নারী

ইতিহাসে প্রথমবার: বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশ পুরস্কার ‘গোল্ডম্যান প্রাইজ’ জিতলেন ৬ নারী

পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে অদম্য সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ‘গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ’ (Goldman Environmental Prize) ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর বিশ্বের ছয়টি মহাদেশ থেকে মনোনীত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ছয়জন নারী। এই পুরস্কারকে বিশ্বজুড়ে ‘গ্রিন নোবেল’ বা পরিবেশের নোবেল হিসেবে গণ্য করা হয়। সোমবার (২০ এপ্রিল) সান ফ্রান্সিসকোতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল ফাউন্ডেশন। ৩৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার মনোনীত সব বিজয়ীই নারী। বিজয়ীরা প্রত্যেকেই তৃণমূল পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছেন: ইরো তানশি (নাইজেরিয়া): তিনি বিপন্ন প্রজাতির বাদুড় রক্ষায় নাইজেরিয়ার বনাঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়দের নিয়ে সফল এক আন্দোলন গড়ে তোলেন। বোরিম কিম (দক্ষিণ কোরিয়া): এশিয়ার প্রথম যুব নেতৃত্বাধীন জলবায়ু মামলায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন তিনি, যা দেশটিকে আরও শক্তিশালী জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বাধ্য করে। সারাহ ফিঞ্চ (যুক্তরাজ্য): দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াই শেষে তিনি যুক্তরাজ্যে একটি বড় তেল উত্তোলন প্রকল্প বন্ধ করতে সক্ষম হন। থিওনিলা রোকা মাতবব (পাপুয়া নিউ গিনি): বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খনি কোম্পানিকে তাদের পরিত্যক্ত বিষাক্ত খনি পরিষ্কার করার চুক্তিতে বাধ্য করেছেন এই নারী নেতা। অ্যালানাহ আকাক হারলি (যুক্তরাষ্ট্র): আলাস্কায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম উন্মুক্ত খনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের সংগঠিত করে তা রুখে দিয়েছেন। ইউভেলিস মোরালেস ব্লাঙ্কো (কলম্বিয়া): কলম্বিয়ায় পরিবেশবিধ্বংসী ‘ফ্র্যাকিং’ (গ্যাস উত্তোলনের বিশেষ পদ্ধতি) বন্ধে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে ঐতিহাসিক বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। গোল্ডম্যান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন গোল্ডম্যান বলেন, "এই ছয় নারী প্রমাণ করেছেন যে সাহস এবং দৃঢ় ইচ্ছা থাকলে সাধারণ মানুষও অসাধ্য সাধন করতে পারে। তাদের এই বিজয় বিশ্বব্যাপী পরিবেশ আন্দোলনে নারীদের কেন্দ্রীয় ভূমিকারই এক অনন্য প্রতিফলন।" ১৯৮৯ সাল থেকে প্রতি বছর তৃণমূল পর্যায়ের এই সংগঠকদের পুরস্কৃত করা হয়, যারা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের জীবন বাজি রেখে প্রকৃতি বাঁচাতে লড়াই করেন। এ বছর ছয়জন নারী বিজয়ীর এই রেকর্ড অর্জন বিশ্বজুড়ে নারী নেতৃত্ব ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০
লোকসভায় সরকারের দাবি খণ্ডন করেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ অন্যান্য বিরোধী সংসদ সদস্যরা
মোদীর বড় ধাক্কা: ভারতের লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল নাকচ

ভারতের পার্লামেন্টে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরাজয়ের মুখে পড়ল নরেন্দ্র মোদী সরকার। লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে আনা 'সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬' শুক্রবার রাতে ভোটাভুটিতে পরাজিত হয়েছে। বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট এবং বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি ভোট। সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন না থাকায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে বাকি দুটি সংশোধনী বিল নিয়েও আর অগ্রসর না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিলটি নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সরকারের প্রস্তাব ছিল, ২০২৬ সালের পরবর্তী নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা 'ডিলিমিটেশন'-এর পরেই এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। বিরোধী দলগুলো—বিশেষ করে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং ডিএমকে—এর তীব্র বিরোধিতা করে। তাদের দাবি ছিল, বর্তমান ৫৪৩টি আসনেই সরাসরি ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দিতে হবে, আসন সংখ্যা বাড়িয়ে বা সীমানা নির্ধারণের অজুহাতে নয়। বিরোধী ও সরকারি শিবিরের যুক্তি: অমিত শাহ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধীরা নারী ক্ষমতায়নের বিপক্ষে এবং তারা নানা অজুহাতে ওবিসি ও তফশীলি জাতি-উপজাতির অধিকার হরণ করতে চাইছে। তিনি দক্ষিণ ভারতের আসন কমার আশঙ্কাকে 'ভিত্তিহীন আখ্যান' বলে উড়িয়ে দেন। রাহুল গান্ধী: বিরোধী দলনেতা এই বিলটিকে 'দেশবিরোধী' আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি আসলে নারী সংরক্ষণ নয় বরং দেশের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দেওয়ার একটি রাজনৈতিক কৌশল। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কানিমোঝি: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বিশেষ অধিবেশন ডাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান যে, ডিলিমিটেশন হলে উত্তর প্রদেশ ও বিহার লাভবান হলেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যগুলো রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে। বর্তমানে ভারতে নির্বাচনী আসন সংখ্যা ৫৪৩-এ সীমাবদ্ধ। সরকারের বিলে এটি বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব ছিল। বিরোধীদের আপত্তির মুখে এবং প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় আপাতত ঝুলেই রইল ভারতের নারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়টি।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবিগুলোতে এমন কিছু প্যাকেট দেখা যাচ্ছে যা একাধিক প্রাপকের কাছে পাঠিয়েছেন এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে 'ঘুমের ওষুধের' (স্লিপিং লিকুইড) ডেলিভারি ব্যবসার মালিক বলে দাবি করেছেন।
অনলাইন নেটওয়ার্কে ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন: ডমিনিক পেলিকট মামলার অন্তরালে এক অন্ধকার জগত

ফ্রান্সের ডমিনিক পেলিকট মামলাটি বিশ্বজুড়ে যে স্তম্ভিত করা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল, তা ছিল কেবল হিমশৈলের চূড়া মাত্র। সিএনএন-এর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র—যেখানে অনলাইন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নারীদের ওপর পরিকল্পিত যৌন সহিংসতা চালানো হচ্ছে। সিএনএন-এর সাংবাদিক সাকিয়া ভান্দোর্ন এবং নিয়াম কেনেডি কয়েক মাস ধরে ছদ্মবেশে এই গোপন নেটওয়ার্কের গভীরে অনুসন্ধান চালিয়েছেন। তাদের তদন্তে দেখা যায়, টেলিগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে পুরুষদের এমন কিছু গোপন গ্রুপ রয়েছে যেখানে তারা নিজেদের স্ত্রী বা সঙ্গীদের মাদক খাইয়ে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করার পদ্ধতি আদান-প্রদান করে। শুধু তাই নয়, এই পাশবিক নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও তারা একে অপরের সাথে শেয়ার করে।তদন্তকারীরা এই চক্রের সূত্র ধরে পোল্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছান এবং সেখানেও একই ধরনের অপরাধের প্রমাণ পান। ডমিনিক পেলিকট একাই নন, বরং বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার পুরুষ এই ‘রেপ একাডেমি’ বা ধর্ষণের পাঠশালার মতো গ্রুপগুলোতে যুক্ত হয়ে নিয়মিত অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।  এই প্রতিবেদনটি ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং নারীদের সুরক্ষায় বর্তমান বিশ্বের আইনগত দুর্বলতাগুলোকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। নির্যাতিতা নারীদের ভাষ্যমতে, তারা জানতেনই না যে তাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী বা স্বামী তাদের ওপর এমন ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়ে ভিডিও ধারণ করছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
নীরবতা ভেঙে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন ইরানের দুই নারী ফুটবলার

নিজেদের দেশে ফেরার ঝুঁকি এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া ইরানের দুই নারী ফুটবলার অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, এই দেশটিতে তারা এখন একটি ‘নিরাপদ আবাস’ খুঁজে পেয়েছেন যেখানে তারা নিরাপদে জীবনযাপন ও খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারবেন। ফাতেমেহ পাসান্দাইদেহ এবং আতেফেহ রামেজানিজাদে নামের এই দুই ফুটবলার গত মাসে এএফসি ওমেন্স এশিয়ান কাপ চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইরানে তাদের ‘যুদ্ধকালীন দেশদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার ফলে দেশে ফিরলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল। শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে তারা বলেন, "অস্ট্রেলিয়া সরকার আমাদের যে মানবিক সুরক্ষা ও আশ্রয় দিয়েছে, তার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই কঠিন সময়ে আমাদের প্রতি যে সহমর্মিতা দেখানো হয়েছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।" প্রাথমিকভাবে ইরানি দলের আরও কয়েকজন সদস্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলেও পরিবারের ওপর চাপ এবং অন্যান্য কারণে পাঁচজন ইরানে ফিরে যান। তবে ফাতেমেহ ও আতেফেহ অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় থাকেন। বর্তমানে তারা অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ‘ব্রিসবেন রোয়ার’-এর সাথে অনুশীলন করছেন। নিজেদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তারা বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের কাছে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন। তবে তারা এটি স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের স্বপ্ন হলো একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের ক্যারিয়ার পুনরায় গড়ে তোলা। ইরানের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে এই ফুটবলারদের আশ্রয়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
উগান্ডার ‘ক্রিকেট দাদিদের’ অদম্য জয়গাথা

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে জিনজা জেলার সবুজ ঘাসে ঘেরা এক পল্লী অঞ্চলে দেখা মিলল এক অভাবনীয় দৃশ্যের। হাতে ক্রিকেট ব্যাট, পরনে গোড়ালি সমান লম্বা পোশাক, আর চোখেমুখে অদম্য জেদ—এ যেন বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখানোর এক জীবন্ত উৎসব। ৫০ থেকে শুরু করে ৯০ বছর বয়সী একদল নারী মেতে উঠেছেন ক্রিকেটের উন্মাদনায়, যাদের এখন সবাই একনামে চেনেন ‘ক্রিকেট গ্র্যানিজ’ বা ‘ক্রিকেট দাদি-নানি’ হিসেবে। অধিকাংশের পায়ে জুতো নেই, নেই কোনো আধুনিক স্পোর্টস গিয়ার, কিন্তু তাদের একেকটি শট আর রানের জন্য ক্ষিপ্র দৌড় হার মানাবে যেকোনো তরুণকেও। সমাজ ও বার্ধক্যের চিরাচরিত ধারণা ভেঙে এই নারীরা প্রমাণ করছেন যে, জীবন কেবল বয়ে চলাই নয়, বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করাই আসল সার্থকতা। ক্রিকেট যখন মহৌষধ শুরুতে ক্রিকেট সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা না থাকলেও, আজ এটিই তাদের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা, মানসিক অবসাদ এবং একাকিত্ব কাটানোর প্রধান হাতিয়ার। ৭২ বছর বয়সী জেনিফার ওয়াইবি নানিয়োঙ্গা, যিনি ২৯ জন নাতি-নাতনির দাদি, তিনি উচ্ছ্বাসের সাথে জানান, নিয়মিত ক্রিকেট খেলার সুবাদে তার দীর্ঘদিনের পায়ের ব্যথা উধাও হয়েছে। গত এক বছরে তাকে একবারও পিঠের ব্যথার জন্য ক্লিনিকের বারান্দায় পা রাখতে হয়নি। শিশুদের জন্য শুরু, দাদিদের হাতে শেষ ২০২৫ সালে কিভুবুকা গ্রামে মাত্র ১০ জন নারীকে নিয়ে এই পথচলা শুরু হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, কোচ অ্যারন কুসাসিরা শুরুতে শিশুদের জন্য এই প্রশিক্ষণ শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অভিভাবকরা খেলাধুলা সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় শিশুদের মাঠে পাঠাতে রাজি হচ্ছিলেন না। আর তখনই কোচ সিদ্ধান্ত নেন বড়দেরও খেলার মাঠে নামানোর। আজ সেই উদ্যোগ এক বিশাল আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ২৬ বছর বয়সী কোচ কুসাসিরা বলেন, খেলাচ্ছলে জগিং আর স্ট্রেচিং তাদের শরীরকে সচল রাখছে, যা কোনো জিম বা ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেওয়া চ্যালেঞ্জ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, অলস জীবনযাপন এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা অসংক্রামক ব্যাধিতে মৃত্যুর অন্যতম কারণ। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য খাতে প্রতি বছর ব্যয় হয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। উগান্ডার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের দাদিরা যেন তাদের প্রতিটি বাউন্ডারিতে সেই বিশাল পরিসংখ্যানকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০