সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

বাহরাইনে ড্রোন হামলার পর পাল্টা মার্কিন আঘাত, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে সংঘাতের শঙ্কা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:২৩
বাহরাইনে ইরানি ড্রোন হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চরমে l ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
বাহরাইনে ইরানি ড্রোন হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চরমে l ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে অত্যন্ত ধীরগতিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দেখা গেছে। এর আগে বাহরাইনে চালানো ইরানের একটি ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো। সংযুক্ত আরব আমিরাত এই হামলার কড়া সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ঘাঁটির অন্যতম কেন্দ্রস্থল কুয়েত একে ‘অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের (পঞ্চম নৌবহর) আবাসস্থল বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে তাদের ‘সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

 

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারেও অজানা প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। এতে জাহাজটির কিছুটা ক্ষতি হলেও এর ক্রুরা সম্পূর্ণ অক্ষত আছেন। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক জলপথ দিয়ে মাত্র দশটি বাণিজ্যিক জাহাজ পার হতে পেরেছে। মূলত গত বৃহস্পতিবার ওমানের উপকূলে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘এম/ভি এভার লাভলি’-তে ইরানের ড্রোন হামলার পর থেকেই এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। ওই হামলার জবাবে শুক্রবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণের স্থান এবং উপকূলীয় রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ‘শক্তিশালী পাল্টা হামলা’ চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী (সেন্টকম)।

 

মার্কিন সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকা একটি মেরিটাইম বডি ওমান উপকূল বরাবর জাহাজের রুট সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছে, যা তেহরানের প্রতি একটি কড়া সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী, এই প্রণালিটি ৬০ দিনের জন্য টোল-মুক্ত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্ভূত হুমকিকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানি বাহিনীর এমন অযৌক্তিক আগ্রাসন স্পষ্টতই যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন এবং এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

 

এদিকে, গত সোমবার সুইজারল্যান্ডে ইরানের সাথে এক বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং আমরা সেটির প্রতি সম্মান দেখিয়েছি। চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে তাদের কোনো দ্বিমত থাকলে তারা ফোনে কথা বলতে পারে।" তবে ইরানিদের এই আগ্রাসন চলতে দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "সহিংসতার জবাব কেবল পাল্টা সহিংসতার মাধ্যমেই দেওয়া হবে।"


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
সাফল্যের স্মারক হিসেবে হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীরা নতুন মা-বাবাকে অভিনন্দন জানিয়ে থাম্বস-আপ প্রদর্শন করছেন। ছবি: ক্রিস্টিনা এবং কনস্টান্টিনোস রাপটিস-জেলেপির সৌজন্যে
ছেলেকে হারানোর পর ২২ বছরের সংরক্ষিত ভ্রূণ থেকে কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন ৫৪ বছরের নারী

সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ বছর বয়সী ছেলেকে হারানোর কয়েক মাস পর ২২ বছরের বেশি সময় হিমায়িত রাখা ভ্রূণ থেকে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন গ্রিসের ক্রিস্টিনা রাপ্তি-তজেলেপি। চিকিৎসকের তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর শিশুটির জন্ম হয়। মা ও মেয়েকে ঘিরে ঘটনাটি একই পরিবারের দীর্ঘদিন আগের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত।    ২০০৪ সালে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফ চিকিৎসায় তৈরি ভ্রূণ থেকে দম্পতির প্রথম সন্তান, একটি ছেলে, জন্ম নেয়। ওই চিকিৎসার সময় তৈরি আরেকটি ভ্রূণ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। সেই ছেলেই ২০২৫ সালের অক্টোবরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বলে জানিয়েছেন ক্রিস্টিনার চিকিৎসক কনস্তান্তিনোস পান্তোস।    ছেলের মৃত্যুর পর সংরক্ষিত ভ্রূণটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন ক্রিস্টিনা ও তাঁর স্বামী কনস্তান্তিনোস রাপ্তিস। গত ডিসেম্বরে ভ্রূণটি ক্রিস্টিনার জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। এর পর জন্ম নেওয়া মেয়েটি তাঁদের প্রথম সন্তানের সহোদরা।    ক্রিস্টিনার বয়স এখন ৫৪ বছর। চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রিসে আইভিএফ চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটিই নারীদের সর্বোচ্চ অনুমোদিত বয়স। দম্পতির আরও ভ্রূণ সংরক্ষিত থাকলেও বয়সসংক্রান্ত নিয়মের কারণে নতুন করে সন্তান নেওয়ার সুযোগ তাঁরা পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।    এখানে ‘২২ বছরের ভ্রূণ’ বলতে শিশুটির বয়স বোঝানো হচ্ছে না। জন্মের আগে ভ্রূণটি ২২ বছরের বেশি সময় হিমায়িত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১০:৪৭
যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক তিনটি গাড়ির খবর পেয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: গেটি ইমেজ

যুক্তরাজ্যে ইউএস বোমারু বিমানঘাঁটিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সময় বিস্ফোরকসহ গ্রেফতার ৫

কানাডায় বসবাসকারী ভারতীয় নারী কানুপ্রিয়া প্রবাসজীবনের আড়ালে থাকা ব্যক্তিগত কষ্টের কথা বলেছেন। ছবি: সংগৃহীত

‘মানুষ ডলারের হিসাব দেখে, দূর প্রবাস জীবনের ত্যাগ দেখে না’: বাবা-মায়ের স্মৃতিতে আবেগি ভারতীয় নারী

নাজ জোশী ছবি:সংগৃহীত

পড়াশোনার খরচ জোগাতে দেহব্যবসা ও বারে নাচ, সেই নাজ জোশী'র ৭ আন্তর্জাতিক খেতাব

গুয়াহাটির হোমস্টেতে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃ ত্যুর ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ
মাকে ফোনে ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’, কয়েক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, প্রেমিক গ্রে প্তা র

ভারতের আসামের গুয়াহাটিতে একটি হোমস্টেতে অবস্থানের পর গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নিমিশা ঠাকুরিয়ার রহস্যজনক মৃ ত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা ২৬ বছর বয়সী আসিফ আলী ওরফে আশিক আলীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। মৃ ত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত না হলেও শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় ঘটনাটি সম্ভাব্য হ ত্যা কা ণ্ড হিসেবেও তদন্ত করছে পুলিশ।   শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে গুয়াহাটির আজারা এলাকার গারালের একটি হোমস্টেতে নিমিশা ও আসিফ অবস্থান করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অচেতন অবস্থায় নিমিশাকে গারাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে তাকে গৌহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকেরা মৃ ত ঘোষণা করেন। নিমিশার বয়স ২১ বছর।   আসিফ পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, নিমিশা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁ স দিয়ে আ ত্ম হ ত্যা করেছেন। তবে গুয়াহাটি পশ্চিমের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ বলিন দেওরি জানিয়েছেন, পুলিশ ওই বক্তব্য সরাসরি গ্রহণ করছে না। তিনি বলেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং ঘটনাটি হ ত্যা কা ণ্ড হতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।   পুলিশের সন্দেহ বাড়িয়েছে নিমিশার শরীরে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন। তবে এসব আঘাত কীভাবে হয়েছে এবং মৃ ত্যুর সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ম য় না ত দ ন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃ ত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ঘটনার আগে পরিবারের সঙ্গে নিমিশার শেষ ফোনালাপও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার বাবা দীপ ঠাকুরিয়ার দাবি, রাত প্রায় ২টার দিকে নিমিশা তার মাকে ফোন করে জানান, তাকে মা র ধ র করা হচ্ছে এবং বুকে আঘাত করা হয়েছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে আর ঠিকভাবে যোগাযোগ করতে পারেননি। অন্য একটি বর্ণনায় পরিবারের ঘনিষ্ঠজনের বরাতে নিমিশার শেষ কথাগুলোর মধ্যে ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   নিমিশার বাবা জানিয়েছেন, মেয়ের ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরিবারের অভিযোগের বিষয়টিও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।   পুলিশ হোমস্টেটিও সিল করে দিয়েছে। অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণে অনিয়ম পাওয়ার অভিযোগে হোমস্টের রেজিস্টারসহ বিভিন্ন নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিমিশার মোবাইল ফোনও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোমস্টের মালিক ও কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধান চলছে।   ঘটনার পর আজারা ও ধরাপুর এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। একটি হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় মহাসড়ক ১৭ অবরোধ করে এবং ঘটনাটিকে ‘লাভ জিহাদ’ বলে অভিযোগ করেন। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এমন কোনো উদ্দেশ্য বা ধর্মীয় যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার কথা জানায়নি এবং মৃ ত্যুর সব সম্ভাব্য দিক তদন্ত করা হচ্ছে।   এনডিটিভি উল্লেখ করেছে, ‘লাভ জিহাদ’ শব্দটি ভারতের কিছু হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর ব্যবহৃত একটি বিতর্কিত ধারণা, যেখানে মুসলিম পুরুষরা ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে হিন্দু নারীদের প্রেমের সম্পর্কে জড়ান বলে দাবি করা হয়। নিমিশার ঘটনায় এমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তার প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি পুলিশ।   সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য উইক, দ্য স্টেটসম্যান, এএনআই  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ৭:৩২
ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই, জাতিসংঘে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের তাগিদ চীনের

ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই, জাতিসংঘে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের তাগিদ চীনের

জাপানের ধনী পরিবারগুলো দত্তক নিচ্ছে ঘরজামাই, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও

জাপানের ধনী পরিবারগুলো দত্তক নিচ্ছে ঘরজামাই, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও

দুবাইয়ে ক্যানসার আক্রান্ত ২ বছরের শিশুর চিকিৎসায় এক সপ্তাহে ৪ লাখ ৫ হাজার দিরহাম সংগ্রহ

দুবাইয়ে ক্যানসার আক্রান্ত ২ বছরের শিশুর চিকিৎসায় এক সপ্তাহে ৪ লাখ ৫ হাজার দিরহাম সংগ্রহ

গ্রিসে পর্যটন এলাকায় গ্যাস  বি স্ফোরণে ভবন ধস, ৪ মার্কিন পর্যটকসহ প্রাণ গেল ৬ জনের
গ্রিসে পর্যটন এলাকায় গ্যাস বি স্ফোরণে ভবন ধস, ৪ মার্কিন পর্যটকসহ প্রাণ গেল ৬ জনের

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা প্লাকায় সন্দেহভাজন গ্যাস বিস্ফোরণে একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে অ্যাক্রোপোলিস সংলগ্ন এলাকায় তিনতলা ওই ভবনটিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।   এথেন্সের মেয়র হ্যারিস ডুকাস জানিয়েছেন, সম্ভবত গ্যাস লিকেজ থেকেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চারজন মার্কিন পর্যটক রয়েছেন, যাঁরা একটি পরিবারের সদস্য। বাকি দুজন হলেন দ্বিতীয় তলায় বসবাসরত এক বয়স্ক ব্রিটিশ নাগরিক ও তাঁর গ্রিক স্ত্রী।   জানা গেছে, নিহত ওই মার্কিন পরিবারটি প্রথম তলার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন এবং শুক্রবার কয়েক ঘণ্টা পরই তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ফ্লাইট ছিল। বিমানবন্দরে যাওয়ার প্রস্তুতিকালেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণে পুরো আবাসিক ভবনটি ধসে পড়ে।   বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, আশপাশের সম্পত্তি এবং রাস্তায় পার্ক করে রাখা একাধিক গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, লিসিক্রাটাস স্ট্রিটের পাশের একটি ভবন থেকে অন্তত দুজন নারী আহত হয়েছেন।   শনিবার ঘটনাস্থলে এএফপির সাংবাদিকদের থার্মাল-ইমেজিং ক্যামেরা ও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরাতে দেখতে পাওয়া যায়। এথেন্সের মেয়র ডুকাস পুরো ঘটনাটিকে একটি ‘অবিশ্বাস্য বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।   তিনি জানান, বিস্ফোরণের কারণে পার্শ্ববর্তী দুটি ভবনও চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব নাকি ভেঙে ফেলতে হবে, তা নির্ধারণে বর্তমানে নিবিড় পরিদর্শন চলছে।   গ্রিক দৈনিক কাথিমেরিনির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্লাকা এলাকার বাসিন্দারা প্রায় এক বছর আগেই সম্ভাব্য গ্যাস লিকেজ বা শর্টসার্কিটের ঝুঁকি নিয়ে সিটি কর্পোরেশন ও পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছিল।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্থানীয় এক নাগরিক গ্রুপ জানায় যে, বিস্ফোরণের আগে এক বাসিন্দা গ্যাসের তীব্র গন্ধ পেয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দিয়েছিলেন।   বিশ্বের অন্যতম পরিচিত প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ অ্যাক্রোপোলিসের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এই এলাকাটি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়, যেখানে গত বছর প্রায় ৪৬ লাখ দর্শনার্থী ভ্রমণ করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:৪০
ছত্তিশগড়ের কাঙ্গের ভ্যালি জাতীয় উদ্যানের পরিচালকের অফিসে ছেলের চেয়ারে বসেছেন মা সখুবাই পাডিভার। ছবি: সংগৃহীত

বর্জ্য কুড়িয়ে সন্তানকে পড়িয়েছেন মা, ছেলে গৌতম এখন বন কর্মকর্তা

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক প্লাকা এলাকায় বিস্ফোরণে একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বাসায় ফেরার দিনই বিস্ফোরণ! এথেন্সে ভবন ধসে মার্কিন দম্পতির মৃত্যু

গ্রেটার নয়ডায় যাত্রীবাহী বাসে আ গুনে মা ও ছেলের ম র্মা ন্তিক মৃ ত্যু

মাকে বাঁচাতে জ্ব ল ন্ত বাসে রয়ে গেলেন ছেলে, আ গু নে দুজনেরই মৃ ত্যু

0 Comments