আন্তর্জাতিক

যুদ্ধে থেমে গেল মাশার নাচের স্বপ্ন, তবু কিয়েভের বিদায় উৎসবে ভবিষ্যতের আশায় হাসল ইউক্রেনের তরুণ প্রজন্ম

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৬:৪০
নৃত্য পরিবেশনের ছবি: সংগৃহীত
নৃত্য পরিবেশনের ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১৫ বছর বয়সী মাশা পলস্কার কাছে স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠান ছিল বহুদিনের প্রতীক্ষিত একটি দিন। সহপাঠীদের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ওয়াল্টজ নৃত্যে অংশ নিয়ে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দেয়নি। যুদ্ধের বাস্তবতা তার কৈশোরের আনন্দ, স্বাভাবিক স্কুলজীবন এবং নাচের মঞ্চ—সবকিছুর ওপর গভীর ছাপ ফেলেছে।

 

তবুও কিয়েভের বিদায় অনুষ্ঠান বাতিল হয়নি। নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই সীমিত পরিসরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল যুদ্ধের অন্ধকার বাস্তবতার মাঝেও কিছুটা স্বস্তি ও আশার উপলক্ষ। উৎসবের পোশাকে সেজে সহপাঠীরা একে অপরের সঙ্গে ছবি তুলেছে, স্মৃতি ভাগাভাগি করেছে এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়েছে। অনেকের মুখে ছিল হাসি, তবে সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল দীর্ঘ যুদ্ধের ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তা।


মাশা জানান, নাচ তার সবচেয়ে প্রিয় শিল্প। বিদায় অনুষ্ঠানের ওয়াল্টজ পরিবেশনার জন্য তিনি দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের কারণে নিয়মিত অনুশীলন ব্যাহত হয়। বিমান হামলার সতর্কসংকেত, নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ এবং প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।

 

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনের পর ইউক্রেনের লাখো শিক্ষার্থীর জীবন বদলে যায়। বহু স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী নিজ শহর ছেড়ে অন্যত্র বা বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে। কোথাও অনলাইন, কোথাও ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ক্লাস চালিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হয়েছে। ফলে একটি পুরো প্রজন্ম তাদের শৈশব ও কৈশোরের গুরুত্বপূর্ণ সময় যুদ্ধের মধ্যেই পার করছে।
এই বাস্তবতার মধ্যেও কিয়েভের বিদায় অনুষ্ঠান শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়োজন ছিল না; এটি ছিল স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করে, যুদ্ধ একদিন শেষ হবে এবং তারা আবার নির্ভয়ে পড়াশোনা, সংস্কৃতি ও স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে।

 

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লাখো শিশু-কিশোর দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবুও বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মাশা পলস্কার গল্প কেবল একজন কিশোরীর অপূর্ণ নাচের স্বপ্নের গল্প নয়; এটি যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি প্রজন্মের হারিয়ে যাওয়া শৈশব, ভেঙে যাওয়া পরিকল্পনা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও ভবিষ্যতের প্রতি অটুট বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি। বিদায় অনুষ্ঠানের সেই মুহূর্তগুলো তাই আনন্দের পাশাপাশি যুদ্ধের মানবিক মূল্যও স্মরণ করিয়ে দেয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
নৃত্য পরিবেশনের ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধে থেমে গেল মাশার নাচের স্বপ্ন, তবু কিয়েভের বিদায় উৎসবে ভবিষ্যতের আশায় হাসল ইউক্রেনের তরুণ প্রজন্ম

মাত্র ১৫ বছর বয়সী মাশা পলস্কার কাছে স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠান ছিল বহুদিনের প্রতীক্ষিত একটি দিন। সহপাঠীদের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ওয়াল্টজ নৃত্যে অংশ নিয়ে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দেয়নি। যুদ্ধের বাস্তবতা তার কৈশোরের আনন্দ, স্বাভাবিক স্কুলজীবন এবং নাচের মঞ্চ—সবকিছুর ওপর গভীর ছাপ ফেলেছে।   তবুও কিয়েভের বিদায় অনুষ্ঠান বাতিল হয়নি। নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই সীমিত পরিসরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল যুদ্ধের অন্ধকার বাস্তবতার মাঝেও কিছুটা স্বস্তি ও আশার উপলক্ষ। উৎসবের পোশাকে সেজে সহপাঠীরা একে অপরের সঙ্গে ছবি তুলেছে, স্মৃতি ভাগাভাগি করেছে এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়েছে। অনেকের মুখে ছিল হাসি, তবে সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল দীর্ঘ যুদ্ধের ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তা। মাশা জানান, নাচ তার সবচেয়ে প্রিয় শিল্প। বিদায় অনুষ্ঠানের ওয়াল্টজ পরিবেশনার জন্য তিনি দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের কারণে নিয়মিত অনুশীলন ব্যাহত হয়। বিমান হামলার সতর্কসংকেত, নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ এবং প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।   ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনের পর ইউক্রেনের লাখো শিক্ষার্থীর জীবন বদলে যায়। বহু স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী নিজ শহর ছেড়ে অন্যত্র বা বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে। কোথাও অনলাইন, কোথাও ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ক্লাস চালিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হয়েছে। ফলে একটি পুরো প্রজন্ম তাদের শৈশব ও কৈশোরের গুরুত্বপূর্ণ সময় যুদ্ধের মধ্যেই পার করছে। এই বাস্তবতার মধ্যেও কিয়েভের বিদায় অনুষ্ঠান শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়োজন ছিল না; এটি ছিল স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করে, যুদ্ধ একদিন শেষ হবে এবং তারা আবার নির্ভয়ে পড়াশোনা, সংস্কৃতি ও স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে।   আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লাখো শিশু-কিশোর দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবুও বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মাশা পলস্কার গল্প কেবল একজন কিশোরীর অপূর্ণ নাচের স্বপ্নের গল্প নয়; এটি যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি প্রজন্মের হারিয়ে যাওয়া শৈশব, ভেঙে যাওয়া পরিকল্পনা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও ভবিষ্যতের প্রতি অটুট বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি। বিদায় অনুষ্ঠানের সেই মুহূর্তগুলো তাই আনন্দের পাশাপাশি যুদ্ধের মানবিক মূল্যও স্মরণ করিয়ে দেয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৬:৪০
কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা I ছবি: সংগৃহীত

ওপরে নির্মাণকাজ, নিচে চলছিল ক্লাস—পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে চাইলে দিতে হবে ১০ হাজার পাউন্ড, কঠোর হচ্ছে ব্রিটিশ অভিবাসন আইন

কর্মী পাঠানোর শীর্ষে থাকা বাংলাদেশ এখন শীর্ষ তিনেরও বাইরে I ছবি: সংগৃহীত

শীর্ষস্থান থেকে শীর্ষ তিনের বাইরে, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমবাজারের বড় পতন

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
অতীতের সব সম্পর্কের ছাপ মুছে ফেলতে ১৩ হাজার ডলারের আধ্যাত্মিক থেরাপি, তুমুল আলোচনায় ব্রাজিল

অতীতের শারীরিক সম্পর্কের স্মৃতি মুছে ফেলে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে এক অভিনব পথে হাঁটছেন নারীরা। ১৩ হাজার ডলারের বিনিময়ে নিজেদের 'বডি কাউন্ট' শূন্যে নামিয়ে আনার এক বিশেষ প্যাকেজ গ্রহণ করতে তারা ছুটে যাচ্ছেন সুদূর ব্রাজিলে। সেখানে তথাকথিত এক 'বডি কাউন্ট রিকভারি সেন্টার' নারীদের আধ্যাত্মিকভাবে শুদ্ধ করার এই ব্যয়বহুল ও অদ্ভুত সুযোগ দিচ্ছে।   এই বিশেষ চিকিৎসায় বেশ কিছু আধ্যাত্মিক আচার ও রীতিনীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেন্টারটির কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারীরা তাদের অতীতের সঙ্গীদের এনার্জি বা মানসিক প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে অংশ নেওয়া নারীরা নিজেদের পুনরুজ্জীবিত এবং বিশুদ্ধ অনুভব করেন। মূলত, অতীত সম্পর্কের সমস্ত মানসিক ও আধ্যাত্মিক ছাপ মুছে ফেলে তাদের 'বডি কাউন্ট' বা শারীরিক সম্পর্কের সংখ্যা পুনরায় শূন্যে ফিরিয়ে আনাই এই থেরাপির প্রধান লক্ষ্য।   ১৩ হাজার ডলারের এই বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে সেন্টারটি নারীদের একটি পরিপূর্ণ 'স্পিরিচুয়াল রিসেট' বা আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। অতীত সম্পর্কের গ্লানি বা স্মৃতি চুকিয়ে যারা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ নতুন এক জীবন শুরু করতে চাইছেন, তাদের কাছে বিপুল খরচের এই থেরাপি এখন ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৭:৫৮
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি  I ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ভেতরে কয়েক কিলোমিটার ঢুকে পড়েছে চীনা সেনা, দাবি অরুণাচলের স্থানীয়দের

আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি; ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডসে ‘রাইজিং স্টার’ মেহেদী হাসান | ছবি: সৌজন্যে

ইউরোপের মঞ্চে বাজিমাত, সেরা উদীয়মান তারকার পুরস্কার জিতলেন বাংলাদেশের মেহেদী

উন্নত বিশ্বকে পেছনে ফেলে জি-২০ জোটের সবচেয়ে নিরাপদ দেশ সৌদি আরব | ছবি: এএফপি

জি-২০ দেশের মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ সৌদি আরব, রাতের বেলা নিশ্চিন্তে একা হাঁটেন ৯৫ শতাংশ নারী

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী | ছবি: সংগৃহীত
মুসলমানদের নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণায় পশ্চিমবঙ্গে তোলপাড়, কবীরকে শুভেন্দুর কড়া হুঁশিয়ারি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় 'মুসলমানদের নিয়ে মাঠে নামার' বিষয়ে দেওয়া এক সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যটির রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের এই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হুমায়ুন কবীরদের মতো ব্যক্তিদের এবার শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে এবং এই ধরনের কথা বলার আগে তাদের ২৫ বার ভাবা উচিত।   সম্প্রতি আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এর জেরে সোমবার বিধানসভায় 'পয়েন্ট অব অর্ডার' উত্থাপন করেন বিজেপি বিধায়ক উৎপল ব্রহ্মচারী। তিনি রেজিনগরের জনসভায় দেওয়া হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দাবি করেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্পিকার রথীন বসু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে জানানোর পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।   মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত বক্তব্যটি পড়ে শোনান। গত ২৬ তারিখ রেজিনগরের কাশীপুরের এক সভায় হুমায়ুন কবীর বলেছিলেন, তিনি যেদিন মুসলমানদের নিয়ে মাঠে নামবেন, সেদিন লাখে লাখে মানুষ রাস্তায় নামবে এবং প্রতিপক্ষের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। সেখানে তিনি পুলিশ প্রশাসন কিংবা মুখ্যমন্ত্রী কাউকেই পরোয়া না করে নিজেই সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়া শক্তিপুরের আরেকটি সভায় তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গলা ধরে থানা থেকে বের করে আনার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ ওঠে।   এইসব বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রেজিনগরে ইতিমধ্যে দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভরতপুর ও রেজিনগরের পঞ্চায়েতগুলো নিজের দখলে নিতে না পেরে ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোট নিজের দিকে টানতেই হুমায়ুন কবীর এই ধরনের সাম্প্রদায়িক ও লাগামহীন বক্তব্য দিচ্ছেন। ভারতের আইনই শেষ কথা বলবে এবং এই ধরনের হুমকি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে তিনি জানান। একই সাথে তিনি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মুর্শিদাবাদ সফরের ঘোষণাও দেন।   অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বক্তব্যের জবাবে বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, সব কিছুই আইনের পথে চলবে এবং তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। পূর্ববর্তী সিপিএম ও তৃণমূল সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হলেও কোনোটিতেই তার বিরুদ্ধে গুন্ডাগিরি বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের প্রমাণ হয়নি দাবি করে তিনি দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন। তবে বিরোধী দলের নেতা নওশাদ সিদ্দিকী হুমায়ুন কবীরের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, যে-ই এই ধরনের আপত্তিকর বা সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করুন না কেন, তিনি তার সঙ্গে একমত নন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ১২:১৩
ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী | ছবি: ফাইল ছবি

পাকিস্তানের কাশ্মীর ভারতের অংশ বলে দাবি করলেন বিদায়ী সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী

ছবি: সেরেনিটি স্ট্রল/বিবিসি

ল্যাবরেটরিতে মানুষের কোষ দিয়ে কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরি করল ইরান

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ইউক্রেন ফ্রন্টে রুশ সেনাদের গড় আয়ু মাত্র ২০ মিনিট, দাবি প্রতিবেদনের

0 Comments