আন্তর্জাতিক

ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত ৯২০, বড় পরীক্ষায় ডোনাল্ড ট্রাম্প

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ১২:৪৩
শুক্রবার ভেনেজুয়েলায় পৌঁছে বিমানবন্দরের রানওয়েতে মার্কিন উদ্ধারকারী দল | ছবি: রয়টার্স
শুক্রবার ভেনেজুয়েলায় পৌঁছে বিমানবন্দরের রানওয়েতে মার্কিন উদ্ধারকারী দল | ছবি: রয়টার্স

ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প এখন লাতিন আমেরিকায় মার্কিন ক্ষমতার এক নতুন পরীক্ষা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের এক ঝটিকা অভিযানে ভেনিজুয়েলার দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র শাসক নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত ও বন্দি করার পর দেশটির বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিজেদের মিত্র হিসেবে ঘোষণা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। আর সেই মিত্র দেশটিতেই এই প্রলয়ংকরী দুর্যোগের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি বিশাল, দ্রুত এবং কার্যকর উদ্ধার ও ত্রাণ মিশন পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

 

ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ২৫০ জনেরও বেশি সদস্যের একটি বিশেষ বিপর্যয় সহায়তা রেসপন্স টিম পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল সহায়তা তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে, যা যেকোনো দুর্যোগের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম বড় অনুদান।

 

তবে এই উদ্ধার অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি মরণপণ পরীক্ষা। কারণ, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা বা ইউএসএআইডির বাজেট ও জনবল ব্যাপকভাবে ছাঁটাই করেছেন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার পুরো দায়িত্ব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করেছেন। এই কাটছাঁটের কারণে ওই অঞ্চলে আগে যেখানে ১৪৪ জন অভিজ্ঞ ত্রাণকর্মী মাঠপর্যায়ে কাজ করতেন, সেখানে এখন মাত্র ১৪ জন সদস্য অবশিষ্ট আছেন।

 

এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কারাকাসে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছে এবং আমাদের অনেক লোক সেখানে সাহায্য করছে। মাদুরোকে বন্দি করার পর থেকে ভেনিজুয়েলার সাথে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আমরা সেখান থেকে লাখ লাখ ব্যারেল তেল তুলে নিয়েছি, যা যুদ্ধের খরচ বহুবার পুষিয়ে দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই ভূমিকম্পের ঘটনা বাদ দিলে ভেনিজুয়েলা এখন একটি সুখী দেশ।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের নির্দেশে গঠিত ভেনিজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেসের সরকারকে টিকিয়ে রাখা এবং অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এই বিপর্যয় মোকাবিলা করা ওয়াশিংটনের জন্য এখন অত্যন্ত মর্যাদার লড়াই।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
৬ সন্তানকেই মেরে ফেলেছে ইসরায়েল, কারাগার থেকে বের হয়ে বাবা পেলেন মৃত্যুসনদ
৬ সন্তানকেই মেরে ফেলেছে ইসরায়েল, কারাগার থেকে বের হয়ে বাবা পেলেন মৃত্যুসনদ

ইসরায়েলি কারাগারে প্রায় দুই বছর আটক থাকার পর গাজায় ফিরে সন্তানদের বুকে জড়িয়ে ধরার অপেক্ষায় ছিলেন ফিলিস্তিনি বাবা আহমেদ আবদুল করিম আল সিকালি। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ফিরে সেই পুনর্মিলনের বদলে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ছয়টি মৃত্যু সনদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিবরণ অনুযায়ী, তিনি আটক থাকা অবস্থায় তাদের বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় তার ছয় সন্তান নিহত হয়। আহমেদের ঘটনা নিয়ে বুধবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও বিবরণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তাকে ছয়টি মৃত্যু সনদ হাতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বড় সংবাদমাধ্যম, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বা স্বাধীন কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে ঘটনার সব তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।     প্রচারিত বিবরণে বলা হয়েছে, প্রায় দুই বছর ইসরায়েলি কারাগারে থাকার পর মুক্তি পেয়ে খান ইউনিসে ফেরেন আহমেদ। দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর সন্তানদের সঙ্গে দেখা হবে এমন প্রত্যাশা নিয়েই তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু ফিরে জানতে পারেন, তিনি আটক থাকা অবস্থায় তাদের বাড়িতে বিমান হামলা হয়েছিল। ওই হামলায় তার ছয় সন্তান নিহত হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে। একই হামলায় তার স্ত্রী আহত হলেও বেঁচে যান বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিহত শিশুদের নাম, বয়স, হামলার সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং আহমেদকে কখন ও কী অভিযোগে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রচারিত তথ্যের একটি অংশে আবার অসঙ্গতিও রয়েছে। কয়েকটি পোস্টে বলা হয়েছে, আহমেদের স্ত্রী ও তার এক মেয়ে ওই হামলা থেকে বেঁচে গেছেন। একই সঙ্গে এসব পোস্টেই তার ‘ছয় সন্তান’ নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে জীবিত মেয়েটি ছয় সন্তানের বাইরে আরেক সন্তান কি না, তা স্পষ্ট নয়। এ কারণে নিহত সন্তানের সংখ্যা ও পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে আরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।   ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর খান ইউনিস বারবার ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে হামলায় বহু পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গাজা থেকে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে আটক করে ইসরায়েলে নেওয়ার ঘটনাও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   আহমেদ আবদুল করিম আল সিকালির ঘটনাটি সত্য হলে, দীর্ঘ সময় আটক থাকার পর ঘরে ফিরে পরিবারের সদস্যদের হারানোর খবর পাওয়ার আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে এটি গাজার যুদ্ধের মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে। তবে তার পরিবারের বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া সব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির অনিশ্চিত তথ্যগুলোকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রকাশ না করাই সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে নিরাপদ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ২২:১৯
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দুটি স্বীকৃতি পেল পলাশ-ইভানা অভিনীত ‘মিস্টার বাদল’

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দুটি স্বীকৃতি পেল পলাশ-ইভানা অভিনীত ‘মিস্টার বাদল’

নিষিদ্ধ উইঘুর উপন্যাস পড়ার মধ্য দিয়ে প্রেমে পড়া ইয়ালকুন উলুইওল ও রাবিয়া। ছবি: সংগৃহীত

নিষিদ্ধ বইয়ে প্রেমের শুরু, বহু বাধা পেরিয়ে বিয়ে চীনা মুসলিম দম্পতির

মালয়েশিয়ায় বিশেষ ইমিগ্রেশন অভিযানে ৩৭০ বাংলাদেশিসহ ১ হাজার ৪৩ বিদেশি আটক। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় বড় অভিযানে ৩৭০ বাংলাদেশিসহ আটক ১ হাজার ৪৩

ওয়ারউইকশায়ারের রাগবি এলাকার নিউবোল্ড। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের গ্রাম থেকে ১১ ও ১২ বছরের দুই স্কুলছাত্রী ‘অপহরণ’, তিন নারীসহ গ্রেপ্তার ৬

যুক্তরাজ্যে নিখোঁজ হওয়ার পর ১১ ও ১২ বছর বয়সী দুই স্কুলছাত্রীকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের কর্নওয়াল থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই শিশুকে কীভাবে এত দূরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই ঘটনার তদন্তে তিন নারী ও তিন পুরুষসহ ছয়জনকে অপহরণের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   ওয়ারউইকশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, রাগবি এলাকার নিউবোল্ডে রোববার ভোরে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১১ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলিকা ও ১২ বছর বয়সী ভেরিটিকে। এরপর তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। দুই শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বড় পরিসরে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ।   তল্লাশিতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং ডিজিটাল অনুসন্ধান চালানো হয়। পুলিশ শুরু থেকেই ধারণা করছিল, দুই শিশু একসঙ্গে রয়েছে এবং কর্নওয়ালের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ থাকতে পারে।   দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মঙ্গলবার ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের কর্মকর্তারা কর্নওয়ালে দুই শিশুকে খুঁজে পান। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারের সময় তারা নিরাপদ ও সুস্থ ছিল।   তবে রাগবি থেকে তারা কীভাবে কর্নওয়ালে পৌঁছাল, সেই প্রশ্ন সামনে আসার পর তদন্ত নতুন দিকে মোড় নেয়। বুধবার ভোরে কর্নওয়ালের টিনট্যাজেল থেকে ৬২ ও ২৫ বছর বয়সী দুই পুরুষ এবং ৫৬ বছর বয়সী এক নারীকে অপহরণের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়।   একই অভিযোগে কর্নওয়ালের ফ্যালমাউথ থেকে ৪২ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে রাগবি থেকে ৭৫ ও ৪৭ বছর বয়সী আরও দুই নারীকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে তিন পুরুষ ও তিন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   ওয়ারউইকশায়ার পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট জন বেলচার জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ছয়জনই দুই শিশুর পরিচিত। এ কারণে ঘটনাটিকে সাধারণ মানুষের জন্য বৃহত্তর কোনো নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে না পুলিশ।   পুলিশ এখন মূলত জানার চেষ্টা করছে, দুই স্কুলছাত্রী কী পরিস্থিতিতে রাগবি থেকে কর্নওয়ালে পৌঁছেছিল এবং এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।   গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তাদের অপহরণের সন্দেহে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১০:২
নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়া চীনের পরীক্ষামূলক ম্যাগলেভ ট্রেন। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতি, নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ল চীনের ট্রেন

ইকুয়েডরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেই চার মাস বয়সী শিশুকন্যা। ছবি: সংগৃহীত

শিশুকে হাসপাতালে ফেলে গেছে পরিবার, কেউ পাশ দিয়ে গেলেই মাথা তুলে তাকায় ফেরার অপেক্ষায়

ভারতে সরকারিভাবে গোমূত্র সংগ্রহ ।ছবি:সংগৃহীত

ভারতে সরকারিভাবে গোমূত্র সংগ্রহ শুরু, লিটারপ্রতি ২০ রুপি দেয়ার পরিকল্পনা

বিবাহ জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর, উত্তরপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ক জ্ঞান তিওয়ারি ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে তাঁর মেয়ে ডঃ প্রজ্ঞা তিওয়ারিকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীর পরিবারের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। ছবি:সংগৃহীত
মেয়ের জামাই করেছেন ২৫ বিয়ে, শ্বশুর জানলেন আড়াই বছর পর

ভারতের উত্তর প্রদেশে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে একের পর এক নারীকে বিয়ে ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত প্রখর ত্রিবেদী প্রায় ২৫ নারীকে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যটির সেভাতা আসনের বিজেপি বিধায়ক জ্ঞান তিওয়ারি। তার নিজের মেয়েও প্রখরের সঙ্গে বিয়ের পর প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন তিনি।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীতাপুরের বিজেপি বিধায়ক জ্ঞান তিওয়ারি এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার অভিযোগ, প্রখর ত্রিবেদী ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন এবং বিয়ে করতেন। এভাবে প্রায় ২৫ নারী তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।   জ্ঞান তিওয়ারির অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রখরের সঙ্গে তার মেয়ে প্রজ্ঞা তিওয়ারির বিয়ে হয়। প্রখরের বাবা অনুজ ত্রিবেদী উত্তর প্রদেশের মিসরিখ এলাকার বাসিন্দা। বিয়ের আগে অনুজ নিজেকে মুম্বাইয়ের একজন প্রতিষ্ঠিত আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে দাবি বিধায়কের।   বিধায়কের অভিযোগ, বিয়ের সময় প্রখরের অতীত সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়েছিল। বিয়ের প্রস্তাব আসার পর পরিবারটি স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নেয় এবং বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করে। তখন সন্দেহজনক কিছু জানতে না পারায় বিয়েতে সম্মতি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।   তবে বিয়ের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। জ্ঞান তিওয়ারির দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার পরিবার প্রখরের অতীত সম্পর্কে জানতে শুরু করে। এরপরই তার বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয়ে একাধিক নারীকে বিয়ে এবং আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসে।   বিধায়কের অভিযোগ, প্রখর বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতেন। পরে তাদের বিয়ে করে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। মহারাষ্ট্রসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে একই কৌশলে তিনি প্রায় ২৫টি বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনা জানার পর জ্ঞান তিওয়ারি মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনেন এবং অভিযুক্ত পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তিনি প্রকাশ্যেও বিষয়টি সামনে এনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।   বিধায়কের অভিযোগের পর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রখরের বিরুদ্ধে অতীতে অন্য কোনো মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না এবং কথিত ২৫টি বিয়ের দাবির পক্ষে কী ধরনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়, সেগুলোও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।   ঘটনাটি সামনে আসার পর উত্তর প্রদেশে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। একজন ক্ষমতাসীন দলের বিধায়কের পরিবারই এমন অভিযোগের শিকার হওয়ায় বিয়ের আগে পরিচয় ও অতীত যাচাইয়ের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে প্রখর ত্রিবেদী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলোকে পুলিশের কাছে করা দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৭:১০
যুদ্ধের ফোর্স। ছবি:সংগৃহীত

২০২৫ সালে মার্কিন সামরিক অভিযানে নিহত ১৫৩ বেসামরিক, আহত ২৪৩

বাংলাদেশি কৃষককে বিএসএফ ধরে নেওয়ার পর দুই ভারতীয়কে ধরে আনল গ্রামবাসী

বাংলাদেশি কৃষককে বিএসএফ ধরে নেওয়ার পর দুই ভারতীয়কে ধরে আনল গ্রামবাসী

ভারতের ১৩৭ যাত্রীবাহী বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঝাঁকুনি, পরে জানা যায় পাইলট গাঁজা সেবন করেছিলেন

ভারতের ১৩৭ যাত্রীবাহী বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঝাঁকুনি, পরে জানা যায় পাইলট গাঁজা সেবন করেছিলেন

0 Comments