সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে হিজাবি নারীদের অগ্রযাত্রা, কংগ্রেস থেকে স্টেট সিনেটে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: নভেম্বর ৮, ২০২৬ ১৩:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে হিজাবি নারীদের অগ্রযাত্রা
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে হিজাবি নারীদের অগ্রযাত্রা

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে হিজাব পরিহিত নারীদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ। জাতীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা—গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে জায়গা করে নিচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত মুখ মিনেসোটার কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর। অন্যদিকে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া, নিউইয়র্ক, ইলিনয় ও কানেকটিকাটে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন আরও কয়েকজন হিজাব পরিহিত নারী। স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়েও তাঁদের রাজনৈতিক উপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

 

ইলহান ওমর: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ - এই তালিকায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন ইলহান ওমর। সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই রাজনীতিবিদ শৈশবে পরিবারের সঙ্গে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ২০১৬ সালে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়ে প্রথম সোমালি-আমেরিকান আইনপ্রণেতা হিসেবে ইতিহাস গড়েন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে যোগ দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন এবং প্রথম হিজাব পরিহিত নারী কংগ্রেস সদস্য। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, মানবাধিকার ও পররাষ্ট্রনীতিসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে তাঁর বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান দেশজুড়ে আলোচিত হয়।

 

রুয়া রোমান: জর্জিয়ার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় - জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নাম রুয়া রোমান। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিবিদ ২০২২ সালে জর্জিয়া স্টেট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হয়ে অঙ্গরাজ্যটির প্রথম মুসলিম নারী আইনপ্রণেতা হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি জর্জিয়ার আইনসভায় প্রথম হিজাব পরিহিত নারী হিসেবেও ইতিহাস গড়েন। ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি স্টেট সিনেটের ৭ নম্বর ডিস্ট্রিক্টে জয়ী হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নেও তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। নতুন মেয়াদে তাঁর সিনেটের দায়িত্ব শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে।

 

আবের কাওয়াস: নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম হিজাব পরিহিত নারী - নিউইয়র্কের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস। ২০২৬ সালের নির্বাচনে কুইন্সের ১২ নম্বর স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়েছেন তিনি। তাঁর এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্ক স্টেট আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম হিজাব পরিহিত নারী জনপ্রতিনিধি। তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে রয়েছে অভিবাসী অধিকার, ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং কমিউনিটির অংশগ্রহণ। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে সিনেটের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি।

 

নাবিলা সৈয়দ: ইলিনয়ের স্টেট সিনেটে নতুন নেতৃত্ব - ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে আলোচিত নাম নাবিলা সৈয়দ। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই তরুণ রাজনীতিবিদ ২০২২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইলিনয় স্টেট হাউসে নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কনিষ্ঠ স্টেট আইনপ্রণেতা হিসেবে পরিচিতি পান। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি স্টেট সিনেটের ২৬ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়েছেন। এর ফলে স্টেট হাউস থেকে এবার অঙ্গরাজ্যের উচ্চকক্ষ সিনেটে যাচ্ছেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক সাম্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর নির্বাচনী জয়ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নারীদের অংশগ্রহণের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

 

মরিয়ম খান: কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটে যাচ্ছেন হিজাব পরিহিত রাজনীতিবিদ - কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন মরিয়ম খান। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিবিদ ২০২২ সালে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে কানেকটিকাটের প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম মুসলিম নারী সদস্য হন। বর্তমানে তিনি অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের ডেপুটি মেজরিটি লিডার এবং বিশেষ শিক্ষা-সংক্রান্ত কমিটির চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি স্টেট সিনেটের ২ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়েছেন। এর ফলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কানেকটিকাটের উচ্চকক্ষে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। শিক্ষা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অধিকার এবং পরিবারকল্যাণ নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

 

মদিনাহ উইলসন-অ্যান্টন: ডেলাওয়্যারের আইনসভায় হিজাবি নারী নেতৃত্ব - ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য মদিনাহ উইলসন-অ্যান্টনও হিজাব পরিহিত নারী জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ২০২০ সালে নির্বাচিত হয়ে তিনি ডেলাওয়্যারের প্রথম মুসলিম আইনপ্রণেতা হিসেবে পরিচিতি পান। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হন। আইনসভায় তিনি শিক্ষা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, নাগরিক অধিকার এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে সরব ভূমিকার জন্য পরিচিত। ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের একটি অনুষ্ঠানে যুদ্ধবিরতির দাবিতে প্রতিবাদ জানিয়েও তিনি সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় এসেছিলেন। অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় তাঁর উপস্থিতি হিজাব পরিহিত নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের আরেকটি উদাহরণ।

 

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এসব নারীর উপস্থিতি শুধু নির্বাচনী সাফল্যের গল্প নয়; বরং দেশটির বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে নারীদের নেতৃত্বের ক্রমবর্ধমান অবস্থানেরও প্রতিফলন। কংগ্রেস থেকে অঙ্গরাজ্যের আইনসভা—বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁদের অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মের নারীদের রাজনীতিতে আসার পথও তৈরি করছে। তবে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান, নির্বাচনী অঙ্গীকার ও জনসেবার কার্যক্রমই শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ধারণ করবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
জৈবিক বাবার সঙ্গে নিষিদ্ধ সম্পর্কে জড়িয়ে দোষ স্বীকার, মাত্র এক বছরের সাজায় ক্ষুব্ধ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

রাজনীতি

View more
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে হিজাবি নারীদের অগ্রযাত্রা
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে হিজাবি নারীদের অগ্রযাত্রা, কংগ্রেস থেকে স্টেট সিনেটে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁরা

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে হিজাব পরিহিত নারীদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ। জাতীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা—গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে জায়গা করে নিচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত মুখ মিনেসোটার কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর। অন্যদিকে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া, নিউইয়র্ক, ইলিনয় ও কানেকটিকাটে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন আরও কয়েকজন হিজাব পরিহিত নারী। স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়েও তাঁদের রাজনৈতিক উপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   ইলহান ওমর: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ - এই তালিকায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন ইলহান ওমর। সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই রাজনীতিবিদ শৈশবে পরিবারের সঙ্গে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ২০১৬ সালে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়ে প্রথম সোমালি-আমেরিকান আইনপ্রণেতা হিসেবে ইতিহাস গড়েন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে যোগ দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন এবং প্রথম হিজাব পরিহিত নারী কংগ্রেস সদস্য। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, মানবাধিকার ও পররাষ্ট্রনীতিসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে তাঁর বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান দেশজুড়ে আলোচিত হয়।   রুয়া রোমান: জর্জিয়ার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় - জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নাম রুয়া রোমান। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিবিদ ২০২২ সালে জর্জিয়া স্টেট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হয়ে অঙ্গরাজ্যটির প্রথম মুসলিম নারী আইনপ্রণেতা হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি জর্জিয়ার আইনসভায় প্রথম হিজাব পরিহিত নারী হিসেবেও ইতিহাস গড়েন। ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি স্টেট সিনেটের ৭ নম্বর ডিস্ট্রিক্টে জয়ী হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নেও তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। নতুন মেয়াদে তাঁর সিনেটের দায়িত্ব শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে।   আবের কাওয়াস: নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম হিজাব পরিহিত নারী - নিউইয়র্কের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস। ২০২৬ সালের নির্বাচনে কুইন্সের ১২ নম্বর স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়েছেন তিনি। তাঁর এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্ক স্টেট আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম হিজাব পরিহিত নারী জনপ্রতিনিধি। তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে রয়েছে অভিবাসী অধিকার, ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং কমিউনিটির অংশগ্রহণ। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে সিনেটের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি।   নাবিলা সৈয়দ: ইলিনয়ের স্টেট সিনেটে নতুন নেতৃত্ব - ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে আলোচিত নাম নাবিলা সৈয়দ। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই তরুণ রাজনীতিবিদ ২০২২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইলিনয় স্টেট হাউসে নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কনিষ্ঠ স্টেট আইনপ্রণেতা হিসেবে পরিচিতি পান। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি স্টেট সিনেটের ২৬ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়েছেন। এর ফলে স্টেট হাউস থেকে এবার অঙ্গরাজ্যের উচ্চকক্ষ সিনেটে যাচ্ছেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক সাম্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর নির্বাচনী জয়ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নারীদের অংশগ্রহণের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।   মরিয়ম খান: কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটে যাচ্ছেন হিজাব পরিহিত রাজনীতিবিদ - কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন মরিয়ম খান। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিবিদ ২০২২ সালে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে কানেকটিকাটের প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম মুসলিম নারী সদস্য হন। বর্তমানে তিনি অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের ডেপুটি মেজরিটি লিডার এবং বিশেষ শিক্ষা-সংক্রান্ত কমিটির চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি স্টেট সিনেটের ২ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়েছেন। এর ফলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কানেকটিকাটের উচ্চকক্ষে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। শিক্ষা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অধিকার এবং পরিবারকল্যাণ নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।   মদিনাহ উইলসন-অ্যান্টন: ডেলাওয়্যারের আইনসভায় হিজাবি নারী নেতৃত্ব - ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য মদিনাহ উইলসন-অ্যান্টনও হিজাব পরিহিত নারী জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ২০২০ সালে নির্বাচিত হয়ে তিনি ডেলাওয়্যারের প্রথম মুসলিম আইনপ্রণেতা হিসেবে পরিচিতি পান। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হন। আইনসভায় তিনি শিক্ষা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, নাগরিক অধিকার এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে সরব ভূমিকার জন্য পরিচিত। ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের একটি অনুষ্ঠানে যুদ্ধবিরতির দাবিতে প্রতিবাদ জানিয়েও তিনি সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় এসেছিলেন। অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় তাঁর উপস্থিতি হিজাব পরিহিত নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের আরেকটি উদাহরণ।   যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এসব নারীর উপস্থিতি শুধু নির্বাচনী সাফল্যের গল্প নয়; বরং দেশটির বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে নারীদের নেতৃত্বের ক্রমবর্ধমান অবস্থানেরও প্রতিফলন। কংগ্রেস থেকে অঙ্গরাজ্যের আইনসভা—বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁদের অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মের নারীদের রাজনীতিতে আসার পথও তৈরি করছে। তবে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান, নির্বাচনী অঙ্গীকার ও জনসেবার কার্যক্রমই শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ধারণ করবে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৮, ২০২৬ ১৩:৩৬
তিন বছরে ১১ লাখ ৪০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়ার লক্ষ্য কানাডার

তিন বছরে ১১ লাখ ৪০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়ার লক্ষ্য কানাডার

অভিবাসন বিরোধী স্টিফেন এবং  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

নির্বাচনী ধাক্কা খেয়েও আরও কঠোর ট্রাম্প, হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পদে অভিবাসন বিরোধী স্টিফেন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সামান্তা শারমিন। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন

গভর্নর জিনা হিনোহোসা
টেক্সাসে ৩৬ বছরের ইতিহাস বদলে প্রথম লাতিন গভর্নর জিনা হিনোহোসা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জিনা হিনোহোসা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে টানা তিন মেয়াদের রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে পরাজিত করেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ৩৬ বছর পর টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে জয় পেলেন কোনো ডেমোক্র্যাট। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যটির ইতিহাসে প্রথম লাতিন নারী গভর্নর হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন হিনোহোসা।    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও টেক্সাস ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, ভোট গণনার পর জিনা হিনোহোসাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ডেসিশন ডেস্ক এইচকিউর প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে হিনোহোসা প্রায় ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং গ্রেগ অ্যাবট প্রায় ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসে এবার বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটল।    টেক্সাসে সর্বশেষ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে ১৯৯০ সালে গভর্নর নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন অ্যান রিচার্ডস। এরপর টানা কয়েক দশক অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর পদ রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গ্রেগ অ্যাবট ২০১৪ সালে প্রথম নির্বাচিত হওয়ার পর তিন মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেন। এবার তিনি চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে নতুন রেকর্ড গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু হিনোহোসার কাছে পরাজিত হওয়ায় সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হলো।   জিনা হিনোহোসা টেক্সাসের অস্টিন থেকে নির্বাচিত পাঁচ মেয়াদের স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ। এর আগে তিনি অস্টিনের পাবলিক স্কুল বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগতভাবে তিনি একজন সিভিল রাইটস আইনজীবী। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী এলাকায় বেড়ে ওঠা হিনোহোসার মা মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে এসেছিলেন। তাঁর বাবা একসময় টেক্সাস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান ছিলেন।   এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি স্কুলের জন্য অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষকদের বেতন, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন হিনোহোসা। বিশেষ করে টেক্সাসে বড় বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং এসব প্রকল্পের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য চাপ নিয়ে সরব ছিলেন তিনি। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যাকে নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে নিয়ে আসেন এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী।   অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র গ্রেগ অ্যাবট সীমান্ত নিরাপত্তা, কঠোর ইমিগ্রেশন নীতি, কর কমানো এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দেন। প্রচারণায় তিনি হিনোহোসাকে অতিরিক্ত উদারপন্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। নির্বাচনী তহবিলের দিক থেকেও অ্যাবট এগিয়ে ছিলেন। তবে বিপুল প্রচারণা ব্যয় এবং রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব শেষ পর্যন্ত তাঁর জয় নিশ্চিত করতে পারেনি।   বিজয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে হিনোহোসা বলেন, টেক্সাসের মানুষ এমন একটি ফল তৈরি করেছেন, যা অনেকেই অসম্ভব মনে করেছিলেন। তিনি জানান, রাজ্যের মানুষের প্রতি তাঁর বিশ্বাস কখনো কমেনি। নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর অ্যাবট তাঁকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।   এদিকে পরাজয় স্বীকার করে গ্রেগ অ্যাবট গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় টেক্সাসের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাবটের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। ডেমোক্র্যাটদের এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল অঙ্গরাজ্যটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছে। 

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১০:১৭
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ সিনেটর নির্বাচিত ক্রিস পাপাস

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ সিনেটর নির্বাচিত ক্রিস পাপাস

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন

৯৪ বছরের ইতিহাস বদলে কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটরকে হারালেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হাউস স্পিকার হওয়ার পথে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা হাকিম জেফরিস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার পথে হাকিম জেফরিস

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবু মূসা
মিশিগানের হ্যামট্রাম্যাকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবু মূসা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রাম্যাক সিটিতে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিল সদস্য আবু আহমদ মুসার শপথ নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে শহরের ৩১তম ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাঁর শপথ গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। তবে সিটি প্রশাসন বা আদালতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থেকে শপথ গ্রহণের বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হ্যামট্রাম্যাকের ৩১তম ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক অ্যালেক্সিস ক্রট তাঁর চেম্বারে আবু আহমদ মুসাকে শপথবাক্য পাঠ করান। শহরের মেয়র নির্বাচন ঘিরে প্রায় এক বছর ধরে চলা আইনি জটিলতার মধ্যেই এই দায়িত্ব পরিবর্তনের খবর সামনে এসেছে।   আবু আহমদ মুসা হ্যামট্রাম্যাক সিটি কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি মেয়র প্রো টেম হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হ্যামট্রাম্যাক রিভিউ গত ১৬ অক্টোবর জানিয়েছিল, মেয়র নির্বাচন নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে মুসা ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে পরবর্তী সময়ে সিটি প্রশাসন জানায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অ্যাডাম আলহারবি মেয়র হিসেবে বহাল থাকবেন।   হ্যামট্রাম্যাকের মেয়র পদ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচন থেকে। ওই নির্বাচনে অ্যাডাম আলহারবিকে প্রথমে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু গণনার বাইরে থাকা ৩৭টি অ্যাবসেন্টি ব্যালট নিয়ে আদালতে মামলা করেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ।   দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ১৬ অক্টোবর ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্স বিতর্কিত ব্যালটগুলো গণনা করে। নতুন গণনায় মুহিত মাহমুদ পান ২ হাজার ৮৯ ভোট এবং অ্যাডাম আলহারবি পান ২ হাজার ৭৭ ভোট। অর্থাৎ ১২ ভোটে এগিয়ে যান মাহমুদ। তবে তাঁর হ্যামট্রাম্যাকে বসবাসের যোগ্যতা নিয়ে আইনি বিরোধ থাকায় ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করা সম্ভব হয়নি।   সর্বশেষ গত ৩০ অক্টোবর ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টের বিচারক ক্যাথলিন ম্যাকার্থি মুহিত মাহমুদের পক্ষে রায় দেন। আদালত তাঁর বসবাসের যোগ্যতা বহাল রাখেন এবং বিতর্কিত ব্যালটসহ নির্বাচনের ফল প্রত্যয়নের নির্দেশ দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে মাহমুদের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পথে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বাধা দূর হয়।   হ্যামট্রাম্যাক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, মেয়রের অনুপস্থিতিতে মেয়র প্রো টেম দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে সিটির সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আবু আহমদ মুসাকে কাউন্সিল সদস্য এবং মোহাম্মদ হাসানকে মেয়র প্রো টেম হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ফলে সোমবারের কথিত শপথের পর মুসার আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদা ও দায়িত্বের মেয়াদ সম্পর্কে সিটির নতুন ঘোষণা প্রয়োজন।   মিশিগানের ডেট্রয়েট শহরের পাশেই অবস্থিত হ্যামট্রাম্যাক। শহরটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচনী রাজনীতিতেও বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। আবু মুসার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের খবর নিশ্চিত হলে তা শহরটির বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ঘটনা হবে।

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৮:২৪
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের সাত গুরুত্বপূর্ণ স্টেইটে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা

৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পাচ্ছেন কৃষকরা, প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগেই ১৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পাচ্ছেন কৃষকরা, প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

আবদুল এল-সায়েদ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

আবদুল এল-সায়েদকে ভোট দিলে আপনারা ‘পাগল’, কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদিদের সতর্ক বললেন ট্রাম্প

0 Comments