আন্তর্জাতিক

লন্ডনে চোখের সামনে নীল হয়ে যাচ্ছিল দুই দিনের ভাই, কিশোরের বুদ্ধিমত্তায় বাঁচল প্রাণ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১০:৪৭
কিশোর ড্যানিয়েল মুসার অঙ্গদানের মাধ্যমে নতুন জীবন পেয়েছেন তিনজন গুরুতর অসুস্থ রোগী। ছবি: সংগৃহীত
কিশোর ড্যানিয়েল মুসার অঙ্গদানের মাধ্যমে নতুন জীবন পেয়েছেন তিনজন গুরুতর অসুস্থ রোগী। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১৬ বছর বয়সে জীবন থেমে গেলেও অন্যদের জীবনে বেঁচে থাকবেন লন্ডনের কিশোর ড্যানিয়েল মুসা। তার অঙ্গদানের মাধ্যমে নতুন জীবন পেয়েছেন তিনজন রোগী, যাদের একজন মাত্র দুই দিনের নবজাতক। কিশোরটির পরিবারের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত এখন অঙ্গদানের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্যানিয়েল হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এরপর তার পরিবার অঙ্গদানে সম্মতি দেয়।

 

ড্যানিয়েলের হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করা হয় মাত্র দুই দিনের এক শিশুর শরীরে। এত কম বয়সী শিশুর শরীরে উপযুক্ত দাতার অঙ্গ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় এই প্রতিস্থাপন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

 

তার আরও অঙ্গ দুইজন রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। ফলে নিজের জীবন শেষ হয়ে গেলেও তিনজন মানুষের জীবন বাঁচানোর সুযোগ তৈরি করে দিয়ে গেছেন এই কিশোর।

 

পরিবারের জন্য সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত কঠিন। সন্তান হারানোর শোকের মধ্যেই তারা অন্য পরিবারগুলোকে একই বেদনা থেকে রক্ষা করার সুযোগ হিসেবে অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন।

 

যুক্তরাজ্যে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা রোগীদের জন্য উপযুক্ত দাতা পাওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নবজাতক ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে শরীরের আকার এবং চিকিৎসাগত সামঞ্জস্যের কারণে উপযুক্ত অঙ্গ পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

 

ড্যানিয়েলের ঘটনা সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। মাত্র ১৬ বছরের একটি জীবন শেষ হয়ে গেলেও তার অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত অন্য তিনটি পরিবারকে দিয়েছে নতুন করে প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার সুযোগ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
জাপানে একই পরিবারের চারজনকে হ ত্যা, অসংখ্য আলামত থাকলেও ২৫ বছরেও অধরা খু নি
জাপানে একই পরিবারের চারজনকে হ ত্যা, অসংখ্য আলামত থাকলেও ২৫ বছরেও অধরা খু নি

জাপানের অপরাধ ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি টোকিওর সেতাগায়া পরিবার হত্যা। ঘটনাস্থলে খুনি নিজের রক্ত থেকে শুরু করে পোশাক, ব্যাগ, রুমাল এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি পর্যন্ত ফেলে গিয়েছিল। এত বিপুল আলামত হাতে থাকার পরও ২৫ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, এখনো শনাক্ত হয়নি খুনি। ২০২৬ সালেও মামলাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশ।   ঘটনাটি ঘটে ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাত থেকে ৩১ ডিসেম্বর ভোরের মধ্যে। টোকিওর সেতাগায়া এলাকার কামি সোশিগায়ায় নিজেদের বাড়িতে খুন হন ৪৪ বছর বয়সী মিকিও মিয়াজাওয়া, তার স্ত্রী ইয়াসুকো এবং তাদের দুই সন্তান নিনা ও রেই।   নতুন বছর শুরুর ঠিক আগে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনাটি তখন পুরো জাপানকে নাড়িয়ে দেয়। শুরুতে পুলিশের ধারণা ছিল, ঘটনাস্থলে এত আলামত পাওয়া যাওয়ায় অপরাধীকে শনাক্ত করতে খুব বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।   তদন্তকারীদের সবচেয়ে অবাক করেছিল খুনির রেখে যাওয়া বিপুল ব্যক্তিগত সামগ্রী। টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে একটি সোয়েটশার্ট, টুপি, হিপ ব্যাগ, স্কার্ফ, গ্লাভসসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। খুনির ব্যবহৃত জুতার ছাপও পাওয়া যায়।   পুলিশ দুটি কালো রুমালও উদ্ধার করে। তদন্তে জানা যায়, রুমাল ও ব্যাগে ফরাসি ব্র্যান্ড গি লারোশের ‘ড্রাকার নোয়ার’ পারফিউমের উপাদান ছিল। এই পারফিউম জাপানে আশির দশক থেকেই বিক্রি হচ্ছিল।   ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া ছুরিটিও শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এটি ছিল ‘সেকি মাগোরোকু গিনজু’ নামে বিক্রি হওয়া একটি সাশিমি ছুরি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের জুনে একই ধরনের মোট ১ হাজার ৫০০টি ছুরি তৈরি হয়েছিল এবং কানতো অঞ্চলের ৪৬টি দোকানে সেগুলো বিক্রি করা হয়েছিল।   আরও গুরুত্বপূর্ণ আলামত আসে খুনির শরীর থেকেই। হামলার সময় তার হাত আহত হয়েছিল এবং ঘটনাস্থলে তার রক্ত থেকে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, সেই রক্তের গ্রুপ ‘এ’। আঙুলের ছাপসহ আরও ফরেনসিক আলামতও তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে।   খুনির পরনে থাকা সোয়েটশার্টের উৎস খুঁজতে গিয়ে তদন্ত আরও সংকীর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের আগে পুরো জাপানে একই ধরনের মাত্র ১৩০টি সোয়েটশার্ট বিক্রি হয়েছিল। এর মধ্যে টোকিওতে বিক্রি হয়েছিল মাত্র ১০টি। এত নির্দিষ্ট তথ্য পেয়েও শেষ পর্যন্ত সেই সূত্র ধরে খুনির পরিচয় বের করা সম্ভব হয়নি।   জুতার সূত্রটিও ছিল রহস্যজনক। পুলিশের তদন্তে ধারণা করা হয়, খুনির জুতাটি দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি স্ল্যাজেঞ্জার ব্র্যান্ডের ২৭ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার মাপের। একই মাপের জুতা জাপানের বাজারে বিক্রি হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।   দুই দশকের বেশি সময় ধরে এসব পোশাক ও ব্যক্তিগত সামগ্রীর ছবি প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়ে আসছে টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশ। সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শী থেকে শুরু করে পোশাক বা অন্যান্য আলামত চিনতে পারেন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে।   ২৫ বছর পরও মামলাটি বন্ধ হয়নি। বরং ২০২৬ সালেও এটি টোকিও পুলিশের সক্রিয় তদন্তাধীন মামলার তালিকায় রয়েছে। খুনিকে গ্রেফতার বা মামলার সমাধানে কার্যকর তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ২ কোটি ইয়েন পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   একটি পরিবারের চার সদস্যকে কারা এবং কেন হত্যা করেছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। সবচেয়ে বড় রহস্য হলো, নিজের এত ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, রক্ত ও ফরেনসিক আলামত ফেলে যাওয়ার পরও কীভাবে একজন খুনি এক চতুর্থাংশ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে শনাক্ত না হয়ে রয়ে গেল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১২:৩৪
কিশোর ড্যানিয়েল মুসার অঙ্গদানের মাধ্যমে নতুন জীবন পেয়েছেন তিনজন গুরুতর অসুস্থ রোগী। ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে চোখের সামনে নীল হয়ে যাচ্ছিল দুই দিনের ভাই, কিশোরের বুদ্ধিমত্তায় বাঁচল প্রাণ

ভালোবাসার টানে ১৯৭৭ সালে ভারতের দিল্লি থেকে সাইকেল চালিয়ে সুইডেনে থাকা শার্লটের কাছে পাড়ি জমিয়েছিলেন শিল্পী পি কে মহানন্দিয়া। ছবি: সংগৃহীত

বিমানের টিকিটের টাকা ছিল না, ভালোবাসার মানুষটির জন্য সাইকেলেই গেলেন ভারত থেকে সুইডেন

মেয়েদের শিক্ষিত করার স্বপ্নে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে করে স্কুলে নিয়ে যাওয়া ও বাইরে অপেক্ষা করা আফগান বাবা মিয়া খান। ছবি: সংগৃহীত

মেয়েদের পড়াতে প্রতিদিন ১২ কিলোমিটার পথ, স্কুলের বাইরে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা আফগান বাবার

জিয়াদ মোহাম্মদ। ছবি:সংগৃহীত
ছয়জনকে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচিয়ে শেষবার আর ফিরতে পারলেন না ১৮ বছরের জিয়াদ মোহাম্মদ

মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া উপকূলে সাগরে ডুবে যাওয়া ছয়জনকে উদ্ধারের পর নিজেই আর তীরে ফিরতে পারেননি ১৮ বছর বয়সী তরুণ জিয়াদ মোহাম্মদ আহমেদ মাহমুদ। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক পোস্টে উঠে এসেছে।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উপকূলের কাছে সাগরে হঠাৎ তীব্র স্রোত তৈরি হলে কয়েকজন সাঁতারু স্রোতের টানে তীর থেকে দূরে চলে যান। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যান জিয়াদ।   প্রবল ঢেউ ও স্রোতের মধ্যেও বারবার সাগরে নেমে তিনি একে একে ছয়জনকে নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনেন। প্রতিবারই নিজের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে স্রোতের বিপরীতে লড়াই করে তাদের তীরে পৌঁছে দেন তিনি।   তবে শেষবার একজনকে উদ্ধারের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে একের পর এক উদ্ধারে অংশ নেওয়ায় জিয়াদ শারীরিকভাবে প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে তিনি আর তীরে ফিরতে পারেননি।   মাত্র ১৮ বছর বয়সে অন্যের জীবন রক্ষায় এমন ঝুঁকি নেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিয়াদের সাহস ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করছেন অনেকে। মুসলিমদের অনেকে তার জন্য দোয়া করছেন এবং মহান আল্লাহর কাছে তার আত্মত্যাগ কবুল করার প্রার্থনা জানাচ্ছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৮:১৯
গাজার ভয়াবহতা ভুলতে না পেরে আত্মহ ত্যা করলেন ২৪ বছর বয়সী ইসরায়েলি সেনা

গাজার ভয়াবহতা ভুলতে না পেরে আত্মহ ত্যা করলেন ২৪ বছর বয়সী ইসরায়েলি সেনা

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে জোয়ারের কবলে পড়া ১৪০ অভিবাসীকে উদ্ধার করল ফ্রান্স

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে জোয়ারের কবলে পড়া ১৪০ অভিবাসীকে উদ্ধার করল ফ্রান্স

ট্রাম্পকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘প্রয়োজন হলে পা ভেঙে দেব’: ইরানের সেনাপ্রধান I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্পকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘প্রয়োজন হলে পা ভেঙে দেব’: ইরানের সেনাপ্রধান

সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে পর্যটকবাহী বাস উল্টে ১২ জন নিহত, আহত ৩৭ I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে পর্যটকবাহী বাস উল্টে ১২ জন নি হত, আ হত ৩৭

হাঙ্গেরির পূর্বাঞ্চলে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও ৩৭ জন আহত হয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) ভোরে মেজোকোভেসদ শহরের কাছে এম-৩ মহাসড়কে সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ডগামী একটি পর্যটকবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে গেলে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।   জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এমটিআই-এর দেওয়া তথ্যমতে, পোল্যান্ডে নিবন্ধিত ওই বাসটিতে ৫৭ জন যাত্রী ও দুজন চালক ছিলেন। মহাসড়ক দিয়ে নিয়েরেজহাজা শহরের দিকে যাওয়ার সময় সোজা রাস্তা থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসটি একপাশে কাত হয়ে যায়।   দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, ঘটনাস্থলেই ১১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের জানালা ভেঙে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশের ধারণা, চলন্ত অবস্থায় চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি খাদে পড়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে চালককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।   এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী এবং পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি এক বার্তায় জানিয়েছেন, হাঙ্গেরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে এবং জরুরি কনস্যুলার সেবা চালু করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে শিওফোকে ট্রেনের ধাক্কায় একটি জার্মান পর্যটকবাহী বাসে ৩৩ জন নিহত হওয়ার পর, এটিই হাঙ্গেরির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৩:৪৯
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে উচ্চ অগ্নিঝুঁকির মধ্যে বাইরে বারবিকিউ জ্বালানোর পর পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বারবিকিউ, দাবানল লাগানোর অভিযোগে ইসরাইলি পর্যটক গ্রেপ্তার

যুক্তরাজ্যে জরুরি নম্বরে ফোন করে মা জর্জিয়ার প্রাণ বাঁচানো তিন বছর বয়সী শিশু জেমস পুলিশের পোশাকে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের ডনকাস্টারে তিন বছরের শিশুর জরুরি ফোনে প্রাণে বাঁচলেন মা

মানব পাচারকারীদের নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন জিবি নিউজের সাংবাদিক প্যাট্রিক ক্রিস্টিস। ছবি: সংগৃহীত

মানব পাচারকারীদের মুখোশ খুলে বিপদে সাংবাদিক, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে ছাড়লেন বাড়ি

0 Comments