্রাম উদ্ধার করে। বাড়ির সামনের মাটির নিচের পাইপগুলোও পরীক্ষার জন্য তুলে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সিরিয়াল কিলার টেড বান্ডি ও লাশ গুম করার পদ্ধতি নিয়ে লেখা একটি নোটও ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। গত জুলাইয়ের শুরুতে অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহারের দায়ে ইউজিন হর্শের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের চ্যাটসওয়ার্থ এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে এর কিছুক্ষণ আগেই প্রাণঘাতী একটি বাস দুর্ঘটনার ঘটনা যেখানে সংবাদ সংগ্রহের জন্য হেলিকপ্টারটি আকাশে ছিল। লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি দুটি বাণিজ্যিক ভবনের মাঝের একটি এলাকায় পড়ে আগুন ধরে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। আরও একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তবে তার শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ফায়ার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে নর্থ মেসন অ্যাভিনিউয়ের ৯১০০ ব্লকে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। সেটি দুটি বাণিজ্যিক ভবনের মাঝের একটি পার্কিং এলাকায় পড়ে। দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারটিতে আগুন ধরে যায় এবং আশপাশে থাকা কয়েকটি গাড়ি ও দুটি বড় মালবাহী কনটেইনারেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ৫০ জনের বেশি ফায়ারফাইটার কাজ করেন। এটি একটি সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার ছিল বলে নিশ্চিত করেছে এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেস। দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় একাধিক টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার ছিল। তারা কয়েক ঘণ্টা আগে ঘটে যাওয়া একটি প্রাণঘাতী বাস দুর্ঘটনার ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করছিল। হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ এখনো জানা যায়নি। এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার কিছু পর চ্যাটসওয়ার্থের নর্ডহফ স্ট্রিট ও ডি সোটো অ্যাভিনিউ এলাকায় একটি এসইউভি লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রোর একটি বাসে ধাক্কা দেয়। ওই দুর্ঘটনায় অন্তত দুইজন নিহত এবং ছয়জন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল বাসের ভেতরে আটকে পড়া লোকজনকে বের করতে কাজ করে। সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টারটি ওই বাস দুর্ঘটনার খবর সংগ্রহের সময় আকাশে ছিল। বাস দুর্ঘটনার স্থান থেকে প্রায় দেড় মাইল দূরে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয় বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। হেলিকপ্টারটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে এর ভেতরে কতজন ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করতে হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যায়। ফায়ারফাইটাররা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ধ্বংসাবশেষের মধ্যে তল্লাশি চালান। প্রাথমিকভাবে মাটিতে থাকা একজন ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে কর্তৃপক্ষ মোট তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। নিহতদের মধ্যে কতজন হেলিকপ্টারে ছিলেন এবং কতজন মাটিতে ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া হয়নি। হেলিকপ্টারটির দুর্ঘটনার কারণ এখনো তদন্তাধীন। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ, উড্ডয়নসংক্রান্ত তথ্য এবং দুর্ঘটনার আগে এর গতিপথসহ বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করবেন। কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ
নিউইয়র্কে ২৫ লাখ পরিবারের জন্য ইউটিলিটি বিলে ৫০০ ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ
৫ বছরের সন্তানকে গাড়িতে রেখেই পার্টিতে বাবা-মা, অতিরিক্ত গরমে শিশুর মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের মনমাউথে স্মিথফিল্ড ফুডসের মাংস প্রক্রিয়াজাত কারখানায় এক কর্মীর মৃত্যুর পর কাজ ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন প্রায় ১০০ শ্রমিক। কর্মীদের দাবি, মৃত্যুর ঘটনা জানার পরও সেদিন উৎপাদন চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মীদের কাজ চালিয়ে যাওয়া বা চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকালে। স্মিথফিল্ড ফুডসের মনমাউথ কারখানায় কর্মরত এক ব্যক্তি কর্মক্ষেত্রের একটি ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মারা যান। কোম্পানি পরে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, নিরাপত্তাকর্মীরা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মিলে ঘটনার তদন্ত করছেন। নিহত কর্মীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেডব্লিউকিউসি জানিয়েছে, সোমবার ভোরে প্রায় সাড়ে ৫টার দিকে কর্মীদের মোবাইলে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে কারখানায় সেদিন কাজ শুরুতে দেরি হবে বলে জানানো হয়েছিল। পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কর্মীরা কারখানায় পৌঁছে জানতে পারেন, সেখানে একজন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। কারখানার এক কর্মী কেডব্লিউকিউসিকে জানান, কর্মীরা তখন স্বাভাবিকভাবে কাজে না গিয়ে মধ্যাহ্নভোজের কক্ষে জড়ো হন। সেখানে কয়েকজনকে কাঁদতে এবং অন্যদের মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখা যায় বলে তিনি জানান। ওই কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মীদের একাংশ কারখানার ব্যবস্থাপকের কাছে প্রশ্ন তোলেন, মৃত্যুর ঘটনার পরও কেন তাঁদের কাজে থাকতে হবে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কাজ বন্ধ রাখার দাবিও জানান। ব্যবস্থাপক কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁর দরজা খোলা রয়েছে বলে জানান বলে ওই কর্মী দাবি করেন। তবে কর্মীদের দাবি, এরপরও সেদিন উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এক কর্মী জানান, তিনি তাঁর তত্ত্বাবধায়ককে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হতে জিজ্ঞাসা করলে তাঁকে বলা হয়, ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ চলবে। এরপর তিনি মানবসম্পদ বিভাগে যোগাযোগ করে কারখানা থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে আরও অনেক কর্মী কারখানা থেকে বেরিয়ে যান এবং পরে সেটি বড় আকারের কর্মী ওয়াকআউটে পরিণত হয়। ওই কর্মীর হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ১০০ জন সেদিন কাজ ছেড়ে কারখানা থেকে বেরিয়ে যান। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। কর্মীদের একজন বলেন, তাঁদের কাছে ঘটনাটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত সহকর্মীর পাশাপাশি তাঁর পরিবার, বন্ধু ও অন্যান্য কর্মীদের প্রতিও যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি বলে তাঁদের মনে হয়েছে। তবে এটি কর্মীদের ব্যক্তিগত বক্তব্য এবং কোম্পানি এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। স্মিথফিল্ড ফুডস পরে জানায়, কর্মীদের কাজ চালিয়ে যাওয়া কিংবা চলে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলেন, একজন সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় তারা গভীরভাবে শোকাহত এবং ঘটনার তদন্তে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। কোম্পানির নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে তদন্তে অংশ নিচ্ছেন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, সোমবারের ঘটনাটি একটি কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও যুক্তরাষ্ট্রের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য প্রশাসন, ওএসএইচএ, ঘটনার কারণ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কীভাবে ওই কর্মী আহত হন এবং মৃত্যুর জন্য ঠিক কী কারণে দায়ী ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ওই কারখানার এক কর্মী দাবি করেন, মনমাউথ কারখানায় এটি তাঁর জানা মতে চতুর্থ কর্মীর মৃত্যু। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগের তিনটি মৃত্যু স্বাস্থ্যগত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল। এবারের ঘটনাটিই যন্ত্রপাতির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রথম মৃত্যু বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে আগের ঘটনাগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। স্মিথফিল্ড ফুডসের মনমাউথ কারখানাটি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত একটি বড় উৎপাদনকেন্দ্র। বিভিন্ন সরকারি নথিতে প্রতিষ্ঠানটিকে মনমাউথ এলাকার অন্যতম বড় নিয়োগদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কারখানাটি শূকরের মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি শূকরের অন্ত্র বা আবরণজাত পণ্য সরবরাহ করে। ঘটনার পর কর্মীদের ওয়াকআউট এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ, কারখানায় নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং উৎপাদন চালুর সিদ্ধান্তের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। কর্মকর্তারা ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। নিহত কর্মীর নামও এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: কেডব্লিউকিউসি, গ্রে নিউজ।
১০০টির বেশি পাখির ডাক নকল করতে পারে ১২ বছরের স্যামুয়েল, তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ নেট দুনিয়া
নিউইয়র্কে বন্ধুকে সাহায্য করতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণীসহ দুজনের মৃত্যু
ফিলাডেলফিয়ায় রহস্যময় বাড়িতে নিখোঁজ ৫ নারী, তদন্তে একের পর এক ভ য়ংকর তথ্য
বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া ‘সেভ’ (SAVE) রিপেমেন্ট প্ল্যান থেকে সরে এসে নতুন ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছেন প্রায় ১৫ লাখ মার্কিন শিক্ষার্থী। তবে এখনও এই প্ল্যানের আওতায় থাকা বাকি প্রায় ৬০ লাখ ঋণগ্রহীতার ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মূলত মাসিক কিস্তির পরিমাণ কমানো এবং দ্রুত ঋণ মওকুফের সুবিধা দিতে এই প্ল্যানটি চালু করা হলেও, ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের বসন্তে তা বাতিল করে দেয়। এরপর গত ১ জুলাই থেকে ঋণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্ল্যানের আওতাভুক্তদের ৯০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নোটিশ পাঠাতে শুরু করে। এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো প্ল্যান বেছে না নিলে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের সর্বোচ্চ কিস্তির ‘স্ট্যান্ডার্ড’ বা সাধারণ প্ল্যানে যুক্ত করা হবে বলে সতর্ক করা হয়। জানা গেছে, প্রথম ধাপে নোটিশ পাওয়া ঋণগ্রহীতাদের ৯০ দিনের সময়সীমা আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। মার্কিন শিক্ষা দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, ইতোমধ্যে ১৫ লাখ ঋণগ্রহীতা নতুন প্ল্যান বেছে নেওয়ায় তারা এখন ঋণ মওকুফের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন, যা থেকে বাকিরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে প্রায় ৮০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৬০ লাখ গ্রহীতা এখনও সেভ প্ল্যান থেকে সরে আসেননি। এদের মধ্যে অনেকেই এখনও নোটিশের অপেক্ষায় আছেন। আবার কেউ কেউ ঋণ মওকুফের সুবিধা পেতে নোটিশ পাওয়ার আগেই ইনকাম-ড্রিভেন বা পাবলিক সার্ভিস লোন ফরগিভনেস-এর মতো অন্য প্ল্যানে যুক্ত হয়েছেন। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সেভ প্ল্যানের আওতাভুক্ত সব গ্রহীতাকে পর্যায়ক্রমে নোটিশ পাঠানো সম্পন্ন হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন প্ল্যান বেছে না নিলে কীভাবে তাদের স্ট্যান্ডার্ড প্ল্যানে স্থানান্তর করা হবে, সে বিষয়ে শিক্ষা দপ্তর বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে, নতুন প্ল্যানে যুক্ত হতে গিয়ে অনেককেই নানা রকম কারিগরি ত্রুটি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, তাদের আসল কিস্তির চেয়ে ভুল করে বেশি অর্থের বিল পাঠানো হয়েছে। এমনকি কাউকে কাউকে বকেয়া না থাকা সত্ত্বেও তাদের অ্যাকাউন্ট খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বিভ্রান্তিকর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দপ্তর এসব ত্রুটির কথা স্বীকার করে তা সমাধানের দাবি করলেও, অনেক গ্রহীতা এখনও তাদের সঠিক কিস্তির পরিমাণ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। এর মাঝেই ঋণগ্রহীতাদের জোরপূর্বক নতুন প্ল্যানে যুক্ত করার এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ‘পাবলিক গুডস প্র্যাকটিস’ নামের একটি আইনি প্রতিষ্ঠান গত জুনে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। মামলার চূড়ান্ত রায় এখনও ঝুলে থাকলেও, শিক্ষা দপ্তর এসব আইনি অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রহীতাদের দ্রুত যেকোনো একটি ‘বৈধ’ রিপেমেন্ট প্ল্যান বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে ১ বিলিয়ন ডলারের গৃহহীন তহবিল কেলেঙ্কারি, কংগ্রেসের তোপের মুখে মেয়র
মার্কিন ট্রেজারি ইয়েল্ড ১৯ বছরের সর্বোচ্চ, ১০৫ ডলার ছাড়াল তেলের দাম