- প্রচ্ছদ
- Topic
নারী
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজেদের প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে নারীদের অস্ত্র চালনা এবং শহরভিত্তিক যুদ্ধের (আরবান ওয়ারফেয়ার) প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইরান। সম্প্রতি ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানের উন্মুক্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে ইউনিফর্ম পরিহিত নারীরা অ্যাসল্ট রাইফেল চালানো শিখছেন। আয়োজকদের মতে, এই প্রশিক্ষণ কোর্সে শহর রক্ষার কৌশল, কালাশনিকভ থেকে শুরু করে ড্রাগনভ স্নাইপার রাইফেল, আরপিজি (RPG) এবং কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ-প্রতিরক্ষা লঞ্চার ব্যবহারের পাশাপাশি নারীদের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা উদ্ধারকাজ, অগ্নিনির্বাপণ ও নেভিগেশন মডিউল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমা হামলার পর ইরানে 'জান-ফাদা' বা 'যারা জীবন উৎসর্গ করে' নামের একটি গণ-জমায়েত আন্দোলন শুরু হয়, আর এই প্রশিক্ষণ মূলত তারই একটি অংশ। এই প্রচারণার মুখপাত্র সাসান জারে জানান, বাসিজ মিলিশিয়া বাহিনীর অধীনে এই সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। 'জাতীয় প্রতিরোধ' ব্যাটালিয়নে তালিকাভুক্তি উন্মুক্ত করার মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নিবন্ধন করেন, যা প্রথম ১,০০০ ইউনিট দ্রুত পূর্ণ করে ফেলে। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ আরও ১,০০০ ইউনিটের অনুমোদন দেয়। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে না আসা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্প্রতি এক বার্তায় বিপুল সংখ্যক মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করেছেন। রেড ক্রিসেন্টের সাথে সমন্বয় করে ১০ হাজার এলাকা-ভিত্তিক ত্রাণ ও উদ্ধার ইউনিট গঠনেরও পরিকল্পনা করছেন আয়োজকরা, যেখানে স্বেচ্ছাসেবকদের বড় একটি অংশই নারী। তেহরানের ইমাম হোসেন স্কোয়ারে প্রথম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালু হয়েছে এবং রাজধানীসহ অন্যান্য প্রাদেশিক কেন্দ্রগুলোতে বাসিজ, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) ও নিয়মিত সেনাবাহিনীর পরিচালনায় অন্তত ১৪টি কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মুখপাত্র জারে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু বিদেশি নাগরিকও ইরানিদের পাশে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং তেহরানের একটি কেন্দ্রে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। ১৯৮০ সালে ইরাকের আগ্রাসনের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি যে 'দুই কোটি মানুষের সেনাবাহিনী' গঠনের ডাক দিয়েছিলেন, বর্তমানের এই উদ্যোগটিকে কর্মকর্তারা তারই পুনর্জাগরণ হিসেবে অভিহিত করছেন। ইরানের সামরিক কমান্ডারদের নতুন সতর্কবার্তার মাঝেই এই বিশাল জমায়েত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ জেনারেল আলি আবদুল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে সেই আগুন সবাইকে গ্রাস করবে এবং মার্কিন স্বার্থে কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই আঘাত হানা হবে। সেনাবাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির হাতামিও স্পষ্ট জানিয়েছেন যে যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি এবং যেকোনো নতুন হামলার চরম ও ধ্বংসাত্মক জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। যুদ্ধের প্রস্তুতির পাশাপাশি তেহরানের কূটনীতিকরা আলোচনা পুনরায় শুরু করারও জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সামরিক পন্থায় এই সংঘাতের কোনো সমাধান নেই। তবে শর্ত পূরণ হলে এবং বৈরী পদক্ষেপ প্রত্যাহার করা হলে ইরান সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দিতে পারে বলেও জানান তিনি। এর মাঝেই কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই পদত্যাগ করেছেন দেশটির তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ, যা মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরানের ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তিন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে নেপাল যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে বাংলাদেশের বিমানবন্দর ও ইমিগ্রেশনে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ। তিন নারী আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর এবার নিজেদের পুরোনো অভিজ্ঞতাও প্রকাশ করছেন অনেকে। তাদেরই একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী, যিনি ২০২১ ও ২০২২ সালে ঢাকা বিমানবন্দরে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। গত ৮ আগস্ট নেপালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান রিফা তামান্না, সোহানি ইসলাম সমাপ্তি ও নাজনীন। তাদের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি ছিল। তাদের বিদেশযাত্রায় কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞাও ছিল না। এরপরও ইমিগ্রেশনে তাদের বৈবাহিক অবস্থা, পরিবারের সম্মতি এবং অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ নিয়ে প্রশ্ন করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত নেপাল যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ঘটনাটি এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ জানতে চেয়েছেন, বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তিন নারীকে বিদেশ যেতে বাধা দেওয়ার কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইজিপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনগত ভিত্তি ছাড়া ভবিষ্যতে ওই তিন নারীর বিদেশযাত্রায় বাধা না দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা এসেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, মানব পাচারের ঝুঁকির কারণে নেপালগামী যাত্রীদের কাগজপত্র বিশেষভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ওই তিন নারী যে সেমিনারে যাওয়ার কথা বলেছিলেন, তার আমন্ত্রণপত্র এবং হোটেল বুকিং দেখাতে পারেননি। পুলিশের সদর দপ্তর জানিয়েছে, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় তারা এ নিয়ে মন্তব্য করতে চায় না। ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দুটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এক সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে স্বামীর সঙ্গে নেপাল যাওয়ার সময় ঢাকা বিমানবন্দরে এক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা তার পাসপোর্টে স্বামীর নাম না থাকার কারণ জানতে চান। তিনি জানান, বিয়ের আগে পাসপোর্ট করা হয়েছিল। এরপর ওই কর্মকর্তা তাদের বিয়ের কাবিননামা দেখতে চান বলে তার অভিযোগ। তার ভাষ্য, বৈধ পাসপোর্টে বিদেশ যেতে কাবিননামা কেন প্রয়োজন - এমন প্রশ্ন তোলার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রথমে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে রাজি হননি। পরে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে অন্য কর্মকর্তা তার ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। সেই অভিজ্ঞতার বিপরীতে নেপালের বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন খুঁজতে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। তার দাবি, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ফোনটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। পরে জানা যায়, বিমানবন্দরে আসার গাড়িতেই ফোনটি ফেলে এসেছিলেন তিনি এবং চালক সেটি ফেরত দিয়ে যান। পরের বছর, ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট ভারত থেকে দেশে ফেরার সময় ঢাকা বিমানবন্দরের কাস্টমসে আরেক দফা হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই গণমাধ্যমকর্মী। তার ভাষ্য, তার পাসপোর্ট ও লাগেজ আটকে রেখে বিদেশে কেনাকাটা, ডলার এনডোর্সমেন্ট এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের করসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করা হয়। একপর্যায়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবহার করে ফোন করার পর তার পাসপোর্ট ও লাগেজ ফেরত দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। এই দুটি ব্যক্তিগত অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে এগুলো ওই গণমাধ্যমকর্মীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা হিসেবেই বিবেচ্য। তবে বিমানবন্দরে বিশেষ করে একা ভ্রমণকারী নারীদের বৈবাহিক অবস্থা, স্বামীর অনুমতি বা অভিভাবকের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করার আরও অভিজ্ঞতা সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে একাধিক নারী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ নাগরিকের চলাফেরা এবং দেশ ত্যাগ ও পুনঃপ্রবেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়, যদিও জনস্বার্থে আইন অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য না করার বিধানও রয়েছে। বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এ একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী অবিবাহিত হওয়া কিংবা স্বামী বা অভিভাবক সঙ্গে না থাকাকে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার স্বতন্ত্র কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তিন নারীর নেপালযাত্রা আটকে দেওয়ার ঘটনায় হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের পর তাই প্রশ্নটি এখন শুধু একটি বিমানযাত্রা নষ্ট হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বৈধভাবে বিদেশ যেতে চাওয়া একজন নাগরিককে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা ঠিক কোন পরিস্থিতিতে থামাতে পারবেন এবং সেই ক্ষমতার সীমা কোথায় - আদালতের চলমান প্রক্রিয়ায় সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাতিমা জাহরা মানসুরি। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ৫০ বছর বয়সী এই নগর পরিকল্পনামন্ত্রী ও আইনজীবীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যা মরক্কোর জন্য একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এই প্রধানমন্ত্রীকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত সংসদীয় নির্বাচনের চার দিন পর এই ঘোষণা এলো, যেখানে ফাতিমা জাহরার মধ্যপন্থী দল 'অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (প্যাম)' সর্বাধিক ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছে। তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেনের পর ফাতিমা জাহরা মানসুরি পুরো আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী, যিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হলেন। মরক্কোর নির্বাচন ব্যবস্থা অনুযায়ী কোনো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বেশ কঠিন। তাই আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে ফাতিমা জাহরা একটি জোট সরকার গঠন করবেন। তার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাঁধে এখন বিশাল দায়িত্ব। বিশেষ করে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তদারকির পাশাপাশি দেশে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মজুরি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করবে তার প্রশাসন। ২০১১ সালের আরব বসন্তের পর মরক্কোর সংবিধানে আনা সংস্কার অনুযায়ী, রাজা দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হলেও সংসদীয় নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দল থেকেই তাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে হয়। এর আগে রাজা কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে পারতেন। ২০০৮ সালে রাজার বাল্যবন্ধু ও ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ফুয়াদ আলী এল হিম্মার হাত ধরে 'প্যাম' গঠিত হলে ফাতিমা জাহরা এই দলে যোগ দেন। ফ্রান্সের মন্টপিলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক সম্পন্ন করা ফাতিমা ২০২৪ সালে দলের অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে ওঠেন। এর আগে তিনি মারাকেশের মেয়র এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাবা আবদেররহমান এল মানসুরি সংযুক্ত আরব আমিরাতে মরক্কোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং মারাকেশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি 'মারাকেশের পাশা' হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফাতিমা জাহরা সম্প্রতি মারাকেশে জমি লেনদেনের বিষয়ে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অজ্ঞাত হ্যাকারদের দ্বারা সমালোচিত হয়েছিলেন। তবে তিনি এই অভিযোগগুলোকে মানহানিকর আখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করেছেন এবং আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। গত সপ্তাহের নির্বাচনে মরক্কোর ১ কোটি ৫৮ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ভোটার প্যামকে সমর্থন দিয়েছেন, যা দলটির প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বড় বিজয়। গত জুলাইয়ে সিউটা অভিবাসন সংকট এবং গত বছর তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম নির্বাচন। এখন সবার দৃষ্টি পরবর্তী সরকার গঠনের দিকে। প্যাম সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, মধ্যপন্থী ইসলামি দল 'জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি' এবং বামপন্থী 'ফেডারেশন অব ডেমোক্রেটিক লেফট'-এর মতো কয়েকটি দল এরই মধ্যে বিরোধী দলে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ২০০ বছরের বেশি সময় পর কোনো নারী বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র নারী বন্দি ক্রিস্টা গেইল পাইকের মৃত্যুদণ্ড ৩০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় কার্যকরের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। কার্যকর হলে ১৮১৯ সালের পর টেনেসিতে কোনো নারীর প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগও এরই মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য গণমাধ্যমের সাক্ষী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পাইকের বিরুদ্ধে ১৯৯৫ সালে নক্সভিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ঘটনার সময় পাইকের বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। জব কর্পস প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে একই প্রতিষ্ঠানে থাকা স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় পাইকের সঙ্গে আরও দুই কিশোর জড়িত ছিল। তবে তিনজনের মধ্যে শুধু পাইকই মৃত্যুদণ্ড পান। পাইকের তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের বয়স ছিল ১৭ বছর। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়নি এবং তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য সহযোগী শ্যাডোলা পিটারসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করে এবং পরে প্রবেশন পান। পাইকের ক্ষেত্রে ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি এখনো মামলাটির অন্যতম আলোচিত দিক। পাইকের আইনজীবীরা বলছেন, অপরাধের সময় তার বয়স এবং শৈশবের দীর্ঘদিনের নির্যাতনের ইতিহাস বিবেচনায় নেওয়া উচিত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, পাইক শৈশবে যৌন নির্যাতন, শারীরিক সহিংসতা, অবহেলা ও অন্যান্য নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তার আইনজীবীদের দাবি, বিচার চলাকালে এসব পরিস্থিতি যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ঠেকাতে পাইকের আইনজীবীরা সেপ্টেম্বরে টেনেসির গভর্নর বিল লির কাছে ক্ষমা বা সাজা কমানোর আবেদন করেছেন। তারা মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর আগে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়েও আইনি লড়াই হয়েছে। আগস্টে তিন দিনের শুনানির পর বিশেষ বিচারক মার্ক ওয়ার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাইকের আইনজীবীরা বর্তমান পদ্ধতিতে অপ্রয়োজনীয় বা অসাংবিধানিক কষ্টের ঝুঁকি প্রমাণ করতে পারেননি। পরে তার আইনজীবীরা ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। পাইকের মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। একদিকে ১৯৯৫ সালের হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের ন্যায়বিচারের প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে অপরাধের সময় পাইকের বয়স, তার শৈশবের নির্যাতনের ইতিহাস এবং মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তার আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা। ৩০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে পাইক হবেন টেনেসিতে ১৮১৯ সালের পর মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম নারী। একই সঙ্গে আধুনিক সময়ে অঙ্গরাজ্যটিতে ১৮, ১৯ বা ২০ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া প্রথম ব্যক্তিও হবেন তিনি।
ভারতের বেঙ্গালুরুর এক নারী আগস্ট মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৯১ রুপি খরচ করার পর নিজেই বিস্মিত হয়েছেন। মাসিক ব্যয়ের হিসাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে তিনি জানতে চান, বেঙ্গালুরুতে এক মাসে এত টাকা খরচ করা কি স্বাভাবিক? তার এই পোস্ট ঘিরে শহরটির জীবনযাত্রার ব্যয় ও মানুষের ব্যক্তিগত খরচের ধরন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বেঙ্গালুরুর এই নারী ত্রিশা সিধওয়ানি শহরের এইচএসআর এলাকায় থাকেন। ৩ সেপ্টেম্বর আগস্ট মাসের খরচ হিসাব করতে গিয়ে তিনি মোট ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৯১ রুপি ব্যয়ের তথ্য দেখতে পান। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানতে চান, অন্যরাও কি প্রতি মাসে এত খরচ করেন। তার পোস্টের পর ব্যবহারকারীদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা যায়। কেউ কেউ বলেন, বেঙ্গালুরুর মতো শহরে এ ধরনের ব্যয় অস্বাভাবিক নয়। আবার অনেকে জানান, তারা এর তুলনায় অনেক কম খরচে মাস চালান। একজন মন্তব্যকারী বলেন, মোট লেনদেনকে সরাসরি মাসিক খরচ হিসেবে ধরা ঠিক নয়। নিজের এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর বা বিনিয়োগের অর্থও এতে থাকতে পারে। তাই প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় জানতে হলে খরচের বিস্তারিত হিসাব আলাদা করা প্রয়োজন। আরেক ব্যবহারকারী জানান, তিনি বেঙ্গালুরুতে মাসে প্রায় ১৫ হাজার রুপিতে চলেন। অন্যরাও নিজেদের কম বাজেটের কথা তুলে ধরে বলেন, শহরে বসবাসের খরচ ব্যক্তির জীবনযাপন, বাসস্থান ও দৈনন্দিন অভ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। ফলে ত্রিশা সিধওয়ানির ১ লাখ ৮০ হাজার রুপির ব্যয়কে বেঙ্গালুরুর স্বাভাবিক মাসিক খরচের মানদণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং তার পোস্টটি শহরটির জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যক্তিভেদে খরচের বড় পার্থক্য নিয়ে নতুন করে অনলাইন আলোচনা তৈরি করেছে।
সমাজের নানা প্রতিকূলতা আর পারিবারিক দায়িত্ব সামলে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে এক অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগের সম্মানিত শিক্ষক জনাব আব্দুর রহমান রাহাদ। নির্ধারিত 'ক্লাস টেস্ট' চলাকালীন এক ছাত্রীর সন্তানকে নিজের কোলে সামলে রেখে তাকে নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার বিবরণ ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দেয়। ঘটনার দিন সকালে নির্ধারিত কুইজ পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে এক ছাত্রী তার কোলের সন্তানকে নিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে আসেন। ছাত্রীটি জানান, পরীক্ষার সময়টুকুতে তার বাচ্চাকে দেখভাল করার মতো কেউ নেই এবং তার স্বামীও অফিসের কাজ থেকে ছুটি পাননি। তাই তিনি পরীক্ষাটি নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে পরে দিতে চান, যাতে বন্ধুদের পরীক্ষা শেষ হলে তাদের কাছে সন্তানকে রেখে তিনি পরীক্ষায় বসতে পারেন। ছাত্রীর এমন অসহায়ত্ব দেখে শিক্ষক উপলব্ধি করেন, আমাদের সমাজে একজন নারীকে সফল হতে গেলে সংসার, সন্তান ও পারিপার্শ্বিক কত শত বাধা অতিক্রম করতে হয়। তিনি চাইলে ছাত্রীকে পরে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দিতে পারতেন। কিন্তু শিক্ষকের মনে হয়, এতে ওই ছাত্রীকে একটি ভুল বার্তা দেওয়া হবে। কেবল সন্তানের কারণে তিনি তার সহপাঠীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়বেন বা আলাদা হয়ে যাবেন—এমনটা হতে দিতে চাননি তিনি। তাই তিনি ছাত্রীকে জানান, বাচ্চাটি যদি তার কাছে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তবে পরীক্ষা চলাকালীন তিনি নিজেই তাকে সামলাবেন। শিক্ষক হয়ে পরীক্ষার হলে বাচ্চা কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর বিষয়ে ছাত্রীটি কিছুটা ইতস্তত বোধ করলেও, শিক্ষক তাকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, মানুষ হিসেবে এটি তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। পুরো পরীক্ষা চলাকালীন শিশুটি শিক্ষকের কোলেই ছিল এবং ওই ছাত্রী তার সহপাঠীদের সঙ্গে একই সময়ে বসে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরীক্ষা শেষে কৃতজ্ঞতাপূর্ণ হৃদয়ে ওই ছাত্রী শিক্ষককে ধন্যবাদ জানালে তিনি এক অনুপ্রেরণাদায়ী বার্তা দেন। তিনি বলেন, "মাতৃত্ব কোনো বাধা নয়, বরং এটি জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই নিজের মেধার প্রমাণ দিয়ে আপনি সফলভাবে এগিয়ে যাবেন।
পর্তুগালে জনসমক্ষে এমনভাবে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করে নতুন আইন কার্যকর করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এই আইনের ফলে জনসমক্ষে বোরকা ও নিকাব পরা মুসলিম নারীরাও সরাসরি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছেন, যা দেশটিতে নতুন করে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আইন অনুযায়ী, জনসমক্ষে পরিচয় গোপনকারী কোনো পোশাক বা উপকরণ ব্যবহার করলে অমান্যকারীদের ন্যূনতম ১৫০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে। তবে এই আইনটি সব ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে প্রযোজ্য হবে না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ কিছু যৌক্তিক পরিস্থিতিতে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যগত জরুরি প্রয়োজন, পেশাগত দায়িত্ব পালন, শিল্প ও সংস্কৃতির কোনো বিশেষ আয়োজন, বৈরী আবহাওয়া এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের ভেতরের কার্যক্রম। মূলত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার সুবিধার্থেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইনের পক্ষের সমর্থক ও নীতিনির্ধারকরা। অন্যদিকে, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ এই নতুন আইনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা সরাসরি মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নারীদের নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরার মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন তারা। পর্তুগালের এই পদক্ষেপের রেশ কাটতে না কাটতেই স্পেনের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জেও বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার এক নতুন উদ্যোগ সামনে এসেছে। স্পেনের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ভক্স ও পিপলস পার্টির পক্ষ থেকে আনা এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আইন বারবার লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এমনকি কাউকে জোর করে বোরকা বা নিকাব পরতে বাধ্য করলে চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের কঠোর বিধানেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুখঢাকা পোশাক নিয়ে একের পর এক এমন আইন ও প্রস্তাবের ফলে জননিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত মানবাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিতর্কটি এখন পুরো মহাদেশ জুড়েই আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে অদম্য সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ‘গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ’ (Goldman Environmental Prize) ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর বিশ্বের ছয়টি মহাদেশ থেকে মনোনীত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ছয়জন নারী। এই পুরস্কারকে বিশ্বজুড়ে ‘গ্রিন নোবেল’ বা পরিবেশের নোবেল হিসেবে গণ্য করা হয়। সোমবার (২০ এপ্রিল) সান ফ্রান্সিসকোতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল ফাউন্ডেশন। ৩৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার মনোনীত সব বিজয়ীই নারী। বিজয়ীরা প্রত্যেকেই তৃণমূল পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছেন: ইরো তানশি (নাইজেরিয়া): তিনি বিপন্ন প্রজাতির বাদুড় রক্ষায় নাইজেরিয়ার বনাঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়দের নিয়ে সফল এক আন্দোলন গড়ে তোলেন। বোরিম কিম (দক্ষিণ কোরিয়া): এশিয়ার প্রথম যুব নেতৃত্বাধীন জলবায়ু মামলায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন তিনি, যা দেশটিকে আরও শক্তিশালী জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বাধ্য করে। সারাহ ফিঞ্চ (যুক্তরাজ্য): দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াই শেষে তিনি যুক্তরাজ্যে একটি বড় তেল উত্তোলন প্রকল্প বন্ধ করতে সক্ষম হন। থিওনিলা রোকা মাতবব (পাপুয়া নিউ গিনি): বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খনি কোম্পানিকে তাদের পরিত্যক্ত বিষাক্ত খনি পরিষ্কার করার চুক্তিতে বাধ্য করেছেন এই নারী নেতা। অ্যালানাহ আকাক হারলি (যুক্তরাষ্ট্র): আলাস্কায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম উন্মুক্ত খনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের সংগঠিত করে তা রুখে দিয়েছেন। ইউভেলিস মোরালেস ব্লাঙ্কো (কলম্বিয়া): কলম্বিয়ায় পরিবেশবিধ্বংসী ‘ফ্র্যাকিং’ (গ্যাস উত্তোলনের বিশেষ পদ্ধতি) বন্ধে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে ঐতিহাসিক বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। গোল্ডম্যান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন গোল্ডম্যান বলেন, "এই ছয় নারী প্রমাণ করেছেন যে সাহস এবং দৃঢ় ইচ্ছা থাকলে সাধারণ মানুষও অসাধ্য সাধন করতে পারে। তাদের এই বিজয় বিশ্বব্যাপী পরিবেশ আন্দোলনে নারীদের কেন্দ্রীয় ভূমিকারই এক অনন্য প্রতিফলন।" ১৯৮৯ সাল থেকে প্রতি বছর তৃণমূল পর্যায়ের এই সংগঠকদের পুরস্কৃত করা হয়, যারা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের জীবন বাজি রেখে প্রকৃতি বাঁচাতে লড়াই করেন। এ বছর ছয়জন নারী বিজয়ীর এই রেকর্ড অর্জন বিশ্বজুড়ে নারী নেতৃত্ব ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের পার্লামেন্টে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরাজয়ের মুখে পড়ল নরেন্দ্র মোদী সরকার। লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে আনা 'সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬' শুক্রবার রাতে ভোটাভুটিতে পরাজিত হয়েছে। বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট এবং বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি ভোট। সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন না থাকায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে বাকি দুটি সংশোধনী বিল নিয়েও আর অগ্রসর না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিলটি নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সরকারের প্রস্তাব ছিল, ২০২৬ সালের পরবর্তী নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা 'ডিলিমিটেশন'-এর পরেই এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। বিরোধী দলগুলো—বিশেষ করে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং ডিএমকে—এর তীব্র বিরোধিতা করে। তাদের দাবি ছিল, বর্তমান ৫৪৩টি আসনেই সরাসরি ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দিতে হবে, আসন সংখ্যা বাড়িয়ে বা সীমানা নির্ধারণের অজুহাতে নয়। বিরোধী ও সরকারি শিবিরের যুক্তি: অমিত শাহ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধীরা নারী ক্ষমতায়নের বিপক্ষে এবং তারা নানা অজুহাতে ওবিসি ও তফশীলি জাতি-উপজাতির অধিকার হরণ করতে চাইছে। তিনি দক্ষিণ ভারতের আসন কমার আশঙ্কাকে 'ভিত্তিহীন আখ্যান' বলে উড়িয়ে দেন। রাহুল গান্ধী: বিরোধী দলনেতা এই বিলটিকে 'দেশবিরোধী' আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি আসলে নারী সংরক্ষণ নয় বরং দেশের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দেওয়ার একটি রাজনৈতিক কৌশল। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কানিমোঝি: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বিশেষ অধিবেশন ডাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান যে, ডিলিমিটেশন হলে উত্তর প্রদেশ ও বিহার লাভবান হলেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যগুলো রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে। বর্তমানে ভারতে নির্বাচনী আসন সংখ্যা ৫৪৩-এ সীমাবদ্ধ। সরকারের বিলে এটি বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব ছিল। বিরোধীদের আপত্তির মুখে এবং প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় আপাতত ঝুলেই রইল ভারতের নারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়টি।
ফ্রান্সের ডমিনিক পেলিকট মামলাটি বিশ্বজুড়ে যে স্তম্ভিত করা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল, তা ছিল কেবল হিমশৈলের চূড়া মাত্র। সিএনএন-এর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র—যেখানে অনলাইন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নারীদের ওপর পরিকল্পিত যৌন সহিংসতা চালানো হচ্ছে। সিএনএন-এর সাংবাদিক সাকিয়া ভান্দোর্ন এবং নিয়াম কেনেডি কয়েক মাস ধরে ছদ্মবেশে এই গোপন নেটওয়ার্কের গভীরে অনুসন্ধান চালিয়েছেন। তাদের তদন্তে দেখা যায়, টেলিগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে পুরুষদের এমন কিছু গোপন গ্রুপ রয়েছে যেখানে তারা নিজেদের স্ত্রী বা সঙ্গীদের মাদক খাইয়ে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করার পদ্ধতি আদান-প্রদান করে। শুধু তাই নয়, এই পাশবিক নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও তারা একে অপরের সাথে শেয়ার করে।তদন্তকারীরা এই চক্রের সূত্র ধরে পোল্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছান এবং সেখানেও একই ধরনের অপরাধের প্রমাণ পান। ডমিনিক পেলিকট একাই নন, বরং বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার পুরুষ এই ‘রেপ একাডেমি’ বা ধর্ষণের পাঠশালার মতো গ্রুপগুলোতে যুক্ত হয়ে নিয়মিত অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিবেদনটি ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং নারীদের সুরক্ষায় বর্তমান বিশ্বের আইনগত দুর্বলতাগুলোকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। নির্যাতিতা নারীদের ভাষ্যমতে, তারা জানতেনই না যে তাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী বা স্বামী তাদের ওপর এমন ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়ে ভিডিও ধারণ করছে।
নিজেদের দেশে ফেরার ঝুঁকি এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া ইরানের দুই নারী ফুটবলার অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, এই দেশটিতে তারা এখন একটি ‘নিরাপদ আবাস’ খুঁজে পেয়েছেন যেখানে তারা নিরাপদে জীবনযাপন ও খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারবেন। ফাতেমেহ পাসান্দাইদেহ এবং আতেফেহ রামেজানিজাদে নামের এই দুই ফুটবলার গত মাসে এএফসি ওমেন্স এশিয়ান কাপ চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইরানে তাদের ‘যুদ্ধকালীন দেশদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার ফলে দেশে ফিরলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল। শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে তারা বলেন, "অস্ট্রেলিয়া সরকার আমাদের যে মানবিক সুরক্ষা ও আশ্রয় দিয়েছে, তার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই কঠিন সময়ে আমাদের প্রতি যে সহমর্মিতা দেখানো হয়েছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।" প্রাথমিকভাবে ইরানি দলের আরও কয়েকজন সদস্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলেও পরিবারের ওপর চাপ এবং অন্যান্য কারণে পাঁচজন ইরানে ফিরে যান। তবে ফাতেমেহ ও আতেফেহ অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় থাকেন। বর্তমানে তারা অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ‘ব্রিসবেন রোয়ার’-এর সাথে অনুশীলন করছেন। নিজেদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তারা বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের কাছে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন। তবে তারা এটি স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের স্বপ্ন হলো একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের ক্যারিয়ার পুনরায় গড়ে তোলা। ইরানের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে এই ফুটবলারদের আশ্রয়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে জিনজা জেলার সবুজ ঘাসে ঘেরা এক পল্লী অঞ্চলে দেখা মিলল এক অভাবনীয় দৃশ্যের। হাতে ক্রিকেট ব্যাট, পরনে গোড়ালি সমান লম্বা পোশাক, আর চোখেমুখে অদম্য জেদ—এ যেন বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখানোর এক জীবন্ত উৎসব। ৫০ থেকে শুরু করে ৯০ বছর বয়সী একদল নারী মেতে উঠেছেন ক্রিকেটের উন্মাদনায়, যাদের এখন সবাই একনামে চেনেন ‘ক্রিকেট গ্র্যানিজ’ বা ‘ক্রিকেট দাদি-নানি’ হিসেবে। অধিকাংশের পায়ে জুতো নেই, নেই কোনো আধুনিক স্পোর্টস গিয়ার, কিন্তু তাদের একেকটি শট আর রানের জন্য ক্ষিপ্র দৌড় হার মানাবে যেকোনো তরুণকেও। সমাজ ও বার্ধক্যের চিরাচরিত ধারণা ভেঙে এই নারীরা প্রমাণ করছেন যে, জীবন কেবল বয়ে চলাই নয়, বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করাই আসল সার্থকতা। ক্রিকেট যখন মহৌষধ শুরুতে ক্রিকেট সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা না থাকলেও, আজ এটিই তাদের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা, মানসিক অবসাদ এবং একাকিত্ব কাটানোর প্রধান হাতিয়ার। ৭২ বছর বয়সী জেনিফার ওয়াইবি নানিয়োঙ্গা, যিনি ২৯ জন নাতি-নাতনির দাদি, তিনি উচ্ছ্বাসের সাথে জানান, নিয়মিত ক্রিকেট খেলার সুবাদে তার দীর্ঘদিনের পায়ের ব্যথা উধাও হয়েছে। গত এক বছরে তাকে একবারও পিঠের ব্যথার জন্য ক্লিনিকের বারান্দায় পা রাখতে হয়নি। শিশুদের জন্য শুরু, দাদিদের হাতে শেষ ২০২৫ সালে কিভুবুকা গ্রামে মাত্র ১০ জন নারীকে নিয়ে এই পথচলা শুরু হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, কোচ অ্যারন কুসাসিরা শুরুতে শিশুদের জন্য এই প্রশিক্ষণ শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অভিভাবকরা খেলাধুলা সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় শিশুদের মাঠে পাঠাতে রাজি হচ্ছিলেন না। আর তখনই কোচ সিদ্ধান্ত নেন বড়দেরও খেলার মাঠে নামানোর। আজ সেই উদ্যোগ এক বিশাল আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ২৬ বছর বয়সী কোচ কুসাসিরা বলেন, খেলাচ্ছলে জগিং আর স্ট্রেচিং তাদের শরীরকে সচল রাখছে, যা কোনো জিম বা ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেওয়া চ্যালেঞ্জ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, অলস জীবনযাপন এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা অসংক্রামক ব্যাধিতে মৃত্যুর অন্যতম কারণ। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য খাতে প্রতি বছর ব্যয় হয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। উগান্ডার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের দাদিরা যেন তাদের প্রতিটি বাউন্ডারিতে সেই বিশাল পরিসংখ্যানকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।