মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবার নারী প্রধানমন্ত্রী, দায়িত্ব পেলেন ফাতিমা জাহরা মানসুরি
উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাতিমা জাহরা মানসুরি। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ৫০ বছর বয়সী এই নগর পরিকল্পনামন্ত্রী ও আইনজীবীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যা মরক্কোর জন্য একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এই প্রধানমন্ত্রীকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত সংসদীয় নির্বাচনের চার দিন পর এই ঘোষণা এলো, যেখানে ফাতিমা জাহরার মধ্যপন্থী দল 'অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (প্যাম)' সর্বাধিক ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছে। তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেনের পর ফাতিমা জাহরা মানসুরি পুরো আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী, যিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হলেন।
মরক্কোর নির্বাচন ব্যবস্থা অনুযায়ী কোনো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বেশ কঠিন। তাই আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে ফাতিমা জাহরা একটি জোট সরকার গঠন করবেন। তার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাঁধে এখন বিশাল দায়িত্ব।
বিশেষ করে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তদারকির পাশাপাশি দেশে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মজুরি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করবে তার প্রশাসন।
২০১১ সালের আরব বসন্তের পর মরক্কোর সংবিধানে আনা সংস্কার অনুযায়ী, রাজা দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হলেও সংসদীয় নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দল থেকেই তাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে হয়। এর আগে রাজা কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে পারতেন।
২০০৮ সালে রাজার বাল্যবন্ধু ও ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ফুয়াদ আলী এল হিম্মার হাত ধরে 'প্যাম' গঠিত হলে ফাতিমা জাহরা এই দলে যোগ দেন। ফ্রান্সের মন্টপিলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক সম্পন্ন করা ফাতিমা ২০২৪ সালে দলের অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে ওঠেন। এর আগে তিনি মারাকেশের মেয়র এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার বাবা আবদেররহমান এল মানসুরি সংযুক্ত আরব আমিরাতে মরক্কোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং মারাকেশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি 'মারাকেশের পাশা' হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফাতিমা জাহরা সম্প্রতি মারাকেশে জমি লেনদেনের বিষয়ে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অজ্ঞাত হ্যাকারদের দ্বারা সমালোচিত হয়েছিলেন। তবে তিনি এই অভিযোগগুলোকে মানহানিকর আখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করেছেন এবং আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।
গত সপ্তাহের নির্বাচনে মরক্কোর ১ কোটি ৫৮ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ভোটার প্যামকে সমর্থন দিয়েছেন, যা দলটির প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বড় বিজয়। গত জুলাইয়ে সিউটা অভিবাসন সংকট এবং গত বছর তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম নির্বাচন। এখন সবার দৃষ্টি পরবর্তী সরকার গঠনের দিকে।
প্যাম সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, মধ্যপন্থী ইসলামি দল 'জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি' এবং বামপন্থী 'ফেডারেশন অব ডেমোক্রেটিক লেফট'-এর মতো কয়েকটি দল এরই মধ্যে বিরোধী দলে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreদীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ এবার আরও চরম আকার ধারণ করেছে। মঙ্গলবার থেকে কানাডার প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। হোয়াইট হাউসের নথি অনুযায়ী, অ্যালকোহল থেকে শুরু করে মোটরসাইকেল ও দুগ্ধজাতীয় পণ্য এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে। ডানপন্থি আমেরিকান অ্যাকশন ফোরামের বাণিজ্য নীতিবিষয়ক পরিচালক জ্যাকব জেনসেন জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কানাডা থেকে বছরে প্রায় ৯৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের আমদানি প্রভাবিত হবে। এর মধ্যে প্রতি ১০ ডলারের ৯ ডলারই অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়, যা এই নিষেধাজ্ঞার প্রধান লক্ষ্যবস্তু। কানাডার কিছু প্রদেশ সম্প্রতি মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বিয়ার, ওয়াইন, হুইস্কি, ভদকা, রাম এবং ব্র্যান্ডির মতো অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়র পাশাপাশি কিছু মপেড ও মোটরসাইকেল রয়েছে। এছাড়াও ডেইরি থেকে তৈরি জনপ্রিয় প্রোটিন-সমৃদ্ধ উপাদান ‘হুই’ এবং গুড় ও নন-অ্যালকোহলিক বিয়ারও নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে। যদিও এই নিষেধাজ্ঞা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানাডিয়ান আমদানির একটি ক্ষুদ্র অংশ, তবুও এটি সাপ্লাই চেইনে প্রভাব ফেলবে। ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩৮ হাজার ১০০ কোটি ডলারের কানাডিয়ান পণ্য আমদানি করেছিল, অর্থাৎ এই নিষেধাজ্ঞা মোট আমদানির মাত্র ০.২ শতাংশের ওপর প্রভাব ফেলবে। এদিকে, মার্কিন অ্যালকোহল সরবরাহ চেইনের সঙ্গে যুক্ত ‘টোটস নট ট্যারিফস কোয়ালিশন’ এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আমেরিকার রেস্তোরাঁ, বার, খুচরা বিক্রেতা এবং সাধারণ ভোক্তারা এমন এক বাণিজ্য বিরোধের গভীরে জড়িয়ে পড়ছেন, যা এরই মধ্যে মার্কিন উৎপাদকদের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। গত আগস্টে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে দুদেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের এই যুদ্ধ শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডাও চলতি মাসের শুরুতে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে, যা মার্কিন শুল্কের সমপরিমাণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন যে, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ভোক্তা বাজারের সুবিধা নিলেও মার্কিন বিক্রেতাদের তাদের বাজারে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি কানাডাকে ব্যবসার জন্য বিশ্বের অন্যতম ‘নিকৃষ্ট’ দেশ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “কানাডার আমাদের দরকার, আমাদের তাদের দরকার নেই!” অন্যদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন শুল্ক আরোপকে চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তিনি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, সংঘাত বাড়ানো কোনো গঠনমূলক সমাধান নয়, তবে নিজেদের অর্থনীতি, কর্মী ও কোম্পানিগুলোকে রক্ষা করতেই কানাডাকে পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে হয়েছে। মার্কিন কোম্পানিগুলোকে করমুক্ত সুবিধা দিয়ে নিজেদের রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে দিতে রাজি নয় কানাডা প্রশাসন।
ইতালিতে স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ, প্রধানমন্ত্রী মেলোনির বিরুদ্ধে মুসলিমদের ক্ষোভ
মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবার নারী প্রধানমন্ত্রী, দায়িত্ব পেলেন ফাতিমা জাহরা মানসুরি
মিয়ানমারের রাখাইনে জান্তা বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হা মলা, নি হত অন্তত ৫০
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের সামরিক উপস্থিতির পর ইরাক থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী বুধবারের মধ্যেই দেশটির সর্বশেষ সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের নেওয়া এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বাস্তবায়ন করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই চূড়ান্ত বিদায়কে ঘিরে একদিকে যেমন ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উল্লাস দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে ইরাকের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিদায়ের পর দেশটিতে সৃষ্ট নিরাপত্তা শূন্যতার সুযোগ নিতে পারে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেদের প্রভাব আরও বাড়ানোর চেষ্টা করবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক জসিম আল-বাহাদলি মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিপরীতে একটি ভারসাম্য ধরে রেখেছিল। সেই উপস্থিতি শেষ হলে কৌশলগতভাবে ইরানই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। পাশাপাশি, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোও এই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে অনেক ইরাকি স্বাগত জানালেও, নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না অনেকেরই। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইরাকি ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’-এর কমান্ডার আবু মোজতবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন বাহিনীর এই বিদায়কে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে ফালুজার সুন্নি গোত্রের নেতা আব্দুল রহমান আল-জোবাইয়ের মতে, ইরাক এখনো নিজস্ব নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে প্রস্তুত নয়। কুর্দি নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও সতর্ক করে জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিক সহায়তা ও ড্রোন নজরদারি ছাড়া আইএসের সুপ্ত সেলগুলো আবারো ভয়াবহভাবে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। প্রসঙ্গগত, ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে ২০১১ সালে তারা সেনা প্রত্যাহার করলেও ২০১৪ সালে আইএসের উত্থানের পর মিত্রদের নিয়ে ফের দেশটিতে সেনা মোতায়েন করে ওয়াশিংটন। রয়টার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরাক যুদ্ধ ও তৎপরবর্তী বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রেখে চলছিল ইরাক। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো এবং আইএসের বিরুদ্ধে দেশটির লড়াইয়ের সক্ষমতার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষের পথে, কারিগরি আলোচনা চালাচ্ছে ভারত: রণধীর জয়সোয়াল
নরওয়ের নতুন গাড়ির বাজারে পেট্রল-ডিজেল প্রায় উধাও, বৈদ্যুতিক গাড়ি ৯৮ শতাংশ
বন্যায় প্লাবিত রাস্তায় নিজের বিনোদনের জন্য জেট স্কি চালিয়ে গ্রেফতার ব্যক্তি, বাহন বাজেয়াপ্ত
যুক্তরাজ্যে একটি বিড়ালকে ঘিরে মালিক ও প্রাণীকল্যাণ সংস্থা আরএসপিসিএ এবং মেট পুলিশের মধ্যে আইনি বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। ৭৯ বছর বয়সী সাবেক আইনজীবী ড. ক্যাথরিন থিওডোটু তাঁর প্রিয় বিড়াল রিটার ম র দে হ শেষবার দেখতে চান। একই সঙ্গে আরএসপিসিএ ও পুলিশের বিরুদ্ধে মোট ৫ লাখ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি। রিটা ছিল ১৭ মাস বয়সী সাদা-কালো একটি বিড়াল। ২০২৬ সালের মার্চে প্রাণীটির যত্ন নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর আরএসপিসিএ পুলিশের সহায়তায় লন্ডনে থিওডোটুর বাড়িতে গিয়ে বিড়ালটিকে নিয়ে যায়। থিওডোটুর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আরএসপিসিএতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করা হয়েছিল এবং রিটাকে তিনি যথাযথ যত্নেই রেখেছিলেন। অন্যদিকে আরএসপিসিএর আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, বাড়ি থেকে নেওয়ার সময় রিটার শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের দাবি, প্রাণীটির পরিচর্যা, পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে ঘাটতির লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। মেট পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানা অনুযায়ী তারা আইনগতভাবেই বাড়িতে প্রবেশ করে বিড়ালটি আরএসপিসিএর কাছে হস্তান্তরে সহায়তা করেছিল। রিটা জন্ম থেকেই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিল এবং তার পেছনের দুই পা স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে পারত না। এ কারণে তার মূত্রথলিতে মাঝে মাঝে সংক্রমণও হতো। থিওডোটুর দাবি, রিটাকে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল এবং সে ধীরে ধীরে চার পায়ে হাঁটতে শিখছিল। ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে জুলাইয়ে। তখন জানা যায়, আরএসপিসিএর তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় রিটার মৃ ত্যু হয়েছে। এরপর বিড়ালটির মালিকানা নিয়ে চলা বিরোধ পরিণত হয় তার ম র দে হ ও মৃ ত্যু র কারণ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে। আগের এক আদালতের আদেশে আরএসপিসিএর একজন পশুচিকিৎসক এবং থিওডোটুর বেছে নেওয়া একজন স্বাধীন পশুচিকিৎসকের যৌথভাবে রিটার ম য় না ত দ ন্ত করার কথা বলা হয়েছিল। তবে আরএসপিসিএ যৌথভাবে পরীক্ষা করার জন্য উপযুক্ত পশুচিকিৎসক খুঁজে না পাওয়ায় বিষয়টি আবার আদালতে ওঠে। সর্বশেষ শুনানিতে বিচারক মি. জাস্টিস কটার বলেন, রিটার মৃ ত্যু র কারণ জানতে পরীক্ষা করা প্রয়োজন হলেও থিওডোটুর ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি আরএসপিসিএ ও বিড়ালের মালিককে পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানান। আদালত নির্ধারণ করেছে, লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ে রিটার ম য় না ত দ ন্ত করা হবে এবং থিওডোটুর মনোনীত চিকিৎসক সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন। পরীক্ষা শেষে রিটার ম র দে হ সংরক্ষণ করা হবে, যাতে থিওডোটু চাইলে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করার অনুমতি চেয়ে আদালতে যেতে পারেন। থিওডোটুর করা ৫ লাখ পাউন্ডের ক্ষতিপূরণের মা ম লাটি রিটার মৃ ত্যু কে কেন্দ্র করে নয়; বরং বিড়ালটিকে তাঁর বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আরএসপিএর বিরুদ্ধে হয়রানি ও অবহেলার অভিযোগ এবং পুলিশের বিরুদ্ধে আ ক্র ম ণ, বেআইনি প্রবেশ ও অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের কোনোটি এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা স ন্ত্রা সবাদ ভারতের অন্যতম প্রধান সমস্যা : জয়শঙ্কর
কিয়েভে ভয়াবহ রুশ হা মলা, আ গুনে পুড়ল বিজ্ঞান একাডেমির ঐতিহাসিক ভবন; নি হত ৭