ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই এক সাহসী ও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। দেশটির সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আশঙ্কা ছিল- আমেরিকা ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধে হয়তো অনিচ্ছাসত্ত্বেও জড়িয়ে পড়তে পারে ব্রিটেন। তবে সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রিটেন কোনোভাবেই ইরানের যুদ্ধে পা বাড়াবে না। তিনি বলেন, “ব্রিটেনের সাধারণ নাগরিকরা উদ্বিগ্ন যে যুক্তরাজ্য হয়তো এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। কিন্তু আমি কথা দিচ্ছি, আমরা তা করব না।” তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিতে ব্রিটেন কেবল ‘সুস্পষ্ট এবং শান্ত নেতৃত্ব’ দিতেই প্রস্তুত। এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্টারমার মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিলেন।
সাইপ্রাসকে সুরক্ষা দিতে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ 'ড্রাগন' পৌঁছাতে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় লন্ডনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিন। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের তথাকথিত 'মিলিটারি আমব্রেলা' বা সামরিক সুরক্ষা বলয় পুরোপুরি অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেলিন জানান, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের মুখে ব্রিটিশ পরিকল্পনাকারীরা কার্যত অপ্রস্তুত ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিকরাও সরকারের এই সামরিক অদূরদর্শিতার কড়া সমালোচনা করছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাইপ্রাসের মতো দেশগুলো ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দেয় এই আশায় যে, সংকটের সময় লন্ডন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করেছে, প্রয়োজনের সময় ব্রিটিশদের এই সুরক্ষা ব্যবস্থা কোনো কাজেই আসছে না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের এই 'সতর্ক অবস্থান' মূলত তাদের সামরিক সীমাবদ্ধতাকেই বিশ্বমঞ্চে উন্মোচিত করেছে।
ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্সেস কেট ক্যান্সার ধরা পড়ার পর নিজের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তনের কথা খোলামেলাভাবে জানিয়েছেন। সম্প্রতি লন্ডনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, অসুস্থতার পর থেকে তিনি জীবনধারা নিয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়ে উঠেছেন এবং বিশেষ করে মদ্যপান অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। লন্ডনের একটি বীয়ারহলে সফরের সময় তাকে পানীয় অফার করা হলে ৪৪ বছর বয়সী প্রিন্সেস কেট বলেন, “আমার রোগ ধরা পড়ার পর থেকে আমি খুব বেশি অ্যালকোহল পান করি না। এখন আমাকে এ বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন থাকতে হয়।” স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালকোহল সেবনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, মদ্যপান স্তন ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, কোলোরেক্টাল ক্যান্সার, খাদ্যনালী ক্যান্সার এবং মুখ ও গলার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালকোহল কম পান করা বা পুরোপুরি পরিহার করা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। প্রিন্সেস কেটের এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার সতর্ক ও সচেতন জীবনযাপনের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন।
যুক্তরাজ্যের আকাশসীমায় বাড়ছে মার্কিন যুদ্ধবিমানের আনাগোনা। গ্লুচেস্টারশায়ারের রয়্যাল এয়ার ফোর্স বা আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে নতুন করে আরও তিনটি মার্কিন বি-১ বি ল্যান্সার বোম্বার অবতরণ করেছে। ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই মোতায়েনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরই এই বি-১ বোম্বারগুলো যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে শুরু করে। লন্ডন এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে একটি 'প্রতিরক্ষামূলক' অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, গত শুক্রবার প্রথম একটি বি-১ ল্যান্সার বোম্বার এই ঘাঁটিতে অবতরণ করে। এরপর শনিবার আরও দুটি বিমান এসে পৌঁছায়। বর্তমানে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মার্কিন বোম্বারদের একটি শক্তিশালী বহর অবস্থান করছে, যা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় সক্ষম। বি-১ ল্যান্সার মূলত একটি সুপারসনিক কৌশলগত বোম্বার, যা বিশাল পরিমাণ অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং দূরপাল্লার অভিযানে অত্যন্ত কার্যকর।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে রণসজ্জা শুরু করেছে যুক্তরাজ্য। রাজকীয় নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী এইচএমএস প্রিন্স অফ ওয়েলস-কে মাত্র পাঁচ দিনের নোটিশে যাত্রার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত এই ধরনের প্রস্তুতির জন্য ১৪ দিন সময় নেওয়া হলেও, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেই সময়সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ব্রিটিশ সম্পদ এবং মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই রণতরীটি মোতায়েন করা হতে পারে। মূলত সাইপ্রাসকে শত্রুপক্ষের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে ব্রিটিশ সরকারের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখেই এই ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই এই অঞ্চলে ব্রিটেনের শক্তিশালী টাইপ ৪৫ ডেস্ট্রয়ার এইচএমএস ড্রাগন মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইপ্রাসে অতিরিক্ত ৪০০ জন সেনাসদস্য এবং টাইফুন ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদিও এই বছরের শেষের দিকে উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরে রুশ আগ্রাসন মোকাবিলায় রণতরীটির যাওয়ার কথা ছিল, তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট সেই পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত জানুয়ারি মাস থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ব্রিটিশ বিমান বাহিনী ইতোমধ্যেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিত সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।
এক নজিরবিহীন নাটকীয়তায় ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে গ্রেফতার করেছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় ‘অসদাচরণের’ গুরুতর অভিযোগে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, আজই তার ৬৬তম জন্মদিন ছিল। টেমস ভ্যালি পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল অলিভার রাইট এক বিবৃতিতে জানান, “একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়নের পর, আমরা এখন সরকারি অফিসে অসদাচরণের অভিযোগের ভিত্তিতে এই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছি।” রাজকীয় জাঁকজমক থেকে থানার লক-আপ বিবিসির রাজকীয় বিষয়ক সংবাদদাতা শন কফলান এই ঘটনাকে ‘সংবাদ জগতের এক ভূমিকম্প’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বাকিংহাম প্যালেস বা উইন্ডসর ক্যাসেলের বিলাসিতা ছেড়ে রাজপুত্রের জন্য এখন অপেক্ষা করছে থানার সাধারণ লক-আপ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা থাকবে না; বরং সাধারণ বন্দিদের মতো একটি কক্ষ, একটি বিছানা এবং একটি টয়লেট সংবলিত ‘হেফাজত স্যুট’-এ তাকে রাখা হবে। এই গ্রেফতারের প্রেক্ষিতে রাজা চার্লস অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।” তদন্তের মূলে যা রয়েছে যদিও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট নথি বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেনি, তবে জানা গেছে এই তদন্ত অ্যান্ড্রুর ‘বাণিজ্য দূত’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কার কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত। এপস্টিন সংযোগ: অভিযোগ রয়েছে যে, বাণিজ্য দূত থাকাকালীন কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি তিনি জেফরি এপস্টিনের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। গুরুতর অভিযোগ: দ্বিতীয় এক নারীকে যৌন সম্পর্কের উদ্দেশ্যে জেফরি এপস্টিন কর্তৃক যুক্তরাজ্যে পাঠানোর বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তল্লাশি অভিযান: গ্রেফতারের ফলে পুলিশ এখন অ্যান্ড্রুর বাড়ি, কম্পিউটার সরঞ্জাম, ফাইল এবং ডিজিটাল ডিভাইস তল্লাশি করার আইনি ক্ষমতা পেয়েছে। ইতোমধ্যেই উইন্ডসর গ্রেট পার্কের ‘রয়েল লজ’-এ তল্লাশি শুরু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও পরবর্তী ধাপ সাবেক পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট দাল বাবু জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই অ্যান্ড্রুর ওপর আইনি চাপ বাড়ছিল। বর্তমানে তাকে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে রাখা সম্ভব, যদিও সাধারণত ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগ গঠন বা জামিনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইনি বিশেষজ্ঞ ডমিনিক ক্যাসিয়ানির মতে, ‘সরকারি অফিসে অসদাচরণ’ প্রমাণ করা বেশ জটিল। প্রসিকিউটরদের চারটি প্রধান দিক খতিয়ে দেখতে হবে: অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই সময়ে ‘সরকারি কর্মকর্তা’ ছিলেন কি না। তিনি ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন কি না। তার কর্মকাণ্ড ‘জনগণের আস্থার অপব্যবহার’ কি না। তার এই কাজের পেছনে কোনো ‘যুক্তিসঙ্গত অজুহাত’ ছিল কি না। অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর শুরু থেকেই সমস্ত অনিয়মের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন। তবে এই গ্রেফতারি ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।
ব্রিটেনের রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের সুর! দীর্ঘদিনের আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব পিটার ম্যান্ডেলসন অবশেষে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডস থেকে স্থায়ীভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে তার এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু এই বিদায় কি সাধারণ কোনো প্রস্থান, নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো কারণ? খবরের মূল পয়েন্টগুলো একনজরে: বিস্ফোরক অভিযোগ: কুখ্যাত 'এপস্টিন ফাইলে' নাম আসার পর থেকেই চাপে ছিলেন ম্যান্ডেলসন। ২০০৯ সালের দিকে সরকারের অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য জেফরি এপস্টিনকে সরবরাহ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তদন্তের মুখে: বিষয়টি বর্তমানে ক্যাবিনেট অফিস থেকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে তার বিরুদ্ধে ওঠা এই তথ্য পাচারের অভিযোগগুলো কতটা সত্য। স্পিকারের ঘোষণা: লর্ড স্পিকার লর্ড ফোরসাইথ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই অবসরের বিষয়টি সংসদকে অবহিত করেন। তিনি জানান, জনস্বার্থ এবং হাউজের মর্যাদা রক্ষার খাতিরেই ম্যান্ডেলসন এই নোটিশ দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ছুটিতে থাকার পর ম্যান্ডেলসনের এই চূড়ান্ত বিদায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। পর্দার আড়ালে আসলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।