২০ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা, তার আগেই কেনিয়ায় বিতাড়িত নার্স
যুক্তরাষ্ট্রে দুই দশক ধরে বসবাসকারী এক নার্সকে স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করার অভিযোগে কেনিয়ায় বিতাড়িত করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। মৌরিন ওয়াঞ্জিরু ন্গুরে নামের এই নারী ২০০৬ সালের নভেম্বরে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন।
গত আগস্ট মাসে সান ফ্রান্সিসকোতে আইসিই কার্যালয়ে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্টে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় এক মাসের বেশি সময় বন্দি রাখার পর ২২ সেপ্টেম্বর তাকে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানো হয়। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন এই নার্স সপরিবারে কানাডায় পাড়ি জমানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা খাতে তার একটি চাকরির প্রস্তাবও ছিল।
গ্রেপ্তারের পর মৌরিনকে ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা, লুইজিয়ানা এবং নিউজার্সির বিভিন্ন বন্দিশিবিরে কয়েক সপ্তাহ কাটাতে হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বন্দিদশায় মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি এবং একপর্যায়ে তার ফোন ও পরিচয়পত্রও হারিয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশের আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে অবস্থান করার কারণেই তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখার অভিযোগকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে ডিএইচএস। তবে মৌরিনের মুক্তির জন্য চালু করা একটি ওয়েবসাইটে জানানো হয়, তিনি কন্টিনেন্টাল কোভিড টিমের একজন স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বছরের জীবনে কখনোই ডিএইচএস-এর কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিস করেননি।
ডিএইচএস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একজন ইমিগ্রেশন বিচারক ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই মৌরিনকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, আইসিই বর্তমানে তাদের নিয়ম অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের নিজ উদ্যোগে দেশ ছাড়ার জন্য তিন হাজার ডলার ও বিনা মূল্যে ফ্লাইটের প্রস্তাব দিচ্ছে।
তবে মৌরিনের আইনি সহায়তা ও যাতায়াত খরচ জোগাতে একটি 'গোফান্ডমি' পেজ খোলা হয়েছিল, যেখানে ২৬ হাজার ডলারেরও বেশি অনুদান জমা পড়েছে। তার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই ঘটনাকে অমানবিক আখ্যা দিয়েছেন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার কনকর্ডে তাকে সমর্থন জানিয়ে একটি সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
মৌরিনের আইনজীবী রেজিন ডুপুই নিশ্চিত করেছেন যে, তার স্বামী পিটার মাঙ্গারা মুচেন্দু এবং তাদের দুই ছোট সন্তান শুক্রবার সান ফ্রান্সিসকো থেকে কেনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সন্তানদের মানসিক নিরাপত্তার কথা ভেবে দ্রুত স্ত্রীর কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পিটার।
তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান অভিবাসন নীতির কারণেই তারা কানাডায় চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু তার আগেই এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যায়। বর্তমানে এই পরিবারটি কেনিয়াতে পুনরায় একত্রিত হয়েছে এবং সেখান থেকেই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা যাচাই করে দেখছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ছোট শহরে বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে নর্থপয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট নামের একটি কোম্পানি। তবে বিপুল এই অর্থের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও শহরটির বেশিরভাগ বাসিন্দা এই প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন। ডেটা সেন্টারগুলো মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ, জমি এবং অন্যান্য সম্পদের ব্যবহার করে থাকে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলো এ ধরনের প্রকল্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শুরু করেছে, যারই ধারাবাহিকতায় পেনসিলভেনিয়ার হ্যাজল টাউনশিপেও একই ধরনের অসন্তোষ দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নর্থপয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট পোকোনো পাদদেশের কাছাকাছি হ্যাজল টাউনশিপে প্রায় ১ হাজার ৩০০ একর জমির ওপর ১৫টি ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো সংবলিত একটি ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস নির্মাণ করতে চাইছে। গত জুন মাসে কোম্পানিটি শহরটির প্রায় সাড়ে চার হাজার পরিবারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই প্রস্তাব দেয়। এজন্য কোম্পানিটি ৪৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়ে ২০২৭ সালের শেষের দিকে প্রথম ডেটা সেন্টারটি তাদের 'সার্টিফিকেট অব অকুপেন্সি' বা ব্যবহারের সনদ পেলেই কেবল পরিবারগুলো এই অর্থ পাবে। এছাড়া, আগামী ১৫ বছরে স্থানীয় পুলিশ বিভাগসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের উন্নয়নে আরও ১২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে কোম্পানিটি। তবে প্রায় ১০ হাজার ৪৬০ জন বাসিন্দার এই শহরে ১০ হাজার ডলারের চেকও মানুষের উদ্বেগ কমাতে পারেনি। স্থানীয়দের প্রধান শঙ্কা হলো—নির্মাণকাজ, শব্দদূষণ এবং এর ফলে সম্পত্তির দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা। জেফ ফাসনাকট নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জানান, তার সম্পত্তির যে পরিমাণ মূল্যহ্রাস ঘটবে, তার তুলনায় এই ১০ হাজার ডলার একেবারেই নগণ্য। এড নেগ্রা নামের আরেক অবসরপ্রাপ্ত বাসিন্দা মনে করেন, এই প্রস্তাব হিতে বিপরীত হতে পারে, কারণ অনেকেই এটিকে ‘ঘুষ’ হিসেবে দেখছেন। যদিও নর্থপয়েন্টের চিফ মার্কেটিং অফিসার ব্রেন্ট মাইলস দাবি করেছেন যে, গত বছর একটি জনসভায় স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতেই সরাসরি এই আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। চার্লি লেশকোর মতো কিছু বাসিন্দা এই অর্থ দিয়ে গাড়ি কেনা বা বাড়ির ডাউনপেমেন্ট দেওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, কার্ল মাজুসিয়াকের মতো অনেকেই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তাদের এলাকায় এই ডেটা সেন্টারের কোনো প্রয়োজন নেই। এদিকে ডেটা সেন্টার ও এআই প্রযুক্তির প্রসার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক বাড়ছে। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক-এর সাবেক গবেষক জ্যাকব ককসন এবং ইভান হুবিঙ্গার সতর্ক করেছেন যে, উন্নত এআই প্রযুক্তি আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে। এমন সতর্কবার্তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব বজায় রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওপেনএআই, মেটা এবং এনভিডিয়ার মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এআই-এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
২০ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা, তার আগেই কেনিয়ায় বিতাড়িত নার্স
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিনে মিলল ৬ মাসের শিশুকন্যার ম রদেহ, সন্দেহে আটক নারী
ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন ধরপাকড় রুখতে নতুন আইনে সই গভর্নর নিউসমের
যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা ও ধর্মীয় দৃশ্যপটে আগামী কয়েক দশকে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য ও গবেষণার বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০৪০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। বর্তমানে দেশটিতে খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারীদের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইহুদি ধর্মাবলম্বীরা। তবে দেশটিতে মুসলিম জনসংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে আগামী দুই দশকের কম সময়ের মধ্যেই তারা ইহুদিদের ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পিউ রিসার্চের দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের সংখ্যা পৌঁছাবে প্রায় ৮১ লাখে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২.১ শতাংশ। এর আগে ২০১৭ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩৪ লাখ ৫০ হাজার মুসলিম বসবাস করেন, যা ছিল মোট জনসংখ্যার প্রায় ১.১ শতাংশ। পিউ সেন্টারের ডেমোগ্রাফিক গবেষণা থেকে জানা যায়, মূলত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলিমদের অভিবাসন এবং আমেরিকান মুসলিমদের তুলনামূলক উচ্চ জন্মহারের কারণে দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় এক লাখ করে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো আমেরিকান মুসলিম জনসংখ্যার আকার নিয়ে প্রাক্কলনের পর থেকে এই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে ও দ্রুতগতিতে বেড়েই চলেছে। বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধর্মীয় রূপান্তরের চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুরোনো প্রতিবেদনে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের হার ৭১ শতাংশ বলা হলেও, পিউ রিসার্চের সাম্প্রতিক (২০২৪-২০২৫) তথ্য অনুযায়ী তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে বর্তমানে প্রায় ৬২ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দেশটিতে কোনো ধর্মে বিশ্বাসী নন (অ্যাগনস্টিক বা নাস্তিক) এমন মানুষের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। একদিকে খ্রিষ্টানদের হার কমে আসা এবং অন্যদিকে অভিবাসন ও জন্মহারের কারণে মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ধর্মীয় কাঠামোতে ইসলাম একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে যাচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিমদের দুই ঈদ পেল সরকারি ছুটির স্বীকৃতি, কার্যকর নতুন আইন
ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আফ্রিকার বিষধর সাপ গাবুন ভাইপার, আতঙ্কে এলাকাবাসী
গ্যাসের দাম বাড়তেই জর্জিয়াবাসীর পাশে সরকার, ৩০ দিনের জন্য স্থগিত গ্যাস ট্যাক্স
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির বিস্তারের প্রভাবে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ কর্মীকে বর্তমান পেশা বদলাতে হতে পারে। ম্যাককিনসি গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের নতুন এক প্রতিবেদনে এই অনুমান করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা নিশ্চিত চাকরি হারানোর হিসাব নয়। এটি বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি মডেলভিত্তিক পূর্বাভাস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নতুন চাকরির সুযোগও তৈরি হতে পারে। ম্যাককিনসির হিসাবে, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ চাকরির সমপরিমাণ শ্রমের চাহিদা কমতে পারে। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট খাত এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে ৪ কোটি ১০ লাখের বেশি নতুন চাকরির চাহিদা তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ প্রযুক্তির কারণে কিছু কাজের প্রয়োজন কমলেও মোট কর্মসংস্থান একই অনুপাতে কমে যাবে, এমনটা প্রতিবেদনের পূর্বাভাস নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয়তার প্রভাবে প্রভাবিত প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ কর্মীর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ নিজেদের বর্তমান পেশাতেই থাকতে পারেন। তাদের ক্ষেত্রে একই পেশায় কাজের ধরন বদলালেও সংশ্লিষ্ট খাতে প্রবৃদ্ধির কারণে কর্মীর চাহিদা বজায় থাকতে পারে। তবে বাকি প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ কর্মীর ক্ষেত্রে বর্তমান পেশা ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ম্যাককিনসি বলছে, আগামী দশকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার কর্মীকে এক পেশা থেকে অন্য পেশায় যেতে হতে পারে। ঐতিহাসিক হিসাবে স্বাভাবিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর বিভিন্ন পেশার মধ্যে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার কর্মী স্থানান্তরিত হয়েছেন। ফলে আগামী দশকে প্রয়োজনীয় পেশা পরিবর্তনের হার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৬ গুণ হতে পারে। তবে এই পরিবর্তনের চাপ সব পেশায় সমান হবে না। ম্যাককিনসির বিশ্লেষণে পেশা পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় অংশ দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক সহায়তা, খুচরা বিক্রয় ও বিক্রয় এবং পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কাজ থেকে আসতে পারে। গ্রাহকসেবা প্রতিনিধি, ক্যাশিয়ার ও গুদামকর্মীদের মতো পেশায় প্রযুক্তির প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়তে পারে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন পেশাগত ও কারিগরি কাজে কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার বার্ধক্যও শ্রমবাজারের এই পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে প্রযুক্তির কারণে কিছু পেশায় কর্মীর প্রয়োজন কমলেও অন্য কিছু ক্ষেত্রে নতুন কর্মীর চাহিদা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ম্যাককিনসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন পেশায় যাওয়া কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতার পার্থক্য। নতুন চাকরি থাকলেই বর্তমান কর্মীরা সরাসরি সেখানে চলে যেতে পারবেন না। অনেক ক্ষেত্রে নতুন দক্ষতা অর্জন, প্রশিক্ষণ বা অতিরিক্ত যোগ্যতার প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিবেদনের হিসাবে, পেশা বদলাতে হতে পারে এমন কর্মীদের মাত্র প্রায় সাতজনের একজনের নতুন কাজে যাওয়ার সরাসরি পথ রয়েছে। পেশা পরিবর্তনের সম্ভাব্য সংখ্যা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ম্যাককিনসির বিভিন্ন পরিস্থিতির মডেলে ২০৩৫ সালের মধ্যে পেশা পরিবর্তন করতে হতে পারে এমন কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখের মধ্যে হতে পারে। অর্থাৎ ১ কোটি ১০ লাখ হলো প্রতিষ্ঠানটির মূল বা ভিত্তি পরিস্থিতির হিসাব, নিশ্চিত সংখ্যা নয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নিয়োগের গতি বর্তমানে তুলনামূলক ধীর। মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষে দেশটিতে চাকরির শূন্যপদ কমে ৭ দশমিক ০৭৯ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ছাঁটাই ও চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার সংখ্যা কমেছে, যা শ্রমবাজারে নিয়োগ ও কর্মী পরিবর্তনের গতি নিয়ে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। ম্যাককিনসির প্রতিবেদনের মূল বিষয় তাই শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কত চাকরি হারাবে, তা নয়। বরং প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে কর্মীদের কোন পেশা থেকে কোন পেশায় যেতে হবে এবং সেই পরিবর্তনের জন্য কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনের হিসাবে আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে মোট চাকরির সংখ্যা কমার চেয়ে পেশা ও দক্ষতার বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: সিএনএন
মিশিগানের ডে কেয়ারে শিশুর ব্যাগে গুলিভরা পিস্তল, তদন্তে পুলিশ
নিউইয়র্কে সকালে কাজে যাওয়ার পথে সাইকেলের ধাক্কায় আহত হয়ে দুই সন্তানের বাবার মৃত্যু