সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার মূল লজিস্টিক হাব ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের ভয়াবহ হামলা, নিহত ৪; জ্বালানি বিক্রি স্থগিত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ১৯:২৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে ইউক্রেনের এক ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন। এই হামলার পরপরই ক্রিমিয়াজুড়ে সাধারণ নাগরিকদের কাছে সব ধরনের জ্বালানি বিক্রি স্থগিত করেছে মস্কো-সমর্থিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক মাসের মধ্যে ক্রিমিয়া উপদ্বীপে চালানো সবচেয়ে বড় এই হামলায় সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে মূল লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কিয়েভ। রাশিয়ার চার বছর ধরে চলা সামরিক অভিযানের প্রধান রসদ সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ক্রিমিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, যে কারণে শুরু থেকেই এটি ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

 

ক্রিমিয়ার রুশ-সমর্থিত গভর্নর সের্গেই আকসিওনভ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কার্চ উপদ্বীপে শত্রুদের ড্রোন হামলার কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও জানান, ২১ জুন সকাল ৯টা থেকে ক্রিমিয়ার সব পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এখন থেকে কেবল রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'ক্রিমএনারগো' জানিয়েছে, হামলার পর ২০১৪ সালে রাশিয়ার সংযুক্ত করা এই উপদ্বীপের বেশ কিছু এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

 

এছাড়া ক্রিমিয়া সীমান্তবর্তী রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদর অঞ্চলেও এই ব্যাপক হামলার প্রভাব পড়েছে। সেখানে একটি ফেরিতে হামলায় একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি একটি তেলের টার্মিনালেও আঘাত হানা হয়েছে। অন্যদিকে, পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার নৈশকালীন পাল্টা হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে রাশিয়ার ওপর 'দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, গত রাতে তাদের এই দূরপাল্লার হামলায় দখলদারদের সামরিক রসদ, তেল শিল্প এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইউক্রেনীয় নাগরিকদের ওপর রাশিয়ার নিষ্ঠুর ও ধারাবাহিক হামলার 'ন্যায্য জবাব' হিসেবেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

এর পাশাপাশি ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করা কৌশলগত ক্রিমিয়ান ব্রিজ, বেশ কয়েকটি রাডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতেও আঘাত হানার কথা জানিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। দূরপাল্লার ড্রোনের সক্ষমতা বৃদ্ধির পর কিয়েভ এখন অবরুদ্ধ দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের ভূমি ব্যবহার করে সহজেই রুশ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় এই সংঘাত বন্ধের আলোচনা বর্তমানে পুরোপুরি স্থবির হয়ে আছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রেও একধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে এরদোগানের ১৬তম ভাষণ, গুরুত্ব পাচ্ছে গাজা ও ফিলিস্তিন
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে এরদোগানের ১৬তম ভাষণ, গুরুত্ব পাচ্ছে গাজা ও ফিলিস্তিন

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত আহমেত ইলদিজ, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সেদাত ওনাল এবং নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল মুহিত্তিন আহমেত ইয়াজালসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কূটনৈতিক কর্মকর্তারা।   ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক বিমানবন্দর থেকে রওনা হওয়া তুর্কি প্রেসিডেন্টের এই সফরে তাঁর সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোগান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, অর্থমন্ত্রী মেহমেত সিমশেক, বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এমআইটি) প্রধান ইব্রাহিম কালিনসহ উচ্চপদস্থ সরকারি ও কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের একটি বড় প্রতিনিধিদল।   আগামী মঙ্গলবার উচ্চপর্যায়ের এই অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে নিজের বার্ষিক ভাষণ দেবেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। সাধারণ পরিষদের মঞ্চে এটি হবে তাঁর ১৬তম উপস্থিতি। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের ভাষণে তিনি গাজায় ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক আগ্রাসন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জরুরি প্রয়োজনীয়তা এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বৈশ্বিক কূটনৈতিক ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেবেন।   অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান চরম মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে ফিলিস্তিন ও এর প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে একটি সম্মিলিত, সুস্পষ্ট ও জোরালো অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানাবেন তিনি।   নিউইয়র্কে অবস্থানকালে এই সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। এছাড়া আগামী বুধবার জাতিসংঘ মহাসচিবের জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনেও তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়া শহরে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন 'কপ-৩১' (COP31) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার আয়োজক হিসেবে তুরস্ক এই অধিবেশনে নিজেদের প্রস্তুতি ও অঙ্গীকারের বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ২২:১০
ইরানে বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ফরাসি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ, বাড়ছে কূটনৈতিক উত্তেজনা

ইরানে বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ফরাসি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ, বাড়ছে কূটনৈতিক উত্তেজনা

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে

নেপালে বন্যার এক মাস পরও নিখোঁজ ৬ হাজার, মৃ তের সংখ্যা ছাড়াল ১,৪৫০

এআই মানবসভ্যতা ধ্বংস করবে না, ‘ডুমসডে’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া সিইও

এআই মানবসভ্যতা ধ্বংস করবে না, ‘ডুমসডে’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া সিইও

ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে ঘিরে পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনা
ইমরান খানের বোনকে গ্রে প্তার, ২৭ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের আগে পাকিস্তানে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষের ধারণা, স্বচ্ছন্দে অবসরজীবন কাটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত শ্রোডার্সের এক জরিপেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে অবসরের পর এই অর্থ কতদিন চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর।   ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিলায়ন ১২ লাখ ডলার অবসর সঞ্চয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কত বছর চলতে পারবেন, তার একটি হিসাব করেছে। এতে দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে—একটি ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাবেন, অন্য ক্ষেত্রে পাবেন না।   হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা। সেখানে ৬৭ বছর বয়সে অবসর নিলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ৪৪ দশমিক ৬ বছর চলতে পারে। অর্থাৎ সঞ্চয় শেষ হতে পারে ১১১ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে। সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকলেও এই অর্থ সেখানে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে।   এরপর রয়েছে আলাবামা, মিসিসিপি, কানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব রাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলার যথাক্রমে প্রায় ৪৩ দশমিক ১, ৪২, ৪০ দশমিক ৮ ও ৪০ দশমিক ৫ বছর চলতে পারে। ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, মিসৌরি, টেনেসি ও আরকানসাসেও একই অর্থ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় চলার হিসাব পাওয়া গেছে। টেনেসিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ বছর এবং সুবিধা ছাড়া প্রায় ২২ বছর চলতে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোতে একই পরিমাণ অর্থ অনেক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিলায়নের বিশ্লেষণে হাওয়াইকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে পাওয়া গেছে। সেখানে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থাকলেও ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ১৩ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের পর ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আলাস্কা ও নিউইয়র্কেও অবসরের নির্দিষ্ট বাজেট তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে।   তবে ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোও অনেক আমেরিকানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রোডার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে তারা সাত অঙ্কের সঞ্চয় করতে পারবেন।   সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়েও অনিশ্চয়তা   এদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের দিকে কর্মসূচিটির তহবিল সংকটে পড়তে পারে এবং সংস্কার না হলে সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন ও বিল ক্যাসিডি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর তহবিলকে অন্তত ৫০ বছর আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা।   ক্যাসিডি ও সিনেটর টিম কেইন-এর আরেকটি প্রস্তাবে ৭৫ বছরের জন্য শেয়ারবাজারসহ তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক অর্থ ট্রেজারি বিভাগের অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে জোগানের কথা রয়েছে।   অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি মোরেনো সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই কর প্রযোজ্য। তাদের যুক্তি, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের আওতা বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে।   তবে রক্ষণশীল কয়েকটি সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, কর বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মজুরি ও কর্মসংস্থানে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৬:৩১
যুদ্ধের ধাক্কায় ইরানে পেট্রল সংকট, স্টেশনে দীর্ঘ যানবাহনের সারি

পেট্রল সংকটে বিপর্যস্ত ইরান, দাম দ্বিগুণের পথে: ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

স্কুলগুলোতে হিজাব ও বোরকা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে ইতালি সরকার। ছবি: সংগৃহীত

ইতালির স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে হিজাব-বোরকা, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও সীমিত করার পরিকল্পনা

মুম্বাইয়ের কোলাবার ১০৮ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ক্যাফে অলিম্পিয়া কফি হাউস। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিস্টোফার নোলান সহ সেলিব্রেটিদের যাওয়া মুম্বাইয়ের ক্যাফেতে মিলল তেলাপোকা! লাইসেন্স বাতিল

দুবাইয়ের একটি মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজের ভঙ্গি অনুসরণ করছে মানবাকৃতির রোবট ‘বু সুনাইদাহ’। ছবি: সংগৃহীত
দুবাইয়ের মসজিদে আযান ও নামাজ পরাচ্ছে রোবট, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজের সময় ‘বু সুনাইদাহ’ নামে একটি মানবাকৃতির রোবটকে মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজের বিভিন্ন ভঙ্গি অনুসরণ করতে দেখা গেছে। ২০২৬ সালের ২৭ মে ঈদের দিন ধারণ করা ওই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রযুক্তি ও ধর্মীয় পরিবেশের সংযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। গালফ নিউজও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।    ভিডিওতে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী আমিরাতি পোশাক কান্দুরা ও শেমাগ পরা বু সুনাইদাহ একটি গাড়ি থেকে নেমে মসজিদের দিকে যায়। পরে মুসল্লিদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে নামাজের বিভিন্ন ভঙ্গি অনুসরণ করতে দেখা যায় রোবটটিকে। বু সুনাইদাহর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এই আয়োজনকে শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।    গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বু সুনাইদাহ মূলত ইউনিট্রি জি১ মডেলের একটি মানবাকৃতির রোবট। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এটি আমিরাতি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বিভিন্ন জনসমাগমের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ভিডিওর মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে। প্রযুক্তি ও স্থানীয় সংস্কৃতির সমন্বয়ে তৈরি এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক দর্শক আকর্ষণ করেছে।    এর আগে বু সুনাইদাহকে আজান দেওয়ার একটি ভিডিওও অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। গালফ নিউজ জানিয়েছে, ওই ভিডিও ১৩ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছিল। রোবটটির নাম ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ঘিরে এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অনুসারী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।    ঈদের নামাজের ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়াও ছিল ভিন্নধর্মী। কেউ প্রযুক্তি ও আমিরাতি সংস্কৃতির এমন মেলবন্ধনকে আকর্ষণীয় ও শিক্ষামূলক হিসেবে দেখেছেন। আবার কেউ ধর্মীয় ইবাদতের পরিবেশে একটি রোবটের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এসব প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মতামত, কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় সিদ্ধান্ত নয়।    তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ভিডিওকে দুবাইয়ের মসজিদগুলোতে নিয়মিত রোবট দিয়ে আজান দেওয়া বা রোবটকে আনুষ্ঠানিক মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখানোর মতো তথ্য পাওয়া যায় না। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বু সুনাইদাহর মসজিদে উপস্থিতিকে মূলত একটি ব্যতিক্রমী ও শিক্ষামূলক প্রদর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। রোবট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও শিশুদের ঐতিহ্য ও ঈদের সংস্কৃতি সম্পর্কে শেখানোর উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছে।    দুবাইয়ে ঈদুল আজহার নামাজের জন্য ২০২৬ সালে ৯৩৭টি মসজিদ প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে গালফ নিউজ জানিয়েছে। ফলে বু সুনাইদাহর মসজিদে উপস্থিতির ভিডিওটি বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত ঈদের নামাজের সময় ধারণ করা একটি বিশেষ দৃশ্য হিসেবে সামনে আসে।    বু সুনাইদাহর কর্মকাণ্ড এর আগেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি বিভিন্ন জনসমাগম ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিয়েছে এবং প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে একসঙ্গে তুলে ধরার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। রোবটটির নির্মাতা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত এসএস লুতাহ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ইউসুফ লুতাহ রয়টার্সকে বলেছেন, শিশুদের আমিরাতি ঐতিহ্য ও ঈদের সংস্কৃতি সম্পর্কে শেখানোর উদ্দেশ্যেই মসজিদে রোবটটির উপস্থিতি দেখানো হয়েছিল।    ফলে দুবাইয়ের মসজিদে রোবটের ঈদের নামাজ অনুসরণের ঘটনাটি প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির একটি আলোচিত প্রদর্শন হলেও, এটিকে মসজিদে নিয়মিত রোবট দিয়ে আজান বা ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের নতুন ব্যবস্থা চালুর ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা তথ্যসম্মত হবে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৯:৫১
ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ

ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও সীমা

ইউক্রেনের ড্রোন হা ম লার পর মস্কোর একটি তেল শো ধ না গার থেকে ধোঁয়া উঠছে

মস্কোতে ইউক্রেনের ‘সবচেয়ে বড়’ ড্রোন হা ম লা, এক রাতে উড়ল হাজারের বেশি ড্রোন

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তিনটি শর্ত পাঠানো ইরানের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান মোহসেন রেজাই। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের তিন শর্তে যুদ্ধ বন্ধের বার্তা, ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় তেহরান

0 Comments