আন্তর্জাতিক

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ইফতার

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মার্চ ২০, ২০২৬ ০:১২
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় জমায়েত নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারি করা এক নির্দেশনা ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৭ মার্চ আইন বিভাগের ডিন অঞ্জু ভালি টিকু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর ফলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের আগে থেকে পরিকল্পিত একটি ইফতার অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়। তবে কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে একদল শিক্ষার্থী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ক্যাম্পাসের খোলা জায়গায় প্রতিবাদী ইফতারের আয়োজন করেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা জনিত কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাউথ ক্যাম্পাসের ডিরেক্টর রজনী আব্বি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অনুমতি দিলে পরবর্তীতে অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ‘না’ বলা কঠিন হয়ে পড়বে এবং এতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। তবে শিক্ষার্থীরা এই যুক্তিকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে জানান, এর আগে ক্যাম্পাসে সরস্বতী পূজা ও গণেশ পূজা উদযাপিত হলেও তখন নিরাপত্তার প্রশ্ন ওঠেনি।

 

আয়োজক শিক্ষার্থীদের দাবি, এই ইফতার কেবল মুসলমানদের নয়, বরং হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সব ধর্মের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনুষ্ঠান ছিল। ইফতারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে শিক্ষার্থী নাদিম নাকি মহাত্মা গান্ধীর লবণ আইন ভঙ্গের উদাহরণের সাথে তুলনা করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। ভারতের জাতীয় যুব কংগ্রেসের সমন্বয়কসহ অনেক সাবেক শিক্ষার্থীও এই প্রতীকী ইফতারে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন।

 

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসেও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, স্লোগান ও মশাল মিছিল নিষিদ্ধ করে একটি নোটিশ জারি করেছিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই নির্দেশনাটি বর্তমানে দিল্লি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। সাম্প্রতিক এই ইফতার বিতর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ পরিবেশের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ট্রাম্পের ক্রিপ্টো উদ্যোগ ও ইরানের এক্সচেঞ্জ I ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ক্রিপ্টো উদ্যোগ ও ইরানের এক্সচেঞ্জ, একই নেটওয়ার্কে ঘুরছে বিলিয়ন ডলার

ইরানের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ 'নোবিটেক্স' থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিশ্ব ক্রিপ্টো বাজারের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির তৈরি করা নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। কাকতালীয়ভাবে, এই দুই ক্রিপ্টো ব্যক্তিত্ব আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান ক্রিপ্টো উদ্যোগেরও অন্যতম বড় সমর্থক। রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে নোবিটেক্স এক্সচেঞ্জ ট্রন এবং বিএনবি চেইন এর মাধ্যমে অন্তত ২.৩ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করেছে। এই দুটি জনপ্রিয় ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন যথাক্রমে ক্রিপ্টো ধনকুবের জাস্টিন সান ও চ্যাংপেং ঝাও।   ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ এবং কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এই ডিজিটাল নেটওয়ার্ক দুটির মাধ্যমে ইরানি অর্থের প্রবাহ সচল ছিল। অন্যদিকে, সান এবং ঝাওয়ের মালিকানাধীন বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স (Binance)—উভয়ই ট্রাম্প ও তার পরিবারের সহপ্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান 'ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল' এর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ও সমর্থক। যদিও ট্রাম্প পরিবার নোবিটেক্সের এই বিপুল লেনদেনের বিষয়ে আগে থেকে অবগত ছিল এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি, তবুও এই ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিস্তৃত ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং তার রাষ্ট্রীয় পদের মধ্যে একটি সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাতের বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে।   ক্রিপ্টো বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান আরখামের উন্মুক্ত ব্লকচেইন ডাটা পরীক্ষা করে রয়টার্স নিশ্চিত করেছে যে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা নোবিটেক্স ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ট্রনের মাধ্যমে ২ বিলিয়ন ডলার এবং বিএনবি চেইনের মাধ্যমে অন্তত ৩১৭ মিলিয়ন ডলারের লেনদেন করেছে। এমনকি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেও এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে কোটি কোটি ডলারের লেনদেন সচল ছিল। স্বতন্ত্র গবেষক ও ক্রিপ্টো বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত লেনদেনের পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ নোবিটেক্স ট্র্যাকিং এড়াতে নিয়মিত তাদের ওয়ালেট ঠিকানা পরিবর্তন করে। এর আগে রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছিল যে, এই এক্সচেঞ্জটির ব্যবহারকারীদের তালিকায় খোদ ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর মতো নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সংস্থাও রয়েছে।   এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাইন্যান্স ও বিএনবি চেইনের মুখপাত্ররা দাবি করেছেন, বিএনবি চেইন একটি উন্মুক্ত, বিকেন্দ্রীভূত ও স্বাধীন ব্লকচেইন, যা কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানি বা এক্সচেঞ্জ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। ট্রনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে তারা কেবল প্রযুক্তি সরবরাহকারী এবং প্রতিটি একক লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে একে 'হাস্যকর' বলে আখ্যায়িত করেছেন। ওয়ার্ল্ড লিবার্টির মুখপাত্রও স্পষ্ট জানিয়েছেন, নোবিটেক্সের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা ট্রন নেটওয়ার্কের মালিক বা নিয়ন্ত্রক নন। তবে ২০২৫ সালে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ক্রিপ্টোবান্ধব নীতি এবং ট্রাম্পের ক্রিপ্টো ব্যবসায় সান ও বাইন্যান্সের বিপুল বিনিয়োগের কারণে এই পুরো সংযোগটি আন্তর্জাতিক মহলে এখন তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:৪০
ছবিঃ মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড

ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে আরব সাগরে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিখোঁজ ১

বাংলাদেশি তরুণ জুবায়ের হাসান সনেট I ছবি: সংগৃহীত

ইতালিতে ভাইরাল ভিডিও বিতর্ক: নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন বাংলাদেশি তরুণ জুবায়ের

বাংলাদেশের রেজওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের টেইলর I ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করতে গিয়ে শুধু ডিগ্রিই নয়, একই গবেষণাগারেই খুঁজে পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক জীবনসঙ্গী

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপদাহ I ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপদাহে হাজারো প্রাণহানি, হিমাগারগুলো পৌঁছেছে ধারণক্ষমতার শেষ সীমায়

তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপের জনজীবন। স্মরণকালের ভয়াবহ এই গরমে ফ্রান্সে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। লাশের সারি দীর্ঘ হতে থাকায় দেশটির হিমাগারগুলোতেও আর কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই। অতিরিক্ত মৃত্যুর এই চাপ সামলাতে গিয়ে আক্ষরিক অর্থেই হিমশিম খাচ্ছেন শেষকৃত্য সম্পন্নকারী সেবাদাতারা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা নিহতের পরিবার, বৃদ্ধাশ্রম ও পুলিশের অসংখ্য অনুরোধ ফিরিয়ে দিচ্ছেন।   ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশের চিত্রও বেশ নাজুক। জার্মানিতে তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে। দেশটির অধিকাংশ আবাসিক ভবনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় ঘরের ভেতরেই চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রাজধানী বার্লিনের বাসিন্দারা। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের হিরোস স্কয়ারে পথচারী ও পর্যটকদের ওপর ঠান্ডা পানি ছিটাচ্ছে পুলিশ ও দমকল বাহিনী। এছাড়া রোমানিয়ার ব্রাশভ ও রাজধানী বুখারেস্ট, আলবেনিয়ার সমুদ্রসৈকত এবং সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের মানুষ একটু স্বস্তির খোঁজে সুইমিংপুল, ফোয়ারা ও ছায়াযুক্ত স্থানে ভিড় জমাচ্ছেন।   আবহাওয়া অধিদপ্তর সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমার পূর্বাভাস দিলেও পরবর্তীতে তা আবারও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘কোপার্নিকাস মেরিন সার্ভিস’ সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ ছিল ব্যতিক্রমী মাত্রায় সমুদ্র উষ্ণতার একটি সময়। সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে, জুন মাসে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ২১.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৬৯.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের আগের সব রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এই তাপমাত্রা আরও বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   ইইউ-এর সামুদ্রিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাস বৈশ্বিক মহাসাগরের বিশাল অংশজুড়ে ক্রমাগত উচ্চ তাপমাত্রা এবং সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ লক্ষ্য করা গেছে। এই চরম পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস’-এর পরিচালক কার্লো বুওনটেম্পো। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি নতুন ধাপের সূচনা নির্দেশ করতে পারে, যা বিশ্ববাসীকে আবারও এক অজানা ও ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১৩:৪২
ফ্রান্সের জন্মহার বৃদ্ধি ও অনুর্বরতা রোধে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নতুন মহাপরিকল্পনা | ছবি: এএফপি

জন্মহার বাড়াতে ফ্রান্সে মা-বাবার জন্য বেতনসহ অতিরিক্ত ছুটির নিয়ম চালু

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে বেইজিংয়ে বৈঠকে মিলিত হলেন ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিং | ছবি: ম্যাক্সিম শেমেটভ/রয়টার্স

শীর্ষ পর্যায়ে অনুমোদন নিয়ে চীনে রাশিয়ার গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ, রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট (বাঁয়ে) আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর (ডানে) শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন | ছবি: সংগৃহীত

নেতানিয়াহুকে হটাতে নির্বাচনি মাঠে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের শিশু ক্লিয়েবার মোরানকে জীবিত উদ্ধার | ছবি: রয়টার্স
ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার, ভেনেজুয়েলায় অলৌকিক ঘটনা

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পের দীর্ঘ ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জর্ডানের একটি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল অলৌকিকভাবে এই শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার হওয়া ওই ছেলেশিশুটির নাম ক্লিয়েবার মোরান। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের একটি ভেঙে পড়া ভবনের নিচে সে আটকে ছিল।   উদ্ধারের পর ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা যখন ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনেন, তখন চারপাশের মানুষ আনন্দে উল্লাস ফেটে পড়েন। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এই ঘটনাকে দেশের এই চরম বিপর্যয়ের মাঝে একটি 'আশার আলো' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর দ্রুত রাজধানী কারাকাসের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় বা 'গোল্ডেন আওয়ার' মনে করা হয়। সেই সময়সীমা পার হওয়ারও তিন দিন পর ক্লিয়েবারকে জীবিত উদ্ধার করা এক প্রকার অলৌকিক বিষয়। ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট জর্জে রদ্রিগেজ বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষের জীবিত থাকার আশা ফুরিয়ে যায়নি। দেশি ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো তাই এখনো উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   গত ২৪ জুন বুধবার ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। নাসার স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, এই জোড়া ভূমিকম্পে দেশটিতে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই বিপর্যয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।   জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, উপদ্রুত এলাকায় খাবার ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং মৌলিক সেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে ত্রাণের খাবারের জন্য মানুষ মরিয়া হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তবে আন্তর্জাতিক সাহায্য আসতে শুরু করেছে এবং ইতিমধ্যেই ৪৭ টন মানবিক ত্রাণ সামগ্রী সেখানে পৌঁছেছে। আগামী ৬ মাসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার জন্য প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৯:৪৭
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে ‘মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য’ ঘোষণা করে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাদের যৌথ বিবৃতি | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে হত্যা ধর্মীয় দায়িত্ব, ফতোয়া দিলেন ইরানের শীর্ষ আলেমরা

নৃত্য পরিবেশনের ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধে থেমে গেল মাশার নাচের স্বপ্ন, তবু কিয়েভের বিদায় উৎসবে ভবিষ্যতের আশায় হাসল ইউক্রেনের তরুণ প্রজন্ম

কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা I ছবি: সংগৃহীত

ওপরে নির্মাণকাজ, নিচে চলছিল ক্লাস—পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

0 Comments