- প্রচ্ছদ
- Topic
প্রধানমন্ত্রী
উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাতিমা জাহরা মানসুরি। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ৫০ বছর বয়সী এই নগর পরিকল্পনামন্ত্রী ও আইনজীবীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যা মরক্কোর জন্য একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এই প্রধানমন্ত্রীকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত সংসদীয় নির্বাচনের চার দিন পর এই ঘোষণা এলো, যেখানে ফাতিমা জাহরার মধ্যপন্থী দল 'অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (প্যাম)' সর্বাধিক ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছে। তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেনের পর ফাতিমা জাহরা মানসুরি পুরো আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী, যিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হলেন। মরক্কোর নির্বাচন ব্যবস্থা অনুযায়ী কোনো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বেশ কঠিন। তাই আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে ফাতিমা জাহরা একটি জোট সরকার গঠন করবেন। তার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাঁধে এখন বিশাল দায়িত্ব। বিশেষ করে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তদারকির পাশাপাশি দেশে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মজুরি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করবে তার প্রশাসন। ২০১১ সালের আরব বসন্তের পর মরক্কোর সংবিধানে আনা সংস্কার অনুযায়ী, রাজা দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হলেও সংসদীয় নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দল থেকেই তাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে হয়। এর আগে রাজা কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে পারতেন। ২০০৮ সালে রাজার বাল্যবন্ধু ও ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ফুয়াদ আলী এল হিম্মার হাত ধরে 'প্যাম' গঠিত হলে ফাতিমা জাহরা এই দলে যোগ দেন। ফ্রান্সের মন্টপিলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক সম্পন্ন করা ফাতিমা ২০২৪ সালে দলের অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে ওঠেন। এর আগে তিনি মারাকেশের মেয়র এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাবা আবদেররহমান এল মানসুরি সংযুক্ত আরব আমিরাতে মরক্কোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং মারাকেশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি 'মারাকেশের পাশা' হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফাতিমা জাহরা সম্প্রতি মারাকেশে জমি লেনদেনের বিষয়ে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অজ্ঞাত হ্যাকারদের দ্বারা সমালোচিত হয়েছিলেন। তবে তিনি এই অভিযোগগুলোকে মানহানিকর আখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করেছেন এবং আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। গত সপ্তাহের নির্বাচনে মরক্কোর ১ কোটি ৫৮ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ভোটার প্যামকে সমর্থন দিয়েছেন, যা দলটির প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বড় বিজয়। গত জুলাইয়ে সিউটা অভিবাসন সংকট এবং গত বছর তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম নির্বাচন। এখন সবার দৃষ্টি পরবর্তী সরকার গঠনের দিকে। প্যাম সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, মধ্যপন্থী ইসলামি দল 'জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি' এবং বামপন্থী 'ফেডারেশন অব ডেমোক্রেটিক লেফট'-এর মতো কয়েকটি দল এরই মধ্যে বিরোধী দলে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
আগামী দুই মাসে তিন দেশ সফরের প্রস্তুতি চলছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। অক্টোবর ও নভেম্বরে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ঢাকা। তবে এখন পর্যন্ত এই তিন দেশ সফরের সম্ভাব্য সূচিতে প্রতিবেশী ভারতের নাম নেই। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে প্রথমে জাপান সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সম্ভাব্য এই দ্বিপক্ষীয় সফর তিন থেকে চার দিনের হতে পারে। সফরটি সামনে রেখে ঢাকা ও টোকিওর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। জাপান সফরে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের পাশাপাশি বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, জনশক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। জাপানও বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে। এরপর নভেম্বরে তুরস্ক সফরের কথা রয়েছে তারেক রহমানের। দেশটির আনতালিয়ায় আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম সম্মেলন - কপ৩১। প্রধানমন্ত্রীকে ওই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও এর আগে তারেক রহমানের কপ৩১-এ অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তুরস্কের পর নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে সম্ভাব্য এই দ্বিপক্ষীয় সফর আয়োজন নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সৌদি সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, জ্বালানি, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাংলাদেশি জনশক্তির সুযোগ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে সফরের চূড়ান্ত তারিখ ও পূর্ণ কর্মসূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এদিকে সম্ভাব্য এই তিন দেশ সফরের তালিকায় ভারত না থাকলেও দিল্লি সফরের আলোচনা শেষ হয়ে যায়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও তাকে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যদিও তিনি সেখানে যাননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৫ সেপ্টেম্বর জানায়, দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণের বিষয়ে তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কাছ থেকে কোনো চূড়ান্ত জবাব তারা পায়নি। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ২১ সেপ্টেম্বর কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, দুই পক্ষ নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সম্ভাব্য ভারত সফরের তারিখ নিয়েও আলোচনা করছে। ফলে বর্তমানে ভারত সফর বাতিল হয়েছে বা হচ্ছে না - এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগও নেই। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী কূটনৈতিক সফরের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে এখন সামনে রয়েছে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব। তিন সফরের প্রস্তুতি এগোলেও তারিখগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এনএসডিএ গভর্নিং বোর্ডের তৃতীয় সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন। সভায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি, প্রশিক্ষণের মান বৃদ্ধি এবং সনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর বিষয় আলোচনা হয়। তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চললেও যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে প্রশিক্ষণ ও সনদ অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত কার্যকারিতা পাচ্ছে না। এ কারণে তরুণদের অর্জিত দক্ষতা দেশে ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রত্যাশিত স্বীকৃতি পাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ পরিস্থিতিতে এনএসডিএর গভর্নিং বোর্ডকে ছোট একটি কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে সমন্বিত কাঠামোয় এনে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সভায় এনএসডিএর প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও কার্যক্রমের পাশাপাশি খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বিশ্লেষণ এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মান, সনদ এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সৌরবিদ্যুৎ নীতির প্রশংসা করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি। দিল্লির শ্রী রাম কলেজ অব কমার্সের (এসআরসিসি) শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের আগে সূর্য যেমন ছিল, এখনও তেমনই আছে; তবে মোদি সূর্যের শক্তিকে চিনে তার সম্ভাবনাকে দেশের মানুষের কাজে লাগিয়েছেন। যোশির দাবি, ২০১৪ সালে ভারতে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ছিল মাত্র প্রায় ২ দশমিক ৬ গিগাওয়াট। বর্তমানে তা বেড়ে ১৬৫ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই ভারতের স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ছিল ১৬৪ দশমিক ৫৯ গিগাওয়াট। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের সম্প্রসারণের ফলে ভারতের বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাঁর বক্তব্যে মোদি সরকারের গত ১২ বছরের নীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিকও উঠে আসে। এসআরসিসির শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদিও উপস্থিত ছিলেন। ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটির শতবর্ষ উপলক্ষে তিনি ১৩ বছর পর আবার কলেজটিতে যান। এর আগে ২০১৩ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে তিনি এসআরসিসিতে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে যোশি আরও বলেন, ২০১৪ সালে ভারতের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ২৪৯ গিগাওয়াট, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ৫৫২ গিগাওয়াট হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০২ গিগাওয়াট অ-জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক সক্ষমতা।
৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক মিশন শেষ ও ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র সমর্পণের সময়সীমা; নিজস্ব নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর বাগদাদের ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, আগামী ১ অক্টোবর দেশটির জন্য নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হবে। ওই সময়ের মধ্যে ইরাক থেকে সব বিদেশি সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার সম্পন্ন হলে দেশটি তার ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। আল-জাইদি বলেন, বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাক নিজের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আরও বেশি দায়িত্ব নেবে। এ লক্ষ্যেই দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে। ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশন শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। এরপর দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার ধরনও পরিবর্তিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি ইরাকের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করা। একই সময়সীমার মধ্যে এসব গোষ্ঠীকে অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার বিষয়টিও সামনে রয়েছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষ তারিখকে ‘চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয়’ সময়সীমা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়ের পর দেশের ভেতরে রাষ্ট্রের বাইরে কোনো পক্ষের অস্ত্রধারণের সুযোগ না রাখার লক্ষ্য নিয়েছে বাগদাদ। এদিকে মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে ইরাক থেকে তাদের অবশিষ্ট সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিশেষ করে ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান কমিয়ে আনার কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। তবে এই প্রত্যাহারকে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক সম্পর্কের সমাপ্তি হিসেবে দেখছে না ওয়াশিংটন। সামরিক মিশনের পরিবর্তে দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন কাঠামো গড়ে তোলার আলোচনা চলছে। ইরাকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন হলো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি কমে যাওয়ার পর দেশটির নিজস্ব বাহিনী কতটা কার্যকরভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে পারে এবং একই সঙ্গে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় কি না। সেপ্টেম্বরের শেষ সময়সীমাকে ঘিরে তাই ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রয়েছে।
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ-৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। সফরকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে দুই দিনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এরপর সেখান থেকেই দেশে ফেরার কথা রয়েছে। পুরো সফর ৮ থেকে ১০ দিনের হতে পারে বলে জানা গেছে। এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এবং আগামী ৮ সেপ্টেম্বর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এতে প্রায় চার দশক পর একই সময়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের একজন সরকারপ্রধান এবং একজন বাংলাদেশি সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের বিরল ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরসূচি, সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে প্রস্তুতি চলছে। তবে সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সফরসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এ বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রায় দুই দশক পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো নিউইয়র্কে বড় পরিসরে একটি নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে দলটির নেতারা ইতোমধ্যে ভার্চুয়াল প্রস্তুতি সভা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর নিউইয়র্কে সমবেত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন তারেক রহমান। ওই সফরে বাণিজ্য, জনশক্তি, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আগে আপাতত অন্য কোনো বিদেশ সফরের পরিকল্পনা নেই প্রধানমন্ত্রীর।
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে টানা অস্থিরতার মধ্যে অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার। সোমবার (২২ জুন) লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে এক আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। দলীয় আইনপ্রণেতাদের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নের মুখেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না। সাধারণ নির্বাচনে জনগণ তাদের এলাকার প্রতিনিধিকে ভোট দিয়ে হাউস অব কমন্সে পাঠান। যে দল সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, সেই দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হন। ফলে দলের ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে, সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী বদলানো সম্ভব। এই ব্যবস্থার কারণেই গত এক দশকে যুক্তরাজ্যে নজিরবিহীনভাবে দ্রুত প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন ঘটেছে। ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকে এখন পর্যন্ত সাতজন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে একজন নেতা ডাউনিং স্ট্রিটে অবস্থান করতেন—উইনস্টন চার্চিল, মার্গারেট থ্যাচার বা টনি ব্লেয়ারের মতো নেতারা বছরের পর বছর ক্ষমতায় ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অস্থিরতার সূচনা ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোট থেকেই। ওই গণভোটে অল্প ব্যবধানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে রায় আসে, যা দেশের রাজনীতিতে গভীর বিভাজন তৈরি করে। গণভোটের ফল প্রকাশের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেন। এরপর দায়িত্ব নেন থেরেসা মে, কিন্তু দলীয় বিভক্তির কারণে তিনি ব্রেক্সিট কার্যকর করতে গিয়ে চাপে পড়ে ২০১৯ সালে সরে দাঁড়ান। তার উত্তরসূরি বরিস জনসন ‘ব্রেক্সিট সম্পন্ন’ করার অঙ্গীকারে ক্ষমতায় এলেও, কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিধিনিষেধ ভঙ্গসহ একাধিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। ‘পার্টিগেট’ কেলেঙ্কারির জেরে শেষ পর্যন্ত তাকেও পদত্যাগ করতে হয়। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের সময়কাল ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ব্যর্থতায় মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় তাকে সরে যেতে হয়। এরপর দায়িত্ব নেন ঋষি সুনাক, কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে না পারায় ২০২৪ সালের নির্বাচনে কনজারভেটিভদের পরাজয় ঘটে। ওই নির্বাচনে বড় জয় পেয়ে ক্ষমতায় আসে লেবার পার্টি এবং কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হন। তবে ক্ষমতায় আসার দুই বছরের মধ্যেই তার সরকার নানা সংকটে পড়ে। নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং জনসমর্থন হ্রাস—সব মিলিয়ে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফল দলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়িয়ে তোলে। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা পদত্যাগ করেন এবং স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। শেষ পর্যন্ত দলীয় চাপে নতি স্বীকার করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। বক্তব্যে স্টারমার বলেন, “আগামী নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি সঠিক ব্যক্তি কি না—সে প্রশ্ন উঠেছে। আমি সেই প্রশ্নের উত্তর মেনে নিচ্ছি।” তিনি জানান, নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে তার পদত্যাগের পর লেবার পার্টির নতুন নেতা কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম সামনে আসছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী জুলাইয়ের শুরুতে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যগত দুই-দলীয় রাজনীতির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে বিকল্প শক্তি হিসেবে উঠে আসছে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে দল, যা সাম্প্রতিক নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। জনমত বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৬ সালের পর থেকে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনেই ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত না হওয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা যেন এখন যুক্তরাজ্যের নতুন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার তিনি মালয়েশিয়া ত্যাগ করেন। এর আগে রোববার রাতে তিনি ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে কুয়ালালামপুরে পৌঁছান। প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত সফর শেষে তিনি পরবর্তী গন্তব্য চীনের উদ্দেশে রওনা হন। মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সফরকালে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা পর্যায়ের ১০ জনসহ মোট ২৩ জন সদস্য ছিলেন। সফরকালে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধি দল সরাসরি চীনের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী বেগোনা গোমেজের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানো এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগে বিচার কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাসপোর্ট জমা দিতে এবং নিয়মিত আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার তদন্তকারী বিচারক হুয়ান কার্লোস পিনাদো আদেশে বলেন, গোমেজের দেশত্যাগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সে কারণে তাকে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে এবং প্রতি দুই সপ্তাহে একবার আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে। তবে মামলার শুনানির নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গোমেজ তার অবস্থানের প্রভাব ব্যবহার করে কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে সরকারি চুক্তি পেতে সহায়তা করেছেন। এছাড়া একজন পরামর্শক নিয়োগে সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় সফটওয়্যার ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে বেগোনা গোমেজ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, এটি সরকারের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি সংগঠিত প্রচারণার অংশ। বিচারক পিনাদো জানিয়েছেন, সরকারি চুক্তি থেকে সুবিধা পাওয়ার অভিযোগে এক ব্যবসায়ী এবং গোমেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন পরামর্শককেও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। এই মামলাকে ঘিরে স্পেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের সমালোচনা জোরদার করেছে এবং আগাম নির্বাচনের দাবি তুলেছে। ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টি আদালতের পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেছে, বেগোনা গোমেজ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও বিচারিক চাপের মুখে রয়েছেন। দলটির মতে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল পিপলস পার্টি সরকারের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে। দলটির নেতারা দাবি করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্পেনের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উদ্বেগজনক। আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে সানচেজ সরকার একাধিক আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস রদ্রিগেজ জাপাতেরোকেও একটি পৃথক তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। যদিও তিনি কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনায় বিশ্বনেতারা সাধারণত সংযত থাকলেও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আক্রমণ ও বক্তব্যের জবাবে তিনি প্রকাশ্যেই কড়া সমালোচনা করেছেন, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। এর সরাসরি প্রভাবে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বাণিজ্য ফোরাম বাতিল করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এত দিন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও রক্ষণশীল মিত্র হিসেবে পরিচিত মেলোনির এই অবস্থান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেওয়া বক্তব্যে মেলোনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প নিয়মিত ভ্রান্ত তথ্য ছড়ান, মিত্রদের অবমূল্যায়ন করেন এবং প্রতিপক্ষের প্রতি নমনীয় আচরণ দেখান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার দিকেও ইঙ্গিত করেন তিনি। এর আগে ইরান ইস্যুতে পোপ লিও চতুর্দশকে ঘিরে মন্তব্য নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মেলোনির মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক জি-৭ বৈঠকের পর সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অন্য নেতারা কৌশলগত কারণে সংযত থাকলেও মেলোনি তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেষ মুহূর্তে মায়ামিতে নির্ধারিত যৌথ বাণিজ্য ফোরাম বাতিলের ঘোষণা দেয়। সেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে মার্কিন নেতৃত্বাধীন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অংশীদারত্ব উদ্যোগ ‘প্যাক্স সিলিকা’তে ইতালির যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বৈশ্বিক অংশীদারত্ববিষয়ক দূত পাওলো জাম্পোলি ইতালীয় দৈনিক ‘লা রিপাবলিকা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ পরিস্থিতিকে দুই দেশের সম্পর্কে ‘গুরুতর ফাটল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক কূটনৈতিক শৈলীর মুখে ইউরোপীয় নেতারা সাধারণত সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কিংবা জার্মানির ফ্রেডরিখ মার্জ—সবার মধ্যেই সম্পর্ক রক্ষায় কৌশলী অবস্থান দেখা গেছে। তবে মেলোনি এবার সেই ধারার বাইরে গিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেখালেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে ইতালির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আগামী বছর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রোমের লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লরেঞ্জো কাস্তেলানি মনে করেন, মেলোনি নিজেকে ‘কারও অনুসারী’ নয়, বরং স্বাধীন নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। এই অবস্থান দেশের ভোটারদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে একটি কাঁচা সড়কে ইট-বালু ফেলে অস্থায়ীভাবে সংস্কার করেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই ওই সড়ক থেকে বিছানো ইট তুলে নেওয়া হয়। সরকারি অর্থে এমন অস্থায়ী কাজের পর ইট তুলে নেওয়ার এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক ভিটায় যাতায়াতের সুবিধার্থে গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা রাস্তায় রাতারাতি এই ইট বিছানোর তোড়জোড় চলে। স্থানীয় সূত্রে ও এলজিইডির তথ্যানুযায়ী, বাগবাড়ি-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছরেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের আগস্ট মাসে 'মেসার্স হক ট্রেডার্স' নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেলেও তারা নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করেনি। এর মধ্যেই গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে আসেন। তার এই সফরে বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, চৌকিরদহ খাল খননকাজের উদ্বোধন এবং পৈতৃক ভিটা জিয়াবাড়ি পরিদর্শনের কর্মসূচি ছিল। প্রধানমন্ত্রীর এই উপস্থিতিকে ঘিরেই এলজিইডি জরুরি ভিত্তিতে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমানকে দায়িত্ব দিয়ে তড়িঘড়ি করে অস্থায়ীভাবে ওই সড়কে ইট বিছানোর ব্যবস্থা করে। এই অস্থায়ী কাজের জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা। সড়কটিতে অস্থায়ীভাবে ইট-বালু ফেলার পর তা তুলে নেওয়ার বিষয়ে এলজিইডি বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান জানান, নিয়মনীতি মেনেই অস্থায়ীভাবে ওই সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল। ইটগুলো মূলত ভাড়া করে আনা হয়েছিল, কারণ কিনে এই কাজ করতে গেলে ব্যয় অনেক বেড়ে যেত। যেহেতু সড়কটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পাকাকরণের কাজ আগেই বরাদ্দ হয়েছে, তাই ঠিকাদারকে অস্থায়ীভাবে বিছানো ভাড়ার ইটগুলো তুলে নিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান জানান, সীমানা জটিলতার কারণে ঠিকাদারকে সাইট বুঝিয়ে দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আগামী অক্টোবরের মধ্যে মূল কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, অস্থায়ী এই সংস্কার ও আনুষঙ্গিক কাজের ১০ লাখ টাকার মধ্যে গাবতলী উপজেলা পরিষদ থেকে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বাকি টাকা এখনো ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে একান্ত সচিবের ব্যবহৃত ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এই ভবনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনের ১৬ তলায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপটি ব্যবহার করতেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলের একান্ত সচিব মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভবনের এই একই তলায় প্রধানমন্ত্রীর আরেক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. মাহাদি আমিন এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরও অবস্থিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দুপুরে একান্ত সচিব নিজের কক্ষে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই টেবিলের ওপর থেকে ল্যাপটপটি রহস্যজনকভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়। ঘটনার সময় বিদ্যুৎ ছিল না এবং কক্ষটিতে বেশ কিছু মানুষের উপস্থিতিও ছিল। পরবর্তীতে আশপাশে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি ও তল্লাশি চালিয়েও ল্যাপটপটির কোনো সন্ধান মেলেনি। তবে সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে দাবি করা হয়েছে, খয়েরি রঙের শার্ট ও অ্যাশ রঙের প্যান্ট পরিহিত আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি একটি কালো ব্যাগ হাতে ভবন থেকে বের হয়ে যান। মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের ধারণা, ওই ব্যক্তির ব্যাগের ভেতরেই চুরি হওয়া ল্যাপটপটি থাকতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতা নিয়ে কর্মকর্তাদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৬ তলার মতো সংবেদনশীল স্থানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। দর্শনার্থীরা সেখানে অবাধে চলাফেরা করতে পারেন এবং লিফট থেকে নামার পর কোনো ধরনের নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই সরাসরি দপ্তর এলাকায় প্রবেশ করা যায়, যা যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সার্বিক বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের নিরাপত্তা ইনচার্জ পিসি আশরাফুল আলম জানান, চুরির ঘটনার পরপরই সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের ব্যাগ তল্লাশি করা হয়েছিল। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় লোকবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিশাল এই ভবনে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ২২ জন আনসার সদস্য, যা পুরো ভবনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। জনবল বাড়ানো হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে, চুরি যাওয়া ল্যাপটপের মালিক মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।
নেপালের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর জামিন পেলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। বৃহস্পতিবার নেপালের সুপ্রিম কোর্ট তাকে ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন প্রদানের নির্দেশ দেয়। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা এই প্রবীণ নেতাকে তার পরিবারের জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় জামিন পেয়েছেন দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকও। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন জি (Gen Z) প্রজন্মের নেতৃত্বে পরিচালিত এক বিশাল দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দমন-পীড়নে প্রায় ৭৭ জন প্রতিবাদী প্রাণ হারান। ওই ঘটনায় 'কর্তব্যে অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার' অভিযোগে গত ২৮ মার্চ কেপি শর্মা অলি ও রমেশ লেখককে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিকভাবে অলির জামিন আবেদন খারিজ হলেও গত ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানায়, তদন্তের স্বার্থে তাকে আর হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই। ৯ এপ্রিলের মধ্যে তাকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জামিন পেলেও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং পুলিশি প্রয়োজনে যেকোনো সময় তাকে হাজিরা দিতে হবে। ওলি সরকারের পতনের পর দেশটিতে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বলেন্দ্র শাহ (বালেন শাহ)।
এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উভয় পক্ষ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেরুজালেমের লাতিন প্যাট্রিয়ার্ককে পাম সানডে’র গণপ্রার্থনা বা 'মাস' উদযাপনে বাধা দেওয়ায় ইসরায়েলি পুলিশের তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়েছে ইতালি। ইতালীর প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই ঘটনাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন। লাতিন প্যাট্রিয়ার্কেট সূত্রে জানা গেছে, জেরুজালেমের চার্চ অফ দ্য হোলি সেপালকারে পূর্বনির্ধারিত প্রার্থনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে যাচ্ছিলেন কার্ডিনাল পিয়েরবাতিস্তা পিজাবাল্লা। তিনি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ক্যাথলিক বিচারব্যবস্থার প্রধান আর্চবিশপ। তবে সেখানে প্রবেশের সময় ইসরায়েলি পুলিশ তাকে পথিমধ্যে আটকে দেয়। প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এক বিবৃতিতে বলেন, "এই ঘটনাটি কেবল মুমিনদের জন্যই নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সম্মান করে এমন যে কোনো সম্প্রদায়ের জন্য একটি অবমাননাকর বিষয়।" ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন যে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইতালিতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছেন। ইসরায়েলি বাহিনীর এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দল সিপিএন-ইউএমএল (CPN-UML) এর প্রভাবশালী নেতা কেপি শর্মা অলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে কাঠমান্ডুতে তার নিজ বাসভবন থেকে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে হেফাজতে নেয়। এই গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কাঠমান্ডুসহ নেপালের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা উসকে দেওয়ার সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে অলির সমর্থকরা এই পদক্ষেপকে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' এবং বর্তমান সরকারের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেপি শর্মা অলির গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তার দলের হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে এসেছেন। কাঠমান্ডুর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করেছে। নেপালের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ কেপি শর্মা অলি এর আগেও কয়েক দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বর্তমান জোট সরকারের সাথে তার বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেপ্তার নেপালের ভঙ্গুর গণতন্ত্রকে আরও বড় ধরনের সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নেপালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রধান শহরগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নেপালের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
কাঠমান্ডু, নেপাল নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ (২৭ মার্চ) শপথ গ্রহণ করেছেন বালেন্দ্র শাহ। মার্চের শুরুতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বড় জয় অর্জন করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করলেন। শপথ গ্রহণের আগে ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র একটি গান প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি নেপালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও যুবসমাজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। রাজনীতিতে আসার আগে বালেন্দ্র নেপালের আন্ডারগ্রাউন্ড হিপ-হপ জগতে র্যাপার ও গীতিকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করার আগে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। মাত্র তিন বছরের মেয়র পদে থাকার সময়েই তিনি দেশের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এর আগে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন, যা যুবসমাজের তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এক সপ্তাহের মধ্যেই জনগণ ওলির সরকারের পতন নিশ্চিত করেন। বালেন্দ্র শাহ বালেন নামে বেশি পরিচিত। ১৯৯০ সালে কাঠমান্ডুতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। নেপালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে পরে ভারতের বিশ্বেশ্বরায়া টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় দলগুলোর প্রার্থীকে পরাজিত করে ৬১ হাজারের বেশি ভোটে জয়লাভ করেন। বালেন্দ্রের জনপ্রিয়তা মূলত তার সামাজিক বার্তা, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং যুবসমাজের প্রতি সমর্থনের কারণে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তার নেতৃত্ব নেপালে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: বিবিসি
দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দেশটিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর আজ শুক্রবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন সাবেক জনপ্রিয় র্যাপার এবং কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বলেন শাহ’ নামেই সমধিক পরিচিত। আজ শুক্রবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এর আগে নির্বাচনে তাঁর দল এক বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে, যা নেপালের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলেন শাহর এই উত্থান নেপালের তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সম্প্রতি নেপালে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দুর্নীতিবিরোধী এক বিশাল ছাত্র-যুব আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সেই আন্দোলনে সহিংসতায় অন্তত ৭৭ জন প্রাণ হারান। মূলত অর্থনৈতিক সংকট এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সেই ক্ষোভকে পুঁজি করেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করেন বলেন শাহ। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম বক্তব্যে বলেন শাহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন। ৩০ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশটিতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে তোলা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন সংগীতশিল্পী এবং স্বতন্ত্র ধারার রাজনীতিক হিসেবে তাঁর এই জয় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা হিমালয় কন্যা নেপালকে এক নতুন দিশা দেখাতে পারে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে বলেন শাহ কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, যেখানে তিনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং নগরায়নের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। আন্তর্জাতিক মহলও নেপালের এই নতুন নেতৃত্বকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে চীন ও ভারতের মধ্যবর্তী এই কৌশলগত রাষ্ট্রের নতুন সরকার বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী ধরনের ভারসাম্য বজায় রাখে, সেদিকেই এখন সবার নজর।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। শনিবার (আজ) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মাটিতে ঈদ উদ্যাপন করতে পেরে তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দেশের মানুষ আরও শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ঈদ উদ্যাপন করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, জনগণ যে বাংলাদেশ দেখতে চায়, সেই প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং যাবে। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকলে নির্বাচিত সরকার দেশগঠনের কাজে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে। এ সময় তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এ শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া ব্যক্তিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। শেষে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকার জাতীয় ঈদগাহে দেশের প্রধান ঈদ জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এ জামাতে শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান জানানো হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ঈদগাহে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং কয়েক মিনিট পর রাষ্ট্রপতি সেখানে উপস্থিত হন। প্রধান এই জামাতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন। নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। নামাজ শেষে খুতবা ও মোনাজাতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে সহিংসতা ও সংঘাত নিরসনের জন্য দোয়া করা হয়। এবারের ঈদ এমন এক সময়ে উদ্যাপিত হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ঈদের বার্তা নতুন করে আশা ও সম্প্রীতির আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বৃষ্টি ও ঝড়ের আশঙ্কা থাকলেও ঈদের সকালে আকাশ মেঘলা থাকলেও নামাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। সকাল থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে জাতীয় ঈদগাহে। প্রবেশের সময় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়; আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হয় এবং পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় রাখা হয়। জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, আশপাশের সড়ক ও খোলা জায়গাসহ প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।