মালয়েশিয়ায় বড় অভিযানে ৩৭০ বাংলাদেশিসহ আটক ১ হাজার ৪৩
মালয়েশিয়ায় দুই দিনব্যাপী বিশেষ ইমিগ্রেশন অভিযানে ৩৭০ বাংলাদেশিসহ মোট ১ হাজার ৪৩ বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, বৈধ কাগজপত্র না থাকা, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং পাসের শর্ত লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।
মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের বুধবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার থেকে ‘অপ সাসার’ নামে এই অভিযান শুরু হয়। বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও বিদেশি নাগরিকদের বসবাসের স্থানগুলোতে অভিযান চালান ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা।
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানিয়েছেন, অভিযানে মোট ৩ হাজার ৩০৭ বিদেশিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৩ জনকে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি। মোট ৩৭০ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার ৩২৮ এবং মিয়ানমারের ১৮৩ নাগরিক রয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই পুরুষ এবং তাদের বয়স ১৭ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে।
মঙ্গলবার রাতে সুতেরামাস অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের জাকারিয়া শাবান বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশিদের বসবাসের কয়েকটি এলাকা চিহ্নিত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয় বা ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে না পারা, পাসের শর্ত ভঙ্গ, অনুমোদিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থান এবং কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি নেই এমন কার্ড ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুধু বিদেশি নাগরিক নয়, তাদের অবৈধভাবে আশ্রয় বা থাকার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তে সহায়তার জন্য ৪৫ মালয়েশীয় নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে সমন দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বাড়ির মালিকও রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশিদের থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ায় অনিবন্ধিত ও কাগজপত্রবিহীন বিদেশিদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অভিযান জোরদার করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। জাকারিয়া শাবান জানিয়েছেন, বিদেশিদের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ বাড়ায় বর্তমানে দেশজুড়ে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়টির বেশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের সাম্প্রতিক হিসাবেও অভিযানের ব্যাপকতা উঠে এসেছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতি বছরে ৭ হাজারের বেশি অভিযানে ৪১ হাজারের বেশি বিদেশিকে আটক করার তথ্য জানিয়েছিল মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ।
একই সঙ্গে যেসব অনিবন্ধিত অভিবাসী স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চান, তাদের জন্য ‘মাইগ্রেন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’ চালু রেখেছে মালয়েশিয়া সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং প্রযোজ্য জরিমানা পরিশোধের মাধ্যমে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী বিদেশিদের পাশাপাশি তাদের নিয়োগ দেওয়া বা আশ্রয় দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশটিতে অনিবন্ধিত অভিবাসীর সংখ্যা কমাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে বিভাগটি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreচীনের শিনচিয়াং অঞ্চলে নিষিদ্ধ একটি উপন্যাস হাতে পাওয়ার পর দুই কিশোর-কিশোরীর মধ্যে প্রেমের শুরু হয়। সেই প্রেম নানা বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত বিয়েতে গড়ায়। ২০০৯ সালে ১৬ বছর বয়সী ইয়ালকুন উলুইওল আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে একটি সাত খণ্ডের নিষিদ্ধ উইঘুর উপন্যাস খুঁজে পান। পরে সেই বইটি সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাবিয়ার সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি। বই নিয়ে হাতে লেখা চিঠি আদান-প্রদানের মধ্য দিয়েই তাদের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে প্রেমে রূপ নেয়। ঘটনাটি ২০০৯ সালের এক গ্রীষ্মের সন্ধ্যার। চীনের শিনচিয়াং অঞ্চলের কুমুলে বাবার সঙ্গে এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন ইয়ালকুন। সেখানে বড়দের গল্প ও আড্ডার মধ্যে বসে থাকতে তার ভালো লাগছিল না। তাই বাড়ির একটি পড়ার ঘরে যাওয়ার অনুমতি নেন তিনি। ঘরটিতে শত শত বই ছিল। সেখানেই একটি কোণে রাখা সাত খণ্ডের একটি উইঘুর উপন্যাস তার নজরে আসে। বইটির নাম ছিল ‘লেইঘান বুলাক’, যার অর্থ কর্দমাক্ত ঝরনা। বইটির লেখক ছিলেন পরিচিত উইঘুর ঔপন্যাসিক জালালিদিন বাহরাম। বাড়ির মালিক ইয়ালকুনকে জানান, বইটি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নৃশংসতা নিয়ে লেখা এবং সরকার এটি নিষিদ্ধ করেছে। তাকে বইটি কাউকে না দেখাতে, স্কুলে না নিতে এবং পড়া শেষ হলে ফেরত দিতে বলা হয়। কিন্তু কৌতূহলী ইয়ালকুন বাড়ি ফিরে মধ্যরাতের পর বইটির প্রথম খণ্ড পড়া শুরু করেন। এরপর তিনি বইটির চরিত্র ও কাহিনিতে গভীরভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। উপন্যাসটিতে নিজ দেশের একটি গ্রামীণ এলাকার শিক্ষকদের জীবন, জোরপূর্বক শ্রম, আত্মীকরণ ও রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় উঠে এসেছিল। একই সঙ্গে তিন তরুণ দম্পতির গল্পের মধ্য দিয়ে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছিল। বইটির এই বিষয়গুলো ইয়ালকুনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। পরে তিনি বইটি তার সহপাঠী রাবিয়ার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাবিয়া ছিলেন ইয়ালকুনের পড়াশোনার প্রতিদ্বন্দ্বী এবং গোপন বন্ধু। রক্ষণশীল মুসলিম শহরে ছেলে ও মেয়ের বন্ধুত্বকে স্বাভাবিকভাবে দেখা হতো না। তাই তারা বই নিয়ে হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে কথা বলতেন। রাবিয়া স্কুলে ইয়ালকুনকে এড়িয়ে চললেও তাদের লেখা খাতাগুলো তাদের জন্য একটি ব্যক্তিগত জগত তৈরি করেছিল। ইয়ালকুন নিষেধ অমান্য করে বইটি স্কুলে নিয়ে গিয়ে রাবিয়ার ব্যাগে তার খাতার সঙ্গে রেখে দেন। বইটির বন্ধুত্বের গল্প তাদের নিজেদের সম্পর্কের সঙ্গেও মিল খুঁজে পেতে শুরু করে। একপর্যায়ে বইয়ের চরিত্রদের কথা বলতে বলতে তাদের নিজেদের অনুভূতিও সেই আলোচনায় মিশে যায়। ইয়ালকুন বইয়ের প্রধান চরিত্রদের উল্লেখ করে রাবিয়াকে জানান, তারও তার প্রতি অনুভূতি তৈরি হয়েছে। সেই সময় থেকেই তাদের প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়। প্রায় এক বছর পর ইয়ালকুন উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে চলে যান। দূরত্ব তৈরি হলেও ফোন ও বার্তার মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক টিকে থাকে। তবে একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে গিয়ে তাদের সামনে বড় বাধা তৈরি হয়। রাবিয়ার পাসপোর্ট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ শিনচিয়াং কর্তৃপক্ষ উইঘুরদের পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ করত। এর মধ্যে মাথায় ওড়না পরার কারণে রাবিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি। পরে তিনি ভাষা শেখার জন্য বেইজিংয়ে চলে যান। এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের শহরের কঠোর পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। ইয়ালকুন বাড়ি ছাড়ার চার বছর পর ২০১৪ সালে রাবিয়া তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। সেখানে তখন ইয়ালকুন পড়াশোনা করছিলেন। পরে ২০২০ সালে তারা বিয়ে করেন। তবে বিয়েতে রাবিয়ার বাবা-মা ও ভাই-বোনসহ ইয়ালকুনের বাবাও উপস্থিত থাকতে পারেননি। এরপরও তারা একসঙ্গে জীবন শুরু করেন। কিন্তু নিজ দেশে চলমান পরিস্থিতির কারণে তাদের শেষ পর্যন্ত দেশত্যাগ করে নির্বাসিত জীবন বেছে নিতে হয়। চীনা কর্তৃপক্ষের অভিযানের কারণে তাদের পরিবারের সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হয়। ইয়ালকুনের বাবাসহ বিপুলসংখ্যক উইঘুরকে কোনো ধরনের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই আটক করা হয়েছিল বলে ইয়ালকুন জানান। বিদেশে থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে চীনা সরকারের শাস্তির আশঙ্কায় তারা পরিবারের সঙ্গে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোও ভাগ করে নিতে পারতেন না। ২০২৩ সালের নভেম্বরে তাদের দুই বছর বয়সী মেয়ে দুরারোগ্য অসুস্থতায় মারা যায়। ইস্তাম্বুলের একটি কবরস্থানে মেয়েটিকে দাফন করেন তারা। মেয়েটির জীবনের সঙ্গে তার নিজ দেশের দাদা-দাদিসহ পরিবারের সদস্যদের যে স্মৃতি তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেটিও আর সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাও তাদের জীবনে গভীর শোকের স্মৃতি হয়ে থাকে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে ইয়ালকুন ও রাবিয়া লন্ডনে চলে যান। সেখানে নতুন জীবন শুরু করার সময় তারা পুরোনো স্কুলের খাতাগুলো বের করেন। এক ডজনের বেশি খাতায় একসময় গোপনে লেখা তাদের পুরোনো চিঠিগুলো পড়তে গিয়ে তারা নিজেদের দীর্ঘ পথচলার কথা আবার মনে করেন। যে নিষিদ্ধ বই তাদের কৈশোরের বন্ধুত্বকে প্রেমে পরিণত করেছিল, সেই বইয়ের মতোই তাদের জীবনেও ছিল বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, কঠিন সময় এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।
মালয়েশিয়ায় বড় অভিযানে ৩৭০ বাংলাদেশিসহ আটক ১ হাজার ৪৩
যুক্তরাজ্যের গ্রাম থেকে ১১ ও ১২ বছরের দুই স্কুলছাত্রী ‘অপহরণ’, তিন নারীসহ গ্রেপ্তার ৬
মাত্র ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতি, নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ল চীনের ট্রেন
বয়স মাত্র চার মাস। জীবনের প্রায় পুরো সময়টাই কেটে গেছে হাসপাতালের বিছানায়। ইকুয়েডরের গুয়াকিল শহরের ফ্রান্সিসকো দে ইকাজা বুস্তামান্তে শিশু হাসপাতালে গত মার্চ থেকে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এই শিশুকন্যা। পরিবারের কেউ তার দায়িত্ব নিতে না আসায় সম্ভাব্য পরিত্যাগের ঘটনা হিসেবে বিষয়টি তদন্ত করছে দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়। শিশুটির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ইকুয়েডরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে সেখানেই রয়েছে সে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটি বর্তমানে শারীরিকভাবে স্থিতিশীল এবং তাকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় যত্ন দেওয়া হচ্ছে। তবে শিশুটিকে সত্যিই পরিবার পরিত্যাগ করেছে কি না এবং এর পেছনের পরিস্থিতি কী, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে ‘সম্ভাব্য পরিত্যাগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করছে ইকুয়েডরের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়। স্থানীয় কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটির পরিবারের কেউ তার দায়িত্ব নিতে আসেননি। তার ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও আইনি অবস্থান কী হবে, সেটি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষও কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটিকে ঘিরে আরও একটি আবেগঘন বর্ণনা ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, হাসপাতালের বিছানার পাশ দিয়ে কেউ হেঁটে গেলে শিশুটি মাথা তুলে তাকানোর চেষ্টা করে। যেন পরিচিত কাউকে খুঁজছে কিংবা কেউ তাকে কোলে নেবে সেই অপেক্ষায় রয়েছে। তবে শিশুটি কেন এভাবে তাকায় বা সে কী অনুভব করছে, তা নিশ্চিতভাবে জানার কোনো উপায় নেই। হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতেও এই আচরণের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই বর্ণনাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না দেখে শিশুটিকে ঘিরে মানুষের আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। চার মাস বয়সী একটি শিশুর দীর্ঘদিন হাসপাতালে পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বহু মানুষ তাকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। অনেকে আবার শিশুটির জন্য অর্থ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠাতে চান। এরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক সতর্কতা দিতে হয়। ফ্রান্সিসকো দে ইকাজা বুস্তামান্তে শিশু হাসপাতাল স্পষ্ট জানিয়েছে, হাসপাতাল কিংবা ইকুয়েডরের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোনো দত্তক প্রক্রিয়া পরিচালনা করে না। শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট বিচারিক ও শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের। একই সঙ্গে শিশুটির নামে অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েও সতর্ক করেছে হাসপাতাল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা শিশুটির জন্য কোনো ডোনেশন ক্যাম্পেইন শুরু করেনি এবং অর্থ পাঠানোর জন্য কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ফোন নম্বর কিংবা অন্য কোনো মাধ্যম অনুমোদন দেয়নি। হাসপাতালের নাম বা শিশুটির ঘটনা ব্যবহার করে তৃতীয় পক্ষের কোনো অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগে টাকা না পাঠানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে হাসপাতালের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে। শিশুটির ব্যক্তিগত পরিচয় ও পরিবারের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার কারণে তার ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়ার অনেক তথ্যও জনসমক্ষে আসেনি। আপাতত তার পৃথিবী হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং পরিচর্যাকারীদের ঘিরেই। তারা সার্বক্ষণিকভাবে শিশুটির চিকিৎসা ও যত্ন নিশ্চিত করছেন। একই সময়ে প্রসিকিউটররা খতিয়ে দেখছেন, কী পরিস্থিতিতে চার মাস বয়সী শিশুটিকে পরিবারের কাউকে ছাড়াই এত দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকতে হলো। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শিশুটির পরবর্তী সুরক্ষা ব্যবস্থা নির্ধারণ করতে হবে। পরিবারে ফেরানো সম্ভব হবে কি না, নাকি অন্য কোনো আইনসম্মত সুরক্ষা ব্যবস্থায় তাকে নিতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে তদন্ত ও শিশু সুরক্ষা প্রক্রিয়ার ওপর। জীবনের প্রথম চার মাসেই পরিবারের পরিবর্তে হাসপাতালকে আশ্রয় হিসেবে পাওয়া এই শিশুর ঘটনা এখন ইকুয়েডরে শিশু সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে। হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসকদের যত্নে সে নিরাপদ ও স্থিতিশীল থাকলেও তার স্থায়ী ঠিকানা কোথায় হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
ভারতে সরকারিভাবে গোমূত্র সংগ্রহ শুরু, লিটারপ্রতি ২০ রুপি দেয়ার পরিকল্পনা
মেয়ের জামাই করেছেন ২৫ বিয়ে, শ্বশুর জানলেন আড়াই বছর পর
২০২৫ সালে মার্কিন সামরিক অভিযানে নিহত ১৫৩ বেসামরিক, আহত ২৪৩
মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালী সীমান্তে এক অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হলো দুই দেশের মানুষ। মঙ্গলবার সকালে আবদুল মান্নান (৭০) নামের এক বয়োজ্যেষ্ঠ বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে নিয়ে আসেন। এরপর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইছাখালী মসজিদপাড়ার বাসিন্দা আবদুল মান্নান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের কাছের একটি জমিতে কাঁচা মরিচসহ নানা ফসলের চাষ করে আসছেন। সকালে সেখানে কীটনাশক স্প্রে করতে গেলে বিএসএফ তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও বিএসএফ তা শোনেনি। ফলে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সচিন কর্মকার ও নারায়ণ দেব নামের দুই ভারতীয় কৃষককে ধরে নিয়ে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেলা দুইটার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, ওই বৈঠকের পর উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপদে হস্তান্তর করেছে। অন্যদিকে, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সীমান্তে আজিবর রহমান (২৩) নামের আরেক বাংলাদেশি তরুণকে আটক করেছে বিএসএফ। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে শিলখুড়ি ইউনিয়নের কাজিয়ার চরের দোনালার মাথা এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি দিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় তিনি বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন। তার সঙ্গীরা পালিয়ে আসতে পারলেও আজিবর ব্যর্থ হন। বিজিবির কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক জানিয়েছেন, আটক তরুণকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের ১৩৭ যাত্রীবাহী বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঝাঁকুনি, পরে জানা যায় পাইলট গাঁজা সেবন করেছিলেন
কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলায় প্রাণহানি ২০০০ ছাড়াল; ডব্লিউএইচও বলছে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’