সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ আখ্যা দিয়ে কটাক্ষ নেতানিয়াহুর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৮:৫৭
যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ আখ্যা দিয়ে কটাক্ষ নেতানিয়াহুর
যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ আখ্যা দিয়ে কটাক্ষ নেতানিয়াহুর

ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যকে এবার ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত বৃহস্পতিবার সম্প্রচারিত ইসরায়েলের আর্মি রেডিওর (গ্যালি জাজাল) পডকাস্ট ‘মেলেখ ব্লিটজার হাইম’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

 

গাজা যুদ্ধসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের কড়া সমালোচনা করতে গিয়েই মূলত তিনি এই প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সাংবাদিক ও উইনস্টন চার্চিলের ছেলে র‍্যান্ডলফ চার্চিলের ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের প্রশংসা করে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান ব্রিটেনে এ ধরনের ইসরায়েলপন্থি অবস্থান খুঁজে পাওয়া একেবারেই বিরল। এ সময় তিনি চরম ব্যঙ্গাত্মক সুরে বর্তমান যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

 

সাক্ষাৎকার চলাকালে মার্কিন রাজনীতিক জেডি ভ্যান্সের করা পূর্বের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ একজন বলেছিলেন যে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী বিশ্বের প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র হতে যাচ্ছে এই ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’। তবে ইসরায়েল যে কোনো মূল্যে নিশ্চিত করবে যেন ইরানে এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই কড়া হুঁশিয়ারিও তিনি তার বক্তব্যে যোগ করেন।

 

নেতানিয়াহুর এমন ইসলামোফোবিক ও চরম ডানপন্থি বাগাড়ম্বরের পর যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের প্রগতিশীল ইহুদি সংগঠনগুলোর পাশাপাশি খোদ ইসরায়েলের বিরোধী রাজনীতিকরাও এর তীব্র সমালোচনা করেছেন।

 

‘মুভমেন্ট ফর প্রগ্রেসিভ জুডাইজম’-এর নেতা রাব্বি চার্লি বাগিনস্কি ও রাব্বি জশ লেভ এক যৌথ বিবৃতিতে এই মন্তব্যকে চরম বিদ্বেষপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, বর্তমান এই সামাজিক বিভাজনের সময়ে এ ধরনের বিপজ্জনক ভাষা ব্যবহার অনুচিত এবং নেতানিয়াহু কোনোভাবেই ব্রিটিশ ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। ইসরায়েলি বিরোধী নেতা আভি দাবুশও এই মন্তব্যের জেরে নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেছেন।

 

ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে স্পষ্ট টানাপোড়েন শুরু হয়। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের সময় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় ইসরায়েলের কিছু অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্স বাতিল করা হয় এবং ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

এছাড়া ফ্রান্স ও কানাডার মতো বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মিত্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্য স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পথে হেঁটেছে।

 

সম্প্রতি বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধে আরও কঠোর চাপ প্রয়োগ এবং অস্ত্র ও বাণিজ্যসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। মূলত এই ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দূরত্বের কারণেই নেতানিয়াহু যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে এমন আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত। ছবি: সংগৃহীত
গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষের পথে, কারিগরি আলোচনা চালাচ্ছে ভারত: রণধীর জয়সোয়াল

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এ নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিসাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, গঙ্গাসহ দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানি সংক্রান্ত বিষয় যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও অব্যাহত রয়েছে।   বাংলাদেশের পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি সম্প্রতি জানিয়েছেন, ঢাকা ১৯৯৬ সালের চুক্তি শুধু নবায়নের পরিবর্তে নতুন একটি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি চায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের প্রাপ্য পানির নিশ্চয়তা এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে সৃষ্ট সমস্যার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।   ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির আওতায় ফারাক্কা পয়েন্টে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি দুই দেশের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা রয়েছে।   বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নতুন চুক্তির প্রস্তাবের বিষয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জয়সোয়াল বলেন, অভিন্ন নদীগুলোর পানি সংক্রান্ত বিষয় দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মধ্যেই আলোচনা করা হবে। তিনি যৌথ নদী কমিশনের কথা উল্লেখ করে জানান, গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও চলছে।   এর আগে বাংলাদেশ জানিয়েছিল, নতুন চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানিতে দেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহের বিষয়েও নিশ্চয়তা চায় ঢাকা। বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও যৌথ নদী কমিশন নতুন চুক্তির কাঠামো নিয়ে প্রস্তুতিও চালিয়ে যাচ্ছে।   বাংলাদেশ ও ভারত ৫৪টি অভিন্ন নদী ভাগ করে। তবে গঙ্গা ছাড়া অন্য কোনো অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি নেই। ফলে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান আলোচনা দুই দেশের পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন বা সংশোধিত চুক্তি নিয়ে দুই দেশ কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন মূল বিষয়। ভারতের পক্ষ থেকে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, আর বাংলাদেশ নতুন চুক্তির মাধ্যমে পানির ন্যায্য হিস্যা ও প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা চাচ্ছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১২:২৬
নরওয়ের একটি সড়কে চলন্ত বৈদ্যুতিক গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

নরওয়ের নতুন গাড়ির বাজারে পেট্রল-ডিজেল প্রায় উধাও, বৈদ্যুতিক গাড়ি ৯৮ শতাংশ

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বন্যার পানিতে ডুবে থাকা রাস্তায় জেট স্কি চালানোর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে জরিমানা ও স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

বন্যায় প্লাবিত রাস্তায় নিজের বিনোদনের জন্য জেট স্কি চালিয়ে গ্রেফতার ব্যক্তি, বাহন বাজেয়াপ্ত

সাবেক আইনজীবী ক্যাথরিন থিওডোটুর প্রিয় বিড়াল রিটা

বিড়াল কেড়ে নেওয়ার পর মৃ ত্যু, ম র দে হ দেখতে আদালতে মালিকের মা ম লা

প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা স ন্ত্রা সবাদ ভারতের অন্যতম প্রধান সমস্যা : জয়শঙ্কর

প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা স ন্ত্রা সবাদ ভারতের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ। ভারতের অংশীদারেরা এই উদ্বেগ যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে না বুঝলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও তার প্রভাব পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কীভাবে আরও ভালো করা যায়, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।   সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর বলেন, কয়েক দশক ধরে প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা স ন্ত্রা সবাদের মুখোমুখি হচ্ছে ভারত। তাঁর ভাষায়, ভারতের কাছে বিষয়টি গভীরভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ নিয়ে অংশীদারদের যথেষ্ট বোঝাপড়া, গুরুত্ব বা সহমর্মিতা না থাকলে সম্পর্কে সমস্যা তৈরি হয়।   ওই বক্তব্যে জয়শঙ্কর প্রতিবেশী দেশটির নাম বলেননি। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যোগাযোগ এবং স ন্ত্রা সবাদ নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থানের প্রেক্ষাপটে তাঁর মন্তব্যটি এসেছে। এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণেও তিনি পাকিস্তানের নাম না নিয়ে স ন্ত্রা সবাদ বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।   ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের পেছনে শুধু নিরাপত্তার বিষয়ই নেই। শুল্ক ও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে দুই দেশের মধ্যে। পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের জ্বালানি কেনা এবং তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে জয়শঙ্কর এ বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ জানান।   বাণিজ্য আলোচনা সম্পর্কে জয়শঙ্কর বলেন, দুই পক্ষ একটি চুক্তি নিয়ে মোটামুটি বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসায় নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারতের ছোট কৃষক ও উৎপাদকদের স্বার্থের কথাও আলোচনায় বিবেচনা করতে হচ্ছে। তাই চুক্তি শেষ করতে ধৈর্য এবং বিস্তারিত কাজ প্রয়োজন বলে তিনি জানান।   এই আলোচনার মধ্যেই ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সফরে দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হবে।   সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত চায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক। বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হলে তা সম্পর্ক উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে স ন্ত্রা সবাদসহ যেসব বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ রয়েছে, সেগুলোরও সমাধান প্রয়োজন বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ৫:১৩
কিয়েভে ভয়াবহ রুশ হা মলা,  আ গুনে পুড়ল বিজ্ঞান একাডেমির ঐতিহাসিক ভবন; নি হত ৭

কিয়েভে ভয়াবহ রুশ হা মলা, আ গুনে পুড়ল বিজ্ঞান একাডেমির ঐতিহাসিক ভবন; নি হত ৭

গাজায় ই সরায়েলের কার্যক্রম ‘বিশ্ববিবেকের কলঙ্ক’, বললেন ব্রিটিশ মন্ত্রী মিলিব্যান্ড

গাজায় ই সরায়েলের কার্যক্রম ‘বিশ্ববিবেকের কলঙ্ক’, বললেন ব্রিটিশ মন্ত্রী মিলিব্যান্ড

কিডনি দিতে স্ত্রীর ভারতে রওয়ানা: মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানশিক্ষক মন্দিরা রানী

কিডনি দিতে স্ত্রীর ভারতে রওয়ানা: মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানশিক্ষক মন্দিরা রানী

যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য করা হবে: মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য করা হবে: মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তেই হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য বিবৃতি। এক কড়া বার্তায় তিনি মার্কিন বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগের এই চরম হুঁশিয়ারি দেন।   বিবৃতিতে খামেনি দাবি করেন, ইরানি বীর যোদ্ধাদের পালটা আঘাতে পর্যুদস্ত হয়ে মার্কিন বাহিনী এখন আর আরব সাগরের বাইরে আসার সাহস পাচ্ছে না। খুব শিগগিরই এই সাগরও তাদের উপস্থিতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।   এরপর গত মার্চ মাসে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই একই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে, যার কারণে দীর্ঘ সময় তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।   এদিকে, চলমান এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সাইডলাইনে ইরান একটি সাত দফা শান্তি প্রস্তাবও উত্থাপন করেছে। এই প্রস্তাবের অংশ হিসেবে তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে রাজি আছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও, চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে আরও আলোচনা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:৪৬
মাত্র ১১ বছরেই দাবায় বিশ্বরেকর্ড, সর্বকনিষ্ঠ নারী গ্র্যান্ডমাস্টার ব্রিটিশ-ভারতীয় বোধনা

মাত্র ১১ বছরেই দাবায় বিশ্বরেকর্ড, সর্বকনিষ্ঠ নারী গ্র্যান্ডমাস্টার ব্রিটিশ-ভারতীয় বোধনা

যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে  হা মলার ছক বানচাল, জামিনে মুক্ত ৫ ব্রিটিশ সন্দেহভাজন

যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হা মলার ছক বানচাল, জামিনে মুক্ত ৫ ব্রিটিশ সন্দেহভাজন

ব্রাজিলের সাও পাওলোতে ক্যানসারে আক্রান্ত মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে ক্যানসারে মা ও মেয়ের মৃত্যু, একসঙ্গে হলো শেষ বিদায়

0 Comments