ইসরাইলি অস্ত্র জায়ান্ট এলবিট সিস্টেমসের স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ
চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট সিস্টেমস’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনায় বড় ধরনের অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে একটি চেক কোম্পানি ও এলবিট সিস্টেমসের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ওই স্থাপনায় এই হামলা চালানো হয়। এতে স্থাপনাটির বেশ কয়েকটি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেক কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার পেছনে ‘সম্ভাব্য সন্ত্রাসী যোগসূত্র’ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।
ইতিমধ্যে ‘দ্য আর্থকোয়েক ফ্যাকশন’ নামের একটি আন্ডারগ্রাউন্ড বা গোপন গোষ্ঠী এই অগ্নিসংযোগের দায় স্বীকার করেছে। মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় গোষ্ঠীটি জানায়, দখলদার ইসরাইলের বৃহত্তম অস্ত্র প্রস্তুতকারকের ইউরোপীয় কার্যক্রমের জন্য এই স্থানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, ইসরাইলের সহযোগী সরকারগুলোর কাছে অনুরোধ করার সময় শেষ, এখন তাদের হত্যার সরঞ্জামগুলো ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এলবিট সিস্টেমস ইসরাইলি স্থল ও আকাশপথের অস্ত্রের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত। তাদের তৈরি সামরিক সরঞ্জাম বর্তমানে গাজা ও ইরান যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই হামলার ফলে ইউরোপে ইসরাইলি সামরিক কার্যক্রমের সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান ছয় মাসের যুদ্ধে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে ‘হাঁটু গেড়ে বসতে’ বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ ভাহিদি। শনিবার প্রকাশিত এক বার্তায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই সামরিক কার্যক্রম প্রমাণ করেছে যে বিশ্বকে শাসন ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা ইসলামের রয়েছে। আইআরজিসির পাশাপাশি ইরানের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বাসিজ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি আরও দাবি করেন, তাদের এই সামরিক প্রতিরোধ বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের সামনে ‘বিদ্রোহের দরজা’ খুলে দিয়েছে। তবে আইআরজিসি প্রধানের এই দম্ভোক্তির সঙ্গে মার্কিন সামরিক মূল্যায়নের বিস্তর ফারাক রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সংঘাতে ইরানের নৌবাহিনীর একটি বড় অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। এর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র এবং এর উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশ নিহত হয়েছিল বলেও মার্কিন মূল্যায়নে দাবি করা হয়েছে। তবে এত বড় ধাক্কার পরও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এখনো টিকে রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পানিপথ কৌশলগত হরমুজ প্রণালির আশপাশে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশাল নৌবহর মোতায়েন রেখেছে। ফলে সংঘাতের শুরু থেকেই এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহমাদ ভাহিদির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যখন দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই যুদ্ধকে নিজেদের প্রতিরোধের বিরাট সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তব সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতার বিষয়টি দুই পক্ষের দাবির মধ্যে থাকা বড় ধরনের বৈপরীত্যকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।
অরুণাচল ইস্যুতে চীনের অবস্থান আরও জোরালো, ২৭ স্থানের নাম বদলে নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি
অস্কারে যাচ্ছে গাজার যু দ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জীবনসংগ্রাম নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’
বয়স্ক পুরুষদের বিয়ে করে হত্যা, সম্পদ হাতিয়ে নিতেন; দুই দশকে ১০-এর বেশি হত্যাকাণ্ডে একাধিক মৃত্যুদণ্ড
স্কটল্যান্ডে মাত্র তিন মাস বয়সী মেয়েকে দীর্ঘ সময় হেয়ারড্রায়ারের তীব্র তাপে রেখে মৃত্যুর কারণ হওয়ার দায়ে ২৮ বছর বয়সী এক মাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যাবারডিনশায়ারের পিটারহেডে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় কোর্টনি গার্টশোরকে গত জুলাইয়ে ‘কালপেবল হোমিসাইড’ বা গুরুতর অবহেলায় মৃত্যুর জন্য দায়ী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। শুক্রবার এডিনবরার হাইকোর্টে তার সাজা ঘোষণা করা হয়। স্কটিশ জুডিশিয়ারির প্রকাশিত সাজা ঘোষণার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত শিশুটির নাম ডালিয়া রোজ। ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল মাত্র তিন মাস। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে উঠে আসে, মেয়ের মৃত্যুর আগের সন্ধ্যায় গার্টশোর বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাইরে সময় কাটান এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অ্যালকোহল পান করেন। পুরো সময়ই ডালিয়া রোজ তার সঙ্গে ছিল এবং শিশুটির একমাত্র দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ভোর প্রায় চারটার দিকে তিনি বাড়ি ফেরেন। বিচারে আদালত জানতে পারে, ভোর চারটা থেকে সকাল নয়টার মধ্যে কোনো এক সময় হেয়ারড্রায়ার চালু করে শিশুটির মাথা ও শরীর দীর্ঘ সময় তীব্র তাপের মধ্যে রাখা হয়। পরে হেয়ারড্রায়ারটি গার্টশোরের বিছানার পাশের দেয়ালের সকেটে লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়। কেন বা ঠিক কীভাবে শিশুটিকে হেয়ারড্রায়ারের তাপের মধ্যে রাখা হয়েছিল, তার নিশ্চিত ব্যাখ্যা আদালত পায়নি। গার্টশোরও ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, হেয়ারড্রায়ারের তাপে ডালিয়া রোজের শরীরের প্রায় ১৮ শতাংশ গুরুতরভাবে পুড়ে যায়। বিশেষ করে মাথা, মুখ, ঘাড়, শরীরের ওপরের অংশ এবং ডান হাতে মারাত্মক দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন পাওয়া যায়। তবে বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্যে বলা হয়, শুধু পোড়ার আঘাতগুলো প্রাণঘাতী হওয়ার কথা ছিল না। প্রসিকিউশনের বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুটির মৃত্যুর সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ ছিল শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়া এবং হিটস্ট্রোক। বিচারে প্রতিরক্ষা পক্ষ দাবি করেছিল, অন্য কোনো আকস্মিক ও অজানা কারণে শিশুটি আগেই মারা গিয়ে থাকতে পারে এবং এরপর তার শরীরে হেয়ারড্রায়ারের তাপ লাগে। কিন্তু জুরি সর্বসম্মতভাবে সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। তারা নিশ্চিত হন, হেয়ারড্রায়ারের তাপের কারণেই ডালিয়া রোজের মৃত্যু হয়েছে। সাজা ঘোষণার সময় বিচারক সাইমন কলিন্স মামলাটিকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক, উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক বলে বর্ণনা করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, গার্টশোর ইচ্ছাকৃতভাবে মেয়েকে হত্যা বা আঘাত করতে চেয়েছিলেন, এমনটি প্রসিকিউশনের মামলা ছিল না। বরং অত্যন্ত গুরুতর অসতর্কতা ও বেপরোয়া আচরণের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। বিচারক বলেন, প্রমাণ অনুযায়ী হেয়ারড্রায়ারটি অন্তত ২০ মিনিট এবং সম্ভবত এক ঘণ্টা পর্যন্ত চালু ছিল। এত দীর্ঘ সময় শিশুটির শরীরে গুরুতর পোড়া সৃষ্টি হওয়া এবং তীব্র যন্ত্রণার বিষয়টি একজন অভিভাবকের কাছে স্পষ্ট হওয়ার কথা ছিল। আদালত আরও উল্লেখ করেন, এটি দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতনের পরিণতি ছিল না। শিশুটির প্রতি গার্টশোরের আগের যত্ন মোটামুটি সন্তোষজনক ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর রাতের ঘটনাকে তিনি একজন মায়ের সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্ব, সন্তানকে নিরাপদ রাখার কর্তব্যের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। সাজা নির্ধারণে আদালত আরও কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেয়। ঘটনার সময় গার্টশোর অ্যালকোহলের প্রভাবে ছিলেন। শিশুটির মৃত্যুর পর তিনি মরদেহ বেডরুম থেকে সরিয়ে ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে নিয়ে যান এবং কীভাবে শিশুটি দগ্ধ হয়েছে তা জানেন না বলে দাবি করেন। বিচারকের মতে, এসব আচরণ নিজের সম্পৃক্ততা আড়াল করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে গার্টশোরের আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। তার মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা, একক মা হিসেবে সীমিত সহায়তা এবং অতীতের ব্যক্তিগত সমস্যাগুলোও সাজা নির্ধারণে বিবেচনায় নেওয়া হয়। সব দিক বিবেচনা করে বিচারক তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন। সাজাটি ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণনা হবে, যেদিন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে প্রথম কারাগারে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ স্কটল্যান্ড জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর স্কটিশ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস তিন মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর খবর দিলে তদন্ত শুরু হয়। ডালিয়া রোজকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর ওই বছরের নভেম্বরে কোর্টনি গার্টশোরকে গ্রেফতার ও অভিযুক্ত করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর জেমস ক্যালান্ডার বলেন, শিশুরা অসহায় এবং তাদের রক্ষা করা প্রাপ্তবয়স্কদের দায়িত্ব। কোনো শিশুর মৃত্যু সবসময়ই অত্যন্ত বেদনাদায়ক, আর সেই মৃত্যু যখন একজন অভিভাবকের কর্মকাণ্ডের কারণে ঘটে, তখন তা আরও গভীরভাবে নাড়া দেয়।
কারাগারে সারা শরিফের বাবার ওপর হামলা, দুই বন্দির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
যুদ্ধের সাফল্য প্রমাণ করেছে, ইসলাম বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে: ইরানের শীর্ষ কমান্ডার
ঘুমন্ত মেরু ভাল্লুককে জাগানোর জন্য শাস্তি! গুনতে হলো ৫ হাজার ডলারের বেশি জরিমানা
ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যকে এবার ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত বৃহস্পতিবার সম্প্রচারিত ইসরায়েলের আর্মি রেডিওর (গ্যালি জাজাল) পডকাস্ট ‘মেলেখ ব্লিটজার হাইম’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। গাজা যুদ্ধসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের কড়া সমালোচনা করতে গিয়েই মূলত তিনি এই প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সাংবাদিক ও উইনস্টন চার্চিলের ছেলে র্যান্ডলফ চার্চিলের ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের প্রশংসা করে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান ব্রিটেনে এ ধরনের ইসরায়েলপন্থি অবস্থান খুঁজে পাওয়া একেবারেই বিরল। এ সময় তিনি চরম ব্যঙ্গাত্মক সুরে বর্তমান যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সাক্ষাৎকার চলাকালে মার্কিন রাজনীতিক জেডি ভ্যান্সের করা পূর্বের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ একজন বলেছিলেন যে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী বিশ্বের প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র হতে যাচ্ছে এই ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’। তবে ইসরায়েল যে কোনো মূল্যে নিশ্চিত করবে যেন ইরানে এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই কড়া হুঁশিয়ারিও তিনি তার বক্তব্যে যোগ করেন। নেতানিয়াহুর এমন ইসলামোফোবিক ও চরম ডানপন্থি বাগাড়ম্বরের পর যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের প্রগতিশীল ইহুদি সংগঠনগুলোর পাশাপাশি খোদ ইসরায়েলের বিরোধী রাজনীতিকরাও এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। ‘মুভমেন্ট ফর প্রগ্রেসিভ জুডাইজম’-এর নেতা রাব্বি চার্লি বাগিনস্কি ও রাব্বি জশ লেভ এক যৌথ বিবৃতিতে এই মন্তব্যকে চরম বিদ্বেষপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, বর্তমান এই সামাজিক বিভাজনের সময়ে এ ধরনের বিপজ্জনক ভাষা ব্যবহার অনুচিত এবং নেতানিয়াহু কোনোভাবেই ব্রিটিশ ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। ইসরায়েলি বিরোধী নেতা আভি দাবুশও এই মন্তব্যের জেরে নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে স্পষ্ট টানাপোড়েন শুরু হয়। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের সময় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় ইসরায়েলের কিছু অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্স বাতিল করা হয় এবং ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া ফ্রান্স ও কানাডার মতো বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মিত্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্য স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পথে হেঁটেছে। সম্প্রতি বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধে আরও কঠোর চাপ প্রয়োগ এবং অস্ত্র ও বাণিজ্যসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। মূলত এই ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দূরত্বের কারণেই নেতানিয়াহু যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে এমন আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
পানির প্রতিটি ফোঁটা পাকিস্তানের ‘রেড লাইন’, ভারতকে শাহবাজের কঠোর হুঁশিয়ারি
ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ লোক নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি আফ্রিদির